নিকোলা টেসলা। যার নামে চৌম্বকক্ষেত্রের এককের নাম দেওয়া হয়েছে 'টেসলা'। যাকে নিয়ে ইন্টারনেটের রঙিন দুনিয়ায় ছড়িয়ে আছে হাজারো কিংবদন্তি। আজকের বিখ্যাত গাড়ি ব্র্যান্ড 'টেসলা' তো তারই নামে। শুনে কখনও মনে হবে টেসলা লোকটি ছিলেন অতিমানব, আবার কখনো মনে হবে পাগল বৈজ্ঞানিক। কতটা সত্য এর? বাস্তবে কেমন ছিলেন এই উদ্ভাবক? কিংবদন্তির গভীরে ঢুঁ দিয়ে বাস্তবের নিকোলা টেসলা কে চেনার চেষ্টা এই বই। ইন্টারনেটে ছড়িয়ে থাকা নানা তথ্য, হাজারো কিংবদন্তি বনাম বাস্তবতার বিশ্লেষণের পাশাপাশি এতে থাকছে টেসলার নিজের লেখা আত্মজীবনীর সহজ রূপান্তর।
Born in Bangladesh, Abdullah Ibn Mahmud passed his childhood in Dubai, the UAE, the tourists' heaven. Returning to his home country, he passed his intermediate from Science department in 2011 from Notre Dame College, Dhaka. After that, he started his B.Sc. in the top-most engineering university of the country, BUET (Bangladesh University of Engineering & Technology) in Electrical & Electronic Engineering (EEE). After obtaining B.Sc., he went on to pursue MBA in 2017 and finished the degree from the highest academic institution in the business line, IBA of Dhaka University.
He started his writing career during his undergrad life and earned huge popularity through his historical writings published in the Bangla version of the popular analyst platform of South Asia, Roar Global. His writings on Roar Bangla have accumulated over 3.6 million readers in the last two years alone.
Abdullah loves to read and impart knowledge to those who like easy-reads. He is one of the pioneers of the country who popularized the reading of non-fiction or history-based contents. His favorite topics include- myths, theological history, tech, and he totally adores Dan Brown & J. K. Rowling, having grown up reading their fictions, but making a career of non-fiction, mostly. His published works now total up to 6, with quite a few in the pipeline, including approved translation works.
শৈশবের গোড়ার ছয়টি বছর কেটেছে আরব আমিরাতের দুবাইতে। ২০১১ সালে ঢাকার নটরডেম কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে পাশ করে আন্ডারগ্র্যাড শুরু করেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের তড়িৎকৌশল বিভাগে। ২০১৭ সালে বুয়েট থেকে বেরিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ-তে এমবিএ সম্পন্ন করেন।
