স্কুল শিক্ষক আলোকনাথ বাবুর মহাবিপদ। তার মেয়ে সোমলতা, কী কী যেন দেখে, ভয় পায়! তিনি আহমেদ করিম সাহেবের কাছে সমাধান চাইলেন! কিন্তু চাইলেই কি আহমেদ করিম পারেন সব সমস্যার সমাধান দিতে!
Shariful Hasan hails from Mymensingh, Bangladesh. He has spent his childhood by the banks of Brahmaputra river. He completed his Masters in Sociology from University of Dhaka and is currently working in a renowned private organization.
Shariful's first novel was published on 2012 titled Sambhala. With two other books, this captivating fantasy trilogy has received widespread acclimation both within and beyond the borders of Bangladesh. The Sambhala Trilogy was translated in English and published from India.
Although his inception consisted of fantasy and thriller, he has later worked on a variety of other genres. These works have been received fondly by the Bangladeshi reader community. Lot of his works have also been published from different publications in West Bengal.
Award- Kali O Kalam Puroshkar 2016 for 'অদ্ভুতুড়ে বইঘর'
কাহিনি সংক্ষেপঃ আলোকনাথ সিনহা একজন স্কুল শিক্ষক। নির্বিরোধী ভালো মানুষ স্বভাবের এই ভদ্রলোক একদিন দেখা করলেন সাইকোলজিস্ট আহমেদ করিম সাহেবের সাথে। সমস্যাটা ভদ্রলোকের একমাত্র মেয়ে সোমলতাকে নিয়ে। মেয়েটা ইদানীং বাবা আলোকনাথ সহ বাড়ির সবাইকেই সন্দেহের দৃষ্টিতে দেখছে। তার ধারণা, তার পরিবারের কেউ আসল না। বরং একটা কালো ছায়া তাদেরকে গ্রাস করে তাদেরই চেহারা নিয়ে ঘুরেফিরে বেড়াচ্ছে।
সহকারী সোহেলকে সাথে নিয়ে আহমেদ করিম সাহেব আলোকনাথবাবুর বাড়িতে গেলেন। কিন্তু অদ্ভুত ব্যাপার হলো, আলোকনাথবাবু তাঁদেরকে চিনতে পারলেন না। আসলেই চিনতে পারলেন না, নাকি না চেনার ভান করছেন ভদ্রলোক? এদিকে সোমলতার সমস্যাও যেন আরো বেড়ে গেছে। মেয়েটার সাথে আহমেদ করিমের কথা হলো বটে, কিন্তু তিনিও এই সমস্যার কোন তল তৎক্ষনাৎ খুঁজে পেলেন না।
আঠারো শতকের শুরু দিকের কথা। ইউরোপে তখন ডাইনি সন্দেহে নারীদের পুড়িয়ে মারা নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু তারপরেও বাভারিয়া'র এক অখ্যাত গ্রামে ভয়ঙ্কর ও ব্যাখ্যার অতীত কিছু ঘটনা ঘটেছিলো। ওই ঘটনাগুলোর সাথে সোমলতার কি কোন সম্পর্ক আছে? কালো ছায়াটা আসলে কিসের, যা গ্রাস করে নিয়ে একটা মানুষকে একদম মুছে ফেলছে সময়ের পাতা থেকে? এবার অদ্ভুত এক রহস্যের মুখোমুখি হলেন সাইকোলজিস্ট আহমেদ করিম, যা হয়তো টলিয়ে দেবে তাঁর লালন করা দীর্ঘদিনের বিশ্বাসের জগতটাকেই।
