একুশ শতকের শুরুতে বাংলাদেশে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে ধর্মীয় উগ্রবাদ। আল-কায়দা ও তালেবানের তৎপরতা নিয়ে বিদেশি পত্রিকায় খবর ছাপা হয়। সরকার এসব রটনা বলে উড়িয়ে দেয়। ঢাকার এক সাংবাদিক আল-কায়দার খোঁজে নামেন। ঢাকায় আসেন চ্যানেল ফোরের দুজন সাংবাদিক। গোয়েন্দারা তাঁদের পিছু নেয়। এই দুজনের সঙ্গে জড়িয়ে যান ঢাকার সাংবাদিক ও এক দোভাষী। নানা ঘটনা-দুর্ঘটনায় বিষয়টি জট পাকিয়ে যায় এবং চারজনই গ্রেপ্তার হন। এক অনুসন্ধানী সাংবাদিকের ঝুঁকিপূর্ণ অভিযান আর বিপর্যয় নিয়ে গড়ে ওঠা এই কাহিনি গল্পের চেয়েও রোমাঞ্চকর।
জন্ম ১৯৫২, ঢাকায়। পড়াশোনা গবর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি হাই স্কুল, ঢাকা কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগে। ১৯৭০ সালের ডাকসু নির্বাচনে মুহসীন হল ছাত্র সংসদের সহসাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। বিএলএফের সদস্য হিসেবে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। দৈনিক গণকণ্ঠ-এ কাজ করেছেন প্রতিবেদক ও সহকারী সম্পাদক হিসেবে। দক্ষিণ কোরিয়ার সুংকোংহে বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘মাস্টার্স ইন এনজিও স্টাডিজ’ কোর্সের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ও অধ্যাপক। তাঁর লেখা ও সম্পাদনায় দেশ ও বিদেশ থেকে বেরিয়েছে বাংলা ও ইংরেজিতে লেখা অনেক বই।
"সাংবাদিক সাহেব, ওরা কিন্তু শাহরিয়ার কবিরের নাম বলতে বলবে, বলবে ওয়ান সিক্সটি ফোরে স্টেটমেন্ট দেন যে সে-ই হলো এই ষড়যন্ত্রের নাটের গুরু । এটা কী করে সম্ভব? উনি এর সাতেও নাই পাঁচেও নাই ! সেইটা ইম্পরট্যান্ট না। গভর্মেন্ট তারে এই কেসে ঢুকাইতে চায়। দরকার মনে করলে একটা কেসে একশ লোক ঢোকাবে। টেরও পাইবেন না।"
বইয়ের নামটি বিভ্রান্তিকর। কারণ আল কায়দার খোঁজে অভিযান হচ্ছে কাহিনির সূচনা মাত্র।সাংবাদিক সালিম সামাদের জবানিতে বর্ণিত এই সত্য ঘটনার মূল পর্ব শুরু হয় তার গ্রেফতারের পর। একটা দুর্নীতিগ্রস্ত, স্বৈরাচারী রাষ্ট্রব্যবস্থা কীভাবে তার নাগরিকদের দমন করতে চায়; নিয়মতান্ত্রিক অপব্যবহারের মাধ্যমে নিজেদের সব অন্যায়কে বৈধতা প্রদান করতে চায়, ভয় ও আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি করে কীভাবে বিরুদ্ধমতকে নিশ্চিহ্ন করে ক্ষমতা ধরে রাখতে চায় তার