Jump to ratings and reviews
Rate this book

প্রবাদের উৎসসন্ধান

Rate this book
বাঙালির জীবনে প্রবাদ-প্রবচনের ব্যবহার নিতান্তই স্বাভাবিক বিষয়। গ্রামগঞ্জ ও লৌকিক জীবনের বিশিষ্ট অনুষঙ্গ এই বিশিষ্টার্থক ধারা। নানাভাবে সৃষ্ট অসংখ্য প্রবাদ-প্রবচন-বাগধারার উৎসের সন্ধান রয়েছে প্রবাদের উৎসসন্ধান গ্রন্থে।

176 pages, Hardcover

First published February 1, 2011

Loading...
Loading...

About the author

Samar Paul

3 books4 followers
সমর পাল অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা। তিনি বাংলা একাডেমি, বাংলাদেশ ইতিহাস সমিতি ও বাংলাদেশ পরিসংখ্যান সমিতির জীবন-সদস্য।

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
10 (18%)
4 stars
31 (56%)
3 stars
13 (23%)
2 stars
1 (1%)
1 star
0 (0%)
Displaying 1 - 10 of 10 reviews
Profile Image for Zabir Rafy.
323 reviews14 followers
May 26, 2025
একটা ভাষার অন্যতম শ্রেষ্ঠ সম্পদ সম্ভবত প্রবাদ ও বাগধারা। বেশ কিছু প্রবাদের নাম শুনেই তার অর্থ বোঝা যায় বা অনুমান করে নেয়া যায়৷ তবে কিছু প্রবাদের সুলুকসন্ধানের প্রয়োজন রয়েছে। সেই প্রচেষ্টাই করা হয়েছে বইটিতে।

রেটিং: ৩.৫/৫
Profile Image for Shadin Pranto.
1,505 reviews585 followers
November 21, 2019
প্রতিদিন কথায় কথায় আমরা প্রবাদ বাক্য, বাগধারা ব্যবহার করি। কিন্তু সেগুলোর উৎপত্তির পেছনের চমৎকার গল্পগুলো ক'জনইবা জানি। সমর পালের 'প্রবাদের উৎসসন্ধান' বই সুযোগ করে দিচ্ছে বাংলায় বহুল প্রচলিত প্রবাদ ও বাগধারাগুলোর উৎস জানার।

বেশিরভাগ প্রবাদের মূলে রামায়ণ ও মহাভারত। যারা এ দুটি পড়েছেন, তারা হয়তো খুববেশি আকর্ষণ খুঁজে পাবেন না। তবে পড়লে রামায়ণ আর মহাভারতের অনেক কাহিনিই পুনরায় পড়া হয়ে যাবে। এই দুইটির বাইরেও কিছু প্রবাদ রয়েছে যেমনঃ খাঞ্জা খাঁ, খয়ের খাঁ, লেফাফাদুরস্তি, গৌরী সেন প্রভৃতির উৎসগুলো সম্পর্কেও জানা হয়ে যাবে গল্প পড়ার ছলে।

সমর পালের লেখনশৈলী হয়তো উচ্চমার্গীয় নয়। তাতে পাঠককে নিরাশ করবে না। বরং সহজসরল লেখনীর গুণে পাঠক দ্রুতই উৎসাহ খুঁজে পাবেন একবসায় বইটা শেষ করতে।
Profile Image for Subrata Das.
165 reviews19 followers
February 12, 2025
প্রবাদ প্রবচন হল যেকোন ভাষার মুকুটস্বরূপ। একটা ভাষা বা জাতির সংস্কৃতি, ইতিহাস ও সামাজিক রীতিনীতি ফুটে উঠে তার প্রবাদের মধ্য দিয়ে।
কথায় কথায় নানা প্রবাদ ব্যবহার করলেও এদের উৎপত্তি নিয়ে কেউ তেমন মাথা ঘামায় না। আমার এক বন্ধু তো সবসময় ভুল জায়গায় ভুল প্রবাদ ব্যবহার করে। বেচারাকে শুধরিয়ে দিলে রেগে যায়। আমার দৃঢ় বিশ্বাস দেশে আমার বন্ধুর মতো সমস্যাওয়ালা লোক অনেকেই আছে। এই বইটি তাদের জন্য অবশ্যপাঠ্য। কোন প্রবাদ কোন ক্ষেত্রে ব্যবহার হবে তা খুব সুন্দর করে ব্যাখা দেওয়া আছে। তবে বইটির মূল আকর্ষণ হল লেখকের বিভিন্ন প্রবাদের উৎস অনুসন্ধানের প্রচেষ্টা। বিভিন্ন পৌরাণিক গ্রন্থ তো বটেই সাথে অনেক ইতিহাস ও ভাষাজ্ঞানের বই তন্ন তন্ন করে তিনি ১১০ টি নীলপদ্ম থুক্কু প্রবাদের উৎস খুজে এনেছেন।