পাঠ প্রতিক্রিয়াঃ সুলেখক শরীফুল হাসানের আহমেদ করিম সিরিজের নতুন কাহিনি 'উধাও'। এর আগে আমি সিরিজের মাত্র একটা বই পড়েছি। সেটা ছিলো সিরিজের দ্বিতীয় বই 'কিংকর্তব্যবিমূঢ়'। বইঘর অ্যাপে 'উধাও' প্রকাশ হওয়ার পরপরই পড়ার ইচ্ছা ছিলো। ইচ্ছাটা পূর্ণ করলাম।
'উধাও'-কে আসলে আহমেদ করিম সিরিজের বড় গল্প বলা যায়। এখানে এমন এক রহস্যের মুখোমুখি করা হয়েছে আহমেদ করিমকে, যা শেষমেষ রয়ে গেছে অমীমাংসিত। কিন্তু অমীমাংসিত থেকে গেলেও আমার কাছে মনে হয়েছে শেষটা এভাবেই হওয়া উচিৎ ছিলো। একটা পর্যায়ে গিয়ে আমি নিজেও আহমেদ করিমের অস্তিত্ব টিকে থাকার ব্যাপারে কিছুটা ভয় পেয়ে গেছিলাম। কালো একটা ছায়া, যা আপনাকে গ্রাস করে নিয়ে আপনার সমস্ত সত্ত্বাকে মুছে ফেলছে - ভাবতেই কেমন অদ্ভুত লাগে না? আমারও লেগেছিলো।
শরীফুল হাসান তাঁর 'উধাও'-এ মধ্যযুগে ডাইনি সন্দেহে ইউরোপের অনেক নারীকে পুড়িয়ে মারার ব্যাপারে কিছুটা আলোচনা করেছেন। এই ব্যাপারটা নিয়ে আরো বিস্তারিত পড়াশোনা করবো বলে ঠিক করেছি। স্পৃহাটা জাগিয়ে দেয়ার জন্য তাঁকে ধন্যবাদ। এই বইয়ে তিনি আরো একটা কেস সম্পর্কে আলোচনা করেছেন, যেখানে অক্সফোর্ডের দুইজন প্রাক্তন শিক্ষক কোন এক রহস্যের মুখোমুখি হয়ে নিজেদেরকে লুকিয়ে ফেলেছিলেন লোকচক্ষুর সম্পূর্ণ আড়ালে। এই ব্যাপারটাও আমার কাছে ইন্টারেস্টিং লেগেছে। বরাবরের মতোই তাঁর গল্প বলার ধরণ চমৎকার ছিলো। আর এই কারণেই বোধহয় 'উধাও' কখন শেষ হয়ে গেছে, টেরই পাইনি। ছোটখাটো দুই-একটা টাইপিং মিসটেক চোখে পড়েছে, স্বাভাবিক।
বইঘর অ্যাপ কর্তৃপক্ষের প্রতি আমার দুটো সাজেশন। এক, বইয়ের পৃষ্ঠাসংখ্যার ব্যাপারটা উল্লেখ থাকা উচিৎ। আর দুই, প্রচ্ছদশিল্পীর নাম উল্লেখ থাকা উচিৎ। অ্যাট লিস্ট আমার কাছে এমনটাই মনে হয়েছে, এই দুটো বিষয় উল্লেখ থাকলে ভালো হয়। এমনিতে অ্যাপ এক্সপেরিয়েন্স আগের চেয়ে বেটার ছিলো।
চাইলে পড়ে ফেলতে পারেন 'উধাও'। আশা করি, ভালো লাগবে।
আহমেদ করিম ফিরে এসেছেন। সাথে নিয়ে এসেছে ঘোর রহস্য। যে রহস্যের ছায়া পড়েছে চারিপাশে। এই ছায়াতে হারিয়ে যাচ্ছে অনেক কিছু।
° কাহিনি সংক্ষেপ:
সোমলতা সিনহা! ভালো ছাত্রী হিসেবে বেশ নামডাক। মেডিক্যালে ভর্তি হওয়ার জন্য মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করছে। পড়াশোনার চাপেই হোক বা অন্য কারণে, অদ্ভুত কিছু দেখছে মেয়েটা। চারিপাশে ছায়া ঘুরে বেড়াচ্ছে। গ্রাস করে নিয়েছে তার বাবা, মা ও ভাইকে। সোমলতার ধারণা, পরিবারের কেউ আর তার আপনজন নেই। সবাই বদলে গিয়েছে। অন্য মানুষের পরিণত হয়েছে।
মেয়ের এমন অবস্থা মেনে নিতে না পেরে আহমেদ করিমের দ্বারস্থ হলেন বাবা অলোকবাবু। সোহেলকে সাথে নিয়ে সাহায্য করতে ছুটলেন আহমেদ করিম। কিন্তু কিছু একটা ঠিক নেই। আহমেদ করিম জড়িয়ে গিয়েছেন গভীর রহস্য। এ রহস্যের জাল ছড়িয়ে আছে শত বছর আগের এক কেস স্টাডির সাথে। আহমেদ করিম পারবে এর রহস্য ভেদ করতে? না-কি বাকিদের মতো তারও একই পরিণতি হবে?
