আপনাকে বলছি। না শুধু আপনাকে নয়, নিজেকেও বলছি। পরিষ্কার স্বচ্ছ এক আরশির সামনে দাঁড়ান। তার আগে নিজেকে একটু গুছিয়ে নিন। কী দেখতে পাচ্ছেন? নিজের প্রতিবিম্ব। একজন নিখুঁত মানুষের প্রতিবিম্ব। নিখুঁত! যদি সৃষ্টিকর্তা আপনাকে শারীরিক বা মানিসিক দিক দিয়ে ত্রুটিহীন করে তৈরি করে থাকেন তাহলে অবশ্যই আপনি নিখুঁত। এই জন্য কিন্তু আপনার সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা উচিৎ।
খুব ভালো করে নিজেকে দেখুন। কোনো অসঙ্গতি কি চোখে পড়ছে? পড়ছে না? কী ভাবছেন? আরশি তো আপনার বাহ্যিক রূপটিই দেখাবে। আপনার ভেতরের রূপটি কি ধরা পড়বে? না, পড়বে না। অন্তরের আপনাকে শুধুই আপনি চিনেন। নাকি চিনেন না? নিরালাতে যেয়ে দুইটি মিনিট বসে ভাবুন তো। আসলে আপনি কেমন? আপনার অস্তিত্বের সংজ্ঞাই বা কী?
গল্পটি তিনজন তরুণ-তরুণী এবং এক বৃদ্ধের। শেষ পর্যন্ত তারা কি উপলব্ধি করতে পারে নিজের অস্তিত্বকে? হয়তো পারে অথবা পারে না... জীবনটা যে এক টুকরো কাঁচের ঘর।
ভালো বই তবে কিছু জিনিস ঠিক থাকলে আরো ভালো লাগতো। যেমন,
* বইয়ের পরিসরটা আরো বাড়ালে। মানে এত অল্প সময়ে সবার আত্মচরিত পড়তে পড়তে কিছুটা দমবন্ধ লাগে। একটু গ্যাপ দিয়ে দিয়ে কাহিনীগুলো দিলে হয়তো এমনটা লাগতো না।
** জোকারে যেটা চোখে লাগেনি সেটা এই বইয়ে চোখে লেগেছে তা হলো হুমায়ূন আহমেদের লেখনীর কিঞ্চিত প্রভাব। এমনকি চরিত্রগুলোও উনার উপন্যাসের মতো। আদৃতা টিপিক্যাল রূপবতী/ মায়াবতী, কংকনা বা কাকলী সত্যবাদী, হয়তো হুমায়ূন আহমেদের উপন্যাস হলে তার নাম হতো 'মীরা' বা মৃন্ময়ী টাইপ কিছু, জজ সাহেব তিথির নীল তোয়ালের সেই গ্রাম্য লোক অথবা নক্ষত্রের রাতের হাসান।
একমাত্র যে চরিত্রটাকে ইউনিক ও সবচেয়ে ভালো লেগেছে তিনি হলেন লাকী বাণু।
আর একটা জিনিস খুবই অদ্ভুত, সব গ্রামের ভাষা কি একই রকম? আমার নিজের বাড়ি নরসিংদী, ইনফ্যাক্ট ডাঙ্গাতেই। ওখানে এসব বাপ সোহাগী কন্যা এরকম ঢং করে কেউ কথাই বলে না। খেয়াল করলে দেখবেন, নরসিংদী অথবা কংকনার গ্রামের ভাষা/ আদৃতার রমিলা খালা মানে গ্রামের লোকেরা সেইম ভাষায় কথা বলে। বাংলাদেশে সিলেটি, বরিশাইল্যা, উত্তর বঙ্গ, নোয়াখাইল্যা, ঢাকাইয়া সহ এত রকম ডায়ালেক্ট থাকতে কেন সব গ্রামের মানুষকে হুমায়ূন আহমেদের টিপিক্যাল সুসং দুর্গাপুরের ভাষাই বলতে হবে?
