What do you think?


দোয়েল সাঁকো
প্রচ্ছদ – অমিতাভ চন্দ্র
রিয়ানের কথা ভুলতে পারে না রাজিতা। রিয়ানকে চেনে পাঁচ বছর বয়স থেকে। রিয়ান, যার সঙ্গে সে একবার পাহাড়ে দাঁড়িয়ে দেকেহছিল তুষারপাত। যাকে ভালবেসেছিল সব ভুলে। সেই রিয়ান চলে গেছে অনেক দূর দেশের এক শহরে। কলকাতায় বসে রাজিতা ভাবে, তবে কি রিয়ান ভুলে গেল ওকে। আর বহুদুরে রিয়ান নিজের অতীত থেকে পালাতে চায়। ভুলে যেতে চায় কলকাতা শহর আর তার মানুষদের । রাজিতার এদিকে কেবলই মনে হয় রিয়ান আর ওর মধ্যের সাঁকো কি ভেঙে গেল? রিয়ানের সঙ্গে কি আর দেখা হবে ওর এই জীবনে? রাজিতার গল্প, রিয়ানের গল্প ক্রমশ হয়ে ওঠে বাকি সকলের গল্প। বুকের মধ্যে ভালবাসার ছোট্ট চন্দন কাঠের বাক্স লুকিয়ে বেঁচে-থাকা মানুষদের গল্প। আর এমন দূরত্ব ও তার পারাপারের কাহিনিই মৃদু স্বরে জানিয়ে দেয় স্মরণজিৎ চক্রবর্তীর ‘দোয়েল সাঁকো’।
রিয়ানের কথা ভুলতে পারে না রাজিতা। রিয়ানকে চেনে পাঁচ বছর বয়স থেকে। রিয়ান, যার সঙ্গে সে একবার পাহাড়ে দাঁড়িয়ে দেকেহছিল তুষারপাত। যাকে ভালবেসেছিল সব ভুলে। সেই রিয়ান চলে গেছে অনেক দূর দেশের এক শহরে। কলকাতায় বসে রাজিতা ভাবে, তবে কি রিয়ান ভুলে গেল ওকে। আর বহুদুরে রিয়ান নিজের অতীত থেকে পালাতে চায়। ভুলে যেতে চায় কলকাতা শহর আর তার মানুষদের । রাজিতার এদিকে কেবলই মনে হয় রিয়ান আর ওর মধ্যের সাঁকো কি ভেঙে গেল? রিয়ানের সঙ্গে কি আর দেখা হবে ওর এই জীবনে? রাজিতার গল্প, রিয়ানের গল্প ক্রমশ হয়ে ওঠে বাকি সকলের গল্প। বুকের মধ্যে ভালবাসার ছোট্ট চন্দন কাঠের বাক্স লুকিয়ে বেঁচে-থাকা মানুষদের গল্প। আর এমন দূরত্ব ও তার পারাপারের কাহিনিই মৃদু স্বরে জানিয়ে দেয় স্মরণজিৎ চক্রবর্তীর ‘দোয়েল সাঁকো’।
200 pages, ebook
Published January 1, 2017
About the author
Smaranjit Chakraborty
85 books373 followersস্মরণজিৎ চক্রবর্তীর জন্ম ১৯ জুন ১৯৭৬, কলকাতায়। বর্তমানে দক্ষিণ কলকাতার বাসিন্দা। পৈতৃক ব্যবসায় যুক্ত। প্রথম ছোটগল্প ‘উনিশ কুড়ি’-র প্রথম সংখ্যায় প্রকাশিত। প্রথম ধারাবাহিক ‘দেশ’ পত্রিকায় প্রকাশিত। শৈলজানন্দ স্মৃতি পুরস্কার ২০১৪, এবিপি এবেলা অজেয় সম্মান ২০১৭, বর্ষালিপি সম্মান ২০১৮, এবিপি আনন্দ সেরা বাঙালি (সাহিত্য) ২০১৯, সানডে টাইমস লিটেরারি অ্যাওয়ার্ড ২০২২, সেন্ট জেভিয়ার্স দশভুজা বাঙালি ২০২৩, কবি কৃত্তিবাস সাহিত্য পুরস্কার ২০২৩, উৎসব পুরস্কার ২০২৪, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় মেমোরিয়াল অ্যাওয়ার্ড ২০২৪, আনন্দ পুরস্কার (উপন্যাস: '‘শূন্য পথের মল্লিকা') ২০২৫ ইত্যাদি পুরস্কারে সম্মানিত ।
শখ: কবিতা, ফুটবল আর মুভিজ়।
শখ: কবিতা, ফুটবল আর মুভিজ়।
Ratings & Reviews
Friends & Following
Create a free account to discover what your friends think of this book!
Community Reviews
Displaying 1 - 20 of 20 reviews
December 28, 2022
৩.৫/৫
সাধারণ একটা প্রেমের গল্প কিন্তু এতো ভালো লাগলো পড়ে!
"সন্ধে নেমে এসেছে।আকাশে অসংখ্য নক্ষত্র, গ্রহ ও গ্রহাণুপুঞ্জ আর তাদের মধ্যে দিয়ে এক জীবন থেকে অন্য জীবন পার করে বয়ে চলেছে আকাশগঙ্গা!কে লঙ্ঘন করবে এই অর্বুদ নক্ষত্রমালা ? অশ্রুকণার ডাকে কারা আসবে আজ পৃথিবীর সমস্ত ভালবাসা নিয়ে? সাঁকো কি আজ পৌঁছে দিতে পারবে দু'জনকে দু'জনের কাছে?"
সাধারণ একটা প্রেমের গল্প কিন্তু এতো ভালো লাগলো পড়ে!
"সন্ধে নেমে এসেছে।আকাশে অসংখ্য নক্ষত্র, গ্রহ ও গ্রহাণুপুঞ্জ আর তাদের মধ্যে দিয়ে এক জীবন থেকে অন্য জীবন পার করে বয়ে চলেছে আকাশগঙ্গা!কে লঙ্ঘন করবে এই অর্বুদ নক্ষত্রমালা ? অশ্রুকণার ডাকে কারা আসবে আজ পৃথিবীর সমস্ত ভালবাসা নিয়ে? সাঁকো কি আজ পৌঁছে দিতে পারবে দু'জনকে দু'জনের কাছে?"
August 10, 2026
"মন এক অদ্ভুত জিনিস! যা ভাবলে আমাদের কষ্ট হবে সেগুলোই যেন বারবার আমাদের সামনে নিয়ে আসে আমাদের মন। যে স্মৃতি সবচেয়ে বেশি ক্ষত তৈরি করে সেগুলোই যেন বারবার চোখের সামনে সিনেমার মতো তুলে আনে। আমার মনে হয় আমরাই আমাদের সবচেয়ে বড় শত্রু! আমরা যেন নিজেরাই চাই না নিজেদের ভাল রাখতে! সারাক্ষণ ফেসবুকে হাজার-হাজার ইন্সপিরেশনাল কোটেশন পড়লেও আমরা নিজেরাই নিজের অজান্তে বেঁকে যাই কষ্টের দিকে! এর থেকে কি কোনও গুপ্ত আনন্দ পাই আমরা? কষ্ট পেতে কি সত্যি আনন্দ লাগে আমাদের? নিজেদের সঙ্গে কীসের এত শত্রুতা! আমরা আমাদের কোন পাকা ধানে মই দিয়েছি? " - স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
স্মরণজিৎ চক্রবর্তী অচেনা ও অপরিচিত কোনো গল্প লেখেন না। আমাদের চারপাশের খুব পরিচিত মানুষদের চিরচেনা কাহিনিই স্মরণজিৎ চক্রবর্তীর কলমে অত্যন্ত মনোমুগ্ধকরভাবে উঠে আসে। হ্যাঁ, তাতে সব সময়ই বিষাদের রং মাখা থাকে। রিয়ান ও রাজিতার কাহিনি পড়তে গিয়ে আবারও মন বিষণ্ণ হয়ে উঠল। যেখানে একটি নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের সংগ্রামের সঙ্গে দুইজন মানুষের ভালোবাসার কাহিনি 'দোয়েল-সাঁকো'
শিরোনামে লিখেছেন স্মরণজিৎ চক্রবর্তী।
হুমায়ূন আহমেদের লেখা পড়লে যেমন অনুভব হতো, তেমনই একটা অনুভূতি হয় স্মরণজিৎ চক্রবর্তীর যে কোনো উপন্যাস পড়লে। এগুলোর হয়তো সাহিত্যিক মূল্য নেই। তবে পাঠক হিসেবে পড়তে ভালো লাগে।
স্মরণজিৎ চক্রবর্তী অচেনা ও অপরিচিত কোনো গল্প লেখেন না। আমাদের চারপাশের খুব পরিচিত মানুষদের চিরচেনা কাহিনিই স্মরণজিৎ চক্রবর্তীর কলমে অত্যন্ত মনোমুগ্ধকরভাবে উঠে আসে। হ্যাঁ, তাতে সব সময়ই বিষাদের রং মাখা থাকে। রিয়ান ও রাজিতার কাহিনি পড়তে গিয়ে আবারও মন বিষণ্ণ হয়ে উঠল। যেখানে একটি নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের সংগ্রামের সঙ্গে দুইজন মানুষের ভালোবাসার কাহিনি 'দোয়েল-সাঁকো'
শিরোনামে লিখেছেন স্মরণজিৎ চক্রবর্তী।
হুমায়ূন আহমেদের লেখা পড়লে যেমন অনুভব হতো, তেমনই একটা অনুভূতি হয় স্মরণজিৎ চক্রবর্তীর যে কোনো উপন্যাস পড়লে। এগুলোর হয়তো সাহিত্যিক মূল্য নেই। তবে পাঠক হিসেবে পড়তে ভালো লাগে।
April 20, 2021
একটা দুশো পাতার বইয়ের এতগুলো পাতা মুড়ে রেখে রেখে পড়লাম কারণ উপন্যাসে দাগ দেওয়া ধাতে নেই আমার। far far far better than "ফিঙে","পাখিদের শহরে যেমন" এমনকি far better than "পাতাঝরার মরশুমে'!!! এটা যদি সেম প্লটের কামাল হয় লিখুক স্মরণজিৎ এরকম আরো সেম প্লট।আমি পড়তে রাজি আছি।আর যারা চরিত্র বিশ্লেষণ না করেই,সুতোর ঝুলতে থাকা টুকরো টুকরো জলের কণাগুলোর খোঁজ পায়না,অনুভূতির অনুরণন যাদের বুকে ঢেউ তোলেনা তাদের মতো সাহিত্যবোদ্ধা হয়ে আমি স্মরণজিৎ কে সেম প্লট বলে দাগাতে পারবনা! আমার এই বোকা বোকা সহজ সরল জীবনবোধ অনেক অনেক ভালো।হোক কষ্টগুলো চুম্বকের মতো।চাইনা আমার ভারী ভারী শব্দ।এই "চায়ের লিকারের মতো ল্যাম্প পোস্ট,দুধের সরের মতো ধোঁয়ার আস্তরণ" আমার প্রিয় হয়েই থাকুক।থেকে যাক আকাশগঙ্গা অথবা পুষ্পক রথ,এই সাঁকো দোয়েল ফিঙে ম্যাগপাই যারই হোক থেকে যাক এই মনের ক্ষত,থেকে যাক রূপকথা,থেকে যাক এই স্মৃতির প্রলেপ,থেকে যাক "ভালো সময়" একটা কনসেপ্ট হয়েই।❤️
"আসলে আমরা নিজেরাই অনেক সময় বুঝি না আমাদের জীবনে কে কোথায় বাঁধা রয়েছে! তাই আমরা তাকে অবহেলা করি! পাত্তা দিই না! ধরেই নিই যে সে তো থাকবেই! তার দিকে না তাকালেও চলে! কিন্তু তারপর সত্যি যখন একসময় সে ক্লান্ত হয়ে,আহত হয়ে সরে যায়,চলে যায়,তখন বুকের ভিতর এক অদৃশ্য সুতোয় টান পড়ে! তখন বোঝা যায় কার প্রাণ কোথায় বাঁধা!"
"Even after you ruined me for any other,
I cannot regret you,Even as I cleave
the flesh of wanting from the bone,
I hope the night sky is pretty
wherever you are."
🖤🖤
"আসলে আমরা নিজেরাই অনেক সময় বুঝি না আমাদের জীবনে কে কোথায় বাঁধা রয়েছে! তাই আমরা তাকে অবহেলা করি! পাত্তা দিই না! ধরেই নিই যে সে তো থাকবেই! তার দিকে না তাকালেও চলে! কিন্তু তারপর সত্যি যখন একসময় সে ক্লান্ত হয়ে,আহত হয়ে সরে যায়,চলে যায়,তখন বুকের ভিতর এক অদৃশ্য সুতোয় টান পড়ে! তখন বোঝা যায় কার প্রাণ কোথায় বাঁধা!"
