ওর বাবা-মা কারা, জানে না জোসেফ রুদ্রনাথ একা। খ্রিস্টান অরফ্যানেজে মানুষ হচ্ছে। হঠাৎ তার কুষ্ঠ হল। পায়ের আঙুল গুটিয়ে গেল! সে এরপর কী করবে, ভেবে যখন দিশেহারা, সেসময়েই এক অচেনা বিরাজ কাপালি তাকে কাজ দিতে লোক পাঠালেন। কে তিনি? কীরকম কাজ? বেলেঘাটার এই ভগ্নপ্রায় কারখানায় আর যারা আছে, হাসিদি, বিশাখা, পঙ্কজদা...তারা কি স্বাভাবিক মানুষ? সে নিজে কী? কী করে ঘটে চলে শিউরে ওঠার মতো সব ব্যাপার?...
তিতলি ওকে ছাড়বে না—প্রতিশোধ, প্রতিশোধ চাই! ঠিক যেমন করে আরশোলার ঘাড়ে হুল ফুটিয়ে টেনে নিয়ে যায় নীল পোকা, তারপর তাকে কুরে কুরে খায় নীলপরীর বাচ্চারা, তখনও আরশোলাটা দিব্যি বেঁচে থাকে, ও তাই করবে। সুরেশ সিং-এর সঙ্গে সঙ্গমের মুহূর্তগুলোতে এই ছবি দেখতে দেখতে আনন্দে ভেসে যেত তিতলি। 'সুরেশ সিং, তুমি আমাকে এইভাবে ক্যারি করবে! যতদিন বেঁচে থাকবে, ইউ মাস্ট ক্যারি মি।’....
একমলাটে দু-দুটো ডার্ক ফ্যান্টাসি ‘শয়তানের সন্তান' এবং ‘পতঙ্গ সঙ্গম'। বাংলায় এমন নৃশংস অন্ধকার কাহিনি আগে লেখা হয়নি।
তাঁর জন্ম এবং বড় হওয়া হুগলি জেলার উত্তরপাড়ায়। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরাজি সাহিত্যে স্নাতকোত্তর উপাধি অর্জনের পরে তিনি রাজ্য সরকারের অধীনে আধিকারিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। দীর্ঘ দুই-দশকের লেখক-জীবনে তিনি প্রাপ্তবয়স্ক এবং কিশোর-সাহিত্য, উভয় ধারাতেই জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য তিনি যখন গল্প-উপন্যাস লেখেন, তখন ঘটনার বিবরণের চেয়ে বেশি প্রাধান্য দেন মানব-মনের আলোছায়াকে তুলে আনার বিষয়ে। লেখকের প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা পঞ্চাশের কাছাকাছি। তাঁর বহু কাহিনি রেডিও-স্টোরি হিসেবে সামাজিক মাধ্যমে সমাদর পেয়েছে। সাহিত্যে সামগ্রিক অবদানের জন্য তিনি পেয়েছেন দীনেশচন্দ্র স্মৃতি পুরস্কার এবং নান্দনিক সাহিত্য সম্মান।
বইটির দু নম্বর উপন্যাস 'পতঙ্গ সঙ্গম' নিয়ে কিছু না লিখে এড়িয়ে যাওয়া আমার পক্ষে অসম্ভব। পাতায় পাতায় মুগ্ধ হয়েছি। আর পড়ার সময় শুধু একটা কথাই ভেবেছি, এখনকার সময়ে যেসব লেখকগন লিখেন তারা লেখার জন্য কতটুকু চেষ্টা করে নিজেদেরকে তৈরি করার? বিজ্ঞানের ছাত্র হিসেবে এটুকু বলতে পারি, জিনতত্ত্ব নিয়ে অগাধ পড়াশোনা না করলে এ জিনিস মস্তিষ্ক থেকে বের করা অসম্ভব। বিজ্ঞানকে ব্যাবহার করে এইরকম অমোঘ আক্রোশ আর অন্ধকারের কাহিনী তৈরি করাটাও যেন অসম্ভব। যৌনতা, রহস্য, বিজ্ঞান, প্রতিশোধ আর অত্যাচারের এক নিখুঁত মিশেল পাবেন এই উপন্যাসে। পড়তে গিয়ে কোথাও এক মুহূর্তের জন্যও মনে হবেনা যে প্রতিশোধ নেওয়ার ঐ আদিম রূপ ভুল, অথচ শেষে সেই শ্বাশত প্রেম।
ডার্ক ফ্যান্টাসি মানেই দুটো দিক সবার আগে আমার চোখে ভাসে। এক যৌনতা আর এক অন্ধকার। আর বইটির দুটো গল্পই যৌনতা আর অন্ধকারকে উন্মোচন করেছে এক অদ্ভুত আবেশ নিয়ে। তাই বেশি কিছু বলব না। পড়লেই বুঝতে পারবেন । পড়ুন ।
শয়তানের সন্তান wasn't up to the mark but the second story had my heart. after such long time read something unexpected. পতঙ্গ সঙ্গম is all about passion, revenge, knowledge and dedication towards one final destination. the way this story portraits gene is rare in crime thriller.
