'অবাধ্যতার ইতিহাস' বইটি নিয়ে উস্তায ইফতিখার সিফাত হাফিযাহুল্লাহর মন্তব্য—
ধর্মহীন এই সেকুলার সমাজে মুসলিমদের জন্য মুহতারাম ডা. শামসুল আরেফিন সাহেবের এই বইটা বিপ্লবী এক উপহার। মুহতারাম ভাইয়ের প্রতিটা বই-ই আমার পড়া হয়েছে আলহামদুলিল্লাহ; তার মধ্যে বক্ষ্যমাণ বইটিকে এই পর্যন্ত ডাক্তার সাহেবের করা সর্বশ্রেষ্ঠ কাজ বলে আমি মনে করি।
অন্যান্য বইগুলোতে ধরাবাঁধা কিছু টপিক নিয়ে আলোচনা হয়েছে, কিন্তু এই বই একসাথে পুরো একটা প্যাকেজ। ইসলামি শারিয়ার এই প্যাকেজটাকে বর্তমান সময়ের অধঃপতিত মুসলিম উম্মাহর সাথে প্রাসঙ্গিকভাবে লেখক তুলে এনেছেন পুরোপুরি। তাওহিদ, রিসালাত, আখিরাত, ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র, সভ্যতা, সংস্কৃতি, অর্থনীতি, সেকুরালিজম, লিবারেলিজম, হিউম্যানিজম, ফেমিনিজম, কলোনিয়ালিজম-সহ প্রতিটি বিষয়কে বর্তমানের সাথে মিশিয়ে পাঠককে যেন গিলিয়েই দিয়েছেন।
মাস্টারপিস বই। শক্তি ভাইয়ের লেখা বইগুলোর মধ্যে এটিকে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে সেরা বলে মনে হয়েছে। ইতিহাস, দর্শন, ইসলামি মূল্যবোধের এক অপূর্ব সমন্বয় 'অবাধ্যতার ইতিহাস'। চিন্তাজগতে নাড়া দেওয়ার মতো বই।
সমকালীন প্রকাশন থেকে প্রকাশিত "অবাধ্যতার ইতিহাস" নামক প্রায় ২৬০ পৃষ্ঠার এই বইটি আজকের সেক্যুলারিজম, লিবারেলিজম, পুঁজিবাদ, গণতন্ত্রসহ নানা মতবাদের কালো থাবা থেকে মুক্তির সিলেবাস হিসেবে কাজ করবে।
১.
লেখক সাহেব প্রথম কয়েক অধ্যায়ে খ্রিষ্টান ধর্মে সেন্ট পলের আবির্ভাব, একটু একটু করে বিকৃতি, যাজকদের অনৈতিকতা, প্লেগ, চার্চ-সমর্থিত সামন্ততন্ত্রের অত্যাচার, অমানবিক Inquisition, ক্রুসেড,ক্যাথোলিক আর প্রোটেস্টেন্টদের যুদ্ধ নিয়ে আলোচনা করেছেন। সবশেষে রিফর্মেশন, এনলাইটেনমেন্ট এর আলোচনা দিয়ে তাদের অন্ধকার ইতিহাসের ইতি টেনেছেন। স্বল্প ভাষায় এত চমৎকার করে বিষয়গুলো তুলে ধরেছেন যে যেকোনো পাঠক তা গিলতে রীতিমতো বাধ্য!!
এ বিষয়ে আরো জানার আগ্রহ থাকলে আপনি হামিদা মুবাশ্বেরার "শিকড়ের সন্ধানে" বইটা পড়তে পারেন। "শিকড়ের সন্ধানে" বইটিতে পবিত্র কুরআনে বিবৃত বনি ইসরাইলের ঘটনাগুলো পর্যায়ক্রমে তুলে ধরা হয়েছে। ফলে সহজেই বুঝতে পারবেন যে কিভাবে একটি উম্মাহ থেকে ইহুদি, খিষ্টান ও মুসলিম—এই তিন জাতির উদ্ভব হয়েছে।
২.
"মুসলিম বিশ্বের অভিজ্ঞতা" নামক অধ্যায়ে লেখকসাহেব বুঝিয়েছেন যে ইউরোপের এনলাইটেনমেন্ট তাদের তিক্ত অভিজ্ঞতার ফল, কিন্তু মুসলিম বিশ্বের অভিজ্ঞতা তো পুরো ১৮০° উলটো। তাই কেন আমরা সবক্ষেত্রে ইউরোপ কর্তৃক প্রদত্ত সংজ্ঞা মেনে নেব?
