নোংরা রাজনীতির বলি হয়ে তো কতজনকেই খুন হতে হয়, সুরাহা হয় কয়টি? একটি খুন, ওই খুনের সূত্র ধরে ছুটতে গিয়ে আরেকটা খুন। খুন দুটির মাঝে কি কোনো যোগসাজশ আছে নাকি নিতান্তই কাকতালীয়? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই তদন্তে নামল হোমিসাইড ডিটেকটিভ জাভেদ হুসেন ও তার সহযোগীরা। সামান্য ক্লু’র খোঁজ পেয়ে সেটা নিয়ে কাজ করতেই আভাস পেল বিশাল এক ষড়যন্ত্রের, যার মূল প্রোথিত অনেক গভীরে। কি সেই ষড়যন্ত্র? সবথেকে বড় কথা খুনগুলো করেছে কে?
হায়দার আলী, শহরের সবথেকে নামকরা ক্রিমিনাল ল’ইয়ার। অপরাধীদের জগতে রীতিমত সেলিব্রেটি সে। বেশিরভাগ কেসেই অপরাধীকে মুক্ত করে আনতে পারে। কিন্তু এবার হায়দার আলীর ক্লায়েন্ট এমন কেউ, যার বিরুদ্ধে প্রমাণ কংক্রিটের মত শক্ত। হায়দার আলী কি পারবে নিজের ক্লায়েন্টকে নির্দোষ প্রমাণ করতে নাকি উল্টো তাকেই বরণ করতে হবে কঠিন কোনো পরিণতি? প্রত্যেকটা রহস্যের উত্তর রয়েছে মৃত্যুকল্পে। পুলিশি তদন্ত, রাজনৈতিক কূটচাল, লোভ, আইনি লড়াইয়ের এক আখ্যান উঠে এসেছে এই উপন্যাসে।
এখন অবধি বাংলায় মৌলিক যতগুলো পুলিশ প্রসিডিউরাল থ্রিলার পড়েছি, তাদের বেশিরভাগেরই সংঘটনস্থল ঢাকা। এই প্রথম একটা বই পড়লাম যার ঘটনাপ্রবাহের প্রেক্ষাপট রাজশাহী। যেরকম আগ্রহ নিয়ে শুরু করেছিলাম বইটা, শেষ পর্যন্ত সেই আগ্রহ বজায় ছিল, এর কৃতিত্ব লেখককে দিতেই হবে। মোটা দাগে একটা পলিটিকাল মার্ডার মিস্ট্রি/পুলিশ প্রসিডিউরাল। যারা পুলিশ প্রসিডিউরালের অভ্যস্ত, তারা জানেন যে এই ধাঁচের বইগুলো প্রায়শই স্লো-বার্ন হয়। কিন্তু মৃত্যুকল্প সেদিক থেকে ব্যতিক্রম। বেশ ফাস্ট পেসড। অল্প পরিসরেও ভিক্টিম ও প্রোটাগনিস্টের চরিত্রায়ন বেশ করেছেন লেখক। পুরো বই জুড়েই ছোটবড় টুইস্ট ছিল, যেগুলো উপভোগ করেছি। সব মিলিয়ে, প্রথম মৌলিক বই হিসেবে দারুণ দেখিয়েছে ইশরাক। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, পরবর্তী বইগুলোতে আমাদের আরো চমকে দিবে সে।
কয়েকদিন আগে পড়া হল ইশরাক অর্ণবের প্রথম মৌলিক থ্রিলার মৃত্যুকল্প। মিস্ট্রি, পুলিশ প্রসিডিউরাল জনরা আমার বরাবরই প্রিয়, প্রিয় জনরা হওয়ার কারনে আগ্রহ নিয়েই বইটা পড়লাম, সবমিলিয়ে বেশ ভালো লাগলো। যদিও এই জনরায় ব্যক্তিগতভাবে কোন বই ভালো লাগলে ছোট পরিসরে লেখা পড়ে শান্তি পাইনা, ধরার সাথে সাথে শেষ।😷 এই বইটাও যথেষ্ট ফাস্ট, একটানা পড়া হয়েছে ব্যস্ততার মধ্যেও। ছোট-বড় কয়েকটা টুইস্ট আছে, ধরতে না পারলে টুইস্টগুলোর জন্যও ভালো লাগবে। লেখকের প্রথম মৌলিক বই হিসেবে যথেষ্ট ভালো লিখেছেন, আশা করি সামনে আরো মৌলিক বই পাব নিয়মিত।
বর্ণনা আড়ষ্ট, প্রাঞ্জলতার অভাব। গল্প সাদামাটা। প্রথম মৌলিক হিসেবে ৩/৫ দেয়া যায়, তবে অনুবাদক হিসেবে যেহেতু অনেক লেখা ইতিমধ্যে লিখেছে সে, তাই আমার মনে হয় না বর্ণনার বা স্টোরিটেলিংয়ের দুর্বলতা থাকা উচিত এখনও। শুভকামনা লেখকের জন্য।
‘মৃত্যুকল্প’ বইটির প্লট বিশ্লেষণে বলা যায়, পলিটিক্যাল খুন দিয়ে শুরু হওয়া এই মার্ডার মিস্ট্রি, পুলিশ প্রসিডিউরাল বইটি প্লটের দিক থেকে যথেষ্ট আগ্রহোদ্দীপক। তবে সেই সাথে পাঠকের একটু মাথায় রাখতে হবে, যেহেতু এটা পুলিশ প্রসিডিউরাল বই সেহেতু বইটা খানিকটা স্লো মনে হলেও হতে পারে। তবে আমার মতো যারা স্লো বার্ণ থ্রিলার পছন্দ করেন তাদের প্লটটা বেশ ভালো লাগার কথা। লেখক এখানে পুলিশ প্রসিডিউরালের যে ডিটেইলিং গুলা দেখিয়েছেন, তা এই জনরার পাঠকসহ সব পাঠককেই আকৃষ্ট করবে। আমাদের দেশীয় কোন লেখকের এতটা ডিটেইলড পুলিশ প্রসিডিউরাল মৌলিক লেখা আমার এর আগে পড়া হয়নি। এই প্রসঙ্গে, হ্যাটস অফ টু ইশরাক অর্ণব। আপনি নিজে তো ভালো একটা জিনিস শুরু করেছেনই, অনেকের শুরু করার পথও তৈরি করে দিয়েছেন।
তবে এত দারুণ একটা জনরার, দারুণ প্লটের গল্প পড়া সত্ত্বেও লেখকের লিখনশৈলী নিয়ে আমি খানিকটা হতাশ হয়েছি। এর মূল কারণ বলতে পারেন, POV। ফার্স্ট পার্সন POV তে থ্রিলার লেখাটা একটা চ্যালেঞ্জ। কারণ থ্রিলারে Don’t Show, tell এর নীতি ফার্স্ট পার্সনে এক্সিকিউট করাটা বেশ চ্যালেঞ্জিং। লেখক চ্যালেঞ্জটা নিয়েছেন কিন্তু একজন পাঠক হিসেবে আমার মনে হয়েছে তিনি চ্যালেঞ্জটা জিততে পারেননি। প্রতিটি অধায়ের শুরুতে লেখকের ফিলোসফিকাল ন্যারেশন এবং বর্ণনা কিছু জায়গায় ভালো লাগলেও সব জায়গায় ভালো লাগেনি। মনে হয়েছে কিছু কিছু জায়গায় এ বর্ণনা না হলেও হতো। আবার লেখক ইনভেস্টিগেশন রুমের একাধিকবার যে বর্ণনা দিয়েছেন তা আমাকে খানিকটা বিরক্ত করেছে। এগুলো অবশ্য আমি দোষ দেবো সম্পাদনার। আমি নিশ্চিত সম্পাদনাটা সময় নিয়ে করা হলে কিংবা প্রপার কোন সম্পাদকের হাতে পড়লে 'চোখে লিপিস্টিক লাগানোর'মত ছোট ভুল ছাপার বইতে আসতো না। লেখক ফার্স্ট পার্সনে বর্ণনার সময় বেশ কয়েকবার তার সহকারীকে পূর্ণনাম ধরে বলেছেন। মানে 'ওখানে দাঁড়িয়ে আছে সাদিয়া সামাদ' টাইপ আর কি। এখানে যে জিনিসটা চোখে লেগেছে তা হলো, আমরা কোন একটা গল্প/ঘটনার শুরুতে কোন চরিত্রকে পরিচয় করিয়ে দেয়ার উদ্দেশ্যে প্রথমবার পুরো নামটা বলি। এরপর যতবার তার নাম আসে পূর্ণ নাম কিন্তু আর বলিনা। কিন্তু এই বইতে সাদিয়া সামাদের ক্ষেত্রে এ বিষয়টি বেশ কয়েকবার হয়েছে। এটাকেও সম্পাদনার দূর্বলতা ধরা যায় এবং এরকম আরো বেশ কিছু সম্পাদনা জাতীয় সমস্যা দেখা দিয়েছে। বইয়ের একটা জায়গায় একজন আসামীকে গ্রেপ্তার করে সরাসরি 'মহানগর কেন্দ্রীয় কারাগারে' নেয়ার কথা বলা হয়েছে, এমনকি ওখানে ইন্টারোগেট করার কথাও বইতে এসেছে। আমার জানামতে, আসামী সন্দেহে কাউকে গ্রেপ্তার করার সময় তার স্থান হয় থানা হাজতে। এরপর চার্জশীট জমা হলে তাকে কোর্টে চালান করা হয়৷ কোর্ট তার কারাদন্ড রায় দিলে তখন সে কারাগারে যায়, তার আগে না। এখন এটা কি আমার জানার সীমবদ্ধতা নাকি লেখক এ জায়গাটা ভালোভাবে না জেনে লিখেছেন, বুঝতে পারছি না।
এতো গেল টেকনিক্যাল এরর, এছাড়া ক্যারেক্টারাইজেশনে লেখক খুব বেশি ডেপথে যেতে পারেননি। সবচাইতে দূর্বল লেগেছে, হোমিসাইডের বিল্ড আপ। যেকোন দেশের হোমিসাইড ডিপার্টমেন্ট বেশ ব্যস্ত থাকার কথা। সেখানে আমাদের দেশের হোমিসাইডে যখন একটা খুনের কেসে ৩ জন প্রায় সম পদের অফিসার কাজ করে, তখন জিনিসটা রিলেট করতে কষ্ট হয়। মানে ২ জন কাজ করলেই তো হতো, ৩ জন একসাথে করছে কি, এরকম একটা প্রশ্ন মনের মাঝে আসার কারণে কেউ যদি আমাকে অতিরিক্ত খুঁতখুঁতে ভাবেন, ভাবতে পারেন।
