Jump to ratings and reviews

একটা চাকরি হবে, চাঁদ মামা?

ঢাকায় পড়তে এল দরিদ্র কৃষকের ছেলে রাহাত। জীবন সংগ্রামে নেমে উপলব্ধি করল, টিকে থাকাটা মোটেই সহজ নয়। অভাব অনটন আর অনাহার যখন দুঃস্বপ্নের মতো তাড়া করে ফিরতে শুরু করল, তখন গান গেয়ে আর চাঁদ দেখে বাস্তব ভুলে থাকতে চাইল ও। ফরিয়াদ জানাল চাঁদের দরবারে! গেয়ে উঠল - 'একটা চাকরি হবে, চাঁদ মামা?'

ধনীর দুলালী প্রমীলার আকস্মিক বিপদে পাশে এসে দাঁড়াল সাঁঝ নিঝুম - কে এই মেয়ে? কী তার পরিচয় আর কোন ক্ষমতা বলেই বা ভয়ঙ্কর পৈশাচিক শত্রুকে রুখে দিল সে? রুখে তো দিল, কিন্তু এখন? ভ্যাম্পায়ার বলে কি সত্যিই কিছু আছে? থাকলে কেমন তারা - জীবিতও না, মৃতও না - তাহলে? জীবন্মৃত?

চাঁদের জবাব পেয়ে রাহাতের নিত্যকার ম্যাড়মেড়ে জীবন হুট করে বদলে গেল রোমাঞ্চকর এক অতিপ্রাকৃত উপাখ্যানে। উন্মোচিত হতে শুরু করল নতুন দিগন্ত - জোয়ার ভাটার তালে তালে যেখানে রচনা হতে চলেছে এক রক্তক্ষয়ী সংঘা্তের। চাঁদের ছায়ার ঘেরা সেই ঘটনা প্রবাহে পাঠককে স্বাগতম। স্বাগতম চন্দ্রস্নাত রণভূম-এ!

240 pages, Hardcover

First published December 1, 2021

Loading...
Loading...

About the author

Syed Aunirbaan

14 books239 followers
Author's name in Bangledeshi: সৈয়দ অনির্বাণ

Ratings & Reviews

What do you think?

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
5 (14%)
4 stars
14 (41%)
3 stars
15 (44%)
2 stars
0 (0%)
1 star
0 (0%)
Displaying 1 - 16 of 16 reviews
Profile Image for Harun Ahmed.
1,836 reviews556 followers
January 15, 2023
৩.৫/৫

যেহেতু সিরিজের প্রথম বই; প্রধান চরিত্র রাহাতের পটভূমি আর মূল ঘটনা পর্যন্ত আসতেই উপন্যাসের অনেকটা সময় ব্যয়িত হয়েছে। উপভোগ্য লেখা, পড়ার পুরোটা সময় আনন্দে কেটেছে। লেখকের বই আগে পড়িনি বলে একটু ভয়েই ছিলাম কিন্তু ঢাকা শহরের প্রেক্ষাপটে ভ্যাম্পায়ার,ডাইনি আর ভ্যাম্পায়ার ঘাতকদের নিয়ে লেখা এ গল্পে উত্তেজনা যেমন আছে, তেমনি আছে ছোট ছোট মজার সব ঘটনা। শেষটা আরেকটু রোমাঞ্চকর হতে পারতো সম্ভবত।কিন্তু যা পেয়েছি সেটাও কম না। পরের পর্ব আরো জমজমাট হবে, এ আশা করতেই পারি।
Profile Image for Ahmed Aziz.
417 reviews71 followers
July 2, 2022
মাস্টারপিস। আমি রীতিমতো মুগ্ধ। বাংলায় ভ্যাম্পায়ার ফিকশনের জগতে এই বই নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। সেরা চরিত্র রাহাত, দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া সহায়সম্বলহীন বেকার অসহায় এক যুবকের দুর্দান্ত ঘুরে দাঁড়িয়ে ভ্যাম্পায়ার হান্টারে পরিণত হবার অসাধারণ উপাখ্যান। সাঁঝের চরিত্রটা বিরক্তিকর, হুটহাট মাথা গরম হয়ে যায়। একশন দৃশ্যগুলোর বর্ণনাও ফাটাফাটি। গভীর আগ্রহে সিরিজের পরের বইয়ের অপেক্ষায় থাকলাম।
Profile Image for Nafisa Tarannum.
78 reviews24 followers
February 3, 2023
অনির্বাণের বই নিয়ে আমি একটু পেরা খাই। শোণিত উপন্যাসত্রয়ী এর প্রথম বইটা অসম্ভব সুন্দর লেগেছিলো। এরপর গ্র‍্যাজ্যুয়ালি সিরিজের মান খারাপ হয়েছে।
তেমনি চন্দ্রস্নাত রণভূম সিরিজের প্রথম বইটি চমৎকার লাগলেও পরের বইগুলো নিয়ে একটু শঙ্কায় আছি!
Profile Image for Zahidul.
450 reviews103 followers
March 22, 2022
❝Moonlight shines upon the guilty and the innocent alike!❞― Maiev Shadowsong (From the Warcraft franchise)
-
❛একটা চাকরি হবে, চাঁদ মামা?❜
-
রাহাত, দারিদ্রের কষাঘাতে জর্জরিত এক বেকার যুবক। নানা ঘটনা-দুর্ঘটনার ফলে রাহাতের বেঁচে থাকার ইচ্ছা যখন প্রায় শেষ হয়ে যায় তখন অলৌকিক উপায়ে এক গায়েবি আওয়াজ শুনতে পায় সে। সেই গায়েবি আওয়াজ তাকে নতুনভাবে বেঁচে থাকার এক পথ দেখায়।
-
প্রমীলা, শহরের নামকরা এক ব্যবসায়ীর মেয়ে। ছোট বেলা থেকেই আদর-যত্নে বড় হওয়া প্রমীলা বেশ কয়েক বছর বিদেশে থাকার পর নিজের দেশে পা রাখে। তাই তার অষ্টাদশ জন্মদিন উপলক্ষে বেশ জমকালো এক পার্টির আয়োজন করা হয়। কিন্তু সেই জন্মদিনের অনুষ্ঠানে ভয়াবহ এক অতিপ্রাকৃতিক ঘটনার সাক্ষী হয়ে যায় সে। তার সাথে সেই অতিপ্রাকৃতিক ঘটনায় জড়িয়ে পরে তার ছোটবেলার বান্ধবী শারমিন, আয়া ইতি এবং সাঁঝ নিঝুম নামের রহস্যময় এক নারী।
-
এদিকে ঢাকার বুকে নিখোঁজ হয়ে যাচ্ছে একের পর এক রক্তচোষা। এই ঘটনা তদন্তে উপর মহলের নির্দেশে ঢাকায় পা ফেলে উচ্চপদস্থ এক রক্তচোষা। এখন ঢাকার বুকে রক্তচোষারা কেনই বা নিখোঁজ হয়ে যাচ্ছে আর এ ঘটনার সাথে রাহাত, প্রমীলা, শারমিন, ইতি এবং সাঁঝ কীভাবে জড়িয়ে যায় তা জানার জন্য পড়তে হবে লেখক সৈয়দ অনির্বাণ এর ভ্যাম্পায়ার ভিত্তিক আরবান ফ্যান্টাসি ❛একটা চাকরি হবে, চাঁদ মামা?❜ বইটি।
-
❛একটা চাকরি হবে, চাঁদ মামা?❜ বইটি মূলত ভ্যাম্পায়ার ভিত্তিক "চন্দ্রস্নাত রণভূম" নামের আরবান ফ্যান্টাসি সিরিজের প্রথম বই। ঢাকার পটভূমিতে লেখা সিরিজের এই বইটি মূল কয়েকটি চরিত্রের সূচনা পর্ব হিসেবে লেখা হয়েছে। ❛একটা চাকরি হবে, চাঁদ মামা?❜ বইয়ের নামকরণ করা হয়েছে এলআরবি ব্যান্ডের ❛একটা চাকরি হবে, চাঁদ মামা?❜ গানটি থেকে। গল্পে বেশ কয়েকবার গানটির রেফারেন্স এবং চাঁদের একটি বড় প্রভাব থাকায় বইয়ের এ ধরণের নামকরণ ঠিকঠাকই লেগেছে আমার কাছে।
-
❛একটা চাকরি হবে, চাঁদ মামা?❜ বইয়ের শুরুটা অবশ্য খুবই সাধারণভাবে হয়েছে। প্রমীলার পর্ব শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত মোটামুটি ঢিলেঢালাভাবে চলতে থাকে বইটা। বইয়ের শেষ অর্ধেকে অবশ্য কাহিনি বেশ গতি পায়। বইয়ের লেখনশৈলীও প্রথম অংশে সাদামাটা লেগেছে শেষ অংশের তুলনায়। সেদিক থেকে বইয়ের ফিনিশিংটা বেশ ভালোই লাগলো। বইটি পড়ার সময় যে কয়টি প্রশ্ন জমা হয়েছিলো তার বেশিরভাগ অজানাই রয়ে গিয়েছে আমার কাছে। সিরিজের পরবর্তী বইগুলো বের হলে আশা করি সেই উত্তরগুলো জানতে পারবো।
-
❛একটা চাকরি হবে, চাঁদ মামা?❜ বইয়ের চরিত্রায়নের দিক থেকে রাহাত সবচেয়ে বেশি ফোকাস পেয়েছে বলে মনে হয়েছে এই বইতে। সে হিসেবে বইয়ের নারী চরিত্রগুলো কিছুটা জেনেরিক লাগলো আমার কাছে। বইয়ের বর্ণনাভঙ্গির দিকে তাকালে দেখা যায় বেশ কয়েকজন ব্যক্তির POV এর মাধ্যমে গল্পটি এগিয়ে গিয়েছে যা খুব একটা খারাপ লাগেনি আমার কাছ। আরবান ফ্যান্টাসি ঘরানার বই হিসেবে ভ্যাম্পায়ার বিষয়ক বেশ কিছু হিস্টোরি, লোর, ম্যাজিক ইত্যাদি এই বইতে এসেছে, তবে তার পরিমাণ বেশ কমই ছিলো বলা যায়। বইয়ের ভাষাশৈলী কয়েক জায়গা বাদে ভালোই ছিলো, তবে কিছু জায়গায় একেবারে টিপিক্যাল লেগেছে বইটির ভাষাশৈলী এবং সংলাপ।
-
❛একটা চাকরি হবে, চাঁদ মামা?❜ বইয়ের প্রোডাকশন মোটামুটি চলনসই। সম্পাদনায় বেশ কিছু ত্রুটি ছিলো, তার ভেতরে শেষ অর্ধেকে ত্রুটির পরিমাণ ছিলো বেশি। প্রিন্টিং মিস্টেক বাদেও চরিত্রের নাম অদল-বদল কিংবা একই শব্দ বারবার রিপিট হওয়া বেশ চোখে লেগেছে। বইয়ের কাহিনির তুলনায় প্রচ্ছদটা অ্যাভারেজ লেভেলের লাগলো।
-
এক কথায়, বাংলা ভাষায় ভ্যাম্পায়ার ফিকশন হিসেবে বেশ ভালো এক সিরিজের সূচনা পর্ব বলা যায় ❛একটা চাকরি হবে, চাঁদ মামা?❜ বইটিকে। রকিব হাসানের "ড্রাকুলা" থেকে শুরু করে হাল আমলের "ড্রাকুলা" এর পূর্ণাঙ্গ অনুবাদের চাহিদা দেখে বোঝাই যায় ভ্যাম্পায়ার ফিকশনের চাহিদা বরাবরই রয়েছে আমাদের দেশের পাঠকদের মাঝে। আশা করছি এই সিরিজের মাধ্যমে মৌলিক ভ্যাম্পায়ার ফিকশনের পাঠকদের সেই চাহিদা কিছুটা হলেও পূরণ হবে। তাই যারা আরবান ফ্যান্টাসি বিশেষ করে ভ্যাম্পায়ার ফিকশন পড়তে পছন্দ করেন তাদের কাছে বইটা রিকমেন্ড করা থাকলো।
Profile Image for আহনাফ তাহমিদ.
Author 36 books82 followers
March 22, 2022
নিয়ার টু পারফেক্ট এক্সিকিউশন।
ভ্যাম্পায়ার বা জীবন্মৃতদের নিয়ে এমন চমৎকার একখানা আরবান ফ্যান্টাসি দেশীয় পটভূমিতে পাবো, ভাবিনি।
একদম শেষের টুইস্টটা!
সাঁঝ আর রাহাত এবার কী করবে, তা পড়বার জন্য উন্মুখ হয়ে আছি। শোণিত উপাখ্যানের চেয়ে আমার এই সিরিজটা বেশি প্রিয় হবে, তা প্রথম খণ্ডটা পড়েই বুঝতে পারছি।
কিছু কিছু জায়গায় একটু সমস্যা বোধ হয়েছে, তবে তা ধর্তব্যে না নিলেও চলে। সাঁঝ আর ইতির মধ্যকার কথোপকথনটা একবার মার্জিত ভাষায়, আরেকবার খাস তুই তোকারিতে নেমে যাওয়াটা একটু কেমন যেন লেগেছে। শুধু একবার না, ঘটনাটা বেশ কয়েকবারই ঘটেছে। রাহাতকে যে শক্তিটা দেয়া হয়েছে, সেটা বেশ ইউনিক।
শারমিনের এমন আমূল বদলে যাওয়া কখন, কীভাবে, কেন ঘটলো- সেটা নিয়ে বোধ করি একটু ব্যাখ্যার প্রয়োজন আছে। আশা করি দ্বিতীয় খণ্ডে লেখক তা খোলাসা করবেন। ফাইট এক্সিকিউশনগুলোও ভালো ছিল বেশ।
রাহাতকে শক্তিটা চাঁদমামার খোলসে কে দিয়ে গেলো, এটাও জানবার জন্য উন্মুখ হয়ে আছি। একটা অরিজিন স্টোরি না হলেই নয়।
আশা করি দ্বিতীয় খণ্ডে লেখক সবকিছুর জবাব দেবেন।