The second story is far superior than the first one. It talks about genetic modifications of a parasite to unbelievable extents that makes this an unputdownable thriller. Always a pleasure to read what Saikat da writes!
"শয়তানের সন্তান" বইটি মূলত দুটো উপন্যাসের সংকলন, শয়তানের সন্তান ও পতঙ্গ সঙ্গম । এর মধ্যে "পতঙ্গ সঙ্গম" আগে রচিত কিন্তু লেখকের ভাষায় "সে অপেক্ষা করছিল তার সঠিক জুড়িদারের জন্য" যে কারণে উপন্যাসটি নিজে আলাদা একটা বই হয়ে বেরোয়নি । একে তো বইয়ের নামের মধ্যেই "ডার্ক ফিকশন"এর আকর্ষণীয় গন্ধ, তদুপরি লেখকের "নোনা বালি, চোরা টান" বইয়ে ডার্ক ফ্যান্টাসি ঘরানায় তাঁর পারদর্শিতার পরিচয় আগেই পেয়েছি । তাই "শয়তানের সন্তান" যে বেশ উৎসাহের সাথেই পড়তে শুরু করেছিলাম তা বলা বাহুল্য ।
কিন্তু এখন রিভিউ লিখতে বসে বলতেই হচ্ছে বইটি মূলত উতরেছে "পতঙ্গ সঙ্গম"এর জন্য; ডার্ক ফিকশনকে টেক্কা দিয়ে গিয়েছে বায়োলজিকাল হরর । শুধু তাই নয়, "শয়তানের সন্তান" কোনোভাবেই "পতঙ্গ সঙ্গম"এর সঠিক জুড়িদার হয়ে ওঠেনি । যদিও খুঁত দুইয়েতেই আছে, সেগুলোকে অগ্রাহ্য করে পাঠক একটাকে আতঙ্কের উপন্যাস বলে স্বীকার করে নেবেন কিন্তু আরেকটার ক্ষেত্রে ওই খুঁতগুলোই বাধা হয়ে দাঁড়াবে ।
প্রথমে আসি "শয়তানের সন্তান"এর কথায় । উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র, যাকে নিয়ে পাঠকের সবচেয়ে বেশি আশা তৈরী হয়েছিল (রুদ্রনাথই যে শয়তানের পুত্র তা আন্দাজ করতে পাঠকের খুব কষ্ট হওয়ার কথা নয়; বিশেষত কুষ্ঠরোগে তাঁর পায়ের পাতা বিকৃত হয়ে যাওয়ার মধ্যেই যথেষ্ট ইঙ্গিত ছিল), সেই রুদ্রনাথের কাছ থেকে আমরা কি ঠিক পেলাম? শুধুমাত্র কিছুটা বুদ্ধির পরিচয় ছাড়া? হাসি মন্ডল, পঙ্কজ মিদ্যা, বিশাখা-এই চরিত্রগুলি ও তাঁদের অলৌকিক ক্ষমতার তাৎপর্য কী তাও স্পষ্ট হলো না । হাসি মন্ডলের দ্বৈত সত্তা কোন কাজে লাগলো? পঙ্কজ মিদ্যা একজন বোবা মিডিয়াম থেকে নেকড়ে মানুষ কখন হয়ে গেলো এবং কেন? আর বিশাখা শেষে হয়ে গেলো রুদ্রনাথের মৃতা মা? তারপর সবাই মিলে আত্মাহুতি দিলো শয়তানের আবির্ভাবকে পূর্ণতা দেওয়ার জন্য মাত্র? এই ছিল তাঁদের অস্তিত্বের একমাত্র উদ্দেশ্য?
