রামকৃষ্ণ-বিবেকানন্দ ছিলেন সন্ন্যাসী। সন্ন্যাসীর কোন ধনসম্পত্তি থাকে না। কিন্তু রামকৃষ্ণ ও বিবেকানন্দ অতুল ধনসম্পত্তি অর্জন করে রেখে গেছেন, দেশের সােনার চাদ ছেলেমেয়েদের জন্য। তাদের অমূল্য ভাবরাশি, জীবনপ্রদ অমৃতবাণী—এই অক্ষয় ধন যে ভােগ করতে চাইবে সেই পাবে। অফুরন্ত এই ভাণ্ডার, ফুরােবার নয়।
ছোটবেলায় 'শ্রীরামকৃষ্ণের মুখে গল্প' পড়েছিলাম। এই বইটি তারই আরও প্রাপ্তমনস্ক, বর্ধিত একটি সংস্করণ। সেই বইতে গল্পের সংখ্যা যদি ১০/১২টি হয়, এই বইতে সেই সংখ্যা তিরিশ।
প্রতিটি গল্পই ঠাকুরের মুখে আমরা পেয়েছি কথামৃতে। সহজ ভাষায় ভক্ত ও শিষ্যদের ঈশ্বরলাভের নানা সাধনার যে উপদেশগুলি দিতেন, তার বেশিটাই উপমাভিত্তিক। কথামৃতে অনেকক্ষেত্রে একই গল্পের পুনরাবৃত্তি হয়েছে ছড়িয়ে ছিটিয়ে, যেন ঠাকুর কথাগুলিকে hammer করে বসিয়ে দিচ্ছেন আমাদের মাথায়। সেই বইয়ের পাতা থেকে উঠে আসা এমন গল্পগুলিকে আগা-গোড়া বাড়িয়ে, আরেকটু গুছিয়ে চমৎকার ভাবে পরিবেশন করেছেন প্রেমঘনানন্দ।
'ঈশ্বরলাভ' কথাটি বললে, সাধারণ ভাবে বেশ বিজাতীয় শোনায়। কে ঈশ্বর? কেমন লাভ? আদৌ সম্ভব? – ইত্যাদি নানা প্রশ্নে ব্যথিত হতে হয় আমাদের। এতকিছু বাদ দিলেও, কেবলমাত্র সততা ও সত্যের পথে এগোলে জাগতিক প্রাপ্তিও কেমন সুন্দর হয়ে উঠতে পারে, তার সন্ধান দেয় এই বইটি।