রাফাত সাহেব ছোটবেলা থেকেই খুব বই পড়তে পছন্দ করতেন। অবশ্য উনি একনিষ্ঠ পাঠক ছিলেন, লেখালেখির ব্যাপারটা মাথায় ছিল না। বন্ধু আদিল হাসানই লেখালেখির ব্যাপারটা ওনার মাথায় ঢুকিয়েছেন। বন্ধুবর বলেছিলেন, “দোস্ত তুই এত পড়িস। লিখলেই পারিস। প্রকাশের দায়িত্ব আমার।” কথাটি হয়তো উনি নিছকই কথার ছলেই বলেছিলেন কিন্তু রাফাত সাহেবের মাথায় ব্যাপারটি ঢুকে গেল। শুধু যে ঢুকলো তা না বরং রক্তচোষা জোঁকের মতো ঢুকে গেল। রক্তচোষা না বলে বলা ভালো মগজচোষা জোঁক। মাথার মধ্যে মগজচোষা জোঁকটি প্রতি মিনিটে মিনিটে টোকা দিতে লাগলো। মিহি স্বরে বলতো যেন, ‘লিখতে হবে, লিখতে হবে। লিখতেই হবে। কী ব্যাপার এখনও লেখা শুরু করছেন না কেন?’ কিন্তু বিচিত্র কোনো কারণে রাফাত সাহেব লিখতে পারেন না। তার সৃষ্ট চরিত্রগুলো ওনার নিয়ন্ত্রণে থাকে না। ওরা হয়ে যায় স্বাধীন সত্ত্বা। অবশেষে কী তিনি লিখতে পারবেন? কী ছিল সেই লেখা!
ছোটগল্প বা উপন্যাসিকা। কাহিনি ইউনিক কিছু না। তবে এক্সিকিউশন ভালো লেগেছে। বারবার 'তো যা বলছিলাম' বাক্যাংশ ব্যবহার করাটা বেশ কটূ লাগছিল। এন্ডিংটা দারুণ ছিল। আমার ঈদে একটুখানি রঙ চড়িয়েছে গল্পটা।
আমরা ছোট ছোট অনেক গল্প পড়ে থাকি, তার মধ্যে কিছু গল্প থাকে যেগুলো একেবারেই ব্যতিক্রমী। পড়ার পরে মনে হয় অনেকদিন পরে ভিন্নধারার কিছু খুঁজে পেলাম।
এই বইটা পড়ে আমার কাছে এমনই মনে হয়েছে। এমন কিছু অদ্ভুত গল্প থাকে, যেগুলো মনে থেকে যায় সবমসময়। দেখা যাক, এটাও সেগুলোর মধ্যে জায়গা করে নিতে পারে কিনা!