What do you think?


দানব
রফিক নামের একজন বন রক্ষক নতুন এসেছেন পার্বত্য অঞ্চলে৷ তার থাকার জায়গা ঠিক হয়েছে মোটামোটি জনপদ থেকে দূরে নির্জন একটা জায়গায়৷ সেখানে নীলহরি তাকে অদ্ভুত একটা গল্প শোনালো৷ গল্পটা দানবের! স্থানীয় ভাষায় যাদের বলে ফ্লুরেল্লা৷ বাড়ীর আশেপাশে বৃক্ষরাজির সারির কাছাকাছি পাওয়া গেল পায়ের ছাপ! পাহাড়ী একটা জনপদে ঘুরতে যেয়ে রফিক দেখলো ওখানে কেউ নেই৷ কোন মন্ত্রবলে আদিবাসী পাড়ার সবাই যেনো অদৃশ্য হয়ে গেছে! তারপর মিলল লাশ৷ কাজটা কার ?মানুষের নাকি অন্য কিছুর?
বর্ডার গার্ডদের শেষ ক্যাম্পটাও ওরা গুটিয়ে নিতে বাধ্য হলো৷ হাতির পালের আক্রমণে ক্যাম্পটা তছনছ হয়ে গেছে৷ কারও কারও কাছে মনে হয়েছিল হাতিদের উস্কে দেওয়া হয়েছিল, ক্যাম্পের দিকে৷ কাদের কাজ ছিল ওটা? মানুষ না দানবের?
মানায়নমার থেকে নেমে এলো একদল মার্সেনারী৷ তাদের দলনেতা মানুষ রূপী এক দানব৷ ওরা কিসের খোঁজে এসছে এই পাহাড়ী জনপদে! রফিক শেষ চেষ্টা করলো এই জনপদের মানুষ গুলোকে এই দুর্গম এলাকা থেকে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নেবার৷ কিন্তু পারলো কি? ভূমিধ্বস নামল প্রবল বৃষ্টিতে৷ সত্যিই কি নামলো নাকি নামানো হলো? আটকে পড়ল রফিক আর কিছু পাহাড়ী মানুষ৷ এবার কি হবে? সবকিছু ছাপিয়ে অশরীরি কিছুর আভাস পাচ্ছে রফিক৷ আকাশ বাতাস কেঁপে উঠল প্রবল গর্জনে৷ তবে কি দানব বলে সত্যিই কিছু আছে এই অঞ্চলে!
বর্ডার গার্ডদের শেষ ক্যাম্পটাও ওরা গুটিয়ে নিতে বাধ্য হলো৷ হাতির পালের আক্রমণে ক্যাম্পটা তছনছ হয়ে গেছে৷ কারও কারও কাছে মনে হয়েছিল হাতিদের উস্কে দেওয়া হয়েছিল, ক্যাম্পের দিকে৷ কাদের কাজ ছিল ওটা? মানুষ না দানবের?
মানায়নমার থেকে নেমে এলো একদল মার্সেনারী৷ তাদের দলনেতা মানুষ রূপী এক দানব৷ ওরা কিসের খোঁজে এসছে এই পাহাড়ী জনপদে! রফিক শেষ চেষ্টা করলো এই জনপদের মানুষ গুলোকে এই দুর্গম এলাকা থেকে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নেবার৷ কিন্তু পারলো কি? ভূমিধ্বস নামল প্রবল বৃষ্টিতে৷ সত্যিই কি নামলো নাকি নামানো হলো? আটকে পড়ল রফিক আর কিছু পাহাড়ী মানুষ৷ এবার কি হবে? সবকিছু ছাপিয়ে অশরীরি কিছুর আভাস পাচ্ছে রফিক৷ আকাশ বাতাস কেঁপে উঠল প্রবল গর্জনে৷ তবে কি দানব বলে সত্যিই কিছু আছে এই অঞ্চলে!
112 pages, Hardcover
Published March 1, 2022
Ratings & Reviews
Friends & Following
Create a free account to discover what your friends think of this book!
Community Reviews
Displaying 1 - 8 of 8 reviews
August 13, 2022
কাহিনি ভালোই ছিল তবে ডায়লগবাজি আর রফিকের আজগুবি কান্ডকারখানা বেশি হয়ে যাওয়ায় আর জমলো না ঠিকমত। বানান ভূলের পরিমাণ খুব বেশি চোখে লেগেছে।
October 11, 2022
বইটি মোটামুটি লেগেছে। বইটি থেকে আরও ভালো কিছু এক্সপেক্ট করেছিলাম তাই আশাহত হয়েছি। তবে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের বর্ণনাগুলো চমৎকার ছিল।
April 1, 2022
দানব-পলাশ পুরকায়স্থ
ক্রমশ ঘন হতে থাকা রহস্যের সাথে পাহাড়ি এলাকার একটা মিথ আর সত্য-মিথ্যার দোলাচল নিয়ে শুরু হয় গল্পটা। বইটা কোন ঘরানার তা বোঝা মুশকিলই ছিল।
কাহিনী ধীরে ধীরে জমে উঠছিল। প্রথমার্ধ বেশ উপভোগ করেছি। এরপরই কাহিনীর দ্রুত পট পরিবর্তন হতে থাকে। অ্যাকশন জিনিসটা বইয়ের পাতায় পড়ে মজা পাই না বলে শেষার্ধ মোটেই ভালো লাগেনি। চরিত্রায়নে আরো নজর দেওয়া উচিত ছিল। যেহেতু সিক্যুয়েল বের হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে আর গল্পের প্রয়োজনেও রফিককে বেশ প্রয়োজন ছিল সেহেতু এই চরিত্রটাকে আরেকটু ভালোভাবে ফুটিয়ে তোলা যেত। গল্পের প্রথমে দেখা রফিক আর বাকি গল্পের রফিকের মধ্যে মিল ছিল না তেমন।
লেখনশৈলী মোটামুটি মানের। সংলাপ আরেকটু রিয়েলিস্টিক হতে পারতো।
বইটাতে লেখক খোলাখুলিই কিছু ম্যাসেজ দিয়েছেন। যদিও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে একটা বই দিয়ে সিস্টেম চেইঞ্জ করাটা অসম্ভবই বটে তবুও এরকম সূক্ষ্ম ম্যাসেজগুলোই তো বই পড়াটাকে উপকারী করে তোলে।
সবমিলিয়ে, বইটা প্রথম দিকে যতো ভালো লাগলেও শেষে মোটেও উপভোগ করতে পারিনি।
রেটিংঃ ★★★ (২.৫)
ক্রমশ ঘন হতে থাকা রহস্যের সাথে পাহাড়ি এলাকার একটা মিথ আর সত্য-মিথ্যার দোলাচল নিয়ে শুরু হয় গল্পটা। বইটা কোন ঘরানার তা বোঝা মুশকিলই ছিল।
