ইরানের বালুচিস্তান। যেখানকার অধিকাংশ মানুষই পশতুন, পাঠান। খুব কাছ থেকে লেখক দেখেছেন সে দেশকে এবং সেই দেশের মানুষকে। ভিনদেশি এইসব মানুষের আতিথেয়তা-মহানুভবতা, কৃষ্টি-কালচার, কঠোরতা-হিংস্রতা ও প্রেম-ভালোবাসা যথেষ্ট আগ্রহজাগানিয়া এবং আকর্ষণীয়। বালুচিস্তানে আফসানেহ নামে এক রহস্যময়ী নারীর সঙ্গে দেখা হয় লেখকের। এই আফসানেহকে নিয়েই ত্রিশ বছর পর রচিত হলো বইটি। 'ইরানি দাস্তান' স্মৃতি নির্ভর ভ্রমণকাহিনি না-কি রহস্যময় প্রেমের মহাকাব্য? বইটি পাঠশেষে পাঠককে তা ভাবিয়ে তুলবে।
তখন সময়টা নব্বই দশক। সদ্য শেষ হয়েছে ইরাক-ইরান যুদ্ধ। দীর্ঘ আর বছরের যুদ্ধে কেউ জেতেনি। তবে হেরে গিয়েছে মানবতা। এই মানব জীবনে যুদ্ধের মতন বিভীষিকা আর কী হতে পারে? এতে কোনো লাভ হয় না। তবুও কেন এই যুদ্ধের দামামা? কেন নিজেকে সেরা প্রমাণের ঘোরতর চেষ্টা? কেন একটি দেশ বা জাতি চায়, অন্যের উপর প্রভাব বিস্তার করতে? কেউ জানে না। কেউ কি জানতে চায়? বোধহয় না।
ঠিক সেই সময়ে বাংলাদেশের মতন এক দেশের একজন ডাক্তার প্রস্তুত হচ্ছে ইরানে যাওয়ার। চিকিৎসা বিজ্ঞানের সূত্র ধরে মানুষের সেবায় নিয়োজিত হতে অন্য দেশে, অন্য সংস্কৃতিতে যাওয়ার প্রস্তুতি চলছে। তিনি আফতাব হোসেন। এই বইয়ের লেখক।
“ইরানি দাস্তান” বইটা মূলত লেখকের ভ্রমণ বিষয়ক বই। যেখানে উঠে এসেছে কিছু স্মৃতিকথা। কিছু আবেগ, অনুভূতি। যা পড়তে গিয়ে মনে হবে, বাস্তবতা কল্পনাকে হার মানায়। বাস্তবের কাছে সবকিছু অসহায়।
অন্য একটি দেশে যাওয়ার আগে সবচেয়ে শঙ্কা কাজ করে ভাষা নিয়ে। তারপর এসে তাদের সংস্কৃতির সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়ার বিষয়। এছাড়া এই বিশ্বে এমন অনেক দেশ আছে, যারা স্বজাতি ছাড়া অন্যদের গ্রহণযোগ্য মনে করে না। সেই মানিয়ে নেওয়ার বিষয়টাও সামনে এসে দাঁড়ায়। খাওয়া-দাওয়ারও একটা বিষয় থাকে। সব মিলিয়ে বিদেশ বিভুঁইয়ে যেতে চাইলে বেশকিছু বিষয় মাথায় রাখতে হয়।
এমন সবকিছু মাথায় নিয়ে লেখক ইরানগামী বিমানে উঠে বসেছেন। নতুন দেশ, ভিন্ন সংস্কৃতির, কীভাবে মানিয়ে নেওয়া হবে তার একটা শঙ্কা কাজ করে। সেই শঙ্কা উড়ে যায় তাদের সানিধ্যে আসার পর। আতিথেয়তা আনন্দের। কিন্তু অতিরিক্ত আতিথেয়তা বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ইরানের মানুষজনের ভদ্রতা, তাদের আন্তরিকতা একটু বেশিই অন্যরকম।