"Even after you ruined me for any other,
I cannot regret you,Even as I cleave
the flesh of wanting from the bone,
I hope the night sky is pretty
wherever you are."
🖤🖤
January 25, 2023
দোয়েল সাঁকো, আমার পড়া প্রথম স্মরণজিৎ। আমার পাঠের অভিজ্ঞতা হিসেবে,মোটামুটি বলা চলে।
রেটিং : ২.৫/৫
রেটিং : ২.৫/৫
June 22, 2025
স্মরণজিৎ বাবুর গল্পে কোনো স্যাড এন্ডিং নেই!
খারাপ না।
খারাপ না।
January 26, 2025
এত সুন্দর লিখে স্মরণজিৎ! অদ্ভুত একটা মায়া থাকে। একটা সাধারণ গল্পকে মাত্র লেখোনির মাধ্যমে কিভাবে সুন্দর একটা গল্পের রূপ দেয়া যায় যেটা পড়তে পড়তে আপনিও আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়বেন, পড়তে পড়তে মনে হবে না আরে এ আবার কি গল্প এরকম তো অনেক পড়েছি। আসলে স্মরণজিৎবাবু ম্যাজিক জানেন।
July 19, 2026
সেপ্টেম্বর মাসে পড়ে শেষ করা প্রথম বই দোয়েল সাঁকো।
আকাশগঙ্গা ছায়াপথের দুপাশের দুই নক্ষত্র অলটেয়ার আর ভেগাকে নিয়ে একটা পুরোনো চিনা রুপকথা রয়েছে যে তারা দুজন দুজনকে ভালোবাসলেও কখনও মিলিত হতে পারেনা তাই তাদের এই দুঃখ সারাতে বছরের সপ্তম মাসের সপ্তম দিনে পৃথিবীর সমস্ত ম্যাগপাই আকাশে উঠে তৈরি করে একটা সাঁকো যাতে মিলিত হতে পারে অলটেয়ার আর ভেগা। ব্রিজ অফ ম্যাগপাইজ, দোয়েল সাঁকো।এমনই একটা দোয়েল সাঁকো আছে আমাদের এই উপন্যাসেও, রাজিতা আর রিয়ানের নিজস্ব দোয়েল সাঁকো।
রিয়ান নিজের অতীতকে ভুলতে চেয়ে একটা নিশ্চিত ভবিষ্যত গড়ার উদ্দ্যেশে পাড়ি জমায় বিদেশে, রাজিতা রয়ে যায় কলকাতায় ,একটা সূক্ষ্ম মন খারাপ সবসময় তাড়া করে বেড়ায় ওকে। ওদিকে রিয়ানের মনেও কিসের যেন অপূর্ণতা, কী যেন নেই হয়ে গেছে ওর জীবনে। রাজির জীবনেও চড়াই উতরাই আসতে থাকে রিয়ান ও ব্যস্ত হয়ে যায় নিজের একাকী জীবনে। তাহলে কি ওদের মধ্যের সব সুতো ছিন্ন হয়ে গেলো? ওদের সেই দোয়েল সাঁকোটাও কি ভেঙে পড়বে ওদের সম্পর্কের মত? এখানেই স্মরণজিত চক্রবর্তীর ম্যাজিক। একদম কঠোর বাস্তবের একটা গল্পকেও উনি বানিয়ে ফেলেন রূপকথার গল্প , জীর্ণ দোয়েল সাঁকো জুড়ে দেয় দুটো ভেঙে যাওয়া মানুষকে। এরকম ম্যাজিকের জন্যই স্মরণজিৎ চক্রবর্তীর লেখা পড়ি, মনে হয় জীবন সহজ হবেই শত বাঁধা বিপত্তির পরেও, নিজের জীবনের পারপাস ঠিকই খুঁজে পাবো। আসলে এই গল্প উপন্যাস গুলো মানুষের নিজেকে খুঁজে পাওয়ার গল্প , ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প, টিকে থাকতে পারলে জয় নিশ্চিত এটা মনে করিয়ে দেওয়ার গল্প। ঠিক এই কটা কারণেই স্মরণজিৎ পড়ি বারবার পড়বো।🥹❤️
আকাশগঙ্গা ছায়াপথের দুপাশের দুই নক্ষত্র অলটেয়ার আর ভেগাকে নিয়ে একটা পুরোনো চিনা রুপকথা রয়েছে যে তারা দুজন দুজনকে ভালোবাসলেও কখনও মিলিত হতে পারেনা তাই তাদের এই দুঃখ সারাতে বছরের সপ্তম মাসের সপ্তম দিনে পৃথিবীর সমস্ত ম্যাগপাই আকাশে উঠে তৈরি করে একটা সাঁকো যাতে মিলিত হতে পারে অলটেয়ার আর ভেগা। ব্রিজ অফ ম্যাগপাইজ, দোয়েল সাঁকো।এমনই একটা দোয়েল সাঁকো আছে আমাদের এই উপন্যাসেও, রাজিতা আর রিয়ানের নিজস্ব দোয়েল সাঁকো।
রিয়ান নিজের অতীতকে ভুলতে চেয়ে একটা নিশ্চিত ভবিষ্যত গড়ার উদ্দ্যেশে পাড়ি জমায় বিদেশে, রাজিতা রয়ে যায় কলকাতায় ,একটা সূক্ষ্ম মন খারাপ সবসময় তাড়া করে বেড়ায় ওকে। ওদিকে রিয়ানের মনেও কিসের যেন অপূর্ণতা, কী যেন নেই হয়ে গেছে ওর জীবনে। রাজির জীবনেও চড়াই উতরাই আসতে থাকে রিয়ান ও ব্যস্ত হয়ে যায় নিজের একাকী জীবনে। তাহলে কি ওদের মধ্যের সব সুতো ছিন্ন হয়ে গেলো? ওদের সেই দোয়েল সাঁকোটাও কি ভেঙে পড়বে ওদের সম্পর্কের মত? এখানেই স্মরণজিত চক্রবর্তীর ম্যাজিক। একদম কঠোর বাস্তবের একটা গল্পকেও উনি বানিয়ে ফেলেন রূপকথার গল্প , জীর্ণ দোয়েল সাঁকো জুড়ে দেয় দুটো ভেঙে যাওয়া মানুষকে। এরকম ম্যাজিকের জন্যই স্মরণজিৎ চক্রবর্তীর লেখা পড়ি, মনে হয় জীবন সহজ হবেই শত বাঁধা বিপত্তির পরেও, নিজের জীবনের পারপাস ঠিকই খুঁজে পাবো। আসলে এই গল্প উপন্যাস গুলো মানুষের নিজেকে খুঁজে পাওয়ার গল্প , ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প, টিকে থাকতে পারলে জয় নিশ্চিত এটা মনে করিয়ে দেওয়ার গল্প। ঠিক এই কটা কারণেই স্মরণজিৎ পড়ি বারবার পড়বো।🥹❤️