একটা সুনিপুণ বর্ণনা আছে বইতে। ২০০১ সালের নির্বাচনের পর হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা ও নির্যাতনের কথা এখন সর্বজনবিদিত। ওই সময় বিএনপি সরকারের ভূমিকা, দেশের সার্বিক অবস্থার চিত্রও ফুটে উঠেছে বইতে। জেলখানার পরিবেশের বর্ণনা পড়েও মজা পেয়েছি। তবে প্রথম পুরুষে বিবৃত গল্পটির ভাষা বেশ কাঠখোট্টা। কাহিনি উন্মোচনে লেখকের নিজের অংশগ্রহণ আরেকটু বেশি হলে ভালো লাগতো। সব মিলিয়ে "আল কায়দার খোঁজে" তথ্যবহুল ও উপভোগ্য।
দারুণ! জমজমাট কোনো থ্রিলার পড়ার উত্তেজনা নিয়ে পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা পড়ে গেছি। বিএনপি আবার ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনার এ সময় বইটা পড়ার পক্ষে খুবই উপযুক্ত। ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার ক্ষমতায় আসার পরে দেশের বিপর্যয়কর অবস্থার মোটামুটি ভালো একটা ধারণা পাওয়া যায়। বিপক্ষে গেলেই কণ্ঠরোধ করতে সর্বোচ্চ ক্ষমতা প্রয়োগে কোনো ক্ষমতাসীন দলই কেউ কারও চেয়ে পিছিয়ে নেই। আওয়ামীলীগ আমলের সাড়ে ১৫ বছরেও এসব কম দেখা হয়নি। যাই হোক, বইয়ের গদ্যভাষা আরও ভালো হওয়া দরকার ছিল যেহেতু ঘটনা বর্ণনা করা হচ্ছিল গল্পের মতো করে।
বইটির নামকরণ কিছুটা বিভ্রান্তিকর। শুরুর কিছু অংশ বাংলাদেশে "আল-কায়দার খোঁজে"ই ছিল। কিন্তু, এরপর সাংবাদিক সালিম সামাদের আত্মকথনে হয়ে গেছে চ্যানেল ফোরের দুই সাংবাদিককে সাহায্য করতে গিয়ে তার কারাবাসের বয়ান। সে প্রেক্ষিতে প্রিসিলা এবং দুই বিদেশির বয়ানও আসতে পারতো। আসেনি। সম্পাদনায় সমস্যা ছিল। বিশেষ করে উদ্ধৃতি চিহ্ন'র অনুপস্থিতিতে মাঝে মাঝে কোনটা কার সংলাপ তা গোলমেলে লেগেছে।
তবুও বাংলাদেশের এক উল্লেখযোগ্য ঘটনাকে মলাটবদ্ধ করা হয়েছে। ইনকিলাবীয় আফতাবদের দূর্বৃত্তপনা এবং ইটিভির বিরুদ্ধে রিট করা সেই "বি-ক্ষ্যাত" সাংবাদিকের "বুইজ্জেন্নি" বেশ উইটি ছিল, প্রসঙ্গত যখন মজাটা লুটছিল তখন সদ্য কারামুক্ত এরশাদ :D
শেষে একটা তথ্য বিভ্রাট উল্লেখ করি - ১৯০ পৃষ্ঠায় উল্লেখিত এসি আকরাম কর্তৃক "নর্থ নাউথের একটা ছেলেকে" খুনের যে উল্লেখ আছে সে ছিল "ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটির রুবেল"। শামীম রেজা রুবেল। ১৯৯৮ সালের জুলাইয়ের এ ঘটনা বেশ আলোচিত ছিল।