তাদের কাছে ডাক্তারের মূল্য অনেক বেশি। ডাক্তার তো জীবন বাঁচায়, তাই তাদের প্রতি এক ধরনের মমতা কাজ করে। কিন্তু তাদের আন্তরিকতার সাথে খাপ খাওয়াতে না পারলে অপদস্ত হতে হয়। এই যেমন, ইরানি কোনো দোকানে কিছু কিনতে গেলে তারা অতিথিদের কাছ থেকে অর্থ নিতে অসম্মতি জানায়। দানে দানে তিন দান বলে একটা কথা আছে। তারা তিনবার অসম্মতি জানাবে। কিন্তু জোর করে ক্রয়মূল্য দেওয়ার চেষ্টা করতে হবে। চতুর্থবার আর মানা করবে না। এর আগে কোনো কারণে টাকা না দিয়ে চলে এলে তাদের সামনে অসম্মানিত হওয়ার সম্ভাবনা আছে। যদিও ভদ্র জাতি প্রকাশ্যে অসম্মান করে না।
লেখকের চিকিৎসা দেওয়ার ক্ষেত্র পড়েছে সীমান্তবর্তী বেলুচিস্তানে। একটা ভয় কাজ করেন বালুচিদের সাথে কেমন দিন কাটবে, যুদ্ধ বিধ্বস্ত পরবর্তী সময় কেমন যাবে, কে জানে!
আফতাব হোসেনের লেখা খুবই দারুণ। ভ্রমণ কিংবা স্মৃতিচারণমূলক বইয়ের ক্ষেত্রে আমার পড়ার গতি ধীর হয়ে যায়। অথচ লেখকের লেখা এত বেশি সাবলীল যে পড়ার অভিজ্ঞতা বেশ ভালো বলা যায়। মনে হচ্ছিল কোনো উপন্যাস পড়ছি। সংলাপ, বর্ণনা — সবখানেই লেখকের পরিমিতিবোধ স্পষ্ট। সাবলীল ভাষায় একঘেয়েমি আসে না।
তবে এই গল্পে লেখক ছাড়াও আরো একজন আছে, যাকে গল্পের মূল চরিত্র ধরে নেওয়া যায়। আফসানেহ্। এখানে লেখকের স্ত্রীও পার্শ্বচরিত্র হয়ে গিয়েছিল। আফসানেহ্-এর সাথে লেখকের সখ্যতা, মনস্তত্ত্বের টানাপোড়েন, কথাবার্তা বইটিকে এক ভিন্ন মাত্রা দিয়েছিল। সেখান থেকে গল্পের ভিন্নতা। নারী চরিত্র বড় রহস্যময়। আর এর যৌক্তিকতা বোধহয় আফসানেহ্ সবচেয়ে ভালো মতন দেখাতে পেরেছে।
এই উপন্যাসে ইরানি মাফিয়া, তাদের প্রতিপত্তি, বন্ধু মনে করলে তার জন্য সবকিছু করে ফেলার যে প্রয়াস — তার দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করেছেন লেখক। পড়তে গিয়ে মনে হবে, এ-ও কি সম্ভব! এগুলো সত্য হতে পারে? বাস্তব, না-কি পুরোটাই কাল্পনিক কোনো ঘটনা! এই প্রশ্ন মাঝেমাঝেই হতে পারে। লেখকের দুর্দান্ত লেখা এমন এক ঘটনাকে উপন্যাসের আদলে দিয়েছে। ফলে পড়তে একপ্রকার তৃপ্তি পেয়েছি।
তাছাড়া আফসানেহর চরিত্র, তার অতীত ইতিহাস, যে দুঃসহ জীবনের সাক্ষ বয়ে বেড়াচ্ছে, তার প্রতিটি গল্প শিউরে ওঠার মতো। আর এর সাথে জড়িয়ে গিয়েছেন স্বয়ং লেখক। নারীর উপর পুরুষের কর্তৃত্ব ফলানোর চেষ্টা চারিত্রিক দিক দিয়ে মানুষকে নিচে নামিয়ে দেয়। এর ফল কী হবে কেউ বুঝে না। একজন নারী ও পুরুষের মধ্যে যে ধরনের সম্পর্ক হতে পারে তেমন সম্পর্ক হয়তো দুজনের ছিল না, কিন্তু এ জাতীয় সম্পর্কের নামকরণ করাটাও দুঃসাধ্য। একে আবার বন্ধুত্বও বলে না। মান অভিমান, সহমর্মিতা, আবেগের যে গল্প লেখক বলেছেন, এর সাথে একটা পার্থক্য দৃশ্যমান