এছাড়া হোমিসাইড ডিপার্টমেন্টে খুনের কেস আসার প্রসিডিউরটা আমার কাছে কাঁচা মনে হয়েছে। একজন এস আই লাশের খোঁজ পেলো, ডিরেক্ট ফোন দিলো হোমিসাইডের জাভেদ সাহেবকে, ব্যস জাভেদ সাহেব কেসটা নিয়ে এলো। এটা না হয়ে, এস আই তার উর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানাবে, তিনি ফরমালি কেসটা হোমিসাইডের দায়িত্বে দেবেন এমনটা আশা করেছিলাম। পার্সোনাল ক্যারেক্টারাইজেশনের কথা বললে, হায়দার আলীর ক্যারেক্টারটা লেখক বেশ যত্ন নিয়ে তৈরি করেছেন। অনেকটা 'ব্রেকিং ব্যাড' এর সল এর মতো (কাজেকর্মে না)। সিম্পল একটা ক্যারেক্টার এতটাই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে তৈরী হয়েছে যে, এ ব্যাপারে লেখককে ধন্যবাদ না দিলে অন্যায় হয়ে যায়। তবে মূল চরিত্র জাভেদ সাহেব এর ক্যারেক্টার আরেকটু ডেপথ পেলে ভালো লাগতো। যে সংখ্যার ক্লুগুলো দিয়ে খুনের রহস্য সমাধান হয়েছে, তার একাংশর এক্সপ্ল্যানেশান বইতে আসলেও বাকিটুকুর এক্সপ্ল্যানেশান আমার চোখে পড়েনি (এড়িয়ে গেছে? হতে পারে)। সে ক্লুগুলোও কিভাবে হায়দার সাহেবের হাতে আসলো, কেই বা পাঠালো, যে পাঠালো সে পেলোই বা কিভাবে তার কিছুই বইতে জানা যায়নি। অনেকে বলতে পারেন, এটা জানাটা খুব একটা জরুরী না। তবে আমি বলবো, অবশ্যই জরুরী। কারণ এটা ক���েছে অন্য একটা পার্টি, যাদের/যার গুরুত্ব রয়েছে এই বইয়ের পলিটিক্সের ফোরশ্যাডোতে।
তবে যুগপৎ ভাবে সবচাইতে আহত এবং দারুণ চমৎকৃত হয়েছি, শেষটায়। চমৎকৃত হয়েছি টুইস্টের কারণে। এবং এ টুইস্ট লেখক যেখানে, যেভাবে দিয়েছেন তাতে পাঠক মাত্রই অবাক হবে। এখানেও লেখকের একটা ধন্যবাদ প্রাপ্য। আর আহত হয়েছি, খুনির ব্যাকআপ হিসেবে যাদেরকে দেখানো হয়েছে, তাদের ক্ষমতা ব্যাপক আকারে দেখানো হলেও খুনীকে প্রমাণসাপেক্ষে ধরা হয় এবং খুনের পেছনে মূল মোটিভকে এড়িয়ে অন্য একটা মোটিভ দেখিয়ে জনসম্মুখে সেটা প্রকাশ করাতে। আমার প্রশ্ন, যারা ঐ খুনীর ব্যাকআপ হিসেবে আছে, তাদের মনে কি একবারও সন্দেহ হলো না যে, হোমিসাইড আসল ঘটনা জেনে ফেলেছে? এটার একটা দীর্ঘমেয়াদী সমাধান দরকার? স্রেফ এই জায়গাটায় লেখক মুন্সিয়ানা দেখাতে পারলে বইটা আরো অনবদ্য হতো। তবে এটা আসলে লেখকের কাছ থেকে একান্তই আমার এক্সপেক্টেশন ছিলো। কিন্তু একজন পাঠক হিসেবে আপনি যদি, লেখকের ১ম মৌলিক এবং তাও পুলিশ প্রসিডিউরাল থ্রিলার হিসেবে বিবেচনা করেন, লেখক পাস মার্ক তো পাবেনই বরং এটাকে অতি সহজেই এ গ্রেড একটা থ্রিলার বলতে পারবেন। কোন সন্দেহ নেই যে বইটা আপনি উপভোগ করবেন।
শেষটায় আরেকটা কথা বলে বিদায় নেই। প্রচ্ছদ, বইয়ের প্রডাকশন নিয়ে আমি সচরাচর মাথা না ঘামালেও 'পরাগ ওয়াহিদ' যে দারুণ আই সুদিং কালারে চমৎকার একটা প্রচ্ছদ করেছেন, তাতে করে তার একটা ধন্যবাদ প্রাপ্য। আর একটা ধন্যবাদ দিতে চাই, সহজবোধ্য সিম্পল নামলিপির জন্য। আজকাল অনেকেই দূর্বোধ্য নামলিপি করে আর্টিস্টিক একটা ভাব আনতে চান। কিন্তু এটা বাকি পাঠকরা কিভাবে নেন জানিনা, আমার কাছে প্রচন্ড বিরক্ত লাগে।
রেকমেন্ডেশন : যারা দেশীয় লেখকের লেখা পুলিশ প্রসিডিউরাল একটি থ্রিলার পড়তে চান তাদের জন্য ২২০ টাকা মুদ্রিত মূল্যের এই বইটি মোটামুটি ভালো একটি চয়েজ হবে বলে আমার ধারণা।
পুলিশ প্রসিডিউরাল টাইপ থ্রিলার গুলো তুলনামূলক স্লো হয় ||
দ্য চেস্টনাট ম্যান পড়ার পর আমি ধরেই নিয়েছি এই জনরার থ্রিলার গুলো একটু স্লো বার্ন ই হবে!!
বই নিয়ে বলতে গেলে সহজ করে কিছু কথা বলি!!
গল্পের সাথে খুব সহজেই নিজেকে খুজে নিতে পারবেন বা পরিচিত কাওকে।। খুব সহজেই গল্প কে বাস্তবের সাথে মিলাতে পারবেন।। বর্তমান কিছু প্রেক্ষাপট কে কাজে লাগিয়ে বেশ ভাল ভাবে গুছিয়ে থ্রিলার লিখেছেন লেখক ভাই।।
খুব আহামরি কোনো গল্প নয়।।নিতান্ত সাধারণ একটি গল্প।।গল্পে জড়তা ছিল না।। প্রথম মৌলিক হলেও লেখনী ছিল গতিশীল মোটামুটি ।। শব্দচয়ন আমার ব্যক্তিগত ভাবে পছন্দ হয়েছে।।
এবার যা ভাল লাগেনি একটু বলি :
* সম্পাদনার অভাব।। বানানে ভুল।। আর সবচেয়ে বাজে লাগছে চোখে লিপস্টিক দেওয়ার অংশ টা।। একেবারে সম্পাদনা হীন কাজ।। বাতিঘরের এসবের প্রতি নজর দেওয়া উচিৎ ।।
* ইনভেস্টিগেশন এ অপরাধীকে সাইকোলজিক্যালি চাপে রাখা!! যেমন রুমের কালার,অপরাধীর চেয়ার এওগুলা বারবার বলা হয়েছে!! একবার ই আসলে যথেষ্ট ছিল!!
*গল্পের ভিলেন কে যেভাবে উপস্থাপন করা হয়েছিলো,গল্পের শেষে টুইস্ট দিতে গিয়ে কোথায় যে খেই হারিয়ে গিয়েছিলো।।
*দুটো খুনের মধ্যে যোগসাজশ বের করতে গিয়ে যেভাবে খুনী ধরা পড়ে,এইটা আসলে মানতে পারতেছিনা।। আবার এইভাবে ভাবতেছি, দুইটা ঘটনা এরচেয়ে ভাল।আর কি উপায়ে এক সুতায় বাধা যেত।। যাইহোক, দ্বিতীয় খুন এর কারণ আর প্রেক্ষাপট টা পছন্দ হয়নি।। তবে যে ক্লু এর জন্য ধরা পড়েছিলো এইটা পুলিশি প্রসিডিউরে কমন হওয়া উচিৎ ।। কিন্তু বিষয় টাকে অন্য একজনের বুদ্ধিমত্তা হিসেবে দেখানো টা প্রচন্ড মেকী লেগেছে।।কারণ খুন হলে তার আশেপাশে সিসিটিভি ক্যামেরা পুলিশ চেক করে দেখবেই।।
প্রথম মৌলিক হিসেবে বেশ ভাল স্বচ্ছ লিখা।। খুব ভাল না হলেও চলনসই।।
পাঠ-প্রতিক্রিয়া: মানুষের আশেপাশে ঘিরে যে লোক গুলো থাকে তারা কখন বিশ্বাসযোগ্য হয় কখনো বা হয় না।লেখক এর প্রথম উপন্যাস হিসেবে দারুণ শুরু।পুরো কাহিনী ডিটেকটিভ জাভেদ হোসেনের মুখ থেকে বর্ণিত হয়েছে। রাজনীতি যে একটি ভয়ঙ্কর খেলা তার বর্ণনা ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে বইটিতে। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয়,লেখক খুনি কে হবে তা প্রথমেই বলে দিয়েছেন। টান টান উত্তেজনায় ভরপুর বইটি এক বসায় শেষ করে ফেলতে পারবেন। শুভকামনা ইশরাক ভাইকে।সামনে আরো অনেক মৌলিক থ্রিলার উপন্যাস আসবে আশা করি।
প্রচ্ছদ ও বানান: প্রচ্ছদ চোখে পড়ার মত। সেটা দেখেই অর্ডার করি। ভুল বানান চোখে পড়েনি। দুই একটা তাকলেও পড়ার সময় সমস্যা হবে না।
বইয়ের নাম :মৃত্যুকল্প লেখক :ইশরাক অর্ণব জনরা :পুলিশ প্রসিডিওরাল থ্রিলার/ক্রাইম থ্রিলার প্রকাশনি : বাতিঘর প্রকাশনি
নিখুঁত তদন্তপ্রক্রিয়া, অল্পবিস্তর কোর্ট রুম ড্রামা এবং নোংরা রাজনৈতিক কূটচাল এই তিনটি জিনিসের সমন্বয়ে চমৎকার একটা গল্প পড়লাম।
কাহিনী সংক্ষেপ : শহর থেকে দূরে মহানগর বিশ্ববিদ্যালয়ের গার্লস হোস্টেলের পিছনে নির্জন নিরালা জায়গায় হঠাৎ একদিন পাওয়া গেল এক লাশ। সেই লাশের তদন্ত সূত্রে ডাক পড়ল তিন হোমিসাইড ডিটেক্টিভ জাভেদ হুসেন, ফিরোজ ইকবাল এবং সাদিয়া সামাদ।তদন্ত করে জানা গেল লাশ টা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সাংসদের সদ্য সাবেক নেতা,স্বতন্ত্র এমপি পদপ্রার্থী মাহমুদুল হকের।তাহলে কি রাজনৈতিক কোন স্বার্থ জড়িত এর সাথে??খুনের পিছনে আছে কোন রাজনৈতিক দল??নোংরা রাজনীতির শিকার কি মাহমুদুল হক?