* কংকনার কাহিনী আধাখেঁচড়া। ওর অনার্স ভর্তি হবার সময়ে ওর কাহিনী শেষ। কংকনা কেন এত বছর পরেও বিয়ে করলো না, এর কোন ব্যাখ্যা নেই।
মোদ্দা কথায়, হুমায়ূনীয় প্রভাব এবং অধিক সন্ন্যাসীতে গাঁজন নষ্টের দোষে তিন তারা। নয়তো এরকম প্লট বা এত সুন্দর উপস্থাপনা নিঃসন্দেহে চার তারা ডিজার্ভ করে।
লেখিকার গল্প বলা আমার ভালো লাগে। অপ্রয়োজনীয় কথা বাদ দিয়ে সোজা প্রধান কাহিনীতে চলে যান। কিন্তু জোকার বইয়ের মতো এইখানেও সমাপ্তি ভালো লাগে নাই। 12 Angry Men মুভির মতো এক রাতের কাহিনী নিয়ে গল্প। কিন্তু এই এক রাতে প্রধান তিন চরিত্রের জীবনের গল্প ফ্ল্যাশব্যাকে উঠে আসে। তিনটি ভিন্ন ধরনের মানুষ, পরিবার ও সমাজব্যবস্থার চিত্র ফুটে ওঠে। নিজেকে হারিয়ে খুঁজে ফিরতে থাকে চরিত্রগুলো। লেখিকার আরেকটি ব্যাপার ভালো লাগে, উনার গল্পগুলোতে প্রতিটি চরিত্র যতক্ষন উপস্থিত থাকে, পূর্ণ মর্যাদা নিয়েই প্রকাশ করে নিজেকে। এই বইয়ের দৃষ্টিকটু অংশ (আমার কাছে) শেষাংশে। কোন দরকার ছিল না একটু অমীমাংসিত রহস্য রেখে যাওয়ার, কোন দরকার ছিল না মুখ্য তিন চরিত্রের মীমাংসিত হ্যাপি এন্ডিং। সামনে উনার বই আবার আসলে অবশ্যই পড়ব, এবং সুন্দর ফিনিশিং হবে - এই আশা নিয়েই পড়ব।
একটা গতিশীল গল্পে অযাচিতভাবে ও শেষ মুহূর্তে থ্রিলার জাতীয় উপাদান এনে পুরো কাহিনির ধারাবাহিকতা বা তাৎপর্য নষ্ট না করার জন্য লেখিকাকে ধন্যবাদ। কিন্তু সীমিত পরিসরে অনেক অনেক চরিত্র আর অনেক অনেক ঘটনা থাকায় ঠিকমতো উপভোগ করা গেলো না। পরবর্তী বইয়ের জন্য অপেক্ষায় রইলাম।
তিন বন্ধু আদ্রিতা, কংকনা ও নাফি ঢাকার বাহিরে নরসিংদীর এক গ্ৰামে রাজবাড়ি দেখে ফিরতি পথে ঝড়ের কবলে পড়ে সেখানে আটকা পড়ে। উপায় না পেয়ে আশ্রয় নেয় সেখানকার খানদানি বাড়িতে। সেই বাড়ির মালিক জজ আসাদুজ্জামান চৌধুরীর সাথে তাদের পরিচয় হয়। আসাদ সাহেব হঠাৎ করে রেগে যান তবে খোশ মেজাজে গল্পও করেন বটে। তার সাথে কথাবার্তা হবার পর তিনজনই অপরিচিত বাড়িটিতে নিজ নিজ অতীতে বিচরণ করতে লাগে, ভোগে আত্মগ্লানিতে, নিজের অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন জাগে তাদের মনে সেই নিশিরাতে।
লেখিকার লেখার হাত অনেক চমৎকার তাই আশাটাও অনেক বেশি ছিল কিন্তু সবকিছু মিলিয়ে আশাহত হতে হয়েছে। তিন বন্ধুর গল্পের মধ্যে কংকনার জীবনের গল্প যতটা মন ছুঁতে পেরেছে , সে অনুযায়ী বাকি দু'জনেরটা খুব একটা মনে ধরেনি।