পুরুষের একপক্ষ নারীকে ভোগের পন্য মনে করে। তার উপর প্রভাব বিস্তার করতে চায়। ভালোবাসার জায়গা এখানে থাকে না। আর অন্যদিকে কোনো পুরুষ নারীর ভরসা হয়ে উঠেন স্নেহ, ভালোবাসায় নিজেদের অতীত ভুলে নতুন দিনের গল্প লিখতে। এই পার্থক্যে কাকে বিশ্বাস করবেন, তা আপনার বিষয়।
লেখকের স্ত্রীকে বেশ ভালো লেগেছে। সহজ-সরল চরিত্র, স্বামীকে বিশ্বাস করে, ভালোবাসে। জীবনসঙ্গী যদি এমন বিশ্বাসযোগ্য হয়, সকল প্রতিবন্ধকতা দূর করে এগিয়ে যাওয়া যায়। ভিন্ন দেশ, ভিন্ন সংস্কৃতিতে পরিবারের কাছ থেকে দূরে থেকে একে অপরের ভরসা হয়ে ওঠা ভালো লেগেছে। দূরে থেকে মাঝে মাঝে পরিবারের কথা খুব মনে পড়ে। তখন সঙ্গীই শেষ আশ্রয়স্থল।
ইরানের মানুষের স্বভাব, তাদের সংস্কৃতি ও বইয়ের অনেকাংশে ছিল। ভ্রমণ বিষয়ক বই পড়লে আমার সবচেয়ে বিরক্ত কোন জিনিসে লাগে? খাবারের বর্ণনা। তারা ওখানে খাচ্ছে, লেখক বর্ণনা দিচ্ছে। আর আমি জিভে জল এনে সেগুলো পড়ছি। এ যে কত বড় দুঃখের ঘটনা, একজন ভোজনরসিক মাত্র তা বুঝতে পারে। খাবারের বর্ণনা পড়লে মনে হয়, আমিও সেখানে চলে যাই। শুধু ভোজনের জন্য পুরো পৃথিবী ঘুরতে পারলে মন্দ হয় না।
বইটার দুর্দান্ত অংশ এর সমাপ্তি। পারফেক্ট এন্ডিং যাকে বলে। ভ্রমণ বা স্মৃতিচারণ বিষয়ক বইয়ের ঘটনা হুটহাট করে শেষ হয়ে যায়। এখানে লেখক উপন্যাসের মতন তৃপ্তিদায়ক সমাপ্তি এনেছেন। এইটা ভালো লেগেছে। মনে হলো, লেখক মূলত আফসেনাহর গল্প বলার জন্যই এই বইটি লিখেছেন। এর পাশাপাশি ইরানের গল্প, ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, যুদ্ধে সন্তান হারিয়ে ফেলা মায়ের তীব্র আর্তনাদ এসেছে। এসেছে লেখকের মনস্তত্ত্ব। যতই ভিনদেশে থাকা হোক, নিজ দেশের সংস্কৃতি আর স্বভাব তো ভুলে থাকা যায় না।
