চাইলেই আপনি চলে যেতে পারেন না আমেরিকা কিংবা ফ্রান্স। কেন? বর্ডার নামক এক কিম্ভুতকিমাকার বস্তু যে উপস্থিত! বর্ডারের সংজ্ঞা নানা প্রকার, তবে ওটা যে নির্দিষ্ট এক অঞ্চলের মানুষের ওই অঞ্চলের সব সম্পদ কুক্ষিগত করে রাখার প্রয়াস বই নয়, তাতে নিঃসন্দেহ থাকা যায়। চেষ্টা করেই দেখুন ইংল্যান্ডে ঘুরতে গিয়ে একটা ব্যবসা করার, হাড়ে হাড়ে টের পাবেন। ওয়ার্ক-পারমিট বা ওয়ার্ক-ভিসা ছাড়া অন্য দেশের নাগরিককে একটা পয়সা পর্যন্ত নিতে দেবে না উন্নত কোনও দেশ। শরণার্থি নেবার বেলাতেও সবাই একজোট। তাদের ভাত আরেক অঞ্চলের লোক খেয়ে ফেলবে এটা মেনে নেবে কে! অথচ ধনী দেশ আমেরিকার সম্পদ থেকে খানিকটা ধার দিলেই নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারে সোমালিয়ার মানুষ। কিন্তু দেবে না। মজার ব্যাপার হচ্ছে, এভাবে ধনী হতে পারে আরও ধনী। গরিব থাকে আরও গরিব। গত শতকে মানুষ ভেবেছিল দুনিয়া অনেক এগিয়ে যাবে একশ বছর পর। দুনিয়া এগিয়েছে ঠিকই। টেসলার এলন মাস্ক রকেট ছুঁড়ছেন দিগ্বিদিক। ফাইভ-জি আর লাই-ফাই দিয়ে যোগাযোগ করছে পশ্চিমাবিশ্বের মানুষ, গিগাবাইট পার সেকেন্ড পাওয়া যায় ফ্রি-ওয়াইফাই জোনে। বাংলাদেশের মানুষ থ্রি পয়েন্ট ফাইভ জি নিয়েই টিকে আছে। আফ্রিকার অনেক দেশে টুজি পাওয়াও ভাগ্যের ব্যাপার। সিরিয়া, কিংবা ইরাক, কঙ্গো আর ফিলিস্তিনে ভিক্ষা-চাইনে-কুত্তাটা-সামলান দশা; ফাইভ-জি দূরে থাকুক, বাঁচার অধিকার পাওয়াই সেখানে দুষ্কর। সভ্যতা এবং মানুষ এগিয়ে যায় বটে, তবে সবাইকে নিয়ে নয়। তিনশ বছর পর, মানুষের এই স্বভাব চরিত্র কিছুমাত্র বদলে গেছে? সে সময়ে বাংলাদেশের বর্তমান চট্টগ্রাম অঞ্চলে জেগে উঠলো এক্স-মিলিটারিম্যান, সায়েন্টিস্ট মাহমুদ, “ডিপস্লিপ" নামক টেকনোলজির আবিষ্কারক। ভেবেছিল ৩০০ বছর পরের সভ্যতা দেখে তাক লেগে যাবে তার। অথচ আবিষ্কার করলো এক উন্মাদ জগত। হেলমেট-বাহিনী আর তাদের সংগঠনের কথাই এখানে আইন! মাহমুদ আবিষ্কার করলো নতুন এক বিশৃঙ্খল-জগত! দুর্ভেদ্য এক ডিসটোপিয়া...
Kishor Pasha Imon is a famous Bangladeshi crime writer.
Musa Ibne Mannan, known by the pen name KP Imon, is an accomplished writer who initially gained recognition through his short stories on social media. Over the course of his career, he has written over 220 short stories, captivating his online audience with his vivid imagination and storytelling skills. Building on his success in the digital realm, Imon went on to establish himself as a prominent novelist, with his works being published in both Bangladesh and India.
His regular publishers are Batighar publications, Abosar Prokashona Songstha, and Nalonda in Bangladesh. Abhijan Publishers solely publish his books in India. He is the author of 13 novels and translated 9 books to Bengali till date (5/10/23).
He graduated from the Department of Mechanical Engineering at Rajshahi University of Engineering & Technology. Presently, he resides in Dallas, TX, focusing on his PhD studies in Mechanical Engineering at UT Dallas after completing his MS at Texas State University.
His other addictions are PC gaming, watching cricket, and trekking.
এবছরে মাত্র দুটো সাইন্স ফিকশন হাতের নাগালে পেয়েছি। এইটা আর তানজিরুল ইসলামের 'রুদ্ধতায়' । 'রুদ্ধতায়' শেষ করতে পারিনি। মনে হচ্ছিল মাথা আরো ঠান্ডা করে নিয়ে লাগতে হবে। তাই ভবিষ্যতের জন্য রেখে দিয়েছি। 'ডিসটোপিয়া' নিয়েও খানিকটা সংশয়ে ছিলাম। এটার দশাও একই হবে কি না! কিন্তু কেপি আমাকে হতাশ হওয়ার চান্সই দিলো না। তরতর করে দুই সিটিংয়েই পড়ে ফেললুম। আরেকটু বড় হলে তৃপ্তিটা অবশ্য পরিপূর্ণ হতো। আর এ কারণেই আরেকটা পার্ট বের হলে ব্যাপারটা মন্দ হবে না।
২৩১৮ সালের বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে লেখা সাইফাই। আসলে ডিস্টোপিয়া আলাদা একটা জনরা। এবং এই বইয়ে ডিস্টোপিয়া আর সাইফাই, দুটা জনরার ছাপই গৌণ।
সভ্যতার পরিবর্তনের সাথে মানুষের মূল্যবোধ আর চিন্তাধারা কিভাবে পরিবর্তন হয় আত নিয়ে কাজ করা হয়েছে দারুণভাবে। সাইফাই বলতে যে প্রযুক্তি আর অবকাঠামোগত পরিবর্তনে পাঠককে তাক লাগাতে হবে, সেই ধারণাকে ভালোভাবে ভেঙেছেন লেখক। দেখিয়েছেন সময়ের সাথে কিভাবে একটা কিছুকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গী পালটায় একটা বড় গোষ্ঠীর মানুষের, মূল্যবোধ পুরো উল্টে যায়। আবার তাঁর মাঝেও শ্রেণীবৈষম্য, জাত্যাভিমান বিরাজ করে নতুন রূপে, তাও স্পষ্ট ছিল এখানে।
ওয়ার্ল্ড বিল্ডিং বেশ লেগেছে। এই জায়গায় লেখক প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ, সামাজিক নিরাপত্তা, অপরাধ, সমাজের গঠন - এইসবকিছু দেখিয়েছেন। দুই প্রটাগনিস্টের দৃষ্টিকোণ থেকে গল্প এগিয়েছে, যারা বেড়ার দুই পাড়ে অবস্থান করছেন। বেড়ার ভেতর 'সিটি', যেখানের বাসিন্দারা বাইরের দুনিয়া থেকে প্রিথক এবং নিজদের সুযোগ ভোগ করছেন। আর বাইরের দুনিয়ার মানুষদের তারা মানুষ-ই সাব্যস্ত করছে না, উৎকর্ষে তিনশ বছর পিছিয়ে পড়া মানুষদের 'জংলি' সাব্যস্ত করে অবাধে হত্যা করতেও নীতিতে বাঁধছে না নাগরিকদের। এইদিকে বেড়ার বাইরের পতিত মানুষদের পক্ষে আছে বিদ্রোহী দল 'কোকাবুরা', যাদেরকেও নীতিগতভাবে ভালোমানুষ ভাবা যায় না। পশুর মতো নীতির, গায়ের জোরে চলা এসব ধর্ষকামী মানুষদের সমাজ দেখলে মনে হতে পারে, wild west on a very bad day।
প্রেক্ষাপট শুরু হয়েছে তিনশ বছর পর জেগে ওঠা মাহমুদকে দিয়ে, দীর্ঘ ঘুমের প্রযুক্তি 'ডিপ স্লিপ' যার আবিষ্কার, আর যে আবিষ্কারকে পুঁজি করে অনেকাংশে পালটে গেছে দুনিয়া। তিনশ বছর পরের *কালচারাল শক* কাটিয়ে একদিকে মাহমুদ এগোয় বেড়ার বাইরের জনপদের মাঝে দিয়ে, অন্যদিকে 'সিটি'র নাগরিক লিয়াম ওমারের সাথে গল্প এগোয় উন্নত সভ্যতায়, বেড়ার এপাড়ে। কোথাও গিয়ে কি মিশবে তাদের স্টোরিলাইন?
