আপনি যদি না জানেন কী কী কারণে এবং কীভাবে লেনদেন করলে সুদ হয়, তাহলে সুদ থেকে বাঁচবেন কী করে?
দ্বীনের হালাল-হারামের জ্ঞান অর্জন আপনার ওপর ফরজ, সেই ফরজটা কী তাহলে অর্জিত হয়েছে?
কখনো টাকা ঋণ নিয়েছেন? কাউকে ঋণ দিয়েছেন? সুদ খেয়েছেন কখনো? সুদ দিয়েছেন? সুদ দিলে বা নিলে কী ক্ষতি হয় জানেন? এত মানুষ সুদে জড়িয়ে পড়ছে কেন? সুদ এত 'উপকারি', তাহলে বাড়ছে কেন 'দরিদ্রতা'?
কর্জে হাসানা কী? কর্জে হাসানা দিলে কি কারও ক্ষতি হয়? কর্জে হাসানা দিলে সমাজ আর সংসারের উন্নতি কীভাবে হয়? কর্জে হাসানা দিলে কি সমাজ সুদমুক্ত হবে? শুধু টাকা দিয়েই কর্জে হাসানা হয়, নাকি সোনা-রুপা-চাল-ডাল দিয়েও হয়? দেশে হাজার কোটি টাকার কর্জে হাসানা ফান্ড থাকলে কী হতো? দুনিয়াতে কি বড়ো কোনো কর্জে হাসানা ফান্ড আছে? কীভাবে কাজ করে তারা?
দীর্ঘ দশ বছর দেশে-বিদেশে অধ্যয়ন শেষে মােহাইমিন পাটোয়ারী বর্তমানে অর্থনৈতিক বিশ্লেষক হিসেবে দায়িত্বরত আছেন। ২০১৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ থেকে বিবিএ সম্পন্ন করে তিনি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক 'চার্টার্ড ফাইনান্সিয়াল এনালিস্ট প্রােগ্রামে যুক্ত হন। অর্থনীতি এবং ফাইনান্সের পাশাপাশি গণিতের প্রতি রয়েছে তাঁর ঝোঁক। সিএফএ অধ্যয়নরত অবস্থায় দ্বিতীয় স্নাতক প্রােগ্রামের জন্য তিনি গণিত বিভাগে নাম লেখান উত্তরা বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং ২০১৬ সালে স্নাতকোত্তর গণিত অলিম্পিয়াডে বাংলাদেশের সেরা দশে অবস্থানের পুরস্কার অর্জন করেন। ২০১৭ সালের জুন মাসে তিনি সিএফএ পরীক্ষার তৃতীয় এবং শেষ ধাপ সম্পন্ন করেন। তাঁর জীবনের ক্ষুদ্র একটি অপূর্ণতা হচ্ছে গণিতে স্নাতক সম্পন্ন করতে না পারা। স্নাতক করা অবস্থাতেই নরওয়ে স্কুল অফ ইকনমিক্সে মাস্টার্স প্রােগ্রামের জন্য তার ডাক পড়ে। সেই ডাকে সাড়া দিয়ে তিনি নিশীথ সূর্যোদয়ের দেশে পাড়ি জমান। অতঃপর নরওয়ে স্কুল অব ইকনমিক্স থেকে দ্বৈত মাস্টার্স প্রােগ্রামের জন্য তিনি যন্ত্রের দেশ জার্মানির স্বনামধন্য মানহাইম বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে যান। পড়াশােনার পাশাপাশি খেলাধুলা, ভ্ৰমণ, শিক্ষকতা এবং ভাষা শিক্ষার জগতেও তিনি একজন সক্রিয় ব্যক্তিত্ব। ২০১৮ সালে চাইনিজ ব্রিজ কম্পিটিশনে জাতীয় পর্যায়ে তৃতীয় স্থানসহ খেলাধুলার জগতেও রয়েছে তাঁর একাধিক পুরস্কার। বর্তমানে অর্থনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং বাংলা ভাষায় অর্থনীতির জগতকে সমৃদ্ধ করার লক্ষ্যে তিনি কাজ করে যাচ্ছেন। বই লেখার পাশাপাশি সংবাদপত্রেও তিনি নিয়মিত কলাম লিখেন। সরল বাংলায় এবং গল্পের ভঙ্গিমায় তাঁর লেখাগুলাে ইতােমধ্যেই পাঠকদের মন কেড়ে নিয়েছে।