সবশেষে, প্রচ্ছদটা বেশ ভালো লেগেছে।
Profile Image for Afsan Ahmed .
65 reviews4 followers
September 5, 2026
কি হবে, চাঁদ মামার কাছে একটা চাকরি চাইলে আর সেই চাকরিটা যদি পেয়েও যাই কিন্তু সেই চাকরি থেকে আর বের হতে না পারি?

গল্পের রাহাত ঠিক এমনই একজন। জীবনে সবকিছু হারিয়ে ঢাকা শহরেও যখন আর ঠাঁই হয় না, তখন চাঁদ মামার কাছে গান করে চাকরির আবদার করে। চাকরি সে পেয়েও যায়, তবে সেটা যে সাধারণ কোনো চাকরি নয়, তা বুঝতে বেশি সময় লাগে না। আর সেই চাকরি পাওয়ার পর থেকেই শুরু হয় আসল গল্প।

গল্পটা পড়তে পড়তে রহস্য, ভয় আর কৌতূহল—তিনটাই একসঙ্গে কাজ করেছে। সবচেয়ে ভালো লেগেছে, গল্পটা ধীরে ধীরে যেভাবে নিজের জগৎ তৈরি করেছে এবং শেষ পর্যন্ত পরের কিস্তির জন্য অপেক্ষা করিয়ে রেখেছে।

বাংলা ভাষায় প্রথম মৌলিক ভ্যাম্পায়ার গল্প হিসেবে বইটি বেশ অন্যরকম একটা অভিজ্ঞতা।

দ্বিতীয় কিস্তির জন্য অপেক্ষায় রইলাম।
Profile Image for Wasee.
Author 60 books829 followers
March 28, 2022
দেশীয় প্রেক্ষাপটে, বাংলা ভাষায় মৌলিক ভ্যাম্পায়ার ফিকশন। শোণিত উপাখ্যানের পর লেখকের আরেকটা দুর্দান্ত সিরিজ হতে যাচ্ছে।