বইটি মোটের উপর বেশ ভাল লাগলেও মনে হয়েছে কিছু প্রবাদের ব্যাখা অতি সংক্ষিপ্ত আবার কিছু প্রবাদের ব্যাখা অতিদীর্ঘ হয়ে গেছে। আবার কিছু পৌরাণিক ব্যাখা ভাল লাগেনি। এ বিষয়ে আমার জ্ঞান অত বেশি না। তবে লেখকের প্রচেষ্টা অবশ্যই প্রশংসাযোগ্য৷ এত ছোট্ট একটা বইয়ে প্রবাদের সাথে সাথে পুরান, সমাজব্যবস্থা ও ইতিহাসের একটা ক্রাশকোর্স সম্পন্ন করানোর জন্য লেখককে অসংখ্য সাধুবাদ রইল।
Profile Image for Sagar Mallick.
46 reviews8 followers
January 5, 2021
প্রাচীণ প্রবাদের উৎপত্তি সংক্রান্ত গল্পমালাঃ প্রবাদের উৎসসন্ধান

বাঙালির বাংলা ভাষার সাথে প্রবাদ-প্রবচন ওতপ্রতভাবে জড়িত। অামরা কথায় কথায় বলি "অতি লোভে তাঁতি নষ্ট" কিংবা "ধান ভাঙতে শিবের গীত"। পরীক্ষার খাতায় গদ বাঁধা মুখস্থ উত্তর লিখে দশে দশ নম্বরও পায় অনেকে। কিন্তু এইসব প্রবাদের উৎপত্তির পেছনে যে চমৎকার সব গল্প রয়েছে তা কজনের জানা! অধিকাংশ প্রবাদের উৎপত্তি অবশ্য রামায়ণ কিংবা মহাভারত কেন্দ্রিক। কিন্তু তাছাড়াও অনেক গল্প প্রচলিত রয়েছে এইসব প্রবাদের উৎপত্তি নিয়ে। "প্রবাদের উৎসসন্ধান" তেমন একটি বই যেখানে প্রবাদ-প্রবচনের উৎস নিয়ে অালোচনা করা হয়েছে। অাছে লোকপুরাণের না না গল্প। যা প্রবাদের উৎস সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা দেয়।

আবহমানকাল ধরে চলে আসা মানুষের সুখ- দুঃখ, বিশ্বাস, আচার-আচরণ, সংস্কার, রসবোধ, উপদেশ, নিষেধ এই সবকিছুর স্পষ্ট উপাদান ফুটে উঠেছে লোকসাহিত্যের পরতে পরতে। যা লোকসাহিত্যের অত্যন্ত মূল্যবান উপাদানও বটে। প্রাচীন কাল থেকে চলে অাসা এইসব প্রবাদ-প্রবচন মানে অল্প কথায় ছন্দোবদ্ধ পদে প্রকাশিত মনের ভাব।
এককথায় বলা যায়, প্রবাদ-প্রবচনের মাধ্যমে সংক্ষেপে যথার্থ অর্থ প্রকাশিত হয় বা ব্যক্ত করা যায়। যা ব্যক্তি-সমাজ এমনকি রাষ্ট্রীয় জীবনে যেমন শিক্ষণীয়, তেমনি গুরুত্বপূর্ণও বটে।

