Jump to ratings and reviews
Rate this book

মাংস-লতার কৃষ্ণকলি

Rate this book
একজন পক্ষাঘাতগ্রস্ত মানুষের পিঠ থেকে শেকড় নেমে মেঝের মধ্যে ঢুকে গিয়েছিল। তাই সে মরছিল না। আকাশ থেকে নেমে এসেছিল এক পাথুরে টিলা, যে এখনো সন্তানের জন্ম দেয়। হতে পারে না? হ্যাঁ, হতে পারে। যদি লেখকের নাম হয় সৈকত মুখোপাধ্যায়। যিনি ভাষা আর কল্পনার জাদুতে নয়-কে হয় করে দেন। এই সংকলনে রইল তাঁর সাম্প্রতিকতম ফ্যানটাসির সাতটি আখ্যান।

175 pages, Hardcover

Published February 1, 2022

2 people are currently reading
40 people want to read

About the author

Saikat Mukhopadhyay

58 books118 followers
তাঁর জন্ম এবং বড় হওয়া হুগলি জেলার উত্তরপাড়ায়। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরাজি সাহিত্যে স্নাতকোত্তর উপাধি অর্জনের পরে তিনি রাজ্য সরকারের অধীনে আধিকারিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। দীর্ঘ দুই-দশকের লেখক-জীবনে তিনি প্রাপ্তবয়স্ক এবং কিশোর-সাহিত্য, উভয় ধারাতেই জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য তিনি যখন গল্প-উপন্যাস লেখেন, তখন ঘটনার বিবরণের চেয়ে বেশি প্রাধান্য দেন মানব-মনের আলোছায়াকে তুলে আনার বিষয়ে। লেখকের প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা পঞ্চাশের কাছাকাছি। তাঁর বহু কাহিনি রেডিও-স্টোরি হিসেবে সামাজিক মাধ্যমে সমাদর পেয়েছে। সাহিত্যে সামগ্রিক অবদানের জন্য তিনি পেয়েছেন দীনেশচন্দ্র স্মৃতি পুরস্কার এবং নান্দনিক সাহিত্য সম্মান।

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
12 (27%)
4 stars
16 (36%)
3 stars
12 (27%)
2 stars
4 (9%)
1 star
0 (0%)
Displaying 1 - 6 of 6 reviews
Profile Image for Madhurima Nayek.
361 reviews134 followers
July 10, 2023
বইটিতে মোট ৭টি গল্প আছে। সহজ সরল নয় গল্পগুলো, ভিতরে ঢুকতে হবে, গভীর অর্থ আছে।
বেশি কিছু বলতে চাই না, তবে আমি ব্যক্তিগতভাবে ওই ২-৩ টে গল্পই enjoy করেছি। যতটা আশা নিয়ে শুরু করেছিলাম, অতটা মনঃপুত হয়নি।
Profile Image for Mrinmoy Bhattacharya.
226 reviews36 followers
May 2, 2022
📜 ডার্ক ফ‍্যান্টাসি, ডার্ক ফিকশন এবং কিছু কথা :

প্রতিটি মানুষের মনের গভীরেই 'অন্ধকার' লুকিয়ে আছে । মানুষের মনের এই অন্ধকার অংশের সাথে 'কল্পনা' মিশিয়ে সাহিত্যের যে ধারায় কাজ করা হয় তাকেই বলা হয় ‘ডার্ক ফ‍্যান্টাসি’ বা ‘ডার্ক ফিকশন’ । এই জঁনরার বিষয়বস্তু কঠোরভাবে ‘প্রাপ্তমনস্ক’ পাঠকদের জন‍্য । বাংলা সাহিত্যে এই বিষয় নিয়ে কতটুকু কাজ হয়েছে তা হাতে গুণে বলা যাবে ।

▪️ বিশ্বসাহিত্যের ইতিহাসে এই বিষয় নিয়ে লেখা গদ্য/পদ্য বহু আগে থেকেই ভীষন জনপ্রিয় । কিন্তু 'বাংলা'য় এই ধারাটির সাথে আমার প্রথম পরিচয় হয়েছিল বছর তিনেক আগে ‘ঈশ্বরের নষ্ট ভ্রূণ’ নামের একটি বইয়ের মাধ‍্যমে... ১২ টি গল্প নিয়ে তৈরি সেই সংকলনের প্র‍ত‍্যেকটি গল্পই ছিল ভীষন 'অস্বস্তিকর' এবং 'গায়ে কাঁটা দেওয়া' এক একটি উপাখ্যান । এরপর থেকেই 'ডার্ক ফিকশন' সম্পর্কে আমার আলাদা আগ্রহ জন্মায় ।

