এই বইটা পড়ার প্রধান কারণ ছিল, ভূমিকাটা পরিমল ভট্টাচার্য এর লেখা! পরিমল ভট্টাচার্য এর সব বই পড়া শেষ হয়ে যাওয়াতে ভাবলাম, এই বইটা পড়ি। অন্তত তিনি যে বইয়ের ভূমিকা লিখেছেন সেটা এলেবেলে যে হবে না সে ব্যাপারে নিশ্চিত।
পাহাড়ের প্রতি আমার একটা অদম্য কৌতূহল আছে। এমন না যে আমি খুব পাহাড় ঘুরেছি বা পাহাড়ে জন্মেছি, তবুও আমার প্রিয় ফ্যান্টাসি পাহাড়ে বাস করার। পাহাড়ের সবুজ কিন্তু কঠিন জীবন আমায় ভীষণ টানে। আমার খুব ইচ্ছে করে পায়ে হেঁটে পাথর ডিঙিয়ে, উঁচু উঁচু পাহাড়ী পথ ভেঙে ইয়ক চড়াতে। আগুনের পাশে বসে গরম আঁচে আলু সেদ্ধ খেতে! এই টান থেকেই পাহাড়ে ভ্রমণ নিয়ে যা পাই, পড়ে ফেলি।
এই বইটা এত সুন্দর! সাবলীল ভাষায় লেখক একেবারে ছবি দেখিয়ে দিচ্ছিলেন। কাঞ্চনজঙ্ঘার আঙিনায় লেখক হেঁটেছেন শরৎচন্দ্র দাসের পথ ধরে। পথসঙ্গী আর শেরপাদের গল্প করেছেন। পাহাড়ী দিদিরা কত মমতায়, কত সরলতায় রান্না করে খাইয়েছেন, আশ্রয় দিয়েছেন। অল্প সময়ের পরিচয়েই পরিবার বনে যাওয়ার ক্ষমতা এই কষ্টসহিষ্ণু জাতির অঢেল।
ট্র্যাকিং এর তোড়জোড় শুরু হয় তাপলেজং থেকে। এরপর লুংথুং, সেরাপ, ওলাংচুঙ , প্রাচীন গুম্ফা পেরিয়ে নাংগো-লা।
তারপর আরো দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে কাঞ্চনজঙ্ঘা।
নিজের যাত্রাবর্ণনার সঙ্গে সঙ্গে লেখক স্মরণ করেছেন এই দুর্গম পথের প্রাক্তন পথপ্রদর্শক অভিযাত্রীদের কথা, বিশেষত শরৎচন্দ্র দাসের দু:সাহসিকতার কথা।
অবভাসের প্রকাশনায় এই বইটি সাম্প্রতিক ভ্রমণসাহিত্যে সত্যিই এক অভিনব এবং গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন।
৪.৫/৫