"শয়তানের সন্তান" এর মূল খামতি হয়ে গিয়েছে তার উপাদানেই; ডেভিল উয়োরশিপ, নব্য নাৎসি, লেবেন্সবর্ন প্রোগ্রাম- এগুলো পাশ্চাত্য মননে যেরকম আতঙ্ক ও ত্রাসের সঞ্চার করতে পারে, প্রাচ্য মননে তেমনটা করে না । কারণ শয়তানের ধারণাই প্রাচ্য পুরাণে অনুপস্থিত । শয়তান আমাদের কাছে কৌতূহলের বিষয় হতে পারে কিন্তু আতঙ্কের নয় । তবে উপন্যাসটা মূলত মুখ থুবড়ে পড়েছে একাধিক loose endsএর কোনো নিষ্পত্তি না হওয়ার কারণেই ।
এর বিপরীতে "পতঙ্গ সঙ্গম"এ এমন কোনো ত্রুটি নেই । গল্পের প্লট, পটভূমিকা, চরিত্র গঠন পুরোপুরি নিখুঁত না হলেও মানানসই এবং "ফেম ফেটাল" তিতলির চরিত্রের সাথে "গুড কপ" বিপ্রদাসের বৌদ্ধিক দ্বৈরথ এতটাই উপভোগ্য যে গল্পের কিছু অবিশ্বাস্য ব্যাপারকেও পাঠক অনায়াসে অগ্রাহ্য করতে পারবেন । উপন্যাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র তিতলিকে বিশ্বাসযোগ্য করে তোলায় লেখকের মনোযোগ লক্ষণীয়- "ফেম ফেটাল" হয়েও সুরেশ সিংকে সে কব্জা করতে পারে না, সুরেশ সিংকে হত্যার পরিকল্পনা করে ব্যর্থ হওয়ার চরম প্রতিদান দেয় অ্যাসিড অ্যাট্যাকের শিকার হয়ে, তীক্ষ্ণ বুদ্ধিসম্পন্ন হয়েও বিপ্রদাসের জেরায় বেফাঁস কথা বলে ফেলে, সেইসাথে সৎ ও দৃঢ়চরিত্র বিপ্রদাসের উপরে নিজের রাসায়নিক মাদকতার প্রভাব বিস্তার করতে ব্যর্থ হয় । "ফেম ফেটাল" হোক বা প্যারাসাইট, তিতলি যে অসীম ক্ষমতার অধিকারিণী নয়, মানবীয় সমস্ত সীমাবদ্ধতাই যে তাঁর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য সেই ব্যাপারটাকে লেখক উপেক্ষা করেননি ।
কিন্তু অন্যদিকে তিতলিকে "জিনিয়াস" বানাতে গিয়ে লেখক তাকে এমন কিছু ক্ষমতা দিয়ে ফেলেছেন যা অবাস্তব তো বটেই, কিছুটা কৌতুক উদ্রেককারীও । তিতলি তুখোড় বুদ্ধিমতী, অসম্ভব প্রতিভাবান এইসব কিছু যদি মেনেও নিই, প্রশ্ন ওঠে যে সে হ্যাকিংটা শিখলো কখন? আর এতো ভালো শিখলো যে একজন পেশাদার হ্যাকারের কালঘাম ছুটে গেলো তার পাসওয়ার্ড-প্রোটেক্টেড ফাইল খুলতে? জিন এডিটিংয়ের যে কাজ আধুনিক রিসার্চ ল্যাব ছাড়া হয় না, সেটা সে করে ফেললো তাঁর স্নাতক স্তরের ল্যাবে? জিনিয়াস হলেও এতটা সম্ভব কি? তবে এসবের চেয়েও যেটা আরও অবিশ্বাস্য তা হলো মাত্র কয়েক মাসের মধ্যে গবেষণার কাজে তিতলির সাফল্য পেয়ে যাওয়া । সায়েন্সে পিএইচডির সবচেয়ে ব্রিলিয়ান্ট ছাত্র-ছাত্রীদেরও ভাগ্য এতো সুপ্রসন্ন সাধারণত হয় না । নিজে পিএইচডির ছাত্র ছিলাম বলেই জানি ।
এছাড়া জিন এডিটিংকে বিজ্ঞানীরা "প্রকৃতির বিরুদ্ধাচরণ" বলে মনে করেন এমনটা বাস্তবে কখনো শুনেছি বলে মনে পড়ে না । সেটা করাটা একজন বিজ্ঞানীর পক্ষে কিছুটা হাস্যকরই হবে, তিতলির মতো একজন সাইকোপ্যাথের পক্ষে তো বটেই ! কারণ প্রকৃতির বিরুদ্ধাচরণ মানুষ ফসল ফলানো এবং বন্য জন্তুকে পোষ মানানোর সময় থেকেই করে আসছে । এই দুটোই "কৃত্ৰিম নির্বাচন" বা artificial selectionএর নমুনা । শুধু তাই নয়, নানা মারণ রোগ-ব্যাধি সারিয়ে তুলতে তথা সেগুলির হাত থেকে মুক্তি পেতে মানুষ যা-যা পদক্ষেপই নিয়েছে, সবই প্রকৃতির বিরুদ্ধাচরণ । বায়ো সায়েন্সের বিজ্ঞানীমাত্রই এই কথাগুলো জানেন, সুতরাং তাঁরা কোনো বিরুদ্ধাচরণ নিয়ে নৈতিক সংকটে ভুগবেন, তাঁর সম্ভাবনা কমই ।
