Jump to ratings and reviews
Rate this book

আহমেদ করিম #3

প্রতিচ্ছায়ারা জেগে থাকে

Rate this book
পোড়োবাড়িতে লাইভ শো করতে গিয়ে বিপদে পড়ল চারবন্ধু। সকালে তিন বন্ধুর মৃতদেহ পাওয়া গেল গাড়িতে। দুর্ঘটনা না অন্যকিছু? এক বন্ধু, রাহুল, দীর্ঘদিন পর জেগে উঠল কোমা থেকে। অনুভব করতে শুরু করল, সে এখন আর রাহুল নয়। অন্য কেউ!
লাবনীরা উঠেছে মিরপুরের তন্দ্রাবিলাস অ্যাপার্টমেন্টে, পুরানো একটি ফ্ল্যাটে। কিছুদিন পরেই শুরু হলো লাবনীর অস্বাভাবিকতা।
আহমেদ করিমের সামনে এখন দুটো কেস। একটি তিনি নিজে দেখছেন, আরেকটি দেখছে তার সবসময়ের সহকারি, সোহেল আহমেদ। তিনি কি পারবেন লাবনীকে সুস্থ করতে? সোহেল কি পারবে রাহুলকে এক প্রতিচ্ছায়ার হাত থেকে বাঁচাতে?
আহমেদ করিমের সাথে আপনাদেরকেও স্বাগতম প্রতিচ্ছায়াদের সাথে এক অঘোষিত যুদ্ধে!

190 pages, Hardcover

First published March 15, 2022

62 people want to read

About the author

Shariful Hasan

42 books1,010 followers
Shariful Hasan hails from Mymensingh, Bangladesh. He has spent his childhood by the banks of Brahmaputra river. He completed his Masters in Sociology from University of Dhaka and is currently working in a renowned private organization.

Shariful's first novel was published on 2012 titled Sambhala. With two other books, this captivating fantasy trilogy has received widespread acclimation both within and beyond the borders of Bangladesh. The Sambhala Trilogy was translated in English and published from India.

Although his inception consisted of fantasy and thriller, he has later worked on a variety of other genres. These works have been received fondly by the Bangladeshi reader community. Lot of his works have also been published from different publications in West Bengal.

Award- Kali O Kalam Puroshkar 2016 for 'অদ্ভুতুড়ে বইঘর'

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
9 (13%)
4 stars
21 (32%)
3 stars
28 (43%)
2 stars
7 (10%)
1 star
0 (0%)
Displaying 1 - 22 of 22 reviews
Profile Image for Harun Ahmed.
1,690 reviews455 followers
May 1, 2022
২.৫/৫
"কিংকর্তব্যবিমূঢ় " এ যে সমস্যাটা ছিলো, এ বইতে সেই একই সমস্যা প্রকট।

(হালকা স্পয়লার)

