‘উন্নয়ন বিভ্রম’ গ্রন্থে জিয়া হাসান বাংলাদেশের বিগত দশকের জিডিপির রেকর্ড প্রবৃদ্ধির বয়ানের অন্তরালে মন্দা, চোষণ ও পাইকারি হারে তথ্য বিকৃতির না-বলা একটি ইতিহাস তুলে ধরেছেন। ২০১০-এর শেয়ার বাজার, এমএলএম ও আবাসন খাতের বাবল সৃষ্টির সময় থেকে লেখকের বিশ্লেষণের শুরু। ক্রম ধারাবাহিক এই বিশ্লেষণে বাবলগুলো চুপসে যাওয়ার পর ২০১৩-১৪ পর্যন্ত লুকিয়ে রাখা একটি মন্দা, ২০১৪-এর রাজনৈতিক বন্দোবস্ত পরিবর্তনের পর ঋণ ও চোষণভিত্তিক ভোগ-ব্যয়ের উত্থান, ২০১৯-এর তারল্য সংকটে সেই উত্থানের যতিচ্ছেদ, কোভিডকালীন সময়ের আরেকটি লুকোনো মন্দাসহ অর্থনীতির বিবিধ গুরুত্বপূর্ণ বাঁককে— অব্যাহত উন্নয়নের বয়ানের বাইরে গিয়ে বাণিজ্যচক্রের উত্থান-পতনের ভিত্তিতে নতুন একটি ট্রাজেক্টরিতে উপস্থাপন করেছেন লেখক। তিনি দেখিয়েছেন, ২০২২ সালে এসে অস্বাভাবিক সরকারি ব্যয়বৃদ্ধি, ফেরত দেওয়ার বাধ্যবাধকতাহীন ঋণ, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল ও অল্প কিছু পরিবারকেন্দ্রিক টাইকুনদের হাতে বাংলাদেশের আগামী দশকের উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের যে প্রত্যাশা সৃষ্টি করা হয়েছে সেই পরিকল্পনা অত্যন্ত ভঙ্গুর ও উন্নয়ন অর্থনীতির মৌলনীতির সাথে সাংঘর্ষিক। লেখকের মতে, এই ভঙ্গুরতাগুলো অর্থনীতিকে একটি অনিবার্য সংকটের দিকে নিয়ে যাচ্ছে।
বইটিতে লেখক, বাংলাদেশের ২০১০ সাল হতে ২০১৬ সাল পর্যন্ত অর্থনীতির বিভিন্নদিক গবেষণা আকারে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত দিয়ে, সংবাদসম্মেলন বা মিডিয়ার মধ্যে প্রকাশিত বাংলাদেশের উন্নয়নের আড়ালে লুকায়িত চিত্র গুলো তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। বইটির নির্ভরতা বা যথার্থতা বৃদ্ধি করেছেন টেবিল এবং গ্রাফিকাল ডাটাগুলো, যা বিভিন্ন পত্রিকার খণ্ডিত অংশ। বিজনেস ব্যাকগ্রাউন্ডের ছাত্র হিসেবে, বাংলাদেশের ঢাকা এবং চট্টগ্রাম শহরকেন্দ্রিক অবকাঠামোগত উন্নয়ন, আর কিছু মেগা প্রজেক্ট নিয়ে বিগত আওয়ামী সরকার, সমগ্র বাংলাদেশের উন্নয়ন বলে যে ফাঁকা বুলি আওড়াত তার কিছু ধারণা রয়েছে। জিয়া হাসান বইটিতে চারটি বুম/বাবল নিয়ে আলোচনা করেছেন, কেন তা হঠাৎ বাবল আকারে ফুলে উঠে, আবার ক্র্যাশ করেছিল, বিশেষত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পরবতী ২০০৯ সালের নির্বাচেন আওয়ামীলিগের পরবর্তী ২০১০,১১ সাল নিয়ে ১. শেয়ার মার্কেট বাবল ও ক্ল্যাশ ২. মাল্টি লেভেল মার্কেটিং স্ক্যামের বাবল ও ক্র্যাশ ৩. হাউজিং বুম/বাবল ও ক্র্যাশ ৪. জমির দামে বুম/বাবল ও ক্র্যাশ।
উন্নয়নের আড়ালের গল্প জানুন। বুঝতে শিখুন সমগ্র বাংলাদেশ বলতে ঢাকা এবং চট্টগ্রাম কিংবা কয়েকটি বড় শহরকে বুঝায় না, মাথা পিছু আয় বাড়লেও যে সমাজে আয় বৈষম্যের কারণে কিছু মানুষ এখনো না খেয়ে মারা যাচ্ছে তাঁদের নিয়েও ভাবুন, প্রতি বছর যে হারে ঋণ খেলাপি কিংবা অবৈধ টাকা পাচার হচ্ছে তা ফেরত আনার ব্যাবস্থা করুন, মেগা প্রজেক্টের নামে 'হোয়াইট এলিফেন্ট' করা বন্ধ করুন। বইটির দ্বিতীয় পর্ব পড়ার অপেক্ষায় থাকব।
i am a regular reader of zia hassan's post in fb. I was awaiting eagerly to read this. Being in Canada it was quite a challenge to get it in hand. I finally finished it. This is as important as his regular commentary on BD. He did an awesome job in explaining underlying weakness of BD economy. The first 100 pages were just too good. In the next 100, it became little monotonous because we actually would not need so many graph to prove his hypothesis since he has already established that in the first half of the book. It did pick up the pace by the Third act. Great thing is that a second part is coming. It would be amazing if he can give us the real numbers rather than the sham ones used to hide everything.
