Jump to ratings and reviews
Rate this book

আশিয়ানী

Rate this book
সেভিদোনিয়া রাজ্যের রাজকুমারী আশিয়ানী আরনোমিয়েল এক রহস্যের পিছনে ছুটতে ছুটতে পৌছে যায় এমন একটা জায়গায় যা তার জীবনাচরণকে বদলে দেয় চিরদিনের জন্য! সেই সাথে বদলে যায় আরও একটি জীবন।
এদিকে সেভিদোনিয়ায় হঠাৎ করেই একের-পর-এক অযাচিত ঘটনা ঘটে চলেছে, যা নিয়ে ক্রমেই উদ্বিগ্ন হয়ে উঠছে রাজা আরসালান আরনোমিয়েল। রাজপ্রাসাদের প্রধান সেনাধ্যক্ষ আরহাম মেনদারকে সাথে নিয়ে সেইসব সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করতে থাকেন তিনি, যার সাথে একসময় জড়িয়ে ফেলা হয় আশিয়ানীকেও। সিংহাসনের পরবর্তী উত্তরাধিকারী হিসেবে তার উপরও চাপ বাড়তে থাকে। অভিজাতদের সাথে রাজকুমারীর নীরব যুদ্ধ প্রকাশ্যে চলে আসে হঠাৎ!
ইলদারাম পর্বতমালার উত্তরাংশ কেন হঠাৎ উত্তপ্ত হয়ে উঠলো? রাজধানী সোভিয়ানেই বা এমন অযাচিত ঘটনা কারা ঘটালো? প্রাচীন জাদুকর সংঘের একজন প্রকৃতিসাধিকা ঠিক কিসের আশংকা করছে? আরনোমিয়েল সেনাবাহিনী এবং রাখশামান সেনাদলকে কেন হঠাৎ করে তলব করার প্রয়োজন পড়লো? হরিৎসেনারাই বা কী নিয়ে কাজ করছে? রাজবৃক্ষ আরনীমিশিল এর কী ভূমিকা রয়েছে আরনোমিয়েল রাজবংশের উত্থানের পেছনে?
আর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, এসব ঘটনা আশিয়ানীর সাথেই বা কতটুকু জড়িত?
এসব প্রশ্নের উত্তর রয়েছে প্রাচীন রহস্য, রাজনৈতিক কূটকৌশল, সমরকৌশল, বিশ্বাসঘাতকতা এবং নিয়তির মিশেলে গঠিত বিশাল প্রেক্ষাপটের ফ্যান্টাসি উপন্যাস 'আশিয়ানী' তে।

656 pages, Hardcover

Published January 1, 2022

27 people are currently reading
190 people want to read

About the author

Riajul Islam Xulian

8 books8 followers

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
40 (42%)
4 stars
32 (34%)
3 stars
15 (15%)
2 stars
4 (4%)
1 star
3 (3%)
Displaying 1 - 30 of 40 reviews
Profile Image for Asraful Shumon.
Author 18 books120 followers
April 21, 2023


কিছু বই আছে যা লোকে পড়ে, মজা নেয়, তারপর কোনো একদিন দিবাবসানে স্মৃতি হারিয়ে দেউলিয়া হয়ে যায়। আর কিছু বই আছে যা লোকে পড়ে, মজা নেয়, তারপর সারা জীবন মনে রাখে।

আমার মনে পড়ে একটা সময় আশিয়ানী নিয়ে জুলিয়ানকে একরকম ঠাট্টাই করতাম সবাই মিলে। ‘ভাই, আমার টাকা কবে ফেরত দেবেন?’ ‘জুলিয়ান যেদিন আশিয়ানী লিখে শেষ করবে সেদিন।’ এই জাতীয় ঠাট্টা। আমরা ধরেই নিয়েছিলাম সে মুখে মুখেই উপন্যাস লিখে ফেলেছে, বইয়ের পাতায় আর লেখা হবে না কোনোদিন। এমনকি গত বছর যখন সে অবশেষে শক্ত ওয়াদা করলো (The unbreakable vow) যে সে এবার লিখেই ফেলবে কালজয়ী কিছু একটা, তখনো মাসের পর মাস আমরা ভেবে গেছি যে এই ওয়াদা বোধহয় আর কখনো পূরণ হবে না। এমনকি মজা করে আমরা তাকে বাংলার রথফাসও ডাকতে শুরু করে দেই। অতুলনীয় রথফাস গত এক যুগেও একটি বই লিখে শেষ করতে পারেনি। অতুলনীয় জুলিয়ানও গত অর্ধযুগে একটি বই লিখে শেষ করতে পারেনি।

এই তো গত মাসেও সে একজন সহজ-সরল সম্পাদকের সাথে নিষ্ঠুর রকমের ছেলেখেলা করলো ‘এইতো ভাই, কালকেই দিচ্ছি’, ‘আরে মাত্র এক লাইন!’ ইত্যাদি জোক বলে। তারপর যখন বইটি আদৌ আর হাতে পাবে কি না তা নিয়ে সন্দিহান সম্পাদক নিজের কাজে মন দেওয়ার জন্য দৌড় দিলো, তারপরেই একদিন রাতের বেলা টুং করে বেজে উঠলো তার মেইল বক্স।

আমি যেকোনো বই হাতে পেলে প্রথম কয়েক ঘণ্টা রাফ এডিটিং করি। একে বিশুদ্ধ বাংলায় বলে ‘পাষণ্ডবৎ কাটাছেঁড়া’। ঘণ্টাদুয়েক এই কাজ করার পর বইটা ‘ভদ্রলোক’ হয়ে ওঠে। তারপর শুরু হয় মূল এডিটিং।

জুলিয়ানের ক্ষেত্রে ভদ্রলোক নয়, পুরোপুরি দরবেশ বাবা হয়ে গেল।

আমি বুঝলাম, আমার সম্পাদনা-সংক্রান্ত প্যারার সাথে ঘনিষ্ঠভাবে পরিচিত হওয়ায় সে নিজের কাঁধে বিশাল দায়িত্ব তুলে নিয়েছিলো গত এক মাস জুড়ে। আমার তখন দায়িত্ব ছিলো একটাই; বইটাকে নির্ভুলতার ক্ষেত্রে আরো যতটুকু সম্ভব উচ্চস্তরে নিয়ে যাওয়া। আমি আমার সাধ্যে যা যা সম্ভব সব করেছি। এরপরেও হয়তো দু-চারটে ভুল থাকবে। সেই ভুলগুলো চিৎকার করে বলবে, আশরাফুল সুমন একজন রক্ত-মাংসের মানুষ।

বইটা নিয়ে এখন একটা ছোটখাটো পাঠপ্রতিক্রিয়া দেবো। আর বলবো কী আশা করবেন আর কী করবেন না। বইটা কাদের জন্য আর কাদের জন্য না।

প্রথমত, বইটা থ্রিলার না। ফ্যান্টাসি। আর অনেক ফ্যান্টাসিতে থ্রিলকে উপাদান হিসেবে ব্যবহার করা হয়। আবার অনেক ফ্যান্টাসিতে থ্রিল বলতে তেমন কিছু থাকেও না। থাকলেও খুবই কম। দ্য নেম অব দ্য উইন্ড-এর কথাই মাথায় আসছে প্রথমে। পুরো বইটা স্রেফ একজন ব্যক্তির জীবনের উত্থান-পতন নিয়ে, তার করা ভুলগুলো নিয়ে। সেখানে থ্রিলের স্থান ছিলো খুব কম। তারপরেও বইটিকে বিশ্বের সেরা ফ্যান্টাসির একটা বলা হয়। ফ্যান্টাসি গল্পে থ্রিলটা মুখ্য না, আপনি যা বলতে চান তা ফ্যান্টাসির আদলে ঠিকঠাক বলতে পারলেন কি না সেটাই মুখ্য।

আশিয়ানী-র কাহিনিও একজন ব্যক্তির জীবনের উত্থান-পতন আর রূপান্তরকে কেন্দ্র করে। থ্রিল দেওয়ার চেয়ে বরং আশিয়ানীর নিজের জীবনের সঠিক আর ভুল সিদ্ধান্তগুলোর উপরেই বেশি ফোকাস দেওয়া হয়েছে। সে অন্যের জীবনে কী পরিবর্তন এনেছে, চারপাশের জগৎ তার সিদ্ধান্তের কারণে ঠিক কীভাবে প্রভাবিত হয়েছে—এসব দিকে মনোযোগ দেওয়া হয়েছে। আবার থ্রিল যে একেবারেই নেই তাও না। তবে দৌড়াতে হলে আগে অনেক দূর পর্যন্ত হাঁটতে হবে।

আর এখানেই চলে আসে টার্গেট অডিয়েন্সের কথা। এরা হলো তারা, যাদের কাছে আমরা আমাদের বইগুলো মার্কেটিং করি। আমাদের লক্ষ্য থাকে যেন বিক্রিত বইয়ের সর্বোচ্চসংখ্যক এদের হাতেই যায়। আশিয়ানী কেনার আগে অবশ্যই নিশ্চিত হয়ে নেবেন যে আপনি এর টার্গেট অডিয়েন্স কি না। সংক্ষেপে বলি: আপনি যদি বই মানেই টানটান উত্তেজনা, রোমাঞ্চ ইত্যাদি ভাবেন, একটানা দৌড়ে শেষ পৃষ্ঠায় যেতে চান, তবে এই বইটা হাতে নেওয়ার আগে ভাবার অনুরোধ করবো। আর আপনি যদি শান্ত নদীর পাড়ে বসে মৃদুমন্দ হাওয়ায় ভাবাবেগে আক্রান্ত হতে চান, তাতে নৌকা ভাসিয়ে নির্দিষ্ট কোনো গন্তব্য মাথায় না নিয়ে স্রেফ নৌকাটাকে বিশ্বাস করে চারপাশের সৌন্দর্য দেখতে দেখতে ভ্রমণ উপভোগ করতে চান, তবে আপনিই এই বইটির টার্গেট অডিয়েন্স। বইটি হাতে নিন, আপনার ভালো লাগবে।

কথাগুলো বললাম কারণ আমাদের দেশে পাঠকসংখ্যা এত সীমিত যে জনরাভিত্তিক পাঠক বা টার্গেট অডিয়েন্সের কাছে বই প্রচারণা করার ব্যাপারটা ঠিকঠাক গড়ে ওঠেনি। পাঠকের সংখ্যা কম থাকায় ভুল বই ভুল পাঠকের কাছে প্রচারণা করা হয় বা করতে বাধ্য হয়, ফলে তাতে না উপকার হয় লেখকের, না পাঠকের। দিনশেষে উভয়েই বিষণ্ণ বদনে মুখ কালো করে ঘুরে বেড়ায় আর অভিশাপের তুবড়ি ছোটায়। এখন সময় এসেছে নিজের বইকে সঠিক পাঠকের কাছে প্রচারণা করার, যাতে লেখকও তার বইয়ের প্রাপ্য মর্যাদা পায়, আর পাঠকও বই পড়ে টাকা নষ্ট হয়েছে বলে মনে না করে। আর সেজন্য গণহারে সবার কাছে প্রচারণা না করে কেবল টার্গেট অডিয়েন্সদের কাছে প্রচারণা করাটাই সর্বোত্তম উপায় বলে আমার মনে হয়।

এবার আশিয়ানী পড়ার সময়কার অনুভূতির কথা বলি। আমি বইটাকে দুইভাগে ভাগ করবো; প্রথম অর্ধেক আর শেষের অর্ধেক। প্রথম অর্ধেক শান্ত নদীতে ঘুরে বেড়িয়েছি কেবল নৌকার উপর প্রবল বিশ্বাস রেখে। ফুরফুরে হাওয়া খেয়েছি, ভাবাবেগে আক্রান্ত হয়েছি, খিলখিল করে হেসেছি, বিচ্ছেদ-মিলন-আকাঙ্ক্ষার তীর দ্বারা বিদ্ধ হয়েছি। পরিশেষে কিছু ব্যাপারে বোধের সোনালি সূর্যটা উদিত হয়েছে মনের পূর্ব দিগন্তে।

আর তারপরেই নদীটা হঠাৎ জেগে ওঠে তার সমস্ত প্রতাপ নিয়ে। শক্তিশালী জলীয় মুষ্টি দিয়ে আঘাতের পর আঘাত করে সাম্পান-দেহে, মনে তৈরি করে শঙ্কার মেঘ। এরপর নামে ঝুম বৃষ্টি, যে বৃষ্টি গুনগুন করে গান গাইতে গাইতে পরিণত হয় প্রলয়োল্লাসী ঝড়ে। কখনো তরীটা উলটে যায়, পরক্ষণেই আবার সোজা হয়ে ভেসে ওঠে, পর মুহূর্তেই ভেঙেচুরে ছড়িয়ে পড়ে চতুর্দিকে। তারপর কেবল একটি পাটাতন আঁকড়ে ধরে বেঁচে থাকা যাত্রীটিকে নিয়ে তীব্র বেগে ছুটে চলে অসীমের পানে।

খুব বেশি ভাবার্থক কথাবার্তা হয়ে যাচ্ছে নাকি? আক্ষরিক জগতে ফিরে আসি তাহলে। শুরুতেই ছিলো শেষের বীজ। আর তাই শুরুর রেশ ধরেই বীজ থেকে তৈরি করি উদ্ভিদ।

কিছু বই আপনি পড়বেন। মজা নেবেন। এরপর ভুলে যাবেন। কিছু বই আপনি পড়বেন। মজা নেবেন। এরপর সারা জীবন মনে রাখবেন।

আশিয়ানী দ্বিতীয় ধরনের বই।
Profile Image for Rakib Hasan.
459 reviews79 followers
January 1, 2023
বইটা দারুণ, লেখকের অনেক দিন এবং অক্লান্ত পরিশ্রমের ফসল এই বইটা, পড়লেই বুঝা যায়। যাদের এই জনরার বইগুলো ভালো লাগে তারা নির্দ্বিধায় এই বইটা পড়তে পারেন, আশা করি নিরাশ হবেন না। আমি বেশ দীর্ঘ সময় নিয়ে বইটা পড়েছি, ব্যক্তিগত ব্যস্ততা বা নানা সমস্যার কারনে প্রথম ৩০০ পৃষ্ঠা পড়তে এক মাস লাগলেও শেষ ৩৫০ পৃষ্ঠা ৩দিনে শেষ করেছি। বইয়ে গল্পের সাথে সামঞ্জস্য বেশ কিছু সুন্দর সুন্দর আর্ট আছে যেগুলো বই পড়ার সময় কল্পনার মাত্রা আরো বাড়িয়ে দেয়। সব মিলিয়ে আমার কাছে ভালো লেগেছে বইটা। লেখক এবং চিরকুট প্রকাশনীর জন্য শুভকামনা।
Profile Image for Jawad  Ul Ul.
Author 8 books43 followers
June 21, 2022
“Empathy is seeing with the eyes of another, listening with the ears of another and feeling with the heart of another.” – Alfred Adler.

সাত বছরের প্রেমের সম্পর্ক একদিন দুম করে ভেঙ্গে যায়, প্রেমিক অতিষ্ট হয়ে ছেড়ে দেয় প্রেমিকাকে। শ্রেণীর সবচেয়ে আশাবাদী ছেলেটা একদিন হঠাৎ করেই মৃত্যুর খবর জানিয়ে দেয়, সহপাঠি থেকে বন্ধুরা সবাই অবাক হয়ে যায়। দশ বছর ধরে মানুষটাকে চেনে সে, কিন্তু আজকাল চিনতে পারে না- কেমন যেন খিটখিটে স্বভাবের হয়ে গেছে লোকটা। কেন হয় এমন? কেন আমরা যা কখনো ভাবি না তা হঠাৎ করেই হয়ে যায়। কেন একটা সুন্দর সম্পর্কের ইতি ঘটে? কেন পরিচিত মানুষটা সময়ের কোলে হারিয়ে যায়? কেন চেনা লোকটা ধীরে ধীরে অচেনা হয়ে উঠে?

রুক্ষ দুপুরের স্নান আর খাবার শেষে যখন এক প্রাণহীন বিকেলে আপনি ছাদে বসে এসব ভাবছেন, তখন ‘আশিয়ানী’ যেন একটা স্নিগ্ধ হাওয়া হয়ে আপনার আপাদমস্তক শরীরে পরশ বুলিয়ে যায়, চুলগুলো প্রেমিকার মতো করে নেড়ে দেয়। দমকা বাতাসের ছোঁয়া পেয়ে আপনার ঠোঁটের কোণে বাঁকা রেখা ফুটে উঠে। আপনি বুঝতে পারেন, আপনার প্রশ্নগুলোর উত্তর ‘আশিয়ানী’ দিতে পারবে।

যে কোনো সম্পর্ক যদি একটি ছাতা হিসেবে ধরে নেওয়া যায়, তাহলে এই ছাতার ভিতরে এমন অনেক কিছু আসে যা একটি সম্পর্ককে টিকিয়ে রাখে। সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে ভালোবাসা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, সেই ভালোবাসার সাথে শ্রদ্ধা, বিশ্বাস থাকাটাও সমান জরুরি। আর তার সাথে সবচেয়ে বেশি যে জিনিসটা জরুরি তা হলো একে অপরকে বুঝতে পারা, যাকে সংক্ষেপে সহমর্মিতা বলা যায়। এক জীবনে ভালোবাসার সাথে আপনি সহমর্মিতা না পেতে পারেন, কিন্তু সহমর্মিতার সাথে যে ভালোবাসা পাওয়া যায় তা আমাদের রাজকুমারী খুব সুন্দর করেই দেখিয়ে দিয়েছে।

পুরো পৃথিবী থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলা অন্বয়কে দেখে যেন আমি নিজেকে খুঁজে পাই, অনেকেই খুঁজে পায়। কাছের মানুষগুলো কাছে থেকেও যেন নেই। অনেকে অনেক কিছু বুঝেও যেন বোঝে না। চারপাশটা নিজেদের গতিতে চলতে থাকে, অন্বয়ের মতো ছেলেগুলো সমান তালেই নিজেদের গুটিয়ে নেয়। অথচ একদম একা হয়ে যাওয়ার ভয়ে তারা সবাইকে উপেক্ষাও করতে পারে না। মানুষগুলোর এহেন দূর্বল সময়ে এমন একজনের দরকার হয় যে কিনা তাদের বুঝবে, তাদের এগিয়ে যেতে সাহায্য করবে। অন্বয়ের জীবনে আশিয়ানী তেমন ছিল।

আশিয়ানী কিন্তু অন্বয়ের জীবনে খুব বিশেষ কোনো ব্যক্তি ছিল, তা কিন্তু না। আপনি যদি ভালো করে লক্ষ্য করেন, তাহলে বুঝতে পারবেন সহমর্মিতার অর্থটা তারা দুজন যৌথভাবে স্বার্থকতার সাথে ব্যাখ্যা করেছে। আশিয়ানী কিন্তু কখনোই অন্বয়কে সাহায্য করতে সক্ষম হতো না, যদি না অন্বয় তার দিকে সমান নজর দিতো। যদি না অন্বয় মেয়েটাকে নিজেকে বুঝতে দিতো। চারপাশে সম্পর্কগুলো যখন ভাঙতে দেখি তখন এই জিনিসটারই অভাব খুঁজে পাই। স্ত্রী ঘরের এক কোণায় বসে থাকে গাল ফুলিয়ে থাকে, স্বামী আগের মতো কেন রাগ ভাঙায় না, এই ভেবে। প্রেমিক, বন্ধুদের পাশে বসে আফসোস করে, বোঝায় ক্রমে ক্রমে বাড়তে থাকা প্রেমিকার জ্বালা। এভাবে একটা সময় একজন আরেকজনকে বুঝতে না দেওয়ার কারণে তারা দূরে সরে আসে। আত্মহত্যা করার আগে ছেলেটি যখন ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেয় যে তার কোনো বন্ধু নেই, এই মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়। তখন সবাই বলে, আজ প্রকৃত বন্ধু নেই বলে এই অবস্থা। কিন্তু আমরা কি কখনো ভেবে দেখেছি, যে মানুষগুলো এতটা হতাশায় ভোগে, তারা কি আদৌ নিজেদের সব কথা বলতে চায় কিনা? বুঝতে দিতে চায় কিনা? বন্ধুদের কাছে বলতে চায় কিনা যে তার মনে কী অবস্থা চলছে?

সবটা কিন্তু একসাথে হয় না। দু’দিক থেকেই সমানভাবে প্রচেষ্টা চালাতে হয়। অন্বয় আশিয়ানীর দিকে সমান গুরুত্ব দিয়েছিল বলেই মেয়েটা তাকে জীবনে এতটা এগিয়ে দিতে পেরেছিল। সহমর্মিতার এমন সুন্দর উদাহরণ দেখে আমি আকাশপানে চেয়ে থাকি। ভাবি সহমর্মিতা কি শুধু একজন আরেকজনকে বুঝতে পারাতেই সীমাবদ্ধ? ত্যাগ স্বীকার করাটা কি এড়িয়ে যাওয়া যায়?

আশিয়ানী তো পারেনি। উপন্যাসের প্রথম থেকে দেখে আসা সেই দক্ষ, চতুর এবং সাহসী মেয়েটাকে আমরা ভেঙ্গে পড়তে দেখি। আমরা দেখি, কীভাবে জীবন তার মতো এত সুন্দর মনের মানুষকে সবচেয়ে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি করে দেয়। একটা শক্ত ও পাকাপোক্তভাবে তৈরি করা চরিত্র পুরো গল্প জুড়েই নিজের প্রভাব ছড়িয়ে গেছে। তারপর দুম করেই যেন তাকে নড়ে বসতে হলো। বাস্তবতার মুখোমুখি হয়ে তাকে বুঝতে হলো পৃথিবীটা এত সহজ নয়। Everything comes at a price.

প্রথম থেকে অন্বয়ের যে চরিত্র ভ্রমণ আমরা দেখি, তা আমাদের শিক্ষা দেয় সহমর্মিতার। আর শক্তভাবে গঠিত চরিত্র আশিয়ানীকে গল্পের তৃতীয় অংশে এসে যে যন্ত্রণার শিকার হতে দেখি তা আমাদের শিক্ষা দেয় ত্যাগ শিকার করার। আমরা বুঝতে পারি, মন খারাপটুকু খালি নিজের মধ্যে রাখলেই হয় না, অন্যকে জানাতে হয়। আমরা বুঝতে পারি, একটা মানুষকে সাহায্য করার পথ সবসময় সোজা হয় না, সেখানে বাঁধা উপেক্ষা করা প্রায় অসম্ভব।

আশিয়ানীকে প্রথম থেকেই আমাদের বিশেষ মনে হয়। ভাবি এত ভালো কেউ কি হয়? তারপর যখন শেষভাগে এসে আমরা হতবিহ্বল মেয়েটাকে দেখি, তখন আমাদের মনে পড়ে, আরে এতো আমরা এক কিশোরীর কাহিনী পড়ছিলাম। এমন পরিস্থিতিতে একটা কিশোরী মেয়ে এর চেয়ে আর কতটুকু ভালো সিদ্ধান্ত নিতে পারতো?