প্রথমে খুব জীবন্তভাবে একটা ভৌতিক পরিবেশ ও আপাতভাবে অলৌকিক রহস্য সৃষ্টি করে পরে তার লৌকিক ব্যাখ্যা প্রদান করা হবে।আগের বইয়ের ব্যাখ্যা ছিলো অতিশয় সরলীকৃত, এ উপন্যাসেও তাই। লাবনী কেন রহস্যময় আচরণ করছে শেষে এসে তা বোঝা গেলো কিন্তু আহমেদ করিম,আবির আর লাবনীর বাড়ির সবাইকে সে কীভাবে দূর থেকে নিয়ন্ত্রণ করে ভয় দেখাতো তা মোটেই বোধগম্য নয়।
সোহেল আর রাহুলের গল্পটায় ধোঁয়াশা রয়ে গেছে শেষ পর্যন্ত।এই অংশটুকু তুলনামূলকভাবে বেশি ভালো লেগেছে।
Profile Image for Ishraque Aornob.
Author 29 books408 followers
March 26, 2022
শেষ করলাম আহমেদ করিম সিরিজের নতুন বই প্রতিচ্ছায়ারা জেগে থাকে। বইটা শুরু থেকেই ক্যাচি। একেবারে কাহিনীতে গেঁথে নেবে পাঠককে। এবার আহমেদ করিম ও তার সহকারী সোহেল দুটো ভিন্ন কেস আলাদাভাবে সামলেছেন। তবে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ ছিলই। একটা কেস পোড়াবাড়িতে রাত কাটাতে গিয়ে কোমায় যাওয়া এক ছেলের, অপরটি অপশক্তি ভর করা এক মেয়ের। দুটো কেসের রহস্য কি? সাইকোলজিক্যাল নাকি আসলেই অলৌকিক/ভয়াবহ কিছু?
শুরু থেকেই পেজ টার্নার ছিল। সেইসাথে ভয়ের দৃশ্যগুলো বেশ অস্বস্তিকর। রাতে পড়েছি বেশিরভাগ-ই, ফলে একটু ভয় লেগেছেই। প্রত্যেক অধ্যায় শেষেই ছিল ক্লিফহ্যাংগার আর রহস্য। একজন গোয়েন্দার মতই ফিল্ডওয়ার্ক করেছেন আহমেদ করিম। সাইকোলজিক্যাল ব্যাপার স্যাপার, সংশয়, পাস্ট হিস্ট্রি অনন্য মাত্রা যোগ করেছে কাহিনীতে। পুরো বইটাই উপভোগ করেছি। তবে শেষটা আরেকটু বড় হলে আরও ভালো লাগত। একটা ভালো বই, দ্রুত শেষ হয়ে যাক কোন পাঠক-ই বা চায়? আহমেদ করিমের পরের বইয়ের অপেক্ষায় থাকলাম। সবমিলিয়ে প্রতিচ্ছায়ারা জেগে থাকে পড়ে ভালো সময়ই কেটেছে। যারা ভয় পেতে চান, রহস্য ভালোবাসেন বা শৈল্পিক লেখনশৈলীর স্বাদ পেতে চান তাদের জন্য রিকমেন্ডেড।
Profile Image for Anjan Das.
424 reviews17 followers
March 14, 2023
আগের দুইটার মত এটাও এভারেজ লাগল।দুইটা ভিন্ন কেস নিয়ে সমান্তরালভাবে কাহিনী এগিয়ে যাচ্ছিল কিন্তু শেষ দিকে দুইটার কোন কিছুর ই পরিস্কার ব্যাখ্যা পাওয়া গেল না।লেখক হুমায়ুন আহমেদের অমীমাংসিত গল্পগুলোর মত প্যাটার্ন ধরেছে কিনা কে জানে!রাতে একটু ভয় ভয় লাগলেও গল্পে "মসলা" ছিল না।সিরিজের আগের দুই গল্পের মতই মনে হয়েছে।
Profile Image for Zahidul.
450 reviews97 followers
March 27, 2022
❝আর নয় ঝাড়ফুঁক, তুকতাক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক, বিখ্যাত সাইকোলোজিস্ট ড.আহমেদ করিম এবার আপনার যাবতীয় সমস্যার সমাধান করবেন। মানসিক/আধিভৌতিক/ভৌতিক সমস্যা নিয়ে চলে আসুন। সমাধান নিশ্চিত। বিফলে মূল্য ফেরত।❞- শরীফুল হাসান, ❛রূপকুমারী ও স্বপ্নকুহক❜
-
❛প্রতিচ্ছায়ারা জেগে থাকে❜
-
লাবণী, বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া এক মেয়ে। হঠাৎ করেই সে অস্বাভাবিক কিছু আচরণ করা শুরু করে। এর ফলে তার পরিবারের বাকিদের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠে। উপায়ন্তর না দেখে লাবণীর বাবা ফরিদ আহমেদ সাইকোলজিস্ট আহমেদ করিমের শরণাপন্ন হন।
-
রাহুল, এক দুর্ঘটনায় তার সাথে থাকা তিন বন্ধু মারা যায় এবং সে কোমায় চলে যায়। কয়েক মাস পরে কোমা থেকে ফিরে আসার পর তার আচরণে অদ্ভুত পরিবর্তন দেখা যায়। তাই রাহুলের বাবা জাভেদ হোসেন তার পরিচিত এক ব্যক্তির ছেলে সোহেল আহমেদের কাছে যান তার ছেলে রাহুলকে সুস্থ করার জন্য।
-
আহমেদ করিম এবং সোহেল আহমেদ আলাদা আলাদাভাবে দুইটি কেস হ্যান্ডেল করা শুরু করলে আস্তে আস্তে তারা বুঝতে পারেন দুই কেসই জটিল আকার নেওয়া শুরু করেছে। এখন লাবণীর এমন অস্বাভাবিক আচরণের কারণ কী? রাহুলেরই বা আচরণে এমন অদ্ভুত পরিবর্তনের হেতু কী? আহমেদ করিম এবং সোহেল কী পারবে এই কেস দুটোর সমাধান করতে? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর জানতে হলে পড়তে হবে জনপ্রিয় লেখক শরীফুল হাসানের আহমেদ করিম সিরিজের ৩য় পর্ব ❛প্রতিচ্ছায়ারা জেগে থাকে❜।
-
❛প্রতিচ্ছায়ারা জেগে থাকে❜ বইটি সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার ঘরানার ড.আহমেদ করিম সিরিজের ৩য় বই। সিরিজের আগের দুইটি বই ❛রূপকুমারী ও স্বপ্নকুহক❜ এবং ❛কিংকর্তব্যবিমূঢ়❜ আমার কাছে মোটামুটি ভালো লাগায় এই বইটিও সে ধরনের এক্সপেকটেশন নিয়েই পড়া শুরু করেছিলাম। সিরিজের বাকী দুই বইয়ের মতো এই বইয়ের শুরুটাও রহস্যজনক ভাবে এবং ভয়ের আবহ নিয়েই শুরু হয়েছিলো। ধীরে ধীরে দুই ধরনের রহস্য নিয়ে কাহিনি আগাতে থাকে। এর ভেতরে গল্পের মাঝে কয়েক জায়গায় যেভাবে ভয়ের আবহ সৃষ্টি করা হয়েছে তা বেশ প্রশংসনীয়। তবে শুরুতে যেভাবে রহস্য আর ভয়ের আবহ নিয়ে বইটা আগাচ্ছিলো সে হিসেবে শেষটা একেবারেই সাদামাটা লাগলো। পুরো বইয়ের প্লটের হিসেবে ক্লাইম্যাক্সটা আমার কাছে একদমই আপ টু দ্য মার্ক মনে হলো না। বইয়ের ভাষাশৈলী অবশ্য কাহিনির হিসেবে ভালোই ছিলো।
-
❛প্রতিচ্ছায়ারা জেগে থাকে❜ বইয়ের চরিত্রায়নের দিক থেকে আহমেদ করিম সাইকোলজিস্ট হিসেবে এবারেও তার গতানুগতিক চরিত্রেই ছিলো। তবে আলাদা কেস পাওয়ায় এবারে সোহেলের ক্যারেক্টার বেশ পরিস্ফুটিত হয়েছে। বইয়ের আরো অনেক ক্যারেকটার বিশেষ করে লাবণী আর রাহুল ফোকাসে থাকলেও কয়েকটি চরিত্র সম্পর্কে ধোঁয়াশা রয়ে গিয়েছে গল্পটা শেষ হবার পরেও। গল্পে কয়েকটি সাবপ্লটেরও ঠিকঠাক ব্যাখ্যা পেলাম না। এছাড়া বইতে এক চরিত্রকে একবার মোবাইল ফোন ব্যবহার করেন না বলে চিত্রিত করা হয়েছে আবার কয়েক অধ্যায় পরে তাকেই ফোন দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। এ ধরনের ক্যারেক্টার এরর বেশ চোখে লেগেছে।
-
❛প্রতিচ্ছায়ারা জেগে থাকে❜ বইয়ের প্রোডাকশন মোটামুটি ভালোই বলবো আমি। কিছু সিলি প্রিন্টিং মিস্টেক অবশ্য বইতে ছিলো, সেগুলো হয়তো আরো ভালোভাবে সম্পাদনা করলে কমানো যেতে পারতো। ❛প্রতিচ্ছায়ারা জেগে থাকে❜ বইয়ের নামলিপিটা ভালো লাগলেও প্রচ্ছদটা অ্যাভারেজ লেভেলেরই লাগলো।
-
এক কথায়, আমার কাছে সিরিজের প্রথম দুই বইয়ের লেভেলের মনে না হলেও ৩য় পর্ব হিসেবে ❛প্রতিচ্ছায়ারা জেগে থাকে❜ বইটিকে মোটামুটি ভালোই বলা যায় এ ধরনের ঘরানার বই হিসেবে। তাই যারা এ ধরনের সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার/হরর বই পড়তে ইচ্ছুক এবং সিরিজের প্রথম দুইটি বই ভালো লেগেছে তাদের জন্য ❛প্রতিচ্ছায়ারা জেগে থাকে❜ বইটাও রিকমেন্ড করা থাকলো।
Profile Image for Riju Ganguly.
Author 39 books1,874 followers
February 11, 2024
মনোবিজ্ঞানী আহমেদ করিমের এই তৃতীয় উপাখ্যানটি পড়তে গিয়ে বেশ বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হলাম।
এই কাহিনিতে যে দুটি সমান্তরাল সূত্র শেষটায় একস��্গে পেঁচিয়েছে, তাদের প্রকৃত রূপটি কেমন, সেই নিয়ে বোধহয় লেখক নিজেই কিঞ্চিৎ সংশয়ে ছিলেন। সেদুটিতে যথাসম্ভব অতিলৌকিক ও অলৌকিক উপাদান মেশানো হয়েছে; আবার একরকম জোর করে চেষ্টা হয়েছে তাদের লৌকিক ব্যাখ্যা দেওয়ার। এছাড়া আছে বেশ কিছু ইনকনসিসটেন্সি এবং পরস্পরবিরোধী তথ্য৷ সর্বোপরি আছে অজস্র উত্তরবিহীন প্রশ্ন। ফলে বইটা পড়তে ভালো লাগল; কিন্তু পড়াটা শেষ হওয়ার পর ভালোরকম বিরক্তিও জন্মাল।
কে জানে এই সিরিজের পরের বইটা কেমন হবে।
Profile Image for Khandaker Sanidulla Sanid.
44 reviews6 followers
November 6, 2023
সিরিজের আগের বইগুলোতে যেমন ছিল আহমেদ করিম আর তার সঙ্গী সোহেল দুজনে মিলে কোনো সমস্যার সমাধান এই বইয়ের ক্ষেত্রে সেটা একটু ভিন্ন। এখানে আহমেদ করিম ও সোহেল দুজনে আলাদাভাবে দুটো সমস্যার সম্মুখীন হয়।
কেস দুটো আলাদা হলেও দুটোর মধ্যে কানেকশন মোটামুটি একই। সবকিছুই ঠিক ছিল শুরু থেকে কিন্তু শেষদিকে এসে কেন যেন সমাধান মনোপুত করতে পারলোনা। বাকি দুটো বইয়ের এন্ডিং যেমন মোটামুটি সন্তুষ্ট করার মত এতে তার সিকিভাগও পেলামনা সেজন্য কিছুটা হতাশ হয়েছি।
Profile Image for শুভাগত দীপ.
286 reviews44 followers
February 20, 2023
|| রিভিউ ||