ভার্চুয়াল জগতে লেখালেখির সূচনা বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে ঢোকার পর থেকে। বুয়েটে শেষ বর্ষে থাকাকালীন লেখা শুরু করেন রোর বাংলা প্ল্যাটফর্মে, যেখানে জনপ্রিয়তা পায় তার শতাধিক ফিচার, তার লেখাগুলো পঠিত হয় সাম্প্রতিক সময়েই প্রায় ৩৬ লক্ষ বার। ভালোবাসেন নতুন কিছু জানতে এবং জানাতে; প্রযুক্তি আর ফিকশন ছাড়াও পছন্দের বিষয়- বৈশ্বিক ইতিহাস, মিথ এবং তুলনামূলক ধর্মতত্ত্ব।
প্রকাশিত নন্দিত বইগুলোর মাঝে আছে- ইহুদী জাতির ইতিহাস, অতিপ্রাকৃতের সন্ধানে, এলিরিন, দ্য প্রফেট, সিক্রেট মিশনস, ইত্যাদি।
বইয়ের প্রচ্ছদ আর টেসলার নাম দেখে আগ্রহ করে কিনেছিলাম। বইয়ের বড় অংশ জুড়ে আছে টেসলার আত্মজীবনীর অনুবাদ। সেটা বেশ ইন্টারেস্টিং ছিল। বেচারার জন্য দুঃখই লেগেছে। বারবার বিভিন্ন মানুষ তাকে টাকা দেওয়ার আশা দিয়ে নিরাশ করেছে৷ প্রতিভাবান এই মানুষ অর্থের অভাবে অনেক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারেন নি। তবে তার বিচিত্র কল্পনা, অভ্যাস ও অভিজ্ঞতার বর্ণনায় মনে হয়েছে, উনি বেশ কিছু মানসিক রোগে আক্রান্ত ছিলেন।
লেখকের নিজের লেখা অংশটি অসম্পূর্ণ মনে হয়েছে। টেসলার ব্যক্তিগত জীবন, বড় হয়ে ওঠা সম্পর্কে তেমন কিছুই নেই। যদিও লেখক শুরুতে বলেছেন যে, এ সম্পর্কে তিনি তেমন কোনো তথ্য পান নি। ফ্যাক্ট না মিথ অংশটি ভালো ছিল। তবে তার পাশাপাশি টেসলার কিংবদন্তী প্রতিভা সংক্রান্ত কিছু ফ্যাক্ট দিলে আরও ভালো হত৷ আত্মজীবনীর অনুবাদের পাশাপাশি যদি কিছু বিশ্লেষণ থাকত, যেমন টেসলার দাবিগুলোর সত্যতা বিষয়ে কিছু কথা, তাহলে আরও ভালো লাগত।
❛Let the future tell the truth, and evaluate each one according to his work and accomplishments. The present is theirs; the future, for which I have really worked is mine. -- Nikola Tesla❜
❛টেসলা❜ নামটা শুনলেই মাথায় ইলন মাস্কের টেসলা গাড়ি কোম্পানির কথা মাথায় আসে কি? অথবা এককের নাম ❛টেসলা❜ এটাই মাথায় আসে? তবে নামটা আরো বেশি আলো জ্বেলে নামের ব্যক্তিটির সঙ্গে। নিকোলা টেসলা ক্রোয়েশিয়ার এক গ্রামে ১৮৫৬ সালে ভুল সময়ে জন্ম নেয়া এক জাদুকর। তাকে নিয়ে এই স্তুতি করাই যায়, ❛Tesla, the man, the myth.❜ অসম্ভব মেধাবী, কর্মঠ এবং পরিশ্রমী এক লোকটি জীবনে পের করেছেন অনেক চড়াই-উতরাই। বিভিন্ন উদ্ভাবনের নেশায় বুদ হয়ে অনবরত কাজ করে যেতেন। ফলাফল পেতেন, অকৃতকার্য হতেন আবার কাজ করতেন অনেক প্রচেষ্টার পর বা দীর্ঘ সময়ের পর সফলতা দেখা দিত। টেসলাকে নিয়ে চালু আছে অনেক গল্প, উপকথা বা মিথ! একজন বিজ্ঞানী যিনি উদ্ভাবনের নেশায় বুদ ছিলেন তাকে নিয়ে মিথ! হ্যাঁ, এটাই সত্যি। এমনকি টেসলাকে নিয়ে দল পক্ষ বিপক্ষেও তৈরি হয়েছে। তাকে নিয়ে, তার কর্ম এবং প্রচার হওয়া ঘটনা (সত্য, মিথ্যা কিংবা মিথ) নিয়ে আছে ওয়েবসাইট। সেখানে তর্ক-বিতর্ক ও হয়। টেসলা নামের সাথে বিপক্ষ বললে এসে পরে এডিসনের নামটাও! প্রকাশ্যে তাদের মধ্যে দ্বৈরথ ছিল কি না এত বছর বাদে সেটা জানার কথাও না। তবে তাদের এই বিবাদ নিয়ে আছে নানা কথা। তবে সরাসরি নিজের লেখা কোথাও টেসলা এডিসনকে নিয়ে খারাপ কিছু বলেছে নাকি সেটা তেমন প্রমাণ নেই। নিকোলাকে লোকে ❛পাগল বিজ্ঞানী❜ ও বলতেন। কেন? বলবেনই বা না কেন? এসি কারেন্ট্রের নিরাপত্তা প্রমাণ করতে যে বান্দা সর্বসম্মুখে আড়াই লাখ ভোল্টেজের কারেন্ট নিজের উপর প্রয়োগ করে তাকে আর কী বলা যায়! ক্ষ্যাপাটে? নেট দুনিয়ায় তাকে নিয়ে আছে অনেক খবর আছে ম্যাগাজিন। কেউ তাকে ভবিষ্যতদ্রষ্টা ভাবতো কেউবা ভাবতো সাক্ষাৎ যেন শ য় তা ন ভর করেছে! নাহয় নিজের জীবনীতে উল্লেখ করা মাছকে ইট ছুঁড়ে টুকরা করার ঘটনা কীভাবে ঘটে? এসি কারেন্ট, টেসলা কয়েল, ট্রান্সফরমার, ম্যাগনিফায়িং ট্রান্সমিটার, আর্ট অব টেলটোমেটিকস, টেসলা টাওয়ার তার অসামান্য অবদান। বিজ্ঞানী জীবনে তিনি অনেক দুঃখ কষ্ট সহ্য করেছেন। তার উদ্ভাবনকে প্রতিষ্ঠা করতে কিংবা বিশ্বাসযোগ্য করতে। কারণ সময়ের থেকে অনেক এগিয়ে ভাবতেন তিনি। তাইতো বলতেন এমন একসময় আসবে যখন ঘড়ি আকারের যোগাযোগ যন্ত্রে মানুষ যোগাযোগ করবে। আবিষ্কার করতে চেয়েছিলেন উড়ার যন্ত্র। চেষ্টা করেছিলেন দুনিয়াব্যাপী তারবিহীন ব্যবস্থা তৈরি করতে। অনেক প্রজেক্ট অর্থায়নের অভাবে হয়নি অনেকগুলো লাভ হবেনা বলে কেউ অর্থ ঢালেনি। কিন্তু হতাশ হতেন না তিনি। হতাশ হওয়ার সময়ই বা কোথায়? জীবনী থেকে জানা যায় ছাত্রাবস্থায় তিনি রাত তিনটা থেকে রাত এগারোটা পর্যন্ত পড়তেন। ঘুমাতেন খুব কম। বদভ্যাস বলতে ছিল না। ছিল না কোনো জীবনসঙ্গিনী। উদ্ভাবনই ছিল তার প্রেয়সী। অনেকেই বলে তিনি আত্মকেন্দ্রিক ছিলেন আবার কেউ বলে তিনি নিজেকে প্রচার করতেন না। তবে ইতিহাসের প্রমাণ দেখলে দেখা যায় তিনি আত্মকেন্দ্রিক ছিলেন। প্রচার বিমুখ তো মোটেও ছিলেন না। তাইতো নিজেকে নিয়ে কোনো লেখা ছাপা হলেই তার দলের কাজ ছিল পেপার কাটিং করে সেগুলো রেখে দেয়া। ২০ হাজার পেপার থেকে ৫৭টি খন্ডে সেই পেপারকাট রাখা আছে! কর্মকালে তিনি টানা ৮৪ ঘণ্টা কাজ করেও দিব্যি ভালো থেকেছেন। এমন মানুষ শত বর্ষে আসে কয়টা? দুনিয়া এবং তার সময়ের পরবর্তী ভবিষ্যতে এতকিছু দেয়া লোকটা শেষকাল কেমন ছিল? তিন সংখ্যা প্রিয় লোকটি ঋণে জর্জরিত হয়ে হোটেলের ৩৩২৭ রুমে চিরবিদায় নিলেন। দুনিয়া হারালো কিংবদন্তী এক উদ্ভাবককে। যে কাজকেই নিজের জীবনের ধ্যান জ্ঞান মেনেছেন। নিকোলা নিজেই বলতেন তার কাজ ভবিষ্যতে দাম পাবে। ভুল বলতেন কী?