‘আশিয়ানী’র পৃথিবীটা সুগঠিত, সুগঠিত এর চরিত্রগুলো। আমরা দেখি ক্ষমতার লোভে পাগল হওয়া মত্ত মানুষকে। বুঝতে পারি নিজের খুঁটি শক্ত রাখার জন্য একজন বাবাও হারতে পারে। ক্ষমতাকে টিকিয়ে রাখতে বাবা থেকে হতে পারে রাজা। বাস্তবতার একটা কঠিন সত্য আমাদের চোখের সামনে দিয়ে যেন চক্রাকারে ঘুরে যায়। ক্ষমতা, ভারসাম্য, মঙ্গল, ভালোবাসা, সবকিছুই যেন নিজেদের সাথে ত্যাগ শব্দটিকে জড়িয়ে রাখে। যেন এসব কিছুর কোনোটাই কেউ ত্যাগ ছাড়া অর্জন করতে পারে না।

এই উপন্যাসের পুরো গল্পগঠন খুব সুন্দর, বেশিরভাগ চরিত্র সুগঠিত, কিছু উপকাহিনী একটু বেশি এক্সাগেরেটেড, রাজনীতিগুলোও ভয়ঙ্কর সুন্দর, আগ্রহ জাগানীয়া এর ইতিহাস।

উপন্যাস শেষ করে আমরা থম মেরে বসে থাকি। আমাদের মনে বিভিন্ন প্রশ্ন জাগে। ভাবি বেঁচে থাকার মূলমন্ত্র কী? বৃহত্তর উদ্দেশ্যে নেওয়া সিদ্ধান্তটা নিয়ে এখানে কে ত্যাগ স্বীকার করল? জাদুকর ইদলিন? রাজা আরসালান? চোখ ফিরিয়া নেওয়া রাণী জেহনিয়া, আশিয়ানী, নাকি আমাদের সবার প্রিয় এথেনা?

পশ্চিমের দিগন্ত শেষে অস্তগামী সূর্য ধীরে ধীরে লুকাতে থাকে। আমরা বসে থাকি ছাদে। চলমান বাতাসে ফড়ফড় করে উল্টাতে থাকে উপন্যাসের পাতা। আমরা বুঝতে পারি, ‘আশিয়ানী’ কোনো কঠিন কথা বলতে চায় না। মুখের উপর দেখাতে চায় না জীবনের সবচেয়ে কড়া সত্যগুলো। ‘আশিয়ানী’ আসলে এক মন খারাপের বিকেলে এক কাপ গরম চায়ের মতো। চুমুক দিয়ে খাবেন, তারপর একরাশ ভালো লাগা নিয়ে তাকিয়ে থাকবেন দিগন্তের প্রান্তরে।

বই : আশিয়ানী
লেখক : জুলিয়ান
প্রকাশনী : চিরকুট
প্রথম প্রকাশ : ১৮ মে, ২০২২
পৃষ্ঠা সংখ্যা : ৬৫৬
মুদ্রিত মূল্য : ৮০০
Profile Image for Kazi Hasan Jamil.
61 reviews20 followers
February 23, 2024
"𝙴𝚖𝚙𝚊𝚝𝚑𝚢 𝚒𝚜 𝚜𝚎𝚎𝚒𝚗𝚐 𝚠𝚒𝚝𝚑 𝚝𝚑𝚎 𝚎𝚢𝚎𝚜 𝚘𝚏 𝚊𝚗𝚘𝚝𝚑𝚎𝚛, 𝚕𝚒𝚜𝚝𝚎𝚗𝚒𝚗𝚐 𝚠𝚒𝚝𝚑 𝚝𝚑𝚎 𝚎𝚊𝚛𝚜 𝚘𝚏 𝚊𝚗𝚘𝚝𝚑𝚎𝚛, 𝚊𝚗𝚍 𝚏𝚎𝚎𝚕𝚒𝚗𝚐 𝚠𝚒𝚝𝚑 𝚝𝚑𝚎 𝚑𝚎𝚊𝚛𝚝 𝚘𝚏 𝚊𝚗𝚘𝚝𝚑𝚎𝚛."
- 𝙰𝚕𝚏𝚛𝚎𝚍 𝙰𝚍𝚕𝚎𝚛

সেভিদোনিয়া রাজ্যের রাজকুমারী আশিয়ানী আরনোমিয়েল এক রহস্যের পিছনে ছুটতে ছুটতে পৌছে যায় এমন একটা জায়গায় যা তার জীবনাচরণকে বদলে দেয় চিরদিনের জন্য! সেই সাথে বদল��� যায় আরও একটি জীবন।
.
এদিকে সেভিদোনিয়ায় হঠাৎ করেই একের-পর-এক অযাচিত ঘটনা ঘটে চলেছে, যা নিয়ে ক্রমেই উদ্বিগ্ন হয়ে উঠছে রাজা আরসালান আরনোমিয়েল। রাজপ্রাসাদের প্রধান সেনাধ্যক্ষ আরহাম মেনদারকে সাথে নিয়ে সেইসব সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করতে থাকেন তিনি, যার সাথে একসময় জড়িয়ে ফেলা হয় আশিয়ানীকেও। সিংহাসনের পরবর্তী উত্তরাধিকারী হিসেবে তার উপরও চাপ বাড়তে থাকে। অভিজাতদের সাথে রাজকুমারীর নীরব যুদ্ধ প্রকাশ্যে চলে আসে হঠাৎ!
.
ইলদারাম পর্বতমালার উত্তরাংশ কেন হঠাৎ উত্তপ্ত হয়ে উঠলো? রাজধানী সোভিয়ানেই বা এমন অযাচিত ঘটনা কারা ঘটালো? প্রাচীন জাদুকর সংঘের একজন প্রকৃতিসাধিকা ঠিক কিসের আশংকা করছে? আরনোমিয়েল সেনাবাহিনী এবং রাখশামান সেনাদলকে কেন হঠাৎ করে তলব করার প্রয়োজন পড়লো? হরিৎসেনারাই বা কী নিয়ে কাজ করছে? রাজবৃক্ষ আরনীমিশিল এর কী ভূমিকা রয়েছে আরনোমিয়েল রাজবংশের উত্থানের পেছনে?
আর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, এসব ঘটনা আশিয়ানীর সাথেই বা কতটুকু জড়িত?
.
এসব প্রশ্নের উত্তর রয়েছে প্রাচীন রহস্য, রাজনৈতিক কূটকৌশল, সমরকৌশল, বিশ্বাসঘাতকতা এবং নিয়তির মিশেলে গঠিত বিশাল প্রেক্ষাপটের ফ্যান্টাসি উপন্যাস 'আশিয়ানী' তে।
.
.
◑ পাঠ প্রতিক্রিয়া:
.
কিছু বই আছে যা লোকে পড়ে, মজা নেয়, তারপর কোনো একদিন দিবাবসানে স্মৃতি হারিয়ে দেউলিয়া হয়ে যায়। আর কিছু বই আছে যা লোকে পড়ে, মজা নেয়, তারপর সারা জীবন মনে রাখে। আশিয়ানী দ্বিতীয় ধরনের বই। ❞ - আশরাফুল সুমন
.
আশিয়ানী, বর্তমান সময়ে ছাপার অক্ষরে বাংলাদেশের সবথেকে বড় মৌলিক ফ্যান্টাসি উপন্যাস। বিভিন্ন কর্ম ব্যস্ততার কারণে প্রায় ২০ দিন লাগলো বইটা পড়তে। কিন্তু আশিয়ানী আসলে ২-৩ দিনের মাঝে পড়ার মতো একটা বই। বইয়ের একদম সূচনালগ্ন থেকে অন্তিমলগ্ন পর্যন্ত বইয়ের বিভিন্ন ঘটনা প্রবাহ পাঠককে বইয়ের পাতায় আটকে রাখবে। তো এসব না বলে মূল আলোচনায় প্রবেশ করা যাক।
.
আশিয়ানী মূলত একটা পোর্টাল ফ্যান্টাসি। পোর্টাল ফ্যান্টাসিতে সাধারণত কোনো বিশেষ এক মাধ্যম থাকে যা দুইটা সম্পূর্ণ ভিন্ন ওয়ার্ল্ডের মাঝে দরজা হিসেবে কাজ করে। যেই পোর্টাল ইউজ করে একজন মানুষ খুব সহজেই এক ওয়ার্ল্ড থেকে আরেক ওয়ার্ল্ডে যেতে সক্ষম হয়। পোর্টাল ফ্যান্টাসিতে দুই ধরনের ওয়ার্ল্ড থাকে, প্রাইমারি ও সেকেন্ডারি ওয়ার্ল্ড। প্রাইমারি ওয়ার্ল্ড হয় আমাদের বর্তমান আধুনিক দুনিয়ার মতো এবং সেকেন্ডারি ওয়ার্ল্ড মূলত মধ্যযুগীয় ধাঁচে তৈরী ভিন্ন এক দুনিয়া। তো এখানেও সেই এক বিশেষ মাধ্যমে সেভিদোনিয়া রাজ্যের রাজকুমারী আশিয়ানী আরনোমিয়েল সেকেন্ডারি ওয়ার্ল্ড ছেড়ে প্রাইমারি ওয়ের্ল্ডে এসে পরে, যেখানে বিভিন্ন বাধা বিপত্তি পেড়িয়ে তার পরিচয় হয় ১০ম শ্রেণীতে অধ্যয়নরত অন্বয় এবং অন্বয়ের বাড়িতে থাকা লক্ষ্মীপেঁচা এথেনার সাথে। এরপর এই "আশিয়ানী" কে কেন্দ্র করেই এই বিশাল উপখ্যান রচিত হয়।
.
শুরুতেই প্রাইমারি ওয়ার্ল্ডে বসবাস করা অন্বয়ের কথায় আসি। অন্বয়ই মূলত এই প্রাইমারি ওয়ার্ল্ডের ম্যাকগাফিন। বহুমূখী প্রতিভা সম্পন্ন অন্বয় আসলে ইন্ট্রোভার্ট প্রকৃতির। নিজের মধ্যে অসংখ্য গুণ থাকলেও তা প্রকাশ হতে দেয়নি কারো সামনে, সব সময় নিজেকে গুটিয়ে রাখতো। এর পিছনের কারণ তার বাবা-মায়ের পারিবারিক কলহ। যা তার সুষ্ঠূ সামাজিকিকরণে প্রধান অন্তরায় হয়ে দাড়িয়েছে সেই ছোটবেলা থেকেই। পাশাপাশি পরিবারে আর কোনো ছোট বা বড় ভাই বোন না থাকায় বেশিরভাগ সময় ঘরে একাকী থাকতো। এভাবেই ধীরে ধীরে ওর মানসিকতায় অনেক পরিবর্তন আসে। এই চুপচাপ স্বভাবের কারণে স্কুলে প্রায়ই ওকে বুলিং এর শিকার হতে হয়েছে। এগুলোও মুখ বুজে সহ্য করেছে। পাশাপাশি আমাদের সমাজব্যবস্থায় ছেলে-মেয়েদের বিশেষ করে এই বয়সটায় একাডেমিক ভাবে অনেক প্রেশারের মধ্য দিয়ে যেতে হয় আর প্রাকৃতিক ভাবে শরীরবৃত্তীয় অনেক পরিবর্তন আসে, যা মানসিকভাবেও প্রভাব বিস্তার করে। তো সব মিলিয়ে যখন এরকম একটা পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হয় তখন ছেলেমেয়েরা অনেকটাই ডিপ্রেসড হয়ে পরে। এই সময়টাতে যেমন পরিবারের সাথে বেশি বেশি সময় কাটানো উচিৎ তেমনি বাবা-মায়ের উচিৎ সন্তানকে সময় দেওয়া। কিন্তু এখানেও সমস্যা হয়ে দাঁড়ায় আমাদের সমাজব্যবস্থা। বিভিন্ন কারণে বাবা-মাও আলাদা করে সময় দিতে পারে না, আবার সন্তানরাও মুখ ফুটে কিছু বলতে পারে না, তার উপর অন্বয়ের বাবা-মায়ের মধ্যকার সম্পর্ক অতোটা ভালো না হওয়ায় দু'জন এর সাথেই অন্বয়ের বেশ অনেকটাই দূরত্ব বেড়ে যায়। এরকম একটা অবস্থায়ই ওর পরিচয় হয় সেকেন্ডারি ওয়ার্ল্ডের সেভিদোনিয়া রাজ্যের রাজকুমারী আশিয়ানী আরনোমিয়েলের সাথে, যে কিনা পরবর্তীতে ওর গাইড বা অভিভাবক হিসেবে কাজ করে। ওর কাউন্সেলিং করে, ওর বিভিন্ন পারিবারিক, সামাজিক সমস্যা সমাধানে ওকে সাহায্য করে। ধীরে ধীরে ওর মাঝে পরিবর্তন আসতে শুরু করে বা আরো ভালো ভাবে বললে আশিয়ানীর বিভিন্ন কথা মেনে চলার মাধ্যমে অন্বয় নিজেকে পরিবর্তন করে, ও যার নাম দিয়েছে "আশিয়ানী ইফেক্ট বা আশিয়ানী প্রতিক্রিয়া"। আমি মনে করি, আমাদের প্রত্যেকের জীবনেই এই আশিয়ানী ইফেক্টটা প্রয়োজন, এই বয়সটায় একজন গাইড প্রয়োজন সেটা বাবা-মা হোক বা অন্য কেউ। হোক না সে ভালো কোনো বন্ধু, যার সাথে সব কিছু শেয়ার করা যাবে। এপিজে আবদুল কালাম বলেছেন,
.
❝একটি বই একশটি বন্ধুর সমান। কিন্তু একজন ভালো বন্ধু পুরো একটি লাইব্রেরির সমান।❞
.
ঠিক এমনই একজন আদর্শ বন্ধু হিসেবে অন্বয়ের জীবনে এসেছে আশিয়ানী। প্রাইমারি ওয়ার্ল্ডের এই অন্বয়ের কাহিনী অনেকের কাছে স্লো লাগতে পারে, কিন্তু অন্বয়ের যে পরিবর্তন হয়েছে তা দ্রুত হওয়া সম্ভব নয়। এই অংশটা এই বইয়ের অন্যতম ভাইটাল পয়েন্ট।
.
পাশাপাশি আশিয়ানী আর এথেনার জুটিটার জন্যই বইটা আরো সুখপাঠ্য হয়েছে৷ আশিয়ানী আর এথেনার ভালোবাসা, খুনসুটির অংশগুলোও ভালো ছিল। আশিয়ানীকে দেখে আমিও এখন একটা এথেনার অভাব অনুভব করছি...
.
তো যাই হোক বইটা পড়ার সময় সেকেন্ডারি ওয়ার্ল্ড সেভিদোনিয়ার অংশগুলোও বেশ উপভোগ করেছি। লেখক যথেষ্ট সময় নিয়েছেন ওয়ার্ল্ড বিল্ড আপের জন্য। পাশাপাশি খুঁটিনাটি সব কিছু লেখক তুলে ধরেছেন। যার জন্য খুব সহজেই সবকিছু ভিজুয়ালাইজ করতে পেরেছি। এক্ষেত্রে বইয়ের সাথে থাকা সেভিদোনিয়ার ম্যাপ আর মানানসই ইলাস্ট্রেশন গুলোও দারুণ ভূমিকা পালন করেছে। আর যে পোর্টালের মাধ্যমে আশিয়ানী যাওয়া আসা করতো সেই পোর্টালের ম্যাকানিজমটা কিছুট জটিল লেগেছে আমার কাছে। হাজার হোক প্রাচীন রাজকীয় আমলের স্থাপনা। প্রথমে জটিল ভাবে উপস্থাপন করলেও পরবর্তীতে আর এতো কিছুর ডিটেইলড বর্ণনা ছিল না। আসলে এই আসা যাওয়াটাকে সহজ করতেই মূলত প্রথমে সবকিছু এতো ডিটেইলে বর্ণনা করেছেন। যেহেতু রাজতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থা আর সেভিদোনিয়া একটা বিশাল সাম্রাজ্য, তাই সিংহাসন এবং এর উত্তরাধিকারকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন ষড়যন্ত্র, রাজনীতি ছিল বই জুড়ে চোখে পড়ার মতো। এসব রাজনৈতিক মারপ্যাঁচ এর কারণে বইটি আরো উপভোগ্য হয়েছে।
.
পাশাপাশি লেখক এই বইয়ে বাঙালি নারীদের ঐতিহ্য, আভিজাত্যের প্রতীক, রুচিসম্পন্ন, সুস্মিত ও কারুকার্যময় পোশাক, শাড়ির ব্যাপারটা তুলে ধরেছেন। একটা ফ্যান্টাসি বইয়ের মাধ্যমে লেখক দারুণ ভাবে বাঙালি ঐতিহ্যকে প্রকাশ করেছেন।
.
ফ্যান্টাসি বইটার মাধ্যমে লেখক জুলিয়ান আসলে আমাদের সমাজেরই কিছু চিত্র তুলে ধরেছেন। আমাদের জীবনের কিছু গল্প তুলে ধরেছেন। বইটা পড়ার সময় বার বার মনে হচ্ছিল, আরে এরকম তো শুনেছি, কিছু কিছু ঘটনা তো স্বচক্ষে দেখেছিও। দিন শেষে আশিয়ানী কী শুধুই লেখকের কল্পনার রাজ্যের কাহিনী নিয়ে তৈরী ফ্যান্টাসি উপন্যাস? না। তাহলে কী আছে এই বইয়ে? এখানে আছে জীবন বদলে দেওয়ার গল্প, এখানে আছে স্বপ্ন ভেঙে যাওয়ার গল্প, আছে মানুষের দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া ভঙ্গুর অবস্থা থেকে পুনরায় ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প, সমাজের বাস্তবিকতার গল্প। আরো আছে সিংহাসন নিয়ে লড়াইয়ের গল্প, উত্থান-পতন, সংগ্রাম, রাজনৈতিক মারপ্যাঁচ, কুটনীতি, সমরনীতি, বিশ্বাস ঘাতকতা, নিষ্টুরতা এবং পৃথিবীর সবথেকে শক্তিশালী অস্ত্র "ভালোবাসা"র গল্প।
.
.
◑ চরিত্রায়ন:
.
আশিয়ানী, যে সময়ে বইটির রিভিউটি লিখছি সে সময়ে ছাপার অক্ষরে বাংলাদেশের সবথেকে বড় ফ্যান্টাসি উপন্যাস। যেহেতু কাহিনীর ব্যপ্তি বিশাল পরিসরে তাই লেখক এখানে অসংখ্য চরিত্রের অবতারণা করেছেন। যেমন: সেভিদোনিয়া রাজ্যের রাজকুমারী আশিয়ানী আরনোমিয়েল, রাজা আরসালান আরনোমিয়েল, রাজপ্রাসাদের প্রধান সেনাধ্যক্ষ আরহাম মেনদার, রাশমান আরনেথি, অন্বয়, নোমান, নাফিস সাদেকিন, এথেনাসহ আরো অনেক। চরিত্রায়নের বিষয়ে বলতে গেলে আমি বলতে বাধ্য যে প্রতিটা চরিত্রকেই লেখক দারুণ ভাবে তুলে ধরেছেন। কিছু কিছু চরিত্র বাস্তবতার খুব কাছে। যেমন: এখানে একজন চরিত্র আছে, যার সাথে আমার একজন পরিচিত মানুষের প্রায় ৯০% মিল! শিক্ষা জীবনে অনেকটা একই ধরনের ট্র‍্যাজেডি, স্বপ্নকে ছোঁয়ার তীব্র ইচ্ছা এবং যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও স্বপ্ন খান খান হয়ে ভেঙে যাওয়া, একই স্বপ্ন ভেঙে যাওয়ার পর প্রফেশনাল লাইফে একই পেশায় যুক্ত হওয়া, বৈবাহিক জীবনের একই পরিণতি...। এতো মিল কীভবে সম্ভব বাস্তব কোনো চরিত্র আর লেখকের র‍্যান্ডমলি তৈরী করা ফিকশনাল চরিত্রের মধ্যে এটা ভেবেই আমি অনেক অবাক হয়েছি। প্রতিটা চরিত্রকেই লেখক একদম নিখুঁত করে তৈরী করেছেন। কিছু কিছু চরিত্রকে তো লেখক প্রতিকীরূপে উপস্থাপন করেছেন। যেমন: আশিয়ানী স্ট্রাগল এর প্রতীক, এথেনা ত্যাগের প্রতীক, অন্বয় দুর্বলতা, পরিবর্তনের প্রতীক, নীরামা শ্বাশত মাতৃত্বের প্রতীক। এছাড়া শ্বেতকী, হরিৎসেনা এদের কিছুটা রহস্যময় করে তৈরী করা হয়েছে। আশিয়ানী আর এথেনার পর সবথেকে বেশি ভালো লাগছে রাজা আরসালান আর প্রধান সেনাধ্যক্ষ আরহাম মেনদারকে। দুইটা চরিত্রই নিজ নিজ যায়গা থেকে সেরা। আর বইয়ে বিভিন্ন সময়ে কিছু সংলাপ দেখে এটা বেশ ভালোভাবেই বোঝা যায় যে উইমেন সাইকোলজিটা লেখক বেশ ভালোই বোঝেন, এর জন্যই নারী চরিত্রগুলোকে তিনি এতো বাস্তবিকভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন।
.
বইয়ে একটা জিনিস লক্ষণীয়, আশিয়ানী প্রায়ই বিভিন্ন ফিলোসোফিক্যাল কথাবার্তা বলেছে অন্বয়কে। আশিয়ানীর মাধ্যমে লেখক আসলে নিজের জীবনবোধ, জীবনাদর্শ, দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করেছেন। তেমনই কিছু কথা আমি রিভিউর শেষে প্রিয় কিছু অংশ নামক প্যারায় দিয়ে দিব। তো যাই হোক, যেহেতু আশিয়ানী এই বইয়ের মূল প্রোটাগনিস্ট, তাই এই চরিত্রটা এমনিতেই অনেক গুরুত্বপূর্ণ। তবে আশিয়ানীর মুখনিঃসৃত কথার মাধ্যমে এমন ফিলোসোফিক্যাল কথা বার্তা বলানোর কারণে এই চরিত্রটা আরো অর্থবহ হয়ে উঠেছে বলে আমি মনে করি। সব মিলিয়ে চরিত্রায়ন অনেক ভালো ছিল, কিছু কিছু চরিত্রকে অনেকদিন মনে থাকবে।
.
◑ লেখনশৈলী:
.
লেখক জুলিয়ানের লেখা আমার পড়া প্রথম বই এটা। আর প্রকাশকাল হিসেবে এটি লেখকের দ্বিতীয় বই। তবে লেখনশৈলী বেশ ম্যাচিউর। শব্দচয়, বাক্যগঠন সাদামাটা হলেও উপভোগ্য ছিল৷ যায়গা বিশেষ লেখনীতে আভিজাত্যের ছাপ ছিল বিশেষ করে রাজকীয় বর্ণনাগুলোতে। জড়তা ছাড়া, মেদহীন, ঝরঝরে লেখা।
.
◑ বানান ও সম্পাদনা:
.
বইটার সম্পাদনার দায়িত্বে ছিলেন আরেক ফ্যান্টাসি লেখক আশরাফুল সুমন। পুরো বই জুড়ে টাইপো, বানানগত, ভাষাগত, ব্যাকরণজনিত সমস্যা ঠিক করার দায়িত্বে ছিলেন। ৬৫৬ পৃষ্ঠার একটা সুবিশাল বই হওয়া সত্ত্বেও কেন জানি আমার একটা ভুলও চোখে পড়েনি। হয়তো কাহিনীতে ডুবে ছিলাম তাই খেয়াল করিনি নয়তো আদতেই কোনো ভুল নেই। যেটাই ঘটুক না কেন, দুইটাই প্রশংসার দাবিদার।
.
◑ প্রচ্ছদ, প্রোডাকশন কোয়ালিটি এবং অন্যান্য:
.
নিজেই জনপ্রিয় প্রচ্ছদশিল্পী হওয়াতে নিজের বইয়ের প্রচ্ছদও লেখক নিজেই করেছেন। বইটার প্রচ্ছদটা খুবই ইউনিক এবং প্রচ্ছদেই একটা রাজকীয় ভাব আছে।
বইটা প্রকাশিত হয়েছে নান্দনিক প্রোডাকশন এর জন্য খ্যাত চিরকুট প্রকাশনী থেকে। এই বইয়ের প্রোডাকশনের ক্ষেত্রেও চিরকুট তাদের নান্দনিকতা বজায় রেখেছে।
বইয়ের সাথে রয়েছে সেভিদোনিয়ার ম্যাপ এবং দারুণ কিছু ইলাস্ট্রেশন। ইলাস্ট্রেশন গুলো করেছেন মুজনাবিন আহমেদ আপন, বি এম সাকিব, মোহাইমিন তূর্য, ওয়াসিফ নূর ও মুসলিমা মুক্তা। ইলাস্ট্রেশনগুলো বইটাকে আরো আকর্ষণীয় ও সমৃদ্ধ করেছে।
.
◑ বইটির প্রিয় কিছু অংশ:
.
"ভালোবাসার বৈশিষ্ট্যই এমন। কোনো যুক্তি, কোনো অনুশাসনের বাঁধনে বাঁধা যায় না একে। যখন আসে, তখন সবকিছু মাড়িয়ে দাম্ভিকভাবেই আসে।"
.
"মানুষের প্রতিটা অস্বাভাবিক আচরণের পিছনে বড় বা ছোট কোনো না কোনো ঘটনা বা অপূর্ণতা থাকে।"
.
"সাহসী হওয়া মানে ভয়হীন হওয়া নয়, সাহসী হওয়ার অর্থ হলো ভয়কে দাবিয়ে রেখে নিজের দায়িত্বে ব্রতী হওয়া, সামনে এগোলে বিপদ হতে পারে জেনেও এগিয়ে যাওয়া। আর এখানেই একজন সাধারণ মানুষের সাথে একজন বীরের পার্থক্য।"
.
"আমরা অনেকে নিজের যে বর্তমান অবস্থান বা অবস্থা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করি, কষ্ট পাই, ঠিক সেটাই আরেকজনের কাছে বেশ আরাধ্য একটা জীবন।"
.
.
◑ পরিশেষে:
.
পাঠ প্রতিক্রিয়া অংশেই বলে এসেছি, লেখক আসলে আশিয়ানী বইটার মাধ্যমে মানুষদের মোটিভেশন দিতে চেয়েছেন। কিছু জানাতে চেয়েছেন একসাথে অনেক মানুষকে, যা বইয়ের মাধ্যমেই সম্ভব। "আশিয়ানী" বইটায় লেখক বিভিন্ন ফ্যান্টাসিকাল টার্ম ইউজ করছে, এই ফ্যান্টাসিকাল টার্মের মধ্য দিয়েই লেখক আমাদের চারপাশে প্রতিনিয়ত ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ঘটনার কথা বলতে চেয়েছেন, যা হয়তো আমরা দেখি, কিন্তু কখনো ভাবি না, একটু ভিন্ন দৃষ্টিতে তাকাই না, বোঝার চেষ্টা করি না। এসব বিষয় নিয়ে আরেকটু গভীরভাবে ভাবানোই এই বইয়ের মূল উদ্দেশ্য বলে আমার মনে হয়েছে। সোজা কথায় ফ্যান্টাসিকাল উপাদানকে লেখক অনেকটা প্রলেপ হিসেবে ব্যবহার করেছেন। তাই যদি কেউ শুধুমাত্র দারুণ কিছু চরিত্র, একটা দারুণ ফ্যান্টাসি ওয়ার্ল্ড, ম্যাজিকাল টার্ম, টুইস্ট, পাতায় পাতায় থ্রিল, রোমাঞ্চ, ক্লাইম্যাক্স এসব চান তাহলে এই বইটা আপনার জন্য না। এর মানে এই না যে আশিয়ানীতে এসব নেই, আছে, কিন্তু পাশাপাশি আরো অনেক কিছু আছে। সম্পাদকের ভাষায়, "আপনি যদি শান্ত নদীর পাড়ে বসে মৃদুমন্দ হাওয়ায় ভাবাবেগে আক্রান্ত হতে চান, তাতে নৌকা ভাসিয়ে নির্দিষ্ট কোনো গন্তব্য মাথায় না নিয়ে স্রেফ নৌকাটাকে বিশ্বাস করে চারপাশের সৌন্দর্য দেখতে দেখতে ভ্রমণ উপভোগ করতে চান, তবে আপনিই এই বইটির টার্গেট অডিয়েন্স। বইটি হাতে নিন, আপনার ভালো লাগবে।"
.
◑ ব্যাক্তিগত রেটিং: ৫/৫