July 23, 2020
স্মরঞ্জিত চক্রবর্তী র গল্পের মোহেই কিনা জানি না, এক এক করে উনার সব কটা বই ই পড়া হয়ে যাচ্ছে। এটা নবম পড়া গল্প আমার উনার। রাজিতা আর রিয়ান এর গল্প। একটা বেদবাক্য আছে না, যে "জিনিস থাকতে লোকে জিনিসের কদর করে না"। সেটা এক্ষেত্রে রিয়ানের প্রতি হাজার গুণ ভাবে প্রযোজ্য। গল্পটা পড়াকালীন ভীষণভাবে রাগ হয়েছিল রিয়ানের উপর। রাজিতার সারাজীবন ধরে তাকে নিঃস্বার্থ ভাবে ভালোবাসার উপহারে সে কি দিলো তাকে? শুধু বললো যে "তুই আমার কেউ নোস, আমি তোর কেউ নই, আমাদের গল্প এখানেই শেষ"। বাঃ রে বাহ। তারপর সে বিদেশে পালিয়ে গেল, সবকিছু ছেড়ে। কিন্তু একবার ও ভাবলো না যে রাজিতার মনের অবস্থা কি হতে পারে! এখানে রিয়ানকে আমার অত্যন্ত স্বার্থবান বলে মনে হয়েছে। সে শুধু রাজিতা কে taken for granted করেই রেখে গেল। এদিকে মেয়েটা অন্য কারো দিকে চোখ তুলে পর্যন্ত তাকায়নি কোনোদিন। এমনকি বিদেশে গিয়ে পর্যন্ত নানিয়া, ইয়ানা নামে মেয়েদের ও সুযোগ নিতে দিয়েছে। রাজিয়া কতবার রিয়ানকে ফোন, মেইল করেছে কিন্তু ছেলেটা একটার ও উত্তর পর্যন্ত দেয়নি।পড়তে পড়তে একবার হলেও মনে হয়েছিল যে : সব পুরুষের চরিত্র বুঝি এমন ই হয়!!মাঝে মনে হয়েছিল যে রাজিতার সাথে আকাশ বসুর বিয়ে হয়ে গেলেই ভালো হতো, রিয়ান বুঝতো মানুষ হারানোর কষ্ট কাকে বলে।
তবে বাবুর শেষ পর্যন্ত টনক নড়ে, রাজিতার বিয়ে ঠিক হয়ে যাওয়ার আগে সে অনুভব করতে পারে যে রাজিতা ছাড়া তার জীবন অসম্পূর্ণ, যেটা তার বোঝা উচিত ছিল অনেক আগে। যায় হোক, রিয়ান কলকাতায় আসে এবং যথারীতি তাকে রাজিতার সাথে দেখা করতে দেওয়া হয় না , যা একদম ঠিক হয়েছে। অবশেষে রিয়ান রাজিতার সাথে দেখা করতে পারে কিনা সেটা জানতে হলে উপন্যাস পড়তেই হবে।
যাই হোক, রিয়ান চরিত্র নিয়ে মনে অনেক রাগ আর ক্ষোভ ছিল, পুরোটাই এখানে বললাম। 😃 সবমিলিয়ে একটা ভালো প্রেমের উপন্যাস। সবাই পরে দেখতে পারেন।
রেটিং: ৩ 🌠🌠🌠
তবে বাবুর শেষ পর্যন্ত টনক নড়ে, রাজিতার বিয়ে ঠিক হয়ে যাওয়ার আগে সে অনুভব করতে পারে যে রাজিতা ছাড়া তার জীবন অসম্পূর্ণ, যেটা তার বোঝা উচিত ছিল অনেক আগে। যায় হোক, রিয়ান কলকাতায় আসে এবং যথারীতি তাকে রাজিতার সাথে দেখা করতে দেওয়া হয় না , যা একদম ঠিক হয়েছে। অবশেষে রিয়ান রাজিতার সাথে দেখা করতে পারে কিনা সেটা জানতে হলে উপন্যাস পড়তেই হবে।
যাই হোক, রিয়ান চরিত্র নিয়ে মনে অনেক রাগ আর ক্ষোভ ছিল, পুরোটাই এখানে বললাম। 😃 সবমিলিয়ে একটা ভালো প্রেমের উপন্যাস। সবাই পরে দেখতে পারেন।
রেটিং: ৩ 🌠🌠🌠
November 26, 2020
চীনদেশীয় উপকথায় উল্লেখ আছে এই ‘Bridge of Magpies’এর, যার বাংলা অর্থ ‘দোয়েল-সাঁকো’ । চীনা উপকথা অনুযায়ী, ‘কাউহার্ড’ এবং ‘ওয়েভার গার্ল’ এর প্রেমকাহিনী একটি অমর-লোকগাঁথা । ‘কাউহার্ড’, যে কিনা নক্ষত্র ‘Altair’ এর প্রতীক এবং ‘ওয়েভার গার্ল’, নক্ষত্র ‘Vega’র প্রতীক । তাদের ভালবাসার অনুমতি ছিল না, তাই তাদের দুজনকে স্বর্গীয় নদীর (’Milky Way’র প্রতীকী) দুই বিপরীত দিকে নির্বাসিত করা হয় । প্রতি বছরে একবার, 7 তম চন্দ্র মাসের 7 তম দিনে, দোয়েল পাখিদের (Magpies) একটি ঝাঁক একদিনের জন্য প্রেমীযুগলদের পুনরায় মিলিত করতে একটি সেতু তৈরি করত, সেই সেতুই ‘Bridge of Magpies’ নামে প্রচলিত ।
.
এই রূপকথা থেকে ‘দোয়েল-সাঁকো’ নিয়ে একটি আধুনিক রূপকথার ছবি এঁকেছেন আমাদের প্রিয় ‘স্মরণজিৎদা’, যা দাদার শক্তিশালী লেখাগুলোর মধ্যে অন্যতম ।
.
এই রূপকথা থেকে ‘দোয়েল-সাঁকো’ নিয়ে একটি আধুনিক রূপকথার ছবি এঁকেছেন আমাদের প্রিয় ‘স্মরণজিৎদা’, যা দাদার শক্তিশালী লেখাগুলোর মধ্যে অন্যতম ।
September 23, 2017
I saw a reflection of my pain in the book. Not only that, it is really nice story which covered feelings from both side of a relation. Dramatic ending, which goes through the mind but don't know about how practical it is.
