গোয়েন্দা উত্তরণের কাছে একটা অদ্ভুত কাজ... তথা চ্যালেঞ্জ এল। বিশাল এক বাড়ির মধ্যে কোথাও লুকোনো আছে একটি রত্ন। সেটিকে খুঁজে পাওয়ার সংকেত আছে একটি লকারের মধ্যে। কিন্তু সংকেতের পাশেই রাখা আছে অ্যাসিড— যাতে লকার ভাঙার চেষ্টা করলে সংকেতটি চিরতরে নিশ্চিহ্ন হয়। লকার খুলতে গেলে দরকার দশ অংকের একটি সংখ্যা। সেগুলো আবার রাখা আছে পাঁচটি আলাদা-আলাদা পুতুলের মধ্যে। মোট পঁচিশটি পুতুলের মধ্যে পাঁচটি পুতুলকে চিনতে হলে আবার সমাধান করতে হবে পাঁচটি ধাঁধা! ব্যাপারখানা বুঝছেন তো? আজ্ঞে হ্যাঁ, এই ছোট্ট নভেল্লাটি পড়তে গিয়ে শুধু উত্তরণ নয়, সব পাঠককেই মগজাস্ত্রের প্রয়োগ করতে হবে। ব্যবহার করতে হবে মহাকাব্য আর ইতিহাসের জ্ঞান। লাগবে পর্যবেক্ষণ, ধৈর্য, বুদ্ধি। সবচেয়ে বড়ো কথা, রত্নটি পাওয়ার পরেও কিন্তু রহস্য ফুরিয়ে যাবে না। এই কাহিনিতেও যা দেখা যাচ্ছে, তার অনেকটাই আসলে অন্যরকম। সেটি বোঝার জন্য প্রয়োজন হবে আরও কিছু অসঙ্গতি খুঁজে বের করা এবং অবশেষে দুষ্টের দমন ও শিষ্টের পালন। ছোটোদের জন্য লেখা হলেও বড়োদেরও মন ভালো করে দেবে তথা চিন্তার খোরাক জোগাবে এই ছোট্ট রহস্য কাহিনিটি। বইটির ছাপা ও বানান শুদ্ধ। তবে লেখার সঙ্গে কিছু অলংকরণ থাকলে ব্যাপারটা আরও জমত। তবু বলব, এটি পড়ে বিলক্ষণ আনন্দ পেলাম। গোয়েন্দা উত্তরণের এমন আরও কাহিনি পড়ার আশা রাখি। ইতিমধ্যে, মগজাস্ত্রের প্রয়োগে আগ্রহীরা এই বইটিকে আপন করে নিলে আনন্দ পাবেন— এ-বিষয়ে আমি নিশ্চিত।