° পাঠ প্রতিক্রিয়া :
আহমেদ করিম আমার অন্যতম প্রিয় সিরিজ। সিরিজের প্রথম ছোটো গল্প বেশ উপভোগ করেছি। এর আগের উপন্যাস "প্রতিচ্ছায়ারা জেগে থাকে" বেশ হতাশ করেছিল। সেখানে ইবুক প্ল্যাটফর্ম "বইঘর"-এ প্রকাশিত "উধাও" ছোটো গল্পটি বেশ ভালো লেগেছে। একটি ছোটো গল্প যেমন হয়, "উধাও" তেমনই। এর বেশি প্রত্যাশা করলে হতাশ হতে হবে।
"উধাও" গল্পে আহমেদ করিমকে বেশ অধুনিক হিসেবে দেখানো হয়েছে। ফ্রিজ আছে, ওভেন ব্যবহার করেন, নতুন স্মার্টফোন কিনেছেন। আবার ভিজিটিং কার্ড ব্যবহার করছেন; যেখানে নাম, নম্বরের সাথে ইমেইল অ্যাড্রেস ছিল! যুগের সাথে তাল মিলিয়ে সেকেলে আহমেদ করিমের আধুনিকায়নের জন্য লেখক একটি ধন্যবাদ পেতেই পারেন। তবে এখনো পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেওয়া ঠিক মনঃপুত হচ্ছে না। বর্তমান যুগে ফেসবুকের মাধ্যমে নিজের বিজ্ঞাপন দিয়ে আহমেদ করিমকে লেখক আরেক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবেন বলে আমার বিশ্বাস।
"উধাও" গল্পে বেশ কিছু প্রচলিত বানানে ভুল লক্ষ্য করেছি। যদিও অতিমাত্রায় নয়। এছাড়া দুয়েক জায়গায় মুদ্রণ প্রমাদ ছিল। একইভাবে গল্পের এক দুই অংশে প্রশ্ন ও উত্তরের মাঝে অসঙ্গতি লক্ষ্য করেছি। সেগুলো আমলে না নিলে খুব অল্প সময়ে শেষ করে উপভোগ করার মতো গল্পটি।
° পরিশেষে, "উধাও" গল্পের শেষটা নিয়ে অনেক মতপার্থক্য দেখা যাচ্ছে। তবে আমার কাছে মনে হয়েছে, এর চেয়ে ভালোভাবে শেষ করা সম্ভব ছিল না। কিছু কথা আছে, যা কারো জানার প্রয়োজন নেই। প্রকৃতি তার রহস্য গোপন রাখতে পছন্দ করে। সবকিছু উন্মোচন হলে তো সে রহস্য থাকল না। কিছু রহস্য গোপন-ই থাক! সব জানলে তো.....