কাহিনী ধীরে ধীরে জমে উঠছিল। প্রথমার্ধ বেশ উপভোগ করেছি। এরপরই কাহিনীর দ্রুত পট পরিবর্তন হতে থাকে। অ্যাকশন জিনিসটা বইয়ের পাতায় পড়ে মজা পাই না বলে শেষার্ধ মোটেই ভালো লাগেনি। চরিত্রায়নে আরো নজর দেওয়া উচিত ছিল। যেহেতু সিক্যুয়েল বের হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে আর গল্পের প্রয়োজনেও রফিককে বেশ প্রয়োজন ছিল সেহেতু এই চরিত্রটাকে আরেকটু ভালোভাবে ফুটিয়ে তোলা যেত। গল্পের প্রথমে দেখা রফিক আর বাকি গল্পের রফিকের মধ্যে মিল ছিল না তেমন।
লেখনশৈলী মোটামুটি মানের। সংলাপ আরেকটু রিয়েলিস্টিক হতে পারতো।
বইটাতে লেখক খোলাখুলিই কিছু ম্যাসেজ দিয়েছেন। যদিও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে একটা বই দিয়ে সিস্টেম চেইঞ্জ করাটা অসম্ভবই বটে তবুও এরকম সূক্ষ্ম ম্যাসেজগুলোই তো বই পড়াটাকে উপকারী করে তোলে।
সবমিলিয়ে, বইটা প্রথম দিকে যতো ভালো লাগলেও শেষে মোটেও উপভোগ করতে পারিনি।
রেটিংঃ ★★★ (২.৫)
May 6, 2022
নাম: দানব
লেখক: পলাশ পুরকায়স্থ
জনরা: ফ্যান্টাসি মিস্ট্রি থ্রিলার
প্রচ্ছদ: কৌশিক জামান
প্রকাশনী: বাতিঘর
প্রথম প্রকাশ: ফেব্রুয়ারি ২০২২
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১১১
মুদ্রিত মূল্য: ১৫০/-
𝓜𝓸𝓽𝓱𝓮𝓻 𝓝𝓪𝓽𝓾𝓻𝓮 𝓴𝓷𝓸𝔀𝓼 𝓿𝓮𝓻𝔂 𝔀𝓮𝓵𝓵 𝓱𝓸𝔀 𝓽𝓸 𝓽𝓪𝓴𝓮 𝓻𝓮𝓿𝓮𝓷𝓰𝓮 𝓼𝓸 𝓫𝓮 𝓬𝓪𝓻𝓮𝓯𝓾𝓵 𝓫𝓮𝓯𝓸𝓻𝓮 𝓱𝓾𝓻𝓽𝓲𝓷𝓰 𝓝𝓪𝓽𝓾𝓻𝓮.
❝প্রকৃতি❞ মা আমাদের। পরম আদরে যেমন আগলে রাখে তেমনি আবার অগ্নিমূর্তিও ধারণ করে। প্রকৃতি মায়ের সন্তানের সংখ্যা কিন্তু নেহাৎ কম নয়। তবে সব সন্তানের খোঁজ কিন্তু আমরা এখনও জানি না। কিন্তু সবচেয়ে অবাধ্য সন্তান হলাম এই আমরা, অকৃতজ্ঞ মানুষেরা। মায়ের প্রতি সন্তান বিরূপ আচরণ করলে মা কি তার প্রত্যুত্তর দিবে না?
বইয়ের প্লট সবুজে ঘেরা দূর্গম পাহাড়িবন, যেখানে সদ্য বন বিভাগের দায়িত্ব নিয়ে এসেছে রফিক। মা-বাবার মৃত্যুর পরই বন বিভাগের কাজ শুরু করে। পরিবার বলতে এখন অবশিষ্ট দুই ভাই, এক বোন আর এই বন-জঙ্গল-পাহাড়। কিন্তু নতুন জায়গায় এসে দেখে দক্ষিণের বনকে ভয় পায় স্থানীয়রা। দক্ষিণের নির্জন বন নিয়ে প্রচলিত রয়েছে একটি মিথ, পাহাড়ি দানো ❝ফ্লুরেল্লা❞ রয়েছে সেখানকার গুহায়। দানবে বিশ্বাসী নয় রফিক কিন্তু রাতের দক্ষিণদিক থেকে আসা নিঃশব্দ ঠান্ডা বাতাস, হঠাৎই প্রকৃতির পরিবর্তন যেন অস্বাভাবিক কিছুর জানান দেয়! বনে পাওয়া যায় দানবাকৃতির পায়ের ছাপ... তাহলে কি হানা দেওয়া শুরু করেছে দানবেরা? নাকি নিরীহ আদিবাসীদের মিথের আশ্রয় নিয়ে চলছে কোনো স্মাগলিং?
কলেবরে ছোট একটি বই, একবসায় পড়ে ফেলার মতো। বইয়ের প্রথম থেকেই ঘটে যায় একের পর এক ঘটনা। তবে প্রথমেই বলে নেয় কিশোর বা তারও কম বয়সী পাঠকদের জন্য বইটা বেশি উপযোগী। হালকা ধাঁচের থ্রিলার সাথে যোগ হয়েছে কিছু মিস্ট্রি আর ফ্যান্টাসি। অ্যানিমেটেড ফ্যান্টাসি মুভিগুলো যেমন হয়ে থাকে অনেকটা সেই ধাঁচে লেখা। হেভি থ্রিলারের আশা নিয়ে পড়লে কিন্তু হতাশ হতে হবে।
বনে পাওয়া বিশালাকৃতির পায়ের ছাপের রহস্য সমাধান করতে যেয়ে বের হয়ে আসে আরও ঘটনা। নতুন সাথীদের সাথে রফিকের বন্ডিং আর টিম ওয়ার্ক দারুণ একটা পার্ট সাথে অ্যাকশন সিন। অনেকদিন পর একটা বই এত মজা নিয়ে পড়লাম। বাচ্চা টাইপ অ্যানিমেটেড মুভি ভালো লাগে এটাও একটা কারণ বটে। বইয়ের লাস্টে সিকুয়েল বইয়ের আভাস আছে। বইয়ের চরিত্রগুলোকে এমনভাবে দেখানো হয়েছে যেন যারা খারাপ তারা খারাপ আর যারা ভালো তারা ভালো। মানে চরিত্রগুলো আবছা। তবে রফিক চরিত্র নিয়ে বলবো এই চরিত্রের আরও ডেভেলপমেন্টের দরকার ছিল যেহেতু মূল চরিত্র। দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গেলে নিরীহ মানুষও ভয়ানক হয়ে যেতে পারে। তাই বলে একের পর এক খুন তাও এত সহজে! এইটা নিয়ে খটকা থেকেই যায়।
প্রডাকশন মোটামুটি। তবে বইয়ে বেশ কিছু বানান ভুল আছে।
এবার বলি প্রচ্ছদ নিয়ে। বইটা নেওয়ার পিছে অনেকাংশে প্রচ্ছদের ক্রেডিট আছে। সবুজ রংয়ের প্রতি আমার টান বরাবরই তারউপর প্রচ্ছদে সবুজের ছড়াছড়ি। তবে এই রকম বা রিলেটেড ছবি বা মুভি সিন আগে দেখেছি সম্ভবত।
লেখক: পলাশ পুরকায়স্থ
জনরা: ফ্যান্টাসি মিস্ট্রি থ্রিলার
প্রচ্ছদ: কৌশিক জামান
প্রকাশনী: বাতিঘর
প্রথম প্রকাশ: ফেব্রুয়ারি ২০২২
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১১১
মুদ্রিত মূল্য: ১৫০/-
𝓜𝓸𝓽𝓱𝓮𝓻 𝓝𝓪𝓽𝓾𝓻𝓮 𝓴𝓷𝓸𝔀𝓼 𝓿𝓮𝓻𝔂 𝔀𝓮𝓵𝓵 𝓱𝓸𝔀 𝓽𝓸 𝓽𝓪𝓴𝓮 𝓻𝓮𝓿𝓮𝓷𝓰𝓮 𝓼𝓸 𝓫𝓮 𝓬𝓪𝓻𝓮𝓯𝓾𝓵 𝓫𝓮𝓯𝓸𝓻𝓮 𝓱𝓾𝓻𝓽𝓲𝓷𝓰 𝓝𝓪𝓽𝓾𝓻𝓮.