অপরদিকে হায়দার আলী একজন ক্রিমিনাল ডিফেন্স ল'ইয়ার।আইনের ফাঁকফোঁকড় ভেদ করে আসামীর সাজা কমাতে বা বেকাসুর খালাস দিতে তাঁর জুড়ি মেলা ভার।পুলিশের সাথে তাঁর সাপে-নেউলে সম্পর্ক।বেশ কিছু কেস পুলিশের বিপক্ষে লড়ে আসামীকে কে মুক্তি প্রদান করতে সাহায্য করে।আচমকা একদিন তাঁর নিজের গাড়িতে খুন হওয়া অবস্থায় পাওয়া যায়। অইদিকে মাহমুদুল হকের খুনের কেসে কোন সুহারা করতে পারেনি হোমিসাইড ডিটেকটিভরা এরই মধ্যে আবার এই খুন।তবে কি দুই খুনের মধ্যে সাদৃশ্য আছে কোন?আড়াল থেকে অন্য কেউ কলকাঠি নাড়ছে না তো?
পাঠ-পর্যালোচনা : ১.প্রথমেই বলতে চাই লেখকের প্রথম উপন্যাস হিসেবে এই বইটি বেশ ভাল লেগেছে।একটা পুলিশ প্রসিডিওরাল থ্রিলার বইয়ে সবচেয়ে যে জিনিসগুলো গুরুত্বপূর্ণ তা হল খুঁটিনাটি তদন্তপ্রক্রিয়া,ফরেন্সিক ডিটেইলস,পোস্টমর্টেম প্রক্রিয়া ইত্যাদি।গল্পে বেশ সুন্দরভাবে পুলিশি তদন্ত প্রক্রিয়া দেখানো হয়েছে। জাভেদ,ফিরোজ এবং সাদিয়ার ক্রাইম সিন পর্যবেক্ষণ,সূত্র খোঁজা,ফরেনসিক স্পেশালিষ্ট দের তৎপরতা,পোস্টমর্টেমের নিখুঁত বর্ণনা,পিস্তলের বর্ণনা,ব্যালিস্টিক রিপোর্ট, ডিএনএ ম্যাচিং,মোবাইল ট্রেসিং,সিসিটিভি ফুটেজের বিশ্লেষণ এই তথ্যগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে গল্পে বর্ণনা করা হয়েছে।একটা পারফেক্ট পুলিশ প্রসিডিওরাল থ্রিলার এ যেসব উপাদান দরকার ঠিক ততটুকুই সূক্ষভাবে লেখক গল্পে তুলে ধরেছেন।
২.বেশ��� ভাল লেগেছে যেটা সেটা হল তদন্তের জন্য ব্যবহৃত কিছু টার্ম ব্যবহারের সাথে পাশে ছোট করে জিনিসটার ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে।যেমন এক জায়গায় লিখা ছিল "এনটিডি" যা পরের লাইনে সুন্দর করে ব্যাখ্যা দিয়ে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে যা বই পড়ার সময় জানতে পারবেন।এছাড়া ফিংগার প্রিন্ট তথ্যের জন্য ন্যাশানাল ডাটা বেজ চেক করা,কোল্ড কেস কি জিনিস তার ব্যাখ্যা যা এই জনরার পাঠকদের গল্প বুঝার জন্য খুবই প্রয়োজনীয় এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।
৩.নোংরা রাজনীতি, ক্ষমতার প্রতি লোভ,রাজনৈতিক কূটচাল,আমজনতা থেকে শুরু করে পুলিশ ফোর্সের অসহায়ত্ব,বিশ্বাসঘাতকতা সব কিছুর সংমিশ্রণে দেশীয় প্রেক্ষাপটে এক দুর্দান্ত মৌলিক থ্রিলার।সবকিছু এক মলাটে এখন পর্যন্ত পশ্চিমা বিশ্বের বিদেশী থ্রিলার গুলোতেই এর স্বাদ অনুধাবন করতে পেরেছি।মৌলিক গল্পে এরকম স্বাদ দেওয়ার জন্য লেখক কে একটা ধন্যবাদ।
৪.গল্পটির মধ্যে সবচেয়ে পছন্দের ক্যারেক্টর আমার হচ্ছে হায়দার আলী।হালকা একটা কোর্ট রুম ড্রামা আছে বইটিতে যেটা হচ্ছে আমার এই বইয়ের সবচেয়ে পছন্দের পার্ট।যেভাবে পুলিশ এবং প্রসিকিউটরকে ঘোল খাইয়ে আসামী কে সাজা ভোগ করার থেকে বের করে এনেছেন সেটা পড়েই আমার মাইকেল কনেলির এক বিখ্যাত চরিত্র 'মিকি হলার "এর কথা মনে পড়ে গেছে। ৫.আরেকটা পছন্দের বিষয় হচ্ছে গল্পটি তে আমার সবচেয়ে প্রিয় এক গোয়েন্দা চরিত্র এরকুল পোয়ারোর একটি বিখ্যাত লাইন "লিটল গ্রে সেল" অর্থ্যাৎ "মগজের ধূসর কোষ" ব্যবহার করতে হবে বাক্যটি রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।এই রেফারেন্স টা দেখে সত্যি দারুন লেগেছে জানি না লেখক ইচ্ছে করেই দিয়েছে নাকি গল্প বলার ছলে এসে পড়েছে।
যা ভাল লাগে নি : ১.এন্ডিং এ বেশ তাড়াহুড়ো করেই যেন খুনীকে ধরে ফেলা হল যেন খুনী বসেই ছিল ধরা খাওয়ার জন্য।এই জায়গায় খুনী কে ধরার আগে আরেকটু ফিল্ড ওয়ার্ক করে,ধরার মুহুর্তটা আরো বিস্তারিতভাবে জিনিসটা উপস্থাপন করলে দারুন হত।
২.লেখকের গল্প বলার ভংগি ছিল দারুণ। তবে বাক্য গঠনে কোন কোন জায়গায় দূর্বলতা দেখা গেছে স্পষ্টভাবে।আশা করি সামনে বাক্য গঠনে আরো পারদর্শিতা দেখা যাবে।
৩.হায়দার আলী চরিত্র টা কে আরো বিল্ড আপ করানো উচিত ছিল।খুব তাড়াতাড়ি ই যেন মেরে ফেলা হয়েছে যদিও আমার চরিত্রটা পার্সোনালি ভাল লেগেছে দেখে আমার মতামত ব্যক্ত করলাম।
কেন পড়বেন বইটি : উপন্যাসটিতে মাথা ঘোরানো টুইস্ট টার্ন নেই যদিও শেষ দিকে একটা টুইস্ট আছে তবে অনেকেই ধারনা করে ফেলতে পারেন আগেই।এটি স্লো বার্ন থ্রিলার।নিখুঁত তদন্তপ্রক্রিয়া,প্রতিটি তদন্ত প্রক্রিয়ার সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ,ফরেনসিক ডিটেইলস,পোস্টমর্টেম এসব পুলিশি কায়দায় ইনভেস্টিগেশন পড়ার প্রতি যাদের তীব্র ঝোঁক তাদের নিঃসন্দেহে দেশীয় প্রেক্ষাপটে এই মৌলিক থ্রিলার টি পড়া উচিত।
প্রচ্ছদ,বাইন্ডিং ও অন্যান্য : ১.প্রচ্ছদ টা অনেক পছন্দ হয়েছে ।হলুদের মধ্যে লাল,কালোর সংমিশ্রণে দারুন লেগেছে।দূর থেকে এক দেখাতেই দারুণ লেগেছে এবং হাতে নিয়েও একটা ফিল পেয়েছি।প্রচ্ছদ শিল্পী কে অশেষ ধন্যবাদ সুন্দর একটা প্রচ্ছদের জন্য।
২.বাইন্ডিং টা স্মুথ ছিল,টাইট বাইন্ডিং দেওয়া হয় নি। টেবিলে রেখে দুই দিকে খুলেই পড়া যায় তেমন সমস্যা হয় নি কোন।
৩.একটা ফিতা বুকমার্ক এর প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছি।থাকলে ভাল হত।
৪.বানান ভুল ছিল প্রচুর।অনেক জায়গায় "গতিবিধি" এর জায়গায় "গতবিধি" লেখা ছিল, " নিয়ে যাবে" এর জায়গায় "লিয়ে যাবে"। এছাড়া" ধরনের" বদলে "র" উঠে গিয়ে "ধনের" হয়ে গেছে প্রায় সবখানেই। এই ভুলগুলো বেশ দৃষ্টিকটু লেগেছে।
লেখক প্রথম মৌলিক থ্রিলার হিসেবে বেশ মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন।আশা করি সামনে আরো দারুণ দারুণ এই টাইপের জনরার বই আমাদের উপহার দিবেন।শুভকামনা আগামীর জন্য। রেটিং : ৪/৫