দ্বিতীয় বইয়ের অপেক্ষায় রইলাম।
Profile Image for আশিকুর রহমান.
166 reviews29 followers
April 13, 2022
I was literally blown away with this!
সৈয়দ অনির্বাণ ভাইয়ের সেরা কাজ এই পর্যন্ত। সিরিজে ছেদ না পড়লে আরবান ফ্যান্টাসির সেরা রচনা হয়ে থাকবে বাংলাদেশে।
বিস্তারিত লিখব সময় নিয়ে। অল্প কথা বলে মন ভরবে না।
Profile Image for Rehnuma.
495 reviews22 followers
Read
May 31, 2023
❝ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময়
পূর্ণিমার চাঁদ যেন ঝলসানো রুটি❞
চাঁদের সৌন্দর্য উপভোগ ব্যাপারটা সবার জন্য নয়। কারো কাছে চাঁদ রোমান্টিক বস্তু আবার কারো কাছে চাঁদকেই খাদ্য বলে ভ্রম হয়। আবার রাহাতের কাছে চাঁদ মামা হলো আর্জি জানানোর বস্তু। গ্রাম থেকে শহরে পড়তে আসা রাহাত জীবনের কঠোরতাই দেখে আসছে। দরিদ্র কৃষকের ছেলে রাহাত। ক্ষুধা, দুঃখ আর পিতা হারানোর শোক গ্রাস করেছে তাকে। গভীর রাতে ঘুম ভেঙে গেলে তাই ছাদে উঠে অশ্রুসিক্ত চোখে আকাশের ঐ চাঁদ মামার কাছেই নিজের দুঃখভাগ করে নেয়। গানের সুরে বলে,
একটা চাকরি হবে, চাঁদ মামা?
ও চাঁদ মামা,
একটা চাকরি হবে মামা?
চাঁদ মামা কি চাইলেই চাকরি দিতে পারে?
প্রমীলা, ধনীর দুলালী সে। তবে আচার-আচরণে একদম সাধারণ একজন মেয়ে। নেই কোন অহমবোধ। প্রমীলার বাবা বিখ্যাত ব্যবসায়ী। পাশ্চাত্য নীতি মেনে ছেলেমেয়েকে বড়ো করছেন আবার মানেন দেশীয় রীতিও। তারই অনুসরণে প্রমীলার আঠারোতম জন্মদিন পালন করছেন তিনি পাশ্চাত্যরীতি মেনে। প্রমীলা অপেক্ষায় আছে তার বাল্যকালের প্রিয় বান্ধবী শারমিনের। অনেকদিন পর দেখা হচ্ছে তাদের। এই সময়ের ব্যবধানে প্রমীলা বুঝতে পারে শারমিনের মধ্যে বেশ পরিবর্তন এসেছে। শারমিন বান্ধবীর জন্মদিনের পার্টিতে সাথে করে এনেছে সাঁঝ নিঝুম নামের এক আপুকে। আকর্ষণীয় দেখতে আপু পার্টিতে অনেকের নজর কেড়ে নেয়।
এদিকে প্রমীলা পার্টিতে আসা এক লোকের থেকে দৃষ্টি ফেরাতে পারছে না। কোন এক মায়ায় টেনে রেখেছে লোকটা তাকে! কে এই লোক?
পার্টি থেকে এক সময় গায়েব হয়ে যায় শারমিন। তার খোঁজ করতে করতে প্রমীলা এমন এক অপার্থিব দৃশ্যের সম্মুখীন হয় যা তাকে নাড়িয়ে দেয় একেবারে। নাড়িয়ে দেয় তার বিশ্বাসকেও। শারমিনকে বাঁচাতে গিয়ে নিজেও বিপদে পড়ে যায় প্রমীলা। আর তখনই দৃশ্যে উপস্থিত হয় সাঁঝ। তার ক্ষমতার বলেই তিনজনে মুক্তি হয় পৈ শাচিক সেই শত্রু থেকে। কিন্তু কে এই সাঁঝ? অতিপ্রাকৃত এই ক্ষমতাই বা পেল কোথা থেকে?
চাঁদ মামা রাহাতের আর্জি শুনেছে। নিয়োগ দিয়েছে তাকে। নিয়োগের সাথে সাথেই একেবারে বদলে গেল রাহাতের নিত্যকার জীবন। অতিপ্রাকৃত সব ঘটনার সম্মুখীন হতে লাগলো সে। শুরু হলো জীবন্মৃতের বিরুদ্ধে এক সংঘাত। যেখানে যোদ্ধা কেবল রাহাত-ই। শ ত্রু অনেক। নতুন এই চাকরি ঠিকমতো পালন করতে পারবে তো রাহাত?
ঘটনার পরতে পরতে শক্তিশালী প্রতিপক্ষের ভয়, অতিপ্রাকৃত ক্ষমতার খেলা। সে খেলায় মেতেছে রাহাত, সাঁঝ, শারমিন আর সেই পি শাচেরা। জয়ের মুকুট কে পড়বে?
পাঠ প্রতিক্রিয়া:
❝একটা চাকরি হবে, চাঁদ মামা?❞ আরবান ফ্যান্টাসি বা ভ্যাম্পায়ারিক জনররার উপন্যাস। ভ্যাম্পায়ার নিয়ে দেশীয় আমেজে উপন্যাস আমার কখনও পড়া হয়েছে মনে হয় না। ড্রাকুলা বই আর Twilight, Hotel Transylvania সহ বেশ কিছু মুভির মাঝেই সীমাবদ্ধ ছিলাম। তবে এই উপন্যাসটি দেশি স্বাদে ভ্যাম্পায়ার আর অতিপ্রাকৃত বিষয়ের দারুণ একটা কম্বিনেশন ছিল।
❝চন্দ্রস্নাত রণভূম❞ সিরিজের প্রথম বই এটি। সিরিজের সূচনা হিসেবে বইটি বেশ উপভোগ্য। লেখকের লেখার ছন্দ আর গতি পাঠককে শেষ পর্যন্ত ধরে রাখবে।
সিরিজের প্রথম বই হিসেবে লেখক গল্পের প্লট সাজিয়েছেন সুন্দরভাবে। চরিত্রবিন্যাস, তাদের পরিচয় করিয়েছেন। কিন্তু শুরুতেই রাহাত চরিত্রের বর্ণনা বা রাহাতের গল্প বলতে লেখক অনেক সময় নিয়েছেন যেটা চাইলেই কমানো যেত। এক পর্যায়ে রাহাত, রাহাত পড়তে পড়তে কেমন অত্যুক্তি ধরে আসছিল। কাহিনির পরবর্তী চরিত্রদেরও রাহাতের গল্পের মাঝে মাঝে পরিচয় করিয়ে দিলে উপভোগ্য হতো আরো বেশি।
সাঁঝ নিঝুম চরিত্রটা আমার বেশ পছন্দ হয়েছে। সাঁঝের ব্যক্তিত্ব আর তার গল্প যেটুক লেখক তুলে ধরেছেন পুরোটাই ভালো লেগেছে। আমার মনে হয়েছে প্রথম পার্টে সাঁঝ চরিত্রের দিকে আলো কম দিয়েছেন লেখক। সাঁঝের অতীত গল্প আরো বিস্তারিত দেওয়া যেত। হয়তো পরের পার্টের জন্য তাকে তুলে রাখা হয়েছে। আমারও তাই আশা পরের বইতে সাঁঝের প্রভাব আরো থাকবে।
শারমিন চরিত্রটা আমার কাছে গোলমেলে লেগেছে। তার হঠাৎ এই বিরাট পরিবর্তনের কারণ লেখক ক্লিয়ার করেননি। উপন্যাসের শেষদিকে প্রান্তরের দিশেহারা ধরনের অবস্থা কেন হলো আর পরে শারমিনেরও কেন এমন হলো সেটাও ধোঁয়াশা রয়ে গেছে। সিরিজ বিধায় আশায় রইলাম পরে এটা উন্মোচন হবে।
ইতি চরিত্রটা পুরো বইতে আমার সবথেকে অসহ্য লেগেছে কেন জানি প্রথম থেকেই। ইতির টুইস্টও যেন আমাকে অবাক করতে পারেনি কারণ প্রথম থেকেই অসহ্য লাগছিল।
চাঁদ মামা আর রাহাতের পরিবর্তনের হেড কোয়ার্টার কী সেটা জানার জন্যে আসলেই পরের পার্টের অপেক্ষায় আছি। লেখক শেষের পেইজে যে ধামাকাদার টুইস্ট এনেছেন বা বলা যায় পরের পার্টের একটা ঝলক দিয়েছেন সেটা অবশ্যই প্রশংসার যোগ্য। মানে এত বিখ্যাত একটা বিষয়কে (বিষয় বলাই শ্রেয়! পাছে না স্পয়লার হয়ে যায়!) দেশি ধাঁচের ফিকশনে ঠাঁই দিচ্ছেন এটা রীতিমত চমক।
মানুষ, অতিপ্রাকৃত শক্তি আর ভ্যাম্পায়ারদের এই খেলার পরবর্তী কিস্তি দ্রুত পাঠকদের কাছে আসুক এই আশা করি।
প্রচ্ছদ, প্রোডাকশন:
বইয়ের প্রচ্ছদ মোটামুটি লেগেছে। তবে বইয়ের প্রোডাকশনে প্রকাশনীর নজর দেয়া উচিত ছিল। বইয়ের বাঁধাই খুব একটা ভালো হয়নি। সাথে সম্পাদনার বেশ অভাব ছিল। শব্দের শেষে হুদাই ❛ঋ-কার❜ এর ব্যবহার ছিল। টাইপো হতে পারে। তবে বেশ অনেকগুলো শব্দের শেষে এমন ছিল। বানানেও ভুল ছিল বেশ। পরবর্তী এডিশনে বিষয়গুলো নজর দেয়া উচিত।
আসলেই যদি চাঁদের পানে চেয়ে চোখের পানি ফেললে চাকরি পাওয়া যেত!
Profile Image for Fårzâñã Täzrē.
346 reviews34 followers
July 25, 2024
"আয় আয় চাঁদ মামা টিপ দিয়ে যা
চাঁদের কপালে চাঁদ টিপ দিয়ে যা"

