'পাগলাটে কিশোর কাফকা তামুরা বাড়ি থেকে পালাবার সময় শুনতে পায় এক অশরীরী কণ্ঠস্বর। কোনো ভুলে যাওয়া দৈববাণী খুঁজতে বলছে ওর মাকে, বোনকে? বৃদ্ধ নাকাতার অদ্ভুত ক্ষমতার উৎস কী? বিড়ালদের ভাষা কীভাবে বোঝে সে? কেন এই সরল মানুষটা সব ছেড়ে বেরিয়েছে কাফকার সন্ধানে? দু’জনের মহাযাত্রায় দেখা হবে অসাধারণ সব সঙ্গী, মারাত্মক সব শত্রু এবং বিচিত্র আগন্তুকদের সাথে। ডানা মেলবে ভালোবাসা, রচিত হবে বন্ধুত্ব, ঘটে যাবে নিষ্ঠুর হত্যাকাণ্ড। ‘কাফকা অন দ্য শোর’-কে বলা হয় হারুকি মুরাকামির মাস্টারপিস। রহস্যময় এই উপন্যাসের অবিস্মরণীয় চরিত্রগুলো বদলে দেবে ভালোবাসার প্রতি, সমাজের প্রতি ও জীবনের প্রতি আপনার দৃষ্টিভঙ্গি।'
Haruki Murakami (村上春樹) is a Japanese writer. His novels, essays, and short stories have been best-sellers in Japan and internationally, with his work translated into 50 languages and having sold millions of copies outside Japan. He has received numerous awards for his work, including the Gunzo Prize for New Writers, the World Fantasy Award, the Tanizaki Prize, Yomiuri Prize for Literature, the Frank O'Connor International Short Story Award, the Noma Literary Prize, the Franz Kafka Prize, the Kiriyama Prize for Fiction, the Goodreads Choice Awards for Best Fiction, the Jerusalem Prize, and the Princess of Asturias Awards. Growing up in Ashiya, near Kobe before moving to Tokyo to attend Waseda University, he published his first novel Hear the Wind Sing (1979) after working as the owner of a small jazz bar for seven years. His notable works include the novels Norwegian Wood (1987), The Wind-Up Bird Chronicle (1994–95), Kafka on the Shore (2002) and 1Q84 (2009–10); the last was ranked as the best work of Japan's Heisei era (1989–2019) by the national newspaper Asahi Shimbun's survey of literary experts. His work spans genres including science fiction, fantasy, and crime fiction, and has become known for his use of magical realist elements. His official website cites Raymond Chandler, Kurt Vonnegut and Richard Brautigan as key inspirations to his work, while Murakami himself has named Kazuo Ishiguro, Cormac McCarthy and Dag Solstad as his favourite currently active writers. Murakami has also published five short story collections, including First Person Singular (2020), and non-fiction works including Underground (1997), an oral history of the Tokyo subway sarin attack, and What I Talk About When I Talk About Running (2007), a memoir about his experience as a long distance runner. His fiction has polarized literary critics and the reading public. He has sometimes been criticised by Japan's literary establishment as un-Japanese, leading to Murakami's recalling that he was a "black sheep in the Japanese literary world". Meanwhile, Murakami has been described by Gary Fisketjon, the editor of Murakami's collection The Elephant Vanishes (1993), as a "truly extraordinary writer", while Steven Poole of The Guardian praised Murakami as "among the world's greatest living novelists" for his oeuvre.