সংক্ষিপ্ত পাঠ প্রতিক্রিয়া * মৃত্যুকল্প ইশরাক অর্ণব / Ishraque Aornob মুদ্রিত মূল্যঃ২২০ টাকা বাতিঘর প্রকাশনী * ক্যাম্পাসে পাওয়া গেল একটি লাশ। সন্দেহের তীর ও সব প্রমাণাদি ইশারা করছে এক উঠতি নেতার প্রতি। গ্রেফতারও করা হলো তাকে, কিন্তু এরপরেই দ্বায়িত্বপ্রাপ্ত হোমিসাইড অফিসার অনুভব করতে লাগল-কিছু একটা ঠিক নেই। কোথাও চলছে রাজনীতির সূক্ষ মারপ্যাচ আর ষড়যন্ত্র। খুব ছোট করে বললে কাহিনী এটাই। বইয়ের ব্যাপ্তি অনুযায়ী ঠিকঠাকই আছে। ইতিমধ্যে ইশরাক অনুবাদক হিসেবে পরিক্ষিত। তবে মৌলিক উপন্যাস ভিন্ন বিষয়। সেখানে লেখনশৈলী প্রথম মৌলিক হিসেবে ভালোমতোই উতরে গেছে। সংলাপে বেশ বাস্তবধর্মক ছাপ রয়েছে। পুলিশি তদন্তের মার-প্যাচ, এক রহস্যময় আইনজীবীর কেস স্টাডি ( আমি সবচেয়ে পছন্দ করে ফেলেছিলাম এই চরিত্রটাকে) বেশ ভালোমতো সাজানো হয়েছিল। তবে আগেই জানিয়ে রাখি গল্পে সেরকম কোনো বড় টুইস্ট খুঁজতে যাবেন না। বরং রূঢ় বাস্তবঘেষা এই বইয়ে সাম্প্রতিক সময়ের রাজনৈতিক বিভিন্ন উপাখ্যান, ঘটনা-অঘটন অনেক কিছুর ছাপ পাবেন। এক্ষেত্রে বইয়ের কাহিনী বেশ সাহসীকতার সাথেই লেখা, সেটা বলতেই হয়। বাস্তবতার সাথে মিল করে টানা সমাপ্তি বলেই হয়তো শেষভাগে আক্ষেপ আর জেদ জন্মে৷ এই জেদটাই আসলে লেখকের স্বার্থকতা৷ পাঠকের আবেগে নাড়া দিতে পেরেছে- এটাই সম্ভবত যে কোনো লেখার সফলতার লক্ষণ। ইশরাকের প্রতি শুভ কামনা। প্রথম মৌলিকে বেশ ভালো একটা কাজ করেছে সে। কিছু বাক্যগঠনে পারদর্শীতা ও আরও বিস্তৃত কাহিনী নিয়ে সে আবারও ফিরে আসবে সামনে, এই প্রত্যাশা করি।
স্বতন্ত্র এমপি পদপ্রার্থী মাহমুদুল হক নৃশংসভাবে খুন হল। তদন্তের দায়িত্ব বর্তাল হমিসাইড ডিপার্টমেন্ট এর উপর। চৌকশ গোয়েন্দা জাভেদ আর তার দুই সহযোগী ফিরোজ আর সাদিয়া উঠে পরে লাগলো। তদন্তে সমস্ত সাক্ষ্য প্রমানে পাওয়া গেল ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র জোটের নেতা সান্তুর নাম। তাকে গ্রেপ্তারও করা হল। ঘটনা জটিল মোড় নিল যখন সান্তুর কেস নিল নাম করা ডিফেন্স লইয়ার হায়দার আলী যে পুলিশকে মনে করে তার প্রতিদ্বন্দ্বী। কিন্তু দুই দিন পরে পাওয়া গেল তার লাশ। কে তার খুনি? এটা কি কোন বিচ্ছিন্ন ঘটনা নাকি মাহমুদ খুনের সাথে সম্পৃক্ত? আর সান্তু কি আসলেই খুনি নাকি সে সুক্ষ ষড়যন্ত্রের শিকার?
দুর্দান্ত সব অনুবাদের পর প্রথম মৌলিকেই তাক লাগিয়ে দিয়েছেন অর্ণব ভাই। কি নেই বইটিতে? পুলিশ প্রসিডুরাল, জটিল রাজনীতির সুক্ষ চক্রান্ত, কোর্টরুম ড্রামা! দারুন! আর টুইস্ট-- শুধু একটি নয়, দু দুটি টুইস্ট আছে যা আপনাকে শিওর গুজবাম্প দিবে!
A super recommended thriller! I really enjoyed it!
লেখকের প্রথম মৌলিক থ্রিলার হিসেবে ভালো গল্প বলা যায়। তবে অনুবাদক হিসেবে আগের অনেক অভিজ্ঞতা বিবেচনা করলে গল্পের ভাষাটা একটু বেশি নবীন লেখকের মত হয়ে গেল। পুলিশ প্রসিডিউরাল হিসেবে গল্পটা যথেষ্ট ফাস্ট এগিয়েছে। গল্পের প্লট ভালো লেগেছে। কিন্তু সম্পাদনায় একেবারেই নজর দেয়া হয়নি মনে হয়েছে। বানান ভুলগুলো অনেক বেশি চোখে পড়ার মতো। কিছু জায়গার বিবরণ অতিরিক্ত লেগেছে। যেমন - ইনভেস্টিগেশন রুমের বর্ণনা কয়েকবার এসেছে এটা একবার বা একেক জায়গায় একেকাভবে বলা যেত। কিছু কথোপকথনে ইন্টারেকশন ছাড়া ওয়ান সাইডেড আলাপ বেশি মনে হয়েছে। যার জন্য মনে হচ্ছিল এখানে দুই তিনজনের আলাপ না, যে কোন একজন কাগজ দেখে পড়ছে। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে একজনকে খুনী সন্দেহ করা। তার পর মুহূর্তে অন্য একজনের সিদ্ধান্তে আসাটা আমার জোরালো মনে হয়নি। ব্যাপারটা অনেকটা আন্দাজে ঢিল ছুড়ার মত। প্রথমে মনে হল একজন, পরে আলাপের পর মনে হল আরেকজন। গল্পটা ভালো। তবে আরেকটু স্লো পেইসে - সন্দেহ, যুক্তি, প্রমাণ গুলোতে আরেকটু সময় নিয়ে আগালে আর ভালো সম্পাদনা হলে আরো ভালো হতো।
বইয়ের নাম :মৃত্যুকল্প লেখক: ইশরাক অর্নব জনরা: ক্রাইম থ্রিলার রেটিং:4/5
উপন্যাস জুড়ে ছিল টানটান উত্তেজনা, নোংরা রাজনীতির খেলা, হোমিসাইড ডিটেকটিভ গ্রুপ এর তৎপরতা এবং শ���ষে বিশ্বাসঘাতকতা আর হতাশা!যার জন্য পঙ্গু হয়ে যায় হোমিসাইড ডিপার্টমেন্ট।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের সদ্য সাবেক নেতা মাহমুদুল হকের খুন থেকে শুরু হয় ঘটনার সূত্রপাত। তার পরপরই আর একটা ,ক্রিমিনাল লইয়ার হায়দার আলীর হত্যার ঘটনা রীতিমতো তোলপাড় শুরু করে দেয় । এই হত্যাকারীকে/হত্যাকারীদের খুঁজে বের করতে কাজে লেগে পড়ে হোমিসাইড ডিপার্টমেন্টের তিন ডিটেকটিভ।
ক্রাইম থ্রিলার আমার প্রিয় জনরা। খুব ভালোভাবেই চমৎকার থ্রিলিং কাজ করেছে। হায়দার আলী চরিত্রটা বেশ ভালো লেগেছিল।সব মিলিয়ে লেখকের প্রথম উপন্যাস হিসেবে বইটি বেশ লেগেছে। লেখকের জন্য শুভকামনা রইলো।
❝Every murderer is probably somebody's old friend❞― Agatha Christie, The Mysterious Affair at Styles (Hercule Poirot, #1) - ❛মৃত্যুকল্প❜ - জাভেদ হুসেন, মহানগরের হোমিসাইড ডিপার্টমেন্টের এক চৌকশ অফিসার। ঘটনাচক্রে তাদের টিমের কাছে এসে পড়ে এক চাঞ্চল্যকর কেস। নগরের জনপ্রিয় এক নেতার লাশ পাওয়া যায় সে শহরেরই এক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে। এই কেসে তার টিমে যুক্ত হয় তারই দুই সহকর্মী সাদিয়া সামাদ এবং ফিরোজ ইকবাল। - হায়দার আলী, শহরের ডাকসাইটে এক আইনজীবী। ক্রিমিনাল লইয়ার হওয়ায় নানা ধরণের অপরাধী, পুলিশ এবং প্রশাসনের লোকদের নিয়েই তার কাজ কারবার। অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার আগে যেকোন ব্যক্তিই নিরপরাধ- এই মন্ত্রে বিশ্বাসী এই ব্যক্তির অন্যতম প্রিয় শখ কোর্টে পুলিশ বাহিনিকে নাস্তানাবুদ করা। তার কাছেই এসে পড়ে সেই চাঞ্চল্যকর কেসের বিবাদী পক্ষের আইনজীবী হওয়ার সুযোগ। - এদিকে মহানগরটির বুকে ঘটে চলছে একের পরে এক হত্যাকান্ড। যার ফলে বাঁক খেয়ে যাচ্ছে সে শহরের রাজনৈতিক হালচাল। এখন জাভেদ হুসেন আর টিম এই খুনগুলো এবং এর পেছনের রাজনৈতিক কূটচালের রহস্য কী ভেদ করতে পারে কিংবা হায়দার আলী