বই : উধাও লেখক : শরীফুল হাসান ইবুক প্রকাশক : বইঘর অধ্যায় : ৫ মুদ্রিত মূল্য: ৫০৳ ব্যক্তিগত রেটিং :৪/৫
"আহমেদ করিম" সিরিজ আমার কাছে ভালোই ল��গে। প্রথম বই 'রুপকুমারী ও স্বপ্নকুহক' এবং বইমেলা'২১-এ এলো 'কিংকর্তব্যবিমূঢ়'। তারপর বইমেলা'২২-এ এসেছে সিরিজের তৃতীয় বই 'প্রতিচ্ছায়ারা জেগে থাকে' (পড়া হয় নাই)
ঈদ কার্নিভ্যাল #বইঘর এক্সক্লুসিভ কনটেন্ট হিসাবে এলো আহমেদ করিম ৩.৫ 'উধাও'। এটি মূলত একটি গল্প। আগের উপন্যাসগুলোর সাথে সংযুক্ত না, শুধু মূল চরিত্র আহমেদ করিমকে নিয়ে আসা হয়েছে। তাই আগের বইগুলো পড়া না থাকলেও কোনো সমস্যা হবে না।
বরাবরের মতো এবারও আহমেদ করিম এসেছেন রহস্য সমাধান করতে। এবারের রহস্যের সমাধান অমীমাংসিত ছিল। যদিও গল্পটি পড়লে বুঝতে পারবেন যে এটাই গল্পের নামকরণের সার্থকতা।
গল্পের শেষটা সুন্দর। ছোটো গল্প পড়ার অভ্যাস আমার আছে। তাই আমি জানি ছোটো গল্পগুলো অনেক সময় খুব দ্রুত এবং হুটহাট করেই শেষ হয়ে যায়। অন্য পাঠকদের মতো আমারও মনে হয়েছিল কিছু বাদ দিলাম না তো?
প্রচ্ছদটা সুন্দর হয়েছে। ছোটোখাটো কিছু টাইপিং মিসটেক চোখে পড়েছে। বইঘর অ্যাপ কর্তৃপক্ষের উচিত ছিল ভালো করে প্রুফরিডিং করা। আর ফন্ট সাইজ ফিক্সড করে দেয়ার পরেও এক পেজে দুই সাইজের ফন্ট পেয়েছি।
শরীফুল হাসানের লেখা আহমেদ করিম সিরিজের ইবুক "উধাও" নিয়ে আজকে ভাবলাম নিজের মতামতগুলোই লিখবো গুছিয়ে। সচরাচর যেভাবে রিভিউ দেই আজকে ভাবলাম থাক ওরকম। কারণ এই ছোট্ট ইবুকটায় আমি খুব বেশি কাহিনী নিয়ে আলোচনা করলে হয়তোবা পড়ার আগ্ৰহ চলে যেতে পারে বাকিদের। আমি শুধু রহস্যময় করেই রাখবো বইটা। যাতে আমার সাথে মিলিয়ে দেখতে পারি বাকিদের পাঠ প্রতিক্রিয়া। "উধাও" এই বইটির নাম শুনলেই মনে হচ্ছে উধাও হয়ে গেছে বা যাবে কিছু।
আমি যখন বইটা শুরু করলাম আমার কাছে ভালো লাগলো শুরু থেকেই। সোমলতা নামের মেয়েটি বারান্দায় দাঁড়িয়ে বাবার আসার অপেক্ষায় থাকে রোজ সন্ধ্যায়। বাবা এলে পড়তে বসে যায় দৌড়ে। আর বাবাও মেয়েকে পড়তে বসতে দেখে বেশ খুশি হন। সোমলতা মেয়েটা পড়াশোনায় খুব ভালো। নিজের কাছে নিজের প্রতিজ্ঞা সে ডাক্তার হবে। তাই খুব মনোযোগ দিয়ে ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছে সে।
গল্পটায় রহস্য শুরু হয় যখন রোজকার মতন সোমলতা বারান্দায় দাঁড়িয়ে রাস্তার দিকে তাকিয়ে ছিল বাবার অপেক্ষায়। তখন সে দেখতে পেল তার বাবা হেঁটে আসছেন ব্যাগ হাতে কিন্তু তার পেছনে কেউ একজন আছে। এবং আস্তে আস্তে ছায়ার মতো সেই পেছনের আগন্তুক যেন সোমলতার বাবাকে জড়িয়ে নিচ্ছে। আস্তে আস্তে রাস্তা থেকে মুছে যাচ্ছে ওর বাবা। শুধু কালো নিকষ অন্ধকার চারিদিকে।
