কাব্যসাহিত্যে গৌণ বলে কিছু হয় না। কাব্যসাহিত্যে গৌণতা, গৌণ চরিত্র, গৌণ গুণ, গৌণ মাধুর্য প্রকৃত বিষয়বস্তুকে মুখ্য করে তোলে। তাই সুন্দরী প্রিয়ার ওষ্ঠপুটে একটি তিলের জন্য মহাকবি সমরকন্দ-বুখরার মতো সুন্দর একটি জায়গাও দান করে দিতে পারেন। মহাভারতের টোটালিটির দিকে তাকালে দেখা যায় কোনো ঘটনা বা চরিত্রই গৌণ নয়। একটা শকুনি, একটা দুঃশাসন বাদ দিলে মহাভারত বৃথা হয়ে যাবে। ঘটোৎকচ, হিড়িম্বা, অভিমন্যু, দুর্বাশা, নারদ প্রমুখ আপাত অপ্রধান চরিত্রগুলির গতিমুখ ঠিক করে দিয়েছে। এইসব অপ্রধান চরিত্রগুলি বাদ দিয়ে মহাভারতই লিখতে পারতেন না ব্যসদেব। লেখকের বিশ্লেষণী কলমে মহাভারতের সেই আপাত গৌণ চরিত্রগুলির মুখ্যভূমিকার কথা।