◑ বই পরিচিতি:
▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬
➠বইয়ের নাম : আশিয়ানী
➠লেখক : জুলিয়ান
➠জনরা : ফ্যান্টাসি, ড্রামা, এ্যাডভেঞ্চার
➠প্রকাশকাল : ২০২২
➠প্রকাশনী : চিরকুট প্রকাশনী
➠প্রচ্ছদশিল্পী : জুলিয়ান
➠পৃষ্ঠাসংখ্যা : ৬৫৬
➠মুদ্রিত মূল্য : ৮০০ টাকা
Profile Image for আচার্যী পিউ.
12 reviews5 followers
June 13, 2022
আশিয়ানী শুধু একটা বই না আমার কাছে এর চেয়ে অনেক বেশী কিছু। আর এই লেখাটাকে ঠিক রিভিউ বলা যায় কিনা সে বিষয়ে সন্দেহ আছে আমার। তার চেয়ে বরং একে আশিয়ানীর প্রতি আমার একান্ত নিজস্ব ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ বলা যায়।

আশিয়ানী হচ্ছে অনেকটা স্বপ্নের মত। এম��� একটা বই যার নিজস্ব একটা সত্তা আছে বলা যায়। আপনি যদি আশিয়ানী পড়ে ঘুমুতে যান তাহলে নিশ্চিত স্বপ্নে দেখবেন আপনি ‘এথেনা’র পিঠে চড়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। এই বইটা পড়তে গেলে তাড়াহুড়া করা চলবেনা। পানিতে ভাসার মত নিজেকে ভাসিয়ে দিতে হবে। কি নেই এতে যুদ্ধ, মিশন ইম্পসিবলের মত এডভেঞ্চার ,মারাত্মক বুদ্ধিমত্তা দিয়ে একের পর এক বাধা টপকে যাওয়া, দায়িত্বশীল হওয়া, স্যাক্রিফাইস, ভালোবাসা, অসাধারণ ব্যক্তিত্ত্বের দৃঢ়তা। সব সব সব।একটা কমপ্লিট প্যাকেজ আশিয়ানী। আর আমার এথেনা। আহ এথেনা। একটা পাখির ভালোবাসা যে এরকম হতে পারে! এক ছিলো হ্যারি পটারের ‘হেডউইগ’ আরেক হচ্ছে আশিয়ানীর ‘এথেনা’।

আমি যদি সত্যিকার অর্থে ‘আশিয়ানী’ নিয়ে কিছু লিখতে যাই তাহলে নিশ্চিত ইয়া বিশাল বিশাল স্পয়লার খেয়ে যাবে সবাই। দেখা যাবে সব কী পয়েন্টগুলাই লিখে ফেলছি আমি। আমি জাস্ট ভালোবাসি আশিয়ানীকে��� কোন একদিন ‘আশিয়ানী’কে পর্দায় দেখতে চাই। সে যে ডিজনি প্রিন্সেসদের সাথে টক্কর দেয়ার ক্ষমতা রাখে সে বিষয়ে কোন সন্দেহ রাখিনা আমি। বিশ্বাস করুন এক্টুও বাড়িয়ে বলছিনা। আশিয়ানীকে নিয়ে বসে পড়েই দেখুন না!

সেই ছোট্টবেলা থেকেই বিভিন্ন জনরার বই পড়ে অভ্যস্ত। তবে সবচেয়ে পছন্দের হচ্ছে ফ্যান্টাসি আর ডিটেক্টিভ জনরা। আর এ পর্যন্ত যত বই পড়া আছে নিঃসন্দেহে ‘আশিয়ানী’ একদম প্রথম দিকেই থাকছে আর থাকবেও। বিশাল পরিসরে দারুণ এক মহাকাব্য ‘আশিয়ানী’।

এবার আসি বইয়ের বাইন্ডিং এবং অন্যান্য বিষয় নিয়ে। ৬৫৫ পৃষ্ঠার বিশাল পরিসরের এই বই যে কি চমৎকার করে বাইন্ডিং করা হয়েছে সেটা বইটা ধরলেই বোঝা যায়। আর সারা বইতে একটাও বানান ভুল না থাকা থেকে বোঝাই যায় কি পরিমাণ যত্ন নিয়ে করা হয়েছে এডিটিং। যারা যারা ছবিগুলো একেছেন তাদেরকেও ধন্যবাদ। কল্পনার জগতটাকে আরো সুন্দর করে সাজাতে অন্নেক সাহায্য করেছে ছবিগুলি। আর কভার পেজ নিয়ে কি আর কিছু বলা লাগে সেটা তো ঝাক্কাস হওয়ারই কথা আর হয়েছেও।

সর্বোপরি জুলিয়ান ভাইয়ার ড্রিম প্রজেক্ট ‘আশিয়ানী’ ঠিক একটা ড্রিম এর মতই হয়েছে। একজন পাঠক হিসেবে আমার একদম সব চাহিদাই পূরণ করেছে ‘আশিয়ানী’। তার তুলনা সে কেবল নিজেই।বাংলা সাহিত্যে ‘আশিয়ানী’ দিয়ে নতুন এক জনরার সৃষ্টি হলো।
Profile Image for Sagor Reza.
157 reviews
March 1, 2024
দীর্ঘ একটা ভ্রমণ শেষে যেমন একটা স্থবিরতা কাজ করে, আমার এখন সেরকম অবস্থা। চোখ মুদলেই মনে হচ্ছে এক্ষুণি এথেনা এসে আমাকে তার পিঠে তুলে নেবে। পড়ছিলাম রিয়াজুল ইসলাম জুলিয়ানের আশীয়ানী। কী অসাধারণ একটা বই। ফ্যান্টাসির সাথে আমার পরিচয় একেবারেই ছিল না। কেমন একটা অন্য জগতে চলে গেছি। বই শেষ হয়ে গেছে কিন্তু তার রেশ কাটে নি একটুকুও। আর কাটবেও না বেশ কিছুদিন।
আশিয়ানী বইটা রিভিউ করার সাধ্য আমার নেই। এ যেন শরতের শান্ত নদীর দিকে তাকিয়ে থাকলে যেমন একটা শুন্যতা অনুভূত হয়, তার আরেকটা রূপ। বিশাল কলেবরের এই বইটা এতটাই সুপরিকল্পিত যে শেষ করে অবাক না হয়ে সত্যিই উপায় থাকে না। সবকিছু অত্যন্ত সূক্ষ্ম। হবে নাই না কেন? একটা বইয়ের পিছনে যদি দীর্ঘ ছয় ছয়টি বছয় ব্যয় করা হয়, তাহলে তো টা সূক্ষ্ম হবেই। বই পড়ার পর অনুভব করেছি, কি পরিমান যত্ন নিয়েই না লেখক এই বইটা লিখেছে। কিছু বই মানুষ পড়ে, তারপর ভুলে যায়। আবার, কিছু বই মানুষ পড়ে এবং সারাজীবন মনে রাখে, আশিয়ানী সত্যিই দ্বিতীয় ধরনের বই।
কী নেই এই বইতে? অত্যন্ত সুন্দর গল্প, থ্রিল, যুদ্ধ, রাজনীতি, যাদু, অ্যাডভেঞ্চার। আর চরিত্র গুলো এতই রিলেটেবল, যে গল্পের ভিতরে ঢুকতে আমার একটুও সময় লাগেনি। বই পড়ার সময় তো আমার মনে হয় যে অন্বয় আমার উপর এসে ভর করেছে। কোন একদিন শতবর্ষী কোন গাছের কোটর দিয়ে বিশাল কোন সাম্রাজ্যের একমাত্র রাজকন্যা আসলে মন্দ হয় না। তবে সমস্যা দুইটা, আমার পোষা কোন লক্ষ্মীপেঁচা নেই আর আমি অন্বয় এর মত গান গাইতে পারিনা।
আশিয়ানী একজনের জীবনে আকাঙ্খিত নারী চরিত্র। আশিয়ানীর কথাগুলো আমার জন্য অন্তত খুবই ইন্সপায়ারিং ছিল। ইশ, যদি..
সুন্দর একটা গল্পের পাশাপাশি লেখক অত্যন্ত সুপরকল্পিতভাবে নিজের জীবনবোধ যোগ করেছেন। কিছু কিছু লাইন পড়ে আমি নতুনভাবে ভাবতে বাধ্য হয়েছি।
আরেকটা কথা না বললে অন্যায় হবে, সেটা হলো বইয়ের প্রোডাকশন কোয়ালিটি। ৬৫০ পেজের একটা বইকে এর চেয়ে ভালোভাবে বাইন্ডিং করা যেত বলে আমার মনে হয় না। আর জুলিয়ান ভাইয়ের প্রচ্ছদ উনি ছাড়া আর কেই বা করবে। উনি যে নিজের সর্বোচ্চ টা দিয়েছেন এটা আলাদা ভাবে বলে দিতে হবে না। হাতে না দিলে বোঝা যাবে না বইটা ঠিক কতটা সুন্দর। ভিতরের ইলাস্ট্রেশন গুলো যেনো মুগ্ধতা কে কয়েক ধাপ বাড়িয়ে দিয়েছে।
আরো অনেক কিছু বাকি রয়ে গেল, কিন্তু কি বোর্ডের ৩৪ বোতামে সেগুলোকে আবদ্ধ করতে পড়ছি না। জুলিয়ান ভাই, পরবর্তী মাস্টারপিস এর অপেক্ষায়।
পুনশ্চ:
১। শেষ আড়াইশ পৃষ্ঠা এখনও হজম করতে পারছি না।
২। সমাপ্তি টা এত সুন্দর কেন? অবশ্য সুন্দর না হলে হার্টফেল করতাম।
Profile Image for Himel Rahman.
Author 7 books46 followers
June 20, 2022
অবশেষে প্রায় ২ সপ্তাহ (নাকি ৩!) ধরে শেষ করলাম বহুল প্রতীক্ষিত "আশিয়ানী" বইটি। ব্যস্ততার কারণে সেই এপ্রিলে একটা বই শেষ করার পর এতোদিনে আর কোনো বইয়ে মনোযোগ পাচ্ছিলাম না। কোনো বই শুরু করার পর বিরতি দিয়ে দিয়ে মাঝামাঝি পর্যন্ত আসতে না আসতেই একপর্যায়ে বিরক্ত হয়ে রেখে দিয়েছি। এতো ধাক্কায় বই পড়াটা বিরক্তিকর। কিন্তু আশিয়ানী এসে আবারও পড়ার আনন্দ বুঝিয়ে দিলো বেশ ভালো ভাবেই। বহুদিন বাদে এসে তৃপ্তি নিয়ে শেষ করলাম কোনো বই।

আশিয়ানী আরনোমিয়েল একজন রাজকুমারী। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে হতে যাচ্ছে সিংহাসনে আরোহণ করা প্রথম নারী উত্তরাধিকারী। কৌতুহলের বশবর্তী হয়ে সে আবিষ্কার করে রাজ্যে নিষিদ্ধ ও গোপন কিছু ব্যাপারস্যাপার। তারপরই সব পাল্টাতে শুরু করে।
মোটামুটি এই হচ্ছে বইয়ের মূলকথা। এরমধ্যে যোগ হয়েছে পরিচিত জগতটার অদ্ভুত একটা মেলবন্ধন। ফ্যান্টাসি আমার সবথেকে প্রিয় জনরা হওয়ার একমাত্র কারণ ছিল এই জনরার বহুমাত্রিকতা। কল্পনার ডালপালাকে ইচ্ছামতো বাড়তে দিলেই বেরিয়ে আসে চমৎকার সব গল্প। জুলিয়ান সাহেব, কল্পনা ও বাস্তবকে এতো পাশাপাশি রেখেও যে এতো স্বতন্ত্র দুটি গল্প এতো সুন্দর করে বলে গেছেন, তার জন্য প্রশংসা প্রাপ্য।

এই বইটা আমি শুরু করেছিলাম একদম শূন্য প্রত্যাশা নিয়ে। দোষটা বই বা লেখকের নয়– নিজের। প্রায় ১ বছর আগে A Little Life পড়ার থেকে আজঅবধি আমাকে কোনো বই-ই স্পর্শ করতে পারছিল না। কত বই যে অর্ধেক পড়ে রেখো দিয়েছি, তার ইয়ত্তা নেই। আশিয়ানী নিয়ে আমার আগ্রহের একমাত্র কারণ ছিল এই বিশালত্ব ও বইটা নিয়ে লেখক সাহেবের শ্রম ও আত্মবিশ্বাস ঠিকরে আসা। সবথেকে বড় কারণ ছিল বাংলা ফ্যান্টাসির প্রতি আগ্রহ। বইটা শুরু করার পর তাই প্রতি পাতায় অবাক হয়েছি চমৎকার লেখনশৈলী দেখে। সমান্তরালে বয়ে চলা দুটি গল্পও সমানভাবে আগ্রহোদ্দীপক। চরিত্রগুলোকেও ভালোবেসে ফেললাম ১০০ পাতা না পেরুতেই। অন্বয় চরিত্রের মাঝে খুঁজে পেলাম নিজেকে।
এথেনা (এথেনা, জুলিয়ান সাহেব, সেই এথেনা!) নামক পেঁচাটারেও কত পছন্দ করে ফেললাম, বইলা বুঝাইতে পারুম না।

পেঁচার কথা শুনলেই এখন এই আশিয়ানীর কথা মনে পড়বে। এটা অন্তত খুব ভালো করেই নিশ্চিত করেছেন লেখক।
ঘটনায় অপ্রত্যাশিত যে ধাক্কাগুলো ছিল, সেগুলোর জন্য আসলে লেখক খুব ভালোই পূর্বাভাস দিয়েছেন। তবুও ধাক্কাগুলো মেনে নিতে একটু কষ্ট হয়েছে বটে। কিন্তু কিছু বিষয়ের জন্য আমি লেখককে ক্ষমা করতে পারবো না। পাপ করেছেন উনি! মহাপাপ!
গল্পটাকে উজ্জীবিত করার জন্য মানচিত্র থেকে শুরু করে অনেকগুলো আর্টওয়ার্ক অসাধারণ কাজ করেছে।

চরিত্রায়ন বেশ ভালো। কিছু কিছু চরিত্র অল্প সময়ের জন্য এলেও স্বাতন্ত্র ছিল সবার। সবথেকে প্রিয় দুইটা চরিত্র হচ্ছে অন্বয় ও আশিয়ানী। ব্যক্তিগতভাবে অন্বয়ের সাথে সবথেকে বেশি একাত্ম হয়েছি। ওর নির্লিপ্ততা ছুঁয়ে গেছে অনেকখানি। ক্রমশ নিজেকে বদলে ফেলার যাত্রায় সঙ্গী হয়ে স্মৃতিমন্থনও করেছি। এই বইটা মনে থাকবে অনেকদিন।
তবু অন্বয়ের অতো পরিবর্তন কখনো কখনো ঠিক মনে হয়নি যেন। স্বভাব-চরিত্রের দিক থেকে আমি নিজেও অন্বয়ের মতোই বলে এটুকু অন্তত নিশ্চয়তা দিতে পারি যে, নিজেকে ছাড়িয়ে যাওয়ার, বৃত্ত থেকে বের হওয়ার এই লড়াইটা এতো সহজ নয়। তবু অন্বয়ের মাধ্যমে মাঝে মাঝে যেন সাহসও পেয়েছি কিছুটা। মনে হয়েছিল, "এই তো, খুব সহজ। শুধু এই ব্যাপারটাই গুছিয়ে নিতে হবে।"

আশিয়ানী একটা অনুভূতি হয়ে গেছে এখন। এটা নিছক কোনো বই নয়। প্রায় ৩/৪ মাস পর এসে একটা বইয়ে এতোটা বুঁদ হয়েছি এবং কোথাও এতটুকুর জন্য বিরক্ত লাগেনি। প্রায় ৭০০ পৃষ্ঠার এই বইটা শেষ করেও যেন শেষ হয়নি। আরও লিখলেই অনায়াসেই পড়ে ফেলতাম। সত্য বলতে আমার কেমন জানি খালি খালি লাগছে খুব। বইয়ের সিংহভাগই আরাম আয়েশে দিন কাটানোর মতো, এরপর দুম করেই হাজির হলো একের পর এক ঝড়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই পুরো গল্পের আগাগোড়া সব এমনভাবে পাল্টে গেল যে, একদম হতভম্ব হয়ে যাওয়া ছাড়া উপায় ছিল না।

বাংলাদেশে ফ্যান্টাসির জন্য প্রথমদিকে শরীফুল হাসানের পর আশরাফুল সুমন এসে একরকম বিপ্লব দেখিয়ে গেলেন। জুলিয়ানকে তাদের যোগ্য উত্তরসূরী বলা যেতো। কিন্তু ব্যাপারটা হচ্ছে, তাকে ঠিক উত্তরসূরী বলার প্রয়োজনই নেই। কেননা তিনি নিজেই একদম আরনোমিয়েলদের জন্মদাতা হিসাবে নিজেকে আলাদা পরিচয় প্রতিষ্ঠা করে ফেলেছেন। এরপর বাকি কাজ দিয়ে অবলীলাক্রমেই স্বমহিমায় উজ্জ্বল হবেন তিনি। উনার এতো বছরের সাধনার ফলাফল উনার কল্পনার মতোই সুন্দর।

বইয়ে যে বিস্তৃত জগতের সাথে পরিচিত হয়েছি, তার অনেকটাই অপরিচিত থেকে গেছে। লেখক ইচ্ছা করেই এতো জায়গা এক্সপ্লোর করেননি। এদিকে বইটা স্ট্যান্ড অ্যালোন হওয়ায় কিছুটা মন খারাপ হচ্ছে, কেননা এই জগতটা সম্পর্কে আরও অনেক কিছু জানতে ইচ্ছা করছে আমার। তবে একদিক থেকে ভালোই হয়েছে। এতো জায়গা নিয়ে বলতে গেলে বইয়ের সাইজ দ্বিগুণ হতো নিশ্চিত। গল্পের খাতিরে যতটুকু হয়েছে, তাতেই চমৎকারভাবে গোছানো হয়েছে পুরো গল্প।

বইটা পড়তে পড়তে অনেক অনেক অনুভূতি মাথায় ঝেঁকে বসছিল। এখন শেষ বেলায় এসে মনে হচ্ছে, বলতে গেলে শেষ হবে না, আবার বলার চেষ্টা করলেও খুব বিক্ষিপ্ত লাগবে। শুধু এটাই বলবো যে, বইটা পড়ুন। জুলিয়ান সাহেবের ফিয়ান কবে আসে, সেই অপেক্ষায় থাকি আপাতত...