প্রবাদ-প্রবচন যেমনি পুরাতন তেমনি নবীনও বটে। কারণ প্রবাদ পুনঃ পুনঃ ব্যবহূত হইলেও এর রসহানি ঘটে না। প্রবাদ জনসাধারণের উক্তি বা কথ্য ভাষার সাথেও স্বতস্ফুর্তভাবে ব্যবহূত হয়। এই প্রবাদ ব্যহহারের ফলে ভাষা সরল, সহজ ও সংক্ষিপ্ত। উদাহরণ সরূপ বলা যেতে পারে,

" তোমার প্রতিবেশী তোমার প্রতি যেরূপ ব্যবহার করিবে, তুমিও তার প্রতি তদ্রূপ ব্যবহার করিবে "

—এই সুদীর্ঘ উপদেশটি "আরশিতে মুখ দেখা" এই সংক্ষিপ্ত বাক্যে নিহিত আছে। উপরের সুদীর্ঘ কথার পরিবর্তে গ্রামাঞ্চলে অারশিতে মুখ দেখা কথাটি বেশী ব্যবহারিত হয়। সুতরাং বলা যেতে পারে প্রবাদ হলো সংক্ষিপ্ত, সরল, সরস, অভিজ্ঞতা-প্রসূত উপদেশ বাক্য।

সমর পালের লেখা প্রবাদের উৎসসন্ধানে বইটিতে ১১০টি প্রবাদের উৎস সন্ধান করা হয়েছে। প্রতিটি বর্ণনাই যুক্তিযুক্ত এবং প্রমাণসাপেক্ষ। তিনি এই ১১০ টি প্রবাদের উৎপত্তি সংক্রান্ত গল্প বা ধারণা এখানে ব্যক্ত করেছেন। লেখায় হয়তো অাপন লেখনশৈলী বা সাহিত্য শৈলী স্পষ্ট নয় কিন্তু সহজ সরল বর্ণনায় প্রতিটি রচনা লেখা। যা একজন জানতে চাওয়া পাঠকের মনকে তৃপ্ত করতে যথেষ্ট। বইটি সব ধরনের পাঠকের কাছে সমাদৃত হওয়ার দাবি রাখে। জ্ঞানান্বেষণ ছাড়াও বিচিত্রমুখী তথ্যের জন্য বইটি অত্যন্ত দরকারি।

মানুষের মুখে মুখে যে সমস্ত প্রবাদ সচারাচর ব্যবহূত হয়ে থাকে তা থেকে অতি সংক্ষেপে একটি প্রবাদের উৎস সম্পর্কে অালোচনা করা যাক

" ধর্মপুত্র যুধিষ্ঠির "

ধার্মিক লোকের প্রকৃষ্ট উদাহরণ যুধিষ্ঠির। কোনো কোনো স্থানে অত্যন্ত অধার্মিক ব্যক্তিকেও ব্যঙ্গাত্মকভাবে চিহ্নিত করতে এই প্রবাদ ব্যবহূত হয়। কিন্তু কেন এই অধার্মিক ব্যক্তিকে ধর্মপুত্র যুধিষ্ঠির বলা হবে তার উৎস সন্ধান করতে গেলে জানতে হবে কুন্তির সন্তান লাভের গল্প। কুন্তি হলেন শ্রীকৃষ্ণের পিসিমা।একবার মহর্ষি দুর্বাসা অতিথিরূপে গৃহে এলে কুন্তি তাকে পরিচর্যায় সন্তুষ্ট করেন। দুর্বাসা তাকে এক অমোঘ মন্ত্র শিখিয়ে দিয়ে যান। এই মন্ত্রের প্রভাবে কুন্তি যে দেবতাকে স্মরণ করবে সেই দেবতা তার নিকটে আসবে এবং তার সাহায্যে কুন্তির পুত্রলাভ সম্ভব। অতঃপর একদিন স্বয়ংবর সভার মাধ্যমে কুন্তির সঙ্গে বিয়ে হলো পাণ্ডুর। পাণ্ডু সন্তান উৎপাদনক্ষম ছিলেন না। তখনকার দিনে উত্তম বর্ণের পুরুষ কিংবা জ্ঞানী ঋষি বা দেবতা হতে পুত্রলাভ বৈধ ছিল। পাণ্ডু কুন্তিকে অনুরোধ করেন এ ধরনের ক্ষেত্রজ সন্তান উৎপাদন করতে। কুন্তি ধর্মদেবতাকে আহ্বান করেন। শতশৃঙ্গ পর্বতে ধর্ম দেবতার সঙ্গে সহবাসের ফলে কুন্তির যে পুত্রসন্তান লাভ হয় তিনিই ধর্মপুত্র যুধিষ্ঠির। সুতরাং বুঝতেই পারছেন ধর্ম পুত্র যুধিষ্ঠির কেন অধার্মিক ব্যক্তিকেও বলা হয়।