কোনো কোনো বই পড়ার সময় একটানে পড়ে ফেলা যায় কিন্তু শেষ করার পর হজম করতে সময় লাগে খুব বেশি। কাফকা অন দ্য শোরের দুই খন্ড আমি মাত্র দেড়দিনে পড়ে ফেলেছি। অথচ এর চেয়ে ছোট বই পড়তে আমার সপ্তাহ কি মাসও কেটে গেছে আগে। এত বিচিত্র সব উপাদানে ভরপুর একটা বই! মনে হচ্ছিলো হাত থেকে রাখলেই আমি এই জগৎটা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবো। অথবা খুব ইন্টারেস্টিং কোনো স্বপ্নের ভেতর থেকে ছিটকে বেরিয়ে পড়বো। কিন্তু বই শেষ হওয়ার পরেও আমি যেন এখনো সেই তাকামাতসুর গহীন অরণ্যের পথে হাঁটছি। এখনো চোখে ভাসছে বৃদ্ধ নাকাতা আর তার সংস্পর্শে এসে বদলে যাওয়া হোশিনোর ছুটে চলা।
অথচ চার মাস আগে যখন ইংরেজি অনুবাদটা শুরু করেছিলাম, তখন ভেবেছি এই বই পড়া আমার পক্ষে সম্ভব না। কী কারণে এমন মনে হয়েছে আমি জানিনা। ইংরেজি অনুবাদটা আবার হাতে নিলে হয়ত মনে পড়বে। সাধারণত ভার্সিটিতে আসা যাওয়ার সময়টাকেই আমি বই পড়ার জন্য বেছে নিই। প্রথম যেদিন কাফকা অন দ্য শোর পড়তে শুরু করি, তখন ডিসেম্বরের শুরু। হিমহিম কুয়াশার সকালে, ভার্সিটির বাসের জানালার পাশে বসে যখন কাফকার বাড়ি পলায়ন যাত্রার সঙ্গী হচ্ছিলাম—ঠিক তখন কী যেন একটা অদ্ভুত অনুভূতি আমাকে গ্রাস করতে শুরু করেছিলো। বই বন্ধ করে ব্যাগে ঢুকিয়ে রেখে সোজা গিয়ে লাইব্রেরিতে ফেরত দিয়ে আসলাম। খামখেয়ালিপনা বা পাগলামিই বটে। কিন্তু আমার ভেতরে অযৌক্তিক কাজকর্মের প্রবণতা অনেক বেশি। অথবা নিজেকে জাদুবাস্তবতা বা অদৃশ্য কোনো খেলার অংশ হিসেবে ভাবতেও আমার ভালো লাগে হয়ত। কারণ আমার জীবনটা হাজার রকমের কাকতালে ভরপুর। পদে পদে এত বেশি চমকের সম্মুখীন আমি হয়েছি, পুরো জীবনটাকেই কোনো গল্প মনে হয়। এই কারণেই বইয়ের কন্টেন্ট আমার কাছে খুব একটা দুর্বোধ্য বা অদ্ভুত ঠেকেনি।
প্রথমে ভেবেছি কেবলই ঘর পালানো এক কিশোরের গল্প এটা। যে হয়ত দেশে দেশে ঘুরে বেড়াবে একের পর এক। কিন্তু তার জীবনে মিস সিয়েকি আর সাকুরার আগমন, ওশিমোর বাড়িতে আশ্রয় নিতে গিয়ে অন্য কোনো জগতের সন্ধান পাওয়ার পর বুঝলাম, না কাফকা কেবলই ঘর ছেড়ে পালায়নি। সে ঘর ছেড়ে বের হয়েছে নিয়তির হাতে ধরা দিবে বলে।
নাকাতা আর কাফকার বসবাস একই শহরে ছিলো। ঘটনাচক্রে নিজেদের শহর থেকে পালিয়ে তারা একই জায়গায় আশ্রয় নেয়। কিন্তু পুরো ঘটনা কি আসলেই ঘটনাচক্রে ঘটেছে? ম্যাপ দেখে কাফকার মনকে কেবল শিকোকুই টানছিলো, নাকাতার কোনো ভূগোলবিদ্যা না থাকার পরেও সে শুধু জানতো তাকে বড় একটা ব্রিজ পেরিয়ে যেতে হবে এবং তার ভাগ্য (অথবা কোনো দৈব শক্তি) তাকে ঠিকঠাকই পৌঁছে দিয়েছে তার গন্তব্যে।
আমাদের জীবনটা তো এমনই। যা হওয়ার, তা কোনো না কোনো ভাবে হবেই৷ ঘটবেই। হয়ত এমন পরাবাস্তব ঘটনার সম্মুখীন আমরা হই না, কিন্তু যাদের সাথে আমাদের পরিচয় হয়, ঘনিষ্ঠতা বাড়ে—সব কিছুই কোনো না কোনো কারণে হয়। সব কারণ হয়ত আমাদের জানা হয় না। হুটহাট পরিচয় ঘটা সব মানুষ হয়ত জীবনে স্থায়ী হয় না। কিন্তু সবারই প্রচ্ছন্ন কিছু ভূমিকা আমাদের জীবনে থেকে যায়। কখনো পরিচয় না হওয়া মানুষটাও কারো জীবনের মোড় বদলে দেয়াটা খুব অসম্ভব কিছু না!
মানুষের মনের গহীনের এলোমেলো নামহীন ব্যাখ্যাহীন নিগূঢ় বেদনার প্রকাশ হারুকি মুরাকামি তার লেখায় সবসময়ই করেন অনবদ্যভাবে। বেদনাগ্রস্ত করে তোলেন পাঠকদেরও। উপন্যাসের চরিত্রদের সেইসব বিষাদ সঞ্চারিত হয় নিজের মধ্যে। আচ্ছন্ন করে রাখে। বুকের ভেতর দলা পাকিয়ে তোলে উষ্ণ অনুভুতিগুলো।
একটা ঘোর নিয়েই শেষ করলাম কাফকা সফর। বেশ দীর্ঘ একটা পথ পাড়ি দিতে হয়েছিলো সিরিজটার সাথে। ১ শেষ করে ২ ধরেছিলাম মাস চারেক পরে। যদিও দ্বিতীয় খন্ড থেকে প্রথম খন্ডটা একটু বেশিই ভাল্লাগছিলো। শেষ করে মন খারাপ হয়ে গেলো ধ্যাত!
