শুধু বিষ উপমন্যু সিরিজের তৃতীয় উপন্যাস। একজন গোয়েন্দার কি শিরদাঁড়াও থাকা উচিত নয়? বিষ আমাদের সমাজের কোণায় কোণায় পৌঁছে গেছে। সে বিষে ক্ষয় হচ্ছে মনুষ্যত্ব। একটা জায়গায় গিয়ে যেন আমরা হারিয়ে ফেলছি সব কিছুই। লকডাউন, কোভিডের সময় অপরাধ যেভাবে বেড়ে গেছে, অপরাধ করে কোভিডের নাম দেওয়ার প্রবণতাও তেমন বেড়েছে। একজন সন্ধানীকে এখান থেকেই লড়াই শুরু করতে হয় চাল থেকে কাঁকড় বাছার। অবসর তো সামনেই। শেষ পর্যন্ত কি হাল ছেড়ে দেবেন উপমন্যু ? দেখা যাক
মফস্বল শহর অশোকনগরে বেড়ে ওঠা। কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করেন হেরিটেজ ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি থেকে। ছোটবেলা থেকেই পড়ার বইয়ের পাশাপাশি গল্পের বইয়ের নেশা ছিল। লেখার নেশা জাঁকিয়ে বসে কলেজে পড়াকালীন৷ ওই সময়েই "আদরের নৌকা" লিটল ম্যাগ প্রকাশের মাধ্যমে সাহিত্য জগতে প্রবেশ। প্রথম বই ২০০৮ সালের বইমেলাতে প্রকাশিত হয় , "এক কুড়ি গল্প"। পরবর্তী কালে অফিস থেকে ফিরে ফেসবুকে লিখতে বসা এবং ধীরে ধীরে জনপ্রিয়তা পাওয়া।
গান গাইবার পাশাপাশি ঘুরতে, ফটোগ্রাফি করতে ভালবাসেন লেখক।
রিটায়ারমেন্টের একেবারে মুখে এসে বড়ো সাংঘাতিক এক কেসে জড়িয়ে পড়লেন উপমন্যু। দ্বিতীয় ওয়েভের বিষাক্ত কলকাতার বুকে হঠাৎই মারা গেলেন এক উচ্চপদস্থ পুলিশ অফিসার। উপমন্যুও অসুস্থ হলেন। কোভিড সন্দেহে অন্তরিন থাকার সময়ও উপমন্যু বসে রইলেন না। বরং নিজের সন্দেহ অনুযায়ী একক ও গোপন এক অনুসন্ধান শুরু করলেন তিনি— যার লক্ষ্য বিশেষ এক ব্যক্তি। তারই সঙ্গে মিশে গেল করোনা-জর্জরিত সনাজের বিষের ছোবলে নষ্ট হয়ে যেতে থাকা সম্পর্ক আর মানুষেরা। চক্রব্যূহে একা উপমন্যু কি পারবেন এই বিষাক্ত অবস্থার মধ্যে সত্যের অমৃত খুঁজে বের করতে? একেবারে এক নিমেষে পড়া হয়ে গেল এই স্মার্ট, অসম্ভব গতিময় এবং একেবারে নির্মম উপন্যাসটি। নকল গোয়েন্দার সাজানো ম্যানারিজমের বাইরে সত্যিকারের পুলিশি রহস্যভেদীর সুপারহিরোইক কীর্তিকলাপ দেখায় আগ্রহী হলে এটিকে মোটেই উপেক্ষা করবেন না। আমার কিন্তু বইটা হেব্বি লাগল।
আজ দুপুর থেকে একটানা পড়ে শেষ করলাম অভীক দত্তের "শুধু বিষ" উপন্যাসটি। বেশ গতিময়তার সঙ্গেই শেষ করেছি এই গোয়েন্দা উপন্যাসটি। উপমন্যু সিরিজের তৃতীয় উপন্যাস এটি।
২০২১ সাল, করোনার দ্বিতীয় ঢেউ চলছে, চারিদিকে আতঙ্কের ছড়াছড়ি। নিউজ চ্যানেলগুলো আতঙ্ক আরও বাড়িয়ে তুলছে। সেখানে শুধুই মৃত্যুর খবর। মানুষকে মানসিকভাবে অসুস্থ করে দিচ্ছে। ভাইরাসের সাথে সাথে মানুষের মনেও বিষ প্রবেশ করতে শুরু করেছে। এই বিষে ক্ষয় হচ্ছে মনুষ্যত্ব। ফলে বেড়ে চলেছে অপরাধ। লকডাউন, কোভিডের সময় অপরাধ যেভাবে বেড়ে গেছে, অপরাধ করে কোভিডের নাম দেওয়ার প্রবণতাও তেমন বেড়েছে। এখান থেকেই একজন সন্ধানীকে লড়াই শুরু করতে হয় চাল থেকে কাঁকড় বাছার।
উপন্যাসের প্রধান চরিত্র উপমন্যু বোস একজন সি.আই.ডি অফিসার। অবসরের সময় তার এগিয়ে এসেছে। কিন্তু ঠিক তখনই তিনি এক রহস্যময় জালে জড়িয়ে যান। তার কর্মসূত্রের বন্ধু পি.আর.সিনহার সাথে একটি ঝামেলার মিটমাট করে নিতে তিনি তার সাথে দেখা করতে যান গঙ্গা পারেখ নামে এক মহিলার ফ্ল্যাটে। কিন্তু খুব অদ্ভুতভাবে দেখা করার পরের দিনই খবর আসে সিনহা সাহেব মারা গেছেন। ডাক্তার এটিকে করোনার কারণে হওয়া স্বাভাবিক মৃত্যু বললেও, উপমন্যু বোসের কোথাও একটা সন্দেহ হয়। সত্যিই কি এটা স্বাভাবিক মৃত্যু ছিল নাকি এর পেছনে আছে কোনো বিরাট চক্রান্ত?