[ভালো কথা, চিরকুটের আরেকটি অসাধারণ প্রোডকাশন এটি। বই শেষ করার পর এখন প্রচ্ছদ থেকো শুরু করে সবকিছু এতো জোশ লাগছে! চিরকুট আমার প্রিয় প্রকাশনী হয়ে যাবে এই ফ্যান্টাসি বই প্রকাশ করে। ;) ]
Profile Image for Aritra De.
59 reviews6 followers
February 11, 2023
বাংলাদেশের ভীষণই ওভারহাইপড একটা বই। আমি ২৫০ পৃষ্ঠা অব্দি পড়ে আর পড়তে পারিনি। কিছুদিন আগে মিস্টবর্ন দ্য ফাইনাল এম্পায়ার বইটা পড়ে শেষ করেছি। সেটার কাহিনী যেরকম অসাধারণ ছিল ফ্যান্টাসি হিসাবে এটার কাহিনী তার ধারে কাছেও যায়না। উল্টে অনেকটাই শিশু সুলভ লেগেছে। যাইহোক, যেটা বুঝলাম যে বাংলাদেশের অনুবাদ সাহিত্য যতখানি সমৃদ্ধ মৌলিক লেখা ঠিক ততখানি নয়। তাই বাংলাদেশের মৌলিক লেখা এবারে একটু বুঝেশুনে পড়তে হবে। এইরকম বই পড়া মানে পয়সা ও সময় দুইই নষ্ট।
Profile Image for B. M.  Parvej  Rana.
20 reviews10 followers
March 21, 2023
❝ফ্যান্টাসির সবকিছুই ফ্যান্টাসি না, কিছুটা স্বপ্নও বটে। তবে সে স্বপ্ন জেগে দেখা হয়!❞
পাঠক আজ যেই বইটা শেষ করলাম সেই বইটা গতকাল রাত দুটো বেজে তেরো মিনিটে শেষ না করতাম তবে হয়তো কোনোদিনও করা হতো কি না জানি না। এর কারণ বিশাল আকারে বর্ণনা করছি নিচে। মিশ্র একটা অনুভূতিতে রেখেছে বইটা। লর্ড জুলিয়ান ভাইয়ের আশিয়ানী বইটা আমার সংগ্রহে আসে গত বছর মে মাসের দিকে। তখনই পড়া শুরু করে প্রায় চারশো পৃষ্ঠার মতো পড়ে ফেলেছিলাম। কিন্তু তারপরই অনাকাঙ্ক্ষিত ব্লকে পড়ে যাই এই নির্দিষ্ট বইটার ক্ষেত্রে। ধরলেই কেন যেন মাথা ঝিমঝিম করতে থাকত। তারপরও ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে বইটা পড়তে পড়তে গতকাল রাতে (আজকে) শেষ হলো। এপিক ফ্যান্টাসি জনরার বইটা নিয়ে বিশাল আলোচনা করবো। একটু মনোযোগ দিয়ে পড়লে আশা করি অনেক কিছুই ধরতে পারবেন।
চলুন ঘুরে আসি আখ্যান থেকে।
★ আখ্যান:
একটা কৌতূহল থেকে ধীরে ধীরে রহস্য উন্মোচন করতে গিয়ে গোপন একটা পথ খুঁজে পায় সেভিদোনিয়া রাজ্যের রাজকুমারী আশিয়ানী। নিষিদ্ধ উপত্যকার ভেতর দিয়ে আশিয়ানী খুঁজে পেল এক এমন রাস্তা যা দিয়ে সময় কাল পাত্র ভেদে অন্য একটা জগতে প্রবেশ করা যায়! সে জগতের মানুষরাও তার মতোই কিন্তু পার্থক্য হলো তারা অস্বাভাবিক রকমের বড়ো। এমনকি সেখানকার সব প্রাণীগুলোই বেশ বড়ো। আশিয়ানী বুঝতে পারে আসলে সব স্বাভাবিক কিন্তু সে আকৃতিতে ছোটো।
এরপর কাকতালীয় ভাবে সেখানকার একটা ছেলের সাথে পরিচয় হয়ে যায়। এরপর তার যাতায়াত বাড়তে থাকে সেই জগতে। ছেলেটার কিছু সমস্যার সমাধান করে দেয় এবং বিনিময়ে ছেলেটাও তার পোষা পাখিকে দিয়ে তারও কিছুটা সমাধান করে দেয়।
কিন্তু সবকিছুতে বাঁধ সাধে একটা যুদ্ধ। সে যুদ্ধে জয় পেলেও নিষিদ্ধ উপত্যকা নিয়ে আগ্রহ দেখানোয় শাস্তি হয় আশিয়ানীর৷ আর সে শাস্তি মৃত্যুদণ্ড! শাস্তি কার্যকরও হয়। কিন্তু শেষমেশ আশিয়ানী আবার সেই প্রাইমারি ওয়ার্ল্ডে ফিরে যেতে সক্ষম হয়।
এখন কী করে গেল, কোন যুক্তির মাধ্যমে গেল তা খুঁজে পাওয়া যাবে একমাত্র বইয়ের ভেতর। এবং অবশ্যই বইটা শেষ করার পরে। এর আগে সব অযচিত মনে হবে।
★ মূল রিভিউ:
প্রথমেই যেটা বলব তা হলো বইটা পড়ার সময় হুট করে লক্ষ করলাম জাপানিজ অ্যানিমে দ্য সিক্রেট ওয়ার্ল্ড অব আরিয়েটির সাথে মিল পাচ্ছি কিছুটা। অ্যানিমে যারা দেখেন তারা নিশ্চয়ই এই অ্যানিমেটা দেখে থাকবেন। এখানে গল্পের সাথে মিল না থাকলেও ক্যারেক্টারদের সাথে বেশ কিছু মিল আছে। মানে বলা যায় এটা থেকে হয়তো লেখক আইডিয়া পেয়েছেন। আমার ধারণা ভুলও হতে পারে। তবে আইডিয়া নিয়ে থাকলে এতে দোষের কিছুই নেই। আইডিয়া যে কোনো জায়গা থেকেই নেওয়া যেতে পারে। অ্যানিমেটা দেখে থাকার কারণে প্রথম দিকটায় বেশ উপভোগ করছিলাম। এমনকি শেষের দিকটায়ও উপোভোগ করেছি বলা চলে।
মূল প্রসঙ্গে আসি। ফ্যান্টাসি জনরাটা একটা বিশাল জনরা। এ জনরায় বাংলা লিখার তেমন কোনো কাজ চোখে পড়ে না। বড়োজোর অল্পসংখ্যক লিখা তাও প্রিন্ট আউট এবং কোথাও পাওয়া যায় না। সে হিসেবে আশিয়ানী একটা চমকপ্রদ এবং গর্বের বিষয়। দেখুন চাঁদেরও কলঙ্ক রয়েছে সুতরাং ওসবে আমি যাব না। যেহেতু বই লিখা হয়ে গেছে সেহেতু আলোচনা সমালোচনা দুটোই হবে। বইতে কী পেয়েছি তা হলো গিয়ে মুখ্য!
গল্পটা শুরু হয়েছে একজন রাজকুমারীকে দিয়ে। এমনকি গল্পটা শেষও হয়েছে একজন রাজকুমারীকে দিয়ে। আর এর মাঝখানে ঘটে গেছে এক বিশাল রাজ্যের কাহিনী। আর তার নামই আশিয়ানী!
বইয়ের মূল প্রতিপাদ্য বিষয়কে দুইটা ভাগে ভাগ করা যেতে পারে। এক প্রাইমারি ওয়ার্ল্ড বা লো ফ্যান্টাসি আর দুই সেকেন্ডারি ওয়ার্ল্ড বা হাই/এপিক ফ্যান্টাসি। প্রাইমারি ওয়ার্ল্ডের বিল্ড আপটা বইয়ের প্রথম দিককার গল্প। একটি কিশোর ছেলের সামাজিক হয়ে ওঠা নিয়ে বিস্তৃত বর্ণনা এবং সেকেন্ডারি আর প্রাইমারি ওয়ার্ল্ডের মেলবন্ধনের জন্য বেশ কিছুটা সময় নিয়েছেন লেখক। এছাড়াও কিছু পার্শ্বচরিত্র রেখে একটা অভিনব কায়দায় সহমর্মিতার কিছু বিষয় ফুটিয়ে তুলেছেন।
আমাদের মানব জাতির মধ্যে যে সহমর্মিতা দিনদিন ফুরিয়ে যাচ্ছে সে বিষয়টাকেই ইঙ্গ���ত করেছেন লেখক। এছাড়াও সাইকোলজির কিছু টার্ম ছিল বইতে।
আর সেকেন্ডারি ওয়ার্ল্ড তথা এপিক ফ্যান্টাসির বিল্ড আপটা থেকে থেকে হলেও চরম মাত্রার বর্ণনা এসেছে প্রায় পাঁচশত পৃষ্ঠার পরে৷ তবে সেই বর্ণনা ঢেঁকুর তোলার মতো না হলেও আরামদায়ক বটে। আখ্যানে পড়ে আসা আশিয়ানীর কৃতকর্মের বিপরীতে কী কী অবস্থান এবং বইয়ের এন্ডিংটা টেনেছেন এ পার্টে। তবে ব্যক্তিগত ভাবে মনে হয়েছে লেখক সেকেন্ডারি ওয়ার্ল্ড থেকে প্রাইমারি ওয়ার্ল্ডে ভেশি গুরুত্ব দিয়েছেন।
★ সমালোচনা:
এই পয়েন্টে আমি আমার ব্যক্তিগত অপছন্দের বিষয় এবং তার যৌক্তিক কারণগুলো তুলে ধরব। এতে আমি মনে করি লেখকের কিছুটা উপকার হবে। যারা বইটা পড়েননি তারাও পড়তে পারেন সমস্যা নাই। মেজর স্পয়লার নেই। যা আছে তার আগামাথা কিছু বুঝবেন না কিন্তু কী নিয়ে বলছি তা বুঝবেন।
প্রথমেই যে বিষয়টা নিয়ে বলব তা হলো, এত বড়ো মানচিত্র দেওয়ার কী প্রয়োজন ছিল?
পুরো বইটা পড়ে আমি অজস্র অঞ্চল, সাগর, দূর্গ, জঙ্গল, রাস্তার কোনো ব্যাখ্যা পাইনি। কেন দেওয়া হয়েছে তা জানা নেই।
এবার আসি মূল বিষয়বস্তুতে। বইয়ে উল্লিখিত আছে আশিয়ানী যখন অন্বয়ের পৃথিবীতে আসে তখন সোভিদেনিয়ার সময় থমকে থাকে। মানে যে সময় সে অন্বয়দের পৃথিবীতে পৌঁছায় এবং অন্বয়দের পৃথিবীতে কিছু সময় অবস্থান করে আবার সেই একই সময়ে সোভিদেনিয়ায় আসতে পারে।
সমস্যা হলো, আশিয়ানী যখন সোভিদেনিয়ায় থাকে তখন তার দিন অনুযায়ী অন্বয়দের পৃথিবীতে একই ভাবে সময় চলতে থাকে। কারণ বইয়ের এক অংশে বলা আছে আশিয়ানী এক সপ্তাহ সময় নিয়েছিল অন্বয়ের থেকে এবং ঠিক এক সপ্তাহ পর অন্বয়ের পৃথিবীতে গিয়েছিল। এর মানে দাঁড়ায় আশিয়ানি তার নিজের পৃথিবীতে ফিরে এলে সময় এক রকম চলে। বিষয়টা ঘোলাটে। এখানে আপেক্ষিক কিছু বিষয় দাঁড় করানো দরকার মূলত। আশিয়ানীর যাওয়া আসার ওপর ভিত্তি করে নিশ্চয়ই সময় থমকে থাকে না। যদি তা-ই হতো তবে একই ধারা অনুযায়ী দুইদিকের সময় একই ভাবে পরিবর্তিত হতো না। আশিয়ানী মূল পৃথিবীতে অবস্থান করা কালে সময়ের কোনো পরিবর্তন হচ্ছে না আবার আশিয়ানী সোভিদেনিয়াতে থাকাকালীন সব ঠিকঠাক এগোচ্ছে তা তো হওয়ার কথা না। হয় থমকে থাকবে নয় এগোবে। হয়তো আপেক্ষিক হারে কম বেশি এগোতে পারে কিন্তু একেবারে থমকে থাকবে কী করে? ধরে নিলাম ফ্যান্টাসি তাই থমকে থাকতেই পারে। সেক্ষেত্রে সেভিদোনিয়া থেকে যে কেউ অন্বয়দের পৃথিবীতে গেলে সময়টা থমকে থাকবে।
এই যদি হয় তবে আরেকটা বিষয় না বললেই নয়। আশিয়ানী ভেলভার উপত্যকার সন্ধান যে বইতে পেয়েছিল সেই বইয়ের লেখকের কী হয়েছিল? (ডোন্ট টেল মি সেই শ্বেতকীই এই বইয়ের রাইটার ছিল। তাহলে আরও অজস্র প্রশ্ন জাগে) যদি সে অন্বয়দের পৃথিবীতে থাকে কারণ মূল পৃথিবী সেও দেখেছিল তবে সেভিদোনিয়ায় সময় থমকে থাকবার কথা এবং সেই বই আরনোমিয়েল লাইব্রেরিতে আসার কথা না।
যদি বইয়ের মূল গল্প হাই বা এপিক ফ্যান্টাসিকে কেন্দ্র করে ধরে থাকি তবে ৪৫০ পৃষ্ঠার পর মনে হয়েছে বইয়ের আসল কাহিনী শুরু হয়েছে যা আদতে কিছুটা বিরক্তির উদ্রেক ছিল আমার জন্য। অর্থাৎ এর আগে দুপাশে যাতায়াত আর সহমর্মিতা দিয়ে গল্পের বুনন প্রক্রিয়া চলেছে। গল্পের বিল্ড আপটা যারপরনাই বড়ো হয়ে গিয়েছে। এতে অনেকে ধৈর্য্য হারিয়ে ফেলবেন বলেই মনে হয়।
যে বিষয়টার দিকে নজর না দিলেই নয়। হাই বা এপিক ফ্যান্টাসিতে যদি রাজ্য কেন্দ্রিক প্লট হয়ে থাকে তবে এলাইস বা মিত্র রাজ্য বলতে একটা বিষয় বইতে রাখা আবশ্যক! কিন্তু আশ্চর্যজনক ভাবে এটার অভাব বইতে লক্ষ্যনীয়!
যেহেতু সোভিয়ান রাজধানী ছিল এবং রাজ্য ছিল অনেক সেহেতু এলাইসদের সাথে এর একটা প্রভাব দরকার ছিল। যতবার মিটিং হয়েছে ততবারই তিন চার জন মিটিং করেছেন। কোনো অফিশিয়াল ঘোষণা বা এলাইসদের সাথে কথা হয়নি। অর্থাৎ যা করেছেন তা সবই করেছে আরনোমিয়েল বাহিনী। শত্রুপক্ষেরও একটা জাদুকর ব্যতীত তেমন শক্তিশালী কোনো এলিমেন্ট নেই।
অর্থাৎ এপিক বা হাই ফ্যান্টাসিতে ক্যারেক্টারের যে একটা ছাপ থাকে তা একদম শূন্যের কোঠায় এই বইতে। অনেকে বলবেন এটা হাই ফ্যান্টাসি না কারণ বর্তমান পৃথিবী ইনক্লুডেড ছিল। আমি বলবো না এটা এপিক বা হাই ফ্যান্টাসি। কারণ মূল সাবজেক্ট আশিয়ানীর পৃথিবী ছিল। তার চেয়েও বড়ো কথা মিত্র রাজ্য তো দূরে থাক যে রাজ্যগুলো বা অঞ্চলগুলো মানচিত্রে দেওয়া হয়েছিল সেগুলোর মধ্যে অধিকাংশরই কোনো ভূমিকা বইতে ছিল না। কেন মানচিত্রে আসল, কেন এত এত অঞ্চলের নাম দেওয়া হলো তার কোনো যৌক্তিক কারণ খুঁজে পেলাম না।
এরপর গল্পের প্রথম দিক তথা অন্বয়ের পরিবর্তনের বিষয়গুলো ভালো লাগলেও এরপরে অন্বয়ের বিশেষজ্ঞ থেরাপিস্ট হয়ে যাওয়াটা কিছুটা আঁতলামো মনে হয়েছে। অন্বয়ের ভাইয়ের ছেলের ক্ষেত্রে মানা গেল। কিন্তু এরপরে নোমান, তারপরে টিচার, তারপরে ত্রিত্ব। মনে হলো ফ্যান্টাসি পড়তে নিয়ে সামাজিক সমস্যায় মেতে আছি।
ভাই সামাজিক উপন্যাস পড়ার মন নিয়ে বসলে হয়তো এটা দারুণ উপন্যাস হতো কিন্তু ফ্যান্টাসির আদলে প্রাইমারি ওয়ার্ল্ডের সামাজিক সমস্যা যদি মূখ্য হয়ে দেখানো হয় তবে সেটা ফ্যান্টাসির কাতারে পড়লেও প্রশ্ন জাগবে অনেক।
আরও একটা বিষয় বলার আছে। ফ্যান্টাসির কোনো বইতে অবশ্যই এন্ডিংটা এমনভাবে টানা উচিত যাতে কোনো প্রশ্ন জাগানিয়া জনিত সমস্যা না থাকে। যে প্রশ্নগুলো রয়ে গেছে,
(স্পয়লার আছে)
১. প্রকৃতি সাধক-সাধিকারা আসলে আশিয়ানীকে কী করেছে?
২. শ্বেদ্রুম ফলের কারণে রানি অন্তঃসত্ত্বা হলো তবে সেটা আগে কেন প্রয়োগ করল না রাজা?
৩. শ্বেদ্রুম পাতা সংরক্ষণের একটা বিষয় বইয়ের প্রথম দিকে ছিল। ব্যাখ্যা পাইনি।
৪. প্রকৃতি সাধক-সাধিকারা শ্বেদ্রুম দিয়ে কী করেছে? আর কেন করেছে? আশিয়ানীর সাথে অমন কেন হলো?
★ চরিত্রায়ন:
ফ্যান্টাসির বইতে চরিত্রায়ন একটা মারাত্মক জিনিস। পুরো একটা বইতে এটার প্রভাব মারাত্মক ভাবে ফেলতে পারে। দেখুন ফ্যান্টাসির যে সকল বই আমরা পড়ি সেগুলো বিশেষত ক্যারেক্টার ওয়াইজড একটা নির্দিষ্ট সময়ের পরে ভাগ হয়ে যায়। অর্থাৎ ক্যারেক্টারের ব্যাকগ্রাউন্ড, বিল্ড আপ, সংলাপ, ভূমিকা ইত্যাদির ওপরে নির্ভর করে চরিত্রটাকে মানুষ মনে রাখে।
আশিয়ানী বইটাতে হাতে গোণা দুচারটে ক্যারেক্টার বাদে বিশেষ কোনো ক্যারেক্টারের ডেভলেপমেন্ট হয়নি। হয়তো বলা হয়ে থাকবে যে গল্পের প্রয়োজন পড়েনি হয়তো তেমন। কিন্তু এখানেই সমস্যা বাঁধবে। মাথায় রাখতে হবে একটা লিড ক্যারেক্টারের পাশাপাশি সাইড ক্যারেক্টার বা পার্শ্ব চরিত্র গল্পের ফ্লো ধরে রাখতে সাহায্য করে।
যেমন আশিয়ানী বইটার ভেতর আশিয়ানীর বন্ধুদের অনেকেরই ভূমিকা শেষের দিকে মনে থাকবে না। লিড ক্যারেক্টারের সাথে ততটা ঘনিষ্ঠতা রেখে কোনো মুখ্য ঘটনা ঘটানো হয়নি। এমনকি সংলাপগুলোও ছিল কম। একইভাবে অন্বয়ের সাথে যে ক্যারেক্টার বিল্ডআপগুলো ছিল তা চমৎকার হয়েছে। ওদিকের ক্যারেক্টার বিল্ড আপের ভূমিকা, ব্যাকগ্রাউন্ড ভালো ছিল।
★ বর্ণনাভঙ্গি ও সম্পাদনা:
স্বীকার করতে হবে বইয়ের সম্পাদনা ভালো ছিল। বিশেষ কিছু জায়গা ফুটিয়ে তুলতে সাহায্য করেছে। অবশ্যই বর্ণনাগুলো লেখক ফুটিয়ে তুলেছেন তবে ফ্লো যেহেতু একরকম ছিল সেহেতু বলা যায় সম্পাদকের ভূমিকাওকম না এখানে।
বানান ভুল-টুল তেমন চোখে পড়েনি। এক্ষেত্রে চিরকুটকে সাধুবাদ জানাতেই হয়। টপনচ প্রোডাকশন সাথে বানান ভুলের পরিমাণ কম আসলেই প্রশংসার দাবিদার।
★ উপসংহার:
বইটার সাথে একাধারে বিরক্তি, উদ্রেক, স্বস্তি, অস্বস্তি, কৌতূহল, শঙ্কা নিয়ে শ���ষ করেছি। এর জন্যই প্রথমে বলেছিলাম যে মিশ্র অনুভূতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছিল বইটা নিয়ে। এই ভালো লাগছিল আবার এই ভ্রু কুঁচকে যাচ্ছিল। এই মেদহীন ঝরঝরে লিখা পড়ে ভালো লাগছিল আবার মেদযুক্ত দেখে স্কিপ করতে ইচ্ছে করছিল। ব্লকে পড়েছি কয়েকবার। অন্য বই দিয়ে ব্লক কাটাতে হয়েছিল।
আবার ধরেছিলাম, আবারও মিশ্র অনুভূতি!
যাক অবশেষে এই বই পড়ে ভালো লেগেছে আবার লাগেনি টাইপের অনুভূতি হয়েছে এটা বলতে পারি। লেখকের জন্য শুভকামনা রইলো। আশা করি সেকেন্ডারি ওয়ার্ল্ডের চমৎকার কিছু বই পাবো তার থেকে। কারণ বইটার শেষের দিকে সেকেন্ডারি ওয়ার্ল্ডের বিল্ড আপটা আমার নিজের কাছে বেশ ভালো লেগেছে। লেখককে বলব এরকম আরও বড়ো কোনো কলেবরের শুধু সেকেন্ডারি ওয়ার্ল্ড তথা এপিক ফ্যান্টাসি নিয়ে কাজ করতে। রাজনৈতিক বিষয়গুলো নিয়ে আরও গভীরে ভাবতে। কারণ সেকেন্ডারি ওয়ার্ল্ডের মোক্ষম একটা অস্ত্র হচ্ছে রাজ্যভিত্তিক রাজনীতি আর এতে অবশ্যই মিত্ররাজ্যের ভূমিকা থাকা আবশ্যকীয়! ওহ হ্যাঁ, বলা বাহুল্য বইয়ের অলংকরণগুলো খুব সুন্দর হয়েছে।
বই: আশিয়ানী
লেখক: জুলিয়ান
প্রথম প্রকাশ: এপ্রিল ২০২২
প্রকাশনী: চিরকুট
প্রচ্ছদ মূল্য: ৮০০ টাকা মাত্র
প্রচ্ছদ: জুলিয়ান।
Profile Image for Tusar Abdullah  Rezbi.
Author 11 books55 followers
July 24, 2022
▶ বইয়ের নামঃ- আশিয়ানী
▶ লেখকঃ- জুলিয়ান
▶ প্রকাশনীঃ- চিরকুট প্রকাশনী
▶ প্রচ্ছদঃ- জুলিয়ান
▶ মলাট মূল্যঃ- ৮০০/-

