বৃষ্টির তির এসে দুজনকে খুব করে ভিজিয়ে দিয়ে গেল। বলতে গিয়ে কথা খুঁজে না পেয়ে জামাল থামল। কিন্তু প্রশ্নটা স্পষ্ট বুঝতে পারল সালমা। কী জবাব দেবে সে? জামালকে যখন নিজের বাসায় নিয়ে যাবার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, তখন একমুহূর্তের জন্য সালমা ভুলে গিয়েছিল তার পরিচয়—অতীত, বর্তমান। ঝাঁপিয়ে পড়ল যেন নিষ্ঠুর সত্যটা।
গদ্যের শক্তি কোথায়? কোথায় গদ্যের জাদু? তুমি যা-ই লেখো, তা-ই পাঠযোগ্য হয়ে উঠবে, পড়া শেষে পাঠকের কক্ষনো মনে আসবে না, সময়টা ফালতু গেল—এই হচ্ছে গদ্যের শক্তি। শক্তিশালী ও জাদুময় গদ্য আলগোছে বইয়ের অনেক কমজোরি ঢেকে ফেলে। অল্পদিনের ব্যবধানে পড়া সৈয়দ হকের মরণোত্তর প্রকাশিত দুই উপন্যাস (‘আনারকলি’ ও ‘যেকোনো দরজা’) আবারও এই উপলব্ধি দিয়েছে। অধিক আশ্চর্যের ব্যাপার হচ্ছে, দুটোই হক সাহেবের যুবা বয়সের রচনা।
মাঝেমধ্যে আনমনে নিজের নামটা নিয়ে ভাবতাম। কেন এই নাম টা শুনলে সাড়া দিতে ইচ্ছে করে। কেন এই নাম শুনলে চকিতে ইন্দ্রিয় সরব হয়ে ওঠে! দুই অক্ষরের আমার এই নামটা তো শুধু একটা শব্দ। দুইটা মাত্র সাধারণ ব্যাঞ্জনবর্ণ। নামের সাথে কেন ভেসে আসে চেহারা, অবয়ব, গন্ধ! কুকুর টা নামে কোনো জন্তু আছে যদি তা আমরা ভুলে যাই! ভেবে নিই তিনটা বর্ণের এই নামটা কোনো ফুলের। বা কোনো রান্নার নাম। তখন নামটা দিয়ে কাউকে গালি দেয়া যেতোনা। বরং ব্যবহার হতো সুন্দর উপমা হিসেবে। তবুও এই নাম থেকে চেহারা আলাদা করা যায়না। ভেসে আসে কুকুর নামক জন্তুটার ছবি। কেন আলাদা করা যায়না সেটা জামাল ভেবে পায়না। সালাউদ্দিনের মত করে সে ভাবতে পারেনা। সালাউদ্দিনের কাছে নেহাৎ " কুকুর" শব্দটা যে কোনো কিছুর নাম হতে পারতো। মায়ের দুধের নাম হতে পারতো। অফিসের বস সালাউদ্দিন যখন ইন্টারভিউ তে প্রশ্ন করবেন " শিশুরা কী খেয়ে বেঁচে থাকে? " তখন হয়তো চাকরিপ্রার্থী জামাল বলতো শিশুরা কুকুর খেয়ে বেঁচে থাকে।
এটা সৈয়দ হকের প্রথমদিকের লেখা উপন্যাস। প্রায় ৫৯বছর পর্যন্ত বইটি অগ্রন্থিত ছিলো। সুন্দর একটা গল্প, লেখনশৈলী চমৎকার। ছোট্ট একটা বই। পড়ার পর মনে হয়েছে বইটি পুরোপুরি গ্রন্থিত হয় নি। আরও কিছু অংশ বাকি আছে। আবার মনে হচ্ছে এতুটুকই যথেষ্ট!