ছোটবেলায় মায়ের কোলে শুয়ে এই গানটি আমরা কম বেশি সবাই শুনেছি তাই না। চাঁদকে আদর করে মায়ের মুখে মামা ডাকতে শুনে মনে হয় নিজেরাও তাই চাঁদকে বড় আপন মনে করি। দূর আকাশের চাঁদের সাথে নিজের মনে একা একা ভাগ করে নিতে থাকি কতই না দুঃখের কথা। যে চাঁদ ওই দূর আকাশে সে চুপচাপ শুনে যায় রাতজাগা কিছু মানুষের গল্প।

রাহাতের মা মারা গেছেন জন্মের সময়েই। কৃষক বাবার কাছে মানুষ রাহাত স্বপ্ন দেখে বড় হওয়ার। স্কুল কলেজের গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় জীবন বরণ করে নিতে ঢাকার বুকে পা দিয়েছে সে। বিশাল এ শহর যেন গিলে খেতে শুরু করেছে রাহাতকে। দিন কাটছে এভাবেই। কোনো মতে দু'টি টিউশনি জুটিয়ে খেয়ে পড়ে বেঁচে আছে সে।

কথায় বলে কপাল যার খারাপ, সব দিক দিয়েই খারাপ। রাহাতেরও এর ব্যতিক্রম হলো না। হুট করেই বাবার মৃত্যু এলোমেলো করে দিলো তাঁকে। বেঁচে থাকার সম্বল টিউশনিও চলে গেল হঠাৎ-ই। হতাশায় জর্জরিত রাহাত আকাশের পানে চেয়ে আক্ষেপের সুরে একটি চাকরির আবদার করল চাঁদ মামার কাছে।

চাঁদ মামা কীভাবে চাকরি দেবে তাঁকে? চাঁদ মামার কী সেই ক্ষমতা আছে? কিন্তু আসলেই একটা ব্যাপার ঘটে গেল। রাহাত একটা চাকরি পেয়ে গেল চাঁদ মামার কাছ থেকেই। কী চাকরি সেটা? আবার শর্ত দেয়া হয়েছে ক্ষমতার অপব্যবহার করা যাবে না।

তারপর রাহাতের চাকরি কিভাবে করবে তাঁর কাজ কী এসব জানতে খুব কৌতুহল হচ্ছে তাই না? আসলেই কিন্তু কাজটা বেশ অদ্ভুত। আচ্ছা থাক আমরা প্রমীলার কথা শুনি।

প্রমীলার অষ্টাদশ জন্মদিন জমকালভাবে আয়োজনের ব্যবস্থা করেছেন তাঁর বাবা আলতাফ আকরাম। আমেরিকান প্রথা মেনে পালন করা এ অনুষ্ঠানে আবির্ভাব হলো রহস্যময় এক ব্যক্তির। সে আবার কে? হুট করেই যেন এলো। সে সব নিয়ে ভাবার অবকাশ নেই। আসরের মধ্যমণি প্রমীলার আজ অনেক দায়িত্ব। দীর্ঘদিন পর দেখা হওয়া প্রাণের বান্ধবী শারমিনকেও ঠিকঠাক সময় দিতে পারছে না। খুঁজেও পাচ্ছে না নিজের বান্ধবীকে।

খুঁজতে গিয়েই দেখল, শারমিনের ঘোর বিপদ। সেই বিপদে নিজেও জড়িয়ে গেল প্রমীলা। কে বাঁচাবে তাঁদের? বাঁচাতে এলো শারমিনের সাথে আসা এক মেয়ে সাঁঝ নিঝুম। সাঁঝের চেষ্টায় এ যাত্রায় বেঁচে ফিরলেও ওরা জড়িয়ে পড়েছে এক অতিপ্রাকৃত কালো ছায়ায়। এর থেকে বাঁচবে কীভাবে? সাঁঝ মেয়েটি কে প্রমীলা জানে না। মেয়েটির কী কোনো অলৌকিক ক্ষমতা আছে?

ঢাকা শহরের যান্ত্রিক পরিবেশেও পিশাচ শ্রেণীর ভ্যাম্পায়ার প্রাণীদের কমিউনিটি বিশাল। ঢাকাতেও শুরু করছে ত্রাসের রাজত্ব। হঠাৎ-ই ঢাকা থেকে হারিয়ে গেল পাঁচজন রক্তচোষা। যাদের জন্য মানুষ হারিয়ে যায়, তাঁদের হারিয়ে যাওয়া সাধারণ কোনো ঘটনা নয়। নড়েচড়ে বসেছে ভ্যাম্পায়ার কমিউনিটি।

তাই সুদূর লন্ডন থেকে ফিরে আসার প্রস্তুতি নিচ্ছে এই খেলার প্রধান। ইতিহাস তাকে জানলেও, ঠিক চিনে না। নতুন খোলস ছাড়িয়ে পুরনো রূপে ফিরে আসার সময় এসেছে। এরপর?

রাহাত, প্রমীলা, শারমিন, সাঁঝ এরা কে কী করছে বেশ রহস্যময় লাগছে আসলেই। তার উপর ভ্যাম্পায়ারদের কমিটি তাঁদের কাজ কী আবার? ঢাকার বুকে একি কাণ্ড শুরু হয়েছে! কোনো অশুভ ঘটনা ঘটতে যাচ্ছে না তো আবার! সাবধান খুব সাবধান!

🖌️পাঠ প্রতিক্রিয়া :

"একটি চাকরি হবে, চাঁদ মামা?" ভ্যাম্পায়ার ভিত্তিক আরবান ফ্যান্টাসি জনরার বই। লেখক সৈয়দ অনির্বাণ-এর চন্দ্রস্নাত সিরিজের প্রথম বই এটি। সিরিজের প্রথম বই হিসেবে এই বইটি চরিত্র ডেভেলপ আর বিভিন্ন আনুষঙ্গিক বিষয়ে জানানোতেই লেখক নজর দিয়েছেন বেশি। উপন্যাসটির নামকরণ লতিফুল ইসলাম শিবলী রচিত আইয়ুব বাচ্চুর গান "একটি চাকরি হবে, চাঁদ মামা?" গানটা থেকে নেওয়া হয়েছে। এই তথ্য পেয়ে বেশ চমৎকৃত হলাম।

"একটি চাকরি হবে' চাঁদ মামা?" উপন্যাসটি শুরু থেকে পড়তে পড়তে একটু ঝিমিয়ে পড়তে হয়। তবে গল্পের মাঝখানে এসে বেশ ইন্টারেস্টিং লাগবে যখন থেকে প্রমীলা এন্ট্রি নেয়। উপন্যাসে লেখক বর্ণনার দিকে নজর বেশি দিয়েছেন। যেহেতু সিরিজের প্রথম বই, বেশ কিছু ইতিহাস এনেছেন। কিছু জায়গায় বর্ণনা একটু অতিরিক্ত লেগেছে। লেখক চেষ্টা করছেন সবকিছু পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বর্ণনা করতে। যেহেতু লেখকের বই এই প্রথম পড়া তাই মোটামুটি বোঝার চেষ্টা করছি ওনার লেখনী।

উপন্যাসে কিছু ম্যাজিক ছিল, সেকেন্ডারি ওয়ার্ল্ডের কিছু বর্ণনা ছিল। যদিও মাত্রায় সীমিত, তবুও গল্পের প্রয়োজনে দারুণ লেগেছিল। আরো বিস্তারিত কিছু সামনে আসবে প্রত্যাশা করতেই পারি।উপন্যাসের শেষটা দারুণ লেগেছে। ইতিহাসের পাতা থেকে চরিত্র এনেছেন লেখক আসলেই ভালো টুইস্ট ছিলো