তবে যাই হোক, এসবের কারণে উপন্যাসের উপভোগ্যতা একেবারেই ক্ষুণ্ণ হয়নি । শুধু মনে হল একেবারে শেষে তিতলির হয়তো একটা কথা শোনার দরকার ছিল বিপ্রদাসের কাছ থেকে- পোকামাকড়ের দুনিয়ায় নৈতিকতা বলে কিছু নেই কিন্তু মানুষের দুনিয়ায় আছে । প্যারাসাইট কীটের কর্মকান্ড আমাদের চোখে যতই বীভৎস হোক, তার ভালো-মন্দের বিচার হয় না । কিন্তু মানুষের জগতে পোকামাকড়ের মতো জীবনধারণ চলে না । সেই কারণেই সুরেশ সিংয়ের কাজ যেমন ঘৃণ্য অপরাধ, তেমনিই তিতলির পরজীবীতাও এক বিকৃত, মানবেতর মানসিকতার দৃষ্টান্ত । মনুষ্য সমাজে তাঁর কোনো জায়গা নেই ।
তবে লেখক সম্ভবত চেয়েছিলেন বিচার প্রকৃতির কাছ থেকেই আসুক । সেই কারণেই তিতলি আইনের আওতার বাইরে চলে গেলেও নিজের সৃষ্টির হাতেই নিজের কর্মের ভয়ঙ্কর পরিণাম লাভ করেছে ।
Shoitaner Sontan by Saikat Mukhopadhyay is a gripping Bengali dark fantasy/thriller পতঙ্গ সঙ্গম এই মেরুদণ্ডকে ঠান্ডা করে তোলার মতো ডার্ক থ্রিলারে জেনেটিক পরিবর্তন এবং এর পরবর্তী প্রভাবগুলির গভীরে অনুসন্ধান করা হয়েছে, আমি এর আগে এরকম কিছু পড়িনি, শুধু অসাধারণ। Shoitaner shontan 1st story গল্পের পরিবেশ এবং স্থান যেখানে এটি ঘটে তা দুর্দান্তভাবে চিত্রিত করা হয়েছে.
এত দ্রুত বহুদিন কোন বই পড়ি নি। প্রথমটা অর্থাৎ শয়তানের সন্তান একটু ধরে পড়েছিলাম। কিন্তু দ্বিতীয়টা মানে পতঙ্গ সঙ্গম প্রায় এক নিশ্বাসে শেষ করেছি। তিতলিকে দেখে দয়া করবো না ঘৃনা করবো বুঝে উঠতে পারলাম না। কিন্তু এই ভাগ্য বিড়ম্বিত মহিলা যেন মনের অগোচরে একটা ছাপ রেখে যায়। তবে দুটো গল্পের ক্ষেত্রেই একটা কথা বলা যায় লেখক তার অসাধারন দক্ষতায় এই অবিশ্বাস্য ঘটনাগুলোকে বাস্তবে নামিয়ে এনেছেন। প্রথম গল্পটায় অতটা তত্বকাথা নেই। কিন্তু দ্বিতীয়টার ক্ষেত্রে অত জটিল তত্বগুলো লেখকের লেখনীর গুনে সহজেই আমাদের ভেতর প্রবেশ করে। মনে হয় লেখক নিজেই যেন গল্পগুলোর ভেতরে অবস্থান করছেন। ভূমিকাতেয় উনি এরকমটাই বলেছেন। এর আগে ওনার ঈশ্বরের নষ্ট ভ্রূণ পড়েছি। সেখানেও গল্পগুলো ছিল এক একটা মুক্তোর কনা। পড়ার পরে অনেকক্ষন তার রেশ থেকে যেত। আর এই দুটো তো একটা বেশ বড় আকার নিয়েছে। লেখকের কাছ থেকে এবার একটা বড় আকারের এই রকম কিছু আশা করবো যেটা পরিপূর্ন উপন্যাস হবে।
🍁 বই : শয়তানের সন্তান 🍁 লেখক : সৈকত মুখোপাধ্যায় 🍁 প্রকাশনী : পত্রভারতী 🍁 দাম : ২৯৯/- 🍁 পৃষ্ঠাসংখ্যা : ১৯৮
#পাঠপ্রতিক্রিয়া
পড়ে শেষ করলাম আমার অন্যতম প্ৰিয় লেখক সৈকত মুখার্জির অত্যন্ত পাঠকপ্ৰিয় একটি ডার্ক ফ্যান্টাসি বই "শয়তানের সন্তান"। লেখকের এই বইটি অনেকদিন থেকেই পড়ার ইচ্ছা, তবে বিভিন্ন কারণবশত আর সংগ্রহ করা হয়ে ওঠেনি। কিন্ত কিছুদিন আগে যখন বইটা হাতে পেলাম তখন প্রচুর ব্যস্ততা থাকা সত্ত্বেও বইটা পড়া থেকে নিজেকে আটকাতে পারিনি। আর সৈকতবাবুর লেখা একবার পড়া শুরু করলে শেষ না করে ওঠা যে কী পরিমাণ অসম্ভব সেটা ওঁর সকল গুনমুগ্ধ পাঠক মাত্রেই জানেন আশা করি । এই বইটির মধ্যেও তেমনই এক চৌম্বকত্ব আছে যা অন্ধকার গল্পপ্রেমী পাঠকদের নিজের দিকে আকর্ষিত করবে আমি নিশ্চিত ।
এই বইয়ের দু-মলাটের মধ্যে স্থান পেয়েছে মোট একজোড়া উপন্যাস....