ইন্দোনেশিয়ার চেচনিল থেকে এক আল-কায়দা সদস্য ধরা হয় ২০০২ সালে। সেই সম্মানিত সদস্যকে ইন্টারোশোনের পর বের হয়ে আসে এক ভয়ংকর তথ্য। সেই সদস্যের আল - কায়দা ট্রেনিং হয়েছিল বাংলাদেশের কক্সবাজার জেলার নাইক্ষয়ংছড়ির কাছাকাছি কোন এক দুর্গম স্থানে। মূলত জং গী বাদের আঁতুড়ঘর আফফগানিস্থানে রাশিয়া বিরোধী আন্দোলনের পর থেকে তাদের মধ্যে এন্টি রাশিয়া, এন্টি ইউএস মেন্টালিটি তৈরি হয়। তা লে বা ন ও আল কা য় দা র তখন 'খামু খামু' অবস্থা। সৌদি আরবের নাগরিক 'বিন লাদেন' নাইন এলেভেনে হামলা করে। ইউ এসের জন্মের পর তাদের কেউ প্রথম আঘাত করে নাই, বরংচ তারাই বিভিন্ন দেশে সমস্যা সৃষ্টি করেছে। তো, নাইন ইলেভের ঘটনার পর ইউএস ট্রুপ্স ক্যাপচার করে আফগানিস্থান। কিন্তু তাহলে তা লে বা ন ও আল কা য় দা র সম্মানিত সদস্যদের ট্রেনিং হবে কোথায়। তাদের নজরে আসে বাংলাদেশের দক্ষিণ পূর্ব অঞ্চল। যাতে তারা নিজেরাও ট্রেনিং নিতে পারে এবং মিয়ানমারের বিভিন্ন বিচ্ছিন্ন জ ঙ গী সংগঠনগুলাকে লজিস্টিক্স সাপোর্ট দিতে পারে। দেশে তখন মহামান্য বিএনপি শাসন আমল। সরকার, সেই সময়ের ডিজিএফআই ,এনএসআই সবই জানতো। এইসব তথ্য কালেক্ট করেন বাংলাদেশের অন্যতম একজন আন্ডার কভার জারনালিস্ট 'সালিম সামাদ'। লন্ডন ভিত্তিক চ্যানেল ফর থেকে জাইবা, ব্রুনো নামে দুইজন আসেন এই তথ্য গুলা দেখতে। তাঁদের দোভাষী হন বাংলাদেশের প্রিসিলা রাজ। তৎকালীন মহান সরকার সালিম সামাদ সহ এই ৩ জনকে 'রাষ্ট্র দ্রোহ' মামলায় দিনের পর দিন হাজতে আটকে রাখে যেন এই সংবাদ না বের হয়। * গুলশানের আশেপাশে আল কায়দার বাংলাদেশ অফিস ছিল। * ট্রেনিং ও অপারেশন পর্যালোচনা করতে সদ্য নিহত আল কা য় দা নেতা জাওয়াহিরি সাহেব বাংলাদেশে এসেছিলেন। * চট্টগ্রাম পোর্টের ৩ কিমি সামনে একটা মাঝারী বোট এসে থামে। তাঁদের সকলের মাথায় কালো পাগড়ি, পাঠানই কোত্তা। ছোট বোটে করে সবাই চলে যায় নাইক্ষংছড়ি। সালিম সামাদ যখন কারাগারে তখন এক আসামিকে দেখতে পান, যিনি উর্দুতে কথা বলেন। খোজ খবর নিয়ে দেখলেন তার 'মুতা কেস(যেখানে সেখানে মুতলে যে কেস হয়)'। মেজর জিয়াউদ্দিনো তখন জেলে। ঐ ছেলের নাম সাবু। মেজর সাবুকে বিভিন্ন 'আল কা য় দায়' ব্যবহার করা অস্ত্র সম্পর্কে জানতে চায়। সাবু পরীক্ষায় পাশ করে নিজেকে মিলিশিয়া প্রমাণ করে। হাহাহাহা মুতা কেশে কেউ দিনের পর দিন জেলে থাকে তা অবিশ্বাস্য। নাকি সাবু বের হলে সরকারের ভাবমূর্তি নিয়ে টান দিবে, এইজন্য সরকার ঢাকতে চায়?
