গল্প শুনবেন? আসুন, শোনাই। বাইরে বৃষ্টি পড়ছে, জানালাটা টেনে দিয়ে হারিকেনের পাশে বসুন চাদরমুড়ি দিয়ে। গল্পে গল্পে কেটে যাক ঝড়ের রাতটা। ভয়ের গল্প চান? মহামারীর সময়ে অদ্ভুত এক ঘোড়সওয়ারের কাহিনি শোনাবো। বা শোনাবো কিভাবে এক যুবক ধন্দে পড়ে গেলো নিজের মৃত্যুর দিন বাছতে গিয়ে। আরো বলবো কিভাবে এক বংশের তিন পুরুষ পূর্ণিমার রাতে ভয় পেয়ে মাথা বিগড়ে গেছিলো। এসবের মুড নেই, প্রেমের গল্প চান? সাথে রহস্যের ছোঁয়া? শোনাবো পান আনতে মেঘালয় যাওয়া বিরহী যুবকের গল্প। কিংবা বিশ বছর ধরে প্রিয়তমাকে খুঁজে বেড়ানো দেশসেরা বিজ্ঞানির কিসসা। শুধুই রহস্য আর বিজ্ঞান পাবেন দুই বাঙালি একটা অচেনা মহাকাশযানের ককপিটে জেগে ওঠার গল্পে। আবার চাচ্ছেন ভয় পেতে? ছোট্টবেলার শহরে ছোট্টবেলায় ভয় ফিরিয়ে আনবো একটা কাহিনিতে। আর, সবশেষ শোনাবো প্যারানরমাল ইনভেস্টিগেটর শিপলুর বড়গল্প, হাওরের মাঝে পুরোনো এক জমিদারবাড়িতে গেছে এবারে সে। তো বসে পড়ুন এক কাপ চা নিয়ে!
নাবিল মুহতাসিমের লেখার সাথে আমার সেভাবে সখ্যতা এখনো গড়ে উঠেনি। কিছুটা হতাশ হয় প্রত্যেকবার। গত বছর কিনেছিলাম গল্পগ্রন্থটা। ভাবলুম আর ফেলে রাখা উচিত হবে না। কিন্তু সত্যি বলছি আবারো খানিকটা হতাশ। প্রথম দুটো গল্প দারুণ লেগেছে। তারপর ধীরে ধীরে আগ্রহ কমেছে। মাঝখানে 'মুশকিল আহসান' গল্পটা বিশেষ পছন্দ হয়ছে। বইটির নামগল্পটা নিয়েও অনেক আশাবাদী ছিলাম। তারপর.....।
খুব একটা আশা নিয়ে বইটা শুরু করিনি, ফ্ল্যাপ পড়ে ভালো লাগা, তাই কেনা। গল্প আটটার মধ্যে প্রথম দুইটা ভালোলেগেছে, অসাধারণ কিছু নয়। তারপরেই "তাম্বুল রাতুল হৈল" আমাকে মুগ্ধ করে দিল, মুগ্ধতা নিয়েই বাকি টা শেষ করলাম।
জানাশোনা সীমানার আশেপাশে ঘুরঘুর করা কিছু গল্প,যেসব ঠিক চেনা নয় আবার অচেনাও নয়।৮ টি আলাদা স্বাদের ছোটোগল্প ছিল এতে।'তাম্বুল রাতুল হৈল','এদিক দিয়ে কাউকে ঘোড়ায় চড়ে যেতে দেখেছেন' আমার বেশ ভালো লেগেছে। নির্বিঘ্নে নির্বিকারচিত্তে কিছুটা সময় বইটার সাথে কাটানো সম্ভব।