Strong write-up with lot of evidences regarding author's conclusion about the economy of Bangladesh. However, some explanations seemed to be mundane and verbose. Full of graphs, charts and numbers which could be excluded for easy-read. Personally I would love to see if author could do some devil's advocacy to his own opinion while bringing the facts and evidences towards some of the positive changes of the economy as well.
জিয়া হাসান রচিত 'উন্নয়ন বিভ্রম' বইটি এ বছরের অমর একুশে বইমেলা বিতর্কের বাইরেও একটি অতীব গুরুত্বপূর্ণ বই। আমরা যারা 90's এর বাচ্চাকাচ্চা, কিশোরবেলা থেকে যৌবনের এই মিষ্টি রোদেলা বেলা পর্যন্ত একটি দলকেই শাসক হিসেবে দেখে আসছি। আর শুনে আসছি উন্নয়নের জিগির, যেটা শীতকালীন গ্রাম্য ওয়াজগুলোর ১ লক্ষ বার কলেমা জিকিরকেও হাস্যকরভাবে হার মানাবে।
আসলে কার উন্নয়ন হয়েছে, কতটা হয়েছে এবং আদৌ উন্নয়ন হয়েছে কি না, সেসবের প্রকৃত উত্তর জিয়া হাসানের এ বইটিতে পাওয়া যাবে। লেখক লেখার স্বপক্ষে আন্তর্জাতিক র্যাংকিং, ডাটা, দৈনিক পত্রিকার প্রতিবেদন ও পরিসংখ্যানকে পুঙখানুপুঙখ বিশ্লেষণ করে আমাদের বহু না-জানা প্রশ্নের উত্তর সন্ধানের একটা রোডম্যাপ দেখিয়েছেন।
বইটি পুরো শেষ করা হয়নি এখনও। তবু যতটুকু পড়েছি, অর্থনীতির অনেক টার্মের সাথে পরিচিতি পাবার সাথে মূলো দেখানো উন্নয়নের স্বরূপ টের পেয়ে আহত-ব্যথিতও হচ্ছি। সত্য কথা তিতে হলেও টোটকার কাজে দেয়।
বইমেলার শুরুর দিকেই সুদূর যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী প্রিয়মুখ Jami Jamal ভাই বইটি উপহার হিসেবে পাঠিয়েছিলেন। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসির Howard University-তে তিনি পিএইচডিরত আছেন।
উপহার গ্রহণের শর্ত ছিল, বইটির একটি চমৎকার রিভিউ লিখে যেন সেটা ফেসবুকে পোস্ট করি। শর্তটা পুরোপুরি সম্পন্ন করতে পারিনি। কারণ বইটি এখনও পড়ে শেষ করা হয়ে ওঠেনি। তবে শীঘ্রই পড়ে নিব ইনশাআল্লাহ, এবং একটা আন্তরিক রিভিউ তুলে ধরার ইচ্ছেও বুকে পোষণ করছি।
বইটার দাম সত্যিকার অর্থেই হাতের নাগালে নেই। সত্যি স্বীকার করতে বললে বলব, উপহার না পেলে বইটি আমার কেনা হয়ে ওঠত না। তবে একইসাথে এটাও জানাব, সংগ্রহে রাখবার মতো যথেষ্ট উপযুক্ততা রয়েছে এ বইটির৷ জিয়া হাসানের অন্যান্য বইগুলো পড়ার ইচ্ছে আপাতত তুলে রাখলাম। বইটি শেষ করি, এরপর এগোনো যাবে।
২০০৮ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত এই ১০ বছরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবস্থার চিত্র এবং তার তথ্যমূলক জবাব এবং শেষ সময়ে থাকা সরকারের কার্যক্রম বর্ণনা করেছেন তথ্য সহকারে ।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর জরিপ আর নাসির উদ্দিন হোজ্জার কাক শুমারি এই অংশটা পড়ে দারুন মজা পেয়েছি ।
জাতীয় প্রবৃত্তির টার্গেট মিলাতে যে ব্যাক ক্যালকুলেশন করা হয় তা দেখে বড়ই আশ্চর্য হয়েছি ।
বিশেষ করে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের যে প্রাণীশুমারি যাতে প্রতিবছর একই রকম প্রবৃদ্ধি দেখিয়েছে তা যে হাতে কলমে বানানো তার সহজেই বোঝা যায় ।
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবস্থা এবং তার স্বপক্ষে যে রেফারেন্স দিয়েছেন তা দেখলে অনেকেরই চক্ষু খুলে যাবে ।
বইটির দাম বেশি হলেও তা যে আপনার জ্ঞানের পিপাসা মিটাবে তা সহজেই অনুমেয়।