অভিমত হলো এই : ডিসটোপিয়ার সবথেকে মজার ব্যাপার, আপনি যত ভাবতে পারবেন, বুঝতে শিখবেন, তত বেশি ডিটেইল চোখে পড়বে আপনার। এবং এইকাহ্নে, লেখকের ফিলোজফি একটা সুন্দর খেল দেখিয়েছে। খেয়াল করার মতো জিনিসগুলো লেখক পয়েন্ট আউট করে দেননি, কিন্তু চরিত্রদের কথোপকথনে আপনি একটা সমাজের সাইকোলজি, নিরাপত্তা, আর্থ-সামাজিক অবস্থা আন্দাজ করতে পারবেন। [ আমি যদ্দুর খেয়াল করেছি, পাঠক হিসেবে আরো বেশী আপনি খেয়াল করে থাকতে পারেন। ]
কোন একটা দেশ বা সমাজ যা চরমভাবে ইমব্যালান্সড, যেখানে মানুষজন সুবিধাবঞ্চিত এবং যেখানে মানুষ হিসেবে নূন্যতম সম্মানটাও মেলে না সে জায়গাটাকেই ডিসটোপিয়া বলা হয়। সাহিত্য বা ভিজ্যুয়াল মিডিয়াতে 'ডিসটোপিয়া' শব্দটা নিজেই একটা জনরা। ওপরে উল্লেখিত কল্পনার সে দেশ বা জায়গা নিয়ে যে গল্পটা তৈরী হয়ে সেটাই 'ডিসটোপিয়ান ফিকশন'। আলোচ্য উপন্যাসেও আমরা এরকম একটা সমাজ দেখতে পাই বলে এ উপন্যাসটাকে একদিকে ডিসটোপিয়ান উপন্যাস বলা যায় আবার উপন্যাসের টাইমলাইনকে বিচার করলে এটাকে সাই-ফাইও বলা যায়। তবে যারা সাই-ফাই শুনে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন তাদেরকে বলছি, এই বইটা মেইনস্ট্রীম টিপিক্যাল সাই-ফাই 'রোবটের বিদ্রোহ' কিংবা 'পৃথিবীর বাইরে আবাসস্থল খুঁজতে যাওয়া মিশন' এর সায়েন্স ফিকশন না। এখানে ভবিষ্যত পৃথিবীর কাল্পনিক বিবরণের সাথে প্রাধান্য পেয়েছে আধুনিক পৃথিবীর মানুষের সাইকোলজি। তাহলে কি নিয়ে এই বই সেটা বরং জেনে নেয়া যাক নিচে লেখা স্পয়লার বিহীন প্লট সামারি থেকে।
প্লট : ৩০০ বছরের ডীপস্লিপ দিয়ে এক্স মিলিটারী ম্যান ও বিজ্ঞানী মাহমুদ জেগে উঠলো ২৩১৮ সালে। ২০১৮ সালে ডীপস্লিপ দেয়ার আগে তার ধারণা ছিলো ৩০০ বছর পরে বিজ্ঞানের এতটাই উন্নতি সাধন হবে যে, প্রতিটি মানুষের মৌলিক চাহিদা তো পূরণ হবেই সেই সাথে মানুষের মাঝে ভেদাভেদ, শ্রেণীবিষম্য ইত্যাদি দূর হবে। কিন্তু ডীপস্লিপ থেকেই উঠেই প্রথমে যে মেয়েটার সাথে পরিচিত হলো, তার কথায় ফুটে উঠলো চরম বিষম্যের সুর। 'সিটি' এবং 'সিটির বাইরে' দুটো জায়গার সৃষ্টি হয়েছে এ আধুনিক পৃথিবীতে৷ সিটি হচ্ছে সকল সুযোগ সুবিধার জায়গা যেখানে থাকে সব ধনী, বুদ্ধিজীবী এবং সমাজ তথা দেশের গুরুত্বপূর্ণ মানুষরা। বলা বাহুল্য, ভবিষ্যত যে পৃথিবী মাহমুদ তার কল্পনায় এঁকেছিলো সিটির বাসিন্দারা সে সব সুযোগ সুবিধাই পায়। আর সিটির বাইরে তারাই থাকে যাদের আসলে সিটির ভেতরকার মানুষের প্রয়োজন নেই। আরেকটু স্পষ্ট করে বললে এই আধুনিক পৃথিবীতে মেশিন, রোবটের পরিমাণ বেড়েছে এবং কমেছে কায়িক পরিশ্রম করার শ্রমিকের প্রয়োজন। তাদেরকেই সিটির বাইরে রাখা হয়েছে যাদের ছাড়াও একটা উন্নত দেশ পুরোপুরি চলতে পারবে। সব বুদ্ধিজীবী, বিজ্ঞানী, রাষ্ট্র পরিচালকদের হারিয়ে সিটির বাইরের মানুষজন ভুলতে বসেছে মৌলিক চাহিদাগুলো। ১০ দিন না খেয়ে একদিন একটা বুনো খরগোশ পেলেই 'আরো কিছুদিন সার্ভাইভ করা যাবে' ভেবে আনন্দে আটখানা হচ্ছে তারা। যেখানে খাবার খাওয়াটাই বিলাসিতা সেখানে আসলে নিরাপদ আশ্রয়, শিক্ষা, সুন্দর সমাজ ব্যবস্থা, ইলেকট্রিসিটির অপ্রতুলতা আশা করা অন্যায়। তাইতো এ সুবিধাবঞ্চিত মানুষকে আলাদা একটা নামে চেনে সিটির বাসিন্দারা আর সেটা হলো 'জঙলি'। মানুষ বলে বোধহয় ভুলই করলাম, কারণ দুয়েকটা ইঁদুর মারা আর 'জঙলি' মারা দুটোই সিটির মানুষের কাছে একই রকম। পার্থক্য শুধু ইঁদুর মারা হয় ঘরবাড়ি, ফসলের ক্ষতিসাধন রক্ষার্থে আর 'জঙলি' মারা হয় স্রেফ শিকারের স্বাদ পেতে। মাহমুদ যখন এগুলো জানতে পারে তখন তার মনে হয়, সিটিতে তাকে ঢুকতেই হবে৷ মানিক বন্দোপাধ্যায়ের 'ঈশ্বর'কে আর শুধু ভদ্রপল্লীতেই থাকতে দেয়া যাবে না, এ বৈষম্য কোনভাবেই মেনে নেয়া যাবে না৷ সে ফন্দি আটতে থাকে কিভাবে ঢোকা যায় ওখানে।
উপন্যাসে মাহমুদের সাইড ছাড়াও আরেকটা সাইড আছে। সিটির ভেতরের সাইড। যেটার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে এসেছে অ্যামবিশনলেস, বেকার ওমার লিয়াম ও তার বন্ধুগণ। প্রযুক্তির উৎকর্ষে এরা হারিয়েছে দৈনন্দিন সব কাজের তাগাদা৷ সময় মতো সকল খাবার, পোশাক, বিনোদনের অতিমাত্রায় সহজলভ্যতা এদেরকে করে ফেলেছে বোরড। উদ্দেশ্যহীন জীবনে নিজেদের অস্তিত্বের সংকটে পড়ে এরা একদিন সিদ্ধান্ত নেয়, তারা সিটির বাইরে 'জঙলি'দের দু���িয়ায় যাবে। উদ্দেশ্য খুবই সাধারণ। কিছু জঙলি শিকার। কিছুটা মানবিকতা সম্পন্ন ওমর লিয়াম সিটির বাইরে যেতে চায় ঠিকই তবে তার উদ্দেশ্যে জঙলি শিকার না। ওমার জানতে চায় তার বান্ধবী নাতালিয়া সিটির বাইরে কোথায় গিয়ে হারিয়েছে?
মোটামুটির এই ছিলো বাতিঘর থেকে মার্চ ২০২২ এ প্রকাশিত হওয়া কিশোর পাশা ইমনের 'ডিসটোপিয়া'র স্পয়লারমুক্ত প্লট। প্লট লিখতে গিয়ে পোস্ট ইতোমধ্যে বেশ বড় করে ফেলেছি, তাই আর কথা না বাড়িয়ে চলে যাই ২২০ পৃষ্ঠার এই বইটির পাঠ প্রতিক্রিয়ায়।
প্লটটা আমার কাছে মাইনবেন্ডিং, টুইস্টে ভরপুর কিছু মনে না হলেও সাধারণ প্লট হিসেবে নিঃসন্দেহে এক্সক্লুসিভ মনে হয়েছে। কোর প্লটের শেষটা অনুমেয় হলেও আমার কাছে খারাপ লাগেনি। তবে এই বইয়ের স্ট্রং দিক হচ্ছে দুইটা। প্রথমটা হলো, লিখনশৈলী। সায়েন্সের কঠিন কঠিন টার্ম না আউড়ে লেখক খুব সহজভাবেই সিটির ভেতরকার বর্ণনা, দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহৃত জিনিসপত্রের বর্ণনা দিয়েছেন। সবার সাথে সবার যোগাযোগ, আপডেট থাকাসহ পার্সোনাল অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে যে ডিভাইসটার কথা বলা হয়েছে তাকে স্রেফ 'কম্পিউটার' বলেই লেখক দায় সেরেছেন। আর এ কারণেই আমার মনে হয়েছে, কেপি সাই-ফাই লিখতে গিয়ে যতটা না প্রযুক্তির গুনগান করতে চেয়েছে তারচেয়ে বেশি মনোযোগ দিয়েছে কাল্পনিক ভবিষ্যত পৃথিবীর মানুষের সাইকোলজির দিকে। একটু মনোযোগ দিয়ে বইটা পড়লেই ওমার ও তার দলবলের সাইকোলজি ধরতে পারা যায়। এছাড়া যারা কেপির বই পড়ে তারা আমার ধারণা একটা জায়গায় আমার সাথে একমত হবে যে, কেপির লেখা দারুণ সাবলীল। তা সেটা ন্যারেটিভ হোক কিংবা লেখার মাঝখানে ডায়ালগই হোক, পড়ার ক্ষেত্রে পাঠককে একদমই কসরত করতে হয়না। এ বইতেও সেটা বিদ্যমান ছিলো। তাই কারো হাতে সময় থাকলে এক সিটিং এই এ বই শেষ করা সম্ভব। আর দ্বিতীয় স্ট্রং পয়েন্টটা হলো, ইনসাইট। এটা অবশ্য কেপির লেখায় নতুন না। 'যে হীরকখন্ডে ঘুমিয়ে কুকুরদল' থেকে শুরু হয়েছে এই ইনসাইট এবং এরপর পড়া সবগুলো বইতেই আমি ইনসাইট পেয়েছি। 'ডিসটোপিয়া' এমনভাবে লেখা হয়েছে যে চাইলে এটাকে স্রেফ একটা ডিসটোপিয়ান সাই-ফাই ভেবে পড়া যাবে তবে যে ইনসাইটের মাইন এ বইতে পুঁতে রাখা হয়েছে তাতে পাড়া না দিয়ে কোন পাঠক হাঁটতে পারবে বলে আমার মনে হয় না। আমি পার্সোনালি কোন বইয়ে ইনসাইট কিংবা লেখকের দর্শন থাকলে তা আগে থেকে কোন রিভিউ পড়ে জানতে চাই না। এতে করে আমার ভাববার ক্ষমতাটা নষ্ট হয়, বইটা পুরোপুরি এনজয় করতে পারি না এবং সবচেয়ে বড় যে লসটা হয় তা হলো, বই থেকে কিছু আহরণ করতে পারিনা। তাই এই রিভিউ পড়ে একজনও যদি এই বইটা পড়েন, তাদের জন্য ইনসাইটের জায়গাগুলো আমি উল্লেখ করলাম না। তবে বই শেষ করে কেউ আমার সাথে আলোচনা করতে চাইলে, You are welcome.