বইঃ প্রতিচ্ছায়ারা জেগে থাকে (আহমেদ করিম সিরিজ # ৩)
লেখকঃ শরীফুল হাসান
প্রকাশকঃ বাতিঘর প্রকাশনী
প্রকাশকালঃ মার্চ, ২০২২
ঘরানাঃ মিস্ট্রি/সুপারন্যাচারাল
প্রচ্ছদঃ সুরঞ্জিত তনু
পৃষ্ঠাঃ ১৯০
মুদ্রিত মূল্যঃ ২৪০ টাকা
ফরম্যাটঃ হার্ডকভার

কাহিনি সংক্ষেপঃ মিরপুরের তন্দ্রাবিলাস নামের এক পুরোনো ভবনের একটা ফ্ল্যাটে পরিবার নিয়ে উঠেছেন ফরিদ সাহেব। তাঁর পরিবারে তিনি ছাড়াও আছেন তাঁর স্ত্রী লোপা বেগম, বড় মেয়ে লাবনী আর ছোট মেয়ে শ্রাবণী। দীর্ঘদিন খালি থাকার পর তাঁরা যখন এই ফ্ল্যাটে উঠলেন, প্রথমদিকে সবকিছু ঠিকঠাকই যাচ্ছিলো। কিন্তু হঠাৎ করেই ফরিদ সাহেবের ইউনিভার্সিটি পড়ুয়া বড় মেয়ে লাবনীর সাথে কিছু ঝামেলা শুরু হলো। অতিপ্রাকৃত কিছু ঝামেলা। এই ফ্ল্যাটে সে তারই বয়সী এক মেয়ের প্রেতাত্মার কবলে পড়লো যার নামও ছিলো লাবনী। দিনদিন অস্বাভাবিক আচরণ করতে শুরু করলো সে। তার বাবা ফরিদ সাহেব সাইকোলজিস্ট ড. আহমেদ করিমের দ্বারস্থ হলেন এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য।

পুরোনো এক জমিদারবাড়িতে হরর লাইভ শো করতে গেলো চার ঘনিষ্ঠ বন্ধু। লাইভ চলাকালীন সময় এমন অস্বাভাবিক কিছু একটা দেখলো তারা যে সব হিসাবই ওলটপালট হয়ে গেলো। চারজনের মধ্যে তিনজন মারা গেলো রোড অ্যাক্সিডেন্টে, আর একজন চলে গেলো কোমায়। কোমায় থাকা ছেলেটার নাম রাহুল। কোমা থেকে ফিরে আসার পর রাহুল বেশ অস্বাভাবিক আচরণ করতে শুরু করলো। এমন কিছু প্রেডিকশন সে করতে শুরু করলো, যেগুলো মিলেও যাচ্ছে! এই অবস্থায় তার বাবা জাহেদ হোসেন সাহেব যোগাযোগ করলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইকোলজির লেকচারার সোহেল আহমেদের সাথে, যে কি-না আহমেদ করিমের সহকারী হিসেবেও কাজ করে।

দুটো আলাদা সমস্যা। আপাতদৃষ্টিতে দুটো সমস্যাই অতিপ্রাকৃত বলে ধরে নেয়া যায়। একটা দেখছেন আহমেদ করিম, আরেকটা দেখছে তাঁর সহকারী সোহেল আহমেদ। ঝামেলার যেন শেষ নেই। এরা দুজনেই নানাভাবে প্রভাবিত হতে লাগলেন উদ্ভূত সমস্যাগুলোর দ্বারা। নিজেদের বিশ্বাস আর অবিশ্বাসের জগৎ বারবার যেন আন্দোলিত হতে থাকলো নানা ঘটনার মধ্য দিয়ে যেতে যেতে। সৃষ্টি হলো অনেক প্রশ্নের, যেগুলোর উত্তর খুঁজে বের করতে না পারলে ব্যর্থ হতে হবে আহমেদ করিম ও সোহেল আহমেদ উভয়কেই। আর ব্যর্থ কে-ই বা হতে চায়, তাই না?

পাঠ প্রতিক্রিয়াঃ আহমেদ করিম সিরিজের তৃতীয় বই 'প্রতিচ্ছায়ারা জেগে থাকে'। এই সিরিজের প্রথম বই 'রূপকুমারী ও স্বপ্নকুহক' আমি পড়িনি। কিন্তু দ্বিতীয় বই 'কিংকর্তব্যবিমূঢ়' পড়েছিলাম। ভালোই লেগেছিলো। আহমেদ করিম সিরিজের আরেকটা বড়গল্প পড়েছিলাম 'উধাও' নামে। যদিও ওটা অসম্পূর্ণ মনে হয়েছিলো আমার। তাই 'প্রতিচ্ছায়ারা জেগে আছে' পড়ার আগে কিছুটা উৎকণ্ঠায় ছিলাম যে এটা আবার কেমন হয়। যাই হোক, এই বইটা শেষ করার পর আমার সন্তুষ্টি এসেছে। মোটামুটি ভালোই লেগেছে আমার কাছে। শরীফুল হাসানের আহমেদ করিম চরিত্রটার সাথে আমি হুমায়ূন আহমেদের মিসির আলির বেশ মিল পাই। অনেকটা এই কারণেই এই সিরিজটার প্রতি আমার এতো আগ্রহ।

আহমেদ করিম সিরিজের এই উপাখ্যানে আহমেদ করিম ও সোহেল আহমেদ দুটো আলাদা রহস্য নিয়ে কাজ করেছেন। এই ব্যাপারটা আমার কাছে বেশ ভালো লেগেছে। এক টিকেটে দুই ছবির মতো। সমান্তরালভাবে দুটো কেস নিয়েই তাদের দুজনকে কাজ করতে দেখা গেছে 'প্রতিচ্ছায়ারা জেগে থাকে' উপন্যাসে। আহমেদ করিম ও সোহেল আহমেদকে বিভিন্ন সময় বেশ কিছু ব্যাখ্যার অতীত ও ভৌতিক অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেতে দেখা গেছে। এই জায়গাগুলোতে বেশ ভালোই ভয়ের আবহ লক্ষ্য করেছি৷ এমনিতেও আমার শরীফুল হাসানের লেখার ধরণ ভালো লাগে। সেটা থ্রিলার হোক, বা জীবনমুখী কোন উপন্যাস হোক। এই ভালো লাগার ব্যাপারটা এই বইয়েও অক্ষুণ্ণ ছিলো।