এখানে তিনি ইসলামি শরীয়াহর গুরুত্ব, মুসলিম বিশ্বের জ্ঞান বিজ্ঞানের স্বর্নযুগ, খ্রিষ্টীয় পোপতন্ত্র আর ইসলামি খেলাফতের তুলনা, এনলাইটেনমেন্ট ও ইসলামের তুলনা আলোকপাত করে অধ্যায়টি শেষ করেছেন।
৩.
"চাপিয়ে দেয়া আলো" নামক অধ্যায়ে লেখক পলাশী যুদ্ধের ইতিহাস তুলে ধরে আলোকপাত করেছেন ইংরেজদের ডাকাতির গল্প। সম্রাট আওরঙ্গজেবের সময়ে ১৭০০ খ্রিস্টাব্দে চীনকে পেছনে ফেলে ভারতবর্ষ পৃথিবীর বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত হয়, যার জিডিপি ছিল সেসময়ের সমগ্র বিশ্বের ৪ ভাগের ১ ভাগ। আর সেই দেশটা ইংরেজদের শাসনে দফায় দফায় দুর্ভিক্ষের শিকার হয়েছে। শিল্প বিপ্লব মোটেও ইংরেজদের এনলাইটেনমেন্টের উন্নতর মানবিকতার ফসল নয়, বরং ভারতবর্ষের নিরীহ মানুষের রক্তের ফসল, ইংরেজদের চূড়ান্ত পাশবিকতার ফসল। তারপরও আমরা এই ইতিহাস ভুলে গিয়ে তাদের জয়গান গাই। হুহ… ১৯০ বছরের ইংরেজ শাসনের পর আমাদের মস্তিষ্কটাও হয়ে গেছে পাশ্চাত্যের দাস৷ পলাশীর যুদ্ধ নিয়ে লেখক সাহেবের একটি ভিডিও আছে, দেখে আসতে পারেন - https://youtu.be/R7vSFm46UIo
লেখকসাহেব দেখিয়েছেন যেসব স্পর্ধা,অহংকারের জন্য পূর্বের অনেক সভ্যতা আল্লাহর অনিবার্য আযাবের সম্মুখীন হয়েছিল, আজ আমরা অনেক মুসলিমরাই তা করে যাচ্ছি। সেক্যুলারিজম, পুঁজিবাদ, ইলহাদ, অশ্লীলতা যেন আজ আমাদের সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে আস্তানা গেড়েছে।
এছাড়াও আরো অনেক কিছু নিয়েই আলোচনা করেছেন, যা এক পোস্টে দেয়াও মুশকিল। লেখকের শেষ কথা একটাই, উম্মাহর বিজয়ের জন্য কিছু করতে পারছি কিনা তা নিশ্চিত করা, যে যে সেক্টরেই কাজ করি না কেন, দাওয়াহকে যাতে জীবনের মিশন হিসেবে নিতে পারি তা নিশ্চিত করা।
লেখক সাহেবের লেখা ভালো লাগার প্রথম কারণ তিনি শুধু কোন কমপ্লেক্স বিষয়কে সহজ করে বুঝিয়েই দেন না বরং কুরআন, হাদিস, বিজ্ঞান, পরিসংখ্যানের আলোকে বিষয়টিকে যুক্তিপূর্ণ ভাবে প্রমাণ করেন। বইয়ের শুরুর দিকে তিনি Capitalism, Imperialism, Globalization সহ আরো কিছু মতবাদ সম্পর্কে হালকা ধারণা দিয়েছেন যাতে পাঠকের বুঝতে সুবিধা হয়। আমার কাছে এখন পর্যন্ত অবাধ্যতার ইতিহাস বইটা শামসুল আরেফিনের লেখা সবচেয়ে ভালো বই মনে হচ্ছে। আল্লাহ তায়ালা লেখকসহ এই বই সংশ্লিষ্ট সকলকে কবুল করে নিক, আমিন।
This entire review has been hidden because of spoilers.
Brilliant read. Although, at one point, you might think of being bombarded by piles of information at once but if read slowly, it can clearly unfold many biases and perceptions one has regarding the comparison between western and islamic civilization.