অবাক হবার পালা ছিল আমার জন্য আরো যখন এরপর সোমলতার বাবা হাজির হন আহমেদ করিমের বাসায় সোমলতার সমস্যা নিয়ে। সোমলতা নাকি দিন দিন খুব ভয়ে ভীত হয়ে উঠেছে। তার সবসময় মনে হয় ওর বাবা মা ভাই এরা বদলে গেছে। এদের শরীরে অন্য কোনো সত্ত্বা। এদের ছায়ায় অন্য কারো অবয়ব। অথচ বাস্তবে কিন্তু তা নয়। মেয়েটা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত কী না পড়তে পড়তে আহমেদ করিমের মাথায় তখন সবার আগে এই চিন্তা আসে।
আহমেদ করিম কেসটা নেন এবং বিভিন্ন বইপত্র ঘেঁটে একটা বইয়ে বিদেশে এক জায়গায় ঠিক এমনই এক ঘটনার সন্ধান পান। যেখানে এক গ্ৰামের লোকজন সবাই দাবী করে তারা ছায়ার মতো কিছু দেখছে। আস্তে আস্তে এরা সবাই বদলে যেতে থাকে যেন। এদের চালচলন বেশভুষায় পরিবর্তন আসে। আর সবচেয়ে আশ্চর্যজনক ঘটনা একদিন এই গ্ৰামবাসীরা নিখোঁজ হয়ে যায় রাতারাতি। পুরো গ্ৰাম এখন ঘন জঙ্গলে ঢাকা। যেন সেখানে যুগ যুগ ধরে কেউ থাকে না। সোমলতার ঘটনায়ও ছায়ার মতো কিছু জড়িত।
আহমেদ করিম পরেরদিন সোমলতার বাসায় যান। ঠিকানা সোমলতার বাবা দিয়ে এসেছিলেন। আহমেদ করিম ও সহকারী সোহেল যখন ঠিকানা খুঁজে সেই বাসায় গিয়ে উপস্থিত। তখন তাদের জন্য অপেক্ষা করছিল আরেক বিষ্ময়কর কিছু। সোমলতার বাবা আহমেদ করিমকে চিনতে পারছেন না! তিনি যে আহমেদ করিমের চেম্বারে গিয়েছিলেন সেটাও বেমালুম অস্বীকার করছেন। আমার কাছে ঘটনা আরো রোমাঞ্চকর লাগতে শুরু করলো। যেন এগিয়ে যাচ্ছিলাম একটা কৌতুহল নিয়ে।
সবকিছু ভালোভাবে এগিয়ে চলছিল কিন্তু শেষটা বেশ হতাশ করলো। ঠিক যেন জমলো না। গল্পের শুরু থেকেই এত দূর্দান্ত টুইস্ট যে শেষের সমাপ্তি আরো ইন্টারেস্টিং কিছু আশা করেছিলাম। তবুও আর কী ভালো লেগেছে বইটি। শরীফুল হাসানের লেখার ধরন আমার ভালো লাগে। সামাজিক জনরায় যেমন সাবলীল তিনি। রহস্যময় থ্রিলারেও বেশ ভালো লাগলো ওনার আহমেদ করিম সিরিজের এরকম ছোট ছোট বইগুলো।
আহমেদ করিমের বইগুলো পড়তে পড়তে মনে হচ্ছে নাহ ইনিও রহস্য সমাধানে কম যান না। পারিপার্শ্বিক পরিবেশের বর্ণনায় হোক কিংবা অন্যান্য দিক লেখকের বর্ণনা বেশ মনে ধরেছে। প্লটটা বেশ ভালো। আহমেদ করিম সিরিজের বাকি বইগুলো পড়ার ইচ্ছা বেড়ে গেল আরো। সবমিলিয়ে শীতের সন্ধ্যায় এরকম রহস্যময় বইয়ের সাথে আসলে ভালোই জমে যায়।
পৃথিবীতে কতকিছুই তো ঘটে... ঘটনাগুলোর ঘটার পিছের কারণ কি সবসময় জানা সম্ভব হয়? কিছু এমন ঘটনাও তো ঘটে যার যৌক্তিক ব্যাখ্যা খুঁজে পাওয়া যায় না...