🍂 শয়তানের সন্তান :- এই উপন্যাসের প্রধান চরিত্র জোসেফ রুদ্রনাথ এক্কা। ছোট থেকেই সে একটি ক্রিশ্চিয়ান অনাথ আশ্রমে মানুষ হয়েছে। প্ৰিয়জনের অভাব ছাড়াও আর যে জিনিসটি রুদ্রনাথের জীবনকে অভিশপ্ত করে তুলেছে সেটি হলো একটি রোগ... কুষ্ঠ! একাকিত্ব, অসুস্থতা এবং অনিশ্চিত ভবিষ্যতের চিন্তায় রুদ্রনাথ যখন দিশেহারা, সেইসময় তার কাছে বিরাজ কাপালি নামের একজন খবর পাঠালেন কাজ দেবেন বলে। কে এই অচেনা ব্যক্তি? কী কাজ দেবেন তিনি? রুদ্র বেলেঘাটার যে ভগ্নপ্রায় কারখানায় স্থান পেলো, সেখানে বসবাসকারী মানুষগুলোও কি সাধারণ? সে নিজে কি সম্পূর্ণ সাধারণ? বিরাজ কাপালি সেই রাতে কী এমন বলেছিলেন রুদ্রকে যা শুনে সে শিউরে ওঠে এবং তার জীবনও এক লহমায় বদলে যায়?
এটি একটি অদ্যপান্ত ডার্ক ফ্যান্টাসি উপন্যাস। বাংলায় এই ধরণের লেখা আমি তো আগে কখনো পড়িনি। কল্পনা এবং অন্ধকারের এক আলাদা মাত্ৰা ছুঁয়েছেন লেখক এই উপন্যাসে। তারসাথে এই উপন্যাসে উঠে এসেছে ইতিহাসের এক অভিশপ্ত অধ্যায় এবং কিছু অত্যাশ্চর্য ও জঘন্য ঘটনাপ্রণালী। শেষটা ভীষণ মারাত্মক ছিল!
🍂 পতঙ্গ সঙ্গম :- দুর্গাপুরের "সিমবায়োটিক ইন্টারন্যাশনাল" - এর একজন বিখ্যাত বৈজ্ঞানিক প্রদীপ কামাথ আত্মহত্যা করেছেন। আপাতদৃষ্টিতে এটাকে দেখে আত্মহত্যার কেস মনে হলেও এই মৃত্যুর পিছনে বেশ কিছু অস্বাভাবিক কারণ লক্ষ্য করে ইন্সপেক্টর বিপ্রদাস। তাই সে এই কেসের ডিটেইল ইনভেস্টিগেশন শুরু করে। এই কেসে হঠাৎ করেই জড়িয়ে পড়ে প্রদীপবাবুর ল্যাব অ্যাসিস্ট্যান্টের নাম। কী ছিল তার অভিসন্ধি? বিপ্রদাস কি শেষ পর্যন্ত সুরাহা করতে পারবে এই মৃত্যু রহস্যের? এই উপন্যাসের অন্যতম প্রধান চরিত্র তিতলি যাদব। তিতলি প্যারাসাইটোলজির ছাত্রী। তার পড়াশোনা এবং রিসার্চের সবটাই হলো পরজীবীদের নিয়ে । অত্যন্ত মেধাবী এই ছাত্রীর জীবনের সাথে জড়িয়ে আছে এক অন্ধকার অতীত,যা তাকে করে তুলেছে অত্যন্ত নৃশংস। এই তিতলি হঠাৎ করেই একদিন নিখোঁজ হয়ে যায়। কী কারণ তার এই আচমকা অন্তর্ধানের পিছনে ?