পাঠ প্রতিক্রিয়া:
❝নিকোলা টেসলা - ভুল সময়ে জন্ম নেয়া এক কিংবদন্তি উদ্ভাবক❞ আব্দুল্লাহ ইবনে মাহমুদের লেখা নন ফিকশন বই। নিকোলা টেসলাকে নিয়ে নিজের জানাশোনা এবং লেখকের ❛My Inventions❜ বই দুটো মিলে এই বইটি তৈরি করেছেন। ❛My Inventions❜ বইটাও ছোটো। সেখানে বিজ্ঞানীর নানা আবিষ্কার সাথে ছোটোকাল থেকে জীবনের নানা বাকে হওয়া কিছু ঘটনা উল্লেখ করেছেন। বইতে লেখক প্রথম কয়েক অধ্যায়ে টেসলা নিয়ে নিজের মনোভাব এবং নেট দুনিয়ায় টেসলার জনপ্রিয়তা নিয়ে আলোকপাত করেছেন। এরপর তাকে নিয়ে প্রচলিত কিংবদন্তি এবং সেগুলোর সত্য মিথ্যা যাচাই করেছেন। অজানা অনেক কিছুই জানতে পেরেছি বইটা পড়ে। উদ্ভাবনের নেশায় বুদ এই ব্যক্তির জীবন ছিল নানা ঘটনায় জর্জরিত। ছোটকালে কঠিন অংক কোনরকম হিসাব করা ছাড়াই বলে দেয়া থেকে পুকুরে ডুব দিয়ে অদ্ভুত সব ঘটনা ঘটানোর কীর্তি আছে তার। এসব কিছু সম্ভব হতো না যদিনা তিনি বাবার ইচ্ছেতে যাজক হতেন। পরকালের হিসেব করা থেকে তিনি উদ্ভাবনের দিকেই মনোযোগী ছিলেন। এত পরিশ্রমী হয়েও জীবনে নানা দুঃখ দুর্দশার মধ্যে চলতে হয়েছে। তাইতো তার বস যখন প্রশ্ন করেছিলেন, ❛গতমাস কেমন গেলো তোমার?❜ এর উত্তর দিয়েছিলেন, ❛গতমাসের ঊনত্রিশ দিন বেশ কষ্টে কেটেছে।❜ পুরো বইতে টেসলার জীবনের নানা বাকের কথা এসেছে। কিছু পড়ে অবাক লেগেছে, আবার কোনোটা অবিশ্বাস্য ছিল। তিনি আসলে কী ছিলেন? ফটোগ্রাফিক মেমোরি সম্পন্ন এক তুখোড় ব্যক্তি নাকি অতিলৌকিক কেউ? উত্তরটা তার কীর্তিতে।
টেসলা সম্পর্কে ধারনা পেতে বইটি আমার বেশ ভালো লেগেছে। কিছু বিষয় অবিশ্বাস্য হলেও আজকে এসে এইটা প্রমাণের সুযোগ নেই। নিউটন কিংবা আইনস্টাইনের কথা যেভাবে আলোচনা হয় টেসলা ততটা আলো পান না। আধারে রয়েই তিনি দুনিয়াকে আলো দেখিয়ে গেছেন। বইটির ট্যাগলাইন, ভুল সময়ে জন্ম নেয়া এক কিংবদন্তি উদ্ভাবক। আমার মনে হয় ভুল সময়ে জন্ম না নিয়ে কিংবদন্তি হওয়া যায় না। সঠিক সময়ে জন্ম নিলে কদর হয়তো পেতেন না। ভুল সময়ই কিংবদন্তির জন্য সঠিক সময়!
