অবশেষে অনেক লম্বা সময় নিয়ে শেষ করলাম বইটা, বইটা কিছুটা স্লো কিন্তু বেশ ভালো লেগেছে । সম্রাট বাবরের অনেক কিছু জানতে পেরেছি বইটি পরে, উনার উত্থান পতন এবং উনার শাসক জীবনের বাইরেও সাহিত্যিক বাবরের আরেক পরিচয়।
কাদিরভের লেখা আর অরুণ সোমের অনুবাদ- এই দুটো মিলিয়ে অসাধারণ এই যাত্রা এই বইটি। তাই নিস্পাপ এক কিশোর বাবরের সাথে যাত্রা শুরু করে তৎকালীন উত্তাল রাজনীতির মধ্যে দিয়ে জীবনের বাস্তব অভিজ্ঞতার সাথে পরিচিত হই আমরা। দেখি এক নির্জনতাপ্রিয় আদর্শবাদী যুবকের কঠোর শাসক হয়ে উঠবার কাহিনী। এর ফাকে ফাকে দেখা পাই তার ব্যক্তিজীবনের টানাপোড়েনের চিত্র। সব মিলিয়ে সম্রাট বাবর হয়ে ওঠেন আমাদেরই কাছের মানুষ। আপনজন। তাই তার দু:খে আমরা দু:খী হই, তার সাফল্যে হই গর্বিত। আর পাঠশেষে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করি এক দার্শনিক কবিমনকে।
মোগল শাসক বাবর কে তো সবাই চিনি। কিন্তু কবি বাবর? একজন সম্রাটের মধ্যে কবি এবং শাসক এই দুই গুণের যুগলবন্দী চমৎকারভাবে বর্ণনা করা হয়েছে বইটিতে। চোখের সামনে যেন বালক বাবর হয়ে উঠলো সম্রাট জাহিরুদ্দিন বাবর। ১২ বছর বয়সেই মুকুটের ভার! কত উত্থান-পতন, বেগদের বিশ্বাসঘাতকতা, যুদ্ধ-বিগ্রহ, জয়ের আনন্দ -হতাশার গ্লানি, প্রিয়জনের ছেড়ে যাওয়া, তাহির বেগের মতো দেহরক্ষী ! একসময় ভাবলেন সব ছেড়ে ছুঁড়ে সন্ন্যাস জীবন কাটাবেন। কিন্তু সেই মানসিক অবস্থা থেকে ফিরে বাবর জয় করেছিলেন ভারতবর্ষ। সবকিছুই সাবলীলভাবে চিত্রায়ণ করলেন পিরিমকুল কাদিরভ। আর এই দারুণ বইয়ের সাথে আমাকে পরিচয় করিয়ে দিলেন khan Mehedi Sir (প্রিয় পুত্র)।
জীবনের প্রথম উপহার হিসেবে বই পাওয়া, সেটাও আবার এমন অসাধারণ বই, এত চমৎকার একজন মানুষের কাছ থেকে পাওয়া, সত্যি কল্পনাতীত!
ইতিহাস নির্ভর বই পড়তে বরাবর ই ভালো লাগে। ঐতিহাসিক চরিত্র গুলো নিয়ে জানার আগ্রহ টা আরও প্রবল।এ বইটা সে খোরাক জুগিয়েছে। "শাহ ও কবি" পরস্পর বিপরীতমুখী এই দুই স্বত্বার মিশ্রনে বাবরের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই বইটিতে ফুটে উঠেছে। শাসক এর পাশাপাশি কবি হতে গিয়ে দিতে হয়েছে চড়া মূল্য।