"সে এক দিন ছিল!"
ছোটোবেলা থেকে আমরা স্মৃতিমেদুর হয়ে এই কথাটা বলি, বলতেই থাকি। সেই 'স্বর্ণযুগ'-এর সময়কালটা বদলে যায়। গত শতাব্দীর কোনো দশক থেকে শুরু করে করোনা-কালের আগের সময়— সবই কারও-না-কারও স্মৃতিতে এসে পড়ে তার আওতায়। তবে এ-কথা বোধহয় সবাই মানবেন যে গত শতাব্দীর আটের দশক থেকে সহস্রাব্দীর প্রথম দশক অবধি সময়টা বাংলায় শিশু-কিশোর সাহিত্যের স্বর্ণযুগই ছিল।
একটি প্রাচীন লেখা বাদ দিলে মূলত সেই সময়ের লেখাজোখার মধ্য থেকেই পঁচিশজন সাহিত্যিকের কিশোরপাঠ্য গল্প বেছে নিয়ে সাজিয়ে দেওয়া হয়েছিল এই সংকলনে।
একটি অতি সংক্ষিপ্ত ভূমিকা-র পর এতে আমরা পাই নীচের গল্পগুলোকে~
১. সুকুমার রায়-এর 'ডিটেকটিভ';
২. প্রেমেন্দ্র মিত্র'র 'পরাশর বর্মা ও ভাঙা রেডিও';
৩. লীলা মজুমদারের 'প্রাপ্তিযোগ';
৪. ক্ষিতীন্দ্রনারায়ণ ভট্টাচার্য'র 'ঘুমন্ত পুরী';
৫. সঙ্কর্ষণ রায়ের 'উদুদা পাহাড়ের অশরীরী দানব';
৬. সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজের 'অকালকুষ্মাণ্ড';
৭. বরেন গঙ্গোপাধ্যায়ের 'রহস্য যখন গভীরে';
৮. অদ্রীশ বর্ধনের 'হিরে চোর হবুচন্দ্র';
৯. সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের 'ভরত ডাক্তারের ঘোড়া';
১০. অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'ব্রিফকেস রহস্য';
১১. শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের 'মুক্তিপণ';
১২. সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়ের 'আমিই গোয়েন্দা';
১৩. অজেয় রায়ের 'মরণের মুখে';
১৪. নবনীতা দেবসেনের 'রুবাইয়ের রূপকথা';
১৫. শেখর বসু'র 'ব্যাংক ডাকাত আর লাফানো থলে';
১৬. সমরেশ মজুমদারের 'জলার ধারে আস্তানায়';
১৭. শ্যামল দত্তচৌধুরী'র 'দিদিমার খেলাঘর';
১৮. রতনতনু ঘাটী'র 'বর্ণপরিচয়ের প্রথম সংস্করণ';
১৯. প্রচেত গুপ্ত'র 'জানলাটা খুলবে না';
২০. সৈকত মুখোপাধ্যায়ের 'ছোটো রাজার পোষ্য';
২১. কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায়ের 'ঠাকুরদার বন্দুক';
২২. দেবজ্যোতি ভট্টাচার্যের 'গভীর রাতে ব্রহ্মপুত্রে';
২৩. রাজেশ বসু'র 'রোডস্ সাহেবের হিরে';
২৪. হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত'র 'ভগবানের হাত';
২৫. জয়দীপ চক্রবর্তী'র 'নতুন বন্ধু মিনু'।
এই গল্পগুলোর মধ্যে অনেকগুলোই ভূতের গল্প, অনেকগুলো আবার অদ্ভুতের। তবে সবগুলোই পড়তে দিব্যি লাগে। আর হ্যাঁ, ছোটোদের মনে শুভবুদ্ধি জাগানোর জন্য মূল্যবোধ জিনিসটার উপস্থিতিও দেখা যায় সবক'টি লেখাতেই।
অলংকরণে ও শুদ্ধ মুদ্রণে সমৃদ্ধ বইটি পড়তে বেশ লাগল। অবশ্য আজকের ছোটোরা এ-সব গল্প পড়বে কি না, জানি না। তবে এই রিভিউ শুরুর সময় লেখা প্রথম লাইনটা যাঁদের মাথায় প্রায়ই ঘুরে-ফিরে আসে, তাঁরা এটিকে পছন্দ করবেন।