❝প্রকৃতি❞ মা আমাদের। পরম আদরে যেমন আগলে রাখে তেমনি আবার অগ্নিমূর্তিও ধারণ করে। প্রকৃতি মায়ের সন্তানের সংখ্যা কিন্তু নেহাৎ কম নয়। তবে সব সন্তানের খোঁজ কিন্তু আমরা এখনও জানি না। কিন্তু সবচেয়ে অবাধ্য সন্তান হলাম এই আমরা, অকৃতজ্ঞ মানুষেরা। মায়ের প্রতি সন্তান বিরূপ আচরণ করলে মা কি তার প্রত্যুত্তর দিবে না?
বইয়ের প্লট সবুজে ঘেরা দূর্গম পাহাড়িবন, যেখানে সদ্য বন বিভাগের দায়িত্ব নিয়ে এসেছে রফিক। মা-বাবার মৃত্যুর পরই বন বিভাগের কাজ শুরু করে। পরিবার বলতে এখন অবশিষ্ট দুই ভাই, এক বোন আর এই বন-জঙ্গল-পাহাড়। কিন্তু নতুন জায়গায় এসে দেখে দক্ষিণের বনকে ভয় পায় স্থানীয়রা। দক্ষিণের নির্জন বন নিয়ে প্রচলিত রয়েছে একটি মিথ, পাহাড়ি দানো ❝ফ্লুরেল্লা❞ রয়েছে সেখানকার গুহায়। দানবে বিশ্বাসী নয় রফিক কিন্তু রাতের দক্ষিণদিক থেকে আসা নিঃশব্দ ঠান্ডা বাতাস, হঠাৎই প্রকৃতির পরিবর্তন যেন অস্বাভাবিক কিছুর জানান দেয়! বনে পাওয়া যায় দানবাকৃতির পায়ের ছাপ... তাহলে কি হানা দেওয়া শুরু করেছে দানবেরা? নাকি নিরীহ আদিবাসীদের মিথের আশ্রয় নিয়ে চলছে কোনো স্মাগলিং?
কলেবরে ছোট একটি বই, একবসায় পড়ে ফেলার মতো। বইয়ের প্রথম থেকেই ঘটে যায় একের পর এক ঘটনা। তবে প্রথমেই বলে নেয় কিশোর বা তারও কম বয়সী পাঠকদের জন্য বইটা বেশি উপযোগী। হালকা ধাঁচের থ্রিলার সাথে যোগ হয়েছে কিছু মিস্ট্রি আর ফ্যান্টাসি। অ্যানিমেটেড ফ্যান্টাসি মুভিগুলো যেমন হয়ে থাকে অনেকটা সেই ধাঁচে লেখা। হেভি থ্রিলারের আশা নিয়ে পড়লে কিন্তু হতাশ হতে হবে।
বনে পাওয়া বিশালাকৃতির পায়ের ছাপের রহস্য সমাধান করতে যেয়ে বের হয়ে আসে আরও ঘটনা। নতুন সাথীদের সাথে রফিকের বন্ডিং আর টিম ওয়ার্ক দারুণ একটা পার্ট সাথে অ্যাকশন সিন। অনেকদিন পর একটা বই এত মজা নিয়ে পড়লাম। বাচ্চা টাইপ অ্যানিমেটেড মুভি ভালো লাগে এটাও একটা কারণ বটে। বইয়ের লাস্টে সিকুয়েল বইয়ের আভাস আছে। বইয়ের চরিত্রগুলোকে এমনভাবে দেখানো হয়েছে যেন যারা খারাপ তারা খারাপ আর যারা ভালো তারা ভালো। মানে চরিত্রগুলো আবছা। তবে রফিক চরিত্র নিয়ে বলবো এই চরিত্রের আরও ডেভেলপমেন্টের দরকার ছিল যেহেতু মূল চরিত্র। দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গেলে নিরীহ মানুষও ভয়ানক হয়ে যেতে পারে। তাই বলে একের পর এক খুন তাও এত সহজে! এইটা নিয়ে খটকা থেকেই যায়।
প্রডাকশন মোটামুটি। তবে বইয়ে বেশ কিছু বানান ভুল আছে।
এবার বলি প্রচ্ছদ নিয়ে। বইটা নেওয়ার পিছে অনেকাংশে প্রচ্ছদের ক্রেডিট আছে। সবুজ রংয়ের প্রতি আমার টান বরাবরই তারউপর প্রচ্ছদে সবুজের ছড়াছড়ি। তবে এই রকম বা রিলেটেড ছবি বা মুভি সিন আগে দেখেছি সম্ভবত।
July 24, 2022
প্রথম দিকে দারুণ লাগলেও শেষ দিকে এসে এভারেজ লেগেছে।আরো এক্সপেকটেশান ছিল বইটার প্রতি।ভেবেছিলাম গা শিউওরানো একটা ফিনিশিং পাব।ওভারওল এভারেজ
September 6, 2022
▌ স্পয়লার - ফ্রি রিভিউ ▌
❝ হার মেনে নেয়া আমাদের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা ; সফল হওয়ার সবচেয়ে ভালো উপায় হলো প্রতিবার হার মানার আগে আরেক বার চেষ্টা করা। ❞
— টমাস আলভা এডিসন।
➲ দানব কী বা কাকে বলে ? / দানব বলতে কী বুঝায় ? —
দানব শব্দটি ল্যাটিন monstrum থেকে উদ্ভুত। এটি ক্রিয়াবাচক শব্দ moneo থেকে উদ্ভুত ( যার অর্থ স্বরণ, সতর্কতা, নির্দেশনা, বা ভবিষ্যদ্বানী করা), এবং অনেক সময় “অদ্ভুত বা একক, প্রকৃতির স্বাভাবিক পদ্ধতির বিপরীতে, যার দ্বারা স্রষ্টা শয়তানের উল্লেখ করেন " “একটি অদ্ভুত, অপ্রাকৃত,ভয়ংকর ব্যাক্তি, পশু বা জিনিস, " অথবা কোন “দৈত্ত বা অস্বাভাবিক জিনিস, ঘটনা,বা দুঃসাহসিক কাজ " বুঝানো হয়।
◆ দানব ( ইংরেজি ; Monster) হলো এক ধরনের বিচিত্র জীব, যার চেহারা ভয়ংকর এবং যার ধ্বংসাত্নক ক্ষমতা মানব বিশ্বের সামাজিক বা নৈতিকতার জন্য হুমকি স্বরূপ।
একটি দানব বা দৈত্য মানুষও হতে পারে,কিন্তু লোক কাহিনীতে, বিকৃত, অতিপ্রাকৃত এবং পারলৌকিক হিসেবে বর্ণীত হয়।
◆ ধর্ম গ্রন্থে বর্ণিত সেই সকল দুষ্ট আত্মা যারা ধর্ম বিরোধী কাজ করে অর্থাৎ যারা দেবতা, ঋষিদের শত্রু।
প্রাচীনকালে রাক্ষসদের ভয়ে ধর্ম সংক্রান্ত কাজ করা মুশকিল হতো।
◆ দানবদের অসুর, দৈত্য, রাক্ষস এসবও বলা হয়ে থাকে।
➲ আখ্যানঃ —
বন রক্ষক হিসেবে রফিক নতুন এসেছে পার্বত্য অঞ্চলে। জনপদ থেকে দূরে, নির্জন একটা জায়গায় তার আবাস। সেখানে নীলহরি তাকে অদ্ভুত একটা গল্প শোনালো।গল্পটা দানবের!