আজও প্রতিদিনকার মতো বাবার জন্য বারান্দায় অপেক্ষা করে সোমলতা। বাবাকে দুর থেকে আসতে দেখে রুমে চলে যায়। কিন্তু খটকা লাগে কিছু একটা অসংগতি আছে! ফিরে যেয়ে দেখে লম্বা মতো কালো ছায়া আলোকবাবুকে ধীরে ধীরে গ্রাস করে ফেলছে... আহমেদ করিমের কাছে এসেছে আলোকবাবু, সোমলতার সমস্যা নিয়ে। সোমলতার মতে তার পরিবারের কেউ আর আগের মতো নেই, উধাও হয়ে গেছে তার প্রিয়জনেরা! রহস্যের সমাধান করবেন আহমেদ করিম কথা দেন। কিন্তু উধাও রহস্যের সমাধান তো এতোও সোজা নয়...
আহমেদ করিম সিরিজের আগের বইগুলো পড়া না থাকার কারণে ভেবেছিলাম পড়তে অসুবিধা হবে। কিন্তু না আগের বইগুলোর সাথে রিলেটেড না, জাস্ট মেইন ক্যারেক্টারগুলো আছে এতটুকুই। প্রথমে মনে হচ্ছিল সোমলতার মানসিক কোনো সমস্যা কিন্তু ভুল ভাঙতে সময় লাগে না। তবে শেষ পর্যন্ত একটা সমাধান থাকবে ভেবেছিলাম । উধাও কারা হচ্ছে আর কেন হচ্ছে- এর থিওরি লাস্টে যেয়ে বুঝেছি। কিন্তু উধাও হচ্ছে কিভাবে আর কোথায়- এর জবাব তো উধাও। শেষ করার পর মনে হচ্ছিল কিছু পেজ বাদ দেইনি তো। কয়েকবার চেক করলাম। কিন্তু না উধাও রহস্য আসলেই উধাও।
এই ধরণের গল্প পড়ে অভ্যস্ত না আমি। আমি মোটামুটি হতাশ। হয়তো কোনোদিন মর্যাদা বুঝবো। আহমেদ সাহেব কিছুটা আমাদের মিসির আলি সাহেবের মতোন।মিলটা খুবই ক্ষীণ।তবে মিসির আলি যেভাবে হৃদয় মনে বিরাজ করে আছেন, তাতে করে অল্পতেই মনে ভেসে উঠে তার ছবি। মিসির আলি সাহেব রহস্যের ব্যাখ্যা দেন, না পারলেও সম্ভাব্য লজিক দাঁড় করান। কিন্তু এখানে রহস্য রহস্যই থেকে গেছে। সমাধানের আশায় থেকে পড়ায় হতাশ। অন্ধকার থেকে আলোয় এসে অভ্যস্ত। কিন্তু যে তিমির সে তিমিরেই রয়ে গিয়ে, আসকে আমা�� মন ভালো নেই।
সব গল্পের কি শেষ থাকে? হয়তো থাকে; আবার হয়তো থাকে না! তবে আমার মতে কিছু গল্পের শেষ না থাকাই ভালো। তেমনি কিছু রহস্যের সমাধানও বোধ হয় না হওয়াটাই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যের...