🖌️ চরিত্রায়ন:

চরিত্রায়ন মোটামুটি ভালো ছিলো। তবে রাহাত চরিত্রটিকে গুরুত্বপূর্ণ দেখাতে গিয়ে বেশ অনেক পৃষ্ঠা শুধু তাঁরই উল্লেখ ছিলো। আবার সাঁঝ নিঝুম মেয়েটিকে তেমন গুরুত্ব দেয়া হয়নি। যেটা আরেকটু দিলে ভালো লাগতো। পরের বইয়ে আশা করি ঠিকঠাক হবে সব।

🖌️বানান ও সম্পাদনা :

উপন্যাসে সম্পাদনার যথেষ্ট ঘাটতি রয়েছে। কিছু জায়গায় বাক্য গঠনে অসঙ্গতি ছিল। বানান ভুলের আধিক্য ছিল চোখে পড়ার মতো। একই বানান দুই জায়গায় দুইভাবে লেখা ছিল। এগুলো সম্পাদনার ঘাটতিকেই মনে করিয়ে দেয়। সিরিজের পরের বইগুলোতে আশা করি ঘাটতি পূরণ হবে।

"মধ্যরাতে মাথার উপর
চাঁদটাকে একা পাই
চাঁদ ছাড়া যে আমার আর
অন্য কোনো মামা নাই

শুকতলি ক্ষয়ে গেছে
ছিড়ে গেছে জামা
একটা চাকরি হবে চাঁদ মামা
ও চাঁদ মামা একটা চাকরি হবে মামা"

ঢাকাকে উপজীব্য করে মৌলিক ভ্যাম্পায়ার ফিকশন সম্ভবত লেখা হয়নি। যাদের এ ধারার গল্পে আকর্ষণ আছে, বইটি ভালো লাগবে আশা করি। পরবর্তী বইয়ের জন্য অপেক্ষায় রইলাম। লেখকের জন্য শুভকামনা।

🖌️বইয়ের নাম : "একটা চাকরি হবে, চাঁদ মামা?"
🖌️লেখক : সৈয়দ অনির্বাণ
🖌️প্রকাশনী : আদী প্রকাশন
🖌️পৃষ্ঠা : ২৪০
🖌️ব্যক্তিগত রেটিং : ৩.৮/৫
Profile Image for Ahmed Fahmida.
82 reviews2 followers
December 29, 2023
অনির্বাণের দেশী প্লটে ফ্যান্টাসি লিখার ব্যাপারটায় বরাবরই চমৎকৃত হয়েছি। সেই হিসাবে এইটা খুব একটা আশা জাগানিয়া হয়নি।
ভূমিকা বই হিসাবে প্রথম বই একটু বেশীই সাদামাটা লাগলো। তবে যদি সিরিজ হয়, আশা করছি পরপবর্তী বইগুলোয় জমবে কাহিনী।
Profile Image for Zahidul  Tamim.
114 reviews6 followers
February 14, 2025
আরবান ফ্যান্টাসি জনরার বই।
খামতি চোখে পড়ে নাই কোন তেমন। শুধু কয়েক জায়গায় টুইস্ট প্রেডিক্টেবল ছিল।
সিরিজের প্রথম বই। পরেরগুলার অপেক্ষায় রইলাম৷
Profile Image for নাঈম ইসলাম.
124 reviews6 followers
September 16, 2026
সিরিজের প্রথম বই হিসেবে ঠিক আছে আশা করছি দ্বিতীয় বই টা শীঘ্রই চলে আসবে,যারা দেশি ভ্যাম্পায়ার ফিল চান তারা পড়তে পারেন বই টা।
Profile Image for Sakib A. Jami.
392 reviews53 followers
May 26, 2022
মধ্য রাতে মাথার উপর
চাঁদ টাকে একা পাই,
চাঁদ ছাড়া যে আমার আর
অন্য কোনো মামা নাই।
সুখতলি ক্ষয়ে গেছে
ছিঁড়ে গেছে জামা,
একটা চাকরি হবে চাঁদ মামা?
ও চাঁদ মামা,
একটা চাকরি হবে মামা?

কাছের মানুষ দূরে চলে যায়। পর হয়ে যায় কোনো এক অজানা ক্ষণে। সব হারিয়ে যখন কেউ পাশে থাকে না তখন ঐ চাঁদটা নিজ থেকে আলো বিলিয়ে যায়। নীরব-নিস্তব্ধ রাতের সাক্ষী হয়ে সঙ্গ দিয়ে যায়। মামা খ্যাত চাঁদের কাছে যত আবদার, অভিমানের দুয়ার খোলা যায়। সব আবদার পূরণের ক্ষমতা চাঁদের আছে?

▪️কাহিনি সংক্ষেপ :

রাহাতের মা মারা গেছেন জন্মের সময়েই। কৃষক বাবার কাছে মানুষ রাহাত স্বপ্ন দেখে বড়ো হওয়ার। স্কুল কলেজের গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় জীবন বরণ করে নিতে ঢাকার বুকে পা দিয়েছে সে। বিশাল এ শহর যেন গিলে খেতে শুরু করেছে রাহাতকে। দিন কাটছে এভাবেই। কোনো মতে দু'টি টিউশনি জুটিয়ে খেয়ে পড়ে বেঁচে আছে সে। কপাল যার খারাপ, সব দিক দিয়েই খারাপ। রাহাতেরও এর ব্যতিক্রম হলো না। হুট করেই বাবার মৃত্যু এলোমেলো করে দিলো তাকে। বেঁচে থাকার সম্বল টিউশনিও চলে গেল হঠাৎ-ই। হতাশায় জর্জরিত রাহাত আকাশের পানে চেয়ে আক্ষেপের সুরে একটি চাকরির আবদার করল চাঁদ মামার কাছে। একটা চাকরি হবে কি? সে আবেদন পূরণ হলো। চাকরি মিলল রাহাতের। কী সেই চাকরি? এক অদ্ভুত ক্ষমতা পেয়ে বদলে গেল রাহাতের জীবন। সতর্কবার্তা এলো, ক্ষমতার অপব্যবহারের করা যাবে না। রাহাত কি পারবে ক্ষমতার যথাযথ ব্যবহার করতে?

প্রমীলার অষ্টাদশ জন্মদিন জমকালভাবে আয়োজনের ব্যবস্থা করেছেন তার বাবা আলতাফ আকরাম। আমেরিকান প্রথা মেনে পালন করা এ অনুষ্ঠানে আবির্ভাব হলো রহস্যময় এক ব্যক্তির। যাকে দেখে প্রমীলার নরম মনে উথাল পাতাল ঢেউ। তবে কি প্রেমে পড়ছে প্রমী? সে সব নিয়ে ভাবার অবকাশ নেই। আসরের মধ্যমণি প্রমীলার আজ অনেক দায়িত্ব। দীর্ঘদিন পর দেখা হওয়া প্রাণের বান্ধবী শারমিনকেও ঠিকঠাক সময় দিতে পারছে না। খুঁজেও পাচ্ছে না নিজের বান্ধবীকে। খুঁজতে গিয়েই দেখল, শারমিনের ঘোর বিপদ। সেই বিপদে নিজেও জড়িয়ে গেল প্রমীলা। কে বাঁচাবে তাদের? এভাবেই কি শেষ লেখা ছিল? তাদের বাঁচাতে এগিয়ে এলো সাঁঝ নিঝুম নামের একটি মেয়ে। নিজের সর্বস্ব দিয়ে চেষ্টা চালাল ও। কে এই সাঁঝ নিঝুম? তার পেছনের অতীত কী? সাঁঝের চেষ্টায় এ যাত্রায় বেঁচে ফিরলেও ওরা জড়িয়ে পড়েছে এক অতিপ্রাকৃত কালো ছায়ায়। এর থেকে বাঁচবে কীভাবে?