নিকোলা টেসলা, বিংশ শতাব্দীর গোঁড়ার দিকের এক কিংবদন্তী বিজ্ঞানীর নাম। এডিসন এর সাথে তার দৌরথ ছিল সর্বজনবিদিত। তাকে প্রচলিত আছে বহু মিথ, যার ব���শিরভাগ এর কোন ভিত্তি নেই। তাকে নিয়ে প্রচলিত মিথ, মানুষের মাতামাতি, পপ কালচার আইকন হয়ে উঠা নিকোলা টেসলা নিয়ে জানার আমারও আগ্রহের কমতি ছিলনা। আবদুল্লাহ ইবনে মাহমুদ ভাইয়ের বইটা হাতে পাওয়া মাত্রই পড়া শুরু করলাম। খুব সাবলীল ভাবেই তিনি নিকোলা টেসলার জীবনী তুলে ধরেছেন, ভেঙেছেন মিথ, অনেটা মিথবাস্টার এর মত। অনেক আবিষ্কার কিংবা উদ্ভাবন টেসলার নামে বর্তমানে দাবি করা হয়, আদতেও টেসলা এসবের কিছুই করেননি, বড়জোর ক্ষেত্রবিশেষে প্রযুক্তিগত উন্নয়ন করেছেন। টেসলা ছিলেন পুরোপরি আত্মকেন্দ্রিক একজন বিজ্ঞানী। এডিসন এর মত তারও খ্যাতির মোহ ছিল (আমিও অবাক হয়েছি বিষয়টা জানতে পেরে, অথচ আমরা এর বিপরীতটাই জানি)। তিনি সহকর্মীদের দিয়ে টেসলা সম্পর্কিত সংবাদপত্রে/ অন্যত্র যা ছাপা হত, সব কেটে সেঁটে দিতেন। এভাবে ৫৭ টি বইয়ে প্রায় ২০০০০ ক্লিপিং রয়েছে। একজন প্রচারবিমুখ এর পক্ষে এত সংখ্যক ইন্টার্ভিউ/ ফিচার! প্রশ্ন জাগে বটে। তবে টেসলা আসলেও একজন কিংবদন্তী উদ্ভাবক ছিলেন, তার অনেক উদ্ভাবন সময়ের চেয়ে এগিয়ে ছিল। প্রচণ্ড পরিশ্রমী ছিলেন, ল্যাব এ ঘণ্টার পর ঘণ্টার কাটিয়ে দিতেন। বিয়ে বা নারী সঙ্গ এড়িয়ে গেছেন উদ্ভাবনে বাধা পড়বে বলে, যদিও অনেক নারী তার জন্য ব্যাকুল ছিল। দূর নিয়ন্ত্রিত যন্ত্রের ধারণা তিনিই প্রথম পৃথিবীকে দেন। ১৮৯৮ সালে নিজে নিজে চলবে এমন গাড়িরও প্রদর্শনী করেন, যদিও প্রস্তাব টেকেনি বলে বেশিদুর যেতে পারেননি। তার বিনা খরচে বিদ্যুৎ এর প্রোজেক্টও ইনভেস্টর টাকা দেয়া বন্ধ করে দেন, যখন বুঝতে পারেন তার কোন লাভ নেই। তিনি বেশ কিছু প্রস্তাবনা দিয়ে গিয়েছিলেন যা পরবর্তীতে উদ্ভাবিত হয়। এরকম বহু কিছুর সাথে টেসলা জড়িয়ে ছিলেন। বইটি টেসলা সম্বন্ধে একটা প্রাথমিক ধারণা দিবে, টেসলার ছোটবেলা, আমেরিকায় আসা, তার মেধা,, এডিসন এর সাথে দৌরথ, তার বিভিন্ন উদ্ভাবন, সেই সাথে দিবে কেন তাকে নিয়ে এখন এত মাতামাতি।