বেশ পজিটিভ কথা বার্তা বলার পর মনে হতেই পারে, এ বইয়ের সবই কি ভালো লেগেছে আপনার? না সব ভালো লাগেনি। যেমন : লেখক বলেছেন, সিটিতে তারাই থাকে যারা কোন না কোন কাজ/উন্নয়নের সাথে সম্পৃক্ত। যদি এটাই হয়ে থাকে, তবে ওমার ও তার দলবলের নিশ্চয়ই কোন কাজ থাকার কথা। কিন্তু এদেরকে যেভাবে পোর্ট্রে করা হয়েছে তাতে মনে হচ্ছে এরা বেকার, ফ্রাস্ট্রেটেড ইয়ং জেনারেশন যাদের লাইফে সবই থাকার কারণে মানুষ হিসেবে তাদের কোন গোল নেই। এরা সিটিতে কি করছে? আর বুঝলাম সিটি প্রথমে গড়ে উঠেছে, প্রয়োজনীয় মানুষদের নিয়ে। প্রাথমিকভাবে এ সিটি ১০০ জন মানুষকে নিয়ে গড়ে উঠলেও ২০ বছর পর নিশ্চয়ই জনসংখ্যা বাড়বে৷ আর জনসংখ্যা বাড়লে সে বাড়তি জনসংখ্যার মাঝে নিশ্চয়ই দুই চারটা অপ্রয়োজনীয় মানুষ বের হবে। তাদেরকে সিটি কোথায় রাখবে? ভেতরে না বাইরে? সিটির ভেতর জায়গায় জায়গায় নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে লেখক প্রচন্ড দূর্বল করে দেখিয়েছেন। আক্রমণ স্রেফ বাইরে থেকেই আসবে, ভেতরের লোকজন সব সাধু, এমনটা ভাবার কারণে বই পড়তে পড়তে আমারই মনে হয়েছে, যাই, প্লাজমা গান দিয়ে বিজ্ঞান ভবনটাতে একটা আক্রমণ করে আসি (প্লাজমা গানসহ আরো টুকটাক সায়েন্সের টার্মের এক্সপ্ল্যানেশান বই পড়তে পড়তে কনটেক্সের সাথে এমনিতেই জানা যাবে। তারপরও বুঝতে না পারলে এগুলো নিয়ে টীকা বইয়ের শেষে সংযুক্ত করা হয়েছে)। বইয়ে বিয়ে সম্পর্কিত লেখকের দর্শন বেশ খোলাখুলি ভাবেই এসেছে। আমরা যেমন বলি, 'বে*জন্মা', লেখক এখানে সে স্থলে ব্যবহার করেছেন 'বিবাহের ফলে জন্ম নেয়া সন্তান'। আমরা যেমন বলি, 'হোয়াট দ্য ফা*ক' লেখক এখানে সে শব্দকে স্থানান্তরিত করেছেন 'হোয়াট দ্য ম্যারেজ' বলে। এছাড়াও বইতে বিভিন্ন চরিত্রের মুখ দিয়ে সময়ে অসময়ে বিয়েকে ভবিষ্যত পৃথিবীর মানুষের কাছে বাহুল্য তো বটেই, খুবই খারাপ একটা জিনিস হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। গল্পে এ জিনিসটা যদিও কোন সমস্যার সৃষ্টি করে নি তবে আমার কাছে এটা ইল্লোজিক্যাল এবং অপ্রয়োজনীয় মনে হয়েছে এবং লেখকের এ দর্শন আমার ভালোও লাগেনি। আবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী না কিন্তু লোকজনকে বিধ্বংসী প্লাজমা গান কেনার পারমিশন নিয়ে সরকার (বিজ্ঞান ভবন) কি নেকি হাসিল করার মিশনে নেমেছে তাও আমার মাথায় ধরেনি। এরকম আরো বেশ কিছু প্রশ্ন এসেছে যার সদুত্তর আমি পাইনি। লেখক কি এগুলো স্ব-ইচ্ছায় এড়িয়ে গেছেন নাকি আমার ছোট্টো মস্তিষ্ক এগুলোর পেছনের কার্যকারণ ধরতে পারে নি, তা কেউ এই বই পড়ে বুঝে থাকলে জানাবেন।
তো এই হচ্ছে সব মিলিয়ে আমার কাছে 'ডিসটোপিয়া'। সিম্পল করে বলতে গেলে, একটা উপন্যাস হিসেবে কাটাকুটি করতে বসলে 'ডিসটোপিয়া' আমার কাছে মার খেয়ে যাবে অনেক জায়গায়ই এবং এ বইটাতে আমি যে পরিমাণ ফ্ল পেয়েছি কেপির অন্য কোন বইতে এত ফ্ল পাইনি। তবে, এই বইটা আপনাকে ভাবাবে, আপনার দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দেয়ার পথে একটু এগিয়ে দেবে, সে দৃষ্টিকোণ থেকে বললে বললো, হ্যাঁ, বইটা ভালো। সব মিলিয়ে ভেবে দেখুন, কয়েকটা ঘন্টা কাটিয়ে আসবেন নাকি সিটির বাইরে মাহমুদের সাথে কিংবা সিটির ভেতরে ওমার সাথে।
বি:দ্র: কন্টেক্সটের খাতিরে হলেও বইটাতে প্রচুর পরিমাণ গালাগালি করা হয়েছে, অ্যাডাল্ট সিনের বর্ণনা দেয়া হয়েছে। তাই ১৮ এর নিচে পাঠকদের এ বইটা না পড়ারই পরামর্শ দেবো আমি। সুতরাং, আপনার হার্ডকোর সাই-ফাই লাভার ভাগ্নে-ভাগ্নি, ভাতিজা-ভাতিজির হাতে বইটা তুলে দেবার ইচ্ছা হলে, আগে নিজে একবার পড়ে নেবেন প্লিজ।
ভালো ছিল। প্লট আহামরি না; একে তো সাইন্স ফিকশন, তার উপর ভবিষ্যতের কাহিনী। এমন প্লটে হাজার হাজার সায়েন্স ফিকশন ইতিমধ্যে রচিত হয়ে গেছে। কিন্তু, এই বইটাকে বাকি সবগুলো সাইন্স ফিকশন থেকে আলাদা করেছে কেপির লেখনশৈলি আর ঘটনাক্রম। ভবিষ্যতের কাহিনী নিয়ে লেখা অন্য সব সাইন্স ফিকশনেই দেখা যায়, ভবিষ্যতের পৃথিবী দারুণ উন্নত হয়ে গেছে, অথবা পৃথিবী ধ্বংস হয়ে গেছে, এরই মাঝে একটা ক্রাইসিস তৈরি হয়, সেটা নিয়েই কাহিনী। কিন্তু, এই উন্নতি বা অবনতির চরম শিখরের ছবিটা দেখাতে গিয়েও, লেখকরা কেন যেন whole pictureটা দেখাতে পারছিলেন না। সেটাই করে দেখিয়েছেন কেপি। এই কারণেই বইটা ভালো লেগেছে। আর কেপির অন্য সব বইয়ের মত এটাতেও শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত, the whole journey was exciting, এই কারণে শেষের টুইস্ট বা ঐরকম কোনোকিছু আলাদা করে বিশেষ আবেদন সৃষ্টি করতে পারে নি। বিষয়টা অনেকের ভালো লাগে, অনেকের লাগে না। তো, এতটুকুই বলার ছিল। বইটা পড়লে হতাশ হতে হবে না আশা করি। ধন্যবাদ।
“You never change things by fighting the existing reality.To change something, build a new model that makes the existing model obsolete.”― Buckminster Fuller - ❛ডিসটোপিয়া❜ - মাহমুদ, একজন এক্স মিলিটারি পার্সন এবং বিজ্ঞানী। নিজের আবিষ্কৃত এক চেম্বারে ডিপস্লিপে যাওয়ার ফলে ৩০০ বছর পরে সেখান থেকে জেগে উঠেন তিনি। একটি ইউটোপিয়ান পৃথিবীকে দেখার আশায় ডিপস্লিপে গেলেও সেখান থেকে উঠে এসে ডিসটোপিয়ান ঘরানার এক পৃথিবীকে দেখতে পান তিনি। - ওমার, ৩০০ বছর পরের দুনিয়ায় বসবাসরত এক সিটিজেন। তার বান্ধবী নাতালিয়া ওমারের হোভারক্রাফট নিয়ে সিটির বাইরে গেলে তাকে খোঁজার আশায় এক শিকারী দলের সাথে হাত মেলায় সে। কিন্তু সিটির নিরাপত্তার বাইরে গেলে অতর্কিত হামলার শিকার হয় তারা। - মেগাসিটি, ২৩১৮ সালের স্থাপত্যশৈলীর এক অনন্য নিদর্শন। সেখানে বসবাসরত সিটিজেনদের আপাতদৃষ্টিতে সুখ-সমৃদ্ধির কোন সীমা নেই। কিন্তু আসলেই কী তারা সুখী? কেনই বা সিটির বাইরে মানুষ জংলীদের মতো ঘুরে বেড়াচ্ছে? সেই জংলীদলের ভেতরে 'কোকাবুরা' নামের দলটি কারা চালাচ্ছে? এ সব কিছুর সাথে মাহমুদ আর ওমার কীভাবে জড়িয়ে পড়ে? এ প্রশ্নগুলোর উত্তর জানার জন্য পড়তে হবে লেখক কিশোর পাশা ইমনের ডিস্টোপিয়ান ঘরানার উপন্যাস ❛ডিসটোপিয়া❜। - ❛ডিসটোপিয়া❜ - নাম দেখেই বোঝা যায় এটি একটি ডিস্টোপিয়ান ফিকশন। ডিস্টোপিয়ান সাই ফাই এর নানা উপাদানের সাথে বইটিকে একটি সোশ্যাল স্যাটায়ারও বলা যায়। বইতে ৩০০ বছর পরের পৃথিবীর অনেক কিছুই রূপকার্থে ব্যবহৃত হয়েছে যা আসলে আমাদের বর্তমান সময়ের সমাজ ব্যবস্থাকেই নির্দেশ করে। এই বইয়ের বেশ চমকপ্রদ অংশ হলো এর ওয়ার্ল্ড বিল্ডিং। লেখক ৩০০ বছর পরের পৃথিবীর এক রুপকল্প দেখিয়েছেন সেখানে। যদিও সে পৃথিবীর বেশ কিছু ব্যপার প্লটের দিক থেকে চিন্তা করলেও অবিশ্বাস্য লেগেছে, তারপরেও পড়তে গিয়ে কোথাও কাহিনি জটিল মনে হয়নি। উলটো বই শেষ করার পরে মনে হয়েছে যে ধরনের ওয়ার্ল্ড বিল্ডিং বইতে হয়েছে তা আরো বিস্তৃত উপন্যাস ডিজার্ভ করে। ফিউচারিস্টিক টেকনোলজি এবং তাকে ঘিরে যে সমাজ ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে সেগুলোর বর্ণনাও বেশ সহজবোধ্য ভাবেই লেখা হয়েছে। - ❛ডিসটোপিয়া❜ বইয়ের চরিত্রায়নের দিক থেকে সবচেয়ে ভালোভাবে ফুটে উঠেছে ওমার এবং তাদের সাঙ্গোপাঙ্গোদেরকে। সিটির ভেতরের মানুষদের মনস্তাত্ত্বিক অবস্থা কীরকম হতে পারে তা বোঝা গিয়েছে তাদের মাধ্যমে। তার তুলনায় মাহমুদকে অনেকটা ওভার দ্য টপ মনে হয়েছে। একাধারে মিলিটারি জ্ঞান সম্পন্ন এবং বিজ্ঞানী হিসেবে এই চরিত্রটিকে মনে হয়েছে কিছুটা অতিমানবিক হিসেবেই দেখানো হয়েছে। সায়েন্স ফিকশন হিসেবে লেখনশৈলী জটিলতায় পূর্ণ থাকার বদলে বেশ সহজ করে লেখা টানটান ঘরানার ছিল বলে পড়তে গিয়ে আরামই লেগেছে। বইতে সিটির ভেতরে এবং বাইরে যে সমাজব্যবস্থা দেখানো হয়েছে তার কয়েকটা ব্যপার বাদ দিলে খুবই ইনোভেটিভ লাগলো। সায়েন্স ফিকশন এবং ডিসটোপিয়ান ধাঁচের হলেও বইতে থ্রিলেরও কোন কমতি ছিলো না। তবে আমার মনে হয়েছে বইতে অনেক জায়গায় হিউমারাস পার্টটা বেশি ফোকাসে থাকায় যতটা ডার্কে যেতে পারতো কাহিনি; বইটা সে পরিমাণ ডার্ক হতে পারেনি শেষমেষ। - ❛ডিসটোপিয়া❜ বইয়ের প্রোডাকশনের ব্যপারে বলতে গেলে খুবই গতানুগতিক প্রোডাকশনের বই এটি। বইয়ের কভার একেবারেই সাদামাটা লেগেছে। বইতে বেশ কিছু চোখে পড়ার মতো বানান ভুল ছিলো আর আমার কপির বাঁধাইয়ের অবস্থা ছিলো একেবারে নাজুক। আশা করি সামনে প্রকাশনীটি ব্যাপারগুলো শুধরে নিবে। - এক কথায়, বাংলা মৌলিক সাই ফাই হিসেবে বেশ সহজবোধ্য এবং ফাস্ট পেসড একটি বই হচ্ছে ❛ডিসটোপিয়া❜। কয়েক জায়গায় ঘটনাবলী ঠিক লজিক্যাল মনে না হলেও তা এ ঘরানার পাঠকদের পড়ায় খুব একটা বিঘ্ন ঘটাবে বলে মনে হয় না। তাই যারা বাংলা মৌলিক সাই ফাই এবং ডিস্টোপিয়ান ফিকশন পড়তে ইচ্ছুক তারা বইটা পড়তে পারেন।