স্থানীয় ভাষায় যাদের বলা হয় “ফ্লুরেল্লা"। বাড়ীর আশেপাশের বৃক্ষেরাজির সারির কাছাকাছি পাওয়া গেল পায়ের ছাপ.....
পাহাড়ি এক জনপদে ঘুরতে যেয়ে রফিক দেখল ওখানে কেউ নেই। যেন কোনো মন্ত্র বলে আদিবাসী পাড়ার সবাই অদৃশ্য হয়ে গেছে! তারপর মিলল লাশ। কাজটা কার? মানুষের নাকি অন্য কিছুর?
বর্ডার গার্ডদের শেষ ক্যাম্পটাও গুটিয়ে নিতে বাধ্য হলো। হাতির পালের আক্রমণে ক্যাম্পটা তছনছ হয়ে গেছে। হাতিদের উস্কে দিয়েছিল কে?
মায়ানমার থেকে নেমে এলো একদল মার্সেনারি। তাদের দলনেতা মানুষরূপী এক দানব। কীসের খোঁজে ওরা এসেছে এই পাহাড়ি জনপদে?
রফিক শেষ চেষ্টা চালায় , এই জনপদের মানুষগুলোকে এই দূর্গম এলাকা থেকে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নেবার। ভূমিধস নামল প্রবল বৃষ্টিতে।দূর্ঘটনা? আটকে পড়ল রফিক আর পাহাড়ি মানুষ। এবার কী হবে?
➲ পাঠ - প্রতিক্রিয়াঃ —
পরিশিষ্ট অংশ সহ মোট সতেরোটি অধ্যায় নিয়ে রচিত দানব বইটি। বইটি সম্পূর্ণ পাহাড়ি বনে ঘটে যাওয়া কিছু কাহিনী নিয়ে লেখা। বইয়ের মূল চরিত্রে
কাজ করেছেন রফিক। তিনি বন বিভাগের একজন কর্মকর্তা। মা - বাবা মারা যান অনেক আগে। আর আছে শুধু ছোট ২ ভাই ও ১ বোন। রফিকের বাস, বন-জঙ্গলেই। তিনি তার বাকী জীবন বন - জঙ্গলে থেকেই কাটিয়ে দিতে চান।
কিছুদিন আগেই রফিক দায়িত্ব নিয়েছে পার্বত্য অঞ্চলের এক বনে। এখানে এসেই দেখে এলাকার লোকেদের দক্ষিণের নির্জন বন নিয়ে অনেক ভয়। সেখানে একটা মিথ প্রচলিত আছে যে, সেই দক্ষিণে নাকি দানো থাকে। রফিক প্রথম বিশ্বাস না করলেও
পরে যখন দানবের পায়ের ছাপ দেখে তখন তার মনে খটকা লেগে যায়৷ নেমে পরেন পায়ের ছাপের রহস্য আবিষ্কারে। এই রহস্য উদঘাটন করতে বের হয়ে আসতে থাকে আরো অনেক ঘটনা। যা বইটি পড়লেই ভালোভাবে বুঝা যাবে।
বইয়ের শেষাংশে অর্থাৎ পরিশিষ্ট অংশে, লেখক খুব সুন্দর একটা টুইস্ট রেখেছেন। যা পড়েই বোঝা যায় বইটির সিকুয়েল বের করবেন লেখক। পরবর্তী বইটির জন্য অগ্রিম শুভকামনা।
বইটি অনেক ছোট সাইজের। সেটা একবসাতেই পড়ে নেয়ার মতো।
বইটির শুরু থেকেই দানবের রহস্য উদঘাটনের বিষয়টি খুবই উপভোগ্য ছিল।
বইয়ে কিছু মানুষরূপী দানবের দেখা পাওয়া যায়। তাদের কার্যকলাপ গুলোও খুবই দারুণ ভাবে উপভোগ করার মতো।
বইয়ের শেষের একশন সিনটা ছিল খুবই চমৎকার। রফিক তার টিমের সাথে যেভাবে পরিকল্পনা করে একশনে ঝাপিয়ে পড়েছিল, তা পড়ে আমি সত্যি মুগ্ধ। রফিকের তীর ধনুক ছোড়ার কৌশল গুলোও ছিল মুগ্ধ করার মতো। একশন সিনে লেখকের সামান্য কিছু ত্রুটি লক্ষ করা গেছে। তা আমি লেখন-শৈলী ও বর্ণনাভঙ্গিতে আলোচনা করব।
➲ লেখন-শৈলী • বর্ণনাভঙ্গিঃ —
সাধারণত পাঠক বই হাতে নেয়ার পর যে বিষয়টিতে
বেশি গুরুত্ব দেয় সেটি হচ্ছে লেখকের লেখনশৈলী ও বর্ণনাভঙ্গি। লেখকের লেখন-শৈলী ; বর্ণানাভঙ্গি ভালো, তো বইও ভালো।
লেখন-শৈলী কিংবা বর্ণনাভঙ্গির কথা বললেই আমার প্রিয় একজন লেখকের কথা মনে পরে। তিনি হচ্ছেন কথার জাদুকর হুমায়ুন আহমেদ। এ পর্যন্ত তার যত বই পড়েছি। তার গল্প না হলেও তার লেখন-শৈলী এবং বর্ণনাভঙ্গি আমাকে মুগ্ধ করেছে। তাই তার বইয়ের প্রতি আমার নেশাও প্রচুর কাজ করে।
যাই হোক,অন্য পথে কিছু কথা বলার জন্য দুঃখীত। দানব বইটির লেখন-শৈলীর ব্যাপারে বলতে গেলে, অনেক ভালো লেগেছে লেখকের লেখার ধাচটা।
তবে কিছু যায়গায় আর একটু গুরুত্ব দিলে আরো ভালো হতো।
বর্ণনার ভঙ্গিগুলোও ছিল খুবই চমৎকার। শুরু থেকেই অনেক আনন্দ নিয়েই পড়ছিলাম বইটা। একটি ঘটনার পর অন্য একটি ঘটনা খুব বিচক্ষণ ভাবে শেষ পর্যন্ত টেনে গেছেন লেখক।
তবে বর্ণনাভঙ্গিতেও সামান্য কিছু ত্রুটি লক্ষ করা যায়। এর মধ্যে বইয়ের শেষের একশন সিনটা উল্লেখযোগ্য।
সাধারণত আমরা অনেকেই একশন সিনগুলো বই থেকে মুভিতেই ভালোভাবে উপভোগ করি। তবে আমার মতে,বইয়ে লেখকের বর্ণানাভঙ্গি যদি ভালো হয়, তবে একশন গুলা বইয়েই বেশি ভালো লাগে।
আমি বলবনা যে একদম খারাপ লেগেছে একশন সিনটা৷ এই বলে বইটাকে একদম এড়িয়ে যাবেন না। আমি বলেছি সামান্য ত্রুটির কথা৷ মানে একশনের বর্ণনাগুলো আর একটু বিস্তারিত করলে,খুবই ভালো হত বলে মনে করি। আশা করি পরবর্তী এডিশনে লেখক বিষয়গুলো যাচাই করবেন।