♻ আখ্যানঃ- সেভিদোনিয়া রাজ্যের রাজকুমারী আশিয়ানী আরনোমিয়েল এক রহস্যের পিছনে ছুটতে ছুটতে পৌছে যায় এমন একটা জায়গায় যা তার জীবনাচরণকে বদলে দেয় চিরদিনের জন্য! সেই সাথে বদলে যায় আরও একটি জীবন।
এদিকে সেভিদোনিয়ায় হঠাৎ করেই একের-পর-এক অযাচিত ঘটনা ঘটে চলেছে, যা নিয়ে ক্রমেই উদ্বিগ্ন হয়ে উঠছে রাজা আরসালান আরনোমিয়েল। রাজপ্রাসাদের প্রধান সেনাধ্যক্ষ আরহাম মেনদারকে সাথে নিয়ে সেইসব সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করতে থাকেন তিনি, যার সাথে একসময় জড়িয়ে ফেলা হয় আশিয়ানীকেও। সিংহাসনের পরবর্তী উত্তরাধিকারী হিসেবে তার উপরও চাপ বাড়তে থাকে। অভিজাতদের সাথে রাজকুমারীর নীরব যুদ্ধ প্রকাশ্যে চলে আসে হঠাৎ!
ইলদারাম পর্বতমালার উত্তরাংশ কেন হঠাৎ উত্তপ্ত হয়ে উঠলো? রাজধানী সোভিয়ানেই বা এমন অযাচিত ঘটনা কারা ঘটালো? প্রাচীন জাদুকর সংঘের একজন প্রকৃতিসাধিকা ঠিক কিসের আশংকা করছে? আরনোমিয়েল সেনাবাহিনী এবং রাখশামান সেনাদলকে কেন হঠাৎ করে তলব করার প্রয়োজন পড়লো? হরিৎসেনারাই বা কী নিয়ে কাজ করছে? রাজবৃক্ষ আরনীমিশিল এর কী ভূমিকা রয়েছে আরনোমিয়েল রাজবংশের উত্থানের পেছনে?
আর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, এসব ঘটনা আশিয়ানীর সাথেই বা কতটুকু জড়িত?
এসব প্রশ্নের উত্তর রয়েছে প্রাচীন রহস্য, রাজনৈতিক কূটকৌশল, সমরকৌশল এবং বিশ্বাসঘাতকতার মিশেলে গঠিত বিশাল প্রেক্ষাপটের ফ্যান্টাসি উপন্যাস আশিয়ানী তে।

♻ পাঠপ্রতিক্রিয়াঃ- ফ্যান্টাসি আমাকে খুব টানে। দেশীয় ফ্যান্টাসি হলে কথায় নেই। আমার পড়তেই হবে। ভালো নাকি মন্দ পরের বিষয়। "আশিয়ানী" বইটা যখন আসতে চলেছে আমার আগ্রহ তখন তুঙ্গে। আশিয়ানী কিন্তু যে সে বই না আর ছিলও না। এটা নিয়ে আগ্রহ ব্যাপক ছিল। কারণ, বাংলাদেশের মৌলিক সবচেয়ে বড়ো ফ্যান্টাসি হতে চলেছে এটা এবং হয়েছেও।
আশিয়ানী বইটা নিয়ে বেশি কিছু লেখা যাবে, এটা একদম ভুল। আসলে আশিয়ানী এটা তো একটা বই বলা চলে না। এক সাথে অনেক গুলো বিষয় কানেক্ট করা। এটা আমাদের আশেপাশের বাস্তবতার মিশলে তৈরি কিছু একটা, কিন্তু ফ্যান্টাসি। লেখক এটাকে এমন ভাবে তুলে এনেছেন, যেন নিজস্ব একটা প্রাণ আছে এই বইটাতে। আশিয়ানী সম্পর্কে বলতে গেলে স্পয়লার এসে যাবে। তাই বেশি কিছু বলব না। গল্পটার তেজ এত বেশি যে ইমোশনে স্পর্শ করে ফেলে। ফ্যান্টাসি হলেও পুরোটায় কানেক্ট করতে পারবে একেক জন নানা দিক থেকে তার জীবনের সাথে। অনেকের জীবনের সাথে অন্বয়ের চরিত্রটা মিলে যেতেও পারে। লেখক তার না বলা কথা গুলোকে অন্বয় আর আশিয়ানীর মাধ্যমে তুলে ধরেছেন। মান, অভিমান, ক্ষোভ সবকিছুই লেখক তুলে ধরেছেন।
"আশিয়ানী" বইটা আশিয়ানী নামে এক রাজকুমারীকে নিয়ে লেখা। তার কৌতুহলের কমতি নেই। কৌতুহল আবার যে সে কৌতুহল নয়। নিষিদ্ধ বিষয়ের প্রতি কৌতুহল তার একটু বেশি। এই কৌতূহল তাকে অন্য একটা জগতে পৌঁছে দেয়। এর পরই শুরু হয় মূল গল্প। মূল গল্প সত্যি আমাকে মুগ্ধ করেছে। অন্বয় নিরিবিলি বা একা থাকতে পছন্দ করে এমন এক চরিত্র। যাব বন্ধু নেই বললেও চলে। সারাক্ষণ বইয়ের মাঝপ ডুবে থাকে। আশিয়ানীর সাথে পরিচয়ের পর বদলাতে থাকে তার জীবন। আশিয়ানীর বুদ্ধি ব্যপক। অন্বয়কে যেমন সকল বিপদে আশিয়ানী এগিয়ে আসে, তেমনি অন্বয় করেছে। একেক জনের জীবনে একেকজনের প্রভাব ব্যাপক।
আশিয়ানী আর এথেনার মিল বন্ধনটা সত্যি অনবদ্য। আশিয়ানীর এথেনাকে আদর করার দৃশ্যপট গুলো দারুণ। আশিয়ানী একসময় এথেনার সাথে হৃদয়ের গভীর থেকে মিশে যায়। এথেনা কথা বলতে না পারলে আশিয়ানীর কথাগুলো বুঝে যায়। আশিয়ানীর ইশারায় যথেষ্ট এথেনার জন্য। এথেনা যখন আশিয়ানীর রাজ্য সেভিদোনিয়ায় আসে তখনকার এডভেঞ্চার গুলো জোস লেগেছে।
আশিয়ানীকে ঘিরে থাকা চিরিত্রগুলো একেকজন একেক গুণে ভরপুর। বিশেষ করে আশিয়ানীর বান্ধবীরা আশিয়ানীকে সব বিষয়ে সাহায্য করার জন্য প্রস্তুত থাকে। এসব সত্যিই দারুণ। অন্বয়েরও গুণের শেষ নেই। এথেনা তো এথেনাই।
ভালোবাসার অনেক অদৃশ্য শক্তি আছে আশিয়ানী বইটা এরই উদাহরণ।
গল্পটা পড়ার সময় কখনো হেসেছি, কখনো কেঁদেছি। কখনো রাগ চলে আসলে আবার সেই রাগে কখনো গালিও দিয়ে ফেলেছি মনে মনে। তবে হ্যাঁ, আশিয়ানীর প্রেমে পড়তে বাধ্য হয়েছি, এথেনাকেও মনে গেঁথে গেছে আপনাআপনি। আশিয়ানীর থেকেও এথেনাকে বেশি মনে ধরেছে আমার। এথেনার জন্য লেখকের প্রতি একটা ক্ষোভ জন্মেছে। এটাই হয়ত লেখকের স্বার্থকতা। লেখক যেমন চেয়েছেন তেমনি হয়েছে। লেখকের লেখা সাদামাটাও বলব না আবার হার্ডকোরও বলব না। মাঝারি লেভেলের। শব্দচয়ন বলতে গেলে অনবদ্য। আমার খুব ভালো লেগেছে লেখকের লেখার ধরণ, বাক্য, শব্দচয়নের ব্যবহার। এই বইটা অনেক অনেক উপভোগ করেছি। পড়ার সময়, সময়ের ঠিক থাকে না। টানা ২/৩/৪ ঘন্টাও পার হয়ে যাবে, তবুও গল্প থেকে বের হয়ে আসা যায় না। গল্পে গা ভাসিয়ে দিয়েছি বলেই হয়ত এমন হয়েছে। আরেকটা কথা, আশিয়ানীর বিষয়ে আমি বলব, পড়া ও পয়সা দুটোই উসুল হয়েছে।
Profile Image for Tania Akter.
12 reviews
July 12, 2022
I love Fantasy , and my first reading Bengali Fantasy is "Ashiyani". Though in the very beginning, the storyline was little bit slow, later in the last phases -"it is Worth Reading"!

U should visit "Sevidonia " meet with "Ashiyani, Annoy and Ethena"

Happy Reading
❤️❤️❤️
Profile Image for Jheelam Nodie.
314 reviews12 followers
September 26, 2023
কাজের ফাঁকে সময় বের করে পড়া শেষ করলাম বইটা। যতটা ভেবেছিলাম তার চেয়ে অনেকটাই বেশি সময় লেগেছে। বাংলায় মৌলিক ফ্যান্টাসির সংখ্যা এমনিতেই অনেক কম, তার ওপরে এত ব��় একটা কাজ। না পড়ে কি আর ফেলে রাখা যায়?
প্রথমেই বলি এর কাহিনী এবং চরিত্রদের নিয়ে। এটি একটি পোর্টাল ফ্যান্টাসি- মানে এখানে আমাদের পরিচিত জগত আর সেকেন্ডারি জগত দুটোই আছে। মাঝখানে যোগাযোগ রক্ষা করছে ভেলভার উপত্যকা। আশিয়ানি সেই সেকেন্ডারি জগতের চরিত্র, কিন্তু এক সময় সে এসে পড়ে আমাদের জগতে। পরিচিত হয় অন্বয় নামের একটি ছেলের সাথে। দুজনের মধ্যে সখ্য গড়ে ওঠে। সাথি হয় লক্ষ্মীপ্যাচা এথেনা।
লেখক দুটো জগতকেই খুব সুন্দরভাবে তৈরি করেছেন। দুজনেট সম্পর্কটাও সুন্দর, কিন্তু অন্বয়কে আশিয়ানির কাছে ফিকে লেগেছে। বেশ ভারি ভারি কথা ছিলো সংলাপের মধ্যে। একটু মেকি লেগেছে সেসব জায়গায়। আর অন্বয়ের বয়সটা বেশি কম হয়ে গিয়েছে পরিণতি টানবার ক্ষেত্রে। অন্তত ভার্সিটি পড়ুয়া হলে শেষটা বিশ্বাসযোগ্য হতো আশিয়ানির আত্মত্যাগের পরিণতি। তবে এথেনাকে ভালো লেগেছে। বাকি চরিত্ররা মনে তেমন দাগ কাটেনি, তবে আশিয়ানিকে সাপোর্ট দেবার জন্য যথেষ্ট।
এবারে আসি, ওয়ার্ল্ডবিল্ডিং এবং জাদু সিস্টেমের কথায়। ওয়ার্ল্ডবিল্ডিং এক কথায় অসাধারণ ছিল। বর্ণনাবহুল হওয়ায় চোখের সামনে খুব সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে। তবে জাদু সিস্টেমে আরেকটু ব্যাখা দেওয়ার দরকার ছিল। বিশেষ করে ৫২২ নং পেজে প্রকৃতি সাধিকা ইদলিন তিনপাতা জুড়ে এতটাই ইনফোডাম্পিং করেছে যা হজম করতে কষ্ট হয়েছে। এসব ইনফো আগের চ্যাপ্টারগুলোকে একটু একটু করে দিলে বুঝতে সুবিধা হতো। আর ওয়ার্ল্ডবিল্ডিংয়ের পাশাপাশি জাদু সিস্টেমটাও আগের অধ্যায়গুলো জুড়ে ধীরে ধীরে তৈরি করলে ভালো হতো। আর সেকেন্ডারি ওয়ার্ল্ডে রাজনৈতিক অস্থিরতাও খুব একটা জটিল লাগে নি। বিশেষকরে যুদ্ধের শেষটা হঠাৎ করে হয়ে গেছে। আশিয়ানির ভেতরে স্ট্রাগলগুলোর দিকে বেশি ফোকাস করতে গিয়েই হয়তো। তবে, ছোটখাট বিশয়গুলো ছাড়া সর্বোপরি ওয়ার্ল্ডবিল্ডিং ভালো লেগেছে।
কাহিনীর প্রাণ ছিলো অন্বয় এবং আশিয়ানীর সম্পর্ক, যদিও সময় ছিলো খুবই অল্প। তবে কাহিনী মাঝের অনেকখানি জায়গায় ঝুলে গিয়েছে। এগোনোর জন্য স্কিপ করে পড়েছি বেশ খানিকটা। তবে শেষের ২০০ পাতায় কাহিনী তরতর করে এগিয়েছে। সবচেয়ে সুন্দর ছিলো ক্লাইম্যাক্স এবং শেষের অধ্যায়। এটুকুর জন্য বাকি অপূর্ণতাগুলোকে কিছুটা হলেও ক্ষমা করে দেয়া যায়।
আর্টওয়ার্কগুলো মোটামুটি। না থাকলেও ক্ষতি ছিল না। তবে বইয়ের সৌন্দর্য বেড়েছে। বাংলায় এমন ইলাস্ট্রেটেড ফ্যান্টাসি আর নেই বললেই চলে। সবচেয়ে সুন্দর ছিলো প্রচ্ছদ আর ভেতরের ম্যাপ। ওদুটো একেবারে বিদেশি বইয়ের মতন। বিশেষ করে এন্ডপেপারে ম্যাপ দেয়াতে ভালো লেগেছে।
সর্বোপরি, কালেকশনে রাখবার মতন বই।
Profile Image for Ahm.
1 review4 followers
July 22, 2022
বই: আশিয়ানী
জনরা: ফ্যান্টাসি, ড্রামা, অ্যাডভেঞ্চার
লেখক: জুলিয়ান

বইটা সমন্ধে পছন্দের কিছুঃ
পাঠকঃ বাংলা ভাষায় লিখা সেকেন্ডারী ওয়ার্ড ফ্যান্টাসী বইকটি'র মধ্যে অন্যতম একটি...
*রুপকথা, অলীক কাহিনী, বাচ্চাদের কাহিনী কোনটাই নয়..
*বিশাল পরিসরে, ২ জগৎের মেলবন্ধনে
দারুন এক ইসেকাই-ফ্যান্টাসী উপন্যাস... আশ্চর্য কিন্তু যেন খুবচেনা এক জগতের ক্রিয়েটর তিনি... লেখকের ৭ বছরের পরিশ্রমের চমৎকার এক ফসল এটি।
*লেখক এখানে বাস্তব রুঢ় দুনিয়া থেকে, নিজের কমফোর্ট জোন থেকে একটুখানী বেরোনোর, এস্কিপিজমের সুযোগ করে দিয়েছেন আপনাকে।
*লেখকঃ আশীয়ানীকে আমার জীবনদর্শন বললেও অত্যুক্তি হবে না... একটা ড্রিম প্রজেক্ট।
*সম্পাদকঃ কিছু বই আপনি পড়বেন। মজা নেবেন। এরপর ভুলে যাবেন।
কিছু বই আপনি পড়বেন। মজা নেবেন। এরপর সারা জীবন মনে রাখবেন।
আশিয়ানী দ্বিতীয় ধরনের বই।

বই সংক্ষেপঃ
আশিয়ানী আরনোমিয়েল একজন রাজকুমারী। সেভিদোনিয়া তার রাজ্য। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে, সিংহাসনে প্রথম নারী উত্তরাধীকারী যে সে'ই হবে, তা একরকম নিশ্চিত'ই। কিন্তু তার রহস্যসন্ধানী ব্যক্তিত্ব কি এতে কোনভাবে বাঁধা হয়ে দাঁড়াতে পারে? নিষিদ্ধ এক রহস্যের প্রতি প্রচন্ড আকর্ষনে, ক্রমে ক্রমে সে পৌছে গেল এমন এক জায়গায় যা তার পুরো জীবনাচরণকে বদলে দিল চিরদিনের জন্য! নিজেও বদলে দিল আর একজনের জীবন, যার সাথে পাবেন আপনার-আমার অনেক মিল!

এদিকে সেভিদোনিয়ায় যে একের পর এক অনাকাঙখীত, অযাচিত ঘটনা ঘটে চলছে তা কি নিছক'ই কাকতালীয়? উদ্বিগ্ন রাজা আরসালান আরনোমিয়েল, সেনাধ্যক্ষ আরহাম মেনদারকে নিয়ে সমস্যা সমাধানের যে চেষ্টা করে যাচ্ছেন, কিন্তু তা কি আসলেই যথেষ্ট? দায়ীত্ব-কর্তব্য পালন, রাজকুমারীর যোগ্যতার প্রমাণ দেয়ার সময় কি এসে গেছে? আর, অভিজাতদের সাথে তার যে দূরত্ব তৈরী হয়ে গেছে, তা কি আদৌ কমিয়ে আনতে পারবে আশিয়ানী?

ইলদারাম পর্বতমালার উত্তরাংশ কেন হঠাৎ উত্তপ্ত হয়ে উঠলো? রাজধানীতে ব্যবসায়ী কাফেলা আসা কমে গেল কেন? রাজকীয় সড়কে হামলা, পশ্চিমাঞ্চলে গোত্রদের মধ্যে ঝামেলা, খনিতে শ্রমিক বিদ্রোহ সবই কি কাকতাল? এমনকি খোদ রাজধানী সোভিয়ানে, এমন অযাচীত ঘটনা ঘটানোর মত সাহস কার থাকতে পারে? প্রাচীন জাদুকর সংঘের একজন প্রকৃতিসাধিকা ঠিক কিসের আশংকা করছে? আরনোমিয়েল সেনাবাহিনী এবং রাখশামান (বিশেষ) সেনাদলকে কেন হঠাৎ করে তলব করার প্রয়োজন পড়লো? হরিৎসেনারাই বা কী নিয়ে কাজ করছে? রাজবৃক্ষ আরনীমিশিল এর কী ভূমিকা রয়েছে আরনোমিয়েল রাজবংশের উত্থানের পেছনে?

আর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, এসব ঘটনা আশিয়ানীর সাথেই বা কতটুকু জড়িত?

এসব প্রশ্নের উত্তর রয়েছে প্রাচীন রহস্য, রাজনৈতিক কূটকৌশল, সমরকৌশল এবং বিশ্বাসঘাতকতার মিশেলে গঠিত বিশাল প্রেক্ষাপটের ফ্যান্টাসি উপন্যাস আশিয়ানী তে।

পাঠপ্রতিক্রিয়াঃ
অনেকটা সময় নিয়ে বইটা শেষ করেছি। আসলে, উত্তপ্ত, অতিসক্রিয় এক মনন আমার যা সর্বদাই ক্ষুধার্থ থাকে। ইদানিং আমি একে বিভিন্ন ধরনের 'পপ কালচার' খাওয়াই। উপন্যাস কম হয়, টিভি সিরিজ, ইসেকাই অ্যানিমে'ই বেশী, এমনকি মিড এক্সামের আগেরদিনও। মনস্তত্বগতভাবে আমি নিশ্চয়ই একজন এস্কেপিস্ট। নয়তো ইসেকাই, ফ্যান্টাসী মুভি, সিরিজ, উপন্যাস আমার এত পছন্দ কেন?! প্রায় সবগুলোই দেখা শেষ।
ইসেকাই এ গল্পের নায়ক (এইক্ষেত্রে আশিয়ানী নায়ক) যখন অদেখা একদম নতুন কোন জগৎে একদম নতুন কোন পরিস্থিতির মুখোমুখী হয় সেটা আমার খুবই ভাল লাগে। অজ্ঞাতসারে সেই জাদু, তরবারীর জগৎে আমিও যেন তার অ্যাডভেঞ্চারে সামীল হই। তবে আশিয়ানীকে রিভার্স ইসেকাই বলতে পারেন। পড়লেই বুঝবেন।

সত্য বলতে, এক্সামের এই সময়টাতে এই উপন্যাসটা বাদ দিয়ে আর কিছু'ই লাগেনি আমার। আমি তখন আশিয়ানীর মাঝামাঝি, দারুন সব ইন্টারেস্টিং ঘটনার একদম মধ্যেখানে। এদিকে লেখক প্রতি অধ্যায়ের শেষে আমাকে ক্লিফহ্যাঙ্গারে দড়ি দিয়ে ঝুলিয়ে রাখেন 😔। কয়েকবার এমন হয়েছে, আমি অ্যারে, লিংক লিস্টের অ্যালগরিদম মুখস্ত করতে করতে, কখন যে.. আশিয়ানী এরপর কি করবে তার সাম্ভব্যতা কষতে শুরু করে দিয়েছি.. 😁। একদিন তো বিছানায় শোয়ার দেড় ঘন্টা পর উঠে আরও কয়েকপাতা শেষ করলাম 😅। বা রে.. অন্বয় আর এথেনা'র কি ঘটলো, তা না জেনে শান্তি পাচ্ছিলাম না যে!