অতিকায় হস্তী লোপ পাইয়াছে, তেলাপোকা আর কম্যুনিজম টিকিয়া আছে। ১৯৭১(বন্দুক উঁচিয়ে): পাক সার যামিন সাদ গাকে দিখাও। ২৩১৮(বন্দুক উঁচিয়ে): আমার সোনার বাংলা গাও। বলছিলাম একুশে বই মেলা ২০২২ এ বেরুনো 'ডিসটোপিয়া' উপন্যাসটি নিয়ে। যেখানে কাহিনী মূলত ২৩১৮ সালের পৃথিবীকে নিয়ে এগিয়েছে। ভেতরে ভেতরে যদিও আমরা অনুভব করতে পারি যে এই পৃথিবী কখনোই একটা স্বর্গরাজ্য হয়ে উঠবে না তবুও আমাদের স্পিরিট অফ আ স্পোর্টসম্যান বা খেলোয়াড়সুলভ মানসিকতা কিংবা মনের ইতিবাচক দিকটা বিশ্বাস রাখে যে প্রাণপণে পৃথিবীর জন্জাল সরিয়ে গেলে বা ভালো কাজ করার চেষ্টা অব্যাহত রাখলে পরবর্তী প্রজন্মের জন্য আমরা তূলনামূলক ভাবে বেটার পৃথিবী রেখে যেতে পারবো৷ আর আমরা তা পারিও। তার প্রমাণ প্রযুক্তিগত অগ্রগতিগুলো। দেশীয় লেখকদের লেখা বেশিরভাগ সাই-ফাইয়ে প্রযুক্তিকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে খলনায়ক হিসেবে দেখানো হয়ে থাকে। "প্রযুক্তি মানুষকে দিয়েছে বেগ, কেড়ে নিয়েছে আবেগ" জাতীয় ব্যাপারও দেখানো হয় যেখানে সরাসরি প্রযুক্তিকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয় না। এ লেখাতেও অনেকটা তাই করা হয়েছে। সরাসরি প্রযুক্তিকে দোষী না করে প্রযুক্তির কুপ্রভাবটা আনা একটু অন্যভাবে। রোবটের বিদ্রোহ জাতীয় হাস্যকর জিনিসের থেকে বরং এটা ভালো।
তো ক্যামন ছিল ২৩১৮ সালের পৃথিবী লেখকের কল্পনায়? প্রযুক্তি ক্ষেত্রে চরম উৎকর্ষ সাধন হওয়ায় মানুষকে আগের মতো শ্রম দিতে হচ্ছে না অবশ্যই। কিন্তু সকল ক্ষেত্রেই তৃতীয় বিশ্ব বলে একটা ব্যাপার থাকে সুফল ভোগের ক্ষেত্রে যারা সবসময় পিছিয়েই থাকে। এক্ষেত্রেও তাই। প্রযুক্তির কল্যাণে তৈরী উন্নত সেবা না পাওয়াদের দলটাই ভারী। অর্থাৎ এখানেও ঈশ্বর থাকেন সেই ভদ্রপল্লীতেই। ঐ পল্লীর বাইরের লোকেরা সবসময়ের মতোই বঞ্চিত বাঞ্চোত এবং ভদ্রপল্লীর ভদ্দরনোকেেদের কাছে যারা অচ্ছুত, জানোয়ারের মতো আচরণ করতে হয় যাদের সাথে। বর্ণপ্রথা সময়ে সময়ে রুপ বদলায়, বিলোপ পায় না।
প্রযুক্তিগত উন্নতির সাথে সাথে বাড়া জীবনযাত্রার মানের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এসেছে মূল্যবোধের চরম অবক্ষয়। খাঁজকাটা খাঁজকাটা খাঁজকাটা 😉। নারীরা আগের চেয়েও বিরাট আকারে ভোগপণ্যে বা যৌনদাসীতে পরিণত হয়েছে। হয়েছে পুরুষরাও, তবে নারীদের মতো বেশী নয়। ব্রেভ নিউ ওয়ার্ল্ড, লর্ড অফ দ্য ফ্লাইজ, নাইন্টিন এইটিফোর বা আরো কিছু ডিসটোপিয়ান নোভেলের মতো এখানেও বিজ্ঞান নিয়েছে ধর্মের আসন। খাঁজকাটা খাঁজকাটা খাঁজকাটা। 🤣
দুটো ভিন্ন সাইড থেকে কাহিনী এগিয়েছে। ২০১৮ সাল থেকে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হতে সদ্য জেগে ওঠা মেজর মাহমুদের দিক থেকে এবং ২৩১৮ সালের বোরড, অ্যামবিশনলেস,বেকার জেনারেশনের প্রতিনিধিত্বকারী চরিত্র ওমারের দিক থেকে। সাবেক মেজর দীর্ঘ ঘুম থেকে উঠে এক্সপ্লোর করার চেষ্টা করছে নয়া পৃথিবীকে। অন্যদিকে ওমার প্রয়োজনীয় প্রিকশন সমেত তার মতো আরো কিছু নিষ্কর্মাকে নিয়ে বেরিয়ে পড়েছে ভদ্রপল্লীর বাইরের বিপদজনক এলাকায় তার বান্ধবীকে খুঁজতে। উপন্যাসের মোটামুটি শেষ কিছু পৃষ্ঠা পর্যন্ত না গেলে এ দুই সাইডের যোগসূত্রটা বোঝা যাবে না।
লেখকের অন্যান্য লেখার মতো এটাও একই ধাঁচের ইনসাইট সমৃদ্ধ। নিছক বিনোদনের উদ্দেশ্যে পড়তে গেলেও এগুলো পাঠক ইগনোর করতে পারবেন বলে মনে হয় না। খাঁজকাটা খাঁজকাটা খাঁজকাটা। 🐸
উপন্যাস��� ব্যবহৃত অপরিচিত টার্মগুলো গল্পের প্রয়োজনেই ব্যবহার করা হয়েছে যেগুলো অন্তত মুহম্মদ জাফর ইকবালের সাই-ফাইয়ের পাঠকদের বুঝতে অসুবিধে হওয়ার কথা না কারণ সেখানে ব্যবহৃত টার্মগুলোর তুলনায় এগুলো অনেকটাই সহজবোধ্য। তারপরেও অসুবিধে হলে বইয়ের শেষে রয়েছে টার্মগুলোর পিচ্চি আকারে ব্যাখ্যা।
কিছু জায়গায় মনে হয়েছে লেখক স্কিপ করে গেছেন বর্ণনা বা অ্যাকশন সিন আরো বেশি রাখা যেতো যেটা সম্ভবত লেখার কলেবর না বাড়ানোর জন্য।
কিশোর পাশা ইমনের লেখা একুশে বইমেলা দুহাজার বাইশে বাতিঘর প্রকাশনী হতে বেরুনো দেশীয় পটভূমিতে রচিত দুশো আটাশ পৃষ্ঠার এ বইটি ৪৭% ছাড়ে ১৪৯ টাকায় সংগ্রহ করতে পারেন কাজল বুক ডিপো হতে।
মানবজীবন এক বিশাল শূন্যতার মাঝে দাড়িয়ে থাকে। পিছনে ফেলে আসা বিশাল অতীত এবং সামনে অপেক্ষমান দানবীয় ভবিষ্যৎ। এই দুইয়ের মাঝে যে বর্তমান সেটায় কেউ থাকতে চায় না। সবার দৃষ্টি যেন ঐ দুই অদ্ভুত কালের দিকে।
মাহমুদ। ২০১৮ সনের এক্স-মেজর এবং বিজ্ঞানী। বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীর কারিকুরিতে এগিয়ে যান ঠিক ৩০০ বছর।
২৩১৮ সাল। চট্টগ্রামে নিজের ল্যাব কাম বাসস্থানে এক গভীর ঘুম থেকে জেগে উঠেন মাহমুদ। নিজের এক অপার বিস্ময়কর বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার ডিপস্লিপ থেকে উঠে সে মুখোমুখি হয়ে যায় এক নতুন সংকটের।
মানুষ ইতিহাসের সিংহভাগ সময় কখনো ফ্রি ছিল না। ফ্রিডম মানুষের আজন্মলালিত এক বাসনা। কিন্তু মানবজীবনের অন্যতম বড় দূর্ভাগ্য হল এক খাঁচা ভেঙে সে যে নতুন খাঁচায় প্রবেশ করে সেটিকেই মনে করে ফ্রিডম।
২৩১৮ সনে এসে মাহমুদ দেখে বর্তমানের এক বর্ধিত রূপ। যন্ত্র কেড়ে নিয়েছে মানুষজনের কাজকর্ম। আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্সের কল্যানে শহর বা মহাশহরের বেশিরভাগ নাগরিকের কোন কাজই করতে হয় না। তবে পুঁজিবাদী বিশ্বের মত সেই সুফল ভোগ করছে শুধুমাত্র মেগাসিটির নাগরিকেরা।
বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তির প্রকান্ড আশির্বাদ পাচ্ছে এক শ্রেণির মানুষ আবার আরেক শ্রেণির মানব সন্তান পালন করছেন আদিম জীবন। এক সেইফটি নেট দিয়ে ভাগ করে রাখা হয়েছে সুবিধাপ্রাপ্ত এবং সুবিধাবঞ্চিতদের। আবার এগিয়ে থাকা সভ্যতার নেশাখোরেরা যথারীতি পশুর মত শিকার করে বেরাচ্ছে নিরাপত্তার চাদরের বাইরের সহজ সরল মানুষদের। অবশ্য সেসব শোষিত, বঞ্চিত মনুষ্যসন্তানরাই বা কতটুকু সহজ সরল আছেন? কোকাবুরা নামক এক ভয়ানক সংগঠনের কাছে তাঁরা একপ্রকার জিম্মি। নৃশংসতায় কোকাবুরার জুড়ি নেই। ৩০০ বছরেও মানবচরিত্রের তেমন একটা পরিবর্তন হয়নি।
বাতির নিচের অন্ধকারের মত বৈষম্য এবং নির্বিচার হত্যার শিকার হয়ে চলছে নেটের বাইরের মানুষজন। তথাকথিত উন্নত মানুষজনের কাছে এরা পশুর চেয়ে বেশি কিছু নয়। এবং চট্টলা নামক মহাশহরের নাগরিক এবং শাসকদের এসব দু'পেয়ে পশুর প্রতি তেমন কোন সংবেদনশীলতা নেই।
৩০০ বছর পৃথিবীর ইতিহাসের তুলনায় অতিশয় নগন্য এক কাল। বিজ্ঞানের প্রভূত উন্নতি হয়ে গেছে তবে মানুষের মনমানসিকতা রয়ে গেছে সেই মধ্যযুগিয়।
গল্পে বৈষম্যপীড়িত এবং অন্যায়ের শিকার জনগোষ্ঠির প্রতি সিম্প্যাথাইজার আছে। যেমন মানবতাবাদি সাংবাদিক ও সাহিত্যিক নাতাশিয়া। আবার আছেন ওমার। যেকোন মূল্যে নাতাশিয়াকে রক্ষা করতে চায় সে। সেইফটি নেটের বাইরে নাতাশিয়া এত ঝুঁকি নিয়েই বা যায় কেন?