January 16, 2022
ভেঙে পড়া সম্পর্কের দুই দিকে দাঁড়িয়ে রিহান আর রাজিয়া, মাঝে সমস্ত বিশ্বের অসংখ্য নক্ষত্র, গ্রহ মিলে তুলে রেখেছে বিভেদের দেওয়াল, যে দেওয়াল ভেদ করে রাজকন্যা দেখতে পায়না তার জন্য অপেক্ষা করা সৈনিক কে, যে দেওয়াল বুঝতে দেয়নি রিহানকে তার মনের কথা।
দোয়েল সাঁকোকি সত্যি টপকাতে পারে সেই দেওয়াল? হাজার হাজার বছর আগের দোয়েল পাখিরা কি আজও উড়ে আসবে এই কলকাতার বুকে? রিহান কি পারবে সেই সাঁকো পেরিয়ে হয়ে উঠতে ঠাকুমার রূপকথার নায়ক?
আমি খুবই আনরোমান্টিক বলে যাকে সেরকম, এবং এখনো অব্দি স্মরণজিৎ বাবুর চারটি লেখা পড়ে, এই সিদ্ধান্তে উপনীত ছিলাম যে সব গল্পেই উনি সেই একই সস ঢালেন, একগাদা চরিত্রকে দিয়ে প্রমান করেন যে পৃথিবী গোল, কিন্তু এই প্রথম উনার কোনো উপন্যাসে আমি দুটো মানুষের জীবনকে খুঁজে পেলাম, হ্যাঁ সেই একই বলিউড গল্প বলা গেলেও তার মাঝে এই গল্প কোথাও যেন ভালো লাগার রেশ রেখে গেলো।
দোয়েল সাঁকোকি সত্যি টপকাতে পারে সেই দেওয়াল? হাজার হাজার বছর আগের দোয়েল পাখিরা কি আজও উড়ে আসবে এই কলকাতার বুকে? রিহান কি পারবে সেই সাঁকো পেরিয়ে হয়ে উঠতে ঠাকুমার রূপকথার নায়ক?
আমি খুবই আনরোমান্টিক বলে যাকে সেরকম, এবং এখনো অব্দি স্মরণজিৎ বাবুর চারটি লেখা পড়ে, এই সিদ্ধান্তে উপনীত ছিলাম যে সব গল্পেই উনি সেই একই সস ঢালেন, একগাদা চরিত্রকে দিয়ে প্রমান করেন যে পৃথিবী গোল, কিন্তু এই প্রথম উনার কোনো উপন্যাসে আমি দুটো মানুষের জীবনকে খুঁজে পেলাম, হ্যাঁ সেই একই বলিউড গল্প বলা গেলেও তার মাঝে এই গল্প কোথাও যেন ভালো লাগার রেশ রেখে গেলো।
June 13, 2023
"সন্ধ্যে নেমে এসেছে ।আকাশে অসংখ্য নক্ষত্র গ্রহ গ্রহানুপুঞ্জ আর তাদের মধ্যে দিয়ে এক জীবন থেকে অন্য জীবন পার করে বয়ে চলেছে আকাশগঙ্গা । কে লঙ্ঘন করবে এই অর্বুদ নক্ষত্রমালা ? অশ্রু কনার ডাকে করা আসবে আজ পৃথিবীর সমস্ত ভালোবাসা নিয়ে । সাঁকো কি আজ পৌঁছে দিতে পারবে দুজনকে দুজনের কাছে " .............
এ one টাইম read লাভ স্টোরি
But remember its স্মরনজিত চক্রবর্তী ।
এ one টাইম read লাভ স্টোরি
But remember its স্মরনজিত চক্রবর্তী ।
July 18, 2026
“সবটা নিয়ে অনেক দূরে
যার কাছে আজ যেমন থাকো
জানবে আজও তোমার কাছে
এই আমি আর দোয়েল-সাঁকো...”
দোয়েল সাঁকো
স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
প্রকাশক: আনন্দ পাবলিশার্স
মূল্য: ৩৫০/-
“দোয়েল সাঁকো”—শুধু একটি উপন্যাসের নাম নয়, এটি এক অনুভূতির নাম, এক অদৃশ্য সেতুর নাম, যা দুই প্রান্তে দাঁড়িয়ে থাকা দুই মানুষকে নিঃশব্দে যুক্ত করে রাখে। স্মরণজিৎ চক্রবর্তীর কলমে এই উপন্যাস যেন রূপকথা আর বাস্তবতার মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকা এক মায়াবী দুনিয়া, যেখানে ভালোবাসা কখনো স্পষ্টভাবে বলা হয় না, তবু গভীরভাবে অনুভূত হয়।
গল্পের কেন্দ্রে রয়েছে রাজিতা এবং রিয়ান—দুটি চরিত্র, যারা ভিন্ন ভিন্ন বাস্তবতায় বাস করেও এক অদৃশ্য টানে আবদ্ধ। রাজিতা মধ্যবিত্ত সংসারের চেনা সংগ্রামের প্রতিচ্ছবি—দায়িত্ব, অভাব, স্বপ্ন আর না-পাওয়ার মাঝেও সে নিজেকে ধরে রাখতে জানে। তার জীবনে ভালোবাসা কোনো বিলাসিতা নয়, বরং একমাত্র আশ্রয়। অন্যদিকে রিয়ান—নিজের অতীতের আঘাতে ক্লান্ত, নিজেকে গুটিয়ে নিয়ে দূরে সরে যাওয়া এক মানুষ, যে পালাতে চায় স্মৃতি থেকে, সম্পর্ক থেকে, এমনকি নিজের অনুভূতি থেকেও।
কিন্তু পালিয়ে কি সত্যিই সবকিছু থেকে মুক্তি পাওয়া যায়? এই প্রশ্নটাই যেন ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ে পুরো উপন্যাস জুড়ে।
উপন্যাসের সবচেয়ে বড় শক্তি তার আবহ ও ভাষা। স্মরণজিৎ অত্যন্ত সরল অথচ হৃদয়স্পর্শী ভাষায় এমনভাবে গল্প বুনেছেন, যেখানে কোনো অতিরঞ্জন নেই, অথচ প্রতিটি বাক্য যেন হৃদয়ের ভেতর ঢেউ তোলে। তিনি বড় কোনো ঘটনাকে নয়, বরং ছোট ছোট মুহূর্তকে, নিঃশব্দ অনুভূতিকে, চোখের আড়ালে থাকা আবেগগুলোকে তুলে ধরেছেন নিখুঁত সংবেদনশীলতায়। ফলে গল্প পড়তে পড়তে মনে হয়—এ যেন আমাদেরই গল্প, আমাদেরই অচেনা অনুভূতির প্রতিফলন।
উপন্যাসে ‘ঠাকুরমার গল্প’-এর ব্যবহার বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। প্রথমদিকে যেগুলো নিছক রূপকথা বলে মনে হয়, শেষের দিকে এসে সেগুলোই যেন গল্পের গভীরতম সত্যকে প্রতিফলিত করে। এই রূপকথাগুলো শুধু অলংকার নয়, বরং পুরো কাহিনির আত্মা—যা বাস্তবের সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম করে এক অন্য মাত্রা তৈরি করে।
রাজিতা ও রিয়ানের সম্পর্কের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো—এর নীরবতা। এখানে ভালোবাসা উচ্চারণের মধ্যে নয়, বরং অনুচ্চারিত থেকে যায়। কখনো দূরত্বে, কখনো অভিমানে, কখনো ভুল বোঝাবুঝিতে—তবুও সেই টান কোথাও হারিয়ে যায় না। বরং যত দূরত্ব বাড়ে, ততই সেই অদৃশ্য সেতুর অস্তিত্ব স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
এই উপন্যাস পড়তে পড়তে বারবার মনে হয়—
আমরা কি সত্যিই বুঝতে পারি, আমাদের জীবনে কে কতটা গুরুত্বপূর্ণ? আমরা কি সবসময় ঠিক সময়ে ঠিক মানুষটাকে চিনতে পারি? নাকি আমরা নিজেরাই নিজের অজান্তে ভেঙে ফেলি সেই সাঁকো, যা আমাদের সবচেয়ে প্রিয় মানুষটির সঙ্গে যুক্ত করে রেখেছিল?