ভ্যাম্পায়ার শব্দটির সাথে পরিচয় থাকলেও, এই একবিংশ শতকে এসে এসব বিশ্বাস করা যায়? কে জানে? তবে জীবন্মৃতরা শুধু বিদেশে নয়, ঘাঁটি গেড়েছে এই ঢাকা শহরের যান্ত্রিক পরিবেশেও। পিশাচ শ্রেণীর এ প্রাণীদের কমিউনিটি বিশাল। ঢাকাতেও শুরু করছে ত্রাসের রাজত্ব। হঠাৎ-ই ঢাকা থেকে হারিয়ে গেল পাঁচজন রক্তচোষা। যাদের জন্য মানুষ হারিয়ে যায়, তাদের হারিয়ে যাওয়া সাধারণ কোনো ঘটনা নয়। নড়েচড়ে বসেছে জীবন্মৃতদের কমিউনিটি। উপরমহলের চাপে তাকে ফিরে আসতে হলো ঢাকায়। তার দায়িত্ব রক্তচোষাদের অন্তর্ধানের রহস্য খুঁজে বের করা। যা খুঁজে বের হলো, তা বিশ্বাস করা শক্ত। তাই সুদূর লন্ডন থেকে ফিরে আসার প্রস্তুতি নিচ্ছে এই খেলার প্রধান। ইতিহাস তাকে জানলেও, ঠিক চিনে না। নতুন খোলস ছাড়িয়ে পুরনো রূপে ফিরে আসার সময় এসেছে। এরপর?

রাহাত, সাঁঝ নিঝুম কিংবা প্রমীলা; সাথে আছে জীবন্মৃতদের বিভীষিকা। সব মিলিত হয়েছে এক বিন্দুতে। ঢাকার যান্ত্রিক গতি ছাপিয়ে শুরু হয়েছে অতিপ্রাকৃতের খেল। জোয়ার ভাটার টানে সেখানে শুরু হচ্ছে এক রক্তক্ষয়ী সংঘাত।

▪️বই পর্যালোচনা ও পাঠ প্রতিক্রিয়া :

"একটি চাকরি হবে, চাঁদ মামা?" ভ্যাম্পায়ার ভিত্তিক আরবান ফ্যান্টাসি জনরার বই। লেখক সৈয়দ অনির্বাণ-এর চন্দ্রস্নাত সিরিজের প্রথম বই এটি। সিরিজের প্রথম বই হিসেবে এই বইটি চরিত্র ডেভেলপ আর বিভিন্ন আনুষঙ্গিক বিষয়ে জানানোতেই লেখক নজর দিয়েছেন বেশি। উপন্যাসটির নামকরণ লতিফুল ইসলাম শিবলী রচিত আইয়ুব বাচ্চুর গান "একটি চাকরি হবে, চাঁদ মামা?" গানটা থেকে নেওয়া হয়েছে। বেশ কয়েক জায়গায় গানের রেফারেন্স দিয়েছেন লেখক।

"একটি চাকরি হবে' চাঁদ মামা?" উপন্যাসটির শুরুটা খুব বোরিং। এতটাই বোরিং ছিল যে লেখকের লেখনশৈলী সাবলীল না হলে ৫৩ তম পৃষ্ঠায় প্রমীলার আগমন পর্যন্ত এগিয়ে যেতে বেগ পেতে হতো। শুধু লেখকের লেখার টানে এগিয়ে যেতে পেরেছিলাম। প্রমীলার আগমনের পর থেকেই গল্পের মোড় ঘুরতে থাকে। বইটিও আকর্ষণীয় হতে থাকে। মাঝের দিকের কাহিনি যথেষ্ট ভালো লেগেছে। শুরুর দিকে গল্পটা যেমন আড়ষ্ট ছিল, শেষ দিকে তেমন ছিল না। বেশ উপভোগ করেছি।

"একটি চাকরি হবে, চাঁদ মামা?" উপন্যাসে লেখক বর্ণনার দিকে নজর বেশি দিয়েছেন। যেহেতু সিরিজের প্রথম বই, বেশ কিছু ইতিহাস এনেছেন। কিছু জায়গায় বর্ণনা একটু অতিরিক্ত লেগেছে। লেখক চেষ্টা করছেন সবকিছু পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বর্ণনা করতে। তার কতটা দরকার ছিল, সবটা আদৌ দরকার ছিল কি না জানি না। তবে কিছু ক্ষেত্রে বাহুল্য বর্জন করা যেত। কিছু উপমা লেখক ব্যবহার করেছেন তার আদৌ কোনো প্রয়োজন ছিল না। এগুলো বারবার গল্পের গতি শ্লথ করে দিচ্ছিল।

উপন্যাসে কিছু ম্যাজিক ছিল, সেকেন্ডারি ওয়ার্ল্ডের কিছু বর্ণনা ছিল। যদিও মাত্রায় সীমিত, তবুও গল্পের প্রয়োজনে দারুণ লেগেছিল। আরো বিস্তারিত কিছু সামনে আসবে প্রত্যাশা করতেই পারি।

উপন্যাসের শেষটা দারুণ লেগেছে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, শুরুটা দারুণ হলেও শেষে গল্প খেই হারিয়ে ফেলে। এদিকে লেখক শেষটা বেশ জমজমাট রাখতে পেরেছিলেন। এছাড়াও সিরিজের পরবর্তী বইয়ের অভ্যাসও দিয়েছেন। শেষে এমন এক ব্যক্তির নাম দিয়েছেন, চমকে গিয়েছিলাম। ইতিহাসের এক কুখ্যাত ব্যক্তিকে এভাবে আনা যায়, লেখকের এই কল্পনাকে সাধুবাদ জানাই। তবে এই বইয়ে তার ভূমিকা কম থাকলেও পরবর্তী বইয়ে যে তার গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান থাকবে তা বলাই বাহুল্য।

কিছু প্রশ্নের উত্তর মেলেনি। এর মধ্যে,
• শেষের দিকে শারমিনের সাথে কী হয়েছিল?
• অন্ধকার বদ্ধ ঘরে রাহাতের সাথে সম্মুখ সমরে যাদের লড়াই হয়েছিল তারা কারা?
প্রশ্ন দুইটার উত্তর ধোঁয়াশা থেকে গেছে। আশাকরি পরের বইয়ে সব প্রশ্নের খোলাসা হবে।

▪️চরিত্রায়ন :

সিরিজের প্রথম বই হিসেবে লেখক চরিত্র গঠনে বেশ গুরুত্ব দিয়েছেন। বিশেষ করে রাহাত চরিত্রকে লেখক অনেক বেশি সময় দিয়েছেন। তবে একটা চরিত্রকে তুলে আনতে প্রায় পঞ্চাশ পৃষ্ঠা খরচ করা ঠিক মনঃপুত হয়নি। হয়ত মাঝে অন্য কাউকে স্থান দিয়ে আরেকটু আকর্ষণীয় করা যেত। শুরুর দিকে আমার বিরক্তের অন্যতম কারণ এটিই।

গল্পে নারী চরিত্রের আনাগোনা ছিল প্রচুর। সাঁঝ নিঝুম, প্রমীলা, শারমিন, ইতি - প্রত্যেকে গল্পের গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র। প্রত্যেকেই আলাদা বৈশিষ্ট্যের অধিকারে। প্রমীলা বড়োলোক পরিবারে জন্ম নিলেও সাদামাটা জীবনযাপনে আগ্রহী। অন্যদিকে শারমিন বা ইতির মধ্যে ওভারস্মার্ট জাতীয় চালচলন স্পষ্ট।

অন্যদিকে উপন্যাসের অন্যতম প্রধান চরিত্র সাঁঝ নিঝুম হলেও তার ব্যাকস্টোরি ঠিক মতো বিল্ডআপ হয়নি। লেখক যা বর্ণনা করেছেন, সব ভাসাভাসা। আশা করছি পরবর্তী বইয়ে সাঁঝ নিঝুম চরিত্র নিয়ে ভালোমতো কাজ করবেন।

এছাড়াও উপন্যাসে রক্তচোষাদের জীবন ধারণ, তাদের শক্তিমত্তা, দুর্বলতা - লেখক সবকিছুই ফুটিয়ে তুলেছেন। এদের মধ্যে কিছু যেমন গুরুত্বপূর্ণ ছিল, আবার কয়েকজন ছিল 'গ্রান্ট'। আগামী বইয়ে তাদের নিয়ে বিস্তর আলোচনা আশা করছি।

▪️বানান ও সম্পাদনা :

উপন্যাসে সম্পাদনার যথেষ্ট ঘাটতি রয়েছে। কিছু জায়গায় বাক্য গঠনে অসঙ্গতি ছিল। "হিতে বিপরীত" কে "বিপরীত হিতে" লেখা ছিল এক জায়গায়। লেখকের শব্দচয়ন ভালো লাগলেও, কিছু জায়গায় দুর্বল লেগেছে। এক জায়গায় লেখা ছিল, প্রমীলা তার বাবাকে মনে মনে গালি দিচ্ছে। এ কেমন শব্দচয়ন? বাবার উপর মেয়ের রাগ হতেই পারে। তাই বলে গালি দিবে? লেখকের এদিকে শব্দচয়নে মনোযোগী হওয়া প্রয়োজন ছিল।

উপন্যাসে কিছু জায়গায় গালির ব্যবহার ছিল। এর মাঝে * (স্টার চিহ্ন) দেওয়া ছিল। দরকার ছিল না। যদি গালিr ব্যবহার দৃষ্টিকটু লাগে, তো ব্যবহার করার কী দরকার?