সমাজের একদল লোকের অভিমত এরকম যে, ব্যাংক কিছু টাকা নিচ্ছে ব্যবসায় খাটানোর পর লাভের অংশ আমাকে দিচ্ছে এখানে সুদের কিছু নাই। ২য় আরেকটা দলের চিন্তাভাবনা এরকম যে, ভাই ইসলামে সুদ হারাম, ব্যাংকব্যবস্থা হারাম, এইটার সাথে সম্পৃক্ত যেকোনো কিছুই হারাম।
এই দুই দলের তোতাপাখীয় আলোচনার মাঝে যে জিনিসটা হারিয়ে যায় সেটা হলো মোটিফ বা বিষয়বস্তুর সার্বিক আলোচনা। উপরের দুই দলের মাঝে কেউই সুদ বা রিবাহ এর মূল অর্থ জানেনা, প্রকৃতপক্ষে আমাদের ৯০% মানুষই এ সম্পর্কিত আংশিক জ্ঞানও রাখেনা।
ছোটবেলায় পাটিগণিতে মুনাফার অংক আমরা সবাই করেছি। আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার গোড়া থেকেই সুদের (ভদ্রলোকেরা একে বলে লভ্যাংশ) সাথে পরিচয় করে দেয়া হয়েছে। কিন্তু এই ইন্টেরেস্ট বা মুনাফার সামগ্রিক ফলাফল কি এটার কোনো ব্যাখ্যা আমাদের সমাজ বইয়ে দেয়া হয়নাই। বৈষম্যের বিপক্ষে আমাদের এন্টিরেসিজম চর্চার শেষ নাই কিন্তু যদি বলি এই ব্যাংকব্যবস্থা - সুদ-ই বৈষম্য বৃদ্ধির অন্যতম কারন তাহলে কি বলবেন?!
আসলে সুদ কি? লাভের অংশ যদি না- নিতে পারলাম তাহলে টাকার মান তো কমে গেল! এটা কি এমন অপরাধ যে আল্লাহ -রাসুল এর বিরুদ্ধে প্রকাশ্য যুদ্ধের ঘোষণা দিল? এই কর্জে হাসানা ই বা কি আবার? কর্জে হাসানায় যদি সমস্যার উত্তরণ হয় তাহলে এটা এপ্লাই করছিনা কেনো? সকল প্রশ্নের উত্তর জানতে পড়তে হবে মোহাইমিন পাটোয়ারী ভাইয়ার এই বইটি।
সুদকে যতটুকু খারাপ চোখে দেখা উচিত ততোটা আমরা দেখি না। আমাদের একটা ধারণা হয়ে গেছে যে সুদী ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে আসা একরকম অসম্ভব। মোহাইমিন পাটোয়ারী এ বইয়ে একটা 'way out' দেখিয়েছেন। কর্জে হাসানার মাধ্যমে কীভাবে সুদমুখী অর্থনৈতিক ব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে এসে সুন্নতি ব্যবস্থায় শিফট করা যায় সেটার একটা ব্লুপ্রিন্ট বলা যায় বইটিকে। যদিও At times too much idealistic approach মনে হয়েছে আমার কাছে। However, it's a start!
সুদ এবং কর্জে হাসানার উপর একটা বেশ উপকারি বই হবে যারা এ ব্যাপার আগ্রহী।
মোহাইমিন পাটোয়ারীর অর্থনীতি সিরিজের একটি বই। এই বইয়ে আলোচনা করা হয়েছে ইসলামী অর্থনীতির স্থায়ীত্ব নিয়ে। সুদ কিভাবে সম্পদকে এক ব্যক্তির বা প্রতিষ্ঠানে কেন্দ্রিভুত হয় টা নিয়ে। এবং কর্যে হাসানার বিষয়টি বর্তমান প্রেক্ষাপটে আলোচনা করা হয়েছে বিস্তারিত ভাবে।