অাবার ধরুন অামরা কথায় কথায় বলি অতি লোভে তাঁতি নষ্ট। কিন্তু লোকপুরাণে এ সম্পর্কে কি গল্প প্রচলিত অাছে জানতে ইচ্ছে করে না? চলুন তাহলে জেনে নেওয়া যাক।

" অতি লোভে তাঁতি নষ্ট "

একদা এক সময়ে এক রাজার ছিল এক গাই গরু। দুধ দোহানোর সময় প্রায়ই দুরন্তপনা করত গরুটি। একদিন রাজা ওই অবস্থা দেখে রেগেমেগে চেঁচিয়ে বললেন, ‘কাল সকালে ওঠার পর যাকে প্রথমে রাস্তার ধারে দেখব, তাকেই গাইটি দিয়ে দেব।’ এক তাঁতি রাজপ্রাসাদের পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় রাজার কথা শুনতে পেল। গরুটি পাওয়ার লোভে তাঁতি মনে মনে নানা ভাবনা ভাবতে লাগল। তাঁতি ভাবল, গরু আনতে গেলে তো দড়ি দরকার। ভেবেচিন্তে ঘরে রাখা কাপড় বোনার সুতা পাকাতে পাকাতে মোটা দড়ি তৈরি করল। দড়ি বেশ শক্ত করতে অনেক দামের সুতা ব্যবহার করতে হলো। তাঁতির ঘরে ছিল বুড়ো মা। বুড়ি যাতে গরুর দুধ বেঁচে পয়সা নিতে না পারে, সে জন্য তাঁতি মায়ের চোখ নষ্ট করে দিল। পরদিন খুব ভোরে উঠে তাঁতি রাজপ্রাসাদের প্রধান দরজার পাশে রাস্তায় গিয়ে দাঁড়াল। রাজা তাঁতিকে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে তার আগমনের কারণ জিজ্ঞেস করলেন। তাঁতিও অসংকোচে তার কথা নিবেদন করে গরুটি প্রার্থনা করলেন। শুনে রাজা ক্ষিপ্ত হয়ে দারোয়ান দিয়ে পিটিয়ে তাড়িয়ে দিলেন তাঁতিকে। তাঁতি তাঁর সুতা হারালো, মায়ের চোখ নষ্ট করে দিল অাবার রাজার পিটানি খেতে হল। লোভ করে তাঁতি তার সর্বস্ব হারালো।