আহমেদ করিম সিরিজের প্রথম ছোট গল্প উধাও। ছোট গল্প? না-কি বড় গল্প? এই বিষয়ে সিদ্ধান্তহীনতায় আছি। ছোট গল্পই। আবার বড় গল্প বললেও ভুল হবে বলে মনে হয় না। যাইহোক, মূল আলোচনায় আসি... আহমেদ করিম সিরিজটি আমার বিশেষ পছন্দের একটি সিরিজ। এই সিরিজের বইয়ের জন্য মুখিয়ে থাকি সবসময়। তাই বইঘরে ই-বুক প্রকাশ হওয়ার সাথে সাথেই কিনে পড়ে ফেলি। এক কথায় বললে, খুবই ভালো লেগেছে। আগাগোড়া রহস্যে মোড়া গল্পটি। গল্পে বিদেশী দুটি সাইকোলজিক্যাল কেইস স্টাডি দেখানো হয়েছে এবং এগুলোর সমন্বয়েই তৈরি হয়েছে রহস্য। আবার এই কেইস স্টাডিগুলো নিয়েও রহস্য রয়ে গেছে। অর্থাৎ রহস্যের মধ্যেও রহস্য।
গল্পের শুরুতেই দেখা যায়, সোমলতা সিনহা নামক সদ্য এইচএসসি পাশ করা তরুণী অদ্ভুত একধরনের ছায়া দেখতে পায় তার পরিবারের সদস্যদের আশেপাশে। তার মনে হতে থাকে তার বাবা, মা, ভাই কেমন যেন অচেনা হয়ে যাচ্ছে। তারা বুঝি অন্য কেউ। শুধু মনে হয় সেই ছায়া তাদেরকে আস্তে আস্তে গ্রাস করে নিচ্ছে। মেয়ের এই সমস্যার সমাধান চাইতে বাবা অলোকনাথ সিনহা হাজির হন আহমেদ করিমের কাছে। কিন্তু চাইলেই কি আহমেদ করিম সব সমস্যার সমাধান দিতে পারেন! নাকি ছায়া রহস্যের সমাধান দিতে গিয়ে আহমেদ করিম নিজেই উধাও হয়ে যাবেন?!
এবারের গল্পে আহমেদ করিমকে আগের থেকে অনেকটা আধুনিক দেখানো হয়েছে। তার ঘরে ফ্রিজ, ওভেনসহ আরো বেশ কিছু ইলেকট্রনিক সামগ্রী রয়েছে। ভদ্রলোক এখন আবার ইমেইলও ব্যবহার করেন 🤓 গল্পে কিছু জায়গায় অসংলগ্ন কথাবার্তা চোখে পড়েছে। যেমন এক জায়গায় আহমেদ করিম অলোকনাথবাবুকে তার মেয়ে কী দেখে ভয় পায় জিজ্ঞেস করায় ভদ্রলোক উত্তর দিলেন, "আমার বাসায় চারজন মানুষ, আমি, আমার স্ত্রী মাধবীলতা, বড়ছেলে সুমন্ত আর মেয়ে সোমলতা।" এটা কোনোভাবেই ওই প্রশ্নের উত্তর নয়। আরেক জায়গায় অলোকনাথবাবু আহমেদ করিমকে বললেন তার মেয়ে এরকমটা দেখে যে, তাদের আশেপাশের ছায়াগুলো তাদের নেই করে ফেলে। আহমেদ করিম অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করেন, "নেই করে ফেলে মানে?" মানে তিনি জানতে চান নেই করে ফেলে কিভাবে বা পুরো ঘটনাটা। কিন্তু এখানে অলোকবাবু উত্তর দেন, "হ্যাঁ।" এছাড়া টুকটাক বানান ভুল ছাড়া তেমন কোনো ত্রুটি চোখে পড়েনি। গল্পের শেষটা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়ে গেছে। সেইসাথে পাঠকদের আলোচনা-সমালোচনাও। কিন্তু আমার কাছে এই গল্পের পারফেক্ট এন্ডিং এটাই মনে হয়েছে। সব রহস্যের জট খোলার দরকারটা কী? আহমেদ করিমের খাতায়ও থাকুক না কিছু অমীমাংসিত রহস্য...