কীভাবে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে পরে এই খেলার মাঝে তা জানার জন্য পড়তে হবে লেখক ইশরাক অর্ণবের পুলিশ প্রসিডিওরাল ভিত্তিক ক্রাইম থ্রিলার ❛মৃত্যুকল্প❜। - ❛মৃত্যুকল্প❜ বইটি মূলত পুলিশ প্রসিডিওরাল ভিত্তিক ক্রাইম থ্রিলার ঘরানার বই। এই ঘরানার সাথে বইতে কিছুটা পলিটিক্যাল থ্রিলারের স্বাদও পাওয়া যাবে। বইয়ের পটভূমি যেন আমাদের চেনা পরিচিত কোন শহর। এ ধরনের বই সাধারণত স্লো বার্ণ থ্রিলার হয়, এটাও ঠিক সে ধরণেরই বই। তবে বইয়ের ন্যারেটিভটা বেশিরভাগ সময়েই ঠিক জমলো না প্লট অনুসারে, কয়েক জায়গায় একেবারে ফ্লাট লাগলো। ন্যারেটিভের দিক থেকে আরষ্টতা কমলে হয়তো আরো ভালো লাগতো বইটা। লেখকের প্রথম মৌলিক বই যেহেতু, আশা করি সামনে আরো উন্নতি হবে লেখার এদিকটায়। - পুলিশ প্রসিডিওরাল হিসেবে ❛মৃত্যুকল্প❜ বইটির প্রধান একটি অংশই ছিলো পুলিশের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনকে ঘিরে, তাই এ বিষয়ক চরিত্রও এসেছে প্রচুর। কিন্তু এদেরকে ছাপিয়ে সবথেকে ভালো লেগেছে হায়দার আলীর চরিত্র। তাই এই চরিত্র এবং কোর্ট-কাচারির ব্যপারগুলো বইতে আরো পেলে ভালো লাগতো বেশি। আর ন্যারেটিভের মতো এই বইতে চরিত্রগুলোর ভেতরকার সংলাপেও উন্নতির জায়গা রয়েছে বলে মনে হলো। - ❛মৃত্যুকল্প❜ বইয়ের প্রোডাকশনের দিক থেকে গতানুগতিক বাতিঘর প্রকাশনীর প্রোডাকশনেই বের হয়েছে বইটি। বইয়ের প্রচ্ছদটা সামঞ্জস্যপূর্ণই লাগলো আমার কাছে। তবে বইতে সবচেয়ে বড় ঘাটতি রয়েছে এর সম্পাদনা এবং প্রুফ রিডিংয়ের জায়গায়। বেশ কিছু খুবই দৃষ্টিকটু বানান ভুল কিংবা চোখে লিপস্টিক লাগানোর মতো সম্পাদনাজনিত ভুল বিরক্তির উদ্রেক ঘটিয়েছে বইটা পড়ার সময়। আশা করি পরবর্তী মুদ্রণে আরো ভালোভাবে সম্পাদনা করে বইটি ছাপা হবে। - এক কথায়, ছোটখাট কিছু ব্যপার বাদ দিলে প্রথম বই হিসেবে লেখকের ❛মৃত্যুকল্প❜ বইটিকে আশাজাগানিয়া বলা যায়। যারা দেশীয় পটভূমিতে স্লো বার্ণ পুলিশ প্রসিডিওরাল ভিত্তিক ক্রাইম থ্রিলার পড়তে পছন্দ করেন তারা বইটি পড়ে দেখতে পারেন। লেখকের জন্য শুভকামনা রইলো, আশা করি পরবর্তীতে আরো দুর্দান্ত মানের বই আমরা পাবো তাঁর কাছ থেকে।
গল্প বলায় বেশ চমক ছিল। সাধারণত আমাদের দেশের থ্রিলার লেখকরা উত্তম পুরুষে গল্প বলে না। উত্তম পুরুষে গল্প চালিয়ে যাওয়া বেশ চ্যালেঞ্জিং। পুলিশ প্রসিডিউরাল বইগুলো সাধারণত একটু স্লোই হয়। ধ্মুমদুমার মারকাট নেই কিংবা ইঁদুর বেড়াল খেলা নেই বলে, অনেকের কাছে এই জনরার বই পড়তে গেলে সহজে বিরক্তি এসে যায়। যেহেতু ক্লু খুঁজে খুঁজে পেঁয়াজের খোসা ছাড়ানোর মতো করে কাহিনী এগোয় তাই কিছুটা ধৈর্য্য নিয়েই এই বইগুলো পড়তে হয়। আর সেখানে যদি উত্তম পুরুষ কাহিনী এগোয় লেখকের জন্য আরও চ্যালেঞ্জিং পাঠকের মনোযোগ ধরে রাখার জন্য। এই চেষ্টার জন্য লেখককে তাই সাধুবাদ জানাতেই হয়।
গল্পে পুলিশ প্রসিডিউরাল কাহিনী খুব ডিটেইলভাবে উঠে এসেছে। আমাদের দেশের আর কোন পুলিশ প্রসিডিউরাল বইতে পুলিশি কেস সলভের এতো ডিটেইল কাহিনী উঠে এসেছে বলে আমার মনে হয় না। এতো অল্প পরিসরে পুলিশ প্রসিডিউরাল কাহিনী যেভাবে বর্ননা করেছেন তাতে বুঝা যায় লেখকের হাত যখন আরও পাকা হবে, আমরা আরও দারুণ কিছু পাবো । নতুন পাঠক যারা পুলিশ প্রসিডিউরাল নিয়ে আগ্রহী তাদের জন্য উপযুক্ত একটা বই হতে পারে 'মৃত্যুকল্প'।
ছিমছাম কিন্তু দারুণ শক্তিশালী একটা দিক নিয়ে কাজ করেছেন লেখক। পলিটিক্স আর ক্রাইম আমাদের দেশে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। খুব সুন্দরভাবে গল্প ফেঁদেছেন লেখক। টুইস্টটাও বেশ কৌতূহলোদ্দীপক ছিল।
উত্তম পুরুষে গল্প বলার রিস্ক আছে। হয় অভার দ্য বাউন্ডারি না হয় ক্লিন ব্লোল্ড হতে হয়। এক্ষেত্রে লেখক ক্লিন ব্লোল্ড হয়নি। কিন্তু আবার অভার দ্য বাউন্ডারিও হাঁকাতে পারেনি। এক্ষেত্রে আমার মনে হয় মূল সমস্যা ছিল অধ্যায়ের শুরুতে বর্ণিত ফিলসফিগুলো। একটা মানুষ সারাদিন ফিলসফি চিন্তা করতে পারে না। গল্পের প্রতিটা চরিত্রকেই ফিলসফিক্যালি চিন্তা করে। এটা ঠিক খাপ খায়নি। এখানেই উত্তম পুরুষের বর্ননা কিছুটা কেঁচে গেছে। নাহলে সব ঠিক ছিল।
ক্যারেক্টার আরেকটু সময় নিয়ে বিল্ডআপ করলে ভালো হতো। সবকিছু খুব ফাস্ট ফরোয়ার্ড হয়ে যাচ্ছিল।
বই হিসাবে 'মৃত্যুকল্প' পড়ার জন্য আমি রেকমেন্ড করবো। এরকম ডিটেইলস পুলিশি কার্যকর্ম আর কোন কপ থ্রিলারে পাঠক পাবে না। টুইস্ট যা ছিল সেটা দেওয়ার জন্য গাটস লাগে। কাহিনীও বেশ সুন্দর। পাঠকের জন্য বইটা একটা প্যাকেজ।
বইটি ভালো লেগেছে। গল্পটির প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত বেশ ভাল গতিশীল ছিল। যার জন্য একটানা পড়েছি। সামাজিক বাস্তবতা বেশ দৃঢ়ভাবে ফুটে উঠেছে গল্পটিতে। আমার কাছে সবথেকে ভালো লেগেছে অর্ণব ভাইয়ের সুখপাঠ্য লেখা এবং বইটির শেষের দিকের মারাত্মক টুইস্ট। যারা মিস্ট্রি ও পুলিশ প্রসিডিওরাল থ্রিলার পড়তে পছন্দ করেন তাঁদের জন্য বইটি রিকোমান্ডেড রইল।
লেখকে��� প্রথম মৌলিক হিসাবে বেশ ভালো ছিল। একটু স্লো গল্প, কিন্তু পড়তে ভালোই লেগেছে। কিছু জিনিস যেমন ডিটেইলস একটু কম রাখলে, আসল রহস্য আরেকটু আগে সমাধান হলে, আরো ভালো হত। তাও, প্রথম বই হিসাবে যথেষ্ট ভালো ছিল, লেখকের জন্য শুভকামনা 😁
বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে আবিষ্কৃত হল একটি মৃতদেহ। নিহতের পরিচয় জানা-মাত্র উত্তাল হয়ে উঠল দেশ। রীতিমতো চাপে থাকা হোমিসাইড বিভাগ ফরেনসিক তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে গ্রেফতার করল একজনকে। কিন্তু তার রক্ষাকর্তা হয়ে এগিয়ে এল এক ধুরন্ধর আইনজীবী। ছাড়া পেল অভিযুক্ত। তারপর খুন হয়ে গেল সেই আইনজীবী! কী ঘটছে এখানে? যা দেখা যাচ্ছে, সেটাই কি সত্যি? নাকি আসল রহস্য লুকিয়ে আছে কিছু সংখ্যা আর সন্দেহের আড়ালে?