যা যা ভাল লেগেছেঃ
না। এটা কোন গড়পড়তা মানের ফর্মুলা'র ছাঁচে ফেলা উপন্যাস নয়। না। আপনি অনুমান করে বলে ফেলতে পারবেন না পরের অধ্যায়ে কি ঘটবে। চ্যালেঞ্জ করছি, এমনকি অর্ধেক বই শেষ করার পরও বলতে পারবেন না যে শেষটা কিভাবে টানা হবে! ঠিক এই উপাদানটাই, কৌতুহলটাই আপনাকে পাতার পর পাতা উল��টাতে বাধ্য করবে। প্রতি অধ্যায়ের শেষের ক্লিফহ্যাঙ্গার আপনাকে আশিয়ানীতে আটকে রাখবে। এরপর কি হল, তা জানার জন্য মন উশখুশ করবেন। তবে এটা কোন থ্রিলার নয়। প্রতি পাতাতেই যদি থ্রিল চান, তাহলে এই উপন্যাস আপনার জন্য নয়। মোটা দাগে বললে, বইয়ের প্রথম ২ ভাগে আপনি বেশ প্রফুল্ল মনে আশিয়ানী, এথেনা, অন্বয়ের সাথে অ্যাডভেঞ্চারে যোগ দেবেন। কাহিনী, ঘটনা, মোমেন্টগুলো আপনাকে আনন্দ দেবে, অবাক করাবে, মুচকি হাসাবে আবার কখনো অট্টহাঁসিও করাবে।

শেষের অংশটা প্রথমেই আপনাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেবে, একদম চমকে উঠবেন। ভাববেন আহা.. কি থেকে কি হয়ে গেল! অবশেষে অনাকাঙ্ক্ষিত সুন্দর রকমের সমাপ্তি টানা দেখে লেখকের মুন্সিয়ানার প্রশংসা করতে বাধ্য হবেন।

সম্পাদকের ভাষায় "... আপনি যদি বই মানেই টানটান উত্তেজনা, রোমাঞ্চ ইত্যাদি ভাবেন, একটানা দৌড়ে শেষ পৃষ্ঠায় যেতে চান, তবে এই বইটা হাতে নেওয়ার আগে ভাবার অনুরোধ করবো। আর আপনি যদি শান্ত নদীর পাড়ে বসে মৃদুমন্দ হাওয়ায় ভাবাবেগে আক্রান্ত হতে চান, তাতে নৌকা ভাসিয়ে নির্দিষ্ট কোনো গন্তব্য মাথায় না নিয়ে স্রেফ নৌকাটাকে বিশ্বাস করে চারপাশের সৌন্দর্য দেখতে দেখতে ভ্রমণ উপভোগ করতে চান, তবে আপনিই এই বইটির টার্গেট অডিয়েন্স। বইটি হাতে নিন, আপনার ভাল লাগবে..."

অন্বয়, এথেনা খুবই ভাল লাগার দু'টি চরিত্র। কিন্তু আশিয়ানী আমার কাছে বিশেষ কেউ। পুরুষ-নারী যেই হোন না কেন, হলফ করে বলতে পারি আশিয়ানীর মধ্যে নিজের ছাঁয়া দেখতে পাবেন আপনি। তার দৃষ্টিভঙ্গীর সাথে কোথাও না কোথাও গিয়ে নিজের মিল পাবেন। কারনটা হল এই যে, আশিয়ানীর কথায়, কর্মে লেখক তার ব্যক্তিগত সমসাময়ীক জীবন দর্শন নিয়ে এনেছেন যা আপনার-আমার দৃষ্টিভঙ্গীর সাথে অনেকদিকদিয়েই মেলে।


সে'ও মানুষের সাথে মন খুলে মিশতে চায়। সুযোগ পেলেই রাজকীয় নিয়মের বেঁড়াজাল এড়িয়ে স্বাধীনচেতা জীবন উপভোগের চেষ্টা সে করে। বন্ধবীদের সাথে খেলো, মেয়েলী আড্ডায় মেতে ওঠে। নিষিদ্ধ, রহস্যময় সব বিষয়ের প্রতি তার খুবই আগ্রহ। রহস্যসন্ধানী, সাহসী, উপস্থিতবুদ্ধিসম্পন্ন যেন রক্তমাংসের'ই এক মেয়ে সে।

আশিয়ানীর মুখনিসৃত বক্তব্য, চিন্তায় লেখকের গভীর জীবনবোধের খোঁজ পাবেন। কিছু দার্শনিক লাইন কয়েকবার করে পড়েছি, যাতে গভীর অর্থটা অনুধাবন করতে পারি। হ্যা। জীবন সমন্ধে আমার দৃষ্টিভঙ্গির কিছু জায়গায় হালনাগাদের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছি।

বইয়ে আমার পছন্দের দু'টো মুহূর্তঃ
লেখক এত চমৎকারভাবে মুহুর্তগুলো বর্ননা করেন, মনে হবে আপনি যেন নিজের চোঁখেই দেখতে পাচ্ছেন। আসলে, নিজে আগ্রহ না দেখানোয়, অভিজাত সম্প্রদায়ের সাথে আশিয়ানীর কিছুটা দূরত্ব তৈরী হয়েছিল। সে এটাকে কমাতে চাচ্ছিলো। বড় একটা অনুষ্ঠানে সুযোগ পেয়েও গেল। বাবাকে নাচের আমন্ত্রন জানালো। নিজের দক্ষতার উপর যে যথেষ্ট আত্নবিশ্বাস আছে রাজকুমারী আশিয়ানীর, তা দেখে মজা পেয়েছি।
.
... অথিতিদের মধ্য দিয়ে ধীরপায়ে হেঁটে হেঁটে মঞ্চের দিকে এগোতে লাগলো। ইচ্ছে করেই ওর চলনের মধ্যে একটা আকর্ষনীয় ভাব ফুটিয়ে তুলেছে। ভালো করেই জানে যে ওকে রানির পছন্দ করে দেওয়া আনুষ্ঠানিক পোশাকে এমনিতেই আজ অনেক সুন্দর লাগছে, তারপরও এটার সাথে বাড়তি কিছু যুক্ত করা মন্দ নয়। মৃদু হাসির রেখা ফুটে উঠলো ওর ঠোঁটে। বেশীদূর এগোতে হলো না, এর ভেতরেই অতিথিদের অনেকে ওর দিকে অবাক নজরে তাকাতে শুরু করেছে...
.
... শেষবারের মুদ্রা হিসেবে এবার ছুটে ঘুরতে শুরু করলো আশিয়ানী। পোশাকের নিচের দিকের গোলাকার অংশ মেঝে ছেড়ে ওর চতুর্দিক জুড়ে খানিকটা শুন্যে উঠে পড়লো। সেটার নিচে দ্রুতগতীতে ঘূর্ণায়মান নিজের দুটো পা ও আর দেখতে পাচ্ছে না। এক হাত কোমর বরাবর আর অন্য হাত শূন্যে তুলে পাকের পর পাক ঘুরে চলেছে আশিয়ানী। প্রতিটা পাক আগেরটার তুলনায় আরেকটু দ্রুত হয়ে উঠছে...

পছন্দের দ্বিতীয় মোমেন্ট টা হল, বাৎসরিক 'যেমন খুশী তেমন পোষাক' অনুষ্ঠান'টা। যেই জগৎে কেউ কখনো 'শাঁড়ি' দ্যাখেনি, সেখানে চমৎকার একটা শাঁড়ি কিভাবে চলে এল? রাজকুমারী আশিয়ানী ঠিক কিভাবে শাঁড়ি পরা শিখল? অনুষ্ঠানে সমস্ত নারীরা এই চমৎকার পোষাক'টা প্রথমবার দেখতে পেয়ে ঠিক কতটা চমকে উঠলো? কি এক্সপ্রেশন দিল, সেটাই হল ভাল লাগার এই মোমেন্ট'টি।
.
...অবশেষে যেন অনন্তকাল পর বাইরে থেকে ওর নাম ধরে ডাকলো কেউ। একবার আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে সবকিছু ঠিকঠাক আছে কি না তা দেখে নিয়ে আশিয়ানী দরজা খুললো। ওকে দেখার সাথে সাথে দরজার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা দলটার সবার চোয়াল একবারে ঝুলে পড়লো। চোঁখ বড় বড় করে ওর দিকে তাকিয়ে আছে রাজসেবক-সেবিকাদের ছোট দলটা। এমনকি অনুভূতিহীন হিসেবে বিবেচিত ওর ব্যক্তিগত নারী নিরাপত্তারক্ষীদের চোখেও বিষ্ময়ের উজ্জ্বল আলো দেখা যাচ্ছে। বিনাবাক্যব্যয়ে ও হাঁটতে শুরু করলে বাঁকিরা পিছু নিল দ্রুত। দরজায় পাহারারত নিরাপত্তারক্ষী সৈন্যদের অবাক করে দিয়ে দরজা পার হয়ে রাজা-রানী যে কক্ষে অপেক্ষা করছিলো সেখানে ঢুকলো আশিয়ানী। রাজা আরসালান এবং রানী জেহেনিয়া অদ্ভুত নকশার পোশাক পরে দাঁড়িয়ে আছেন ভেতরে। ওর উপর চোখ পড়ামাত্র দুইজনের চোখের দৃষ্টিই একদম স্থির হয়ে গেল। বাবা-মায়ের কাছ থেকে আকাঙ্ক্ষিত প্রতিক্রিয়া পেয়ে মনে মনে খুব খুশি হয়ে উঠতে সময় লাগলো না বেশি। শাড়ি তো ভালই খেল দেখাচ্ছে সেভিদোনিয়ায়। মুচকি হাঁসলো ও।....
.
...বেশীরভাগ অতিথির চোখ ওর উপর আঠার মত সেঁটে আছে। নিজের উপর সকলের দৃষ্টির ভার আক্ষরিক অর্থেই অনুভব করতে পারছিল যেন আশিয়ানী। নীল শাড়ি আর নীল গহনার সাথে কানের গোড়ায় তাজা ফুল গোঁজা কোন রাজকুমারী বা অন্য কোন মেয়েকে সেভিদোনিয়ার কেউ কখনো দেখেছে বলে মনে হয় না। যা আশা করেছিলো সেরকম প্রতিক্রিয়া দেখতে পেয়ে মনে মনে খুব আনন্দিত হয়ে উঠলো ও...
.
... ইতোমধ্যেই বেশ তোলপাড় ফেলে দিয়েছে পোষাকটা। অনুষ্ঠানের শেষে রানির কাছেই সেই ফিরিস্তি একবার শোনা হয়ে গেছে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে রাজপরিবারের একটা নতুন ব্যবসা বুঝি চালু হয়ে যাবে এই পোশাক ঘিরে! যে পরিমাণ অভিজাত মহিলা রানীর কাছে এই পোষাকের ব্যাপারে নিজেদের আগ্রহ প্রকাশ করেছে তাতে এটা নিয়ে ব্যবসার চিন্তার সুযোগ আছে বৈকি...

কষ্টের মুহূর্ত ও আকাঙখাঃ
পূর্বে যেমনটা বলেছি, বইয়ের তৃতীয় অংশের ঘটনাপ্রবাহ আপনাকে নাড়িয়ে দিয়ে যাবে। শেষ দু'অধ্যায়ে, আশিয়ানীর ব্যাথায় আপনিও ব্যাথিত হবেন, তা নিশ্চিত। একখন্ডে যেভাবে সমাপ্তি যেভাবে টানা হয়েছি তাতে আমি সন্তুষ্ট। শুধু পূর্বের সেই রাজকুমারীর পরিচয় জানতে আগ্রহী হয়ে আছি। উপত্যকায় যেতে পথের পাশে যার মুর্তিটি দেখা যায়। বিনিতভাবে অনুরোধরত সে মূর্তি। কি ঘটেছিল তার আমলে, সেভিদোনিয়ায়? সমস্যা সমাধানে সে কতটুকু কৃতকার্য হয়েছিল? কেন সে ব্যার্থ হয়েছিল, তা আর জানা হল না। বইটি একখন্ডে সুন্দরভাবেই সমাপ্ত করা হয়েছে। তারপরও মন চায়, সেভিদোনিয়া সমন্ধে যদি সবকিছু জানতে পারতাম। রাজা গেমরান, জ্ঞানী রাজা দারিয়েনের আমল সমন্ধে জানতে মন চায়। প্রথম পাতার মানচিত্রের অন্যান্য মহাদেশ, দ্বীপ সমন্ধে তো কিছুই জানতে পারলাম না, সেই আক্ষেপ রয়ে গেছে। ভারদান মহাসাগরের নিকটে 'ড্রাগন' সদৃশ প্রানীটির
ছবি দেখে তাদের সমন্ধেও বিরাট জুগুপ্সা জেগে উঠেছে। লেখকের নিকট বিনীত অনুরোধ থাকবে, পরবর্তী কোন সাক্ষাতে, চুপে চুপে হলেও আমাকে এসব জানিয়ে আমার আক্ষেপ'টা দূর করবেন।

সেভিদোনিয়া'য় তোমাকে স্বাগত জানাই।
-------------------------------------------------------
ফ্যান্টাসী সাহিত্য নিয়ে কিছু কথাবার্তাঃ
ফ্যান্টাসী সাহিত্��, এস্কেপিজম নিয়ে লর্ড অব দ্যা রিং, দ্য হবিট এর লেখক J. R. R. Tolkien এর বক্তব্য আর আশিয়ানীর লেখকের দৃষ্টিভঙ্গী আমার এতটাই পছন্দ হয়েছে, মনের সাথে মিল পেয়েছি যে সেগুলো এখানে কোট করার লোভটা সামলাতে পারলাম না।

'অন ফেইরী-স্টোরীজ' এর একটা অনুচ্ছেদে Tolkien বলেছেনঃ

"ফ্যান্টাসী গল্প নিজেই এক এস্কেপিস্ট, বাস্তব রুঢ় দুনিয়া থেকে কিছুক্ষনের জন্য হলেও পালানোর একটা সুযোগ। সাহিত্যের এই ধারাটার, গর্ব করার যায়গাটা কিন্তু এখানেই। আচ্ছা ধরো, নায়কের সৈন্য যখন শত্রুর হাতে ধরা পড়ে, তখন আমাদের কাছে কি এটাই মনে হয়না যে, পালানোটা এখন তার একটা কর্তব্য? ভেবে দ্যাখো, আমরা'ও কিন্তু অনেকভাবেই একটা জেলখানার মধ্যে আছি। সুদখোর মহাজন, মূর্খ সমাজপতি'রা আমাদেরকে মানষিক জেলে পুরে রেখেছে। মন ও আত্মা'র মুক্ত থাকার গুরুত্বটা যদি আমরা বুঝে উঠতে পারি, মুক্তচিন্তার প্রতি নিবেদিতপ্রান হই, তখন কিন্তু আমাদের উপর একটা কর্তব্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে এসে পড়ে। সেটা হল, নিজে পালাও এবং যতজন'কে সম্ভব, সাথে নিয়ে পালাও।"

তো, এই এস্কেপিজমের দরকারটা আসলে কি? এটা কেন প্র‍য়োজন? এব্যাপারে আশিয়ানীর লেখকের দৃষ্টিভঙ্গী জানতে পেরে একটা আত্নীক সম্পর্ক খুঁজে পেয়েছি।

"...সমস্যা হলো, মানুষ, বেশিরভাগ মানুষ আর কি, নতুন কিছু সহজে নিতে পারে না। অনেক রকম ভয় বলি, আর অবিশ্বাস বা স্বাচ্ছন্দ্যবোধের সীমানা বলি, এরকম কিছু ফ্যাক্ট আমাদের নতুন কিছু গ্রহণ করতে বাঁধা দেয়। গন্ডিতে রাখে। স্বাচ্ছন্দ্যসীমার ভেতরে ঘুরপাক খেতে উদ্দীপনা দেয়। আর এভাবেই বেশিরভাগ মানুষ একটা 'আপন বলয়' তৈরি করে ফেলে নিজের অজান্তেই। টেরই পেতে চায় না যে তার নতুন নেওয়া কোনো সিদ্ধান্ত বা নতুন কোনো চয়েজ আসলে তার পুরানো অনেক সিদ্ধান্ত বা চয়েজ এর পুনঃপ্রকাশ! আমরা একসময় গিয়ে নিজের থেকেই আর এস্কেপ পাই না। আমাদের বাহ্যিক পরিসর হয়ত ব্যাপক হয়ে যায়, but in the inside, আমরা ক্রমশ ক্ষুদ্রাকৃতি হতে থাকি।

হয়তো বন্ধু হারিয়ে, হয়তো পরিচিত স্থান ছেড়ে গিয়ে, হয়তো অপছন্দ কিছুর সাথে দিনের পর দিন বসবাস করতে করতে, হয়তো ব্যস্ততায়, হয়তো অস্থিরতায়, হয়তো হতাশায়..... আমাদের মস্তিষ্কে কারাগার তৈরি হয় ক্রমশ...

আর এই কারণেই মাঝে মাঝে এস্কেপ খোঁজা জরুরি। হোক তা কাল্পনিক কিছুতে, বা হোক সেটা পছন্দ বেছে নিয়ে বা মাঝে মাঝে পছন্দকে কিছুটা পরিবর্তন করেও...

আমার ক্ষেত্রে এবং অনেকের ক্ষেত্রেই এই এস্কেপিজম নিয়ে আসে ফ্যান্টাসি। না, যারা এগুলোকে না বুঝে বাচ্চাদের কাহিনী বলে, যারা রূপকথা বলে একে ক্যান্সেল করতে চায়, বা অলীক কাহিনী ভেবে নাক সিটকায়; এদের প্রতি আমার রাগ লাগে না, বরং মাঝে মাঝে করুণা হয়। করুণা হয় এই কারণে যে, এরা হয়তো এস্কেপিজম এর আনন্দটা কোনোদিন উপভোগ করতে পারবে না।"
Profile Image for Nadia.
115 reviews
July 29, 2023
শেষটা খুবই unexpected ছিল। সাদামাটা fantasy কাহিনী হলেও খুবই সুন্দর করে গোছানো।
আমার সবচেয়ে ভালো লেগেছে অন্বয়ের life এর change এর ব্যাপারটা আর আশিয়ানির রাজ্যের কুটনৈতিক ব্যাপারগুলো। কাহিনীটা খুব সুন্দর করে মানুষের psychology নিয়ে কথা বলে এবং তার reason আর solution ও দেয়।

আমার rating কিছুটা কম দেওয়ার কারণ, বইটা আমি উৎকন্ঠা নিয়ে কখনও পড়তে বসি নি। বইটা পড়া শুরু করেছি, এখন শেষ করতে হবে এই দায়বদ্ধতা থেকে ধরা হত। খারাপ লাগতো না যদিও কিন্তু খুব আহামরি মজার ও ছিল না। অনেক বেশি কাহিনীটাকে drag করা হয়েছে। লেখক প্রতিটা সম্পর্ক, প্রতিটা ঘটনা, প্রতিটা change খুবই সুন্দর এবং সুক্ষভাবে গড়ে তুলেছেন। এই বইয়ে হঠাৎ করেই কিছু হয়ে যায় নি, সবকিছুই সুনির্দিষ্ট সময়ে, কিছু specific কাজের প্রভাবে হয়েছে, যেটা খুবই প্রশংসা যোগ্য।
2 reviews1 follower
June 10, 2022
আশিয়ানী বুক রিভিউ

বাংলাদেশের আধুনিক সাহিত্য জগতে ফ্যান্টাসির কাজ তেমন একটা হয়নি। যা হয়েছে তা নিতান্তই অপ্রতুল। আশরাফুল সুমন ভাইয়ের লিখা কিছু বই ছাড়া বাংলা মৌলিক ফ্যান্টাসির সাথে আমি তেমন একটা পরিচিত ছিলাম না। তবে এই বছর ফ্যান্টাসির উপর বেশ কিছু কাজ হয়েছে যার মধ্যে আমীনুল ইসলামের যুদ্ধের সহস্র বছর পর, কাফি আল নয়নের রাজকীয় উৎসর্গ, সুজানা আবেদিন সোনালির মিরিয়া- যোদ্ধাকুমারির সন্ধানে অন্যতম।

তবে যে বইটার জন্য সবচেয়ে বেশি মুখিয়ে ছিলাম, সেটা ছিল রিয়াজুল ইসলাম জুলিয়ান ভাই এর আশিয়ানী। এর কারণ ছাপার অক্ষরে বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ কলেবরের ফ্যান্টাসি বই হল এটা। এর আগে এত বড় মৌলিক আধুনিক ফ্যান্টাসি কেউ বাংলায় লিখেছে বলে আমার মনে পড়ে না। তাই হাতে পাওয়ার পরে বেশিদিন দেরি না করে শেষ করে ফেললাম। বইটা এতটাই ভাল লেগেছে যে একটা বড়সড় রিভিউ না লিখলে খানিকটা অস্বস্তি বা অসম্পূর্ণতা কাজ করছিল।

আমাদের ভাষায় একটা কথা আছে, আগে দর্শনধারী পরে গুণবিচারি। তো দর্শনধারীর খাতায় আশিয়ানী বইটা একেবারে অনার্স মার্ক পেয়ে উতড়ে গেছে। পেজ কোয়ালিটি, বাইন্ডিং, কভার, ইলাস্ট্রেশন সবকিছু এককথায় অসাধারণ। এত সুন্দর বই এত কম দামে পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার বৈকি। যাক, সেকথায় আর বেশি না যাই। এবার কথা বলি অন্তঃপুরের বিষয়বস্তু নিয়ে।