এক্সপেক্টেশন ছাড়াই পড়তে বসেছিলাম। লেখা প্রাঞ্জল, ছিমছাম। ভালোই লাগল বেশ। কিছু ত্রুটি রয়েছে কিন্তু আজকে প্রবল বৃষ্টির বিকেলটা বেশ ভালোই কাটল। তাই ওদিকে আর মাথা ঘামালাম না।
বই : আজ আমাদের নিশিযাপনের আমন্ত্রণ লেখক : সুফাই রুমিন তাজিন জনরা : উপন্যাস পৃষ্ঠা :২৪৬ মুদ্রিত মুল্য : ৫২০
♣️কাহিনী সংক্ষেপ বেড়াতে গিয়ে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারনে ৩বন্ধুর আশ্রয় নিতে হয় চৌধুরী বাড়িতে। আদৃতা, কংকনা আর নাফি।।চৌধুরী বাড়ির বৃদ্ধ কর্তা আসাদুজ্জামান চৌধুরী বেশ গল্পপ্রিয় আর অতিথিপরায়ণ। রাতে ৩বন্ধুর সাথে গল্পে মেতে ওঠেন তিনি।আর তার বলা কথা গুলোই আদৃতা, কংকনা আর নাফির মনের বন্ধ সিন্দুক খুলে দেয়। নিজেদের অতীত তাদের ভাবিয়ে তোলে। অনেককিছু উপলব্ধি করে তারা। একটি রাত ও একজন বৃদ্ধ মানুষের সংস্পর্শ তাদের জীবনের গতিপথ পরিবর্তন করে ফেলেছে। তাদের করা ভুল, অন্যায় তারা বুঝতে পারছে। চেষ্টা করছে ভুল সংশোধনের। কাহিনীটি মুলত ৩ বন্ধুর জীবনের গল্প। তার সাথে সাথে লেখিকা চৌধুরী বাড়ির কর্তা আসাদুজ্জামান চৌধুরী আর তার মেয়ে রেবেকার জীবনের গল্পও তুলে ধরেছেন।
♣️পাঠ প্রতিক্রিয়া বইটি পড়ে ভালো না লাগার মত কিছু খুজে পাইনি। চৌধুরী বাড়ির দেখাশোনা করে লাকি বানু।গ্রামের সোজাসরল মেয়েকে জীবনের নানা অধ্যায় কিভাবে কঠিন করে দিয়েছে তা চোখে পড়ার মত। সে আজ আর কাউকে বিশ্বাস করে না এমনকি নিজের পেটের সন্তানদের ও না। তার ছেলে সবুজের চরিত্রটিও বেশ সুন্দর তার মতে - আদর সোহাগ সিন্দুকে রাখার জিনিস, প্রকাশ পেলে এর মান থাকে না। তাই বোনকে সে প্রান ঢেলে ভালোবাসলেও তা প্রকাশ করে না। > কংকনার কাহিনী টি বোঝায় মেয়েরা আজও কতটা অসহায়। > আদ্রিতার কাহিনী টি পরিবারের অতিরিক্ত শাসন, কঠোরতার নেতিবাচক দিকটি তুলে ধরে। অতিরিক্ত কিছুই যেমন ভালোনা তেমন পুরোপুরি না বুঝে কাউকে ভুলবোঝা ও একটি বড় ভুল > নাফি চরিত্রটি অতিরিক্ত লোভ আর ২ভাই এর মধ্যে তুলনা করার ফল যে কতটা খারাপ প্রভাব ফেলতে পারে না দেখিয়েছে।
♣️তবে বর্তমান আর অতীত এর কাহিনী বর্ননার মাঝে একটু স্পেস রাখার দরকার ছিল। মাঝে মাঝে গুলিয়ে ফেলছিলাম। রেটিং :৪.৫/৫
গল্প আমার কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয় একটা ব্যাপার। কেউ গল্প বললে আমি খুব মনোযোগ দিয়ে শুনি। দাদী, বাবা আর খালার জন্যই এ অভ্যাস টা গড়ে উঠেছে। মানুষের জীবনটা পড়ে দেখতে বা শুনতে খুব ভালো লাগে। আমি নিজেকে তাদের জায়গায় কল্পনা করি, তাদের দুঃখে কাঁদি তাদের জন্য একটা ভালো ending নিজ মনেই চিন্তা করি। গান শোনা ছেড়ে দিয়েছি অনেক আগে। সেই জায়গায় audiobook স্থান নিয়েছে substitute হিসেবে। শুধুমাত্র আমার গল্পের নেশার খোঁড়াক যোগাতে।