ঠিক এমন ভাবে ১১০ টি প্রবাদের উৎপত্তি সংক্রান্ত গল্প বইয়ে বর্ণনা করা হয়েছে।

অনেক প্রবাদের অর্থ আমরা সহজেই বলতে পারি। কিন্তু আমরা কজন এসব প্রবাদের উৎসের খোঁজ রাখি। উৎপত্তির পেছনের যে ঘটনাপ্রবাহ অাছে তা জানে না অনেকে। কিন্তু অনেকে অাবার জানতে চায়, উৎসুক মন নিয়ে বসে থাকে কোথা থেকে জানা যাবে এইসব তথ্য। সমর পালের ব্যতিক্রমী, কষ্টসাধ্য এক গবেষণালব্ধ প্রয়াস এই বইটি। যা পাঠকের মনের খোরাক মেটাতে পারে। প্রবাদের জন্মকথা কিংবা উৎপত্তিস্থল যেমন ইতিহাস, পুরাণ, ধর্মশাস্ত্র, নীতিকথা, লোকাচার ঘেঁটে বের করে যথাযথভাবে উপস্থাপনে শুধু শ্রম নয় মেধা ও মননের সমন্বয়ও জরুরি। তেমনি গতানুগতিকতার বৃত্তমুক্ত গবেষণাকর্মে নিবিষ্ট লেখক আলোচ্য বইয়ে ইতিহাস, পুরাতত্ত্ব, পুরাণ, ধর্মশাস্ত্র, ভাষাতত্ত্ব, সমাজতত্ত্ব, ভূগোল, সাহিত্য, কিংবদন্তি সবকিছুর সার্থক মেলবন্ধন ঘটিয়েছেন অাপন মেধা এবং পরিশ্রম লব্ধ জ্ঞান দ্বারা।

বইঃ প্রবাদের উৎসসন্ধান
লেখকঃ সমর পাল
প্রকাশনীঃ শোভা প্রকাশ
মূল্যঃ দুইশত পঞ্চাশ টাকা
Profile Image for প্রিয়াক্ষী ঘোষ.
371 reviews40 followers
April 16, 2023
সমর পাল মূলত বাংলাদেশের হারিয়ে যাওয়া প্রত্নসম্পদ, নৃতত্ত্ব, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, বিস্তৃত স্থান ও ব্যক্তিত্ব, লোক সংস্কৃতি নিয়ে কাজ করেছেন।

তরুণ প্রজন্মকে শেকড়-সন্ধানী হতে আগ্রহী করা এবং আঞ্চলিক ইতিহাস চর্চার ক্ষেত্রকে প্রাগ্রসর করাই তাঁর লক্ষ্য।

সমর পালের বেশ কিছু বইয়ের মাঝে " প্রবাদের উৎসসন্ধান" বইটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। বইটা পড়ে জ্ঞান লাভের সাথে সাথে অনাবিল আনন্দ লাভ করা যাবে তাতে কোনই সন্দেহ নাই বিন্দু মাত্র।

ব্যুৎপত্তিগত দিক থেকে প্রবাদ হলো প্রকৃষ্টো বাদঃ।
প্রবাদ নিয়ে নানা মনীষী নানা মত ও সংজ্ঞা দিয়েছে।
আবার এর গুরুত্ব ও উৎপত্তি নিয়েও আলোচনা করেছেন, দিয়েছেন নানান উক্তি প্রবাদ নিয়ে।

সরল বাঙ্গলা অভিধানে সুবলচন্দ্র মিত্র বলেছেন, " যে জাতির পুরাতত্ত্ব নাই, সে জাতি জাতিই নহে; আর যে ভাষায় প্রবাদ ও প্রবচন নাই, সে ভাষা ভাষামধ্যে পরিগণিত হয় না; উভয়েই আধুনিক। প্রবাদ -প্রবচন বহুকালাগত জনসাধারণের মধ্যে প্রচলিত বাক্য। পুরাতন বলিয়া বা পুনঃপুন ব্যবহৃত হইলেও ইহার রসহানি ঘটে না; এইটিই ইহার বিশেষত্ব।

প্রবাদ-প্রবচন জাতীয় অভিজ্ঞতার ফল। এর রচনা কাল বা রচয়িতার নাম বলা সহজ নয়। তবে এগুলো কোন শ্রেনী থেকে এবং কোন কাজের জন্য সৃষ্টি হয়েছে তা সহজে বোঝা যায়।

যেমনঃ
হালে পানি পাওয়া--এটি নৌকার মাঝির উক্তি।
তার পোয়া বার-- এটি পাশা খেলা থেকে গৃহিত।
হাতের পাঁচ---এটি তাস খেলা হতে উৎপন্ন।

প্রবাদ জনসাধারনের উক্তি, এ কারনে এর ভাষা হয় সরল ও সহজ। যা সহজে সাধারনের হৃদয়ে অবস্থান করে। এবং মনে রাখা সহজ।