📕 আমাদের এই 'ধূসর' জগতের প্রেক্ষাপটে 'ভাষার জাদু' এবং 'কল্পনা'র মিশেলে লেখক 'সৈকত মুখোপাধ্যায়' সৃষ্টি করেছেন 'ডার্ক ফ্যান্টাসি' সাহিত্যের এক নিজস্ব ধারা । 'ঈশ্বরের নষ্ট ভ্রূণ' এবং 'নোনা বালি চোরা টান' এর পর এটি তাঁর তৃতীয় 'ডার্ক ফ্যান্টাসি' গল্পের সংকলন । ভূমিকায় লেখক বলেছেন - এই সংকলনের গল্পগুলির সবটাই কল্পনা নয়, প্রতিটি গল্পের শেকড় রয়েছে আমাদের ঘরের পেছনের বাগানের মধ্যে, অর্থাৎ তাদের পটভূমিকা 'বাস্তব'।

📕 বিষয়বস্তু : এই সংকলনে ছোট-বড় মিলিয়ে মোট ৭টি গল্প আছে । কোনো গল্প নিয়েই আমি বিস্তারিত আলোচনা করবো না, শুধুমাত্র গল্পের বিষয়বস্তু একটু তুলে ধরার চেষ্টা করছি এখানে ।

▫️উল্কাপাতের মাঠ : সুইসাইড করার জন্য অরিত্র গিয়ে পৌঁছাল উল্কাপাতের মাঠে । সেখানে আকাশ থেকে নেমে এসেছিল এক মহাজাগতিক পাথুরে শিলা । সেটি দেখে মনে হয় কোনো নারীর বিশাল উরুসন্ধি, জন্মদ্বার ও জরায়ু । সেই পাথুরে টিলা এখনো সন্তানের জন্ম দেয় । তারপর ঠিক কি ঘটে ? অরিত্র কি সুইসাইড করতে পারলো ?

▫️ ফেরিওলা : একজন ফেরিওলা প্রতিদিন একটি বাড়ির সামনে দিয়ে যায়, যে বাড়িতে একজন পক্ষাঘাতগ্রস্ত মানুষের পিঠ থেকে শেকড় নেমে মেঝের মধ্যে ঢুকে গিয়েছিল, তাই সে মরছিল না । সত্যিই কি তাই ?

▫️ব্যাঙ কাটার ক্লাস : সরোজিনী বালিকা বিদ্যালয়ের বায়োলজি ল্যাবের অ্যাসিস্ট্যান্ট গৌরহরি বাবু । কিন্তু তার শরীর অসুস্থ থাকায় তার হয়ে ল্যাবের কাজ করে তার ছেলে পেখম । এইরকমই একটি বায়োলজির ডিসেকসন ক্লাসে একটা ব্যাঙের পেটের মধ্যে পাওয়া গেল এক ছাত্রীর কানের দুল । ব্যাঙটাকে দেখতে ছিল ঠিক ল্যাবরেটরি-অ্যাসিট্যান্টের ছেলেটার মতন । কিন্তু কিভাবে ?

▫️ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন : টুম্পা সাত মাসের গর্ভবতী । একটি বাড়িতে সে আর তার ছেলে কানু থাকে । হঠাৎই একদিন টুম্পার বাড়ির ওয়াশরুমের জানলার কাচ ভেঙে যায় । বাগানে পাওয়া যায় একটি কুকুরছানার থ্যাতলানো মৃতদেহ । আবার বাড়ির দেয়ালে টুম্পার মৃত্যুকামনা করে কেউ কিছু কথা লিখে রেখে যায় । কে করছে এসব ? কানু জানায় সে একটা হাতকে দেখতে পায় এসব করতে । কার হাত ?