এই বইটাও মূলত তিনটা মানুষের জীবনের গল্প কাকলী, আদ্রীতা ও নাফির। সাথে অবশ্য, আসাদুজ্জামান চৌধুরী ও তার মেয়ে রেবেকার গল্পও জুড়ে গিয়েছে। চারটি ভিন্ন ভিন্ন জীবনের গল্প। তাদের ফেলে আসা জীবন, তাদের বর্তমান আর কল্পিত ভবিষ্যত। গল্পটা এই বৃষ্টির সময় পড়তে খুবই ভালো লেগেছে। কংকনা আর নাফির গল্পটা সবচেয়ে বেশি আকর্ষণীয় ছিল।
আমার জীবনে এমন একটা সময় গিয়েছে, তখন আমি বুঝতাম না, কি হচ্ছে, কেন হচ্ছে, কি করা যায়? কিন্তু ওই অবস্থাকে লেখক এক line এ প্রকাশ করেছেন "তোমার জীবনযাপনের পদ্ধতিটা তুমি পছন্দ করছো না। কিন্তু তুমি তা ছাড়তেও পারছো না"
বইটা পড়ে ভালো লেগেছে, কিন্তু এক তারকা কম দেয়ার কারণটা ঠিক মত বুঝিয়ে বলা যাচ্ছে না। আমার কোন expectation ছিল না বইটা নিয়ে কিন্তু লেখকের বইগুলো আমার খুব পছন্দের। কারণ সহজ সুন্দর ভাষায় বাস্তবিক জীবন নিয়ে লিখা। কমতি টা ধরতে না পারলেও, বুঝতে পারছি আরো কিছু পাওয়ার একটা আশা ছিল।
তাও বইটা পড়তে মজার। অধীর আগ্রহ নিয়ে,তিনজনের জীবনের গল্প পড়ার জন্য সারা সপ্তাহ বসা ছিলাম। আজ পড়ে শেষ করলাম।
প্রচ্ছদ দেখেই বইটি পড়তে ইচ্ছে করবে। বরাবরের মতো লেখনশৈলী খুবই চমৎকার।
বইটি খুবই পরিণত। সম্ভবত এই বইটি ম্যাচিউরড পাঠকদের জন্য বেশি উপভোগ্য।
তিনজন তরুণতরুণী নিয়ে কাহিনী, এরমধ্যে আদ্রিতার কাহিনীটা ভালো লেগেছে কিন্তু এখানে কিছু ব্যাপার রিপিটেড মনে হয়েছে।
পিউর মনস্তাত্ত্বিক ঘরানার বইটি এক বসাতে শেষ করেছি। পড়ার পর কিছু ব্যাপার মনকে নাড়া দিবে। সুলেখক সুফাই রুমিন তাজিনের কাছে থেকে ভবিষ্যতে আরও এমন চমৎকার বই পাবো আশা রাখি।
মাত্র পড়ে শেষ করলাম। লেখিকার লেখা এই বইটাই আমার প্রথম পড়া হলো। লেখনী খুবই প্রাঞ্জল। গল্পটাও সুন্দর। উনার সামনের কাজগুলোর জন্য মুখিয়ে থাকলাম। তবে... দুটো ব্যাপার না বললেই না
১) য় আর ই এর মধ্যে বেশ কয়েকবার দৃষ্টিকটু গড়মিল আছে। ২) বর্তমানের মধ্যে অতীত নিয়ে কথা বলবার সময় মাঝে কোনো স্পেস দেয়া হয়নি। হুট করে পড়তে গেলে খেই হারিয়ে ফেলতে হয়।
বইটা পুরোদস্তুর মনস্তাত্ত্বিক বিষয়বস্তু নিয়ে। এমন একটা বই আমার দরকার ছিলো নিজের মানসিকতার জন্য। লেখিকার লেখনী নিয়ে কথা বলার কিছু নাই। বরাবরের মতোই শব্দচয়নগুলো বেশ পরিপক্ব। এন্ডিং টাও যুতসই লেগেছিলো।