অনেক প্রবাদের মাঝে কিছু প্রবাদ বিলুপ্ত হয়ে গেছে, হারিয়ে গেছে কালের অতলে।

তবে আজ আমরা যে সব প্রবাদ দেখি এর প্রতিটি প্রবাদ সৃষ্টির পিছনের একটা ঘটনা বা কারন আছে, যে ঘটনা বা কারনের ফলে লোকমুখে প্রচলিত হয়ে প্রবাদে পরিনত হয়েছে।

সেই সব পিছনের ঘটনা গুলোর চমৎকার বর্ণনা তুলে এনেছেন লেখক বইটিতে।

বইটিতে লেখক সময় পাল মোট ১৭৪ টি প্রবাদের পিছনের ঘটনা বা প্রবাদ প্রচলিত হবার মূল ঘটনা বা যে কারনে আজ প্রবাদটা লোকমুখে বেঁচে আছে সেই ঘটনাটা তুলে এনেছেন।

বইটা পড়ে আমার প্রথমে মনে হয়েছে অনেক মজার। এমন কিছু মজার ঘটনা থেকে প্রবাদ হতে পারে যা আগে জানাই ছিলো না।
তবে বইটা পড়া শেষে বুঝেছি বইটাতে জানার মতো অনেক অনেক ঘটনা আছে যা আগে জানা ছিলো না।

অনেক ঘটনা ইতিহাস বা ধর্ম থেকে এসেছে যা জেনে ভালো লাগলো তাছাড়া অনেক চরিত্র থেকেও প্রবাদের উৎপত্তি হয়েছে যা লেখক বর্ণনার মাঝে তুলে ধরেছেন।
Profile Image for Pratik Mandal.
5 reviews1 follower
April 26, 2016
Very informative but easy going book. It reflects the author's wisdom and knowledge.
Profile Image for Khaled Tamim.
53 reviews3 followers
April 23, 2020
ইন্টারেস্টিং বই।মহাভারতের ঘটনাগুলো থেকে প্রচুর বাংলা প্রবাদের জন্ম।বাকিগুলা লোকমুখে প্রচারিত।
Profile Image for Pritom Datta.
23 reviews1 follower
June 19, 2024
প্রথম থেকেই কাহিনীগুলো উপভোগ্য। শেষের দিকে ৩-৪ টা অধ্যায় অতিরিক্ত তথ্যে পূর্ণ।
Profile Image for Moriam Munni.
17 reviews2 followers
February 3, 2020
বহূল প্রচলিত প্রবাদ প্রবচনের উৎসের গল্প তুলে ধরে সরম পাল লিখেছেন "প্রবাদের উৎসসন্ধান" বইটা। দুনিয়ায় এতো কিছু থাকতে 'কুম্ভকর্ণের' সাথে ঘুমের নামটা কেন জড়িয়ে গেল আর কেনই বা কঠিন প্রতিজ্ঞার নাম হলো 'ধনুর্ভঙ্গ পণ'? ইঁদুরের সাথে খুদের একটা সম্পর্ক থাকতেই পারে কিন্তু 'বিদুরের' সাথে খুদের সম্পর্ক কী? আর 'চিত্রগুপ্তের খাতাতেই' বা কী এমন লেখা থাকে যে তা নির্ভুল হবেই হবে.. তারই উৎস- ইতিহাস তুলে ধরেছেন সমর পাল। পুরাণ, লোককথা, ইতিহাস, ঐতিহ্যের আলোকে খুঁজে বের করেছেন প্রবাদের অন্তর্নিহিত অর্থ। পরিচিত প্রবাদের পিছনের গল্প জানতে বইটাকে সহায়ক মনে হয়েছে। মজা নিয়ে পড়ার মতো বই।
Profile Image for A. M. Faisal.
76 reviews19 followers
June 7, 2018
Well researched and sometimes fictionalized (as it seemed). The writer really gave it a good amount of thought and search for laboring this piece. The information was gathered thorough extensive reading, hands down. Kudos!
Displaying 1 - 10 of 10 reviews