তাছাড়া অভার অল ঠিকঠাক।
➲ চরিত্রায়নঃ —
পুরো বই জুড়ে খুব চমৎকার ভাবে চরিত্র গুলো সাজিয়েছেন লেখক। চরিত্র বিল্ড আপে তেমন কোনো ত্রুটি লক্ষ করা যায়নি। গল্পের প্রধান চরিত্র রফিক। মূল চরিত্র হিসেবে অনেক ভালোভাবেই তুলে ধরেছেন লেখক। সব চরিত্রগুলোই ভালো লাগার মতো। বিশেষ করে ; রফিক, নীলহরি এবং মি.এ। এছাড়াও ছোট চরিত্রগুলোও সুন্দর ভাবে তুলে ধরতে পেরেছেন লেখক।
➲ লেখক সম্পর্কেঃ —
বইটির লেখক পলাশ পুরকায়স্থ। তার জন্ম সিলেটে।
তিনি থাকেনও সিলেটেই। তার এক ছেলে ও এক মেয়ে। সিলেট বিমানবন্দরে নেটওয়ার্ক ইন্জিনিয়ার হিসেবে বর্তমানে কর্মরত আছে।
তার লেখা বই আগে কখনো পড়া হয়নি আমার। দানব বইটি দিয়েই তার লেখার জগতে ঢুকে গেলাম। তিনি বেশ কিছু বই এ পর্যন্ত লিখেছেন৷ এর মধ্যে কয়েকটি বই আমার লিস্টেও আছে। সময় করে পড়ে ফেলব, ইনশাআল্লাহ।
◆ তার লেখা সম্পর্কে তিনি বলেন ;
থ্রিলার হরর লেখাটা নেশার মতন আমার কাছে। লেখতে গেলে মনে হয় আসলে লেখছি না। কম্পিউটারে গেইম খেলছি। গেইমে যেমন লেভেলের পর লেভেল কঠিন হয়ে যায়, আমরা হয়ে পরি আসক্ত, তেমনি এই লেখাটাও
এটা নেশা।
লেখকের জন্য দোয়া এবং শুভকামনা তার বাকী বইগুলোর জন্য। এবং তার লেখার নেশা যেন তিনি সবসময় ধরে রাখতে পারেন।
➲ প্রচ্ছদঃ —
কিছুদিন থেকে অনেক পাঠকের কাছে শুধু একটা কথাই শুনি, দানবের প্রচ্ছদটা জোস। পরে দেখলাম আসলেই জোস, শুধু জোস না অনেক জোস। সবুজ এবং হলুদ রঙ ছোট থেকেই আমার প্রিয় দুটি রঙ। তা বইয়ের প্রচ্ছদ দেখে কী আর লোভ সামলানো যায়৷ আমি সাধারণত বইয়ের প্রচ্ছদ দেখে বই কিনিনা। কিন্তু দানবের প্রচ্ছদটা আমার ক্রাস হয়ে উঠেছিল। বইটা কেনার পিছনে প্রচ্ছদের অবদান মূখ্য। বইয়ের ভিতরের কাহিনীর সাথে প্রচ্ছদের মিল লক্ষনীয়। প্রচ্ছদে দানব লেখার স্টাইলটাও ছিল জোস। মানে চমৎকার।
বইটির প্রচ্ছদ করেছেন কৌশিক জামান ভাই। তার জন্য অনেক অনেক শুভকামনা।
➲ বানান ও সম্পাদনাঃ —
বামান এবং সম্পাদনা দুরদান্ত। বইয়ের বানানে সামান্য ভুল লক্ষ করা গেছে। মাত্র দু-এক জায়গায়।
এটা টাইপিক মিস্টেক হিসেবে ধরা যায়। তবে পড়তে বাধার মুখে পড়তে হবে না বলে আশা করি।
বইটি পড়লেই বুঝা যায় বইয়ের সম্মাদকের বিচক্ষণতা সম্পর্কে। সম্পাদনার মান অনেক ভালো। তবে আর একটু জোর দিল খারাপ হতো না। সম্পাদকের জন্য শুভকামনা এবং ভালোবাসা।
➲ প্রোডাকশনঃ —
কোনো বই যখন হাতে নেয়া যায় তখনই বেঝা যায় তার প্রডাশন সম্পর্কে। তেমনি বইটি যখন প্যাকেট থেকে বের করে হাতে নিলাম, একদম মন জুরায় দিল।
প্রোডাকশন মোটামুটিভাবে ভালোই উন্নত। মলাট,পৃষ্ঠা, বাঁধাই সবকিছুই ছিল চমৎকার। তবে ছোট বই হলেও বইয়ের পড়া চিন্হিত করার জন্য একটা তেলকা বা সুতা দিলে পাঠকের পড়তে আরো সুবিধা হতো। আশা করি প্রকাশনী বিষয়টি দেখবেন,পরবর্তী এডিসনে।
➲ পরিশিষ্টঃ —
অনেক পাঠক আছেন হয়ত বইটা খুব বেশি থ্রিলারের আশা নিয়ে আছেন। এটা ভেবে থাকলে আপনাকে হতাশ হতে হবে। এমনকি বইটি ভালো নাও লাগতে পারে। তাই খুব বেশি থ্রিলারের আশা নিয়ে থাকবেন না কেউ।
লেখক বইটিতে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট কৌশলে, ছোট ছোট বেশ কিছু বার্তা দিয়েছেন। আমার মতে এই ক্ষুদ্র বিষয়গুলো নিয়ে আরো বিষদ আলোচনার প্রয়োজন।কারণ সামান্য আলোচনা দিয়ে, প্রেক্ষাপটের টিকিটাও নরবে না।
বইটিতে কয়েকটি জনরার সমন্বয় লক্ষ করা যায়। বইটিতে রয়েছে সামান্য থ্রিল,রয়েছে সামান্য মিষ্ট্রি আর ফ্যান্টাসি।
অনেকে বইটিকে অ্যাডভেঞ্চার নভেলাও বলে থাকে।
বইটাকে কিশোর উপযোগী বই হিসেবে বেশি সম্মোধন করব। কিশোর বা তার চেয়ে কম বয়সিদের বইটি বেশি ভালো লাগার মতো।
★বই পরিচিতি★
✪ বইঃ দানব
✪ লেখকঃ পলাশ পুরকায়স্থ
✪ জনরাঃ ফ্যান্টাসি মিষ্ট্রি থ্রিলার
✪ প্রকাশনীঃ বাতিঘর
✪ প্রকাশকালঃ ফেব্রুয়ারী ২০২২
✪ প্রচ্ছদঃ কৌশিক জামান
✪ পৃষ্ঠা সংখ্যাঃ ১১১
✪ মুদ্রিত মূল্যঃ ১৫০ ৳
❝জ্ঞানের আলোয় পৃথিবী ভালো মানুষের হোক৷ ❞
❝ হার মেনে নেয়া আমাদের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা ; সফল হওয়ার সবচেয়ে ভালো উপায় হলো প্রতিবার হার মানার আগে আরেক বার চেষ্টা করা। ❞