▫️বেদিয়াটোলির বিদেহী : ব্যাংকের চাকরি পেয়ে বেদিয়াটোলিতে এসেছে সুমন আর মানিক । যে ঘরে ওরা থাকে সেই ঘরের জানলা দিয়ে মানিক একদিন দেখতে পায় কাশবনের মাঝে লতা-পাতার ছাউনি দেওয়া এক ঘর আর তার বাইরে একটা প্রাণী । প্রাণীটা দেখতে মানুষের মতো, কিন্তু চার হাত-পায়ে ভর দিয়ে ঘরের চারপাশ শুঁকে শুঁকে কি যেন খুঁজে চলেছে । এক কালবৈশাখীর রাতে বিদ্যুতের আলোয় তারা সেই ঘরের বাইরে দেখতে পায় এক ভয়ঙ্কর দর্শন কিশোরীকে । মাঝরাতে সেই ঘর থেকে প্রায়ই শোনা যায় কিশোরী মেয়ের কান্না । কারা থাকতে এল ঐ কাশবনের মাঝে ?

▫️ওরা জোকারের শিকার : মফঃস্বল শহর সাতশিমুলীতে হঠাৎ করেই অস্বাভাবিক মৃত্যু হতে লাগল টিনএজার ছেলেমেয়েদের । মারা যাওয়ার আগে প্রত্যেকেই অদ্ভুত একটা সুর শুনতে পেত । ঐ সুরের সাথে এই মৃত্যুগুলির সম্পর্ক কি ?

এই সময়েই শহরের গণিকালয়ের পাঁচটা মেয়েকে অজ্ঞান করে দু-একজন লোক নাকি রক্ত চুরি করে পালিয়েছিল । ঠিক কি রহস্য লুকিয়ে আছে সাতশিমুলীতে ?

▫️মাংস-লতার কৃষ্ণকলি : এই গল্পের পটভূমি 'মার্কারিড' নামের একটি গ্রহ, যার আকাশে আছে দুটো সূর্য । সেই গ্রহ থেকে অদ্ভুতভাবে হারিয়ে যায় দুজন খনি-শ্রমিক এবং তারপরেই হারিয়ে যায় পৃথিবী থেকে আসা দুজন ইনভেস্টিগেটিং অফিসার । এরপর পৃথিবী থেকে সোমককে মার্কারিডে পাঠানো হয় ওই ঘটনার ইনভেস্টিগেশনে । সোমক জানতে পারে - এক 'সৌরমা'র রাতে তারা নিজেদের সব জামাকাপড় ফেলে রেখে বিবস্ত্র অবস্থায় কোথাও চলে যায় । তারপর কি হয় ?

এটি এই সংকলনের সবচেয়ে বড় গল্প এবং নিঃসন্দেহে এই সংকলনের সেরা গল্প এটিই ।

📕 সৈকত মুখোপাধ্যায়ের অন্য দুটি 'ডার্ক ফ্যান্টাসি' গল্প সংকলন পড়া আছে বলে বলতে পারি এই সংকলনের গল্পগুলি 'ডার্ক ফ্যান্টাসি'র থেকেও 'ডার্ক ফিকশন' হিসেবে যথাযথ । এই সংকলনের মধ্যে সৈকত মুখোপাধ্যায়ের সিগনেচার স্টাইল 'ডার্ক ফ্যান্টাসি' গল্প বলতে 'উল্কাপাতের মাঠ' এবং 'ব্যাঙ কাটার ক্লাস' এই গল্পদুটি । এছাড়া বেশীরভাগ গল্পেই উঠে এসেছে বর্তমান সমাজের 'ঘৃণ্য বাস্তব' চিত্র, যা পড়ে মন 'চিন্তিত' হওয়ার চেয়েও বেশি 'ভারাক্রান্ত' হয়ে পড়ে । এমন ভাবনার খোরাক জোগায় গল্পগুলি, যা বেশ 'অস্বস্তিকর'। তবে আলাদাভাবে বলতে হয় 'মাংস-লতার কৃষ্ণকলি' গল্পটির কথা... 'সায়েন্স ফিকশন' আর 'ডার্ক ফ্যান্টাসি' সুনিপুণভাবে মিশিয়ে অসাধারণ একটি কাহিনী পরিবেশন করেছেন লেখক, যা এককথায় 'অনবদ্য'।
Profile Image for Deep Sarkar.
15 reviews2 followers
July 21, 2024
যৌনতা ও মৃত্যু, প্রাণীজীবনের দুটি অমোঘ সত্যের মধ্যকার সম্পর্ক অতি প্রাচীন, বলতে গেলে সভ্যতার একেবারে আদি থেকে বর্তমান । প্রকৃতির খামখেয়ালকে অনুধাবন করতে দেবতাদের অবতারণা এবং তাঁদের সন্তুষ্ট রাখতে বলিপ্রথার প্রচলন থেকেই এই সম্পর্কের সূত্রপাত বলা যায় কারণ মনে করা হত যে বলিদানের মাধ্যমেই এই ধরা হয়ে ওঠে উর্বরা ও ফলপ্রসূ । মরণের মধ্যেই থাকে জননের বীজ ।

