Ranajit Guha was a historian of South Asia who was greatly influential in the Subaltern Studies group, and was the editor of several of the group's early anthologies. He migrated from India to the UK in 1959, and currently lives in Vienna, Austria. His Elementary Aspects of Peasant Insurgency in Colonial India is widely considered to be a classic. Aside from this, his founding statement in the first volume of Subaltern Studies set the agenda for the Subaltern Studies group, defining the "subaltern" as "the demographic difference between the total Indian population and all those whom we have described as the ‘elite’."
"একমাত্র তুমি জান এ ভবসংসারে যে আদি গোপন তত্ত্ব, আমি কবি তারে চিরকাল সবিনয়ে স্বীকার করিয়া অপার বিস্ময়ে চিত্ত রাখিব ভরিয়া।" কী সেই তত্ত্ব? সে এক সত্য— যেখানে বিন্দুবৎ অস্তিত্ব নিয়েও কবি বিরাজ করেন বিশ্বকেন্দ্রস্থলে। তাঁর 'আছি আর আছে' দিয়ে সংজ্ঞায়িত হয় জীবন। 'আমি আর তুমি'-র সরল উপস্থিতি আদতে বুঝিয়ে দেয় ব্যক্তিসত্তার ঊর্ধ্বে বহু ভূমিকা, দৃষ্টিভঙ্গি আর পরিণতিকে। অতি প্রাচীন সাহিত্য থেকে একান্তভাবে সমকালীন নানা অভিব্যক্তির মধ্যে, স্রেফ নাম ও সর্বনামের ছদ্মবেশে বিরাজ করে এই দুই ভুবন— যাদের আমরা কর্তা ও কর্ম, সক্রিয় ও নিষ্ক্রিয়, এমনকি সগুণ ও নির্গুণ রূপেও দেখতে পারি। তারই এক খণ্ডচিত্র তুলে ধরতে চেয়েছে এই বইটি। ভর্তৃহরি'র 'বাক্যপদীয়' অনেকেই পড়েছেন। তাঁরা জানবেন, ওই রচনা নৈর্ব্যক্তিক বেদের বক্তব্যকে কালাতীত বলে স্বীকৃতি দিয়েও শব্দব্রহ্ম-বাদীদের একটি বক্তব্যকে মেনে নিয়েছে। সেই বক্তব্য অনুযায়ী বাক্য বা শব্দের বিভাজন ঘটে শুধুমাত্র ব্যাকরণ ও সুবিধার খাতিরে; অর্থ থেকে যায় একান্ত অবিভাজ্য হয়েই। সেই অর্থ মানুষকে তার ইতিকর্তব্য সম্বন্ধে সচেতন করে। সেই অর্থের নাগাল পেতে প্রয়োজন হয় প্রতিভা— যা আসে প্রকৃতি, ক্রিয়া, অভ্যাস, ধ্যান, অদৃশ্য কারণ, সর্বোপরি প্রাজ্ঞের দিশানির্দেশ থেকে। ঠিক এই জায়গাতেই এক নিজস্ব ব্যাখ্যা নিয়ে এসেছে এই বই। 'সাব-অলটার্ন স্টাডিজ'-এর পুরোধা রণজিৎ গুহ চমস্কি'র ভাষাতত্ত্বের ভাবনা এবং ভারতীয় সাহিত্যের ঐতিহ্যকে প্রয়োগ করে পরিবেশন করেছেন নাম ও সর্বনামের আপাত-তুচ্ছ অস্তিত্বের মধ্যে নিহিত দর্শনকে। আলোচনা বিন্যস্ত হয়েছে নিম্নলিখিত ক'টি পরিচ্ছেদে~ প্রথম পরিচ্ছেদ: উপচারের ছলাকলা; দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: মায়ামৃগ; তৃতীয় পরিচ্ছেদ: দ্বিতীয় স্তর; চতুর্থ পরিচ্ছেদ: নিষ্ক্রান্তি— প্রতিশ্রুতি ও পথ; পঞ্চম পরিচ্ছেদ: আমি আর বিশেষ; ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: উৎক্রান্তির দিগন্ত; সপ্তম পরিচ্ছেদ: উৎক্রান্তির দেশকাল। সাহিত্যের এক সুবিশাল ভাণ্ডার বিশ্লেষণ করে লেখক দেখিয়েছেন, কীভাবে সময়ের সঙ্গে ভাব ও ভাবুক, এমনকি প্রতীক ও তার অর্থ জায়গা-বদল করেছে। বইটি পড়তে গিয়ে বারবার মনে হয়েছে, "হে ভূবন আমি যতক্ষণ তোমারে না বেসেছিনু ভালো ততক্ষণ তব আলো খুঁজে খুঁজে পায় নাই তার সব ধন।" শেষ বিচারে সব শব্দ, বাক্য, মহাকাব্য তখনই অর্থবহ হয়ে ওঠে, যখন তারা আমাদের জীবনের কথা বলে। উদ্ধৃতি, উপমা এবং দর্শনের সাহায্যে এই বিষয়টিকে স্পষ্ট করে তুলতে পেরেই বইটির সার্থক হয়েছে। ২০০৯-এর আনন্দ পুরস্কার-এ সম্মানিত এই বইটি দীর্ঘদিন ধরে পাঠকের নাগালের বাইরে ছিল। অবশেষে ধানসিড়ি প্রকাশন সেটিকে সযত্নে প্রকাশ করে আমাদের ধন্যবাদার্হ হলেন। কবিতা ও ভাষাতত্ত্বের দর্শন নিয়ে আগ্রহী হলে বইটি অবশ্যই পড়তে অনুরোধ করব।