— টমাস আলভা এডিসন।
➲ দানব কী বা কাকে বলে ? / দানব বলতে কী বুঝায় ? —
দানব শব্দটি ল্যাটিন monstrum থেকে উদ্ভুত। এটি ক্রিয়াবাচক শব্দ moneo থেকে উদ্ভুত ( যার অর্থ স্বরণ, সতর্কতা, নির্দেশনা, বা ভবিষ্যদ্বানী করা), এবং অনেক সময় “অদ্ভুত বা একক, প্রকৃতির স্বাভাবিক পদ্ধতির বিপরীতে, যার দ্বারা স্রষ্টা শয়তানের উল্লেখ করেন " “একটি অদ্ভুত, অপ্রাকৃত,ভয়ংকর ব্যাক্তি, পশু বা জিনিস, " অথবা কোন “দৈত্ত বা অস্বাভাবিক জিনিস, ঘটনা,বা দুঃসাহসিক কাজ " বুঝানো হয়।
◆ দানব ( ইংরেজি ; Monster) হলো এক ধরনের বিচিত্র জীব, যার চেহারা ভয়ংকর এবং যার ধ্বংসাত্নক ক্ষমতা মানব বিশ্বের সামাজিক বা নৈতিকতার জন্য হুমকি স্বরূপ।
একটি দানব বা দৈত্য মানুষও হতে পারে,কিন্তু লোক কাহিনীতে, বিকৃত, অতিপ্রাকৃত এবং পারলৌকিক হিসেবে বর্ণীত হয়।
◆ ধর্ম গ্রন্থে বর্ণিত সেই সকল দুষ্ট আত্মা যারা ধর্ম বিরোধী কাজ করে অর্থাৎ যারা দেবতা, ঋষিদের শত্রু।
প্রাচীনকালে রাক্ষসদের ভয়ে ধর্ম সংক্রান্ত কাজ করা মুশকিল হতো।
◆ দানবদের অসুর, দৈত্য, রাক্ষস এসবও বলা হয়ে থাকে।
➲ আখ্যানঃ —
বন রক্ষক হিসেবে রফিক নতুন এসেছে পার্বত্য অঞ্চলে। জনপদ থেকে দূরে, নির্জন একটা জায়গায় তার আবাস। সেখানে নীলহরি তাকে অদ্ভুত একটা গল্প শোনালো।গল্পটা দানবের!
স্থানীয় ভাষায় যাদের বলা হয় “ফ্লুরেল্লা"। বাড়ীর আশেপাশের বৃক্ষেরাজির সারির কাছাকাছি পাওয়া গেল পায়ের ছাপ.....
পাহাড়ি এক জনপদে ঘুরতে যেয়ে রফিক দেখল ওখানে কেউ নেই। যেন কোনো মন্ত্র বলে আদিবাসী পাড়ার সবাই অদৃশ্য হয়ে গেছে! তারপর মিলল লাশ। কাজটা কার? মানুষের নাকি অন্য কিছুর?
বর্ডার গার্ডদের শেষ ক্যাম্পটাও গুটিয়ে নিতে বাধ্য হলো। হাতির পালের আক্রমণে ক্যাম্পটা তছনছ হয়ে গেছে। হাতিদের উস্কে দিয়েছিল কে?
মায়ানমার থেকে নেমে এলো একদল মার্সেনারি। তাদের দলনেতা মানুষরূপী এক দানব। কীসের খোঁজে ওরা এসেছে এই পাহাড়ি জনপদে?
রফিক শেষ চেষ্টা চালায় , এই জনপদের মানুষগুলোকে এই দূর্গম এলাকা থেকে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নেবার। ভূমিধস নামল প্রবল বৃষ্টিতে।দূর্ঘটনা? আটকে পড়ল রফিক আর পাহাড়ি মানুষ। এবার কী হবে?
➲ পাঠ - প্রতিক্রিয়াঃ —
পরিশিষ্ট অংশ সহ মোট সতেরোটি অধ্যায় নিয়ে রচিত দানব বইটি। বইটি সম্পূর্ণ পাহাড়ি বনে ঘটে যাওয়া কিছু কাহিনী নিয়ে লেখা। বইয়ের মূল চরিত্রে
কাজ করেছেন রফিক। তিনি বন বিভাগের একজন কর্মকর্তা। মা - বাবা মারা যান অনেক আগে। আর আছে শুধু ছোট ২ ভাই ও ১ বোন। রফিকের বাস, বন-জঙ্গলেই। তিনি তার বাকী জীবন বন - জঙ্গলে থেকেই কাটিয়ে দিতে চান।
কিছুদিন আগেই রফিক দায়িত্ব নিয়েছে পার্বত্য অঞ্চলের এক বনে। এখানে এসেই দেখে এলাকার লোকেদের দক্ষিণের নির্জন বন নিয়ে অনেক ভয়। সেখানে একটা মিথ প্রচলিত আছে যে, সেই দক্ষিণে নাকি দানো থাকে। রফিক প্রথম বিশ্বাস না করলেও
পরে যখন দানবের পায়ের ছাপ দেখে তখন তার মনে খটকা লেগে যায়৷ নেমে পরেন পায়ের ছাপের রহস্য আবিষ্কারে। এই রহস্য উদঘাটন করতে বের হয়ে আসতে থাকে আরো অনেক ঘটনা। যা বইটি পড়লেই ভালোভাবে বুঝা যাবে।
বইয়ের শেষাংশে অর্থাৎ পরিশিষ্ট অংশে, লেখক খুব সুন্দর একটা টুইস্ট রেখেছেন। যা পড়েই বোঝা যায় বইটির সিকুয়েল বের করবেন লেখক। পরবর্তী বইটির জন্য অগ্রিম শুভকামনা।
বইটি অনেক ছোট সাইজের। সেটা একবসাতেই পড়ে নেয়ার মতো।
বইটির শুরু থেকেই দানবের রহস্য উদঘাটনের বিষয়টি খুবই উপভোগ্য ছিল।
বইয়ে কিছু মানুষরূপী দানবের দেখা পাওয়া যায়। তাদের কার্যকলাপ গুলোও খুবই দারুণ ভাবে উপভোগ করার মতো।
বইয়ের শেষের একশন সিনটা ছিল খুবই চমৎকার। রফিক তার টিমের সাথে যেভাবে পরিকল্পনা করে একশনে ঝাপিয়ে পড়েছিল, তা পড়ে আমি সত্যি মুগ্ধ। রফিকের তীর ধনুক ছোড়ার কৌশল গুলোও ছিল মুগ্ধ করার মতো। একশন সিনে লেখকের সামান্য কিছু ত্রুটি লক্ষ করা গেছে। তা আমি লেখন-শৈলী ও বর্ণনাভঙ্গিতে আলোচনা করব।
➲ লেখন-শৈলী • বর্ণনাভঙ্গিঃ —
সাধারণত পাঠক বই হাতে নেয়ার পর যে বিষয়টিতে
বেশি গুরুত্ব দেয় সেটি হচ্ছে লেখকের লেখনশৈলী ও বর্ণনাভঙ্গি। লেখকের লেখন-শৈলী ; বর্ণানাভঙ্গি ভালো, তো বইও ভালো।