❝তোমায় আমি চিনি না, আবার বোধ হয় চিনি।❞ একদিন আগেই আহমেদ করিমের সাথে দেখা হলো আলোকনাথ বাবুর। তার সদ্য এইচএসসি পাশ করা কন্যার সমস্যা নিয়ে কথা বলতে এসেছিলেন। সোমলতা ভুগছে অদ্ভুত সমস্যায়। বাবা, মা, ভাইকে তার আপন লাগছে না। মনে হচ্ছে তারা অন্য কেউ। এক বিশাল ছায়া গ্রাস করে নিয়েছে তাদের। মেয়ের এই সমস্যা সমাধান খুঁজতেই আহমেদ করিমের শরণাপন্ন হয়েছিলেন আর বাড়ির ঠিকানা দিয়ে গেছিলেন। কিন্তু তাজ্জব ব্যাপার পরদিনই কি না চিনতে পারছেন না তিনি আহমেদ করিমকে! সোমলতা থেকে তো দেখি সমস্যা বেশি আলোকবাবুরই। আলোকবাবুকে নিয়ে ভাবতে ভাবতে আহমেদ করিম খুলে বসলেন অতীতের দুইটি কেস যার সাথে সাদৃশ্য আছে বর্তমানের এই ঘটনার। সহযোগী সোহেলকে নিয়ে করতে পারবেন কি এই সমস্যার সমাধান? না-কি ছায়া সমস্যার সাথে নিজেই উধাও হয়ে যাবেন আমাদের করিম সাহেব? রহস্য উদঘাটন হবে কি? পাঠ প্রতিক্রিয়া: ❝আহমেদ করিম❞ সিরিজ আমার খুব পছন্দের। মেলায় আসা সিরিজের তৃতীয় বই ❝প্রতিচ্ছায়ারা জেগে থাকে❞ এখন পর্যন্ত পড়তে না পারলেও সম্প্রতি বইঘর অ্যাপে আসা আহমেদ করিম ৩.৫ ❝উধাও❞ পড়ে ফেললাম। আগের ঘটনার সাথে সংযোগ না থাকায় তৃতীয় বই না পড়াতেও সমস্যা হয়নি। ❝উধাও❞ কে ছোটো গল্পই বলা যায়। গল্প শুরু হয় সাধারণভাবেই। সোমলতার দেখা বিশালগ্রাসী ছায়া, আলোকবাবু সাহায্য চাইতে আহমেদ করিমের কাছে যাওয়া এবং পরবর্তীতে এই ঘটনা একেবারেই ভুলে যাওয়া সবকিছুই ঘটেছে সমান তালে। ঘটনা সামনে এগোতে থাকে আর বাড়তে থাকে টুইস্ট। এক কেসের ভেতরেই আরেক কেস চলতে থাকে আর শেষপর্যন্ত......? আহমেদ করিম এবার ফিরে এসেছেন আগের থেকে আপডেট হয়ে। বাসায় ফ্রিজ, ওভেন আছে। সাথে আবার আছে স্মার্ট ফোন। আপডেটেড করিম সাহেবকে বেশ ভালো লেগেছে এবার। গল্পের ফ্লো ছিল দারুণ। শুরু হয়ে শেষে এসে এমন একটা রোলার কোস্টার টুইস্ট আসলেই অসাধারণ লেগেছে। শেষটা নিয়ে মোটামুটি সমালোচনা চোখে পড়েছে, তবে আমার কাছে দারুণ লেগেছে। শেষে এসে মোবাইলে স্লাইড করছিলাম কিরে পরের পেইজ কই! পেইজ মিসিং না-কি! ছোটো গল্পের সমাপ্তি আসলে এভাবেই দারুণ লাগে। ❝উধাও❞ নামটা একেবারে যথার্থ সার্থকতা পেয়েছে। প্রচ্ছদটাও একদম খাপে খাপ। কিছু সংলাপের অসামঞ্জস্যতা ছাড়া আর নেগেটিভ কিছু চোখে পড়েনি। খুব দ্রুতই পড়ে ফেলা যায় ছোট্ট এই ই-বুকটি। ই-বুক ভার্সন হিসেবে আমি আশা করেছিলাম বানান ভুল বা মুদ্রণ প্রমাদ থাকবে শূন্যের কোঠায়। কিন্তু আশাহত হয়েছি। আচ্ছা! আমি তো পড়ছিলাম সিগমা ফোর্স সিরিজের দ্বিতীয় বই "ম্যাপ অফ বোনস"। তাহলে এটা কি লিখলাম? কীসের রিভিউ? মনে করতে পারছি না কেন?!!
বইঘর অ্যাপ-এ বইটি আছে। যারা ছোট আকারের কিন্তু সাসপেন্স-ভরা গল্প পছন্দ করেন, তাদের জন্য এটি চমৎকার একটি পাঠ অভিজ্ঞতা হবে। ডাউনলোড লিঙ্ক : https://boighor.com/book/90a17f6b