এই উপন্যাসটিকে ঠিক ডার্ক ফ্যান্টাসি বলা যায়না, বরঞ্চ এটি একটি অসাধারণ বায়ো থ্রিলার। তবে এই উপন্যাসে মিলেমিশে রয়েছে এক অন্যমাত্রার অন্ধকার ও টানটান রহস্য। লেখক এই উপন্যাসে পরজীবীদের বিষয়ে অনেক তথ্য প্রদান করেছেন। কিন্তু উপন্যাসের মূল বিষয়টি জানলে আপনিও শিহরিত হবেন। আজ অবধি আমার পড়া সবচেয়ে সেরা বায়ো থ্রিলার এটি। তবে শেষটা আমাকে একটু হতাশ করেছে। মনে হলো যেন হটাৎ করেই ইতি টেনে দিলেন লেখক। আর একটু রহস্য এবং নৃশংসতার মাত্ৰা বৃদ্ধি পেলে জমে যেত একেবারে।
▪️প্রথমেই বলবো, সৈকতবাবুর লিখনশৈলী এককথায় অসাধারনত্বের দাবী রাখে। যাঁরা ওঁর লেখা একবারও অন্তত পড়েছেন তাঁরা জানেন লেখকের লিখনী সম্পর্কে যতই প্রশংসা করা হোক সেটা কম বলা হবে। লেখকের বিপুল জনপ্রিয় গল্পসংকলন "ঈশ্বরের নষ্ট ভ্রূণ" পড়েই প্রথম ওঁর কলমের প্রেমে পড়া। তারপর ধীরে ধীরে সেই প্রেম উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে সৈকতবাবুর লেখা ডার্ক ফ্যান্টাসি গল্পগুলোর আমি ভীষণ রকম ভক্ত। এই বইয়ে লেখক আবার প্রমান করে দেখিয়েছেন যে বাংলা সাহিত্যে ডার্ক ফ্যান্টাসি জঁরে ওঁর নাগাল পাওয়া প্রায় অসম্ভব। উনিই একমেবদ্বিতীয়ং।
▪️তাছাড়া দুটি উপন্যাসই প্রচুর তথ্যসম্বলিত। ইতিহাসের অজানা কিছু ঘটনা, অলৌকিকতা, মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানির রহস্যময় রিসার্চ ল্যাব, গুন্ডারাজ থেকে কলকাতার এঁদো গলি ও বাতিল বেশ্যার ঘর.... সব কিছুই উঠে এসেছে বই জুড়ে। লেখকের কলম ঘুরে বেরিয়েছে এই সমাজের আনাচে কানাচে। সৈকতবাবুর বর্ণনা ক্ষমতাও অসাধারণ। বইয়ের প্রতিটি লাইন চোখের সামনে হুবহু ফুটে উঠেছে। বেশ কিছু বর্ণনা আছে যেগুলো এতটাই নৃশংস যে পড়ে রীতিমতো গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠেছে, মাঝে মাঝে যারপরনাই অবাকও হয়েছি আবার হঠাৎ করেই লেখকের কলম নিঃসৃত ঠান্ডা ভয়াল রসের স্রোত নেমে গ্যাছে আমার শিরদাঁড়া বেয়ে।
▪️বইয়ের প্রচ্ছদটা আমার দারুণ লেগেছে। পৃষ্ঠা কোয়ালিটি সুন্দর। বাঁধাই বেশ মজবুত। সামান্য কয়েকটি মুদ্রণত্রুটি চোখে পড়েছে মাত্র।
🌿 যাইহোক, অসাধারণ একজোড়া উপন্যাস পড়লাম। এই বই পড়ে আবার নতুন করে লেখকের কলমের মোহে আবদ্ধ হলাম।আপনিও যদি অন্ধকার গল্পপ্রেমী পাঠক হন এবং আমার মতোই লেখকের ডার্ক ফ্যান্টাসি গল্পের ভক্ত হয়ে থাকেন তাহলে অবশ্যই এই বইটি হাতে তুলে নিন।
ভালো থাকুন লেখকমশাই এবং এমনই দুর্দান্ত সাহিত্যকীর্তি দিয়ে পাঠক সমাজকে সমৃদ্ধ করতে থাকুন। শুধু একটি অনুরোধ রইলো, খুব শীঘ্রই একটি মৌলিক ডার্ক ফ্যান্টাসি গল্পসংকলন উপহার দিন আমাদের। অপেক্ষায় রইলাম। আপনারাও খুব ভালো থাকুন ও পাঠে থাকুন। ❤️🙏🏻
অবশেষে একটি কথা বলতে বাধ্য হচ্ছি --" সৈকত কোনো নাম নয়, এ হলো এক উদগ্র মাদকতা "। 😈