অধ্যায়বিন্যাস নিয়ে একটু কথা আছে। এছাড়া এককথায় অসাধারণ। ‘চিন্তাপরাধ’-পরবর্তী বুদ্ধিবৃত্তিক ধারায় আরেকটি ধামাকা। অনেক বইয়ের, অনেক চিন্তাভাবনার একটা খোলাসা, একটা সুশৃঙ্খল উপসংহার, একটা মীমাংসা।
শক্তি ভাইয়ের শক্তিশালী লেখনীর বহিঃপ্রকাশ যথারীতি এ বইতেও দৃশ্যমান। বইয়ের প্রতিটি অধ্যায়ই আগুন ঝরানো। বিশেষত: "আল্লাহর আযাবে মুসলিম কেন মরে", "পাশ্চাত্য সমাজে ইসলাম", "ঈমান বনাম কুফর" এই তিনটি অধ্যায়ের আলোচনা সমসাময়িক বিশ্বে মুসলিমদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং গভীর চিন্তার দাবিদার। বইটির মেসেজ আপনাকে প্রভাবিত করবেই। পড়ার অনুরোধ রইলো।
সবার জন্য অবশ্যপাঠ্য এই বই। পশ্চিমাদের হলুদ চশমা চোখ থেকে খুলতে পারবেন আশা করি। আসিফ আদনানের চিন্তাপরাধ আর এই বই কিছুটা একই রকম। খুবই সরল ভাষায় সব বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে। তাই পড়ে আরাম পাবেন।
সোকল্ড আধুনিকতার অন্তঃসারশূন্যতা এবং জীবনজুড়ে ইসলামের তুলনারহিত অপরিহার্যতা অসামান্য মুনশিয়ানায় ফুটিয়ে তুলেছেন লেখক এই বইয়ে।
ইউরোপে ধর্মের অত্যাচার, রাষ্ট্রের চেয়ে ধর্মের ক্ষমতাধর হয়ে ওঠা, চার্চের অত্যাচার, ধর্মীয় বাড়াবাড়ি, শতাব্দীব্যাপী ধর্মযুদ্ধ, জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিকাশে চার্চের বাধাসহ পশ্চিমে ধর্মের ইতিহাসের চুম্বকাংশ তুলে ধরেছেন। ১৫ শতকের পর ইউরোপে শুরু হয় ধর্মহীনতার ইতিহাস। ফুটন��ত কড়াই থেকে জ্বলন্ত আগুনে ঝাঁপ দেওয়ার মতোই—ধর্মের নাগপাশ থেকে মুক্ত হয়ে তারা একটা ধর্মমুক্ত পৃথিবীর মিশনে নেমে পড়ে।
এরপর লেখক ইসলামের কথা বলেছেন। ইউরোপে ধর্ম তাদের জাগতিক উন্নতির চূড়ান্ত অন্তরায় ছিল। বিপরীতপক্ষে ইসলাম যে মুসলিমদের যুগপৎ জাগতিক এবং মহাজাগতিক উন্নয়নের মহাসড়কে পরিচালিত করে, তা তুলে ধরেন। অর্থাৎ ইউরোপের ধর্মাভিজ্ঞতা আর ইসলামের অভিজ্ঞতা যে ১৮০ ডিগ্রি বিপরীত, তিনি তা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেন। ইউরোপ বিশ্বজুড়ে সমাধানের মোড়কে সমস্যা আর ঔষধের মোড়কে বিষ সাপ্লাই করে। সেখানে তাই পরিবার ভাঙনের নাম ‘নারীবাদ’, মানবাধিকারের নাম ‘সমকামিতা’, ধর্মবিদ্ধেষের নাম ‘বাকস্বাধীনতা’ আর অকল্পনীয় অশ্লীলতার নাম হয়ে যায় ‘আধুনিকতা’। এসব মুখরোচক শ্লোগানের প্যারাডক্স আর পরিভাষার বিকৃত প্রয়োগের কুহক থেকে লেখক আমাদের সাবধান করেছেন।