এদিকে মাহমুদের আবিষ্কৃত ডিপস্লিপ পরিণত হয়েছে মাদকাশক্তিতে। ভয়ানক সব কাজকারবার করে বেরাচ্ছে এই মাদকে আক্রান্ত নেশাখোরেরা। প্রাক্তন সেনাবাহিনী সদস্য নেমে পড়েন সেইফটি নেটের ভিতরে এবং বাইরের মধ্যে ন্যায়বিচার আনতে।
দুর্দান্ত একশন সিন লেখার ব্যাপারে কিশোর পাশা ইমন একজন মায়েস্ট্রো। পুরো বই জুড়ে আমার মনে হয়েছে মাথার ভিতর যেন একটা ফাটাফাটি মুভি চলছে। ভবিষ্যতের শহর এবং বিভিন্ন আবিষ্কারের ভিজ্যুয়ালাইজেশন একদম চোখের সামনে এনে দিয়েছেন লেখক। লেখকের জাদুঘর পার্ট ১ এবং ২ এর মধ্য দিয়ে এক অন্যরকম স্মৃতিময় ভ্রমণের পর আমার পড়া কেপির লিখা তৃতীয় বই এটি। তাঁর লেখনী সবসময়ই আমার বেশ ফাস্ট পেইসড লেগেছে। এই গ্রন্থটিও ব্যতিক্রম নয়।
লেখক দুই লেয়ারে গল্প লিখেছেন। বইটি সায়েন্স ফিকশন হিসেবে ভালোই তবে এখানে কেপির মূল লক্ষ্য ছিল মনে হয় হিউম্যান সাইকোলজি। মানব ইতিহাসের চিরাচরিত ক্ষমতার দন্দ্ব, পুঁজিবাদি বৈষম্য, প্রাসাদ ষড়যন্ত্র সবই উঁকি দিয়েছে সচেতন পাঠকের মনে। বইটি সায়েন্স ফিকশনের চেয়ে বেশি রাজনৈতিক। ডিস্টোপিয়া পড়ে আমার কেন জানি ইস্রাইল এবং ফিলিস্তিনের কথা মনে পড়ে গেছে। এটা কি শুধু আমার একার ধারণা?
লেখক কিশোর পাশা ইমনের "ডিস্টোপিয়া" আমি হাইলি রেকমেন্ড করতে চাই। কেপি দিনকে দিন এক দানব লেখকে পরিণত হচ্ছেন।
মানুষ ডিস্টোপিয়া থেকে বের হয়ে ইউটোপিয়ায় যেতে চায়। সবচেয়ে বড় আইরনি হল শত সংগ্রামের পর যে স্বপ্নের ইউটোপিয়ায় মানুষ প্রবেশ করে সেটি আসলে আরেকটি স্বর্ণখচিত ডিস্টোপিয়া মাত্র।
সাবেক মিলিটারিম্যান ও বৈজ্ঞানিক মাহমুদ জেগে উঠলেন ৩০০ বছরের ডিপস্লিপ থেকে। দেখতে চেয়েছিলেন ভবিষ্যতের উন্নত পৃথিবী। জেগে উঠে দেখলেম এক ডিসটোপিয়ান পৃথিবী। প্রযুক্তিগত দিক থেকে উন্নতি ঘটলেও সেই সুফলের ভাগীদার হয়নি বড় একটা জনগোষ্ঠী। আর সেই বিশাল জনগোষ্ঠীর ভাগ্যে জুটেছে এক বর্বরতার সমাজ।
বইয়ের কনসেপ্ট চমৎকার। ধরাবাধা রোবটের উত্থান, প্রযুক্তির উন্নতি, বসবাসের অযোগ্য পৃথিবী বা পৃথিবীর আসন্ন ধ্বংসের বাইরে গিয়ে এই সায়েন্স ফিকশনে বরং উঠে এসেছে মানবতা ও মূল্যবোধের বিষয়গুলো। সমাজের উন্নতির সাথে মানুষের মূল্যবোধের পরিবর্তনের বেশ আকর্ষণীয় কিছু দিক তুলে ধরেছেন লেখক। কিছুসংখ্যক মানুষ প্রযুক্তির চরম উন্নতির স্পর্শে মানবতা হারিয়ে প্রযুক্তির বাইরে থাকা সাধারণ মানুষকে জংলি ধরে নিচ্ছে খেয়াল খুশি মতো, তাদের খুন করে ফেলছে শুধুমাত্র বিনোদনের উদ্দেশ্যে। আবার সভ্যতার উন্নতির বাইরে থাকা তথাকথিত জংলি সমাজ ক্ষমতাবান অপরাধীদের কাছে হার মানছে। কর্মক্ষেত্র অটোমেটেড হয়ে যাওয়ায় কাজ করার দরকার না পড়ায় বেকার বসে থাকা মানুষের অলস মস্তিষ্কের চিন্তাধারার যে বিকাশ দেখিয়েছেন তা অনবদ্য। বইটা চিন্তার অনেক খোরাক দেয়, যা কিনা এর সবথেকে চমৎকার দিক।
সিটির বাইরের ক্ষমতাধর কোকাবুরাদের সম্পর্কে আরেকটু জানতে পারলে ভালো লাগতো। কোকাবুরাদের উচ্চপদস্থ অর্নবের রহস্যময় জীবন নিয়ে আরে জানতে ইচ্ছা করছিলো। কেন্দ্রীয় চরিত্র মাহমুদের কিছু আচরণ বেশি আবেগপ্রবণ লেগেছে যা তার চরিত্রের সাথে যায় না বলে মনে হয়েছে। মোটকথায় পুরো বইটা আরেকটু বড় হলে, লেখক যে চিন্তাধারাগুলোর উল্লেখ করেছেন সেগুলো আরেকটু বিস্তারিতভাবে পড়তে পারলে আরো বেশি উপভোগ করতাম বইটা।
🟥প্রাসঙ্গিক কথাঃ ২৩১৮ সাল। এককালে যে জায়গায় ৪০ লাখ লোক থাকতে পারতো মাল্টিলেভেল সিটির কল্যাণে আজ একই জায়গায় গড়ে উঠেছে ১০০ কোটি লোকের সভ্যতা। মানব সভ্যতার উৎকর্ষে আজ মঙ্গলে ৩ কোটি মানুষের একটা শহর আছে আর শনির দুটো উপগ্রহে মানুষ থাকছে। ২১৬৩ সালে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স আর কোয়ান্টাম কম্পিউটিং এর কল্যাণে সবকিছু সহজলভ্য হয়ে উঠেছিল। এই উন্নতির ফলাফলের টক ঝাল মিষ্টি স্বাদ মানবজাতির প্রত্যেকে কি নেবে না? আরো ১০০ কোটি মানুষ আছে সিটির বাইরে যারা তৃতীয় বিশ্বের অবহেলিত, বঞ্চিত, লাঞ্ছিত জনগোষ্ঠী। দিনশেষে তাদের বাদ দিয়ে দুনিয়া আর মানবজাতি উন্নত হতে থাকে। প্রযুক্তি বিপ্লবের পর যারা তৃতীয় বিশ্বে থাকলো তাদের অবস্থা হল অন্য যেকোনো বিপ্লবের থেকে খারাপ। মানবজাতির এই অসম উন্নয়নের চিত্রটা সব সময় ছিল, সব সময় থাকবে। পাথর ঠুকে আগুন জ্বালানো মানুষ এর জন্য যেমন আশীর্বাদ হয়ে এসেছিল, সেই আগুনও কালের আবর্তে আরেকজন মানুষকে পুড়িয়ে মারার অস্ত্র হয়ে ওঠে। এভাবেই বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিগত উন্নয়ন মুদ্রার এপিঠে মানুষের জীবনযাত্রার মান বাড়ার সাথে সাথে অপর পিঠে মানব সভ্যতার দুর্দশার অন্যতম কারণ হয়ে উঠে। আজকের মানুষ উন্নত হয়েছে তার চিরায়ত রক্তপিপাসু স্বভাব ধরে রেখেই। 🟥কাহিনি সংক্ষেপঃ বাংলাদেশ আর্মির একজন মেজর ২০১৮ সালের পর গায়েব হয়ে যান। মেজর মাহবুব অন্তর্ধানের সময় কাজ করছিলেন একটা সায়েন্টিফিক প্রজেক্ট নিয়ে। হঠাৎ হাইবারনেশন থেকে উঠে আসেন মেজর। ঘুম ভাঙার পর দেখতে পান একদম অচেনা অকল্পনীয় এক নতুন দুনিয়া। চট্টলার যে পাহাড়ের উপর নিজ পৈতৃক নিবাসে মাহমুদ ঘুমিয়ে ছিলেন, সেখান থেকে দেখতে পান ডিএনএর ডাবল হেলিকসের মত প্যাঁচানো বিশাল একটি শহর । ট্রেইনড সোলজারের স্বভাবজাত নিজস্ব পেরিমিটার চেক করতে গিয়ে খুঁজে পান একটি মেয়েকে। তার থেকে জানতে পারেন প্রযুক্তির ব্যবহারে আমূল পরিবর্তন এসেছে এই সভ্যতায়। সিটি নামের একটি মাল্টিলেভেল শহর ছাড়াও এর বাইরে আছে শতকোটি নিরীহ মানুষ, ভয়ংকর কোকাবুরা আর অবিকশিত জঙলির দল। সিটির বাইরে সাধারণ মানুষের জীবনের কোনো নিশ্চয়তা নেই, নেই ন্যুনতম মৌলিক অধিকার। প্রযুক্তির কল্যাণে মানুষের কাজ কমেছে, বেড়েছে বেকারত্বের হার । মাত্র ১০ হাজার মানুষ আর আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এর ব্যাবহারেই চলছে বিশাল সিটির ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা, চাষাবাদ থেকে নীতিনির্ধারনী কাজ পর্যন্ত। পুরো বিষয়টাই কেমন যেনো ঘোর লাগা, স্বপ্নের মত লাগে মেজরের কাছে। এইতো গত রাতেও মেজর ছিলেন ২০১৮ সালে। সে রাতে বৃষ্টি পড়েছিল তার মনে আছে অথচ তার যদি ভুল না হয়ে থাকে তাহলে এখন ২৩১৮ সাল। 