“দোয়েল সাঁকো” এই প্রশ্নগুলোর সরাসরি উত্তর দেয় না। বরং পাঠকের মনেই রেখে যায় অজস্র অনিশ্চয়তা, অজস্র ভাবনা। আর সেখানেই এই উপন্যাসের সার্থকতা।
গল্পের নামের মধ্যেই লুকিয়ে আছে এক গভীর রূপক—
চীনা উপকথার সেই ‘ম্যাগপাই ব্রিজ’, যেখানে অসংখ্য পাখি একসাথে ডানা মেলে তৈরি করে এক দিনের জন্য একটি সেতু, যাতে দুই বিচ্ছিন্ন প্রেমিক-প্রেমিকা মিলিত হতে পারে। ঠিক তেমনই, এই উপন্যাসেও ‘দোয়েল সাঁকো’ হয়ে ওঠে সেই আশ্চর্য সেতু, যা দূরত্ব, সময়, অভিমান—সবকিছুকে অতিক্রম করে দুই মানুষকে এক সুতোয় বাঁধতে চায়।
তবে এটাও সত্যি, এই উপন্যাস সবার জন্য নয়। যারা গল্পে নিখুঁত বাস্তবতা খোঁজেন, তারা হয়তো এটিকে কিছুটা অবাস্তব বা অতিরিক্ত রোম্যান্টিক মনে করতে পারেন। কিন্তু যারা অনুভূতির গভীরে ডুব দিতে ভালোবাসেন, যারা নীরব ভালোবাসা, অপেক্ষা আর স্মৃতির আবেশে হারিয়ে যেতে চান—তাদের জন্য “দোয়েল সাঁকো” এক অনন্য অভিজ্ঞতা।
উপন্যাসটি পড়া শেষ হলে মনে হয়—
কিছু একটা রয়ে গেল, কিছু একটা বলা হলো না, কিছু একটা ছুঁয়ে গেল খুব গভীরভাবে। একটা অদ্ভুত শূন্যতা, আবার এক অদ্ভুত শান্তিও কাজ করে ভেতরে।
আসলেই, “দোয়েল সাঁকো” কোনো সাধারণ প্রেমের গল্প নয়—এটি অপেক্ষার গল্প, এটি দূরত্বের গল্প, এটি সেই অদৃশ্য টানের গল্প, যা মানুষকে বারবার ফিরিয়ে নিয়ে যায় তার নিজের মানুষের কাছে।
কারণ, আমাদের প্রত্যেকের জীবনেই কোথাও না কোথাও তৈরি হয়ে থাকে একটি অদৃশ্য সেতু—
যার নামই ‘দোয়েল সাঁকো’।
যার কাছে আজ যেমন থাকো
জানবে আজও তোমার কাছে
এই আমি আর দোয়েল-সাঁকো...”
দোয়েল সাঁকো
স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
প্রকাশক: আনন্দ পাবলিশার্স
মূল্য: ৩৫০/-
“দোয়েল সাঁকো”—শুধু একটি উপন্যাসের নাম নয়, এটি এক অনুভূতির নাম, এক অদৃশ্য সেতুর নাম, যা দুই প্রান্তে দাঁড়িয়ে থাকা দুই মানুষকে নিঃশব্দে যুক্ত করে রাখে। স্মরণজিৎ চক্রবর্তীর কলমে এই উপন্যাস যেন রূপকথা আর বাস্তবতার মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকা এক মায়াবী দুনিয়া, যেখানে ভালোবাসা কখনো স্পষ্টভাবে বলা হয় না, তবু গভীরভাবে অনুভূত হয়।
গল্পের কেন্দ্রে রয়েছে রাজিতা এবং রিয়ান—দুটি চরিত্র, যারা ভিন্ন ভিন্ন বাস্তবতায় বাস করেও এক অদৃশ্য টানে আবদ্ধ। রাজিতা মধ্যবিত্ত সংসারের চেনা সংগ্রামের প্রতিচ্ছবি—দায়িত্ব, অভাব, স্বপ্ন আর না-পাওয়ার মাঝেও সে নিজেকে ধরে রাখতে জানে। তার জীবনে ভালোবাসা কোনো বিলাসিতা নয়, বরং একমাত্র আশ্রয়। অন্যদিকে রিয়ান—নিজের অতীতের আঘাতে ক্লান্ত, নিজেকে গুটিয়ে নিয়ে দূরে সরে যাওয়া এক মানুষ, যে পালাতে চায় স্মৃতি থেকে, সম্পর্ক থেকে, এমনকি নিজের অনুভূতি থেকেও।
কিন্তু পালিয়ে কি সত্যিই সবকিছু থেকে মুক্তি পাওয়া যায়? এই প্রশ্নটাই যেন ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ে পুরো উপন্যাস জুড়ে।
উপন্যাসের সবচেয়ে বড় শক্তি তার আবহ ও ভাষা। স্মরণজিৎ অত্যন্ত সরল অথচ হৃদয়স্পর্শী ভাষায় এমনভাবে গল্প বুনেছেন, যেখানে কোনো অতিরঞ্জন নেই, অথচ প্রতিটি বাক্য যেন হৃদয়ের ভেতর ঢেউ তোলে। তিনি বড় কোনো ঘটনাকে নয়, বরং ছোট ছোট মুহূর্তকে, নিঃশব্দ অনুভূতিকে, চোখের আড়ালে থাকা আবেগগুলোকে তুলে ধরেছেন নিখুঁত সংবেদনশীলতায়। ফলে গল্প পড়তে পড়তে মনে হয়—এ যেন আমাদেরই গল্প, আমাদেরই অচেনা অনুভূতির প্রতিফলন।
উপন্যাসে ‘ঠাকুরমার গল্প’-এর ব্যবহার বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। প্রথমদিকে যেগুলো নিছক রূপকথা বলে মনে হয়, শেষের দিকে এসে সেগুলোই যেন গল্পের গভীরতম সত্যকে প্রতিফলিত করে। এই রূপকথাগুলো শুধু অলংকার নয়, বরং পুরো কাহিনির আত্মা—যা বাস্তবের সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম করে এক অন্য মাত্রা তৈরি করে।
