এটি একজন অরক্ষনীয়ার গল্প। স্বল্পবুদ্ধির ভীতু চরিত্রের হীণমন্যতায় ভোগা এক মিষ্টি মেয়ে। ভাগ্যের প্রতিকূলতা যাকে ছিটকে ফেলেছিল ঘর পরিবারহীন এক বৈরী পরিবেশে। বিপর্যয় হয়ে উঠেছিল যার নিত্যসঙ্গী। দুর্ভাগ্যের সাথে পাল্লা দিতে গিয়েই একদিন খড়কুটের মত আঁকড়ে ধরতে চেয়েছিল প্রভাবশালী চাচাত ভাই আজাদ সোয়াইলিমকে। ডানপিটে প্রকৃতির এক বেপরোয়া যুবক। তার মাঝেই নূহা খুঁজে পেয়েছিল অপার নির্ভরতা। তার বরাভয়কে ভালবাসা ধরে নিয়ে নিজেকে উৎসর্গ করতে চলেছিল তার পায়ে। অথচ আজাদ তা বুঝতে পারলেও নিজেকে গুটিয়ে নিল। সে এই দান গ্রহনে বিমুখ। ক্ষীণ আত্মমর্যাদাবোধে লাগা আঘাত থেকেই নিজেকে গড়ে তোলার প্রানপণ চেষ্টা চলল নূহার। পারস্পরিক সম্পর্কের সুক্ষ্ম টানাপোড়েনের মধ্য দিয়েই একদিন নূহা সন্ধান পেল এক নিটোল দীঘির। অরক্ষণীয়া তারই উপাখ্যান।
অরক্ষণীয়া একজন অরক্ষিত কিশোরীর গল্প। স্বল্পবুদ্ধির, ভীতু ও হীনমন্যতায় ভোগা এক মিষ্টি মেয়ের জীবন, যাকে ভাগ্যের প্রতিকূলতা ছিটকে ফেলে ঘর-পরিবারহীন এক বৈরি বাস্তবতায়। বিপর্যয় তার নিত্যসঙ্গী হয়ে ওঠে। সেই দুর্ভাগ্যের সাথে পাল্লা দিতে গিয়েই নুহা খরকুটোর মতো আঁকড়ে ধরতে চায় তার প্রভাবশালী চাচাতো ভাই আজাদ সোয়াইলিমকে। বেপরোয়া স্বভাবের আজাদের মাঝেই নুহা খুঁজে পায় নিরাপত্তা ও নির্ভরতার অনুভূতি। তার করা নরম আচরণকে ভালোবাসা ভেবে ভুল করে নুহা নিজেকে উৎসর্গ করতে চাইলেও আজাদ সেই সম্পর্ক গ্রহণে বিমুখ থাকে। এই প্রত্যাখ্যান নুহাকে ঠেলে দেয় আত্মসংঘাতের ভেতর, আর সেখান থেকেই শুরু হয় নিজেকে নতুনভাবে গড়ে তোলার চেষ্টা। সম্পর্কের সূক্ষ্ম টানাপোড়েনের মধ্য দিয়েই নুহা খুঁজে পায় নিজের উপলব্ধির এক নতুন দিগন্ত—অরক্ষণীয়া সেই যাত্রারই উপাখ্যান।
পাঠ অনুভূতি:
পিতা-মাতা বেঁচে থাকা যে আল্লাহর দেওয়া কত বড় রহমত—তা তাদের অনুপস্থিতিতে ক্ষণে ক্ষণে উপলব্ধি করা যায়। তখন আশ্রয়ের খুঁটিটা নড়বড়ে হয়ে ওঠে। সেই নড়বড়ে খুঁটি বাঁচিয়ে রাখতে ইয়াতিম মানুষটি আশায় থাকে—এই মমতাহীন পৃথিবীতে যদি কেউ থাকে তার হিতৈষী রূপে! কিন্তু কাঙ্ক্ষিত শুভাকাঙ্ক্ষী মিললেও আতঙ্ক যেন পিছু ছাড়ে না। নূহার জীবনে সেই আশ্রয়ের খুঁটি নড়বড়ে হয়ে যায় বাবার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে। তখন খুঁটিটা শক্ত করে ধরে রাখতে সে ভরসা করে বড় চাচার ছেলে আজাদকে। আজাদকে ঘিরে তার কিশোরী মনে জন্ম নেয় সূক্ষ্ম এক আবেগ। আজাদের যত্ন, তার প্রতিবাদী চেতনা আর সাহসী অবস্থান—প্রতিটি নোংরা আচরণের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে যাওয়া—নূহার কোমল মনে প্রিয় এক অনুভূতির জন্ম দেয়। প্রথমে সংকোচের সাথে অজানা অনুভূতির খেলা, ধীরে ধীরে আস্থা, আর নিজের অজান্তেই প্রেমের উদয়। বোকাপ্রেম—যাকে বলে। কিন্তু সেই বোকা ভালোবাসা প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই নূহার আশ্রয়ের খুঁটি ভেঙে চুরমার হয়ে যায়। প্রিয় অনুভূতিটা নিমিষেই অপ্রিয় হয়ে ওঠে, যখন আজাদ তাকে প্রত্যাখ্যান করে—আর প্রতিদান হিসেবে দিয়ে যায় অপমানের বাণী। নূহাকে এরপর চলতে হয় একা। তার ছোট্ট এক ভুল—সহানুভূতিকে ভালোবাসা ভেবে নেওয়া—তার জীবনের গল্পটাই বদলে দেয়। সেই ভুলের মূল্য দিতে হয় অসহনীয় কষ্টের ভেতর দিয়ে। একাকী নূহা—অরক্ষিত, মনোবলহীন, দুর্বল এক কিশোরী। কীভাবে চলবে সে এই কাঁটায় ভরা পথে? নিকৃষ্ট জগতের কালো থাবা থেকে কীভাবে নিজেকে সামলে রাখবে? এক আল্লাহর উপর ভরসা করে বিপদসংকুল এই যাত্রা কি তাকে গন্তব্যে পৌঁছে দিতে পারবে? নাকি সারাজীবন তাকে ‘অরক্ষণীয়া’ হয়েই চলতে হবে? ‘অরক্ষণীয়া’—এক অরক্ষিত কিশোরীর জীবনের গল্প। যে গল্প বাস্তবের হাজারো নূহাকে প্রতিনিধিত্ব করে। যারা আজাদের মতো শান্তির অবলম্বন খোঁজে, জীবনে আজাদের মতো কাউকে সঙ্গী হিসেবে পেতে চায়; কিন্তু রঙিন স্বপ্ন শেষ পর্যন্ত রংহীন বাস্তবেই পরিণত হয়। আর তখন সংকীর্ণ সেই পথটা চলতে হয় ‘অরক্ষণীয়া’ উপাধি বয়ে নিয়ে।
This entire review has been hidden because of spoilers.