জীবন ও জগতের সহজাত নীতিমালা অগ্রাহ্য করে বাস্তাবতা বিবর্জিত প্রকৃতিবিরোধী পদক্ষেপ, বুদ্ধিবৃত্তিক নৈতিকতা, লাগামহীন ভোগ আর অবাধ স্বাধীনতার ফলাফল কী পরিমাণ ভয়াবহ হতে পারে, লেখক তার সবিস্তর উদাহরণ তুলে ধরেছেন। হাতে কলমে দেখিয়েছেন উন্নয়নের সিঁড়ি বেয়ে ১ম বিশ্ব কীভাবে তরতর করে অধপতনের শেষ সীমায় পৌঁছে যাচ্ছে।
ইউরোপের উত্থান-পতেনের পাঠ চুকিয়ে লেখক মুসলিমবিশ্বের অতীত-বর্তমান-ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করেছেন। এক কথায় এই বইকে বর্তমান বিশ্বের আয়না বলা চলে। এর পৃষ্ঠায় পৃষ্ঠায় ভেসে ওঠে আমাদের চেহারা। এ যেন চলমান বিশ্বের মলাটবদ্ধ শব্দচিত্র।
লেখক দেখিয়েছেন ১ম বিশ্বের অন্ধ অনুসরণে ‘হীরা ফেলে কাঁচ তুলে’ কীভাবে আমরা আমির থেকে ফকির হচ্ছি। তাদের অনুসরণে ভুলট্রেনে চড়ে বসার মতোই আমরা ক্রমাগত কীভাবে মঞ্জিল থেকে আরো দূরে সরে যাচ্ছি। লেখক শুধু ভুল ধরেই ক্ষান্তি দেননি; মোটেও হতাশ নন তিনি। বলেছেন উত্তরণের পন্থাও। সেই সাথে প্রেসক্রাইব করেছেন বিজয়ের ইশতেহার। ‘নেহি হে না উমিদ ইকবাল, আপনে কিশতে বিরা সে; জরা নিম হো তো এ মিট্টি বহুৎ যরখিজ হে সাকি…’ Shakti ভাই আধুনিক বিষয়গুলো হালনাগাত তথ্য ঘেটে আর ইসলামি বিষয়গুলো হৃদয়গত বেদনা দিয়ে লিখেছেন। তাত্ত্বিক প্রাচুর্য আর হার্দিক প্রাণনার এমন মেলবন্ধন বিরল। এমন দিলচেরা বক্তব্য সরাসরি কলিজায় আঘাত হানে। ‘দিল সে জো বাত নিকলতি হে, আসর রাখতি হে। পর নেহি তাকতে পরওয়াজ মগর রাখতি হে।’
আলাপের তুমুল বৈঠকি ঢং আর রুদ্ধশ্বাস বর্ণনার ফাঁকে পাঠক কখন যে একটা প্রায় অ্যাকাডেমিক বই শেষ করে ফেলবেন, তা হয়তো টেরও পাবেন না।
বইটা পড়ে মাথার ভেতর ভোঁতা এক যন্ত্রণা হচ্ছে। আমি মাদরাসা ঘরণা বা মোটমুটি ইসলামী মতাদর্শের পাঠক হয়েও ধর্মীয় বইয়ে আমার খুব অনীহা ছিলো। এই অনীহার পেছনে একমাত্র কারণ ছিলো ভালো লেখক না পাওয়া।
যাক, অবশেষে বইটা পড়লাম। এবং বই পড়ে তাৎক্ষণিক কিছু ইফেক্ট টের পাচ্ছি। নিজের দায়িত্ববোধ সম্পর্কে বড় পরিসরে জানতে পেরেছি। ধর্মকে আধুনিকতার বাক্সে বন্দী করার যে লজ্জাকর মানসিকতা লালন করছি অযৌক্তিকভাবে, সেটারও যুক্তি পেয়েছি। যাদেরকে আইডল ভেবে নিজের পরিচয়কে অন্ধের চাদরে ডেকেছিলাম তাদের পৈশাচিক চিত্র সম্পর্কে অনেক বিশ্লেষণ পেয়েছি।
আধুনিকতা বা সাফল্যের চাবিকাঠি যে পশ্চিমা দেয়া শিক্ষায় ডিফাইন করছি তাও অযৌক্তিক। পশ্চিমারা অনেকাংশে ধর্ম থেকে বেরিয়ে মানুষ হলেও একই ধাঁচে আমরা ধর্মকে ছুঁড়ে ফেলে অমানুষ হচ্ছি। তাদের জন্য যেটা ঠিক, একই কারণে পরিস্থিতির ভিন্নতার কারণে আমাদের জন্য ভুল।