রাজিতা ও রিয়ানের সম্পর্কের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো—এর নীরবতা। এখানে ভালোবাসা উচ্চারণের মধ্যে নয়, বরং অনুচ্চারিত থেকে যায়। কখনো দূরত্বে, কখনো অভিমানে, কখনো ভুল বোঝাবুঝিতে—তবুও সেই টান কোথাও হারিয়ে যায় না। বরং যত দূরত্ব বাড়ে, ততই সেই অদৃশ্য সেতুর অস্তিত্ব স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
এই উপন্যাস পড়তে পড়তে বারবার মনে হয়—
আমরা কি সত্যিই বুঝতে পারি, আমাদের জীবনে কে কতটা গুরুত্বপূর্ণ? আমরা কি সবসময় ঠিক সময়ে ঠিক মানুষটাকে চিনতে পারি? নাকি আমরা নিজেরাই নিজের অজান্তে ভেঙে ফেলি সেই সাঁকো, যা আমাদের সবচেয়ে প্রিয় মানুষটির সঙ্গে যুক্ত করে রেখেছিল?
“দোয়েল সাঁকো” এই প্রশ্নগুলোর সরাসরি উত্তর দেয় না। বরং পাঠকের মনেই রেখে যায় অজস্র অনিশ্চয়তা, অজস্র ভাবনা। আর সেখানেই এই উপন্যাসের সার্থকতা।
গল্পের নামের মধ্যেই লুকিয়ে আছে এক গভীর রূপক—
চীনা উপকথার সেই ‘ম্যাগপাই ব্রিজ’, যেখানে অসংখ্য পাখি একসাথে ডানা মেলে তৈরি করে এক দিনের জন্য একটি সেতু, যাতে দুই বিচ্ছিন্ন প্রেমিক-প্রেমিকা মিলিত হতে পারে। ঠিক তেমনই, এই উপন্যাসেও ‘দোয়েল সাঁকো’ হয়ে ওঠে সেই আশ্চর্য সেতু, যা দূরত্ব, সময়, অভিমান—সবকিছুকে অতিক্রম করে দুই মানুষকে এক সুতোয় বাঁধতে চায়।
তবে এটাও সত্যি, এই উপন্যাস সবার জন্য নয়। যারা গল্পে নিখুঁত বাস্তবতা খোঁজেন, তারা হয়তো এটিকে কিছুটা অবাস্তব বা অতিরিক্ত রোম্যান্টিক মনে করতে পারেন। কিন্তু যারা অনুভূতির গভীরে ডুব দিতে ভালোবাসেন, যারা নীরব ভালোবাসা, অপেক্ষা আর স্মৃতির আবেশে হারিয়ে যেতে চান—তাদের জন্য “দোয়েল সাঁকো” এক অনন্য অভিজ্ঞতা।
উপন্যাসটি পড়া শেষ হলে মনে হয়—
কিছু একটা রয়ে গেল, কিছু একটা বলা হলো না, কিছু একটা ছুঁয়ে গেল খুব গভীরভাবে। একটা অদ্ভুত শূন্যতা, আবার এক অদ্ভুত শান্তিও কাজ করে ভেতরে।
আসলেই, “দোয়েল সাঁকো” কোনো সাধারণ প্রেমের গল্প নয়—এটি অপেক্ষার গল্প, এটি দূরত্বের গল্প, এটি সেই অদৃশ্য টানের গল্প, যা মানুষকে বারবার ফিরিয়ে নিয়ে যায় তার নিজের মানুষের কাছে।
কারণ, আমাদের প্রত্যেকের জীবনেই কোথাও না কোথাও তৈরি হয়ে থাকে একটি অদৃশ্য সেতু—
যার নামই ‘দোয়েল সাঁকো’।
April 21, 2021
শরৎচন্দ্রের কালের নায়ক নায়িকারা পথ ভুলে একবিংশ শতকে এসে পড়লে যা হয় আর কি! গল্পের প্লট কৈশোরকালের উপযোগী, ভাষার রীতি ও গতি দুইই উচ্ছ্বাস বেশি, গভীরতা কম। সব মিলিয়ে জমল না। দরিদ্র না মধ্যবিত্ত কিরকম পরিবারের ছবি এঁকেছেন তা বোধগম্য হল না। দুটি শ্রেণির যে একটা অন্তর্গত তফাত থাকে সেটা কেমন গুলিয়ে গেছে। সব মিলিয়ে ভাল লাগল না।
October 20, 2023
Mon bhalo kora akta golpo :)
Notun kichu nei, kintu tao mone hobe Rajita ar Riyan bhalo thakuk :)
Notun kichu nei, kintu tao mone hobe Rajita ar Riyan bhalo thakuk :)
December 11, 2023
আসল রেটিং দেব ২.৫ । খুবই চেনা ছকে লেখা সাদামাটা একটা প্রেমের উপন্যাস। বছর দুয়েক আগে যখন পড়ি তখন ভালো লাগলেও আবার পড়ার পর সেই অনুভূতিটা ফিরে পাইনি। কিশোর-কিশোরীদের পড়ার জন্য ঠিক আছে।
January 19, 2025
মন্দ নয়। কিছুক্ষণ বাস্তবকে ভুলে থাকার জন্য মিষ্টি প্রেম বিরহের গল্প হিসাবে একবার পড়াই যায়।
January 12, 2026
First book I finished this year❤️Solid 5 star read🥹🫶🏻
December 20, 2021
🍂✨📖 উপন্যাসের নাম - দোয়েল 📖✨🍂
✍️লেখক - স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
🖨️প্রকাশক - আনন্দ পাবলিশার্স
🧾পৃষ্ঠা সংখ্যা - ১৯৯
