মঈনুস সুলতানের ভ্রমণগল্প মানে শুধু ভ্রমণবৃত্তান্ত পড়া নয়, লেখকের সঙ্গে, গল্পগুলোতে যাদের কথা আছে, তাদের সঙ্গে ভ্রমণে যাওয়া। কয়েকজন তরুণ-তরুণী যখন জঙ্গলের ভেতর পোড়োবাড়িতে রাত কাটাবে আর সকালে ভালুকের হাত থেকে বাঁচার চেষ্টা করবে, মাছ ধরতে গিয়ে স্রোতের টানে মাঝদরিয়ায় ভাসবে, জলপ্রপাতে বেড়াতে গিয়ে দেখবে চাঁদের রংধনু আর খামারবাড়িতে ব্রিটিশ সৈন্যদের হাতে যুদ্ধবন্দী হয়ে দুটি ছেলেমেয়ে বেঁচে যাবে অলৌকিকভাবে, তখন পাঠক সেখানে নিজেদেরই আবিষ্কার করবেন।
মঈনুস সুলতানের জন্ম ১৯৫৬ সালে, সিলেট জেলার ফুলবাড়ী গ্রামে। তাঁর পৈতৃক নিবাস মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলায়। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ম্যাসাচুসেটস থেকে আন্তর্জাতিক শিক্ষা বিষয়ে পিএইচডি। খণ্ডকালীন অধ্যাপক ছিলেন ইউনিভার্সিটি অব ম্যাসাচুসেটস এবং স্কুল অব হিউম্যান সার্ভিসেসের। ছিলেন ইউনিভার্সিটি অব সাউথ আফ্রিকার ভিজিটিং স্কলার। শিক্ষকতা, গবেষণা ও কনসালট্যান্সির কাজে বহু দেশ ভ্রমণ করেছেন। তাঁর ‘জিম্বাবুয়ে : বোবা পাথর সালানিনি’ গ্রন্থটি প্রথম আলো বর্ষসেরা বই হিসেবে পুরস্কৃত হয়। ২০১৪ সালে ভ্রমণসাহিত্যে সামগ্রিক অবদানের জন্য পান বাংলা একাডেমি পুরস্কার। প্রাচীন মুদ্রা, সূচিশিল্প, পাণ্ডুলিপি, ফসিল ও পুরোনো মানচিত্র সংগ্রহের নেশা আছে মঈনুস সুলতানের।
মঈনুস সুলতান কিশোর বয়সীদের জন্য লিখেছেন। তাই ভাষা খুব খুব সহজ। এতো সহজ যে তা মঈনুস সুলতানীয় বলে মনেই হয় না। মজার ব্যাপার, তার বই পড়তে যেয়ে বাংলা,হিন্দি,উর্দু, ইংরেজি, ফারসি ভাষার মিশেল অনেক সময় দুর্বোধ্য মনে হলেও সেই ভাষাটা এই বইতে খুব মিস করেছি। এটা কিশোর বয়সীদের বই, তাদের পড়ে বেশ ভালো লাগবে আশা করা যায়।