🟥পাঠপ্রতিক্রিয়াঃ ★ একটা সাইফাই বইয়ে লেখকরা সাধারণত দুনিয়া কাঁপানো কোনো আবিস্কার বা ভিন্ন জগতের কিছু দিয়ে শুরু করে তারপর কাহিনি ধীরে ধীরে আগাতে থাকেন। ডিসটোপিয়ায় লেখক পুরো উল্টো পথে হেঁটেছেন। সবার জন্য সহজবোধ্য একটা টপিক হাইবারনেশন দিয়ে শুরু করে কাহিনির সাথে অদূর ভবিষ্যতের মানুষের জীবনযাত্রা, তাদের সাইকোলজি, সামাজিক বৈষম্য, প্রযুক্তির উৎকর্ষের সাইড ইফেক্টসহ আরো অসংখ্য বিষয় বইয়ের পরতে পরতে জুড়েছেন। মাহমুদের সামুরাই ফাইটের সাথে ওমারদের নারকীয় তাণ্ডবে মাঝে মাঝে মনে হচ্ছিল First Person Shooting গেমে ঢুকে গেলাম নাকি? ★ দুটি সমান্তরাল ঘটনায় কাহিনি টেনেছেন বুলেট ট্রেনের গতিতে। আলাদাভাবে খুব বেশি বর্ণনা না দিয়ে চলমান ঘটনার মধ্য দিয়েই সিটি, সিটির বাইরের মানুষ, কোকাবুরা, জঙলিদের ভিন্ন ভিন্ন জীবনের বর্ণনা উঠে এসেছে। AI এর যুগে একজন প্রোগ্রামার আর একজন অপারেটর দুজন মিলেই সবকিছু করে ফেলতে পারে যার জন্য আগে দরকার পড়ত ৩০০ জনের। এজন্যই বিজ্ঞান, উপযুক্তির কল্যাণ যত বেড়েছে মানুষ কায়িক শ্রমের অভাবে তাদের শারীরিক দক্ষতা কমেছে। লেখক তার নিজস্ব চিন্তাধারার সাথে এখানে মৌলিক চাহিদা বঞ্চিত মানুষের মানবেতর জীবনযাত্রার হৃদয়বিদারক পোট্রের্ট একেঁছেন_আমরা সবাই এখানে একদিন একদিন করে বাঁচি। যে কোন মুহূর্তই হতে পারে তোমার শেষ জীবন। জীবন থেকে যতটা পারা যায় নিয়ে নাও। ★লেখক বইটির ওয়ার্ল্ডবিল্ড আপে প্রচুর কাজ করেছেন। গতানুগতিক সাই ফাইয়ের মত সায়েন্স কপচানো হয়নি একদমই আর প্রযুক্তির কেরামতি মাথার ৬ ফিট উপর দিয়েও উড়ে যায়নি। ভিন্ন সমাজ ব্যবস্থার বিভিন্ন মানুষের সাথে তাদের খাওয়া দাওয়া,অভিরুচি, ভাষার আধুনিকায়ন, বিভিন্ন রীতিনীতির(সেক্স চ্যালেঞ্জ), ইকুইপমেন্টসের পার্থক্যগুলো সেটআপ করেছেন চমৎকার ভাবে। পরিবর্তিত এবং আধুনিক একটা সমাজে ভাষার পরিবর্তনের মত বিষয় বইয়ে স্পষ্টভাবে লিখেছেন লেখক। এখানে এক সমাজের সাথে আরেকটার মিল খুব একটা খুঁজে পাওয়া যায় না। এজন্যই কারো কাছে কাঠবিড়ালি অনেক উপাদেয়, কারো কাছে গুইসাপ আর কারো কাছে দামি মদ। ৩০০ বছরেও সিটির বাইরের মানুষের ক্ষেত্রে তেমন কোন পার্থক্য দেখা যায়নি; শুধুমাত্র অস্ত্রগুলা ছাড়া অন্যান্য আসবাব, প্রযুক্তির পরিবর্তন খুব একটা আসেনি। এখানেই লেখক আমাদের সমাজের শোষক, শোষিত মানুষের রূপকল্পে সিটি এবং সিটি বাইরের মানুষের মধ্যকার বৈষম্যের কালো দাগ টেনেছেন। ★ লেখকের লেখনশৈলীর প্রশংসা না করে পারা যায় না আর তাতে ইলিশে সর্ষে বাটার মত প্রযুক্তির উন্নয়নের সাথে মানব মনস্তত্ত্বের যে আমূল পরিবর্তন আসতে পারে সেটা তার দর্শনের মিশেলে জলজ্যান্ত হয়ে উঠেছে। লেখকের হিউমার আপনাকে পাতায় পাতায় হাসাবে; আবার কোথাও দলীয় ক্যাডারদের মত ওমারদের অবিকশিত জঙলিদের (নিরিহ জনতা) মেরে তাদের চামড়া ছাড়িয়ে এনে ট্রফি হিসেবে রাখার জন্য একটা গ্রামে জেনোসাইডের ঘটনা বিষাদে মোড়াবে; কোথাও বা উপরের লেভেলের কূটনৈতিক চাল দেখবেন সিটি হল আর কোকাবুরাদের মধ্যে। পশ্চিমা দেশগুলোর আদলে লেখা ফিকশনাল ২৩১৮ সালের কাহিনি নিয়ে হলেও পুরো বইয়ে আদতে আমাদের রাজনীতিকে তুলোধুনো করেছেন। আসলেও তো তাই, যে দলই ক্ষমতায় আসুক না কেনো দিন শেষে_সব রসুনের কোয়ার পাছা এক জায়গাতেই থাকে। ★ বইয়ের ভূমিকায় লেখক তার অন্তর্নিহিত বক্তব্য আছে বলেছেন। এখানে আমার মনে হয়েছে কয়েকটি টপিকেই লেখক হিন্টস দিয়েছেন। প্রথমত, ব্যক্তি স্বাধীনতা একজন নাগরিকের কতটুকু থাকবে? অবশ্যই ব্যক্তিবিশেষে সেলফ ডিফেন্সের জন্য গান জরুরি তবে প্লাজমাগান দিয়ে মাস মার্ডার করার মত স্বাধীনতা থাকা উচিত নয়। আর প্লাজমাগান যদি একান্তই সেলফ ডিফেন্সের জন্য কেনার অনুমতি থাকে তাহলে বিধ্বংসী ক্ষমতা কমিয়ে সেল করতে হবে সিটিকে। দ্বিতীয়ত, বিশ্বের অর্ধেক মানুষ অসুখী থাকে বিয়ে নিয়ে। বিয়ে ও বিয়ে পরবর্তী জীবন সবার জন্য সমান সুখের হয় না কিন্তু সেজন্য বিয়ে ডিসকারেজ করাও উচিত কখনোই মনে করি না। অবশ্য এগুলা জাস্ট লেখকের ডিস্টোপিয়ান ওয়ার্ল্ড তৈরীর এলিমেন্টস হতেও পারে। ★ পুরো উপন্যাসে মাহমুদ চরিত্রটির মেকিং ছিল দুর্দান্ত,দুর্ধর্ষ। বইয়ের আদি থেকে অন্ত ডার্ক টোনে লেখা এক্স-মেজরের চরিত্রটি উপন্যাসের মূল আকর্ষণ হিসেবে ছিল। আজকাল রাবণ তো বলে কয়ে আসে না আর মেজর মাহমুদ সেই ঘোষণা দিয়ে আসা রাবণ যার কাজই হলো_Plans go to hell as soon as the first shot is fired. উপন্যাসে ওমারের মত মাতালের সাথে ফিবির মত বিচক্ষণ চরিত্রও আছে
★ লেখক দীর্ঘদিন পান্ডুলিপি অর্ধেক সমাপ্ত রেখেছেন নাকি কাহিনিটাই জাম্প করেছেন বলা মুশকিল। ১৪৫ পেজের পরের কাহিনিতে মাহমুদ-নাতালিয়ার দেখার হওয়ার অংশটুকু আসমান থেকে বাজ পড়ার মত দ্রুত ছিল। আমি একবার ভাবলাম বইটায় ফর্মা মিসিং আছে কিনা। এখানে ইচ্ছে করলে ঘটনার বর্ণনা বাড়াতে পারতেন লেখক। এজন্য সিটি ভিতরের অংশের বর্ননা তুলনামূলকভাবে কম মনে হয়েছে। সিটির সেফটি নেট যতটাই দূর্ভেদ্য,অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ততটাই দূর্বল হিসেবে দেখানো হয়েছে। শতকোটির একটা মাল্টিলেভেলের সিটিতে যত সভ্যই মানুষ হোক না কেন তার নিরাপত্তা অবশ্যই আরো ডিসিপ্লিন্ড থাকা উচিত ছিল কারণ ভিন্ন মতাদর্শের মানুষ, একটা নেশাখোর বা জাস্ট একটা চোর তার দরকারে সিটির ব্যান্ড বাজাতে পারতো। আর লেখক কিন্তু পূ্র্বের ঘটনা এনালাইসিসের মাধ্যমে ভবিষ্যতে কি ধরনের সামাজিক অবক্ষয় ও অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা ঘটতে পারে সেটা প্রেডিক্ট করার বিষয় দেখিয়েছেন সাইন্টিস্টদের মাধ্যমে। এই বিষয়টা আমার কাছে সবচেয়ে সাংঘর্ষিক মনে হয়েছে।
🟥পুঁজিবাদী বিশ্বের এক প্রান্ত উন্নত হলে আরেক প্রান্ত গরিব হয়। অদূর ভবিষ্যতে হয়ত দেশের এক প্রান্ত উন্নতি হলেই তা অপর প্রান্তে কোনমতে বেঁচে থাকার সংগ্রামে জিততে থাকা শতকোটি মানুষ উপহার দিবে। সব সময় মানব সভ্যতার উন্নয়ন পেছনে ফেলে আসে ক্ষুধার্ত হাড় জিরজিরে কিছু মানুষকে। যে সভ্যতায় ৯৫ ভাগ মানুষকে বাতিলের খাতায় ফেলা হয় সে সভ্যতা আর যাই হোক মনুষ্য সভ্যতা না। রাজনৈতিক হেলদোলের স্বীকার এই অসংখ্য মানুষের ক্ষুধা জর্জরিত অসহায় জীবন কখনো একটা দেশকে সভ্য হওয়ার তকমা দিবে না । ক্ষমতার রাজনীতিতে রক্তপাত সব সময়ই নতুন, সব সময়ই আধুনিক। এটা কখনোই পুরাতন হয় না। প্রাগৌতিহাসিক কাল থেকে শুরু হয়ে বর্তমানেও রক্তপাত চলছে এবং ভবিষ্যতেও চলবে_ আমরা বেঁচে আছি এই এখানে, রক্তের ঝিকিমিকি আঁকা যেখানে।