'প্রতিচ্ছায়ারা জেগে থাকে'-এর সমাপ্তি আছে বটে, কিন্তু সেটাও বেশ কিছু প্রশ্ন রেখে গেছে আমার সামনে। কিছুটা রহস্য যেন থেকেই গেছে সব শেষে। এবার কিছু অসঙ্গতি নিয়ে বলি। উপন্যাসের লাবনী ও আবির এই দুই চরিত্রই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। কিন্তু এক জায়গায় এদেরকে কলেজ শিক্ষার্থী হিসেবে লেখা হয়েছে। এক জায়গায় বলা হয়েছে সোহেল আহমেদ সাধারণত দুপুরের খাবারটা বাসায়ই খায়। কিন্তু পরবর্তীতে বলা হয়েছে সে সবসময়ই দুপুরের খাবার খায় বিশ্ববিদ্যালয়ের টিচার্স লাউঞ্জে। উপন্যাসের এক দৃশ্যে জাহেদ হোসেন সাহেব নিজেই ড্রাইভ করে কয়েকজনকে নিয়ে এক জায়গায় যাচ্ছিলেন। পরের দৃশ্যেই বলা হলো ড্রাইভারসহ গাড়িটা রেখে তাঁরা হাঁটছেন। যদিও সেখানে ড্রাইভারের থাকার কথা না। এসব তো গেলো। এবার মুদ্রণপ্রমাদ। মুদ্রণপ্রমাদের উপস্থিতি কম থাকলেও একেবারে না থাকা ছিলো না। আমার চোখে এসবই পড়েছে বইটা পড়তে গিয়ে।

এই বইটা বেশ দ্রুতগতির। চাইলে বেশ দ্রুতই শেষ করে ফেলা যায়। একেক বসায় আমি বেশ অনেকগুলো করে পৃষ্ঠা পড়তে পেরেছি। যারা রহস্য ও ভৌতিক আবহ পছন্দ করেন, তাদের জন্য 'প্রতিচ্ছায়ারা জেগে থাকে' রিকমেন্ড করলাম। সুরঞ্জিত তনুর করা প্রচ্ছদটা আমার কাছে ভালোই লেগেছে।

ব্যক্তিগত রেটিংঃ ৩.৭৫/৫
গুডরিডস রেটিংঃ ৩.৫৫/৫

#Review_of_2023_05

#Review_PJT

সমাপ্ত!

(২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩, সোমবার, সন্ধ্যা ১০ টা ৮ মিনিট; নিজ রুম, নাটোর)
Profile Image for Imran.
136 reviews7 followers
March 22, 2022
৩.৫/৫
শেষর দিকে একটু আশাহত হয়েছি। কেন জানি প্রত্যাশাটা পরিপূর্ণ হয়নি।
2 reviews1 follower
March 17, 2022
ভালো লেগেছে। রহস্য / ভয় সব মিলিয়ে ইন্টারেস্টিং।
Profile Image for Ayon Bit.
147 reviews11 followers
April 7, 2022
যুক্তিবাদী মানুষ হিসেবে অলৌকিক, আধাভৌতিক, ভৌতিক, প্যারানরমাল এক্টিভিটিকে আমি সব সময় যুক্তি দিয়ে দাড়ানোর চেষ্টা করি৷ সর্বশেষ যেটা পাই সেটা মানুষের আদিমতম রিপু ভয়কে।


আহমেদ করিম সিরিজের এর আগে একটা বই পড়েছিলাম যত্তদূর মনে পড়ে৷ এই সিরিজের আরো একটা বই আছে হাতে অপঠিত৷ এই সিরিজের বই শুরুতে কাহিনী বিন্যাস খুব জমে ওঠে, ডিটেইলস বর্ণনা উঠে আসে৷ কিন্তু শেষের দিকে যুক্তি খন্ডনের বেলায় খুব অপ্রতুল দেখায়। তাছাড়া গল্পের ভিতরের কিছু ঘটনার যুক্তি শেষে তুলে ধরা হয় না৷

এই বইয়ে লাবনী কিভাবে আস্তে আস্তে শূন্যে ভেসে উঠছে মাটি থেকে ৬ ফিট এটার কোন বর্ননায় ছিল না বইয়ে। আবীর আর জাহাঙ্গীর মোল্লার ভূমিকা কি সেটা আদৌ বুঝলাম। আবারীরের সাথে ঘটা কোন ভৌতিক ব্যাপারের তুলনামূলক যুক্তি ছিল না। এছাড়া আরো অনেক গুলা পয়েন্ট আছে৷


মানুষ আনলসভ মিষ্ট্রিই বেশি পচ্ছন্দ করে। যুক্তি দিয়ে যেটা প্রমাণ করা যায় সেই ঘটনায় মানুষ বেশি দিন মনে করে। শেষের দিকে মিষ্ট্রি সলভ করে আবার মিষ্ট্রি রাখা ছিল প্রতিচ্ছায়া হিসেবে।

তবে স্যতি বলতে কৈশরে পড়া হুমায়ুন আহমেদের মিসির আলী সিরিজের মত আর কোনটা পেলাম না।
Profile Image for Parvez Alam.
310 reviews12 followers
May 1, 2022
শেষ মনে আমার মনে হইলো কাহিনি অমীমাংসিত থেকে গেলো।
Profile Image for Sakib A. Jami.
349 reviews41 followers
March 22, 2022
ছায়া তৈরি হয় আলো দিয়ে। আর নিজে অন্ধকারের গভীরে হারিয়ে যায়। এই ছায়া কখনো বড়ো হয়, কিংবা ছোটো। আলো আঁধারির খেলায় ভয় জাগায় ছায়ার উপস্থিতি। ছায়া অবাস্তব, ক্ষণস্থায়ী। কিন্তু যদি বাস্তব হয়? যদি মনে হয় নিজের ছায়া সাথে নিজেই কথা বলছে? কেমন হবে তখন? প্রতিচ্ছায়ারা কখনো কখনো জেগে ওঠে। আর তখনি ভালোর সাথে খারাপের এক অঘোষিত যুদ্ধ শুরু হয়। ব্যাখ্যাতীত কিছু প্রশ্নের মুখোমুখি হওয়ার সময়ে বিশ্বাস আর অবিশ্বাসের মধ্যে দেয়াল ওঠে। এ দেয়াল ভাঙবে কিভাবে?

• কাহিনি সংক্ষেপ :

মিরপুরের একটা বাড়ির নাম তন্দ্রাবিলাস। সেই বাড়ির বেশ পুরনো এক ফ্ল্যাট কিনেছেন ফরিদ আহমেদ। সেই ফ্ল্যাটের এক গল্প আছে। গোপন সেই কথা কেউ জানে না। পরিবার নিয়ে সেই ফ্ল্যাটে উঠলেন ফরিদ আহমেদ। সময় ভালোই কাটছিল। হঠাৎ ঘটল বিপত্তি। বড়ো মেয়ে লাবনীর যেন কী হয়েছে। একা একা হাঁটে, মাঝরাতে অজ্ঞান অবস্থায় পাওয়া যায়। কী হয়েছে লাবনীর? দিনে দিনে অবস্থার অবনতি হচ্ছে। ফরিদ আহমেদ লাবনীকে মানসিক হাসপাতালে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। লাবনী কী তবে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছে? না-কি এর পেছনে অন্যরকম কারণ আছে?

একটি পোড়োবাড়িতে রাত কাটাতে গিয়েছে চার বন্ধু। রাহুল, সৌরভ, জিশান, সিমিন। সেই বাড়ির পেছনের এক অতীত ইতিহাস তুলে ধরাই মূল লক্ষ্য। সাথে প্যারানরমাল কিছু থাকলে তাও ক্যামেরায় বন্দী করতে চায় ওরা। কাজ শুরু করতে গিয়ে এমন কিছুর মুখোমুখি হলো, যা সেখানে থাকার কথা না। ভয়ে অবশ হয়ে যাওয়া ওরা চারজন জীবন নিয়ে পালাতে চাইছে। কিন্তু এতই কি সহজ? সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু হলো তিন বন্ধুর। বেঁচে রইল কেবল রাহুল। তিন মাস কোমায় থাকার পর যখন রাহুলের জ্ঞান ফিরল, সে আর তখন রাহুল নেই। রাহুলের মাঝে অন্য কারো বসবাস। কে সে? রাহুল-ই কেন তার শিকার হলো? সত্যিই কি এমন কেউ আছে? না-কি রাহুলের মনের ভুল?