বইটাতে আশা করেছিলাম আল কায়দা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য থাকবে। কিন্তু শুরুর প্রথম দিকে বাংলাদেশে আল কায়দার কার্যক্রম নিয়ে কিছু লেখা থাকলে পরের দিকে পুরোটাই বিখ্যাত সাংবাদিক সালিম সামাদের উপর বিভিন্ন অত্যাচার, জেল জীবন, পালিয়ে বেড়ানো নিয়ে লেখা। বাংলাদেশে স্বাধীন সাংবাদিকতা যে কতটা ঝুঁকিপূর্ণ সেটা কিছুটা বুঝতে পারা যায়। বড় বড় দুটি রাজনৈতিক দলই মুক্ত সাংবাদিকতার পক্ষে নেই সেটা আমরা যুগে যুগে দেখতে পাই। সৎ এবং দেশপ্রেমিক সাংবাদিকদের জন্যই আমরা অনেক সময় জানতে পারি লুকিয়ে রাখা সত্য।
বইমেলায় বইটার নাম দেখে, না ভেবেই কিনেছি। সাথে সাথে নয়। একদিন দেখেছি, পরে যেবার গিয়েছি তখন কিনেছি। একবারও পিছনের অংশটা পড়া হয়নি। পড়�� হলে হয়ত কেনার সময় যে ধারণায় বইটা কিনেছিলাম সে ভ্রান্ত ধারণাটা দূর হত। স্টলের সেই আপুও আমাকে ভুল পথেই হাটিয়েছে।
সে যাহোক।
তবে এই বইয়ে যে সময়ের কথা উঠে এসেছে সে সময়ের রাজনৈতিক এবং দেশীয় পরিস্থিতি নিয়ে আমার একটা ঝাপসা ধারণা ছিল। এই বই সেই ঝাপসা ধারণাতে অনেকটাই স্পষ্টতা এনেছে। সেই সময়ে ঘটে যাওয়া অনেক কিছুই আমার সামনে উঠে এসেছে। যেহেতু বর্তমানে দেশের ইতিহাস নিয়ে পড়াশোনা করা আমার শিক্ষাজীবনেরই একটা অংশ সে হিসেবে এই বইটা আমার কাছে হেল্পফুল লেগেছে। তাছাড়া এই বই থেকে দেশের বর্তমান পরিস্থিতির অনেক কিছুরই একটা ব্যাখ্যা পাওয়া যায় যা আমার মতে এই বইয়ের সবচেয়ে এনলাইটনিং পয়েন্ট । তাছাড়া বহুদিন আগে বোনা বীজের ফলন যে এখন প্রকাশ পেতে শুরু করেছে তা বুঝতে এবং প্রক্রিয়াজাত করতে সাহায্য করেছে।
তাছাড়া দেশের জেলজীবনের যে চিত্রায়ন এই বই করেছে তা থেকেও অনেক কিছু জানতে পেরেছি।
বি.দ্রঃ এই বইয়ে আমি নির্ঘণ্টের ভীষণ অভাববোধ করেছি
বইটি আল কায়দার খোঁজে নামকরণের হলেও, সেখানে খুঁজে পেয়েছি সালিম সামাদের জেল ও কারাবাসের দিন পঞ্চাশের কাহিনি। তাঁর জেলে যাওয়া এবং বারংবার অপদস্ত হওয়ার সূত্রপাত অবশ্যই আল কায়দার পিছনে পড়া। ২০০২ ও ০৩ সালে বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালীন কীভাবে বিপক্ষে কথা বলা সাংবাদিকদের নাস্তানাবুদ হতে হয়েছে, তা উঠে এসেছে বইটিতে।
প্রথমত যতটা গুরুগম্ভীর ভেবেছিলাম বইটি, অতটা নয়। পড়ে মজা পেলাম আর একরাশ আফসোস নিয়ে শেষ করলাম। তখনকার সাংবাদিকদের মেরুদণ্ড আর এখনকার সময়ের মেরুদণ্ডহীন সাংবাদিকদের কথা ভাবি। বিস্তর ফারাক। বিষয়টা বেশ পীড়া দিয়েছে।
আল কায়দাদের তৎকালীন আগ্রাসন সম্পর্কে জানতে এবং কীভাবে দেশে থেকে, দেশের ভালোর পক্ষে কথা বলে হেনস্তা হতে হয় সাংবাদিকদের, ওটা লেখক সহজভাবে তুলে ধরেছেন।
although the flap of the book said that this book was written on a journalist's life experience after trying to search for clues of Al-Qaeda network in Bangladesh, I was expecting a bit more information about the jihadists and other similar militant groups once existed in Bangladesh. But it turns out it only focused on that journalist's experience. Though it's a non-fiction written based on absolute true events but at some parts of the book felt like an adventurous novel or a crime a thriller. And the writer's writing narrative was comparatively different than his other two books I've read.