সমকালীন রাজনীতি, পুলিশ প্রোসিডিওরালের পদ্ধতি ও প্রকরণ, আর কাল্পনিক হয়েও ভীষণভাবে সম্ভাব্য একটি ঘটনাক্রম— এই নিয়ে গড়ে উঠেছে এই উপন্যাসটি। বেশ গতিময় লেখা; চরিত্রচিত্রণও বাস্তবানুগ। তবে দু'টি বিষয় অপছন্দ হল~ প্রথমত, বানানের শ্রাদ্ধ করার পাশাপাশি লেখক গদ্যের ক্ষেত্রেও অপ্রমিত, প্রায় ফেসবুকীয় রীতিকে অত্যধিক প্রাধান্য দিয়েছেন। এতগুলো অনুবাদ করে ফেলা একজন লেখকের কাছ থেকে আরও গোছানো ও প্রমিত লেখা আশা করেছিলাম। দ্বিতীয়ত, উপন্যাসটিতে কিছু-কিছু জিনিস বড়ো বেশি করে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেওয়া হয়েছে— যা ক্রিস্টির অনুরাগী এক লেখকের হাতে বেশ মোটা দাগের কাজ বলে মনে হয়েছে।
পরবর্তী লেখায় লেখক কী-ধরনের রহস্য ও অনুসন্ধানের সঙ্গে আমাদের আলাপ করিয়ে দেবেন, তা জানতে আগ্রহী হয়ে রইলাম।
যেসব কারণে একটা কেসকে সমাধানের অযোগ্য বলে মনে হয় ঠিক সেসব কারণেই ওই কেসটা সমাধান করা উচিত। বিখ্যাত লেখক এডগার অ্যালান পো’র কথাটা আমি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করি ও মেনে চলি। একটা কেসের সমাধান যতই অসম্ভব মনে হোক না কেন, এরমধ্যে নূন্যতম হলেও কিছু একটা থাকে যার সূত্র ধরেই পৌঁছানো যায় সমাধানে। পারফেক্ট ক্রাইম ডাজন্ট একজিস্ট। স্নায়ু যতই শক্ত হোক অথবা যতই সতর্ক থাকুক, অপরাধী অপরাধের সময় বিন্দু পরিমান হলেও ক্লু ফেলে যাবেই। তবে সেই ক্লু চোখে পড়া লাগবে তদন্তকারীর। কিন্তু সমস্যাটা হল মাঝেমধ্যে ওই ক্লু এতই ক্ষুদ্র হয়, আমাদের চোখেই পড়ে না। তখন আমরা ওই অপরাধকে পারফেক্ট ক্রাইম ট্যাগ দিই।
নিজের বইকে পাঁচতারা দিয়ে ফেললাম বলে স্যরি বাট নো স্যরি। দুনিয়ার হাজারো বইয়ে রেটিং-রিভিউ দিলেও আজ লক্ষ করলাম এই বইয়ে কখনোই রেটিং-রিভিউ দেয়া হয়নি। বছরের শেষদিকে শুভকাজটা সেরে ফেললাম। বইটা যেমন-ই হোক, সবসময়ই আমার কাছে বিশেষ দুইটা কারণে। প্রথমত, এটা আমার প্রথম মৌলিক উপন্যাস। দ্বিতীয়ত, লেখাটা পুরোপুরি উপভোগ করেছি। রিকমেন্ড করব কিনা? যারা পুলিশ প্রসিডিওরাল/মার্ডার মিস্ট্রি পছন্দ করেন, তাদের ভালো লাগার সমূহ সম্ভাবনা আছে। শুধু এটুকুই বলতে পারি।
ইশরাক অর্নব ভাইয়ের অনুবাদ গুলো থেকেই ভাইয়ের বই গুলো ভালো লাগতো। প্রথম মৌলিক বই হিসেবে বইটি ভালোই লেগেছে। হু ডান ইট ব্যাপারটা কে আরেকটু ভালো করে ফুটিয়ে তুলতে পারলে ভালোই হত ।
কিছুটা ভূমিকার প্রয়োজনবোধ করছি। ইশরাক অর্ণব অনুবাদক হিসেবে পরিচিত নাম। "মৃত্যুকল্প" তাঁর প্রথম প্রকাশিত মৌলিক কাজ বলে জানি। ভদ্রলোককে ব্যক্তিগতভাবে চিনি, তারপরেও সব ধরনের পক্ষপাত এড়িয়ে প্রতিক্রিয়া জানানোর প্রচ্ছন্ন চেষ্টা থাকবে আমার। ১৯০ পৃষ্ঠার বইয়ে বেশ কিছু ব্যাপার তুলে এনেছেন ইশরাক: খুনের তদন্তের বিস্তারিত বর্ণনা, ফরেনসিক বিভাগের কার্যক্রম এবং নোংরা রাজনীতি। এককথায় যদি বলি, বলতে হবে বইটা উপভোগ্য ছিল। কাহিনী একটা সাবলীলতা ধরে এগিয়ে গিয়েছে। যারা ডায়লোগপ্রধান গল্প পড়ে অভ্যস্ত, তাদের ভালো লাগবে কি না বলতে পারছি না। ডায়লোগের তেমন আধিক্য নেই, বেশ কয়েকটা অধ্যায় শুরু হয়েছে কোনো এক চরিত্রের দার্শনিক মতবাদ বা দৃষ্টিভঙ্গির বর্ণনা থেকে। আমার কাছে খারাপ লাগেনি। দুটো ব্যাপারের সাথে একাত্মবোধ করতে পারিনি। প্রথমত, বাক্যে সর্বনাম এবং বিশেষ্য-র ভারসাম্য। অল্প কিছু জায়গায় সর্বনাম এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে একপ্রকার। সেটা অবশ্য একদমই সামান্য। দ্বিতীয়ত, উদ্ব্যক্তি প্রকাশের জন্য "-ই" এর অতিব্যবহার। এই ব্যাপারটা এতই প্রকট ছিল যে একপর্যায়ে এটাকে আমি লেখকের সিগনেচার বা স্বাক্ষর হিসেবে মেনে নিয়েছি। ব্যক্তিগত উদ্যোগে অধ্যায় ২০ এর প্রথম পৃষ্ঠা বা বইয়ের ৯৪ পৃষ্ঠায় একটা জরিপ চালিয়েছি। ঐ পৃষ্ঠাতেই "-ই" এর ব্যবহার আছে মোট ৭ বার। একটা বাক্য আছে "পুরোটা দিনই ছুটির দিনের আমেজেই কাটিয়েছি।" তবে এই বিষয় দুটো বইয়ের থ্রিল আস্বাদনের পথে আমার জন্য বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। তথ্য সংগ্রহের কাজে বেশ খেটেছেন লেখক এবং সেটা প্রকাশ পায় তার লেখায়। আমি যে দুটো জায়গার কথা বললাম, তা একদম আতশকাঁচের নীচে ফেলে বের করতে হয়েছে। ইংরেজিতে যাকে বলে nitpicking। মোটাদাগে বইটা বেশ ভালো নম্বরের সাথে উতরে যাবে। একদম মূল কাহিনী এগিয়েছে কিছু খুনের তদন্তকে ঘিরে। "মার্ডার মিস্ট্রি" নিয়ে সম্প্রতি অনেক কাজ হয়েছে, এখানে ভিন্ন কিছু বের করা আনাটা প্রায় অসম্ভব আমার মতে। লেখক এখানে আমার আগ্রহকে ধরে রেখতে পেরেছেন। অবশ্যই বাহ্বা প্রাপ্য তাঁর৷ সুন্দর সাবলীল কাহিনীর মার্ডার মিস্ট্রি যদি পড়তে চান, "মৃত্যুকল্প"-কে একটা সুযোগ দিয়ে দেখতে পারেন।
মৃত্যুকল্প লেখক এর প্রথম বই হলেও বই শেষ এ টুইস্ট টা বেশ চমৎকার ছিল। বলতে গেলে কাহিনীর পুরো মোড় ঘুরে গেছে এই টুইস্ট এই । বই টা বেশ ফাস্ট ই ছিল । অসাধারণ না বলা গেলেও দারুন তো বলা যায়
এক কথায় পুরো গল্পটাতেই ছিল টান টান উত্তেজনার। প্রতি মূহুর্তে বদলে যাচ্ছিল দৃশ্যপট। সামনে আসছে নতুন ক্লু, ঘটনা মোড় নিচ্ছে একেবারেই ভাবনার বাইরে নতুন কোন দিকে। লেখক তার লেখনিতে গল্পের নায়ক ও খুনির যে চরিত্র ফুটিয়ে তুলেছেন এক কথায় অসাধারন। গল্পে পটভুমিতে যে শহরটার বর্ননা দেয়া হয়েছে সেটার নাম লেখক উল্লেখ না করলেও সেই শহরের বাসিন্দা হিসেবে আমি নিজেকে সহজেই রিলেট করতে পেরেছি। তাই গল্পের ঘটনাপ্রবাহ আমার কাছে আরো জীবন্ত হয়ে উঠেছে। লেখকের শব্দচয়ন আধুনিক ও মানানসই। লেখনশৈলি চমৎকার। বলে না দেয়া হলে কেউ হয়ত বুঝতেই পারবে না এটা লেখকের প্রথম মৌলিক উপন্যাস। গল্পের শেষের দিকে খুনির পরিচয় প্রকাশের সময় যে টুইস্টের সম্মূখিন হয়েছি আসলেই চমকে গেছি। এইজায়গাটায় লেখক একটা নতুনত্ব এনেছেন। সাধারনত থ্রিলার গল্পগুলোতে আমরা অপরাধি কে যেমনটা দেখে আসি এই গল্পের অপরাধী তেমন গতানুগতিক কেউ না। বিষয়টা আমার মতো অন্যান্য পাঠকদেরও চমকে দেবে।
রাজনৈতিক পটভূমিতে পুলিশ প্রসিডিওরাল খুনের গল্প 'মৃত্যুকল্প' বইটি যা লেখকের প্রথম একক মৌলিক বই। যেখানে লেখক রাজনৈতিক কূটচাল, পুলিশি তদন্ত, অল্প কোর্ট রুম থ্রিলারকে এক মলাটে বন্দি করেছেন।
লেখক বইটিতে গল্পকে দুটো ভাগে উপস্থাপন করেছে যার একভাগ উঠে এসেছে হোমিসাইড ডিটেকটিভ জাভেদ হুসেনের মাধ্যমে যা উত্তমপুরুষে লেখক গল্প বর্ণনা করেছেন এবং বাকি চরিত্রগুলোকে অন্য ভাগে।
গল্পের শুরু হয় একটা খুন দিয়ে, রাজনৈতিক খুন। তারপর একে একে দৃশ্যপটে আসতে থাকে সান্টু, সাবেক মেয়র মারুফুল ইসলাম, ল'য়ার হায়দার আলী'সহ অনেকে।