বিজ্ঞান আশীর্বাদ। এ বিষয়ে তর্ক করার কোনো অবকাশ নেই। আমাদের জীবনযাত্রার মান সহজ করার জন্য বিজ্ঞানের অবদান অনেক। তবে এই আশির্বাদের উল্টোপিঠে অভিশাপও লেগে থাকে। বিজ্ঞানের মহৎ গুণকে পুঁজি করে একদল অসৎ মানুষ ক্ষতিকর কাজেই বিজ্ঞানকে ব্যবহার করে।
বিজ্ঞানের অনেক সুফল থাকলেও এর কতটা পায় পুরো মানুষ? বিজ্ঞান এগিয়ে যায়, প্রযুক্তির হাত ধরে প্রাগৈতিহাসিক যুগের অবসান হয়ে নতুন দিনের সূচনা হয়। সবাই এর সুফল ভোগ করতে পারে? মনে হয় না। যাদের আছে, তারা আরো সমৃদ্ধিশালী হয়। আর যাদের কিছুই নেই, তারা আগের মতোই থেকে যায়। প্রযুক্তির ছোঁয়া তাদের উন্নত করতে পারে না। তৃতীয় বিশ্ব বলে যে বিশ্ব থাকে, তা সবসময় উন্নতির ছোঁয়া বিবর্জিত। সেটা আজ হোক, বা তিনশ' বছর পরের কোনো এক সময়ে হোক!
▪️কাহিনি সংক্ষেপ :
মাহমুদ ঘুমিয়েছিল ২০১৮ সালের কোনো একদিনে। সেই ঘুম যেদিন ভেঙেছিল, অনেক কিছুই বদলে গিয়েছে। চারিপাশ বদলে গিয়েছে, প্রযুক্তির উন্নতি হয়েছে। বিজ্ঞানের ছোঁয়া লেগেছে কি লাগেনি! একদিকে উন্নতির ছোঁয়া। মানুষের জীবনযাত্রার এগিয়ে গিয়েছে কয়েক গুন। অন্যদিকে ঠিক যেন তার বিপরীত চিত্রও রয়েছে। এখনো এখানে ধর্ষণ হয়। খুন হয় মানুষ। বর্বরতা আষ্টেপৃষ্টে ধরে রেখেছে যেন চট্টগ্রামের পাহাড়ি এলাকার চারিপাশ। মাহমুদের যখন ঘুম ভেঙেছে, তখন পেরিয়ে গেছে তিনশ' বছর। এখন ২৩১৮ সাল।
লিয়াম ওমর আর তার সাঙ্গপাঙ্গদের জীবনের লক্ষ্য নেই। প্রযুক্তির মাঝে বেড়ে উঠতে গিয়ে সেই সুখের স্বাদ পায় না। তাই ওদের জীবন রোমাঞ্চ চায়, অভিজ্ঞতা চায়। আর এই অভিজ্ঞতার জন্য ধ্বংসাত্মক যেকোনো কাজকে খেলা মনে করে ওরা। মেগা সিটিতে বেড়ে ওঠা কয়েকজন সিটির বাইরের জীবনকে মনে করে জঙ্গল আর মানুষেরা জংলী। আর এই জংলীদের নিয়ে একটু আধটু খেলা খেললে দোষের কিছু নেই। আসলেই কি তাই? জঙ্গলের প্রাণী কিংবা মানুষ সবসময় জঙ্গলের সূত্র মেনে চলে। বেঁচে থাকার তাগিদে কিংবা নিজেকে রক্ষা করার জন্য অন্যকে মারে। এদিকে বর্বরতা যেন মানুষকে ঘিরে ধরে। মানুষের মতো ভয়ংকর প্রাণী আর হয় না।
নাতালিয়ার মেগা সিটির মানুষ হলেও মনুষত্ব বিসর্জন দেয়নি। তার জীবনের লক্ষ্য আছে। সভ্যতা বিবর্জিত মানুষের পাশে থাকার জন্য সবরকম চেষ্টা তার। ওদিকে কোকাবুরারা নিজেদের অধিকার চায়। সবরকম দাবি আদায়ে এক বিশাল সেনাবাহিনী নিয়ে বিপ্লবে এগিয়ে আসছে। শুরু হচ্ছে প্রযুক্তির সাথে প্রযুক্তিহীন মানুষদের এক অসম লড়াই।
▪️পাঠ প্রতিক্রিয়া :
লেখক কিশোর পাশা ইমনের বই এর আগে পড়া হয়নি। "ডিসটোপিয়া" দিয়েই লেখকের মনস্তাত্বিক জগতে প্রবেশ করলাম। কিশোর পাশা ইমন একজন শক্তিমান লেখক। তার লেখনীর এক অন্যরকম শক্তি আছে। অত্যন্ত চমৎকার ভাষাশৈলী ও লেখনশৈলী খুব সহজেই পাঠককে আকৃষ্ট করতে পারে। বর্ণনাশৈলী অসাধারণ। "ডিসটোপিয়া" উপন্যাসটি এক অন্যজগতের উপন্যাস। যে উপন্যাস আপনাকে ভাবাবে। এই সমাজ, এই পরিবেশ আপনাকে ঠিক-বেঠিক মাঝে দাঁড় করিয়ে দিবে।
"ডিসটোপিয়া" একটি সাইফাই উপন্যাস। এতে ৩০০ বছর পরের এক পৃথিবীর বর্ণনা করা হয়েছে। লেখক অত্যন্ত দক্ষতার সাথে এমন এক পৃথিবী ফুটিয়ে তুলেছেন। প্রযুক্তির বর্ণনা দিয়েছেন। কতটা অত্যাধুনিক হতে পারে আগামী ৩০০ বছর পরের পৃথিবী, তার একটা কাল্পনিক চিত্র লেখকের লেখা থেকে পাওয়া যায়। অত্যাধুনিক এক পৃথিবীর পাশাপাশি লেখক আরেক পৃথিবীর বর্ণনা করেছেন, যেখানে ঠিক প্রযুক্তির ছোঁয়া লাগেনি। সভ্যতা বিবর্জিত সেই পৃথিবীতে এখনো মানুষ প্রতি মুহূর্তে বাঁচার জন্য লড়াই করে। আর দুই পৃথিবীর মধ্যে চলছে অলিখিত যুদ্ধ। কে কতটা বর্বর? মুখে নয়, কাজেই পরিচয়।
বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনিতে বিজ্ঞানের কিছু শব্দ আসে। যা অনেক ক্ষেত্রেই বুঝতে সমস্যা হতে পারে। লেখক এদিকে শতভাগ সচেতন ছিলেন। জাফর ইকবালের বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনি পড়ে আমাদের কৈশোরের অনেকটা সময় কেটেছে। সেসব বইয়ে যেভাবে বিজ্ঞানকে সহজ করে বোঝানো হতো, লেখক কিশোর পাশা ইমন সেই কাজটিই করার চেষ্টা করেছেন। শেষ দিকে কিছু বৈজ্ঞানিক টার্মের ব্যাখ্যাও দিয়েছেন, যেন পাঠকের বুঝতে অসুবিধা না হয়।
"ডিসটোপিয়া" উপন্যাসের ভূমিকায় লেখক লিখেছেন, তাঁর বইটি লেখার অনুপ্রেরণা মানব মনস্তত্ত্ব। এবং লেখক এই দিক দিয়ে দারুণ খেল দেখিয়েছেন। সেই সাথে লেখকের নিজস্ব মনস্তত্ত্বের এক চিত্র বইটিতে পাওয়া যায়। শক্তিশালী প্লট না হয়েও সাধারণ মানের উপন্যাস "ডিসটোপিয়া" কেবল লেখনী আর মনস্তত্ত্বের খেলা দিয়ে অসাধারণ হয়ে উঠতে পারে।
অবশ্য কিছু প্রশ্নের উত্তর পাইনি। নাতালিয়া কেন মাহমুদকে নিয়ে মেগাসিটিতে যাত্রা করল, কীভাবে নাতালিয়াকে কনভিন্স করা হলো ব্যাখ্যা করা হয়নি। আরও অনেক কিছুই ব্যাখ্যা করা যেত, যা লেখক সচেতনভাবে এড়িয়ে গিয়েছেন। কিংবা আক্রমণ দৃশ্যগুলো আরও বিস্তারিত করা যেত। শেষটা অনুমেয় ছিল। মাথা ঘোরানো টুইস্ট না থাকার পরও বেশ উপভোগ করেছি। কিছু প্লট হোল না থাকলে আরও উপভোগ করতে পারতাম।
▪️চরিত্রায়ন :
লেখক চরিত্রায়নের ক্ষেত্রে তেমন পরিশ্রম করেননি। গল্পের ক্ষেত্রে যখন যেমন চরিত্র প্রয়োজন ছিল, তেমনই এসেছে। চরিত্র বিল্ডআপে সময় অপচয় করেননি। লেখক যেভাবে ৩০০ বছরের পৃথিবী গঠন করেছেন, এর সাথে প্রযুক্তির বর্ণনা দিয়েছেন; ঠিক একইভাব��� কিছু চরিত্র আরেকটু ডেভেলপ করা যেত।
গল্পের খাতিরে প্রয়োজন না হলেও মাহমুদ, জয়নাল, নাতালিয়া বা ওমরদের ইতিহাস আরেকটু মোটাদাগে দেখানো যেত। হয়তো গল্পের গতিশীলতা বজায় রাখতেই লেখক সে পথে হাঁটেননি। তবে একজন পাঠক হিসেবে আরেকটু আশা করেছিলাম।
▪️বানান, সম্পাদনা, প্রচ্ছদ, প্রোডাকশন :
বাতিঘর প্রকাশনীর অন্যান্য বইয়ের মতো এই বইয়ের প্রোডাকশন টিপিকাল। সম্পাদনার খুব একটা প্রয়োজন চোখে না পড়লেও কিছু জায়গায় মুদ্রণ প্রমাদ ছিল। সেগুলো কমিয়ে আনা যেত। বাঁধাই বাতিঘর প্রকাশনীর মতোই চলনসই। প্রচ্ছদ দারুণ। এক ডিসটোপিয়া রাজ্যের কথা-ই যেন মনে করিয়ে দেয়!