একজন লেখক মাত্র ২৫০+ পৃষ্ঠায় পুরো ইতিহাসকে ছুঁয়ে মানুষকে মানুষ হওয়ার যে পথ বাতলে দিয়েছেন তা জানতে এই বইটা আপনাকে পড়তে হবে।
আমি নগণ্য পাঠক হয়ে এই বইয়ের রিভিউ লিখে তার হক আদায় করতে পারব না। আপনি পড়ুন, জানুন। আশাকরি সময় বৃথা যাবেনা।
আজকের ঝকঝকে ইউরোপের গড়ে ওঠার পেছনের ইতিহাস কতটা জানি আমরা? ক্রুসেড, রেনেসাঁ, এনলাইটেনমেন্ট, সেক্যুলারিজম, গণতন্ত্র, পুঁজিবাদ, বস্তুবাদ, ভোগবাদ, ইসলামি খিলাফত সব এক ফ্রেমে চমৎকারভাবে তুলে এনেছেন লেখক।
"প্রতিটি সমাজের শুরুতে যৌনতা ও নৈতিকতার ব্যাপারে কঠোর থাকে, সমৃদ্ধির চূড়ায় পৌঁছে তাদের ভেতরে শুরু হয় নৈতিক অবক্ষয়। ব্যভিচার-সমকাম-প্রকাশ্য অশ্লীলতা বৃদ্ধি পেতে থাকার অর্থ সভ্যতার পতন আসন্ন (জনসংখ্যা হ্রাস, মনোবিকল ভবিষ্যৎ-প্রজন্ম, যৌনবিপ্লব)।"
"আজকের উন্নত ইউরোপ-আমেরিকা এনলাইটেনমেন্টের উন্নততর মানবিকতার ফসল নয়, সাম্য-স্বাধীনতা-ভ্রাতৃত্বের ফসল নয়; আজকের সাদা-সভ্যতা, তাদের বিজ্ঞান, তাদের উন্নতি উপনিবেশগুলোতে কোটি কোটি নেটিভের জীবনের ফসল, চূড়ান্ত পাশবিকতার ফসল।"
বর্তমান ধর্মহীন এই স্যেকুলার সমাজের বাস্তবতা এই বইতে তুলে ধরা হয়েছে। আমাদের সোনালী গৌরব, সেখান থেকে অধঃপতনে যাওয়া এবং কিভাবে আবার আমরা নিজেদের ঠিক করে গৌরব অর্জন করতে পারি সেটা নিয়েই এই বই। আল্লাহ শামসুল আরেফিন ভাইকে জাজায়ে খায়ের দান করুন।
ইউরোপিয়ান চশমা দিয়ে বেশিরভাগ মানুষ তাবৎ দুনিয়ার সবকিছু দেখে। সেই চশমা খুলে ইসলামের চশমা দিয়ে আমাদের অবস্থা দেখার একটু খানি চেষ্টা । আল্লাহ তা'আলা লেখককের এই কাজ কে কবুল করে নিক ।
As a Muslim we are trying to follow western culture in our daily life.. But is this western culture is so much idol or our Islam is so bad.. Answer of this question we will find in this book
শক্তি ভাইয়ের বইগুলোর এই একটা দিক আমার অনেক পছন্দ। জটিল সব বিষয়কে তিনি তুলনামূলক বিশ্লেষণের মাধ্যমে খুব সহজভাবে এবং হৃদয়গ্রাহী করে উপস্থাপন করতে পারেন। এজন্য ওনার তথ্যপ্রমাণভিত্তিক আলোচনাগুলো সহজেই পাঠকের নজর কাড়ে। পশ্চিমা ভোগবাদী সমাজের নির্মম বাস্তবতাগুলো ওনার লেখায় খুব সুন্দর ফুটে ওঠে। সমাজবিজ্ঞানের একঘেয়ে আলোচনাগুলোকেও তিনি খুব সাবলীলভাবে তুলে ধরেন এবং সেটাও যথাযথ যুক্তি ও রেফারেন্স সহ। এর আগে ওনার বেশ কয়েকটা বই পড়েছি। তার মধ্যে এইটা এবং ডাবল স্ট্যান্ডার্ড ২.০ সবচেয়ে বেশি ভালো লেগেছে।