সামগ্রিকভাবে গল্পটা চমৎকার পিউর পুলিশ প্রসিকিওরাল, সিসিটিভি, টায়ার থিউরী, ইমেজ ক্লিয়ার ইত্যাদি বিষয়কে চমৎকার ভাবে উপস্থাপনের মাধ্যমে লেখক গল্পের ইতি টেনেছেন। তবে গল্পের প্রথমদিকে লেখকের গল্প বর্ণনা অনেক দূর্বল লেগেছে, বিশেষ করে প্রথমদিকে সর্বনাম হিসেবে 'ও' এর ব্যবহারটা পারফেক্ট লাগেনি, এক্ষেত্রে 'তার/সে' শব্দ ব্যবহার করা যেতো, কিংবা 'আগন্তুক' ও বলা যেতো। প্রথমদিকে লেখনশৈলী দূর্বল লাগলেও কিছুদূর আগানোর পর আর তেমন লাগেনি।
লেখক রাজনৈতিক কূটচাল, দলীয় দন্দ, ক্ষমতার লোভ, ব্যক্তিগত স্বার্থ ইত্যাদির সত্য-মিথ্যের মিশেলে গল্পের জন্য যে আবহা তৈরি করেছেন তা সত্যি প্রশংসনীয়। সেই সাথে অন্যান্য চরিত্রের পাশাপাশি লয়ার হায়দার আলীকে আমার কাছে সবথেকে বেশি ভালো লেগেছে, যদিও মনে হয়েছে তাকে খুব তাড়াতাড়িই দৃশ্যপট থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
গল্পের শেষভাগে এসে লেখক যেভাবে ইতি টেনেছেন তা আমার কাছে চমকপ্রদ মনে হয়নি। বরং মনে হয়েছে সমাপ্তিটা তাড়াহুড়ো ভাবে হয়ে গেছে, আইনজীবীর খুনের পিছনের মোটিভ আরো ক্লিয়ার এবং শক্ত হওয়া উচিত ছিলো। ফাইনাল খুনিকে গ্রেফতারের ক্ষেত্রে ক্লুগুলো লেখক ধোঁয়াশায় রেখেছিলেন। কিন্তু সাধারণত পুলিশ প্রসিকিওরাল থ্রিলারের ক্ষেত্রে আমরা দেখি ক্লু আগে থেকেই চোখের সামনে থাকে, আর শেষে এসে লেখক যখন দুইয়ে দুইয়ে চার মিলান, তখন আমরা পাঠকরা চমকে উঠি, এক্ষেত্রে সেটি হয়নি।
পরিশিষ্ট, বইটা আমার কাছে মোটামুটি ভালোই লেগেছে, লেখকের প্রথম মৌলিক হিসেবে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি পরিপক্ব লেখা পেয়েছি, তবে এখনও অনেক জায়গায় দূর্বলতা রয়ে গেছে যা আশাকরি লেখক ভবিষ্যতে কাটিয়ে উঠতে পারবেন, এবং আমাদের আরো চমৎকার কিছু লেখকের নিজস্ব বইয়ের সাথে পরিচয় করিয়ে দেবেন। লেখকের জন্য শুভকামনা রইলো।
কে বলবে এটা লেখকের প্রথম বই! লেখন শৈলী আর কাহিনীর বুনন অসাধারণ লেগেছে। আর টুইস্ট- সে আর বলতে!! পুলিশ প্রসিডিওর জনরায় কাহিনী লেখা স্বার্থক। পুরোটা জুড়েই "তদন্ত প্রক্রিয়া" মূল অংশ ছিলো। কোথাও স্লো বা ফাস্ট-ফরওয়ার্ড মনে হয়নি, মসৃণ ভাবে এগিয়েছে কাহিনী। বইয়ে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতির যে বাস্তব চিত্র তুলে ধরেছেন লেখক, তা করতে যথেষ্ট সাহসের প্রয়োজন। একজন নাগরিকের দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। সেই সাথে ছাত্র রাজনীতি, আদালত পাড়া, আইন শৃংখলা বাহিনীগুলোর অভ্যন্তরীণ গোপনীয়তা, ক্ষমতার লিপ্সা সবকিছুরই ঝলক দেখা পাবে পাঠক।
দুই/একটা ভুল যে ছিলোনা তা না। কিছু সম্পাদনাজনিত ভুল চোখে পড়েছে । যেমন: ৫১ পৃষ্ঠায় থার্ড পার্সনে কাহিনী চলছে, হঠাৎ করে একটা বাক্যে "আমরা" বলা হলো। ৫৩ পৃষ্ঠায় সাক্ষী তার সাক্ষ্য শেষ করে বলছে, "আমার সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হলো", অথচ শব্দটা হবে "সাক্ষ্য প্রদান"। ৮৩ পৃষ্ঠায় শব্দের ভুলে পাঠক হেসে ফেলবে নিশ্চিত! লেখা-"চোখে হালকা শেডের লিপিস্টিক" (!) প্রথম দিকে বেশ কয়েকটা অধ্যায়ের শুরুই হয়েছে গাড়িতে জ্যামে/গাড়ি পার্কিং/গাড়িতে বসে রেকি এসব দিয়ে। প্রতিবার অধ্যায়ের একই ধরনের শুরু একটু একঘেয়ামি আনে। লেখক পরবর্তী বইয়ে এগুলোতে লক্ষ্য রাখবেন আশা করি। মূল চরিত্র ডিটেক্টিভ জাভেদের পারিবারিক এবং জীবনযাপনের ব্যাকগ্রাউন্ডে কিছু তথ্য দিলে আরেকটু ভালো হতো। পাঠক চরিত্রটাকে "পরিচিত ব্যক্তি" ভাবতে সক্ষম হতো। হায়দার আলী, ফিরোজ, সলিমুল্লাহ, সাদিয়া চরিত্রগুলো আমার ভালো লেগেছে । সেই সাথে সঠিক সময়ে চরিত্রগুলোর উপস্থাপন এবং কথোপকথন যথার্থ ছিলো।
টুকটাক ভুল বাদ দিলে খুবই সুখপাঠ্য একটা বই। লেখকের পরবর্তী বইয়ের অপেক্ষায় থাকবো এবং চোখ বন্ধ করে যে নিয়ে নিবো সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না...
প্রথমেই বলবো নেগেটিভ দিকটা নিয়ে।স্টোরির থেকেও যে বিষয়ে অনেক হতাশ হয়েছি- তা হলো গদ্যের ন্যারেশনে। একটা ভালো মার্ডার মিস্ট্রি উপন্যাসের বৈশষ্ট্য -একাডেমিক থেকে রেফারেন্স ধার না করেও বলা যায়-চ্যাপ্টারের পর চ্যাপ্টারে থাকবে টানটান উত্তেজনা,এরপর কি হয় কি হয় একটা ব্যাপার,থাকবে ব্রেইন স্ট্রমিং-কে হতে পারে খুনী তা নিয়ে একটা খেলার সুযোগ- যা আমি "মৃত্যুকল্পে" সেভাবে খুজে পায়নি(এটা আমার পার্সোনাল পারস্পেক্টিভ ও হতে পারে কিংবা নিজে মিস করে গেছি হয়তো।)মার্ডার মিস্ট্রি উপন্যাসে আরেকটা জিনিস যেটা প্রয়োজন হয় বোধহয়- সেটা বিশ্বাসযোগ্যতা।যেমন- খুনির খুন করার সঠিক কারণ!এছাড়াও উপন্যাসের চরিত্র গুলোর বিল্ডআপে যথেষ্ট ঘাটতি লেগেছে।যেমন গল্পের শুরুতে একজন খুনীকে যেভাবে পোর্ট্রেইট করা হয়েছে, ফিনিশিং ততটাই দুর্বল লেগেছে। এটা নিয়ে আরো বললে হয়তো স্পয়লার চলে আসবে।আবার উপন্যাসের চরিত্রগুলোর সংলাপ আমার কাছে অনেক সময়ই বোরিং লেগেছে,যথাযথ ও মনে হয়নি।
তারপর ও আমি বলবো এটা থ্রি পয়েন্ট ফাইভ দেয়ার এবং সময়কাটানোর মতো ভালো স্টোরির বই।ঈশরাক ভাইয়ের প্রথম মৌলিক মৃত্যুকল্প।তার ভালো ভালো অনুবাদগুলো ও পড়া হয়েছে। মার্ডার মিস্ট্রির সাথে পলিটিক্যাল ব্যাপারগুলো নিয়ে আসার ব্যাপারটা আমার ভালোই লেগেছে।তৎকালীন সরকারের আমলের দুঃশাসনের কিছু চিত্র -কিভাবে একটি দেশের সরকার সরকার কন্ট্রোল করে ফেলতে চায় তদন্ত,পুলিশ,প্রশাসনের সংস্থাগুলো।উপন্যাসের আরেকটি ভালো দিক হলো- বাড়তি মেদ একবারেই মনে হয়নি,অনেক কম সময়েই প��়ে ফেলা যায়।
তাৎক্ষণিক ও সংক্ষিপ্ত পাঠ প্রতিক্রিয়া — ❝মৃত্যুকল্প❞ by ইশরাক অর্ণব
একটা বই-ই পড়লাম অনেকদিন পর, একটানা। মৃত্যুকল্পের সাথে বেশ ভাল সময় কাটলো এই দুইদিন। গল্প যে ভাল লেগেছে, তা বলাই বাহুল্য।
কার রিভিউতে যেন বইটা স্লো পেইসড বলা হয়েছিল দেখে একটু ভয়ে ছিলাম, কারণ আমার কাছে স্লো লাগলে এই পাতলা বই পড়তে এক সপ্তাহ লেগে যেত, তা হয়নি, বরং একটানা পড়ে ফেলেছি। পাতায় পাতায় টুইস্ট নেই, কিন্তু আমার মনোযোগ ধরে রাখতে পেরেছে একেবারে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত।
বইয়ের শেষটায় এসে রহস্য সমাধান হয়েছে, কিন্তু সেইসাথে এক ধরনের হতাশা মনকে আচ্ছন্ন করে ফেলেছে। মনে হচ্ছে, "সব রহস্যের সমাধান আনন্দদায়ক নয়।"
রাষ্ট্রযন্ত্রের এই অসঙ্গতিগুলো আমরা প্রতিনিয়ত দেখি, তারপর চোখ বুজে থাকি, যেন আমরা কল্পনায় যেই দেশে বাস করি, সেখানে সবকিছু সুন্দরভাবে চলে। কিন্তু সেই সমস্যাগুলো গল্পে গল্পে পড়লে আপনার একটু হলেও খারাপ লাগবে, আর আমি মনে করি এখানেই লেখকের সার্থকতা। আমি জানিনা তিনি আসলেও কোন বার্তা দিতে চেয়েছেন কিনা, যদি চেয়ে থাকেন তো আমার ক্ষেত্রে এই জায়গাটায় তিনি সফল হয়েছেন।
সুন্দর গল্পটার বানান ভুলগুলো আরেকটু কম হলে ভাল হতো 😞 এছাড়া এক জায়গায় বোধহয় সময় বর্ণনায় ভজঘট লেগেছে 😬
যাইহোক, প্রথম মৌলিক পড়ে প্রত্যাশার পারদ উপরে উঠেছে বৈ কি। সামনে আরো ভাল গল্পের আশায় থাকতেই পারি, তাই না? আমার মতে, লেখক ইতোমধ্যে উদীয়মান থ্রিলার লেখকদের কাতারে ঢুকে গেছেন!