অপরিচিত মানুষের রেকমেন্ডেশন, রিভিউ দেইখা আমি পড়ার জন্য সাধারণত বই সিলেক্ট করি না। তবে কবে কোথায় জানি একটা বই দেইখা মনে হইলো, এইটা আমার ভাল্লাগবো। এমন না যে এই বইয়ের লেখকের নাম বই পড়ার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে ইনফ্লুয়েন্স করছে। উহু, এর আগে ওনার নাম শুনিই নাই। তবু জানি কেন পড়তে মন চাইল। কাছাকাছি সময়ে দেখলাম ঐতিহ্য তাদের পাঠকদের জন্য ফ্রীতে বই পড়ার সুযোগ দিতেছে। ফ্রীতে মানে বই কেনার টাকা তো লাগবোই না প্লাস বই আনা এবং নেয়ার কুরিয়ার খরচও তাগোই। এই 'ইরানি দাস্তান' খানা আবার সেই ঐতিহ্য প্রকাশ এরই। এক্কেরে সোনায় সোহাগা চান্স। স্রেফ এই বইটা পড়ার টার্গেট মাথায় নিয়াই আমি ঐতিহ্য রিডার্স ক্লাব এর রেজিস্ট্রেশন কইরা ফেললাম।
বইটা লেখক আফতাব হোসেন যিনি কিনা পেশায় একজন ডাক্তার, পেশাগত কারণে তার ইরানে ��াকাকালীন স্মৃতিকথামূলক বই। ইরানে যাওয়ার শুরুর কথা থাইকা কেমনে গেলেন ইরানে মানে যাত্রাপথের কাহিনী, বাংলাদেশে বিমানে বিমান বালার পরিবর্তে বিমান খালা পাওয়ার কাহিনী থাইকা ইরানের মানুষজনের কথাবার্তা, কৃষ্টি-কালচার, দর্শন, ইতিহাস টুকরা টুকরা অনেক কিছুই বইতে উইঠা আসছে। সেই সাথে আসছে রহস্যময় এক নারী 'আফসানেহ'র আখ্যান। বইয়ের অনেকখানি নন-ফিকশন অর্থাৎ বাস্তব স্মৃতি, তথ্য হইলেও কিছু বোধ করি ফিকশনও আছে। আর সেইক্ষেত্রে আমার ধারণা 'আফসানেহ' নামটাও মেড-আপ। যদি মেড-আপ হইয়্যা থাকে তাহলে এইখানে লেখকের একটা 'পাঠক-মুগ্ধ-দৃষ্টি' পাওনা আছে। মানে পাঠক হিসেবে এই নামটাই আমাকে যথেষ্ট আগ্রহ জাগাইছে, এইটাও তো মুন্সিয়ানা। নাম যে আগ্রহ জাগায় এইটা মানেন না? তাইলে আহমদ ছফার 'অর্ধেক নারী, অর্ধেক ঈশ্বরী' পইড়া দেখেন। দুরদানা, শামারেখ - আহা, নামেই তো কাইত।
যাই হোক, 'ইরানি দাস্তান' নিয়া বলি। লেখক ভূমিকাতেই বলছেন তিনি মুজতবা আলীর বিশাল ফ্যান। এই বইতে মুজতবা আলীর প্রভাব তিনি নিজেও স্বীকার করছেন, কিছুটা আমিও টের পাইছি। পুরা বইতেও ঠা ঠা কইরা হাইসা ওঠার মতো অনেক দৃশ্য, কাহিনী আছে। সেই সাথে লেখকের ভাষার দখল বেশ শক্তিশালী। বর্ণনাভঙ্গীও বেশ ভালো, যে কারণে কিছু কিছু দৃশ্য পাঠকের চোখের সামনে ভাসার সম্ভাবনাও তৈরী হয়। আর 'আফসানেহ', ওয়াহ! লেখকের লেখায় তার সিল্যুয়েট বইরে অন্য মাত্রায় নিয়ে গেছে। লেখক ও আফসানেহ'র মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণমূলক কথাবার্তাও দারুণ লাগছে। সেই সাথে আফসানেহ'র জীবন কাহিনী শুরুর দিকের হালকা-চপল বইরে অন্যরকম ভারিক্কী দিছে। তবে এর বাইরেও যে ব্যাপারটা ভাল্লাগছে সেইটা হইল, লেখকের সততা। লেখক একটা জায়গায় বাঙালীর চিরাচরিত 'অনধিকার চর্চা'র পরিচয় দিছেন। আর সেইটা যে তারে বিব্রত করছে সেইটাও বলছেন, স্টিল সেই ঘটনাটা বইতে রাখছেন যেইটা হয়তো আমি তার জায়গায় থাকলে বইতে ইনক্লুড করতাম, কিন্তু আমি জানি সবাই করতো না।