এত সব ভণিতা এখানে করার কারণ “মাংস-লতার কৃষ্ণকলি”তে মৃত্যু এবং যৌনতার থিমের উপরেই (কিছু ক্ষেত্রে মৃত্যুর সিম্বলিজ়ম হিসেবে যৌনতার থিমের উপরে)বইটির গল্পগুলি রচিত হয়েছে । মোট সাতটি গল্পের এই সংকলনে শেষ বড়গল্পের নামেই বইটির নাম এবং গল্পটিকে বইটির “শো-স্টপার” বললে হয়তো খুব ভুল বলা হবে না । যৌনতা ও মৃত্যুর অবিচ্ছেদ্য যে সম্পর্ক মানবমনে আদিকালেই প্রোথিত হয়েছে তাকে এই গল্পের মতো করে আর অন্য কোনটাতেই পাঠক উপলব্ধি করবেন না ।

“উল্কাপাতের মাঠ” বইটির প্রথম গল্প, যেখানে জন্ম, মৃত্যু, যৌনতা সবকিছুই মিলেমিশে একাকার হয়ে গিয়েছে । ঈডিপাস কমপ্লেক্স তথা যৌন ঈর্ষার মতো ডার্ক ফ্যান্টাসির উপাদানে গল্পটা বেশ জমজমাটি হয়ে ওঠার আশা জাগিয়েছিল কিন্তু শেষ অবধি জমল না । বরং সবই যেন তালগ���ল পাকিয়েই শেষ হয়ে গেল, অথচ তালগোল পাকানটা যে চমক বা ধাক্কা পাঠককে দেওয়ার জন্য, সেই চমকটাই পাওয়া গেল না ।

“ফেরিওলা”তে আবার মৃত্যু আছে কিন্তু যৌনতার জায়গা নিয়েছে শেকড়ের টান । একটা মানুষ পক্ষাঘাতগ্রস্ত, প্রায় মৃত্যুমুখে পতিত, অথচ তবু মরছে না । কিন্তু কোন এক অলীক কারণে পাড়ায় এক ফেরিওলার আগমন হলেই সেই মানুষের মধ্যেও চঞ্চলতা দেখা দেয়, ভয়ে ফ্যাকাশে হয়ে ওঠে তাঁর মুখ । কেন? ফেরিওলাকে এত ভয়ের কারণ কী? সৌভাগ্যের বিষয়, প্রথম গল্পের মতো এখানে ক্লাইম্যাক্স হতাশ করেনি ।

তৃতীয় গল্প “ব্যাং কাটার ক্লাস”এ আবার ফিরে এসেছে যৌনতা ও মৃত্যুর থিম তবে এবারে গল্প মোড় নিয়েছে “বডি হরর”এর দিকে । ব্যাঙের মতো নিরীহ একটা প্রাণীকে যে এরকম বীভৎসরূপ দেওয়া যায় সেটা সাধারণ পাঠকের কল্পনায় আসবে কিনা আমি সন্দিহান । তবে গল্পের অন্য মূল চরিত্র কেয়ার সাইকোপ্যাথিক মনস্তত্ত্বও যে পাঠককে অস্বস্তিতে ফেলবে তা নিয়ে সন্দেহ নেই ।

“ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন” গল্পটিকে হয়তো এর মাঝে বেমানান মনে হতে পারে কিন্তু এই গল্পের শেষের চমকটা ভয়ংকর রকমের অস্বস্তিকর । মানবমনের অন্ধকার যে শুধুমাত্র প্রাপ্তবয়স্ক মনেই বাসা বাঁধে না, তা যে একটা বাচ্চার মনকেও আক্রান্ত করতে পারে, “ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন” তারই স্বাক্ষরস্বরূপ । তবে এই গল্পেও জন্ম, মৃত্যু, যৌনতার প্রেক্ষাপটেই ঘটেছে যা কিছু ঘটার ।
“বেদিয়াটোলার বিদেহী”কে হয়তো এই বইয়ের সবথেকে সাদামাটা গল্প বলা যেতে পারে । যৌন আকর্ষণ ও মৃত্যু এই গল্পের বিষয় হলেও এটা ডার্ক ফ্যান্টাসি নয়, বরং ডার্ক রিয়্যালিটি বলাই বেশি মানানসই । লছমি ও শান্তার মতো মেয়েদের সাথে ঘটে যাওয়া নারকীয় ঘটনা যে বাস্তবে সবসময়ই ঘটে তা বলার অপেক্ষা রাখে না । এই গল্পে হরর কম, দুঃখ বেশি । প্রকৃতির আশীর্বাদ চরম অভিশাপে পরিণত হওয়ার দুঃখের কাহিনী ।

“ওরা জোকারের শিকার”এ লেখক আবার পাঠককে ফিরিয়ে নিয়ে গিয়েছেন যৌনতা, লালসা, মৃত্যুর দুনিয়ায় । আচ্ছা বলুন তো, মৃত্যু ও যৌনতার মেলবন্ধনকে কোন হরর ঘরানায় সবথেকে প্রকটভাবে পাওয়া যায়? ঠিক ধরেছেন ! ভ্যামপায়ার হরর, যার পথিকৃৎ হল ব্রাম স্টোকারের “ড্রাকুলা” । সুতরাং, যৌনতা আর মৃত্যুর গন্ধ যেখানে সেখানে রক্তের গন্ধ থাকবে না তা কি হতে পারে? “ওরা জোকারের শিকার”এও এই সুত্র ধরে আবির্ভাব ঘটেছে রক্তপিপাসু এক “জোকার”এর, যে বয়ঃসন্ধিতে সদ্য পা-দেওয়া ছেলে-মেয়েদের হাতে তুলে দেয় এক অদ্ভুত গান শোনার যন্ত্র, কিন্তু সেই যন্ত্র থেকে গানের বদলে বেরিয়ে আসে কামুক এক কন্ঠস্বর । আরও আশ্চর্যের ব্যাপার, সেই কন্ঠস্বর শুনতে হয় অবিকল সেই মানুষটির গলার মতো যাকে ঘিরে তাঁদের অবচেতন মনে লুকিয়ে রয়েছে কামবাসনা । কিন্তু তাঁরা জানে না তাঁদের এই ভেজা স্বপ্নপূরণের মূল্য কত ভয়ংকর হতে পারে ।