লাবনীর বাবা এলেন আহমেদ করিমের কাছে। নিজের মেয়েকে ভালো করতে এরচেয়ে ভালো উপায় আর নেই বলে তার বিশ্বাস। ওদিকে সোহেলের স্মরণাপন্ন হলেন রাহুলের বাবা। একমাত্র ছেলেকে সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে আনতে চান তিনি। আহমেদ করিম কিংবা সোহেল আহমেদ; দুইজনই কাজ শুরু করলেন। দৃশ্যমান কোনোকিছুর বিরুদ্ধে লড়াই করা যায়। কিন্তু অদৃশ্য শক্তির বিরুদ্ধে তারা কী করবে বুঝে উঠতে পারছে না। আহমেদ করিম অথৈ সাগরে পড়লেন। বুঝতে পারছেন, তার বিপদ আসন্ন। সোহেল বুঝতে পারছে না তার কী করা উচিত। দুইজনেই যেন অন্ধকার থেকে অন্ধকারে হারিয়ে যাচ্ছেন। তারা বুঝেছে, প্রতিচ্ছায়ারা সবসময় জেগে থাকে। কখনো ঘুমায় না। শান্ত হয় না। এই প্রতিচ্ছায়াদের সাথে এ লড়াইয়ে জিতবে কী দুইজন?

• পাঠ প্রতিক্রিয়া :

এবারের বইমেলায় লেখক শরীফুল হাসানের দুইটি বই বের হয়েছে। কয়েকদিনের মধ্যে দুইটি বই-ই পড়ে শেষ করেছি। বাতাসে বৃষ্টির ঘ্রাণ যেমন অনবদ্য ছিল, তেমনই কিঞ্চিৎ দুর্বল লেগেছে প্রতিচ্ছায়ারা জেগে থাকে বইটি। বইটি যে খারাপ, তা বলব না। তবে প্রত্যাশা পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। লেখক শরীফুল হাসান লেখা দিয়ে নিজের যে অবস্থান তৈরি করেছেন, সে কারণেই বইটি তৃপ্তি দিতে পারেনি। মনে হয়েছে খুব তাড়াহুড়ো করে লেখা ও শেষ করা হয়েছে। তবে আহমেদ করিম চরিত্র তৈরি করতে লেখককে যে বেশ পড়াশোনা করতে হয়েছে তা বেশ স্পষ্ট।

গল্পের প্লট ভালো ছিল। গল্পের লেখনীও বেশ সাবলীল। বইয়ে থাকা ভয়ের দৃশ্যগুলো বেশ স্পষ্টভাবেই ফুটে উঠেছে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে সত্যি-ই ভয় লাগার মতো পরিস্থিতি তৈরি করতে পেরেছেন। সেটা লেখকের কৃতিত্ব। তবে শেষটা খুব সাদামাটা ছিল। আরও ব্যাখ্যা, বিশ্লেষণ আসা করেছিলাম। হুট করেই যেন শেষ হয়ে গেল! লেখক পুরো বই জুড়ে যেই সাসপেন্স তৈরি করতে পেরেছিলেন, শেষটা আরও ভালো করে সাজাতে পারতেন বলে মনে হয়েছে। বেশ কিছু প্রশ্নের উত্তর পাইনি।

বইয়ে বেশকিছু অসঙ্গতি চোখে পড়েছে। এক জায়গায় লেখা আছে, লাবনীকে তার ঘরে তালাবন্ধ করে রেখে দেওয়া হয়েছিল। আবার পরক্ষণে লেখা আছে লাবনী একা একা ড্রয়িং রুমে হাঁটছিল। নিজের ঘরের দরজা বন্ধ থাকলে কী করে ড্রয়িং রুমে আসবে বুঝিনি। এছাড়া এক জায়গায় জাহাঙ্গীর মোল্লার মোবাইল নেই লেখা ছিল। আবার আরেক জায়গায় লেখা ছিল, তার মোবাইলে কল দিয়ে বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। তাছাড়া রাহুল যখন তার ঘটনা বর্ণনা করছিল, সে বলেছিল তিন মাস পর কোমা থেকে ফিরেছে। একজন কোমায় থাকা রোগীর জানার কথা না সে কতদিন কোমায় ছিল। অন্য কারো কাছ থেকে জেনেছে নিশ্চয়ই। সেটা অন্যভাবে বর্ণনা করা যেত।

এছাড়া কিছু প্রশ্নের উত্তর পাইনি। আহমেদ করিম ফরিদ আহমেদের গ্রামের বাড়ি থেকে এমন কী জানতে পেরেছিল খোলাসা করা হয়নি। এছাড়া গল্পে মুহাম্মদ আবু জাফরের অবস্থান নিয়েও ধোঁয়াশা কাটেনি। মনে করেছিলাম, গল্পে তার কোনো শক্ত অবস্থান আছে।

এছাড়া বইটি বেশ ভালো। লেখকের লেখা শক্তিশালী। তা দিয়ে দুর্বলতাগুলো কাটিয়ে উঠেছেন ভালোভাবেই। কিন্তু ওই যে, লেখক শরীফুল হাসান তার লেখার যেই মানদন্ড তৈরি করেছেন, সেই জায়গায় পৌঁছতে না পারলে মন ভরে না।

• গল্পবুনন ও চরিত্রায়ন :

উপন্যাসের দুইটি অংশ আছে। এক অংশ লাবনীকে নিয়ে। আরেক অংশ রাহুলকে নিয়ে। দুইটি কাহিনি সমানভাবে এগিয়েছে। তবে কোনো কাহিনিই কারো সাথে সম্পৃক্ত নয়। পুরোপুরি স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য নিয়ে চরিত্রগুলো গল্প নিয়ে এগিয়ে গেছে। শেষে এসে সব রহস্য উন্মোচন হয়েছে।

আহমেদ করিম সিরিজের একটি সাধারণ মিথ প্রচলিত আছে। আহমেদ করিম অনেকটা মিসির আলীর মতো, এই মন্তব্য অনেক জায়গায় দেখতে পেয়েছি। আমি সিরিজের প্রথম বই পড়িনি। দ্বিতীয় বইটিতে আংশিক মিল পেলেও, প্রতিচ্ছায়ারা জেগে থাকে বইটিতে লেখক খুব স্পষ্টভাবেই মিসির আলী থেকে আহমেদ করিম চরিত্রকে আলাদা করতে পেরেছেন। আমি নিশ্চিতভাবেই বলতে পারি, দুটি চরিত্রই বেশ স্বতন্ত্র। হুমায়ূন আহমেদ আমাদের পাঠক জীবনে এমনভাবে প্রভাব বিস্ত���র করেছেন, এক শতাংশ মিল পেলেও আমরা হুমায়ূন আহমেদের কোনো গল্পের অনুকরণ, অনুসরণ বলে মনে হয়। তা থেকে বের হওয়ার সময় হয়ে এসেছে।