ফাইনালি, সবচাইতে সুন্দর বইয়ের শেষটা। একদম পারফেক্ট। একটা সুন্দর বিষণ্ণতার জন্ম দিয়া পাঠকের মনটা আর্দ্র কইরা দিয়া যায়।
সবমিলায়ে ২৩২ পৃষ্ঠার এই বইটা পড়ার এক্সপেরিয়েন্স চমৎকার। মানে সব মানুষের তো দেশ-বিদেশে ঘোরার সু্যোগ থাকে না, থাকে না বিভিন্ন দেশের সংস্কৃতি নিজ চোখে দেখার৷ তাদের জন্য 'ইরানি দাস্তান' একে তো দুধের স্বাদ ঘোলে মিটাইবো, পাশাপাশি 'আফসানেহ'র অন্যরকম কাহিনীটাও জানা হইবো। সো, রিভিউ দেইখা কনভিন্সড হইলে বই পইড়া ফালান। কারণ রিভিউর চেয়ে বইটা বেশি সুন্দর।
শেষ মেষ ধন্যবাদ জানায়ে যাই অপরিচিত সেই মানুষ যার কয়েক লাইনের রিভিউ দেইখা বইটা পড়ার ডিসিশান নিছিলাম। Ihtesham Emon ভাই, আপনেরে ধন্যবাদ।
সম্প্রতি পড়ে শেষ করলাম সুলেখক~"আফতাব হোসেন" এর লেখা "ইরানি দাস্তান" বইটি। লেখকের "তিতুমীর" এবং "বখতিয়ার" এই দুটো জীবনীভিত্তিক উপন্যাস পড়েই উনার লেখার ভক্ত হয়ে গিয়েছিলাম।সেই সুবাদে এই পর্যন্ত উনার লেখা বেস্ট ৩ টি বই পড়া হয়ে গেলো।
ইরানি দাস্তান একটি স্মৃতিনির্ভর ভ্রমণ কাহিনী। ডাক্তারি চাকরির সুবাদে লেখকের যাওয়া হয় ইরানের দক্ষিণ-পূর্ব প্রান্তে বালুচিস্তানে,পাকিস্তানের সীমান্ত ঘেঁষে। এটি মূলত ইরানের সিস্তান,বালুচিস্তান প্রদেশ নামে পরিচিত। ডাক্তার হবার সুবাদে, সেই দেশটাকে সেই দেশের মানুষদেরকে খুব কাছ থেকে দেখার সৌভাগ্য হয়েছিল লেখকের। ইরানি বালুচদের আতিথেয়তায় এবং মহানুভবতায় তিনি বারবার মুগ্ধ হয়েছেন।তাদের মধ্যে কঠোরতা, হিংস্রতাও যেমন রয়েছে তেমনি রয়েছে অসীম প্রেম ও ভালোবাসা। সেখানেই লেখক দেখা পেয়েছিলেন "আফসানেহ" নামের এক রহস্যময় নারীর। "আফসানেহ" অর্থ "কাহিনী বা মহাকাব্য"। দাস্তান অর্থও গল্প,উপকথা,কাহিনী বা মহাকাব্য। পরবর্তীতে সেই স্মৃতি নির্ভর ভ্রমণকাহিনী-ই লেখক "ইরানি দাস্তান" নামে পাঠকদের মাঝে তুলে ধরেন।
ব্যক্তিগতভাবে লেখকের বই পড়ার অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, লেখকের "লেখনশৈলী,বাচনভঙ্গি,উপমার প্রয়োগ" আপনাকে বইয়ের শেষ পৃষ্ঠা পর্যন্ত টেনে নিয়ে যাবে। সেই সাথে যারা ইতিহাস আশ্রিত জীবনীভিত্তিক সুখপাঠ্য বই পড়তে চান তারা অবশ্যই "তিতুমীর এবং বখতিয়ার" বইদুটোও পড়ে দেখবেন।