রেশমীর চাকরি করাটা মোটেই পছন্দ নয় তার স্বামী অরুণের। রেশমী অফিস থেকে বাড়ি ফিরলে অরুণ তাকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে, এমনকি তার গায়েও হাত তোলে। সহ্য করতে না পেরে সে সমস্ত কিছু জানায় তার অফিসের বস সোহমকে। সোহম তাকে সব ঠিক হয়ে যাবে আশ্বাস দিয়ে নিয়ে যায় গঙ্গা পারেখের কাছে।
কে এই গঙ্গা পারেখ? উপমন্যু বোস আর রেশমী- সোহমের এই দুই ঘটনার সাথে কি গঙ্গা পারেখের কোনো যোগসূত্র আছে? নাকি পুরোটাই কাকতালীয়?
অভীক দত্তের লেখার সাথে প্রথম পরিচয় ঘটেছিল আমার দাদার হাত দিয়ে ব্লু ফ্লাওয়ার বইয়ের মাধ্যমে। তারপর দাদার দৌলতেই আরও কিছু বই পড়েছি। আমার বেশ ভালো লেগেছিল। বিশেষ করে ব্লু ফ্লাওয়ার সিরিজের ৩টে পার্ট তো পুরো মাথা খারাপ করে দিয়েছিল। এই বইটিও বেশ ভালো লাগলো। খুব সহজ সরল কাহিনী। উপন্যাসটির পরিসরও খুব বেশি বড় নয়। গোয়েন্দা কাহিনী হিসেবে বেশ ভালোই লেগেছে। উপমন্যু সিরিজের এটি তৃতীয় বই। তবে আমি আগের বই দুটো পড়িনি, কিন্তু তারপরেও বুঝতে কোনো জায়গায় অসুবিধা হয়নি।
বইয়ের প্রচ্ছদটি বেশ ভালো লেগেছে। তবে যেই বিষয়টি একটু খারাপ লেগেছে সেটি হলো, বইতে অনেক টাইপিং মিসটেক চোখে পড়েছে। বুঝতে অসুবিধা হয়নি ঠিকই, কিন্তু চোখে লাগছিল বড্ড। প্রকালনীকে অনুরোধ পরবর্তীতে সেগুলো ঠিক করে নেওয়ার জন্য।
সব শেষে পাঠকদের বলবো বইটি একবার পড়ে দেখবেন। আশা করি ভালো লাগবে।
দুদিনেই পড়ে ফেললাম কোভিড লকডাউন চলাকালীন সময় নিয়ে এক টানটান থ্রিলার। এটা ঠিক গোয়েন্দা উপন্যাস নয়, তবে গোয়েন্দা উপমন্যু আছেন। তিনি এখন সিআইডি থেকে রিটায়ারমেন্টের কাছে হঠাৎ জড়িয়ে গেলেন এক রহস্যময় চক্রে। তার উপরমহল থেকে চাপ আসতে থাকলো না এগোনোর। এসব স্বত্তেও ধীরে ধীরে উন্মোচিত হলো এক বিষ চক্র। সমান্তরাল এগিয়ে যায় কভিডে চাকরি হারানো এক পরিবারের ভেঙে পড়ার গল্প। সেই পরিবারের একটি খুনের থেকেই সামনে উঠে আছে পুরো চক্র। সব মিলিয়ে থ্রিলার হিসাবে বেশ উপভোগ্য গল্প।
বিষ আমাদের সমাজের কোনায় কোনায় পৌঁছে গেছে। সেই বিষে ক্ষয় হচ্ছে মনুষ্যত্ব। একটা জায়গায় গিয়ে যেন আমরা। হারিয়ে ফেলছি সবকিছুই।
কোভিডের সময় অপরাধ যেহারে বেড়ে গেছে, তেমনি অপরাধ করে কোভিদের নাম দেবার প্রবণতাও অনেক বেড়ে গেছে। নিজেদের স্বার্থে বিষ প্রয়োগ করে এবং পরে সৌভাগ্যবশত বিষ প্রয়োগের পরে সিম্পটমস গুলো সবই কোভিডের মতন , মৃতদেহ নিয়ে কাঁটা ছাড়া আর কোন প্রশ্নই উঠছে না ।এইভাবে সেজে উঠছে পুরো উপন্যাসটি ।একজন সৎ পুলিশ অফিসার অন্যদিকে করাপ্ট হয়ে যাওয়া পুরো ডিপার্টমেন্ট। উপমুন্য কি পারবে তার সন্দেহকে সঠিকভাবে প্রমাণ করতে নাকি বসের চাপে তাকেও মুখ বন্ধ করে থাকতে হবে। এই নিয়ে টানটান উপন্যাস। লিখক হিসেবে অভিক দত্ত খুবই অসামান্য ।অত্যন্ত সহজ সরল ভাষায় কিভাবে পাঠককে আকৃষ্ট করে রাখতে হয় তা তিনি খুব ভালোই জানেন।