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালে হিটলার বাহিনীর এক অকথ্য উদাহরণ হচ্ছে লেবেনসবর্ণ প্রোগ্রাম । কি প্রোগ্রাম তার সম্পর্কে সংক্ষেপে বলা যাক,এই প্রোগ্রামটি তৈরি করা হয় আদর্শ আর্য সন্তান প্রসব করানোর প্রজেক্ট তৈরি করা হয়। এস এস অফিসার ও হিটলারের অনুগতদের মধ্যে পরিচয়হীন প্রেমহীন সঙ্গম ঘটনা হতো। , তারা কেউ কারো পরিচয় জানতো। না জানা দরকারও নেই । হিমলারের প্ল্যান অনুযায়ী তারা তো সন্তান উৎপাদনের মেশিন ছাড়ার কিছু ছিলনা।
এক অনাথ জোসেফ রুদ্রনাথ এক্কা। মাত্র ২১ বছর বয়স হঠাৎ তার পায়ে কুষ্ঠ রোগ ধরা পড়া এই কুষ্ঠ রোগ থেকে সরে ওঠার পথেই হঠাৎ করেই সে একটা চাকরি পায় এবং গিয়ে পড়ে এক বন্ধ কারখানার মধ্যে । সেখানকার আদিবাসীরা চোখের দেখায় দেখলে স্বাভাবিক মনে হলেও তারা স্বাভাবিক নয় । কি চলে এই ভগ্নপ্রায় কারখানার ভেতরে কেনই বা তাকে হঠাৎ করে চাকরি দেওয়া নাম করে ডেকে আনা হয় এখানে। এই লেবেনসবর্ণ প্রোগ্রামের সাথে কি বা তার সম্পর্ক? এই নিয়ে সম্পূর্ণ টানটান উপন্যাস।
এ বইটি দ্বিতীয় উপন্যাস পতঙ্গ সঙ্গম
জীবন জীবন যুদ্ধে যুদ্ধ করতে থাকা একটি বাচ্চা মেয়ে তিতলি, মাথার উপর বাবার ছাদ না থাকার ফলে ,নিজের জীবনকে তৈরি করার জন্য নানান ভাবে নিজেকে ভাঙতেও গড়তে হয়ে । বড় হওয়ার সাথে সাথে পরজীবী প্রাণীদের প্রতি ভীষণভাবে আকৃষ্ট হয়ে পড়ে বিশেষভাবে আকৃষ্ট হয়ে পড়ে কুমোরে পোকার উপরে। কিভাবে একটা ছোট কুমোরপোকা, একটা জ্যান্ত আরশোলা কে নিজের বশে নিয়ে নিজের খেয়াল খুশিতে নাচাতে পারে । কি হবে তিতলিরপরবর্তী জীবন ? সে কি একটা স্বাভাবিক জীবন পেতে পারবে? এই নিয়েই সম্পূর্ণ উপন্যাস।
এই বইটি মূলত দুটি অসাধারণ ডার্ক ফ্যান্টাসি নিয়ে । গল্পের বিষয়বস্তু দুটি অসাধারণ এবং ঝকঝকে লেখনির সাথে বহু ক্ষেত্রে বাস্তবকে তুলে ধরা এক কথায় অসাধারণ। সত্যি বলতে সৈকত মুখোপাধ্যায় স্যারের লেখার প্রেমে আমি পড়েছি।🌝🌝🌝
♦️বইটিতে মোট মিলিয়ে দুটি ডার্ক ফ্যান্টাসি রয়েছে একটি হল "শয়তানের সন্তান" এবং অন্যটি "পতঙ্গ সঙ্গম"। 🌼 শয়তানের সন্তান~জোসেফ রুদ্রনাথ এক্কা। সে একজন বাস্টার্ড, সোজা বাংলা ভাষায় বেজন্মা।অরফানেজ থেকে সে চলে এলো অন্য এক জায়গায়। সেখানে রয়েছে হাসিদি,পঙ্কজ দা ,বিশাখার মত কয়েকজন মানুষ। কিন্তু তারা নাকি ঠিক স্বাভাবিক মানুষ নয়, তারা তাহলে কেমন? এসবের মাস্টারমাইন্ড বিরাজ কাপালি লোকটাই বা কেমন? সে কি শয়তানের সন্তান?
🌼পতঙ্গ সঙ্গম~গোটা ঘটনার মূলে রয়েছে একটি মেয়ে, তিতলি যাদব। পড়াশোনা করেছে প্যারাসাইটোলজি নিয়ে। পড়াশোনায় সে অত্যন্ত মেধাবী।তার মা মারা গিয়েছিল এক বাজে অসুখে। তিতলি চায় শুধু প্রতিশোধ। প্রতিশোধের আগুনে দগ্ধ সে। পুলিশ অফিসার বিপ্রদাস বাবু তদন্তে নেমে আবিষ্কার করেন বেশ কিছু ঘটনা।
📎এখানে পতঙ্গদের মেকানিজম নিয়ে আলাদা একটা বর্ণনা লেখক দেখিয়েছেন।পতঙ্গরা কেন এত সম্মোহিত হচ্ছে?