মহিউদ্দিন আহমদের ভাষা ভালো। ইতিহাসের বইগুলা যে ভাষায় লিখছেন, অনেক ইরেগুলার রিডারও তার বইগুলা আরামছে পড়তে পারে। এই বইটার ভাষা খুবই পাঠকবান্ধব কিন্তু আরেকটু ফর্মাল হওয়া উচিৎ ছিল। পুরাটা সালিম সামাদের জবানীতে লেখা হলেও গল্প কথনের ভাব যেহেতু আছে, একটু সাহিত্য করা দরকার ছিল মহিউদ্দিন ভাই।
এই বই দরকারি। বেশ দরকারি। ২০২৪ সালে এসে বইটা নিয়ে আলোচনা হওয়া দরকার ছিল। তবে সামনে আরো দরকার পড়বে। বিএনপি এসে বইটা নিষিদ্ধ না করলে হয়! করলে অবশ্য আরো ভালো।
মহিউদ্দিন আহমদের অনুলিখনে সাংবাদিক সালিম সামাদের অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার বয়ান এই বইটি, ২০০২-০৩ সালে যে সালিম সামাদকে জেল খাটতে হয়েছিলো রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায়। তবে নামকরণে যা বলা, সেই রাস্তায় এই অনুলিখন হেঁটেছে বড়জোর এক-তৃতীয়াংশ (সেটাও খুব গভীরভাবে নয়); বাকি অংশটুকু সালিম সামাদের পঞ্চাশ দিনের কারাবাসের বিভিন্ন অভিজ্ঞতা।
সাহসী সাংবাদিকতার কাহিনি, নানা টুকরো পাঠ অভিজ্ঞতা থেকে জানি, বহু ক্ষেত্রেই হয়ে ওঠে তুমুল আকর্ষণীয়। দুর্ভাগ্যজনক ভাবে, আলোচ্য বইতে তা হয়নি। বেশ কিছু তথ্যের পুনরাবৃত্তি আছে, এবং অনেক জায়গায় মনে হয়েছে খসড়া কোনো লেখা পড়ছি। সাহসী সাংবাদিক সালিম সামাদ দুই দশক আগে সরকারের জামাতে ইসলামী অংশটার কারণে নির্যাতিত হয়েছিলেন, তাকে শ্রদ্ধা না জানিয়ে উপায় নেই, কারাবাসের অংশটায় তাকে অমন অতিমানবীয় করে তোলাটা তাই- আরোপিতই মনে হয় পাঠকের কাছে। নিজের জন্য স্পর্শকাতর ব্যাপারগুলোকে ঢেকে রাখতে কর্তৃপক্ষ কীভাবে তার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যবহার করে, এই বই সেই ব্যাপারে ধারণা দিতে পারে। যুদ্ধাপরাধীদের বিরুদ্ধে জনমত গঠনে সক্রিয় ভূমিকা রাখা শাহরিয়ার কবির ও মুনতাসীর মামুনকে বিতর্কিত এবং কারাবদ্ধ করতে দল হিসেবে জামাত কী কী করেছে, এই ব্যাপারটার একটা ভালো আভাসও মেলে বইটায়।