হারুকি মুরাকামির এই বইটি নিয়ে আমি সবচেয়ে বেশি উৎফুল্ল ছিলাম কিন্তু বইটি আমার যতটুকু পছন্দ হবে ভেবেছিলাম ততটুকু হয়নি। এই বইটিকে তার মাস্টারপিস বলা হলেও এটির চেয়ে নরওয়েজিয়ান উডই আমার বেশি পছন্দ হয়েছিল। যাকগে, সব মানুষেরই নিজস্ব পছন্দ থাকে। যদিও ম্যাজিকাল রিয়ালিজম নিয়ে পড়া এটাই আমার প্রথম বই।
গল্পটি কাফকা তামুরার, বাড়ি থেকে পালানো এক অভিশপ্ত কিশোরের যার জীবনের সাথে জড়িয়ে গেছে ওডিপাসের মিথোলজি। গল্পটি বৃদ্ধ নাকাতার, যিনি নিজের সারাটি জীবন যাপন করেছেন এক অশিক্ষিত প্রতিবন্ধীর মত। গল্পটি ওশিমার, নারী হয়েও যিনি পুরুষ সেজে খুজে বেড়াচ্ছেন জীবনের অর্থ। গল্পটি মিস সায়েকির, যিনি প্রেমিককে হারানোর পাশাপাশি হারিয়ে ফেলেছেন নিজের সত্তাকেও। এছাড়াও গল্পটি সাকুরার, হোশিনোর, জনি ওয়াকারেরও।
হারুকি মুরাকামির লেখনশৈলী একটু ভিন্ন ধাঁচের। তিনি তার লেখায় প্রচুর রূপক ব্যবহার করেন এবং খুব তুচ্ছ তুচ্ছ বিষয় বেশ জটিল ও বিষণ্ণভাবে বর্ণনা করেন। এই বিষয়টি বইটি পড়ার সময় পাঠকের উপর বেশ প্রভাব ফেলে। বাস্তবজীবনে ঘটা নানান ঘটনা তখন আপনি ভিন্ন চোখে দেখতে শুরু করবেন। হারুকি মুরাকামি তার লেখার মাধ্যমে আপনার চিন্তা চেতনাতে নাড়া দিবেন। মুহূর্তে তিনি আপনাকে অনুভূতির সর্বোচ্চ চূড়ায় পৌঁছে দিবেন, আবার পর মুহূর্তেই আপনি ডুবে যাবেন হতাশা ও দ্বিধা দ্বন্দ্বের অতল গহীনে।
সালমান ভাইয়ার দুর্দান্ত অনুবাদ আমার জন্য বইটি করেছে অনেকটাই সহজ। অনুবাদ এত সাবলীল না হলে এই কঠিন বইটি হয়তোবা আমার আরো কঠিন ঠেকত।
যদিও সত্যি বইটিতে এমন কিছু বিষয় ছিল যা আমি একদমই মেনে নিতে পারিনি। কিন্তু একটি বইয়ের সব বিষয় ভালো লাগবে, এমনটা আশা করাও বোধ হয় বোকামি।
"And once the storm is over, you won’t remember how you made it through, how you managed to survive. You won’t even be sure, whether the storm is really over. But one thing is certain. When you come out of the storm, you won’t be the same person who walked in. That’s what this storm’s all about." -Haruki Murakami
কাফকা অন দা শোর উপন্যাসের প্রথম পার্ট শেষ করার পর থেকেই মুখিয়ে ছিলাম পার্ট ২ পড়ার জন্য কিন্তু পার্ট ২ পড়তে গিয়ে বুঝতে পারলাম উপন্যাস দুই পার্টে বের করার কারন। জাপানের পাঠকেরা ট্রেনে- বাসে জার্নি করার সময় বই পড়ে তাই বইটির ওজন কমিয়ে পাঠকের সুবিধার জন্য দুই পার্টে বের করা। মুরাকামুর উপন্যাসে যে জাদুবাস্তবতার জগতে প্রবেশ করতে হয় তা ভালোভাবেই প্রয়োগ করা হয়েছে এই বইটিতে। কিশোর কাফকা তামুরার বয়সের দোষের কারনে যে জগতে পা বাড়ায় আর সে সকল কান্ডকারখানায় জড়িয়ে পরে তার সাথে অন্য চরিত্রগুলোও জড়িয়ে পরে ওশিমা, মিস সায়েকি এবং সাকুরা। অন্যদিকে নাকাতার জার্নির সাথে জড়িয়ে পড়ে হোশিনো নামে এক ট্রাক ড্রাইভার। কাফকার সাথে নাকাতার যে শেষপর্যন্ত দেখা হবেনা তা পাঠক হিসেবে আমি অনুমান করতে পারিনি। কাফকা অন দা শোর পুরোটা সিরিজ পড়তে গিয়ে এক ঘোরলাগা সময় পার করলাম যা মুরাকামির আগের উপন্যাসগুলোর ক্ষেত্রেও হয়েছিল।
