মোট আঠারোটি গল্প নিয়ে 'ডাক এলে যেতেই হয়।' প্রাপ্তবয়স্ক, প্রাপ্তমনস্ক পাঠকের জন্য। কোনােটা বেশ বড়, কোনোটা আবার খুব ছােট। রহস্য, ভয়ংকর, অলৌকিক আবার প্রেম, মজাও রয়েছে। এসেছে করােনা নামক ভাইরাসও। প্রতি মুহুর্তে টানটান শিহরন, রােমাঞ্চ এবং প্রেমের মাধুর্য।
- আমায় এখনাে চিনতে পারলে না? - টান - কেউ কোথাও নেই - সুন্দরবনে বিভ্রাট - কাগজ-বুড়ি - এই বেশ আছি! - ভালাে খবর - এসপার ওসপার - নতুন বৌঠান - চেনা-অচেনা - আড়ালেই আছেন - অতঃপর - তিন্নি হেরে গেছে - বত্রিশ বছর পরে - আমিই চেয়েছিলাম - সেই চোখ - সেলিব্রেশন - ডাক এলে যেতেই হয়
কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের এম.এসসি। শিশু কিশোর ও প্রাপ্তমনস্ক সাহিত্যের ইতিহাস, বিজ্ঞান, রহস্য, হাসিমজা...নানা শাখায় বিচরণ। বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় প্রচুর লেখালিখি। প্রকাশিত ও সম্পাদিত বইয়ের সংখ্যা ৫০ ছাড়িয়েছে। জনপ্রিয় চরিত্র বিজ্ঞানী জগুমামা ও টুকলু। ১৯৯৫ থেকে কিশোর ভারতী পত্রিকার সম্পাদক। ২০০৭ সালে পেয়েছেন শিশু সাহিত্যে রাষ্ট্রপতি সম্মান। শিশু-কিশোর সাহিত্যে সামগ্রিক অবদানের জন্য ২০২৩ সালে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বিদ্যাসাগর স্মৃতি পুরস্কারে সম্মানিত। মধ্যবর্তী সময়ে পেয়েছেন রোটারি বঙ্গরত্ন, অতুল্য ঘোষ স্মৃতি সম্মান, প্রথম আলো সম্মান ও নানা পুরস্কার
গল্পটা সচরাচর ভালোই বলেন লেখক। বিশেষত অভিজ্ঞতা বা স্মৃতি-মূলক লেখনী সমূহে পত্র-ভারতীর কর্ণধার ন্যায্য অর্থেই সমাদৃত। তবে, বাধ সাধে খাঁটি ফিকশনে। উদাহরন, এই বইটি। আদতে গল্পবিহীন আঠারোটি গল্প পড়তে বসে একটা গোটা সন্ধ্যা নষ্ট হল যেন। রহস্য-অলৌকিক-প্রেমের মোড়কে মার্কেট করা হলেও...একটা কি দুটো গল্প বাদে, এই সাড়ে-বত্রিশ ভাজা সংকলনটি থেকে স্মরণযোগ্য কিসুই পেলাম না।
ভালো লাগার মধ্যে, কেবল সুমন্ত গুহ অঙ্কিত সুন্দর কটা অলংকরণ এবং চমকপ্রদ প্রচ্ছদখানি। তবে মাত্র সেটুকুর জন্য বই কিনে লাভ নেই। পারলে এড়িয়ে যান। সময় বাঁচান।
অবশ্য, অতিমারির ঘনঘটায় লেখা বইটিতে লেখকের প্রতি সহানভূতিশীল হতে মন চায়। প্রিয়জন হারিয়ে মানুষটি যেন রিক্ত, যা বইয়ের ভূমিকা পড়লেই বেশ বোঝা যায়। কম তো ঝড় বয়নি কটা বছর। কমবেশি সবাই আমরা ভুক্তভোগী, এই যা। এছাড়াও, বইটির সাথে আমার প্রথমবারের কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলা ভ্রমনের স্মৃতি জড়িয়ে থাকবে আজীবন। তাই সই।