Kazi Nazrul Islam (Bengali: কাজী নজরুল ইসলাম) was a Bengali poet, musician and revolutionary who pioneered poetic works espousing intense spiritual rebellion against fascism and oppression. His poetry and nationalist activism earned him the popular title of Bidrohi Kobi (Rebel Poet). Accomplishing a large body of acclaimed works through his life, Nazrul is officially recognised as the national poet of Bangladesh and commemorated in India.
নজরুলের কাছে ফেরত না গিয়ে উপায় কি আর ছিল? অবশ্যই জাতীয়তাবাদী জোশে না। আর এই যে ‘ফেরত’ কথাটা বললাম, তারমানে আগেও নিশ্চয়ই গিয়েছিলাম। কবে? মনে নাই। মনে থাকার কথাও না। কারণ নজরুলকে আমরা পাই উত্তরাধিকারসূত্রে। ভিটাবাটির মতই। আছে আর থাকেও। বোধ জ্ঞান শুরু হবার পর পর-ই কাজী সাহেবকে বিদ্রোহী মোড়কে কচি মাথায় চালান করার চেষ্টা তো হয়েই থাকে। তবে এই বিদ্রোহী চেতনা, একটু আরামের বিদ্রোহী চেতনা। কারণ বিদ্রোহটা কিসের বিরুদ্ধে বা কি উপায়ে সেটা কখনোই খোলাসা করা হয় না। ‘সংকল্প’ কবিতাটা দিয়ে শুরু হয়- অভিযাত্রায় যাওয়ার বা রোমান্সের নেশায় মনে দোলা দেয়ার মতন একটা পরিস্থিতি তৈরি হয়। আর ‘চল চল’ তো বাংলাদেশের রণ সঙ্গীত-ই। প্রাইমারি স্কুলেও সুরে সুরে গেয়েছি। গাওয়াও সহজ ছিল। পরে ভেবেছি আর সব গান এত সহজে গেয়ে ওঠা যায় না কেন! যাহোক, আবার যে নজরুলের কাছে গেলাম কাজের কাজ হলো। বলাই বাহুল্য নির্বাচিত নজরুলে সম্পূর্ণ নজরুলকে পাওয়ার দাবী করা যায় না বরং সম্পাদকের আশকারায় আর নিজের ঝোঁকে আরামের বিদ্রোহীর কয়েক প্রস্থ প্রলেপ ছাড়িয়ে এক বিধ্বংসী-বিপ্লবী এবং অনায়াস বর্তমানময় নজরুল মানে নজরুলের কাব্য প্রতিভা পুনআবিষ্কারের আনন্দ এবং শক্তি পেয়েছি। এই লাভটা নগদ-ই। সম্পাদক মোহাম্মদ আজমের নজরুল বিষয়ক পাঠ আগেও পড়েছি- কবি ও কবিতার সন্ধানে বইয়ে। বাংলাদেশের কবিতার নন্দনতত্ত্বের রাজনীতি ও পঠন-পাঠনের গতিপ্রকৃতি বুঝতে খুব সাহায্য করেছিল। এই বইয়ের ভূমিকাতেও স্পষ্টভাবে নজরুল বিষয়ক, মানে নজরুলের কবিতার কিছু পর্যালোচনা হাজির করছেন। খুব আগ্রহের সাথে পড়েছি। কারণ, নজরুলকে জনপ্রিয় বলে বা পদ্যকার সাব্যস্ত করে অথবা বর্তমানকে নিয়ে কাজ করার কারণে অনেক ক্ষেত্রেই আর্টের মামালায় একটু যেন খাটো নজরে দেখা হয়- এর পেছনের ঐতিহাসিক এবং সামাজিক প্রেক্ষাপটটা পরিষ্কার করার চেষ্টা করেছেন। মোটা দাগে নজরুলকে রোমান্টিক এবং মানবতাবাদী হিসাবে পড়ার সমস্যাজনক এবং সরলীকরণের দিকগুলো পরিষ্কার করেছেন। কিভাবে করেছেন এখানে পুনরুৎপাদন করতে যাব না। পড়ে নিতে হবে। বোঝাই যাচ্ছে, সেই মত আমি সাবস্ক্রাইব করি। আরেকটা ব্যাপার না বললেই না, নির্বাচিত কোন সংকলনে জ্ঞানে-অজ্ঞানে সম্পাদকের ঝোঁক ধরা পড়ে। এখানেও পড়েছে। ছোট করে বলতে গেলে, নজরুলের কবিতার উছিলায় সম্পাদক মুসলমান পরিচয়ের সাপেক্ষে বাঙালি পরিচয়কে সাব্যস্ত করতে চেয়েছেন, বর্তমানের অধীন হয়েও মানুষ যে একে অতিক্রম করতে চায় এবং পারে সেই দিকে ইঙ্গিত করেছেন, আর বেছে বেছে খৈয়ামের যেই রুবাইগুলো রেখেছেন তাতে মুসলমান পরিচয় অটুট রেখে এক খাঁটি বিদ্রোহী-বিপ্লবী-সচেতন নাগরিক এমনকি সেকুলার চরিত্র নির্মাণের আকাঙ্ক্ষা আঁচ করা গেছে।
শেষ কথায়, মানুষ ইতিহাসের ফলাফল হবার পরও বিদ্যমান পরিস্থিতিকে মেনে না নিয়ে সে যে প্রেরণা নিয়ে বিদ্যমানকেই বদলাতে চায়, নজরুল আমার কাছে সেই প্রেরণার কবি। কবি রে সালাম।