💫এক কথায় দুটি কাহিনী চরম লেগেছে। ❝শয়তানের সন্তান❞লেখক যেভাবে শুরু থেকে গল্পের স্টোরি টেলিং কে ভর দিয়ে গল্পটাকে চরম পর্যায়ে নিয়ে এসেছেন যেটা সত্যি প্রশংসনীয়। উফ শয়তানকে ডাকার যে বর্ণনা, নগ্নতা,নৃশংসতা উফ চরম লেভেলের ছিল!🔥
💫 পতঙ্গ সঙ্গমের কাহিনীতে রয়েছে এক রিভেঞ্জ, সেটা কতটা বায়োলজিক্যালি এখানে উপস্থাপন করা হয়েছে না পড়লে বলে বোঝানোটা একটু মুশকিল। এর জন্য যে কতটা রিসার্চ ওয়ার্ক লাগে, সেটা লেখক নিজে ছাড়া আর কেউ ভালোভাবে বলতে পারবে না। শেষটায় গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠেছিল।
এই বইটি দুটি গল্পের সংকলন—"শয়তানের সন্তান"এবং "পতঙ্গ সঙ্গম"। শুরুতেই লেখক জানিয়েছেন, "পতঙ্গ সঙ্গম" অনেক আগেই লেখা হয়েছিল, তবে এটি প্রকাশের জন্য সঠিক জুড়িদারের অপেক্ষায় ছিলেন। তবে, "শয়তানের সন্তান" কি আদৌ সেই উপযুক্ত সঙ্গী?
প্রথম গল্প "শয়তানের সন্তান" যথেষ্ট ডার্ক ও তীক্ষ্ণ। গল্পের পটভূমি নাৎসি জার্মানির লেবেনসবর্ন প্রজেক্ট, যা ইতিহাস ও কল্পনার মিশেলে তৈরি। অন্যদিকে, "পতঙ্গ সঙ্গম" অনেক বেশি সাই-ফাই এবং জেনেটিক মডিফিকেশন-নির্ভর, যা প্রথম গল্পের তুলনায় আরও জটিল ও ভাবনাসৃষ্টিকারী।
দু’টি গল্পেই যৌনতা একটি গুরুত্বপূর্ণ থিম, তবে কোথাও তা বাড়াবাড়ি বা অপ্রয়োজনীয় মনে হয়নি। লেখকের ভাষার নিখুঁত শৈলী প্রতিটি পাতায় মুগ্ধ করেছে।
শেষ কথা: যারা ডার্ক থিম, ইতিহাস, সাই-ফাই ও মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ ভালোবাসেন, তাদের জন্য এটি অবশ্যপাঠ্য।
বইটিতে দুটি উপন্যাস আছে শয়তানের সন্তান ও পতঙ্গ সঙ্গম। প্রথমটি পুরোপুরি রূপকথার গল্পঃ ,/ dark fantasy. হালকা রহস্যের টান গোটা গল্পঃ জুড়েই আছে কিন্তু শেষের একটু চমক ছাড়া অভাবনীয় নয়।
কিন্তু দ্বিতীয় উপন্যাসটি বাংলায় বিজ্ঞান নির্ভর গল্পের একটি মাইল ফলক। চেষ্টা করলে এতেও কিছুটা পরিণতি আন্দাজ করা যায় কিন্তু গল্পের টানে প্রথম বার পড়ার সময় সেসব মাথায় আসবে না। বিজ্ঞান সম্পর্কে অগাধ কৌতুহল না থাকলে এরকম লেখা পাওয়া মুস্কিল।
শয়তানের সন্তান - লেখা টা ভালো, কিন্তু বড্ড predictable। পড়তে পড়তেই বোঝা যায়, রুদ্র কে। বাকিটা খারাপ না গল্প হিসেবে। তবে হাসিদি কে বা কেন, বুঝলাম না।
পতঙ্গসঙ্গম - কল্পবিজ্ঞান খানিকটা। কিন্তু অসাধারণ লেখা, শুরু করে শেষ না হওয়া পর্যন্ত ছাড়তে পারিনি। তিতলির ওপর রাগ করব না ওর কাজে মুগ্ধ হব, ভাবতে ভাবতেই বই টা শেষ হয়ে গেল। এখনও দোনামনায় আছি। ও যা করেছে, তা কি সত্যি ক্ষমার অযোগ্য নাকি এরকম করেই মেরে ফেলতে হয়? এক অন্যরকম অনুভুতি নিয়ে পড়া শেষ করলাম।
Saikat Mukhopadhyay er lekha niye sotti kichu alochonar nai, onar sob boi e khub bhalo. Ei boi ti te 2 to golpo ache Soytaner sontan r Potongo songam. Duto golpoi amar darun legeche pore. Jara dark fantasy porte bhalobase , tader jonno ei boi ti khub e bhalo. Duto golpo tai onek notun information deba hoyeche , gulo sotti interesting. S concentration camp niye hok ba , 🧬 modification.
বইটিতে দুটো গল্প আছে, শয়তানের সন্তান আর পতঙ্গ সঙ্গম। শয়তানের সন্তান গল্পটা একদমই বাজে, প্লট হোলে ভরা এবং শেষটা বড্ড তাড়াতাড়ি করে লেখা মনে হয়। কিন্তু দ্বিতীয় গল্পটা খুবই ভালো লেগেছে। শুধুমাত্র পতঙ্গ সঙ্গম পড়ার জন্য বইটি কেনা যায়!