আশিয়ানী এমন একটা উপন্যাস যাকে আসলে একটা গল্প বললে ভুল হবে। বরং একে পরস্পর অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িয়ে থাকা দুই কাহিনীর সমষ্টি বলাটাকে আমি অধিক সমীচিন মনে করি। যে গল্পের শুরুটা মৃদুমন্দ এবং শান্ত হলেও লেখকের সাবলীল বর্ণনাভঙ্গির জন্য তা কখনোই বিরক্তিকর বলে মনে হয়নি। উলটো কখন যে পাতার পর পাতা উল্টে চলে গেছি টেরও পাইনি।
গল্পের কাহিনি শুরু হয় সেভিদোনিয়া নামের এক কল্পরাজ্যের রাজকন্যার অজানাকে জানার অদম্য বাসনাকে চরিতার্থ করার প্রচেষ্টার মধ্য দিয়ে। কিন্তু সেই প্রচেষ্টা উন্মুক্ত করে দেয় নতুন এক পরিস্থিতির যা রাজকুমারি ঘুণাক্ষরেও কল্পনা করতে পারেনি। এক এডভেঞ্চার এর দুনিয়ায় তিনি নিজেকে আবিষ্কার করেন যার জন্য তিনি মোটেও প্রস্তুত ছিলেন না। এর থেকে বেশি বললে বড়সড় স্পয়লার হয়ে যাবে তাই ওদিকে আর আগালাম না। তাই লেখকের সাথে সুর মিলিয়ে বলি, বইয়ের উপর আগেই এক্সপেকটেশন না রেখে বরং উপভোগ করুন জার্নিটাকে । Journey before destination, life before death.
এবার আসা যাক, আশিয়ানীর সবচাইতে পছন্দের দিক আমার দৃষ্টিতে। এর চরিত্রায়ন ও ওয়ার্ল্ড বিল্ডিং। চরিত্রায়নের মুন্সীয়ানার জন্য লেখক নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার। গল্পের প্রধান চরিত্র রাজকুমারি আশিয়ানী, তার পিতা রাজা আরসালান, রানী জেহেনিয়া, প্রধান সেনাধ্যক্ষ আরহাম মেনদার ছাড়াও আশিয়ানীর বান্ধবীকুল অন্যান্য ছোটখাট চরিত্র গুলোও অসাধারণ হয়েছে। আর রাজকুমারি আশিয়ানীর চরিত্রায়ন এর যে দিক সবচেয়ে বেশি পছন্দ তা আশিয়ানীর সাহস, দৃঢ়তা কোনটাই নয় বরং তার কর্মের ফলশ্রুতিতে যদি কোন দুর্ঘটনা ঘটে বা অনিষ্ট হয় তবে সেই ভুল স্বীকার করে সমস্যার সমাধান করতে চাওয়ার যে স্পৃহা, এটা অনেক ফ্যান্টাসি চরিত্রে কমবেশি থাকলেও আশিয়ানীর সংলাপ, মনোভাব, চিন্তাধারা তার চরিত্রকে অনেকটাই বাস্তবতার প্রতিফলনে রূপান্তরিত করেছে।

যাই হোক, ওয়ার্ল্ড বিল্ডিং ও যথেষ্ট প্রশংসার দাবিদার। একটা কথা আছে সাহিত্যে- show, don't tell. এই কাজটাই করে দেখিয়েছেন লেখক। ভূগোল বই এর মত এত একগাদা তথ্য তুলে না দিয়ে ঘটনাপ্রবাহের মাধ্যমে সেভিদোনি��়া লেখক চোখের সামনে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। একঘেয়ে তথ্যকণিকার বদলে ক্রমপরিবর্তনশীল ঘটনাপ্রবাহের মধ্য দিয়ে সেভিদোনিয়ার নগর, গ্রাম, নদী, দুর্গ, বন্দর, পর্বতমালা আমাদের চোখের সামনে তুলে ধরা হয়েছে যা নিঃসন্দেহে বিশ্বমানের কাজই বটে।
আর এত প্রশংসার পরেও বইটা নিয়ে সামান্য অভিযোগ আছে তা আমার নিতান্তই ব্যক্তিগত। আমার সবচেয়ে পছন্দের চরিত্রকে মেরে ফেলা হয় শেষাংকে। আর আমার কাছে সবচেয়ে ঘৃণিত চরিত্র শুধু বেঁচেই থাকে না তার উদ্দেশ্য সে আংশিক সফল করতেও সক্ষম হয়। গল্পের ক্লাইমেক্স এর গ্রন্থিমোচন প্রক্রিয়াটাও আমার তেমন পছন্দ হয় নাই৷ তবে সমাপিকা যথেষ্ট পছন্দ হয়েছে। অধিকাংশ পাঠকের কাছেই তা পছন্দ হবে বলে আমার বিশ্বাস। কারণ সমস্ত প্লট পয়েন্ট এত সুন্দরভাবে শেষে এসে মিলিয়ে দিয়েছেন যে আমারও মনে হয় এডিটর সুমন ভাই এর মত বলি, 'ভাই, কেমনে মিলাইলা?'

শেষ করি একটা কথা দিয়ে। এই বই সকলের জন্য না। মাইকেল বে আর মার্টিন স্করসেজি পুরো দুই ধরনের চলচ্চিত্র নির্মাতা। একজন ধুমধারাক্কা একশন, আরেকজন ড্রামা, সাস্পেন্স এর কাজে দক্ষ। ঠিক তেমনিভাবে এই বইয়ে একইভাবে কেউ যদি মুহুর্মুহু থ্রিল, একশন খুঁজতে চান তবে হতাশ হবেন। কিন্তু কেউ যদি চান একটু শান্ত মেজাজের কাহিনি, হালকা হাসিঠাট্টা, রাজনীতির মারপ্যাঁচ, বন্ধুত্বের নির্মলতা, সমাজের বাস্তব চিত্র আর এক শান্ত সৌম্য এডভেঞ্চার যার পরতে পরতে আছে নাটকীয়তা। তবে এই বই তাদের জন্য।

অবশ্য একশন, যুদ্ধ, রোমঞ্চ যে নেই তা কিন্তু নয়। তবে সেক্ষেত্রে আপনাকে ধৈর্য ধরতে হবে। তাড়াহুড়ো করলে চলবে না। গলধঃকরন না করে আস্তে ধীরে বইটিকে উপলব্ধি করুন তখন শেষ পাতাটি উলটানোর পর আপনার অন্তর হয়তো এক অব্যক্ত শূণ্যতায় ভরে যাবে। মনে হবে কেন কাহিনি এখানেই থেমে গেল। ইশ! যদি আর কিছুক্ষণ থাকতে পারতাম সেভিদোনিয়ায়। আশিয়ানীর সাথে ঘুরে বেড়াতাম সেই কল্পরাজ্যের মাঠে প্রান্তরে। আর এই অব্যক্ত শূণ্যতার অনুভূতির মধ্যেই লুকিয়ে আছে আশিয়ানীর সার্থকতা।

তাই সাহস করে বইপ্রেমিরা পড়ে ফেলতে পারেন আশিয়ানী। মুহূর্তে হারিয়ে যাবেন এক অজানা দুনিয়ায়। একঘেয়ে এই দুনিয়ায় এক চিলতে মুক্তির স্বাদ আপনাকে দিতে পারবে জুলিয়ান ভাইয়ের লেখা বইটি। এটুকু আমার দৃঢ় বিশ্বাস!

Profile Image for Old_Soul_Reads.
109 reviews8 followers
June 6, 2023
স্থান-কালকে কখনো জয় করা যায়? সেই চেষ্টা করা হলে তার ফলাফলই বা কেমন হয়? কখনো যদি আপনার সামনে হঠাৎ কোনো মধ্যযুগীয় রাজকুমারী হাজির হয়, তখন কী করবেন? ঘটনার অস্বাভাবিকতা চোখে পড়বে আপনার? নাকি সাময়িক উত্তেজনায় একটু ভুল হয়ে যাবে? তবে সাবধান! কে জানে আপনার জন্যই হয়তো আবার মুক্ত হবে তেজোসিত, অনর্থ ঘটে যাবে জগতে!

সেভিদোনিয়া রাজ্যের রাজকুমারী আশিয়ানী আরনোমিয়েল। সাহসিকতা, দৃঢ় ব্যক্তিত্বসম্পন্ন, স্বাধীনচেতা মেয়ে। অজানাকে জানার ইচ্ছা যার রন্ধ্রে রন্ধ্রে। সব কিছুকে নতুন আঙ্গিকে দেখতে জানে আশিয়ানী। অন্য সবাই যখন রহস্যময় ভেলবারের নাম উচ্চারিত হলেই ভীত হয়ে উঠে, সেখানে রাজকুমারী আশিয়ানী ছোটবেলা থেকেই ভেলবারের প্রতি অনুভব করে এক অমোঘ আকর্ষণ। এই আকর্ষণই কি তার জীবনে কাল হয়ে দাঁড়ায়? ঘুরিয়ে দেয় তার জীবনের গতি?

সময়ের দিক থেকে সেভিদোনিয়ার চেয়ে অনেক এগিয়ে থাকা আধুনিক এক শহরে বেড়ে উঠা ছেলে অন্বয়। স্বভাবে সে আত্মকেন্দ্রিক। অবসরের সঙ্গী বই আর তার প্রিয় পোষা পাখি এথেনাকে নিয়েই তার জীবনাচরণ। কিছু পারিবারিক সমস্যায় বাবা-মায়ের সাথে মানসিক দূরত্ব সৃষ্টি হয়ে যায় অন্বয়ের। আত্মকেন্দ্রিক অন্বয় সে দূরত্ব চুকাতে পারে না। বন্ধুবান্ধবও নেই কেউ। আশিয়ানীর সাথে পরিচয় বদলে দেয় অন্বয়ের জীবন। আত্মকেন্দ্রিক অন্বয় খোলস ছেড়ে বেড়িয়ে আসে, মিশতে পারে মানুষের সাথে। কিন্তু তারপর? কী এমন হয়েছিল, যার জন্য মরনরোগে শয্যাশায়ী হয় অন্বয়? এতে আশিয়ানীই বা কতটুকু সম্পৃক্ত?

চেহারার দিকে তাকালে মনে হয় না জানি কত শতাব্দীর জ্ঞান ধরে রেখেছে । বলছিলাম এক লক্ষ্মীপেঁচার কথা, এথেনা। গোলগাল মুখে দুটো গোল গোল চোখ, তীক্ষ্ণ ঠোঁট, সাদা পশমে আবৃত এক আদুরে পাখি এথেনা। আশিয়ানীর সাথে এথেনার প্রথম পরিচয় খুব বেশি সুখকর না হলেও পরবর্তীতে আশিয়ানীর জীবনের সাথে জড়িয়ে গিয়েছিলো এথেনা। শেষপর্যন্ত চেষ্টা করে গিয়েছে আশিয়ানীকে সাহায্য করার। কিন্তু তারপর কী হয়েছিলো এথেনার পরিণতি?

পাঠ প্রতিক্রিয়া: বইটা বেশ সময় নিয়ে পড়েছি আমি। আমাকে বেশ কুইক রিডার বলা যায়। সেই আমিই বইটা শেষ করতে সময় নিয়েছি পুরো ১৪ দিন! এই ১৪ দিনের জার্নিটাকে ব্যাখ্যা করার জন্য আপাতত এই মূহুর্তে আমার মাথায় একটাই শব্দ আসছে, স্বপ্ন! লেখকের ড্রিম প্রোজেক্ট আমাকে নিয়ে গিয়েছে এক ড্রিম ওয়ার্ল্ডে। কী নেই সেখানে! রহস্য, রাজনৈতিক কূটকৌশল, সমরকৌশল, বিশ্বাসঘাতকতা, সাহসিকতা, দায়িত্ববোধ, বন্ধুত্ব আর জগতের সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র ভালোবাসার এক সুন্দর মিশেল এই বই। শেষটা সুন্দর ছিল, এতো বেশি সুন্দর যে এখনো কেমন ঘোরের মধ্যে আছি মনে হচ্ছে।
বইয়ের প্রোডাকশনের কথা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। ৬৫৫ পৃষ্ঠার বিশাল কোনো বইয়ের বাইন্ডিং এতো চমৎকার হতে পারে! এর সাথে রয়েছে লেখকের নিজের করা নান্দনিক প্রচ্ছদ, বেশ কয়েকজনের করা ৩০ টার মতো মৌলিক ইলাস্ট্রেশন। যা বুঝতে পারছি, "আশিয়ানী"র ঘোর অনেকদিন থাকবে!
ফ্যান্টাসি জনরায় আকর্ষণ থাকলে "আশিয়ানী" অবশ্যপাঠ্য। না থাকলেও অবশ্যপাঠ্য, "আশিয়ানী" আপনাকে নিরাশ করবে না।

বই: আশিয়ানী
লেখক: Riajul Islam Xulian
জনরা: ফ্যান্টাসি
প্রকাশনী: চিরকুট
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬৫৫
মুদ্রিত মূল্য: ৮০০ টাকা (১ম মুদ্রণ)
Profile Image for AR Dipu.
37 reviews1 follower
October 12, 2023
আশিয়ানী মূলত নিয়েছিলাম ফেসবুকে এর হাইপ দেখে। যেদিকে তাকাচ্ছিলাম সেদিকে আশিয়ানী! ক্রেজটা একটু বেশি মনে হলো আমার কাছে। তবে কি আশিয়ানী খারাপ বই? নাহ, বেশ ভাল একটা বই। লেখকের পরিশ্রম স্পষ্ট বোঝা যায়। তবে আমি কাহিনীর আসল মজা পেতে শুরু করেছিলাম ৪০০ পেজের পরে গিয়ে। কিছু কিছু জায়গায় আমার মনে হয়েছে লেখক সেলফ হেল্প জনরা থেকে অনুপ্রাণিত। ফ্যান্টাসির মধ্যে এ ধরনের মোটিভেশনাল কথা বেশ বিরক্তিকর লেগেছে।

বাংলাদেশের সাহিত্যে নিঃসন্দেহে একটা ভাল সংযোজন আশীয়ানি। ফ্যান্টাসি ওয়ার্ল্ড নিয়ে এমন বড় পরিসরে কাজ দেখাই যায় না বলতে গেল। লেখকের কাছ থেকে প্রত্যাশা বেড়ে গেল। আশা করি তিনি ভবিষ্যতে আরো ভাল ভাল কাজ উপহার দেবেন। উনার পরিশ্রমকে স্যালুট!
Profile Image for Md Sabet.
2 reviews1 follower
Read
July 23, 2022
”ফ্যান্টাসি বাচ্চাদের জন্য"
"ফ্যান্টাসি চাইল্ডিশ"
"বাংলাদেশে ফ্যান্টাসির ভবিষ্যত নেই"

ফ্যান্টাসিতে পদার্পনের পূর্বে অমন হাজারো নেতিবাচক কথা শুনেছি। সব যে ঠিক একতরফা নেতিবাচক ছিলো তা নয়, ইতিবাচক অনেক কথাও শুনেছি। যাই হোক, ইতিহাস প্রেমী হওয়ায় বইয়ের জগতে কল্পনার চাইতে বাস্তবিক কাহিনী ই বেশ পড়া হয়েছে। ফ্যান্টাসি নিয়ে আগ্রহ কিংবা তার চেয়ে বেশী কৌতূহল ছিলো। যেহেতু শুনে আসতে হয়েছে বাংলায় ফ্য��ন্টাস�� নিয়ে তেমন কাজ নেই, স্বভাবতই তাই শুরু করা হয়ে উঠেনি!

এরই মাঝে জুলিয়ান ভাই লিখে ফেললেন আশিয়ানী। তাই সুযোগ হাতছাড়া না করে নিয়েই ফেললাম আশিয়ানী। এবং বলতেই হয় খুব ভালো সূচনা ছিলো এটি। রীতিমতো জুলিয়ান ভাইয়ের ফ্যান বনে গিয়েছি।

কাহিনী সোভিদানিয়ার রাজকুমারী আশিয়ানীকে ঘিরে। রাজা আরসালানের একমাত্র মেয়ে এবং রাজ্যের পরবর্তী উত্তরাধিকারি আশিয়ানী বেশ চঞ্চল স্বভাবের। কৌতূহলবশত রাজ্যের এমন সব নিষিদ্ধ বিষয়াদি আবিষ্কার করে ফেলে যা তার পুরো জীবনকেই বদলে দেয়। কাহিনী বেশ রোমাঞ্চকর এবং একটা সুন্দর স্মুথ গতিতে এগোয়।

লেখক প্রতিটি লাইনেই তার ভিতরের না বলা কথাগুলো চরিত্রগুলোর মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলেছেন যেনো। বেশ আগ্রহউদ্দীপক কাহিনী বলা চলে।তবে শেষে দিয়ে এসে লেখক একের পর এক টুইস্ট দিতে থাকেন যা উল্টো বইয়ের প্রতি আগ্রহ বাড়িয়ে দেয় ।

অন্বয় চরিত্রটিকে খুবই মনে ধরেছে এবং হ্যা রিলেটেবল লেগেছে। ফ্যান্টাসি জনরার হলেও বাস্তবিক। বাস্তবতা আর কল্পনার সাথে সুন্দর মেলবন্ধন বলা চলে।

যাই হোক, প্রিয় বইয়ের তালিকায় যোগ হলো বইটি। মনে হয়েছে যেনো জীবনের ঠিক এই সময়টায় ঠিক এই বইটারই প্রয়োজন ছিলো।

জুলিয়ান ভাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

বই: আশিয়ানী
লেখক: জুলিয়ান
প্রকাশনী: চিরকুট
গায়ের মূল্য: ৮০০/=
প্রকাশকাল: ১৮ মে, ২০২২
Profile Image for Md. Shahedul Islam  Shawn.
185 reviews9 followers
November 26, 2024
কি পড়লাম এসব!!
শিশুসুলভ নিব্বানিব্বিদের রাত্রিকালিন ওভারহাইপড বুলশিট
Profile Image for Mubasweer.
1 review
March 14, 2023

বই: আশিয়ানী
লেখক: জুলিয়ান
জনরা: ফ্যান্টাসি
প্রকাশনী: চিরকুট
প্রকাশকাল: ২০২২
পৃষ্ঠা: ৬৫৬
মুদ্রিত মূল্য: ৮০০ টাকা

কাহিনী সংক্ষেপ:

সেভিদোনিয়া রাজ্যের রাজকুমারী আশিয়ানী আরনোমিয়েল; বিচারবুদ্ধিসম্পন্ন, আত্নবিশ্বাসী আর প্রাণপ্রাচুর্যে ভরপুর এক কিশোরী।
প্রাচীন এক রহস্যের পিছনে ছুটতে গিয়ে আশিয়ানীর সাথে এমন কিছু ঘটে যায়, যা তার জীবনকে বদলে দেয় চিরদিনের জন্য!
সেভিদোনিয়ায় হঠাৎ করেই একের-পর-এক অযাচিত ঘটনা ঘটতে শুরু করে, যা নিয়ে ক্রমেই উদ্বিগ্ন হয়ে ওঠেন রাজা আরসালান আরনোমিয়েল। রাজপ্রাসাদের প্রধান সেনাধ্যক্ষ আরহাম মেনদারকে সাথে নিয়ে সেইসব সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করতে থাকেন তিনি, যার সাথে একসময় জড়িয়ে যায় আশিয়ানীও। সিংহাসনের পরবর্তী উত্তরাধিকারী হিসেবে ওর উপরও চাপ বাড়তে থাকে। অভিজাতদের সাথে রাজকুমারীর নীরব যুদ্ধ প্রকাশ্যে চলে আসে হঠাৎ!
ইলদারাম পর্বতমালার উত্তরাংশ হঠাৎ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে বিদ্রোহের ঘনাঘটায়। রাজধানী সেভিয়ানে ঘটে চলেছে একের পর এক অযাচিত ঘটনা। ডালপালা বিস্তার করছে কোনো গুপ্ত ষড়যন্ত্র। কিন্তু নেপথ্যে কে?
ভয়াবহ কোনো অপশক্তির আনাগোনা শুরু হয়েছে সেভিদোনিয়ায়। প্রাচীন জাদু সংঘের এক প্রকৃতি সাধিকা এমন কিছু আঁচ করতে পারছেন, যা গোটা রাজ্যের জন্য হুমকিস্বরূপ। কিন্তু এসবের সাথে রাজকুমারী আশিয়ানীর সম্পর্ক ঠিক কতটুকু? ঘটনার ঘনঘটায় একের পর এক প্রশ্ন উদিত হচ্ছে সবার সামনে।
এসব প্রশ্নেরই উত্তর রয়েছে প্রাচীন রহস্য, রাজনৈতিক কূটকৌশল, সমরকৌশল এবং বিশ্বাসঘাতকতার মিশেলে গঠিত বিশাল প্রেক্ষাপটের ফ্যান্টাসি উপন্যাস 'আশিয়ানী'তে।
রাজকুমারী আশিয়ানীর সাথে আপনাদের স্বাগতম ভিন্নধর্মী এই ফ্যান্টাসির জগতে।

—---------------------------------------------------

বই-বিশ্লেষণ:

ল্যাটিনে একটা টার্ম আছে-সুই জেনেরিস (Sui generis)। যার ইংরেজি করলে দাঁড়ায়-অফ ইটস্ ওউন কাইন্ড (of it's own kind). বাংলায়- অদ্বিতীয়। অনন্য। এমন কোনো জিনিস, যার একমাত্র নজির তা নিজেই।
আমার মতে, 'আশিয়ানী' বইটাকে ডিফাইন করার জন্য একদম পারফেক্ট টার্ম হচ্ছে-Sui Generis. ছাপার অক্ষরে এখনো পর্যন্ত সর্ববৃহৎ ফ্যান্টাসি উপন্যাস- 'আশিয়ানী'।
বইটি নিয়ে আলোচনার সুবিধার্থে আমি আটটা কি-পয়েন্ট উল্লেখ করবো। সাথে থাকবে যাবতীয় ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ।

পয়েন্ট নং-১–আখ্যান/গল্প:

'আশিয়ানী'র প্লট বেশ বিস্তৃত ও ব্যতিক্রমধর্মী। বেসিক আইডিয়াটাই চিরাচরিত হিরোয়িক ফ্যান্টাসিগুলোর থেকে আলাদা। গল্পের শুরুটা হয় সেকেন্ডারি ওয়ার্ল্ডে। সেখান আমাদের জগত অর্থাৎ, প্রাইমারি ওয়ার্ল্ডে পাড়ি জমায় গল্পের প্রোটাগনিস্ট। তারপর দুই জগতের মেলবন্ধনে এগিয়ে গিয়েছে কাহিনী। দুই জগতে লেখক সমান সময়ক্ষেপণ করেছেন, প্রেক্ষাপট সাজিয়েছেন ভারসাম্য বজায় রেখেই।
বিভিন্ন ধরনের কনসেপ্ট, থিম ও ইভেন্টের সমন্বয়ে বইটা রচিত। মূল কাহিনী সরলরৈখিক, কিন্তু প্রতিনিয়ত নতুন কিছু হাজির হয় পাঠকের সামনে। পরিবর্তনশীল এই দৃশ্যপট পাঠকমনে বিভিন্ন ভাবের সঞ্চার করে।
গল্পের ফার্স্ট অ্যাক্টটা বেশ কৌতূহল উদ্রেককারী। প্রথম পৃষ্ঠা থেকে সহজেই গল্পের সাথে একাত্ম হওয়া যায়। মেজর ইভেন্টগুলি জায়গা করে নিয়েছে সেকেন্ড অ্যাক্টে। ফার্স্ট অ্যাক্টে পাঠকমনে আগ্রহ সৃষ্টি করে সেকেন্ড অ্যাক্টে বেশ গুছিয়ে গল্প বলেছেন লেখক।
সবচেয়ে দারুণ ছিল থার্ড অ্যাক্ট-একের পর এক টুইস্ট, অ্যাকশন এবং রোমাঞ্চে ভরপুর। শেষ তিনটি অধ্যায় পড়ার সময় বইটি ছেড়ে উঠতে পারি নি। এক বসায় পড়ে ফেলেছি।
গল্পটিতে সামাজিক এবং কিশোর উপন্যাসের ইলিমেন্ট ছিল প্রচুর। ফ্যান্টাসির পাশাপাশি কিশোর মানসিকতা এবং সমাজবাস্তবতার একাধিক উপাদান লেখক ব্যবহার করছেন। দেখিয়েছেন বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা, এর প্রতিকার এবং মানবজীবনের নানা উত্থান-পতন। কাহিনীর প্রয়োজনে রাজনীতি এবং যুদ্ধও চিত্রিত করেছেন নিপুণ দক্ষতায়।