সৌভাগ্য ক্রমেই হোক আর যে কারনেই হোক, আমি তড়িৎ প্রকৌশলী সার্টিফিকেট অনুযায়ী। তাই টেসলা সাহেবের নাম অজানা না। মোটামুটি বিজ্ঞান জানা বা সাধারণ জ্ঞান রাখা, কম বেশি সবাই এনার সাথে পরিচিত। গল্পে গল্পে আইনস্টাইন কিংবা নিউটনের জীবন নিয়ে যতটা জানি, এনাকে নিয়ে ততোই কম।
খুব সহজ ভাষায়, নিকোলাস টেসলা কে নিয়ে লেখা এই বই। যতটা আগ্রহ নিয়ে পড়েছি অত মনঃপুত না হলেও খারাপ লাগেনি। টেসলার জীবনী অংশ বেশ অসম্পূর্ণ লেগেছে। সব থেকে মজার বিষয় হল। মিথ এবং ফ্যাক্ট। অনেক অজানা কিছু জেনেছি। যদিও এটা নন ফিকশন তবে, টেসলার জীবনীর অংশ ফিকশনের মতই লেগেছে। টেসলা আসলে অনেক কিছু দেখতে বা বুঝতে পারতেন। সে কল্পনা করতেন, এবং সেই অনুযায়ী কাজ। অত্যন্ত মেধাবী তো ছিলেনই, সাথে ছিলেন বিচক্ষণ।
মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়েছেন বহুবার। জেদের বশে কোনদিন ডাক্তারের কাছে জাননি। বহু আবিষ্কার পেটেন্ট পাননি। স্বয়ং এডিসন সাহেব নাকি বিপুল অংকের টাকা মে/রে দিয়েছিল তার।
ভবিষ্যৎ বাণী ও করতে পারতেন নাকি তিনি। এরকম অজস্র তথ্য দিয়ে পূর্ণ এই বইটা। তবে লেখাগুলো আরো একটু বিপুল পরিসরে লেখা হলে ভালো হতো।
৪-৫ জায়গায় সম্পাদনার ভুল আছে, যেমন জীবাণুযুক্ত বা মুক্ত নিয়ে উলটা পালটা হয়ে গেছে, দুই কে দিই লেখা এরকম।
বইটা পড়ে, একটা ব্যাপার পরিষ্কার। মানুষ বলে যে ইউরোপ আমেরিকায় গুণের কদর আছে, আমাদের দেশে নেই? আজ্ঞে না, এইখানেও যা, ওইখানেও তা। এই যে ধরেন খুঁটি দুই হাত আগে না পরে বসবে, তা নিয়ে কত ধাপ অতিক্রম করা লাগে! আবার ধরুন কাজ করবেন আপনি আর আপনার ক্রেডিট নিয়ে খাবে কেউ।
এই আচরণ আসলে বিশ্বব্যাপী চলছে, এবং চলবে বলে মনে হয়। তবে টেসলার এত আবিষ্কার, এত পরিশ্রম আর এত মর্মান্তিক পরিণতি সম্পর্কে জানা ছিল না, স্বল্প পরিসরে জেনে ভালো লাগল বেশ।
বইটি পড়তে পড়তে মনে হলো কোথায় যেন তাড়াহুড়োর ছাপ আছে। আত্মজীবনীর অংশটুকু ভালো লেগেছে, তবে অনুবাদ আরেকটু সরস হতে পারতো। কিছু অনুবাদ বই আছে না পড়লে 'অনুবাদ' মনে হয় না এমন? তেমন লাগেনি।
নিকলা টেসলার নিজের লেখা জীবনী 'র অনুবাদ বেশিরভাগ জুড়ে। বেশকিছু ফ্যাক্ট চেক ও আছে। অনেক কিছু বাড়াবাড়ির উত্তর ও দেয়া হয়েছে। টেসলা কে জানতে বই টি বেশ উপযোগী