লেখন-শৈলী কিংবা বর্ণনাভঙ্গির কথা বললেই আমার প্রিয় একজন লেখকের কথা মনে পরে। তিনি হচ্ছেন কথার জাদুকর হুমায়ুন আহমেদ। এ পর্যন্ত তার যত বই পড়েছি। তার গল্প না হলেও তার লেখন-শৈলী এবং বর্ণনাভঙ্গি আমাকে মুগ্ধ করেছে। তাই তার বইয়ের প্রতি আমার নেশাও প্রচুর কাজ করে।
যাই হোক,অন্য পথে কিছু কথা বলার জন্য দুঃখীত। দানব বইটির লেখন-শৈলীর ব্যাপারে বলতে গেলে, অনেক ভালো লেগেছে লেখকের লেখার ধাচটা।
তবে কিছু যায়গায় আর একটু গুরুত্ব দিলে আরো ভালো হতো।
বর্ণনার ভঙ্গিগুলোও ছিল খুবই চমৎকার। শুরু থেকেই অনেক আনন্দ নিয়েই পড়ছিলাম বইটা। একটি ঘটনার পর অন্য একটি ঘটনা খুব বিচক্ষণ ভাবে শেষ পর্যন্ত টেনে গেছেন লেখক।
তবে বর্ণনাভঙ্গিতেও সামান্য কিছু ত্রুটি লক্ষ করা যায়। এর মধ্যে বইয়ের শেষের একশন সিনটা উল্লেখযোগ্য।
সাধারণত আমরা অনেকেই একশন সিনগুলো বই থেকে মুভিতেই ভালোভাবে উপভোগ করি। তবে আমার মতে,বইয়ে লেখকের বর্ণানাভঙ্গি যদি ভালো হয়, তবে একশন গুলা বইয়েই বেশি ভালো লাগে।
আমি বলবনা যে একদম খারাপ লেগেছে একশন সিনটা৷ এই বলে বইটাকে একদম এড়িয়ে যাবেন না। আমি বলেছি সামান্য ত্রুটির কথা৷ মানে একশনের বর্ণনাগুলো আর একটু বিস্তারিত করলে,খুবই ভালো হত বলে মনে করি। আশা করি পরবর্তী এডিশনে লেখক বিষয়গুলো যাচাই করবেন।
তাছাড়া অভার অল ঠিকঠাক।
➲ চরিত্রায়নঃ —
পুরো বই জুড়ে খুব চমৎকার ভাবে চরিত্র গুলো সাজিয়েছেন লেখক। চরিত্র বিল্ড আপে তেমন কোনো ত্রুটি লক্ষ করা যায়নি। গল্পের প্রধান চরিত্র রফিক। মূল চরিত্র হিসেবে অনেক ভালোভাবেই তুলে ধরেছেন লেখক। সব চরিত্রগুলোই ভালো লাগার মতো। বিশেষ করে ; রফিক, নীলহরি এবং মি.এ। এছাড়াও ছোট চরিত্রগুলোও সুন্দর ভাবে তুলে ধরতে পেরেছেন লেখক।
➲ লেখক সম্পর্কেঃ —
বইটির লেখক পলাশ পুরকায়স্থ। তার জন্ম সিলেটে।
তিনি থাকেনও সিলেটেই। তার এক ছেলে ও এক মেয়ে। সিলেট বিমানবন্দরে নেটওয়ার্ক ইন্জিনিয়ার হিসেবে বর্তমানে কর্মরত আছে।
তার লেখা বই আগে কখনো পড়া হয়নি আমার। দানব বইটি দিয়েই তার লেখার জগতে ঢুকে গেলাম। তিনি বেশ কিছু বই এ পর্যন্ত লিখেছেন৷ এর মধ্যে কয়েকটি বই আমার লিস্টেও আছে। সময় করে পড়ে ফেলব, ইনশাআল্লাহ।
◆ তার লেখা সম্পর্কে তিনি বলেন ;
থ্রিলার হরর লেখাটা নেশার মতন আমার কাছে। লেখতে গেলে মনে হয় আসলে লেখছি না। কম্পিউটারে গেইম খেলছি। গেইমে যেমন লেভেলের পর লেভেল কঠিন হয়ে যায়, আমরা হয়ে পরি আসক্ত, তেমনি এই লেখাটাও
এটা নেশা।
লেখকের জন্য দোয়া এবং শুভকামনা তার বাকী বইগুলোর জন্য। এবং তার লেখার নেশা যেন তিনি সবসময় ধরে রাখতে পারেন।
➲ প্রচ্ছদঃ —
কিছুদিন থেকে অনেক পাঠকের কাছে শুধু একটা কথাই শুনি, দানবের প্রচ্ছদটা জোস। পরে দেখলাম আসলেই জোস, শুধু জোস না অনেক জোস। সবুজ এবং হলুদ রঙ ছোট থেকেই আমার প্রিয় দুটি রঙ। তা বইয়ের প্রচ্ছদ দেখে কী আর লোভ সামলানো যায়৷ আমি সাধারণত বইয়ের প্রচ্ছদ দেখে বই কিনিনা। কিন্তু দানবের প্রচ্ছদটা আমার ক্রাস হয়ে উঠেছিল। বইটা কেনার পিছনে প্রচ্ছদের অবদান মূখ্য। বইয়ের ভিতরের কাহিনীর সাথে প্রচ্ছদের মিল লক্ষনীয়। প্রচ্ছদে দানব লেখার স্টাইলটাও ছিল জোস। মানে চমৎকার।
বইটির প্রচ্ছদ করেছেন কৌশিক জামান ভাই। তার জন্য অনেক অনেক শুভকামনা।
➲ বানান ও সম্পাদনাঃ —
বামান এবং সম্পাদনা দুরদান্ত। বইয়ের বানানে সামান্য ভুল লক্ষ করা গেছে। মাত্র দু-এক জায়গায়।
এটা টাইপিক মিস্টেক হিসেবে ধরা যায়। তবে পড়তে বাধার মুখে পড়তে হবে না বলে আশা করি।
বইটি পড়লেই বুঝা যায় বইয়ের সম্মাদকের বিচক্ষণতা সম্পর্কে। সম্পাদনার মান অনেক ভালো। তবে আর একটু জোর দিল খারাপ হতো না। সম্পাদকের জন্য শুভকামনা এবং ভালোবাসা।
➲ প্রোডাকশনঃ —
কোনো বই যখন হাতে নেয়া যায় তখনই বেঝা যায় তার প্রডাশন সম্পর্কে। তেমনি বইটি যখন প্যাকেট থেকে বের করে হাতে নিলাম, একদম মন জুরায় দিল।
প্রোডাকশন মোটামুটিভাবে ভালোই উন্নত। মলাট,পৃষ্ঠা, বাঁধাই সবকিছুই ছিল চমৎকার। তবে ছোট বই হলেও বইয়ের পড়া চিন্হিত করার জন্য একটা তেলকা বা সুতা দিলে পাঠকের পড়তে আরো সুবিধা হতো। আশা করি প্রকাশনী বিষয়টি দেখবেন,পরবর্তী এডিসনে।