আহমেদ করিম সিরিজের প্রথম দুইটি বইয়ে সোহেল আহমেদের তেমন কোনো ভূমিকা না থাকলেও, এবার বেশ বড়ো দায়িত্বে নিয়ে হাজির হয়েছিলেন। এবং সেটি তিনি যথাযথভাবেই পালন করেছেন। এছাড়া উপন্যাসে ছিলেন আশরাফ নামের একটি ছেলে। তার সম্পর্কে বিশেষ কিছু জানা যায়নি। আশা করব, লেখক সিরিজের পরবর্তী বইগুলোতে তার ব্যাকস্টোরিগুলো দক্ষভাবে ফুটিয়ে তুলবেন।

প্রতিচ্ছায়ারা জেগে থাকে উপন্যাসের মূল দুই আকর্ষণ লাবনী ও রাহুল। তাদেরকে কেন্দ্র করেই গল্প এগিয়েছে। তাদের আশেপাশে অনেক চরিত্র এসেছিল। তাদের পরিবার ছাড়াও দুই একজনের গুরুত্ব ছিল বইটিতে। তবে কিছু চরিত্রের বিশেষ ভূমিকা ছিল না। গল্পের প্রয়োজনে আনা এবং তা মিটিয়ে হারিয়ে যাওয়া। কিছু চরিত্র নিয়ে জানা�� আগ্রহ থাকলেও তা মেটেনি।

সিরিজের চরিত্রগুলো নিয়ে আমার একটি আক্ষেপ আছে। আহমেদ করিম এই সিরিজের প্রধান চরিত্র। তার নাম স্বতন্ত্র হওয়া প্রয়োজন ছিল। অন্যান্য চরিত্রের সাথে আহমেদ যুক্ত করা ঠিক পছন্দ হয়নি। যেমন : সোহেল আহমেদ, ফরিদ আহমেদ, লাবনী আহমেদ ইত্যাদি। সোহেল যেহেতু সিরিজের অন্যতম সহযোগী চরিত্র, তাকে তো বাদ দেওয়া যাবে না! তবে আশা করব পরবর্তী বইয়ের ক্ষেত্রে লেখক এই দিকটি মাথায় রাখবেন।

• বানান ও সম্পাদনা :

বানান ভুল বাতিঘরের নিয়মিত সমস্যা। তবে টিপিকাল বাতিঘরের মতো নয়। ইদানিং বানান ভুলের সংখ্যা বেশ কমে এসেছে। বেশ কিছু প্রিন্টিং মিসটেক ছিল। ই-কার, ঈ-কারের ভুল, কোথাও র উঠেনি; এম। ভুল হরহামেশাই ছিল। বানান ভুল বা প্রিন্টিং মিসটেক আগের চেয়ে অনেক কমেছে, আশা করব তা এক সময় শূণ্যের কোঠায় নেমে আসবে।

শুরুর দিকে বেশ কিছু বাক্যে অসঙ্গতি লক্ষ্য করেছিলাম, যদিও গল্প আগানোর সাথে সাথে কমে গিয়েছিল। এই কারণেই সম্পাদনা আর প্রুফ রিডিংয়ের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করি। এই বিষয় প্রকাশনীগুলোর গুরুত্বসহকারে ভাবা উচিত।

• প্রচ্ছদ ও প্রোডাকশন :

এই বইয়ের প্রচ্ছদ আমার বিশেষ পছন্দের। একটা রহস্য ফুটে উঠেছে সেখানে, যা উপন্যাসের সাথে মিলে গিয়েছে। সবচেয়ে বেশি ভালো লেগেছে নামলিপি। এতেও যেন রহস্য খেলা করছে।

প্রোডাকশন বেশ ভালো ছিল। সম্পাদনা আর প্রুফ রিডিংয়ে যত্ন না নিলেও প্রোডাকশনে যত্ন নিচ্ছে বোঝাই যায়।

পরিশেষে, রাতের গভীর অন্ধকারে প্রতিচ্ছায়ারা নেমে আসে। কখনো মানুষের বেশে, কখনো অন্য কোনো রূপে। তখনই শুরু হয় খেলা। প্রতিচ্ছায়ার সাথে অলিখিত যুদ্ধে জয়ী হবে কে?

বই : প্রতিচ্ছায়ারা জেগে থাকে
লেখক : শরীফুল হাসান
প্রকাশনী : বাতিঘর প্রকাশনী
প্রচ্ছদ : সুরঞ্জিত তনু
প্রকাশকাল : মার্চ, ২০২২
পৃষ্ঠা : ১৯০
মুদ্রিত মূল্য : ২৪০
ব্যক্তিগত রেটিং : ৩.৭৫/৫
Profile Image for Tasmin Nisha.
164 reviews6 followers
August 26, 2022
অাহমেদ করিমের কাছে এবার আসলেন ফরিদ আহমেদ। ফরিদ আহমেদের বড় মেয়ে লাবনীকে নিয়ে মূলত সমস্যা। তন্দ্রাবিলাস নামে বিল্ডিংয়ের একটি ফ্ল্যাট ক্রয় করেন ফরিদ সাহেব। প্রথম দিকে সবকিছু স্বাভাবিক থাকলেও একটা সময়ে লাবণীর সাথে ভৌতিক ঘটনা ঘটতে থাকে এবং এক সময় লাবণী সবার সাথে প্রচুর হিংস্র আচরণ করা শুরু করে।

অন্যদিকে আহমেদ করিমের সহকারী সোহেল আহমেদের কাছে তার বাবার কলিগ জাহিদ হোসেন আসেন তার ছেলে রাহুলের সমস্যা নিয়ে। এক পোড়াবাড়িতে শো করতে রাহুল ও তার তিন বন্ধু সেখানে যায় কিন্তু তিন বন্ধু এক দুর্ঘটনায় মারা যায় এবং রাহুল কোমায় চলে যায়। কোমা থেকে জেগে উঠার পর রাহুল নিজেকে অন্য এক ব্যাক্তি বলে দাবি করে।

আহমেদ করিম লাবনীর সাথে দেখা করতে গিয়ে বেশ অদ্ভুত ও ভৌতিক অভিজ্ঞতা নিয়ে বাড়ি ফেরে। এমনকি এরপর থেকে সে বেশ ভয় পেয়ে যায় কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার ফলে। যদিও সে ভূতে বিশ্বাসী নয় কিন্তু কেন যেন তার কাছে এই কেইসটি বেশ অদ্ভুত ঠেকাচ্ছিল। অন্যদিকে সোহেলকে কথার দ্বারা অনেকটা প্রভাবিত করতে সক্ষম হয় রাহুল। যেসব ঘটনা রাহুলের জানা কথা না সেসব সে অনায়াসে সোহেলকে বলতে লাগলো , সোহেলের জীবনের ব্যাক্তিগত ঘটনাগুলো এ ছেলে জানালো কি করে তা সোহেল ভেবে পেল না। এমনকি এই ছেলে ভবিষ্যতে কি ঘটবে সেটাও‌ বলে দিতে পারে‌।

অনেক প্যাঁচগোজ খোলার পরেও আদৌ কি তারা কোনো উত্তর পেল দুটো মানুষের জীবন থেকে? নাকি লাবনী ও রাহুলের জীবনে জুড়ে ছিল আরো দুটি জীবন।