একটি খুন এবং সেটার তদন্ত করতে গিয়ে আরও একটা খুন। পুলিশ প্রসিডিওয়াল থ্রিলার। দ্রুত গতিতে গল্প এগিয়েছে। অধ্যায় গুলো ছোট ছোট, বোরিং হইনি। যে ২টা খুনের তদন্ত নিয়ে কাহিনি তার মধ্যে প্রথম খুনের খুনি কে তা অনেকটা বুঝে গেছিলাম। মেলেনি তবে অনুমান কাছাকাছি। খুনি কে, এই টুইস্ট ছাড়া আর তেমন কোনো টুইস্ট ছিল না। 'নোংরা রাজনীতি'র ওসব বিষয়ে অবাক হওয়ার মত কিছু খুঁজে পাইনি। লিখনী খুব একটা খারাপ না তবে কিছু লাইন একটু আলাদা ভাবে প্রকাশ করলে ভালো হত...সব মিলিয়ে অন-টাইম রিড হিসেবে ভালোই। প্রথম বই হিসেবে মোটামুটি ভালো কাজই ছিল। শুভ কামনা..।
P.R: 3.25/5 রহস্য ছিল, টুইস্ট ছিল তবে গতি কিছুটা ধীর ছিল। অনেককিছু থেকেও কেনো জানি কি নাই নাই লাগছিলো। মনে হল তরকারিতে মাল-মশলা সবই ছিল কিন্তু লবণ অনেক কম হয়ে গেছে। Overall, it won't be a waste of your time but not "highly" recommended.
করোনা পরবর্তী সময়ে একটি বই বেশ নজর কেড়েছিলো আমার। তার উপর লেখক এবং অনুবাদক কাউকেই চিনি না তখনও। কিন্তু প্রচ্ছদে গথিক টাচ এবং সাথে অজানা এক আকর্ষণের কারণে পড়েছিলাম " হোম বিফোর ডার্ক " যেভাবে এক্সপেক্ট করেছিলাম আদৌতে বইটি ঠিক সেরকমই ছিলো। এরপর আজ অনেক বছর পর এই বইমেলায় কিনেছিলাম মৃত্যুকল্প। যা সেই অনুবাদকের প্রথম মৌলিক। এর আগে " দেয়ালে তাদের ছায়া তবুও " পড়েছি যা আমার আশানুরূপ ভালো লাগেনি কিংবা আমিই হয়তো বুঝতে পারি নি ঠিকভাবে তবে বইটি পড়ে যেতে পেরেছিলাম সহজেই। এরপর এই মৃত্যুকল্প..
ফ্ল্যাপ পড়ে আমি অন্য সাধারণ ডিটেকটিভ থ্রিলারগুলোর মতোই ভেবেছিলাম। মাথায় এটাও ছিলো যে পলিটিক্যাল থ্রিলার হবে। কিন্তু বই শুরু করার পর ধারণা কিছুটা পরিবর্তিত হতে থাকে। সবকিছু বলছি একে একে তবে এই বইয়ের সবচেয়ে স্ট্রং পজিটিভ যে বিষয়টা আমার মনে হয়েছে তা হলো তদন্ত প্রক্রিয়া! একদম সলিড বাস্তবিক। অনেক বইয়ের ক্ষেত্রে গল্প,চরিত্র প্রাধান্য পেলেও তদন্ত প্রক্রিয়ার বিচারে বইগুলো পিছনে পড়ে যায়। অনেক সময় উপেক্ষাই করি কারণ গল্প এবং চরিত্রগুলোই পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা এগিয়ে নিয়ে যায়। তবে এখানে চরিত্রগুলো ইন্টারেস্টিং হলেও গল্পটা সাধারণ মনে হয়েছে আমার কিন্তু যে কারণে বইটা ভালো লেগেছে তা হলো তদন্তের খুটিনাটি বেশ গুছিয়ে বলা। অনেক বই বা সিনেমায় চরিত্রগুলো ক্লু কেমন যেনো কাকতালীয়ভাবে পেয়ে যায় অথবা তা বাস্তবিক মনে হয় না। এখানে উক্ত বিষয়গুলো খুব দারুণভাবে সামনে আসে এবং সলভ করার বিষয়গুলোও ঠিকঠাক। তবে এই ক্ষেত্রেও নেগেটিভ থাকবেই কেননা এটা ফিকশন.. বাস্তবে যেখানে একটা বিষয় আমাদের ভুলের বা হেয়ালির কারণে চাপা পড়ে যায়। সেখানে এই ক্ষেত্রে তো সত্যকে উঠে আসতেই হবে না হলে কিসের ফিকশন *_*। তারপরও বলবো আমার কাছে সবচেয়ে মেমোরেবেল থাকবে বইয়ের তদন্তের শেষাংশ এরপর হায়দার আলী..
কারণ বই পড়ার শুরু থেকেই আমার মনে হচ্ছিলো এই উকিলই প্রধান চরিত্র কিংবা দ্বিতীয় প্রধান চরিত্র। একটুপরই হয়তো বইটা কোর্টরুম ড্রামায় শিফট করবে কিন্তু তা হয় নি উলটো স্পয়লার না দিলে এরপরের ঘটনায় আমি বাস্তবে ফিরে আসি। তখনই খেয়াল হয় যে উত্তম পুরুষে আরেকদিকে গল্প হলা হচ্ছে তা বাদ দিয়ে উকিল কেনো প্রধান হবে? বড়ই বিচিত্র আমি, বই পড়তে গিয়েও ওভারথিংকিং এর চক্করে আটকা পড়ছি :")। যাই হোক এরপর গল্পের কিছু টুই্যস্ট এন্ড টার্ন সব মিলিয়ে খুব ফাস্ট পেসড হয়ে বই এগিয়ে যায় এবং শেষও হয় খুব সুন্দর ভাবে। বলা যায়, যেভাবে এক্সপেক্ট করেছিলাম অনেকটা সেভাবেই। তবে শেষে অন্যান্য বইগুলোর মতো প্রধান চরিত্রের হিরোইজিমকে শো করেননি লেখক বাস্তবিক রেখেছেন। যার কারণে বইটি আরো ভালো লাগে। যদিও একদম শেষ পেজে চরিত্রের জীবন ঝুঁকির কীর্তি দেখা যায় তবুও বলবো পার্ফেক্ট এন্ডিং ছিলো। আর এখানেই আমার কাছে একটা বিষয় নেগেটিভ মনে হলো..
প্রধান চরিত্র গল্প বলে গেলেও তার সাথে ঠিকভাবে কেনো যেনো কানেক্ট করতে পারি নি। তার ব্যক্তিগত আরেকটু স্পেস হলে ভালো হতো৷ তাছাড়া সবকিছু ভালো এবং মাঝেমধ্যে কিছু বিষয়ের রেফারেন্স ভালো লেগেছে৷ তাছাড়া ইস্টার এগস হিসেবে রেসলার জন সিনাও ছিলেন বইতে 🤓। আর হ্যাঁ বইটা পড়ার শুরুতে আগাথা ক্রিস্টির মার্ডার অফ দ্য রোজার একরয়েডের রেফারেন্স আসায় ভেবেছিলাম শেষটা যদি আবার ওরকম হয়?...তার উপর প্রধান চরিত্র গল্প বলছে যেহেতু...🤨 কিন্তু না, তা হয়নি। তবে শেষটা ভালোই ছিলো এবং শেষ করার পর আমার একটি চলচ্চিত্রের কথা মনে পড়ে। যেখানে শেষের পূর্বে সব রিভিল হওয়ার দিকটা কিছুটা একই কিন্তু প্রেক্ষাপট, গল্প, চরিত্র সব আলাদা উভয়ে। সর্বোপরি অনেকদিন পর ডিটেকটিভ ফিকশন পড়ে ভালো লাগলো। যদিও বইটা অন্যান্য মার্ডার মিস্ট্রির মতোই কিন্তু এখানে পার্থক্য হলো শেষে প্রোটাগনিস্টের জয় হয় না জয় হয় বাস্তবতার। জিতে যায় তারা.. আর এজন্যই হয়তো বইটা এক্সপেক্টেশন থেকে বেশি ভালো লাগলো। কিন্তু আমি বাসি অনুভূতি জানাচ্ছি, তাজা জানাতে পারলাম না হয়তো তখন আরো কিছু বিষয় তুলে ধরতাম। কারণ বইটা পড়ার পর আজ অনেকদিন হলো লিখতে বসেছি। পরিশেষে তাই বলতে চাই যারা তদন্ত ন��র্ভর ডিটেইলিং এ���ং বাস্তবিক ফিকশন খুঁজছেন তাদের অবশ্যই পড়া উচিত বইটি।