বানান ভুলের আধিক্য ছিল চোখে পড়ার মতো। বিশেষ করে মুদ্রণ প্রমাদ। আ-কার, এ-কারের অদল বদল কয়েক জায়গায় দেখেছি। এছাড়াও র, ড়; ৎ, ত; জ, ঝ - এর অদল বদল ছিল। কিছু কিছু শব্দের শেষে কোনো কারণ ছাড়াই ঋ-কার এসেছিল। একই বানান দুই জায়গায় দুইভাবে লেখা ছিল। এগুলো সম্পাদনার ঘাটতিকেই মনে করিয়ে দেয়। বই প্রকাশের পূর্বে আরও যত্নবান হওয়া যেত।

▪️প্রচ্ছদ ও বাঁধাই :

প্রচ্ছদ ভালো লেগেছে। গল্পের সাথে মানানসই। তবে গল্প যেমন আকর্ষণ ধরে রেখেছে, আরেকটু ভালো প্রচ্ছদ হলে ভালো লাগত। বাঁধাই চলনসই। তবে ২৪০ পৃষ্ঠার বই একবার পড়তে গিয়ে খুলে যাওয়া ভালো কথা না। আরেকটু ভালো বাঁধাই দেওয়া যেত। শুধু আমার বইয়ে এমন কি না, কে জানে?

▪️পরিশেষে, ভ্যাম্পায়ার জাতীয় ফিকশন আমদের দেশে জনপ্রিয় করেছিলেন রকিব হাসানের রূপান্তরিত "ড্রাকুলা"। সম্প্রতি মূল বইটির পূর্ণাঙ্গ অনুবাদ প্রকাশ পেয়েছে। রক্তচোষাদের কেচ্ছা কাহিনির চাহিদা আমাদের দেশের পাঠকদের কম না। এর আগে ঢাকাকে উপজীব্য করে মৌলিক ভ্যাম্পায়ার ফিকশন সম্ভবত লেখা হয়নি। যাদের এ ধারার গল্পে আকর্ষণ আছে, বইটি ভালো লাগবে আশা করি। পরবর্তী বইয়ের জন্য অপেক্ষায় রইলাম। লেখকের জন্য শুভকামনা।

▪️বই : একটি চাকরি হবে, চাঁদ মামা?
▪️লেখক : সৈয়দ অনির্বাণ
▪️প্রকাশনী : আদী প্রকাশন
▪️পৃষ্ঠা : ২৪০
▪️ মুদ্রিত মূল্য: ৪৩০ টাকা
▪️ব্যক্তিগত রেটিং : ৩.৭৫/৫
Profile Image for Auyon.
Author 3 books3 followers
October 16, 2023
বইটার নাম যখন প্রথম জানলাম, প্রথম যে জিনিসটা মাথায় এসেছিল তা হচ্ছে আইয়ূব বাচ্চুর একটা গান। মনে মনে ভাবছিলাম গানটার সাথে বইয়ের কাহিনির কোন যোগসূত্র আছে কি? নইলে গান থেকে বইয়ের নাম দেবার কোন মানেই হয় না। কিন্তু আবার সেই সাথে এটাও ভাবছিলাম যে বইটার জঁরা আরবান ফ্যান্টাসি। তার সাথে এমন নামের কীভাবে মিল হতে পারে? হুমম – বেশ ভালোই দ্বন্দ্ব, তাই না? এদিকে আবার শোণিত উপাখ্যান পড়ার পর থেকে সৈয়দ অনির্বাণের লেখার উপরে আস্থাও চলে এসেছে। তাই বেশ কৌতূহল নিয়ে অপেক্ষা করছিলাম বইটার। বলতেই হয় - আশাহত হতে হয়নি। শোণিত উপাখ্যান ত্রয়ীর পর সৈয়দ অনির্বাণের কলম থেকে ভালো আরেকটা আরবান ফ্যান্টাসি কাম ভ্যাম্পায়ারিক ফিকশান পেলো পাঠকেরা। বইটা চন্দ্রস্নাত রণভূম সিরিজের প্রথম বই। কিছুটা লোর, কিছুটা ফিকশান, কিছুটা ম্যাজিক, কিছুটা অ্যাকশান আর কিছুটা রহস্য একসাথে মিশিয়ে বেশ উপাদেয় একটা বই হয়েছে। তবে … নাহ, থাক, তবের ব্যপারটা ডিটেইল আলোচনার সময়েই বলি নইলে বইটার প্রতি জাস্টিফিকেশান করা যাবে না হয় তো।
কাহিনিঃ
বইয়ের শুরুতে সূচনা বলে একটা অধ্যায় আছে। সেখানেই ভ্যাম্পায়ারদের সম্পর্কে একটা ধারণা দেয়া হয়। সেই সাথে ঘটনার সূত্রপাতের একটা ইঙ্গিত দেয়া হয়। বেশ আকর্ষণীয় ভঙ্গিতে লেখা সূচনা নিঃসন্দেহে পাঠকের মনোযোগ আকর্ষন করবে, আগ্রহও বাড়িয়ে তুলবে।
এর পরে ঘটনা চলে আসে ঢাকায়, রাহাত নামের এক বেকার যুবকের কাছে। হ্যাঁ, এখানেই নামকরণের রহস্য বোঝা যাবে। আইয়ূব বাচ্চুর গানটা যেমন বেকার, অসহায় যুবকের আহাজারিতে মূর্ত, ঠিক তেমনি একজন অসহায় বেকার যুবকের সাথে পরিচয় হয় এখানে আমাদের। পরের ঘটনা রাহাত নামের এই যুবকের টানাপোড়েন আর আকস্মিক ভাবে অতিপ্রাকৃত জগতের সাথে পরিচিতির মাধ্যমে এগিয়ে চলে।
এর পরে ঘটনার পরিবর্তন। দৃশ্যপটে আচমকা আবির্ভাব হয় ধনীর দুলালী প্রমীলা, তার বান্ধবী শারমিন আর তার সাথে ঈষৎ রহস্যময়ী সাঁঝ নামের আরেক তরুণীর। স্বভাবসিদ্ধ ভাবে সৈয়দ অনির্বাণ এই পট পরিবর্তন করেছেন দক্ষতার সাথে।
ঘটনা প্রবাহ এর পরে মূলত দুই ধারায় এগিয়েছে। রাহাতের নতুন প্রাপ্ত ক্ষমতা, নিজেকে নতুন করে চেনার পাশাপাশি প্রমীলা-শারমিনের জীবন নিয়ে লড়াই আর তাদেরকে বাঁচানোর জন্য সাঁঝের প্রচেষ্টা। পাঠক (ইয়ে, শুধু পাঠক নন, পাঠিকাও!), বুঝতেই পারছেন একদম শেষে এসে এই দুই ঘটনা প্রবাহ এক সুতোয় মিলবে। তা মিলেছেও। কিন্তু সেই সাথে পরের পর্বের ইঙ্গিতও রেখে গেছেন লেখক। ঠিক ক্লিফ হ্যাঙ্গার না, আবার পুরোপুরি শেষও না। বইটা শেষ হবে কিছুটা প্রত্যাশা আর একটা মুগ্ধতার রেশ রেখে।
ভালো লাগা দিকঃ
প্রথমেই বলতে হয় লেখকের ভাষা। শোণিত উপাখ্যান যাঁরা পড়েছেন তাঁরা তো জানেনই সৈয়দ অনির্বাণ ঘটনা প্রবাহ সাজাতে কেমন পটু। তার ছাপ তিনি রেখেছেন এই বইয়েও। একবার একটা বাংলা ফ্যান্টাসির আলোচনায় বলেছিলাম সাম্ভালার তুলনায় শোণিত উপাখ্যানের কাহিনি অনেক জমজমাট আর দ্রুতগতির কিন্তু সাম্ভালার লেখনী ছিলো বেটার। তার কিছুটা উল্টো বলবো আমি এখানে। শোণিত উপাখ্যানের তুলনায় লেখকের ভাষা এবং রচনাশৈলী অনেক পরিণত হয়েছে, হয়েছে অনেকটাই আকর্ষণীয়। কাহিনিটাও দ্রুততালে এগিয়েছে, ছন্দ পতন দেখিনি কোথাও। কিন্তু ঘটনার বিস্তৃতি মন ভরাতে পারেনি পুরোপুরি। মনে হয়েছে আরেকটু ছড়ানো কাহিনি আর একটা দুটো সাব প্লট বইটার আকর্ষণ বাড়িয়ে দিত বহুগুণ।
কিন্তু একথা নিঃসংকোচে বলা যায় সাম্প্রতিক সময়ে থ্রিলার এবং ফ্যান্টাসির সেরা ভাষাগুলোর একটা পাওয়া যাবে এই বইয়ে। এক্কেবারে মেদহীন, ছিমছাম। প্রয়োজনের অতিরিক্ত বাহুল্য নেই, অথচ সবকিছুর খুব চমৎকার বর্ণনা পাওয়া যায়। কারো কারো কাছে অবশ্য মনে হতেই পারে কিছু কিছু অধ্যায় আরেকটু লম্বা হলে ভালো হতো। কিন্তু আমার কাছে খারাপ লাগেনি।
ঘটনার ঘনঘটা নিয়ে বলতে হয় সেটার কোন অভাব নেই। একের পর এক হার্টবিট বাড়িয়ে তোলা ঘটনা একসাথে বুনে বইটা রচনা করা হয়েছে। রুদ্ধশ্বাসে পড়েছি বইটা। শুরুর দিকে রাহাতের পটভূমি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে কিছুটা সময় নেয়া হয়েছে ঠিকই, কিন্তু লেখার গুনে সেটাও একদম ঝুলে পড়েনি।
সিরিজের প্রথম বই বলেই হয়তো চরিত্রের গভীরতা বোঝানোর পিছনে লেখক খুব বেশী সময় ব্যয় করেননি। কিন্তু প্রধান চরিত্রগুলোকে উপলব্ধি করতে বেগ পেতে হয় না মোটেও। ঠিক আমাদের আশেপাশে যে চরিত্রগুলোকে দেখি, তারাই যেন মূর্ত হয়ে উঠেছে বইয়ে। তবে প্রতিটা চরিত্রের সাথেই একটা করে ছোট টুইস্ট আছে। বোঝাই যায় লেখক খুব চিন্তাভাবনা করে সাজিয়েছেন তাদের।
ম্যাজিক সিস্টেমের কথা না বললেই নয়। না, ওয়েল এস্টাবলিশড কোন ম্যাজিক সিস্টেম নেই এখানে। কিন্তু রাহাতের ম্যাজিকটা অদ্ভুত রকম ইউনিক লেগেছে আমার কাছে। এরকমও হওয়া সম্ভব সেটা পড়ার আগে মাথাতেই আসেনি! আর তার সাথে বইয়ের নাম, চাঁদমামা সব কিছু মিলে মিশে একাকার। অসাধারণ রকম সুন্দর। পরের বইগুলোতে এই ম্যাজিকের আরো ভিন্ন রূপ, অন্তত পক্ষে নতুন বৈশিষ্ট্য আশা করছি।
আর শেষের টুইস্টটা! যাঁরা এই চরিত্রটার কথা জানেন, তাঁদের গা শিউরে উঠবে নিঃসন্দেহে। যাঁরা সেভাবে জানেন না তাঁরাও একটা বড় কিছু অপেক্ষা করছে ভেবে শিহরিত হবেন।

