রাষ্ট্রক্ষমতার আনুকূল্যে বিত্ত-বৈভবে ফুলে-ফেঁপে ওঠার ঘটনা নতুন নয় বরং রাষ্ট্রব্যবস্থার ধারণা যখন থেকে এসেছে তখন থেকেই এ বিষবৃক্ষের জন্ম হয়েছে। বরপুত্র উপন্যাসের সময়কাল স্বাধীন বাংলাদেশের জন্মের পরের কয়েক দশক। এ সময়ে অনেকেই রাষ্ট্রক্ষমতাকে পুঁজি করে কিংবা রাষ্ট্রক্ষমতার ছত্রছায়ায় থেকে অঢেল বিত্ত-বৈভবের মালিক হয়েছে। এ উপন্যাসের মূল চরিত্র মোহন তাদেরই একজন। মোহন আমাদের দেখা অসংখ্য দুর্নীতিবাজ-দালাল-চাটুকার শ্রেণীর একজন। মঞ্জু সরকার মোহন চরিত্রটি নিয়ে যে গল্প ফেঁদেছেন তারই সার্থক রূপায়ণ বরপুত্র। বরপুত্রে চিত্রিত হয়েছে আমাদের সমকালীন জীভন, রাষ্ট্রব্যবস্থা, রাজনীতি, সমাজনীতিসহ আরও অনেক কিছু। বরপুত্র মূলত সমকালীন গল্প।
মঞ্জু সরকার (Manju Sarkar) বাংলাদেশের বিশিষ্ট কথাশিল্পী, গল্পকার ও উপন্যাসিক। মঞ্জু সরকারের জন্ম ১ সেপ্টেম্বর, ১৯৫৩, রংপুরে। একাডেমিক শিক্ষা রংপুরের কৈলাশ রঞ্জন হাই স্কুল ও কারমাইকেল কলেজে। পেশাগত জীবনে জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের প্রকাশনা কর্মকর্তা হিসেবে স্বেচ্ছা অবসর গ্রহণের পর, দৈনিক আমার দেশ এবং দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকার সম্পাদকীয় বিভাগে দশ বছর সহকারী সম্পাদক হিসেবে কাজ করেছেন। বর্তমানে স্বাধীন ও সার্বক্ষণিক লেখক। গল্প, উপন্যাস ছাড়াও বেশ কিছু শিশু-কিশোর গ্রন্থের প্রণেতা। এ যাবত প্রকাশিত গ্রন্থসংখ্যা অর্ধ শতাধিক। কথাসাহিত্যে সামগ্রিক অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ পেয়েছেন বাংলা একাডেমি, ফিলিপস, আলাওল, বগুড়া লেখক চক্র ও ব্যাংক সাহিত্য পুরস্কার। শিশু-কিশোর গ্রন্থের জন্য পেয়েছেন অগ্রণী ব্যাংক শিশু সাহিত্য পুরস্কার। ২০০৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের আইওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ইন্টারন্যাশনাল রাইটিং প্রোগ্রাম’-এর অনারারি ফেলোশিপ প্রাপ্তি উপলক্ষে তিনমাস রেসিডেন্সি প্রোগ্রামে অংশ নিয়েছেন।
উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে: অবিনাশী আয়োজন, উচ্ছেদ উচ্ছেদ খেলা, রূপান্তরের গল্পগাথা, মঙ্গকালের মানুষ, তমস, নগ্ন আগন্তুক, প্রতিমা উপাখ্যান।
আর দশটা মাস্তানের উত্থান, ক্ষমতার ব্যাপক অপব্যবহার, পতন—এই চেনা ছকের আবর্তেই ঘুরপাক খেয়েছে উপন্যাসটি। লেখক রাষ্ট্রক্ষমতার একেবারে গহনে নিয়ে গিয়েও পাঠককে অদেখা ও অজানা কিছু দেখাতে ও জানাতে ব্যর্থ হয়েছেন। বইয়ের ফ্ল্যাপে লেখা ছিল: উপন্যাসটি শিল্পসফল, এটি পাঠকে ভাবাবে, নাড়া দেবে। ‘বরপুত্র’ শিল্পসফল উপন্যাস কি না, তা আমি বলতে পারছি না, ব্যক্তিগত ভালোলাগা বা মন্দলাগার ভিত্তিতে শিল্পমূল্য নির্ণয় করা উচিত হবে না, তা ছাড়া মনে করি এটি সাহিত্য সমালোচকদের কাজ। তবে বলতে দোষ নেই, উপন্যাসটি আমাকে ভাবায়নি, বরং ক্ষেত্রবিশেষে বিরক্ত করেছে। এবং নাড়াও দেয়নি, এতো বেখেয়াল নই যে নাড়া দিলে টের পাবো না!