এবারে অবশেষে আসি “মাংস-লতার কৃষ্ণকলি”র অর্থাৎ বইয়ের অন্তিম গল্পের প্রসঙ্গে । এটি মূলত কল্পবিজ্ঞান তথা বায়ো-হররের মিশেল । এর আগে লেখকের “পতঙ্গ সঙ্গম” উপন্যাসে বায়ো-হররে তাঁর মুন্সিয়ানার পরিচয় আগেই পেয়েছি; এবারেও তিনি হতাশ করেননি । তবে এইবারে সাথে-সাথে তিনি পাঠককে নিয়ে গিয়েছেন এমন এক ভবিষ্যতে যেখানে মানুষের জীবন আর পৃথিবীতে আবদ্ধ নেই, তা ছড়িয়ে পড়েছে গ্রহ থেকে গ্রহান্তরে । কিন্তু এই ভবিষ্যত কোন ইউটোপিয়া নয়, বরং এক নৈরাশ্যময় ডিসটোপিয়ার যেখানে এক নির্বান্ধব এবং আপাতদৃষ্টিতে নিষ্প্রাণ গ্রহে পারদের খনিতে মজুরের কাজ করতে বাধ্য হয় হতভাগ্য কিছু মানুষজন; সামান্য ছুটি মেলে না পৃথিবীতে যাওয়ার, এমনকি মেলে না নারীসঙ্গ পর্যন্ত কারণ গ্রহের পরিবেশ তাঁদের বসবাসের অনুকূল নয় । মার্কারিড নামের এই নরকসম গ্রহে হঠাৎই রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ চার-চারটি মানুষ । সেই রহস্যের কিনারা করতে মার্কারিডে পাঠানো হয়েছে ইনভেস্টিগেটর সোমক লাহিড়ীকে । কিন্তু বিষয়টার যত গভীরে ঢুকছে সোমক ততই তাঁর কাছে স্পষ্ট হয়ে উঠছে যে এটা কোন খনি-মজুরদের চক্রান্ত নয়, বরং তার চেয়ে অনেক ভয়ংকর কোন বিভীষিকার ইঙ্গিত । যে বিভীষিকা পাতালের অন্ধকার থেকে ওঠে আসে প্রতি সৌরমার রাত্রে (সৌরমা মার্কারিডের এক বিশেষ দিন, যেদিন মার্কারিডের আকাশের দুটো সূর্যই এক সরলরেখায় অবস্থান করে)| কিন্তু কেমন এই বিভীষিকার প্রকৃতি? সে কি এই গ্রহের কোন আদিম বাসিন্দা? কিন্তু তাই বা কী করে হয়? এই গ্রহের সমস্ত প্রাণী ও উদ্ভিদকে তো পৃথিবীর মানুষ কবেই নিশ্চিহ্ন করে দিয়েছে ! কিন্তু সত্যিই কি তাদের আর কোন চিহ্নই নেই? নাকি এতদিন পরে মার্কারিডের অন্ধকারময় অতীতের কালো অভিশাপ মাটি ফুঁড়ে উঠে আসতে চলেছে মানুষের কৃতকর্মের ফল হয়ে? জানতে হলে অবশ্যই পড়তে হবে “মাংস-লতার কৃষ্ণকলি”।
Profile Image for Bubun Saha.
204 reviews6 followers
December 5, 2023
মাংস-লতার কৃষ্ণকলি
সৈকত মুখোপাধ্যায়
দীপ প্রকাশন
মম : ২৫০/-


লেখক মহাশয়ের এর আগে দুটো অলৌকিক-ডার্ক ফ্যান্টাসি ঘরানার বই পড়েছিলাম। প্রথমটি অসম্ভব ভালো লেগেছিলো, ফলে দ্বিতীয়টির প্রত্যাশা বেড়ে যায়। সেই কারণে কি না জানিনা, দ্বিতীয়টি মোটামুটি লেগেছিলো।


এই বইটি ডার্ক ফ্যান্টাসি-কল্পবিজ্ঞান মিশেলে সংকলিত।


সাতটি গল্প রয়েছে। বিষয়বস্তু লিখলে spoiler দেওয়া হয়ে যাবে। প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। গল্পগুলোর মধ্যে ফেরিওলা ভালো লেগেছে। উল্কাপাতের মাঠ, ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন, ওরা জোকারের শিকার পড়ে ভালোবাসা লাগেনি।


মাংস-লতার কৃষ্ণকলি বড়ো গল্প হিসেবে মোটামুটি লেগেছে।


লেখার জাদু আর গল্পের ভাষা যদিও গল্পগুলো পড়তে বাধ্য করে।
Profile Image for Prasun Bhattacharjee.
15 reviews1 follower
October 4, 2025
Er age Saikat Mukhopadhyay er Dark Fantasy ba Jor fiction niye duto boi pore sesh korechi. - 1) Iswarer nosto bhrun 2) Soytaner sontan. Tai ei boi tar kotha jokhon jante pari, tokhon thakai expectation barte thake. Boi ta kini r porte suru kori. Boi ta pore bhalo legeche r expectation o puron hoyeche. Tobe , jodi tulona kori Iswarer nosto bhrun onek besi bhalo ei boi tar theke. Karon, ei boi tar bhasa ta amar ektu holao onno rokom legeche. Tobe, lekhoker kolpona sokti k kurnish janai , ei golpo gulo bhabar r lekhar jonno. 5 ta tarai dilam.
Profile Image for Rajesh Mozumder.
20 reviews
Read
May 24, 2024
এই বইটি ডার্ক ফ্যান্টাসি-কল্পবিজ্ঞান মিশ্রণে সংকলিত। এই জনরার সাথে পরিচয় না থাকলে বইটি এড়িয়ে চলা উচিত। সাতটি গল্প রয়েছে বইটিতে। কিছু গল্প পড়তে গিয়ে বোরিং লেগেছে...কিছু অবশ্য ভালো ছিল।
Displaying 1 - 6 of 6 reviews

Can't find what you're looking for?

Get help and learn more about the design.