💫🍁রিয়ানের কথা ভুলতে পারে না রাজিতা । রিয়ানকে চেনে পাঁচ বছর বয়স থেকে । রিয়ান , যার সঙ্গে সে একবার পাহাড়ে দাঁড়িয়ে দেখেছিল তুষারপাত । যাকে ভালবেসেছিল সব ভুলে । সেই রিয়ান চলে গেছে অনেক দূর দেশের এক শহরে । কলকাতায় বসে রাজিতা ভাবে , তবে কি রিয়ান ভুলে গেল ওকে । আর বহুদূরে ডালাস শহরের রিয়ান নিজের অতীত থেকে পালাতে চায় । ভুলে যেতে চায় কলকাতা শহর আর তার মানুষদের । রাজিতার এদিকে কেবলই মনে হয় রিয়ান আর ওর মধ্যের সাঁকো কি ভেঙে গেল ? রিয়ানের সঙ্গে কি আর দেখা হবে ওর এই জীবনে ? রাজিতার গল্প , রিয়ানের গল্প ক্রমশ হয়ে ওঠে বাকি সকলের গল্প । বুকের মধ্যে ভালবাসার ছোট্ট চন্দন কাঠের বাক্স লুকিয়ে বেঁচে থাকা মানুষদের গল্প । আর এমন দূরত্ব ও তার পারাপারের কাহিনিই মৃদু স্বরে জানিয়ে দেয় স্মরণজিৎ চক্রবর্তীর ‘ দোয়েল - সাঁকো ’ ।🍁💫
🍂🍁রিয়ানের কথা ভুলতে পারে না রাজিতা । রিয়ান নিজের অতীত থেকে পালাতে চায় । ভুলে যেতে চায় কলকাতা শহর আর তার মানুষদের । রাজিতার এদিকে কেবলই মনে হয় রিয়ান আর ওর মধ্যের সাঁকো কি ভেঙে গেল ? রিয়ানের সঙ্গে কি আর দেখা হবে ওর এই জীবনে ? রাজিতার গল্প , রিয়ানের গল্প ক্রমশ হয়ে ওঠে বাকি সকলের গল্প । বুকের মধ্যে ভালবাসার ছোট্ট চন্দন কাঠের বাক্স লুকিয়ে বেঁচে থাকা মানুষদের গল্প । আর এমন দূরত্ব ও তার পারাপারের কাহিনিই মৃদু স্বরে জানিয়ে দেয় স্মরণজিৎ চক্রবর্তীর ‘ দোয়েল - সাঁকো ' ।🍁🍂
#ananda #bengalibook #bengalinovel #readingbooks #bookrecommendations #books #Bengalibooks #readingchallenge #booklover #boipoka #goodreads #happyreader #bengaliromanticnovel #bookworm #SmaranjitChakraborty
Most of favorite Nobel
✍️লেখক - স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
🖨️প্রকাশক - আনন্দ পাবলিশার্স
🧾পৃষ্ঠা সংখ্যা - ১৯৯
💫🍁রিয়ানের কথা ভুলতে পারে না রাজিতা । রিয়ানকে চেনে পাঁচ বছর বয়স থেকে । রিয়ান , যার সঙ্গে সে একবার পাহাড়ে দাঁড়িয়ে দেখেছিল তুষারপাত । যাকে ভালবেসেছিল সব ভুলে । সেই রিয়ান চলে গেছে অনেক দূর দেশের এক শহরে । কলকাতায় বসে রাজিতা ভাবে , তবে কি রিয়ান ভুলে গেল ওকে । আর বহুদূরে ডালাস শহরের রিয়ান নিজের অতীত থেকে পালাতে চায় । ভুলে যেতে চায় কলকাতা শহর আর তার মানুষদের । রাজিতার এদিকে কেবলই মনে হয় রিয়ান আর ওর মধ্যের সাঁকো কি ভেঙে গেল ? রিয়ানের সঙ্গে কি আর দেখা হবে ওর এই জীবনে ? রাজিতার গল্প , রিয়ানের গল্প ক্রমশ হয়ে ওঠে বাকি সকলের গল্প । বুকের মধ্যে ভালবাসার ছোট্ট চন্দন কাঠের বাক্স লুকিয়ে বেঁচে থাকা মানুষদের গল্প । আর এমন দূরত্ব ও তার পারাপারের কাহিনিই মৃদু স্বরে জানিয়ে দেয় স্মরণজিৎ চক্রবর্তীর ‘ দোয়েল - সাঁকো ’ ।🍁💫
🍂🍁রিয়ানের কথা ভুলতে পারে না রাজিতা । রিয়ান নিজের অতীত থেকে পালাতে চায় । ভুলে যেতে চায় কলকাতা শহর আর তার মানুষদের । রাজিতার এদিকে কেবলই মনে হয় রিয়ান আর ওর মধ্যের সাঁকো কি ভেঙে গেল ? রিয়ানের সঙ্গে কি আর দেখা হবে ওর এই জীবনে ? রাজিতার গল্প , রিয়ানের গল্প ক্রমশ হয়ে ওঠে বাকি সকলের গল্প । বুকের মধ্যে ভালবাসার ছোট্ট চন্দন কাঠের বাক্স লুকিয়ে বেঁচে থাকা মানুষদের গল্প । আর এমন দূরত্ব ও তার পারাপারের কাহিনিই মৃদু স্বরে জানিয়ে দেয় স্মরণজিৎ চক্রবর্তীর ‘ দোয়েল - সাঁকো ' ।🍁🍂
#ananda #bengalibook #bengalinovel #readingbooks #bookrecommendations #books #Bengalibooks #readingchallenge #booklover #boipoka #goodreads #happyreader #bengaliromanticnovel #bookworm #SmaranjitChakraborty
Most of favorite Nobel
August 7, 2019
শারদীয়া দেশ এ বোধহয় পড়েছিলাম উপন্যাসটা। অত্যন্ত সাদামাটা প্রেমের উপন্যাস। দেশ পত্রিকা যে এরকম উপন্যাস ছাপাতে পারে, কস্মিনকালেও কল্পনা করতে পারিনি।
Displaying 1 - 20 of 20 reviews


