প্রথম থেকে শেষ অবধি খুব অধীর আগ্রহে ছিলাম যে কি ঘটেছিল এই দুই মানুষের জীবনে। কিন্তু শেষ টা মনঃপুত হয়নি। বিশেষ করে লাবনীর অংশটুকু শেষে আরো ভালো হতে পারতো।
Profile Image for Heisenberg.
156 reviews8 followers
April 20, 2022
এন্ডিং ছাড়া সবই দুর্দান্ত লেগেছে...
Profile Image for Rehnuma.
452 reviews22 followers
Read
July 19, 2022
“The voices weren’t much fun in the beginning. Part of it was simply my being uncomfortable about hearing voices no matter what they had to say, but the early voices were mostly bearers of bad news. Besides, they didn’t seem to like me much and there was no way I could talk back to them. Those were very one-sided conversations.”
— Mark Vonnegut, “The Eden Express: A Personal Account of Schizophrenia”
স্কিজোফ্রেনিয়ার নানান ধরন নিয়ে পিএইচডি করা আমাদের ড. আহমেদ করিম আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লেকচারার সোহেল আবার ফিরে এসেছেন। তবে এবার ঘটনা একটা নয়। দুই দুইটা। দুদিক থেকে দুইজন সামলাচ্ছেন দুই কেইস। চলুন জেনে নিই ঘটনা কী?
পোড়োবাড়ি কাল্টিভেট করতে গিয়ে বিপদে পড়ল চারবন্ধু রাহুল, সৌরভ, জিশান ও সিমিন। অতিপ্রাকৃতের সন্ধানে গিয়ে নিজেরাই এমন কিছুর সম্মুখীন হলো যা আসলে না দেখলেই ভালো হতো। প্রাণ নিয়ে পালাতে গিয়ে পথে গাড়ি দু র্ঘ ট নায় প্রাণ যায় তিনজনের। ভাগ্য জোরে বেঁচে যায় রাহুল। তিনমাস কোমায় থেকে নতুন জীবন ফিরে পায়। নতুন মানে একদমই নতুন। পুরোনো সেই রাহুলের সাথে বর্তমানের রাহুলের মিল নেই। ঘরে বন্দী করে রাখে নিজেকে। ব্যক্তিত্বের পরিবর্তন আসে। বলে দিতে পারে আসন্ন কোন ঘটনা, আবার অতীতের না জানা ঘটনা সম্পর্কেও অবগত সে। রাহুলকে সুস্থ করতে তার বাবা তাই তলব করলেন রাহুলের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সোহেলকে। সোহেল লেগে পড়লো পোড়োবাড়ি রহস্য সমাধানে। এবার সে একাই একটা কেস দেখছে। আহমেদ করিম আছেন তন্দ্রবিলাসে।
মিরপুরের তন্দ্রাবিলাসে পুরোনো এক ফ্ল্যাটে উঠেছে ফরিদ আহমেদ, তার স্ত্রী লোপা এবং দুই কন্যা লাবনী, শ্রাবণীকে নিয়ে। ভালোই যাচ্ছিল তাদের দিন। হঠাৎ-ই যেন সব এলোমেলো হয়ে গেলো। লাবনীর মধ্যে অস্বাভাবিকতা দেখা দিল। ফরিদ আহমেদ স্মরণাপন্ন হলেন ড. আহমেদ করিমের। লাবনীর অস্বাভাবিক আচরণের হেতু খুঁজতে কাজে লেগে পড়লেন আহমেদ করিম।
রাহুলের পোড়োবাড়ির আসল রসি উদঘাটন করতে রাহুলের সাথে আলাপ করতে গিয়ে অস্বাভাবিক কিছু ঘটনার সম্মুখীন হয় সোহেল। আসলেই কি অস্বাভাবিক কিছু উপস্থিতি টের পায় সে? না পুরোটাই মনের চাপ থেকে সৃষ্ট কিছু?
একইভাবে এক অজানা ছায়ায় ঢাকা পড়ে আছে লাবনীর অসুস্থতা। লাবনীর ভেতরে আসলেই কোন সত্ত্বা আছে, না সেটাও স্রেফ মানসিক অসুস্থতা - এই নিয়ে দোটানায় করিম সাহেব। অবৈজ্ঞানিক কিছুতে বিশ্বাস করেন না তিনি। কিন্তু কয়দিন ধরে তার সাথেও যা ঘটছে তা কতটা স্বাভাবিক?
সম্পূর্ণ সম্পর্কহীন দুটি কেইসে কাজ করে যাওয়া আহমেদ করিম এবং সোহেল একসময় এক হয়ে নেমে পড়লেন এর শেষ দেখতে। পারবেন কি? প্রতিচ্ছায়ারা কি পিছু ছাড়বে? তারা তো জাগ্রত, অশান্ত।
পাঠ প্রতিক্রিয়া:
আহমেদ করিম সিরিজের তৃতীয় বই “প্রতিচ্ছায়ারা জেগে থাকে”। এবারের মেলায় আমার অন্যতম কাঙ্ক্ষিত বই ছিল প্রজেথা। আহমেদ করিম চরিত্রটা আমার খুবই প্রিয়। সেজন্য সিরিজের নতুন বইয়ের আশায় থাকি।
এবার আহমেদ করিম ও সোহেল দুইটি ভিন্ন কেইসের সমাধানে কাজ করেছে। দুটোই বেশ ইন্টারেস্টিং এবং একইসাথে ভয়ানক। প্রথমদিকে দুইজন একসাথে কাজ না করলেও কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে একে অপরকে অবগত করেছে এবং শেষে এসে দুটি কেইসের সমাপ্তি টানতে একত্র হয়েছেন।
১৯০ পৃষ্ঠার বইটি আমার ভালো লেগেছে। লেখকের গল্পবুনন এবং তাকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার এক অনন্য প্রতিভা আছে এটা যারা লেখকের আগের বই পড়েছেন অবগত আছেন। এই বইটিও তার ভ���ন্ন নয়। একবার শুরু করলে আপন ধারায় চলতে থাকে।
গত বইতে (কিংকর্তব্যবিমূঢ়) লেখক আহমেদ করিমকে দিয়ে বলিয়েছিলেন সামনে সোহেলকে নিয়ে আরো কাজ করবেন। তিনি কথা রেখেছেন। প্রজেথায় সোহেলের আলাদা স্পেস ছিল নিজেকে বিকশিত করার। সাথে তার ব্যক্তিগত জীবনেরও কিছু ঘটনা জানা গেছে। সোহেলকে আলাদা স্পেস দেওয়াটা এই বইয়ের অন্যতম ভালো দিক।
আহমেদ করিমও এই বইতে আরো বিকশিত। তার ব্যক্তিগত জীবন এবং বাল্যকালের খন্ডচিত্র লেখক তুলে ধরেছেন। আশা করি সামনে আরও জানা যাবে।
প্রজেথার দুই ভিক্টিম লাবনী এবং রাহুল। দুইজনের সমস্যার সমাধান করতে গল্প এগিয়ে যায়। আগমন ঘটে নানারকম চরিত্রের। তারাও সময়মতো তাদের স্থান দখল করে নেয় আবার কেউ ফুরিয়ে যায়। এভাবেই সমাপ্তিতে পৌঁছে যায়।
বইয়ের বেশ কিছু ব্যাপার যেমন খুব ভালো লেগেছে। তেমন খারাপ লাগার বা কিছু অসংগতিও চোখে পড়েছে। স্পয়লার হতে পারে। যারা পড়েননি এইটুক স্কিপ করে যাবেন।
• রাহুলের কেইস নিয়ে ভাবতে ভাবতে সোহেলের একইজাতীয় একটি কেইস নিয়ে প্রতিবেদন লেখা ম্যাগাজিন সামনে পড়া ব্যাপারটা একটু বেশিই কাকতালীয় লেগেছে।
• জাহাঙ্গীর মোল্লার মোবাইল নেই প্রথমে বলা হলেও পরবর্তীতে আবির তাকে ফোন করল, এই ব্যাপারটা মেলেনি।
• জাহেদ হোসেনের পাওয়া সেই ভিডিও নিয়ে পরবর্তীতে কোন কিছু হলোনা। ভিডিওর ব্যাপারটা খোলাসা করেননি। এমনকি নাজিয়াকে নিয়ে যে রহস্যের মেঘ জমাট বাঁধানো শুরু হয়েছিল সেটা হঠাৎ-ই মিলিয়ে গেলো।
• ফরিদ আহমেদের ব্যাপারে এমন কী তথ্য আহমেদ করিম জেনেছিলেন এবং সেটা নিয়ে এ যুগেও এমনটা হয় নাকি তা বিশ্বাস অবিশ্বাসের দোলাচলে নিয়ে গেলেন। কিন্তু পরবর্তীতে তার ব্যাখ্যা বা ঘটনার বর্ণনা না দিয়েই গল্পের ইতি টেনে দেয়াটা একটা আক্ষেপের সৃষ্টি করেছে। একই আক্ষেপ লেগেছে রাহুলের বাবার অতীতের বিশ্বাসঘাতকতার ঘটনা অজানা থাকায়।
• ধর্মে বিশ্বাস করেন বলে জিন পরীতেও আহমেদ করিমের বিশ্বাস আছে। কিন্তু সামনে অনেক প্রমাণ এবং অস্বাভাবিকতা দেখেও তাদের কেইসে একই জিনিসের অস্তিত্ব স্বীকার করতে একেরোখা থাকাটা ডাবল স্ট্যান্ডার্ড জাতীয় লেগেছে।
রাহুলের কেইসটাকে নিয়ে আরেকটু বেশি লিখলে হয়তো বইটা আরেকটু বেশি ভালো লাগতো। অসংগতি কিংবা আক্ষেপের পাল্লা একটু হালকা হতো তাহলে। এবারের দুটো কেইসই যথেষ্ঠ ইন্টারেস্টিং ছিল। কয়েক পৃষ্ঠা বাড়লে পড়ার পরের অনুভূতি আরো বেশি ভালো হতো। শেষটা অন্যরকম বা আরেকটু পরিণত হতে পারত।
তবে সবমিলিয়ে “প্রতিচ্ছায়ারা জেগে থাকে” উপভোগ্য একটি বই। শেষটুক পড়ে আমার মনে হয়েছে এখানেই শেষ নয়। খেল অ্যাভি বাকি হ্যায়। যারা পড়েছেন তাদেরও কি একই মনে হয়েছে? সিকুয়েল আসতে পারে?
Profile Image for Md MushfiqurRahman.
4 reviews
March 28, 2022
আহমেদ করিম সিরিজের মধ্যে সবচেয়ে ভালো লেগেছ রূপকুমারী ও সপ্নকূহক বইটি। দ্বিতীয় বইটি একদম প্রথম বইটির কপি লেগেছে। আর এই বইটা অনেক তাড়াতাড়ি লেখা হয়েছে বলে মনে হয়। লেখনি কোনদিক দিয়েই শরীফুল হাসান এর মত মনে হয়নি। প্রথম দিকে পারিপার্শ্বিক অবস্থার বিবরণ খুব কম দেয়া হয়েছে বলে মনে হয়েছে। মাঝের দিকটা খুব ভালো লেগেছে। কিন্তু শেষটা মন মতো হয়নি, যেন হঠাৎ করেই শেষ হয়ে গেলো।
Profile Image for Jim Hasan.
39 reviews
April 1, 2022
পুরো গল্প জুড়েই একটা ভীতিকর আবহ ছিল কিন্তু শেষের দিকে গল্পটা একটু অসম্পূর্ন লাগলো।
Profile Image for Md. Nahidul Islam.
32 reviews1 follower
May 16, 2022
আগের দুটি কাহিনীর চেয়ে এটা বেশ দুর্বল। অনেকটা দায়সারা ভাবে লেখা হয়েছে মনে হলো। দুটো রহস্য টানতে গিয়ে কোনটাই ঠিকমত জমে নি।
Profile Image for Ayrin Jahan.
75 reviews
June 13, 2022
সব মিলিয়ে ভালো ছিলো কিন্তু কিছু জায়গায় প্রশ্ন এখোনো রয়ে গিয়েছে!
Profile Image for Sajol Ahmed.
56 reviews2 followers
April 28, 2022
মূল রেটিং— ৩.৫/৫