যেখানে প্রত্যাশা আরো বেশিঃ
ঐ যে শুরুতে বললাম না, তবে…? সেই তবের ব্যপারে আসি এবার।
চরিত্রগুলোর গভীরতা বোঝাতে তেমন সময় নেননি লেখক। তাই কিছু কিছু জিনিস একটু নিজের মনের মাধুরী মিশিয়ে ধরে নিতে হয়েছে। যেমন প্রমীলা। এত বিশাল ধনীর মেয়ে, বিদেশে পড়াশোনা করে – তার মধ্যে একটা অন্যরকম ব্যক্তিত্ব থাকার কথা। অন্তত কিছুটা দৃঢ়তা আর ধনীর দুলালীর হুকুম করা মাত্র পালন হতে দেখার একটা সহজাত বৈশিষ্ট্য থাকার কথা। তা সে যতই ভালো মনের মানুষ হোক না কেন। সেটা খুঁজে পাইনি প্রমীলার মধ্যে, তাই কিছু কিছু জায়গায় ওকে কেঁচো হয়ে যেতে দেখে খাপছাড়া লেগেছে। কিন্তু আশা করছি যখন ওর ব্যাকগ্রাউন্ড ফুটিয়ে তোলা হবে তখন এর ব্যাখ্যাটাও পাওয়া যাবে। কিন্তু আবার খুব ছোট্ট একটা নার্সের চরিত্রে মানবিকতা এত সুন্দরভাবে নিয়ে আসা হয়েছে যে মুগ্ধ হয়েগেছি। এটাকে খাপচাড়া মনে হয়নি একদমই।
কাহিনির মাঝখানে হঠাৎ করে কনভেনশান সেন্টারে একজন ছেলে আর মেয়ের মধ্যে কথাবার্তার ঘটনাটা পড়ার সময় বেশ একটা উত্তেজনা কাজ করছিল। কারণ ঘটনাটা একটা দারুন কিছুর ইঙ্গিত দিচ্ছিল। কিন্তু পরে এ সংক্রান্ত আর কিছু না দেখে মনে মনে ভাবছিলাম মেয়েটা গেলো কোথায়? এটাই একমাত্র ঘটনা যার রেশ এই বইয়ে আর কোথাও পাইনি। হয়তো পরের বইয়ে বোঝা যাবে।
আর শুরুতে রাহাতের ব্যাকগ্রাউন্ড বর্ণনা করে তারপর ঘটনার সূত্রপাত হয়েছে। এটাও গল্প বলার একটা ধরণ। কিন্তু ব্যক্তিগতভাবে আমি কিছু ঘটনার মাধ্যমে চরিত্রকে পাঠকের কাছে পরিচয় করিয়ে চরিত্রের সাথে পাঠকের একটা যোগাযোগ ঘটিয়ে দেয়ার পরে ব্যাকগ্রাউন্ড বর্ণনা করা পছন্দ করি। যেমনটা করা হবে শারমিন বা সাঁঝের ক্ষেত্রে। অবশ্য এখানে আরেকটা কথা বলতেই হয় – গল্পের দুই ধারাকে পাঠকের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়ার জন্য দুইটা ধরণ বেছে নেয়া হয়েছে – এটাও কিন্তু প্রশংসার যোগ্য একটা কাজ। শুধু ব্যক্তিগতভাবে আমার ভালো লাগে নি, এই আরকি। অনেক পাঠকের কাছেই এটা ভালো লাগবে।
সব মিলিয়ে আমি বলবো একটা চাকরী হবে চাঁদমামা বাংলা মৌলিক আরবান ফ্যান্টাসির জগতে অসাধারণ একটা সংযোজন। আপনি যদি ফ্যান্টাসি পছন্দ করেন, এমনকি যদি থ্রিলার পছন্দ করেন – তবে আপনার অবশ্যই পড়া উচিৎ এই বইটা। আর ভ্যাম্পায়ারিক ফিকশান পছন্দ করলে তো কথাই নেই – আপনার জন্য এই বই পড়া ফরজ সে ক্ষেত্রে!
Profile Image for Abdullah Al Imran Saad.
2 reviews1 follower
March 26, 2023
প্রাচীনকাল থেকেই চাঁদ মানুষের কাছে ছিল রহস্যময়। চাঁদকে ঘিরে মানুষের জল্পনা কল্পনার শেষ নেই।মানুষের যত ফরিয়াদ যেন চাঁদ মামার কাছেই।ফিকশনেও সেই ছাপ স্পষ্ট।

বইটি বেশ ইনজয় করেছি।একই সাথে ভ্যাম্পায়ার, উইচ,আর আন ন্যাচারাল পাওয়ার, সব মিলিয়ে সত্যিই দারুণ।
Displaying 1 - 16 of 16 reviews