ইমতিয়ার শামীমের জন্ম ১৩ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৫ সালে, সিরাজগঞ্জ জেলার উল্লাপাড়া উপজেলায়। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজবিজ্ঞানে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। আজকের কাগজে সাংবাদিকতার মাধ্যমে কর্মজীবনের শুরু নব্বই দশকের গোড়াতে। তাঁর প্রথম উপন্যাস ‘ডানাকাটা হিমের ভেতর’ (১৯৯৬)-এর পান্ডুলিপি পড়ে আহমদ ছফা দৈনিক বাংলাবাজারে তাঁর নিয়মিত কলামে লিখেছিলেন, ‘একদম আলাদা, নতুন। আমাদের মতো বুড়োহাবড়া লেখকদের মধ্যে যা কস্মিনকালেও ছিল না।’
ইমতিয়ার শামীম ‘শীতের জ্যোৎস্নাজ্বলা বৃষ্টিরাতে’ গল্পগ্রন্থের জন্য প্রথম আলো বর্ষসেরা বইয়ের পুরস্কার (২০১৪), সাহিত্যে সামগ্রিক অবদানের জন্য ২০২০ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কারসহ দেশের প্রায় সকল প্রধান সাহিত্য পুরস্কার পেয়েছেন।
‘‘একেকটি মৃত্যু, একেকটি জীবন যখন কেবলই পরিসংখ্যান হয়ে যেতে শুরু করে, তখন আর আমাদের কিইবা করার থাকে? স্ট্যালিনকে আমরা সমালোচনা করি, কিন্তু স্ট্যালিনই একসময় প্রথম আমাদের স্মরণ করিয়ে দিয়েছিলেন পরিসংখ্যানের ভয়াবহ নিষ্প্রাণতার কথা। বলেছিলেন, ধরো ৫ কোটি মানুষ মারা গেছে, খুন হয়েছে, এটা হলো পরিসংখ্যান। কিন্তু একজন মানুষ মারা গেছে, খুন হয়েছে, এটা হলো দুঃখজনক, এটা হলো নিষ্ঠুরতা। আমাদের কাছে এখন আর কিছুই দুঃখজনক নয়, নিষ্ঠুরতা নয়, সব কিছু পরিসংখ্যান [...] চোখ বুজতে বুজতে, চোখ খোলার চেষ্টা করতে করতে আমি বুঝতে পারি পরিসংখ্যানের বন্যায় আমি যাচ্ছি, ডুবে যাচ্ছি। কোথাও গুলির শব্দ শোনা যাচ্ছে। কেউ মারা যাচ্ছে। অথবা আমিই। একবার প্রশ্ন করতে চাই মৃত্যুর মতো মৃত্যুর কামনায় আর কতবার মারা যাবো আমরা? কিন্তু সে ইচ্ছেও মিইয়ে আসে। মৃত্যুর জন্যেও কোনো দুঃখ জাগে না। এ রকমই তো হওয়ার কথা ছিল, এ রকমই তো হয়, যুদ্ধের সময় এ রকম অনেকেই ঘুমিয়ে পড়ে, এ রকম অনেকেই মরে যায় আমাদের ঘরের ডোয়ায়, পথের পাশে অযত্নে ফুটে ওঠা, অযত্নে ঝরে যাওয়া নীল নীল অপরাজিতা ফুলদের মতো...’’
উদ্ধৃত অংশটুকু দুই দুটি যুদ্ধের এই সময়ে দাঁড়িয়ে যুদ্ধ ও রক্তপাতবিরোধী সকল মানুষের অসহায়ত্বের প্রতিধ্বনি নয় কি?