বই : প্রতিচ্ছায়ারা জেগে থাকে
লেখক : শরীফুল হাসান


এবারের বইমেলার শুরু থেকেই এক্সাইটেড ছিলাম আহমেদ করিম সিরিজের তৃতীয় বই "প্রতিচ্ছায়ারা জেগে থাকে" নিয়ে। এই সিরিজটায় আমি (খুব সামান্য) মিসির আলি ফিল পাই। তাই এই সিরিজের বইগুলোতে আমার বাড়তি আগ্রহ কাজ করে।

এই বইটিতে আমি বেশ কিছু ব্যাপার মিস করেছি। সিরিজের প্রথম দুটো বইতেই প্রত্যন্ত কোনো অঞ্চলের পুরাতন রহস্যময় বাড়ি, গ্রাম্য পরিবেশ, ভৌতিক আবহগুলো ছিল চোখে পড়ার মতো। এই গল্পে এরকম ব্যাপারগুলো ছিল না। এখানের বেশিরভাগ বর্ণনাই শহুরে পরিবেশে। এজন্যই আগের সেই গ্রাম্য পরিবেশগুলো বারবার মনে পরছিল।
তাই বলে ভাববেন না বইটা ভালো লাগেনি। বইটির প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত পুরোটাই আমার ভালো লেগেছে। গল্প যতো এগিয়েছে, রহস্য ততো ঘনীভূত হয়েছে। আর রহস্যের সাথেতো ভৌতিক আবেশ আছেই।

গল্পের ভাষা একদম প্রাঞ্জল। তবে কাহিনী বেশ প্যাঁচানো। এবারের গল্পে চরিত্রের সমাহার ঘটেছে আগের থেকে বেশি। মূল কেসের চরিত্রগুলোর বাইরেও আরো নতুন নতুন অনেক চরিত্র এসেছে।
প্রথম দুই বইয়ের সাথে তুলনা করলে এটা একটু পিছিয়ে থাকবে। তবে সবমিলিয়ে ভালোই লেগেছে।

এবার দুইটা মন্দ কথা বলি। বইটার সবটুকু মিলে সাজিয়ে গুছিয়ে আরো সুন্দর হতে পারতো। সামান্য কিছু ত্রুটির কারণে সেটা হয়নি। গল্পে অল্প কিছু অসঙ্গতি রয়ে গেছে। এক জায়গায় নাম গুলিয়েছে। এগুলো ছোটখাটো ব্যাপার। বড় সমস্যা হয়ে গেছে সম্পাদনায়। এতো পরিমাণ বানান ভুল/টাইপিং মিসটেক যা বলার মতো না। বিরক্ত ধরে যাচ্ছিল। এইদিকটায় আরেকটু নজর দেয়া উচিৎ ছিল।

বইয়ের প্রচ্ছদটা মারাত্মক। নামলিপিটাও বেশ।
নতুন রহস্য উপভোগ করতে বইটা পড়ে ফেলতে পারেন।
গল্পের শেষটায় আমার মনে হল এই বইয়ের সিকুয়েল আসার ক্লু দেয়া। সিকুয়েল আসলে মন্দ হবে না...
Displaying 1 - 22 of 22 reviews

Can't find what you're looking for?

Get help and learn more about the design.