ভুবনপুরের হাট অনেক পুরনো হাট । সবাই জানে এ হাটে কোন কিছু অবিক্রি থাকে না । এখানে বানিজ্য করতে এসে কেউ ই রিক্ত হস্তে ফিরে যায় না ।এই ভুবনপুরের হাট কিভাবে শুরু হয়েছিলো তা জানতে হলে আপনাকে একটি গল্প জানতে হবে ।
শিবের সাথে দুর্গার একবার ঝগড়া হয় । দুর্গা সম্ভবত অলংকার চেয়েছিলো শিব বলেছিলো সে ভিক্ষুক সে কিভাবে গয়না জোগাড় করবে , দুর্গার চারিদিকে এতো প্রভাব এতো মানুষ তার ভক্ত সে কি নিজের জন্য কিছু করে নিতে পারে না ! এতে দুর্গা রাগ করে বাপের বাড়ি চলে যায় এবং বিশ্বকর্মা কে বলে এক রাত্রে কাশী তে আমার রাজধানী তৈরি করো । হয়ে গেলো রাজধানী । শিব এই কথা জানার পর তার নিজের কাছে খারাপ লাগলো । সে ঠিক করলো বিশ্বকর্মার কাশীর চাইতে সুন্দর একটা রাজধানী তার নিজের জন্য তৈরি করতে হবে। তো মনের কথা নন্দীকে জানাতেই সে বললো ভাবনা কি ! কত ব্যাটা মন্দির গড়িয়ে , কেল্লা গড়িয়ে , প্রাসাদ গড়িয়ে মরে ভূত হয়ে তোমার দরবারে রয়েছে । কাজে লাগিয়ে দাও । তো তাই হলো ।
ভুবনপুরের লোকেরা বলে ক্ষ্যাপা শিবের ক্ষ্যাপা খেয়াল , ভূতের দলের ভূতুরে কান্ড । তো এই ভুবনপুরে আস্তে আস্তে লোকের সমাগম হতে লাগলো । শিব বললো এখানে যা আসবে তাই বিক্রি হবে । কুবেরের উপর আদেশ রইলো কুবের কিনে নিবে । শিব আর কাশী ফিরে গেলো না । তিনি এখানেই থাকবে । ওদিকে কাশী থেকে দুর্গা ক্রমে ক্রমে চিন্তায় অস্থির হচ্ছে । শিব ভুবনপুর থেকে কিন্তু এক চুল নড়লো না। এভাবেই চলছিলো একদিন খবর এলো ভুবনপুরে এক সুন্দরী যুবতী এসেছে একটি ঝাঁপি নিয়ে । ঝাঁপির মধ্যে তার মনের দুঃখ যেহেতু ভুবনপুরে কোন কিছুই অবিক্রি থাকে না তাই সে এখানে বিক্রি করতে এসেছে , কিন্তু দাম চাচ্ছে অন্যরকম ।এক ঝাঁপি দুঃখের বদলে সুখ লাগবে তার । দুঃখের বদলে সুখ দিতে কেউ রাজী হয় না । শিব শুনে বললে ঠিক আছে আমি দুঃখ কিনে নিলাম । তার বদলে এই নাও এক ঝাঁপি সুখ । মেয়েটি সুখের ঝাঁপি নিয়ে চলে যেতে যেতে বললো- শিবদূতরা কে কোথায় আছো - আমার পালানো স্বামীকে বেঁধে নিয়ে আমার ঘরে ফিরিয়ে দিয়ে আসো । স্বামীকে না পেলে মনের সুখ কোথায় !
সাথে সাথে শিব সৈন্যরা কোথা থেকে আসলো এবং দড়ি দিয়ে শিবকে বাঁধতে শুরু করলো । শিব প্রতিবাদ করতে গেলে তাকে জানানো হলো যুবতীর প্রকৃত পরিচয় ।
সেখান থেকেই এখানে চালু হলো সুখ দুঃখ কেনা বেচার প্রথা ।
এই ভুবনপুরের ই হাটের একজন ফেরিওয়ালা শ্রীমন্ত দাস । নানা ধরনের জিনিসপত্র ফেরি করা ছাড়াও রাত বিরেতে এর পুকুরে তার পুকুরে মাছ মারতো । সেই শ্রীমন্ত এই ভুবনপুরের ই এক দুশ্চরিত্রাকে বিয়ে করে পালিয়েছিলো । সেই দুশ্চরিত্রা মারা গেলে আবার ভুবনপুরে ফিরে এসেছিলো একমাত্র মেয়ে মালতি কে নিয়ে । মালতি রূপ টা তার মায়ের পেলেও রাগ টা পেয়েছিলো বাপের ।
সেই রাগের জন্যেই তো এই অঘটন ! একদিন শোনা গেলো কোন মহাজন যেন বাড়িতে এসে শ্রীমন্তের সাথে সম্পত্তিবিষয়ক তর্ক বিতর্কের এক পর্যায়ে তার গলা চেপে ধরে ।তখন রান্নাঘরে মালতি মাছ কুটছিলো ।
তার উদ্দেশ্য বাপ কে বাঁচানো ছিলো না মাছ ঠিক মত কাটছিলো না বিধায় বটির ধার পরীক্ষা করা সেটা আদালতে প্রমান করা সম্ভব হয় নি ……তাই দ্বিধাগ্রস্থ বিচারক তিন বছরের সাজা দিয়ে দিলেন । তিন বছর পর কয়েকদিন হলো মালতি নিজগ্রামে ফিরেছে। বাবা বেঁচে নেই , ভুবনপুর ও আগের মতো নেই তাও কিছু একটা করে বেঁচে থাকতে হবে । কিন্তু যার অতীতে এরকম একটি কলঙ্ক ছিলো , তার বর্তমানে স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকা কি এতো সহজ !