'লেলিনগ্রাদ থেকে ককেশিয়া' এপিকধর্মী উপন্যাস। বিশাল ক্যানভাসে লেখা। যার সাথে মিশে আছে লেখকের জীবনের খন্ডচিত্র। মিশে আছে ইতিহাস। ছড়িয়ে ছিটিয়ে আসে মনি মুক্তোর মত মনমুগ্ধকর মিথ আর উপাখ্যান। আর আছে ইতিহাসের স্বপ্নভঙ্গের কথা। সাম্যের স্বপ্ন দেখেছিল রাশিয়া- বিনির্মাণ করতে চেয়েছিল সাম্যের সমাজ। কিন্তু স্বপ্ন দেখা সেই স্বপ্নকে সত্যে পরিণত করতে পারা- এ দু'য়ের মধ্যে অনেক তফাৎ, যোজন যোজন দূরত্ব। সেই দূরত্বই পার হতে চেয়েছিল রাশিয়ার মানুষ। এখানেই তাদের গৌরব, এখানেই তারা অনন্য। কিন্তু ইতিহাসের এই অনন্য ঘটনা সফল হতে পারেনি, সুপরিণতি পায়নি। পঙ্গপালের আক্রমণে যেভাবে নষ্ট হয়ে যায় কৃষকের ফসলের মাঠ, সোনালী স্বপ্ন, সেভাবেই ধ্বংস হয়ে গেছে রাশিয়ার মানুষের সাম্যের সমাজ বিনির্মাণ। এই ধ্বংসের চূড়ান্ত প্রক্রিয়ার ভিতর দিয়ে যেতে দেখে আমরা স্বয়ং লেখককে এবং তার গল্পের রুশ ও বাঙালি চরিত্রদের। তাদের প্রেম-অপ্রেম, ঘৃণা-ভালোবাসা, হাসি-কান্না আর মোহ ও মোহভঙ্গের গল্প এই 'লেলিনগ্রাদ থেকে ককেশিয়া' ও 'ককেশিয়ার দিনরাত্রি'।
শাহাব আহমেদের জন্ম ১৯৬২ সালে, বিক্রমপুরের ঝাউটিয়া গ্রামে। নারায়ণগঞ্জ হাই স্কুল এবং ঢাকা কলেজ শেষ করে ঢাকা মেডিকেল কলেজে ভর্তি হওয়ার কিছুদিনের মধ্যে ১৯৮২ সালে উচ্চ শিক্ষার্থে সোভিয়েত ইউনিয়ন গমন করেন। তৎকালীন লেলিনগ্রাদ শহরে অনার্স-সহ মেডিকেল ডিগ্রি অর্জন করেন ১৯৮৯ সালে। ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত সেই দেশে থেকে খুব নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন সোভিয়েত ইউনিয়নের বিলুপ্তির প্রক্রিয়া, যা তার মনোজগতে বিশাল আলোড়নের সৃষ্টি করে। ১৯৯৬ সালে তিনি কানাডার মন্ট্রিয়েল শহরে যান এবং সেখানে ৪ বছর বসবাস করার পর ২০০০ সাল থেকে আমেরিকায় শিশু চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত আছেন। প্রকাশিত বই সমূহ- 'অদৃশ্য মূষিক এক', 'লেলিনগ্রাদের চিঠি', 'কলেজের দিনলিপি', 'দশজন দিগম্বর একজন সাধক', 'তিথোনসের তানপুরা', 'হিজল ও দ্রৌপদী মন', 'লেলিনগ্রাদ থেকে ককেশিয়া', 'ককেশিয়ার দিনরাত্রি'।
A very interesting read. The author has written in the style of autobiographical fiction, lunching lores and myths along with his exoerience of living in USSR during its last decade.
যদিও স্বপ্ন স্বপ্নহীন (Though it was a dreamless dream)