▪️পরিশেষে, ডিসটোপিয়া এমন এক রাষ্ট্রের গল্প, যেই রাষ্ট্র সমাজের অন্ধকার দিক তুলে ধরে। "ডিসটোপিয়া" উপন্যাসে গল্পের খাতিরে অসংখ্য অ্যাডাল্ট কন্টেন্ট এসেছে। তাই আঠারো বছর বয়স বা তার নিচের পাঠকদের না পড়ার অনুরোধ রইলো। এছাড়া বইটি আমি রেকমেন্ড করব। মানব জাতির অন্য এক মনস্তত্ত্বে প্রবেশ করতে বইটি পড়া উচিত। এই বই কিশোর পাশা ইমনের অন্যান্য বই পড়ার আগ্রহ বাড়িয়ে দিয়েছে।
সায়েন্স ফিকশন পড়ার ক্ষেত্রে আমার কাছে সব থেকে বড়ো ঝামেলা লাগে সায়েন্সের জটিল সব কচকচানি, এদিক দিয়ে বলতে গেলে লেখক 'কিশোর পাশা ইমন' এর 'ডিসটোপিয়া' বইটি সায়েন্স ফিকশন হলেও এতে এসব কচকচানি একেবারেই অনুপস্থিত বলা যায়। এটা আমার পড়া লেখকের প্রথম কোনো বই।
বইটির কাহিনি বর্ণনা করা হয়েছে দুই লেয়ারে, দুইটি ভিন্ন পরিবেশের যার একখানে সভ্যতা পৌঁছে গেছে সুউচ্চ চূড়ায়, অন্যদিকে সভ্যতার বিকাশ ক্রমশই পিছিয়ে গেছে। এই জায়গাতে এসে লেখক সিটি এবং সিটির বাইরের দুটো পরিবেশ বর্ণনা করেছেন, তবে সিটির বাইরে সভ্যতার পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী তথা গল্পের জঙলিদের বর্ণনা তথা পরিবেশ যেভাবে বিশদ ভাবে উপস্থাপন করেছেন, ঠিক সেভাবে ফুটে উঠেনি সিটির চিত্র। সিটির বর্ণনায় কেমন যেনো ধোঁয়াশা রয়ে গিয়েছিলো। তবে সিটি এবং সিটির বাইরের বৈষম্য, মন-মানসিকতা চমৎকার ভাবে উপস্থাপন করেছেন।
গল্পে ব্যবহৃত লেখকের দর্শন আমার ভালো লাগেনি, বিশেষ করে হুয়াট দ্য ম্যারেজ টাইপের গালি গুলো, ম্যারেজকে গালি হিসেবে উপস্থাপনের ক্ষেত্রে বললে বলতে হই এই জিনিসটার কারণে আমার মনে হয়েছে গল্পে নারীদের অবস্থানটা বেশ নড়বড়ে হয়ে গেছে, যেখানে আধিপত্য পুরুষদেরই বেশি দেখা গেছে, জিনিসটা কেবল সিসিলিয়ার ক্ষেত্রে লাগেনি। তাছাড়া এই বিষয়টা না থাকলেও গল্পে কোনো প্রভাব পড়তো বলে মনে হয় না। তাছাড়া কথোপকথনে গালিগালাজের ব্যবহারটা কিছুটা অতিরিক্ত লেগেছে বিশেষ করে নাতালিয়া, মাহামুদ, মহামতি জেডি কারেক্টার গুলোর এই কারণে সিরিয়াস ভাবটা ঠিক আসেনি। আরেকটা বিষয় ঠিক ক্লিয়ার হয়নি যে বলা হয়েছিলো প্রয়োজনীয় মানুষদের নিয়েই সিটি তৈরি হয়েছে কিন্তু সিটিতে বসবাস রত মানুষের কাজ বা তাদের গুরুত্বটা গল্পে ঠিক আসেনি।
এ সব কিছুর বাইরেও লেখকের গল্প বর্ণনাটা চমৎকার ছিলো, একদম সাবলীলভাবেই গল্প বর্ণনা করে গেছেন, যেখানে একটা ভবিষ্যতের পৃথিবীর আবহা তৈরি করেছেন, সহজভাবে বর্ণনা করেছেন টাইম ট্রাভেল, ডিপস্লিপ, হোভারক্রাফট, প্লাজামাগান ইত্যাদি। ওমার ও তার সঙ্গীদের চিন্তাধারা লেখক চমৎকার ভাবে তুলে ধরেছেন বিশেষ করে ওমারের মনস্তাত্ত্বিক অবস্থাটা। সবমিলিয়ে ছোটোখাটো অনেক গুলো বিষয়কে যদি এড়িয়ে বলি তবে বইটা ভালো লেগেছে আমার কাছে।
Summary: the main character, Mahmud, went into deep sleep for 300 years to witness the future world. Upon awakening, he discovers a world transformed by advanced technology. *However, one aspect remains unchanged🙂 - the persistent discrimination between the first world and the third world. Mahmud encounters a group of young adults who oppose this inequality and joins forces with them, leading to an engaging storyline.
Overall Opinion: Neither liked nor disliked it
Positive Points: sci-fi atmosphere throughout the narrative is captivating 🤔hmm. The main theme, focusing on societal issues and inequalities, resonated with me. Deeeeepppppp
Negative Points: 1.ending felt rushed, lacking a sense of completion. The final incidents seemed hurried, leaving me wanting more.........🫠 2. অতিরিক্ত পরিমাণ গালির ব্যবহার..পুরো বই জুড়ে প্রত্যেক কনভারসেশনে এত পরিমাণ গালাগালি আর অশ্রাব্য বাক্য ব্যবহার করা হয়ছে😣😣😣...I was feeling soo uncomfortable throughout the book 😣😣😣
Personal Thoughts: had a neutral experience with it.🧌
This entire review has been hidden because of spoilers.
এই বইটা সত্যিই হতাশাজনক। এর আগে লেখকের Chharpoka: The Battle of Mahendrapur পড়ে দারুণ লেগেছিল—একেবারে টানটান, গ্রিপিং। কিন্তু এটা? অনেক পিছিয়ে রইল, যেন শুরুটা ভালো করে করে মাঝপথে হাল ছেড়ে দিয়েছেন।
সায়েন্স ফিকশন হলেও ওয়ার্ল্ড বিল্ডিংটা একদমই পানসে লেগেছে। একটা খসড়া ছিল, কিন্তু সেই জমাটি বর্ণনা আর পরিবেশের ওজনটা ছিল না, ফলে পুরো ব্যাপারটাই ফাঁপা মনে হয়েছে। চরিত্র নির্মাণ মোটামুটি চলনসই, কিন্তু একটাকে ছাড়া বাকিরা যেন শেষ মুহূর্তে হুট করে লিখে ফেলা হয়েছে। গল্পটা নিজে থেকে খারাপ না, কিন্তু যেভাবে এগিয়েছে, তাতে মনে হয়েছে—একটু বেশি গুছিয়ে নিলে ভালো হতো।
আর সবচেয়ে বিরক্তিকর ব্যাপার? লেখার ধরন। বাস্তবসম্মত করতে গিয়ে উল্টে যেন সবকিছু হালকা করে ফেলেছেন। অতিরিক্ত স্ল্যাং ঢুকিয়ে গল্পটাকে জীবন্ত করার চেষ্টা করেছেন, কিন্তু সেটা না হয়ে বরং ছেলেখেলা মনে হয়েছে। সব মিলিয়ে, অর্ধেক বানিয়ে রেখে দিয়ে যেন বলছেন—“এই বেশ, হয়ে গেছে!”
অনেক দিন পর একটা সাইফাই বই পড়লাম। শুরুতে খুব গৎবাধা সাইফাই মনে হচ্ছিলো তবে আস্তে আস্তে গল্পের মোড় ঘুরতে লাগলো যা বেশ ইন্ট্রেস্টিং। এলিমেন্টস গুলো বেশ কমন ইউজড হলেও সেগুলোর মধ্যে একটা অন্যরকম সৃজনশীলতা দেখা গেছে। এছাড়া কিছু ক্ষেত্রে শব্দ চয়ন আর লেখনি বেশ পছন্দসই হয়েছে। গল্পের মোড় টা ভালো লাগার মত। আর কিছু প্রসঙ্গে রিয়েলিজম দেখিয়েছে লেখক যা বেশ প্রশংসনীয়। আর ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্ট ও বলার মত।
এই বইটার গুডসরিড রেটিং এত কম কেন জানি না! আমার কাছে "ডিসটোপিয়া" বেশ লেগেছে। আইডিয়া, প্লট, এক্সিকিউশন - সবকিছুই আপ টু দ্য মার্ক। কেপি ফ্লেভার পাইলাম অনেকদিন পর। বইটার পরবর্তী পার্টের আভাস বইয়ের শেষে লেখক দিয়ে রেখেছেন। আশা করছি, পরেরটা আরো জোস হবে!