বাস্তবতা থেকে প্রতিনিয়ত ছুঁটে চলছি। ছুঁটে চলছি এক অজানায়। অজানাকে মনে করছি ওইটায় আমাদের গন্তব্য।এই ছুঁটে চলতে চলতে নিজেকে হারাচ্ছি অবাস্তবতায়। বাস্তবতা থেকে আসলে আমরা পালিয়ে বাঁচতে চায়। একটা বারের জন্যে হলেও ফিল করতে চায় না যে এই মেকি বাস্তবতার জগতে আমাদের ভালোবাসার জন্য কেউ নেই। আবার কেউ থাকলেও,' না থাকারই সমান।' এই পালিয়ে বাঁচতে চায় মূলত বাস্তবতার অভিশপ্ত জীবন থেকে। এই তো জীবন মৃত্যুর আগে বেঁচে থাকা। এই জৈবিক মৃত্যুের আগে যে আমরা কতবার মরে যায় এবং পুনর্জীবন পায় তা হাতের আগুল গুনে বলা যাবে না। বাস্তবতা থেকে অমীমাংসিত অবাস্তবতায় হয়ত কিছুক্ষণ আমি হয়ে বাঁচতে পারা যায় তাই নিয়ে হারুকি মুরাকামির শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি হচ্ছে, 'কাফকা অন দ্য শোর' গল্পের প্রোটাগনিস্ট কাফকা তামুরা। বাড়ি থেকে পালায় পনের বছর বয়সে।আসলে বাড়ি থেকে না তার অভিশপ্ত জীবন থেকে। কিন্তু আদৌ কী পারে? পারে না। অভিশপ্ত জীবন বাস্তবতায় কিংবা অবাস্তবতায় আমাদেরকে ছাঁয়ার মতন জেঁকে ধরে। ফ্যান্টাসি জনরার এই উপন্যাসে কাফকা যখন অনুভব করে-''একটা প্রশ্ন। কেন আমাকে ভালোবাসল না সে ? আমার কি তার ভালোবাসাটুকু পাওয়ার যোগ্যতাও ছিল না? বছরের পর বছর ধরে এই প্রশ্নটা দগ্ধ করে চলেছে আমার হৃদয়কে । আমার ভেতরে নিশ্চয়ই গভীর সমস্যা ছিল যে কারণে সে আমাকে ভালোবাসে নি ।এই অপবিত্রটুকু কি জম্মগত ? আমার জম্মই কি হয়েছিল যাতে সবাই আমার দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারে ?'' আসলেই কিছু মানুষ জন্ময় শুধু অভিশপ্ত জীবনকে যাপন করতে। কাফকাও তার অভিশপ্ত এডভেঞ্চারাস লাইফকে যাপন করে। আমাদের ভেতরও অনেকে করে।আমি নিজেও করছি। পালাতে পালাতে ক্লান্ত হয়ে গেছি।তবুও দৌড়াচ্ছি। কাফকার মত কোথাও গিয়ে হয়ত থামতে পারব।
সালমান হক অনুবাদ করে বেশ সুনাম কুড়িয়েছেন। সাবলীল অনুবাদ তবুও অনুবাদে যেন প্রাণ খুঁজে পাই নি। আমার মনে হয় বাক্যকে আরও সুন্দর করে উপস্থাপন করতে পারতেন তিনি।
দুইটা খণ্ড মিলায়ে এটার রেটিং দেয়া যায় ৯/১০। নাকাতা আর হোশিনোর জুটিটা সবথেকে বেশি ভাল্লাগসে। আর মুরাকামির বই মানে অবশ্যই আমার ভালো লাগবে। অনুবাদও বেশ সুন্দর ছিল।
১৫ বছর বয়সী কাফকা তামুরা, পঞ্চাশোর্ধ মিস সায়কি,ষাটোর্ধ নাকাতা,মধ্য বয়স্ক হোশিনো এই চরিত্রগুলো আমি কোনোদিন ভুলবোনা। এরা ৫০০ পাতার বইয়ে যে জীবনদর্শন দিয়েছে তা আমার সবসময় কাজে লাগবে।