➲ পরিশিষ্টঃ —
অনেক পাঠক আছেন হয়ত বইটা খুব বেশি থ্রিলারের আশা নিয়ে আছেন। এটা ভেবে থাকলে আপনাকে হতাশ হতে হবে। এমনকি বইটি ভালো নাও লাগতে পারে। তাই খুব বেশি থ্রিলারের আশা নিয়ে থাকবেন না কেউ।
লেখক বইটিতে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট কৌশলে, ছোট ছোট বেশ কিছু বার্তা দিয়েছেন। আমার মতে এই ক্ষুদ্র বিষয়গুলো নিয়ে আরো বিষদ আলোচনার প্রয়োজন।কারণ সামান্য আলোচনা দিয়ে, প্রেক্ষাপটের টিকিটাও নরবে না।
বইটিতে কয়েকটি জনরার সমন্বয় লক্ষ করা যায়। বইটিতে রয়েছে সামান্য থ্রিল,রয়েছে সামান্য মিষ্ট্রি আর ফ্যান্টাসি।
অনেকে বইটিকে অ্যাডভেঞ্চার নভেলাও বলে থাকে।
বইটাকে কিশোর উপযোগী বই হিসেবে বেশি সম্মোধন করব। কিশোর বা তার চেয়ে কম বয়সিদের বইটি বেশি ভালো লাগার মতো।
★বই পরিচিতি★
✪ বইঃ দানব
✪ লেখকঃ পলাশ পুরকায়স্থ
✪ জনরাঃ ফ্যান্টাসি মিষ্ট্রি থ্রিলার
✪ প্রকাশনীঃ বাতিঘর
✪ প্রকাশকালঃ ফেব্রুয়ারী ২০২২
✪ প্রচ্ছদঃ কৌশিক জামান
✪ পৃষ্ঠা সংখ্যাঃ ১১১
✪ মুদ্রিত মূল্যঃ ১৫০ ৳
❝জ্ঞানের আলোয় পৃথিবী ভালো মানুষের হোক৷ ❞
June 8, 2023
একটা বই পড়ে আশা পূরণ না হওয়া সত্যিই হতাশাজনক। রঙচঙে প্রচ্ছদের এপিঠ ওপিঠ, ফ্ল্যাপে লেখা বর্ণনা পড়ে মনে হয়েছিলো দারুণ কিছু হবে। কিন্তু না কোনো ভাবেই তা বলা গেলো না।
লেখকের লেখনশৈলী দিয়ে শুরু করা যাক। মোটের উপর রসকষবিহীন লেখা, কোথাও কোথাও ক্লাসিক সেবা স্টাইল চলে এসেছে বটে, কিন্তু বেশিরভাগ সময় মনে হয়েছে পাতার পর পাতা একঘেয়ে বিবরণ পড়ে চলেছি। গল্পের ফ্লো অনেকটা একই রকমের। কোথাও মনে হয়েছে আরে দারুণ এগোচ্ছে গল্প, পরক্ষণেই এতো বিরক্তিকর হয়ে উঠেছে যে বলার মত নয়। প্লট আহামরি কিছু নয়। শুধু সামনের বইয়ের ইঙ্গিত দেওয়ার জন্যে লেখক যে অ্যাঙ্গেল বেছে নিয়েছেন তা নিতান্ত নিষ্প্রয়োজন লেগেছে। অ্যাকশন সিকোয়েন্স গুলোতে কাকতাল তথা দৈব ঘটনার প্রভাব দৃষ্টিকটু ছিল। চরিত্রয়ান খাপছাড়া। গল্পে antognist ধাওয়া করছিল মূল্যবান কিছু বস্তুর পেছনে। ওগুলোর ব্যাকস্টোরির বড্ড অভাব বোধ করেছি। আরেকটা বিষয় না বললেই নয়, আর্মির স্পেশাল গ্রুপের নাম এই ছিল বাংলা স্বরবর্ণে, খানিক বাদে তারা হয়ে গেলো এবিসিডি! প্রথমে ভেবেছিলাম বোধয় টাইপিং মিসটেক। কিন্তু না গল্পের শেষ পর্যন্ত এই নামই চললো! বিষয়টা মাথায় ঢুকলো না।
প্রুভ রিডিংয়ের অবস্থা যাচ্ছেতাই। বানান ভুল অসংখ্য। কোথাও বিশেষ্য পাল্টে গিয়ে হালকা স্পয়লারও দিয়ে দিতে পারে।
শুধু যে বিষয়টা ভালো লেগেছে তা হলো রফিকের প্রকৃতিপ্রেম আর লেখকের প্রাকৃতিক দৃশ্যাবলির বর্ণনা। দু এক জায়গায় লেখকের ফুটিয়ে তোলা আবেগ ছিলো মর্মস্পর্শী।
লেখকের লেখনশৈলী দিয়ে শুরু করা যাক। মোটের উপর রসকষবিহীন লেখা, কোথাও কোথাও ক্লাসিক সেবা স্টাইল চলে এসেছে বটে, কিন্তু বেশিরভাগ সময় মনে হয়েছে পাতার পর পাতা একঘেয়ে বিবরণ পড়ে চলেছি। গল্পের ফ্লো অনেকটা একই রকমের। কোথাও মনে হয়েছে আরে দারুণ এগোচ্ছে গল্প, পরক্ষণেই এতো বিরক্তিকর হয়ে উঠেছে যে বলার মত নয়। প্লট আহামরি কিছু নয়। শুধু সামনের বইয়ের ইঙ্গিত দেওয়ার জন্যে লেখক যে অ্যাঙ্গেল বেছে নিয়েছেন তা নিতান্ত নিষ্প্রয়োজন লেগেছে। অ্যাকশন সিকোয়েন্স গুলোতে কাকতাল তথা দৈব ঘটনার প্রভাব দৃষ্টিকটু ছিল। চরিত্রয়ান খাপছাড়া। গল্পে antognist ধাওয়া করছিল মূল্যবান কিছু বস্তুর পেছনে। ওগুলোর ব্যাকস্টোরির বড্ড অভাব বোধ করেছি। আরেকটা বিষয় না বললেই নয়, আর্মির স্পেশাল গ্রুপের নাম এই ছিল বাংলা স্বরবর্ণে, খানিক বাদে তারা হয়ে গেলো এবিসিডি! প্রথমে ভেবেছিলাম বোধয় টাইপিং মিসটেক। কিন্তু না গল্পের শেষ পর্যন্ত এই নামই চললো! বিষয়টা মাথায় ঢুকলো না।
প্রুভ রিডিংয়ের অবস্থা যাচ্ছেতাই। বানান ভুল অসংখ্য। কোথাও বিশেষ্য পাল্টে গিয়ে হালকা স্পয়লারও দিয়ে দিতে পারে।
শুধু যে বিষয়টা ভালো লেগেছে তা হলো রফিকের প্রকৃতিপ্রেম আর লেখকের প্রাকৃতিক দৃশ্যাবলির বর্ণনা। দু এক জায়গায় লেখকের ফুটিয়ে তোলা আবেগ ছিলো মর্মস্পর্শী।
Displaying 1 - 8 of 8 reviews