পয়েন্ট নং-২–লেখনশৈলী:

দীর্ঘ ছয় বছর ধরে বিভিন্ন পরিবর্তন, পরিবর্ধনের মাধ্যমে লেখক গল্পটাকে দাঁড় করিয়েছেন, চরিত্রগুলোকে নিখুঁতভাবে সৃষ্টি করেছেন, গল্পের খুঁটিনাটি বিষয়গুলোকে যত্নের সাথে উপস্থাপন করেছেন, একদম শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বর্ণনাভঙ্গি একই রাখার চেষ্টা করেছেন-এসব তাঁর লেখা পড়লেই বোঝা যায়।
স্ট্যাটিক এবং ডায়নামিক ডেসক্রিপশনের ভারসাম্য বজায় রেখে প্রতিটি দৃশ্যের খুঁটিনাটি বর্ণনা প্রদানের ক্ষেত্রে চমৎকার কাজ দেখিয়েছেন লেখক। উপমা, বাক্যগঠন, শব্দচয়ন-সব ক্ষেত্রেই ছিল যত্নের ছাপ।
বইটির বর্ণনাভঙ্গি অলংকারময় কিন্তু সাবলীল, জীবনবোধসম্পন্ন উক্তিতে ভরপুর। পড়ার সময় কখনো বোরিং লাগেনি, সাবলীল লেখনীই গল্পটিকে চলমান রেখেছে; ধরে রেখেছে শেষ অবধি। বইটার এন্ডিং পরিতৃপ্তিদায়ক। বই শেষ করার পর রেশ থেকে গেছে দীর্ঘদিন।

পয়েন্ট নং-৩–চরিত্রায়ন:

'আশিয়ানী' বইটির প্রধান চরিত্র সেভিদোনিয়া রাজ্যের রাজকুমারী আশিয়ানী আরনোমিয়েল; বিচারবুদ্ধিসম্পন্ন, আত্নবিশ্বাসী এক কিশোরী। আশিয়ানীকে মহিমান্বিত করেছে তার ত্যাগ, সাহসিকতা এবং ইতিবাচকতা। সব মিলিয়ে, মনে রাখার মতো একটা চরিত্র।
দ্বিতীয় প্রধান চরিত্র হচ্ছে-অন্বয়; অন্তর্দ্বন্দে ভুগতে থাকা এক প্রতিভাবান কিশোর, যার মধ্যে অপার সম্ভাবনা থাকলেও সমালোচনার ভয়ে যে নিজেকে গুটিয়ে রাখে।
আশিয়ানী এবং অন্বয় পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে কিভাবে নিজেদের অভিষ্ট লক্ষ্য অর্জন করে, 'আশিয়ানী' সেটারই উপাখ্যান।
তাছাড়া এথেনা, রাজা আরসালান, সেনাধ্যক্ষ আরহাম মেনদার, প্রকৃতি সাধিকা ইদলিন শা'রাখ, নীরামার মতো চরিত্রগুলো গল্পে অন্য মাত্রা যোগ করেছে। বলা বাহুল্য, তুখোড় চরিত্রায়নে লেখক যারপরনাই পারদর্শী।

পয়েন্ট নং-৪–সংলাপ:

চরিত্রভিত্তিক গল্পে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে সংলাপ। প্রেক্ষাপট এবং চরিত্রায়নের সঙ্গে মিল রেখে সাবলীল সংলাপ উপস্থাপন লেখকের জন্য বাধ্যতামূলক। 'আশিয়ানী'তে এই কাজটি সুচারুভাবেই সম্পন্ন করেছেন লেখক জুলিয়ান। সংলাপগুলো সাবলীল, সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং বাস্তবিক। কিছু সংলাপ বিশেষভাবে মনে দাগ কাটে। গল্পের শেষ দিকে রাজনৈতিক বাকবিতন্ডা বিদ্যমান। সেখানকার সংলাপসমূহ গুরুগম্ভীর, নজরকাড়া। লেখক চরিত্রগুলোর মনোভাব যথাযথভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন সাবলীল ও বাস্তবসম্মত সংলাপের মাধ্যমে।

পয়েন্ট নং-৫–থিম / বিষয়বস্তুসমূহ:

'আশিয়ানী' বইটার মূলে রয়েছে অসাধারণ কিছু থিম বা বিষয়বস্তু। যার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে - এমপ্যাথি অর্থাৎ সহমর্মিতা। বলা বাহুল্য, অন্যকে বোঝার, অন্যের আবেগকে গভীরভাবে উপলব্ধি করার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা ফুটে উঠেছে বইটিতে।
বইটার আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়বস্তু হচ্ছে - ব্যালেন্স অর্থাৎ সমতা। বইয়ের প্রতিটি কাহিনী আবর্তিত হয়েছে বাস্তব ও ফ্যান্টাসি ওয়ার্ল্ডের মধ্যে সমতাবিধানকে কেন্দ্র করে। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত যা যা ঘটেছে, সেগুলো একে একে সমতার বিচ্যুতি ও প্রতিবিধানের দিকেই ইঙ্গিত করে।
তবে যে বিষয়টি সবচেয়ে বেশি রিলেটেবল তা হলো ইতিবাচকতা। 'আশিয়ানী' ভীষণ রকম ইতিবাচক একটা বই। এর পরতে পরতে ছড়িয়ে আছে আশাবাদ। পরিস্থিতি যতই খারাপ হোক না কেন, প্রধান চরিত্রগুলো কখনোই আশা হারায়নি। বরং, লক্ষ্যের দিকে দৃষ্টি রেখে এগিয়ে গিয়েছে। ব্যাপারটা নিঃসন্দেহে অনুপ্রেরণাদায়ক।

পয়েন্ট নং-৬–জনরা:

'আশিয়ানী' মূলত ফ্যান্টাসি বই। সাবজনরা হিসেবে বিচার করলে-পোর্টাল ফ্যান্টাসি (কিংবা হিরোয়িক ফ্যান্টাসি)। তবে অন্যান্য জনরার ইলিমেন্টও এতে বিদ্যমান। পড়তে কখনো মনে হয়েছে বইটা অ্যাডভেঞ্চার, কখনো ড্রামা, কখনো সামাজিক, কখনো কিশোর উপন্যাস আবার কখনো পুরোদস্তুর ফ্যান্টাসি। প্রকৃতপক্ষে, পুরো বইটাই একটা জার্নি, যেখানে অ্যাডভেঞ্চার, ড্রামা, ফ্যান্টাসি, সাসপেন্স, জীবনদর্শন সব মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে।

পয়েন্ট নং-৭–ফ্যান্টাসি ইলিমেন্ট:

ফ্যান্টাসি ইলিমেন্টগুলোকে দুই ভাগে ভাগ করে আলোচনা করা যায়। যথা-

ক.ওয়ার্ল্ড বিল্ডিং:

আশিয়ানী বইটার অর্ধেক সময় কেটেছে সেকেন্ডারি ওয়ার্ল্ডে, বাকি অর্ধেক প্রাইমারি ওয়ার্ল্ডে।
সেকেন্ডারি ওয়ার্ল্ডটি কতগুলো রাজ্যের সমন্বয়ে গঠিত একটি ভূখণ্ড। রাজ্যগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় এবং উল্লেখযোগ্য হচ্ছে - সেভিদোনিয়া। এখানেই মূল কাহিনী সংঘটিত হয়েছে।
সেভিদোনিয়ায় রাজতন্ত্র বিদ্যমান। আরনোমিয়েল বংশ এর শাসনকর্তা।
আমাদের গল্পের প্রটাগোনিস্ট সেভিদোনিয়া রাজ্যের রাজকুমারী আশিয়ানী।
লেখক সেকেন্ডারি ওয়ার্ল্ড সৃষ্টিতে দারুণ মুনশিয়ানা দেখিয়েছেন। চমৎকার সব নাম-টার্ম রয়েছে বইটিতে, যা বাংলা ফ্যান্টাসিতে বিরল। শশীসখা, শ্বেতেজ, শ্বেদ্রুম, গ্রন্থাগারিক, দ্বিচালিক, তেজোসিত, শ্বেতকী - এমন অসংখ্য নাম-টার্ম বিশেষভাবে নজর কাড়ে। তাছাড়া সংস্কৃতি, রাজনীতি, জ্যোতিষশাস্ত্র, ইতিহাস এমনকি ধর্মবিশ্বাস সৃষ্টিতেও অনবদ্য কাজ দেখিয়েছেন লেখক জুলিয়ান।
যুদ্ধকৌশল এবং অভিজাত শ্রেণীর জীবনযাত্রাও চিত্রিত হয়েছে 'আশিয়ানী'তে। মোটকথা, ইউনিক এবং রিয়েলিস্টিক সেকেন্ডারি ওয়ার্ল্ড সৃষ্টিতে লেখক বিন্দুমাত্র কার্পণ্য করেননি।

খ.ম্যাজিক সিস্টেম:

'আশিয়ানী'তে সফট ম্যাজিকের দেখা মেলে। সবাই জাদুর ব্যবহার জানে না। বিশেষ কিছু মানুষ আছে যারা জাদু প্রয়োগ করতে পারে। এদের মধ্যে আছে - কালোজাদুকর, প্রকৃতি সাধিকা প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।
এজগতে জাদুশক্তির দুটি উৎস রয়েছে। একটা ভালো অন্যটা খারাপ। সেকেন্ডারি ওয়ার্ল্ডের ভেতর লুকানো কিছু ম্যাজিকেল ইলিমেন্ট রয়েছে। আর আছে জাদুকরী বৃক্ষ - আরনীমিশিল।

পয়েন্ট নং-৮–প্রোডাকশন:

চিরকুটের নান্দনিক প্রোডাকশন নিয়ে বিশেষ কিছু বলার নেই। দৃষ্টিনন্দন কভার, ম্যাপ, ফ্ল্যাপ, ব্লার্ব কিংবা অধ্যায়ের শুরুতে পেজের ডিজাইন বিশেষভাবে দৃষ্টি আকর্ষণ করে। সম্পাদনায় ছিলেন আশরাফুল সুমন, যার কাজ ইতোমধ্যেই সর্বজনবিদিত। এই বইতে নিজের সেরাটাই দিয়েছেন তিনি। ইলাস্ট্রেশনগুলো চমৎকার ছিল। কিন্তু এক বইতে একাধিক আর্টিস্টের ইলাস্ট্রেশন একটু দৃষ্টিকটু। ইলাস্ট্রেশনের প্রতি আমার‌ ফ্যাসিনেশন আছে। এজন্য একটু বেশিই চোখে লেগেছে। এই ব্যাপারটা বাদ দিলে ওভারঅল প্রোডাকশন টপ নচ।

পাঠ-প্রতিক্রিয়া:

সেভিদোনিয়ায় একটা কথা আছে - 'একটা বই পড়তে শুরু করার সময়ের একজন মানুষ আর শেষ করার পর সেই মানুষ আর একই থাকে না। তার ভেতরে কিছু না কিছু পরিবর্তিত হয়।'

'আশিয়ানী' আমাকে পরিবর্তন করে দিয়েছে ভেতর থেকে। বন্ধুত্ব, ত্যাগ, সহানুভূতি, ইচ্ছিশক্তি, ইতিবাচকতা- ইত্যাদির গুরুত্ব চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে। যার যেটুকু আছে তা নিয়ে সন্তুষ্ট থাকার তাৎপর্যও ফুটে উঠেছে 'আশিয়ানী'তে, প্রকাশিত হয়েছে নিঃস্বার্থভাবে মানুষের জন্য কিছু করার ইতিবাচক চিন্তা। শুধু অনন্য সেকেন্ডারি ওয়ার্ল্ড আর চমকপ্রদ ম্যাজিক সিস্টেম নয়, বইটাকে উঁচুতে তুলে ধরেছে এর বাস্তবসম্মত এবং হৃদয়স্পর্শী বিষয়বস্তুসমূহ, যেগুলো আমাদেরকে চারপাশের পরিবেশ সম্পর্কে সচেতন করে তোলে, ভালো কিছু করার অনুপ্রেরণা যোগায়।
'আশিয়ানী' নিঃসন্দেহে বাংলা সাহিত্যে এক অনন্য সংযোজন; চিরপ্রাসঙ্গিক বিষয়াবলী, গতিময় কাহিনী, ইতিবাচক চেতনা এবং হৃদয়স্পর্শী বর্ণনায় বর্ণিল। যারা বইটা পড়েছেন, আমি নিশ্চিত তাদের ভালো লেগেছে, আর যারা পড়তে চলেছেন, তাদেরও ভালো লাগবে আশা করি।

40 reviews2 followers
January 15, 2023
পড়া হয়ে গেল ২০২৩ এর প্রথম ফ্যান্টাসি ঘরানার উপন্যাস আশিয়ানী। বিশাল কলেবরের বই৷ সবমিলিয়ে মোটামুটি লেগেছে। খুব আহামরি বলব না৷ এটা আমার ব্যক্তিগত মতামত
ফ্যান্টাসি জগতের যে ছবি আঁকা হয়েছে তা ভাল লেগেছে। অন্বয় এর মানসিকতা পরিবর্তন আর তার সমস্যা সমাধানে যে এপ্রোচ আশিয়ানী নিয়েছে তা খুবই মনে দাগ কেটেছে। তবে বইয়ের ভাষা আমার কাছে বেশ কঠিন লেগেছে। আরো সহজ করে লিখলে পড়ে আরাম লাগত। বেশ অনেক জায়গায় থামা লেগেছে এত কঠিন শব্দ দেখে৷ আর সত্যি বলতে শেষটুকু কেন জানি মনে ধরল না৷ পুরো বইজুড়ে এক স্কুলছাত্র হিসেবে যাকে ভেবে গেলাম তার সাথে শেষমেষ প্রেমের ব্যাপারটা একটু নাটুকে লেগেছে। একই কারণে বইয়ে যে সব ইলাস্ট্রেশন ব্যবহার করা হয়েছে তাতে অনেক সময় একটু দ্বিধা কাজ করেছে মনে। আরেকটা ব্যাপার, গল্পে একজন শক্তিশালী নেগেটিভ ক্যারেক্টর আশা করছিলাম আমি৷ সেরকম পাই নাই তাই একটু খারাপ লেগেছে।
সবমিলিয়ে লেখকের এ প্রচেষ্টাকে সাধুবাদ জানাই। উনার আরো বইয়ের অপেক্ষায় রইলাম।
24 reviews
April 28, 2024
বইটি উপভোগ্য ছিল। কিশোর ফ্যান্টাসি বলা যায় বইটিকে। বেশ বড় অংশজুড়ে কিশোরদের সাইকোলজি নিয়েই এগিয়েছে। শেষ দিকে একটু দ্রুত হয়েছে কাহিনি ফলে জাদু�� জগৎ টা কম ডিটেইলিং করা হয়েছে বলে মনে হয়েছে। আবার শেষের শ্বেতকী / প্রকৃতি সাধিকা এর আরেকটু ডিটেইলিং থাকলে ভাল হত। ফাস্ট হাফের সাইকোলোজিকাল বিষয় গুলি একটু কমিয়ে, কাহিনিতে এই বিষয়ে বেশি মনযোগ দিলে সম্ভবত ভাল লাগত আরেকটু। যাই হোক পড়তে আরাম পেয়েছি। লেখকের সামর্থ্য আছে আরো ভাল আরো বড় কিছু লেখার... অপেক্ষায় থাকলাম।
Profile Image for Eva Mojumder.
73 reviews1 follower
September 17, 2023
#স্পয়লার_এলার্ট
◾বই- আশিয়ানী
◾লেখক- রিয়াজুল ইসলাম জুলিয়ান
◾প্রকাশনী- চিরকুট
◾পৃষ্ঠা সংখ্যা- ৬৫৬
◾মুদ্রিত মূল্য- ১০০০ টাকা

◾চরিত্র: বইয়ের নাম শুনলেই বইটি না পড়া যেকোনো পাঠকই বুঝতে পারবে বইটির প্রধান চরিত্র হচ্ছে আশিয়ানী। যাকে কেন্দ্র করেই পুরো বইটি রচিত। যতগুলো ঘটনাপ্রবাহ ঘটেছে তার সাথে কোনো না কোনোভাবে তার যোগসাজশ রয়েছেই। এরপর হলো আমার আরেক প্রিয় চরিত্র অন্বয়। যার সাথে আশিয়ানীর জীবনের বেশ কিছু সময় কেটেছে। বলতে গেলে তার লাইফের সবথেকে বেস্ট টাইম সে অন্বয়ের সাথেই কাটিয়েছে। আশিয়ানী আর অন্বয়ের কথা এলে অজান্তেই এথেনার কথা চলে আসে। এথেনা হলো অন্বয়ের গম্ভীরমুখী পেঁচা। তাকেও গল্পের খুবই এবং সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র হিসেবেই ধরা যায়। আরো আছে আশিয়ানীর বাবা-মা, তার বন্ধুরা, নীরামা, শ্বেতকীসহ আশ্চর্যান্বিত কিছু চরিত্র। যেসকল চরিত্রের প্রেমে পড়তে আমরা বাধ্য।

আরেকটা চরিত্রটা আছে বইটিতে। যে একজন প্রকৃতিসাধিকা। এই চরিত্রটিকে বোঝা বড় দায়। প্রথমদিকে পুরোটাই পজিটিভ রোল হলেও মাঝের দিকে মনে হবে একদম ভোল পাল্টে ফেলেছে। এই চরিত্রটিকে বুঝতে হলে শেষ পাতা পর্যন্ত পড়া জরুরি। এছাড়াও আরো এমনকিছু জিনিসের বর্ণনা আছে, যেগুলোকে চরিত্রের কাতারে না ফেলা গেলেও মূল গল্পের খুবই গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে ধরা যায়। ভেলভার উপত্যকা, সবুজ কুয়াশা, শতবর্ষী গাছ সবকটাই অন্বয় ও আশিয়ানী ক্যারেক্টারের সাথে ওতোপ্রোতোভাবে জড়িত। আরো আছে আরনোমিয়েল সেনাবাহিনী, রাখশামান সেনাদল। সর্বশেষ যেটার কথা না বললেই নয় সেটা হলো আরনীমিশিল বৃক্ষ— সেভিদোনিয়া রাজ্যের প্রতীক!

◾কাহিনিসংক্ষেপ: কাহিনির শুরু সেভিদোনিয়া রাজ্যে। রাজকুমারী আশিয়ানীকে ভবিষ্যৎ উত্তরসূরী হিসেবে রাজামহাশয় এখন থেকেই গড়ে তুলতে চান। তার শিক্ষা-দীক্ষাও সমান গতিতে এগুচ্ছে। কিন্তু রাজকুমারী হিসেবে সে বড্ড উদাসীন। সাধারণ জনতার জন্য মন কাঁদলেও বাবার সাথে কোনো আনুষঙ্গিক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে তার বড্ড অনীহা। রাজকুমারীকে দেখে সাধারণ জনতার ঐ দৃষ্টির সামনে তার অস্বস্তি হয়। কিন্তু রাজপরিবারে জন্মালে যে নিজের ইচ্ছা-অনিচ্ছা বলে কিছু থাকে না! তার উপর বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান সে। ভবিষ্যৎ উত্তরাধিকারী হিসেবে কোনো ছেলেও নেই। সেভিদোনিয়া রাজ্যের সর্বশেষ উত্তরসূরী একমাত্র সেই-ই। তাই তো অমত থাকলেও কিছই করার নেই।

হঠাৎই সে ভেলভার উপত্যকার নাম শুনলো। সাধারণ জনতার জায়গাটার প্রতি এতো ভীতি দেখে তার মনে ভয়ের পরিবর্তে আগ্রহের জন্ম হলো। যে আগ্রহ ধীরেধীরে জেদে পরিণত হয়। সে রাজদরবারের গ্রন্থাগারে ভেলভার নিয়ে বইয়ের সন্ধান করতে লাগলো। অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে ভাগ্যগুণে পেয়েও গেলো একটি বই৷ কিন্তু এ কি? বইটিতে যে সম্পূর্ণ অপরিচিত অক্ষরে কিছু লিখা আছে! মাঝ থেকে কিছু পাতা উধাও। আশিয়ানী চিন্তিত হয়ে পড়লো। কিন্তু এ সম্পর্কে কাউকে কিছু বলাও যাবে না। সে ফন্দি আঁটতে লাগলো। অপরিচিত ভাষাটি শেখার জন্য বাবার কাছে বায়না ধরলো। একসময় শিখেও ফেললো সে। এবার সে ভেলভার উপত্যকায় যাওয়ার মানচিত্র খুঁজতে লাগলো। পথ চিনতে লাগলো। ঠিক সেসময়ই সে নিজের শহরে কিছু গুপ্ত সড়কের সন্ধান পায়। আশিয়ানী কোনো সাধারণ মেয়ে নয়। তাই সেসময় তার চমকের থেকেও উত্তেজনাটাই বেশি হচ্ছিল। সে উদগ্রীব হয়ে ছিল ভেলভার পার হওয়ার জন্য।

এই সফরও তার জন্য খুব একটা সহজ ছিল না। অনেক চড়াই-উতরাই পার করে, সবুজ কুয়াশা, কঙ্কাল এবং একটি মূর্তির না সূচক চিহৃটিকে পেছনে ফেলে সে এগিয়ে চললো ভেলভারের শেষ মাথায় এবং এক সময় সে একটি বিরাট বড় গাছের সম্মুখে উপস্থিত হলো। যার নিচে বেঞ্চি দেওয়া। গাছটির কোটর দিয়ে সে সামনের দিকে এগুতে লাগলো এবং সে অবাক হয়ে লক্ষ্য করলো তার সামনে খুবই অচেনা একটি রাজ্য। কি এটা? এখানকার জীবগুলো তার আকার থেকে বেশ অনেকটাই বড়। এমনকি এখানকার পাখিগুলোও তার থেকে বড়। এখানে তাদের ঘোড়ার গাড়ির পরিবর্তে চার চাকার কি যেন একটা রাস্তা দিয়ে এগিয়ে চলছে, বালকরা গোলক দিয়ে খেলাধুলা করছে, বড় থলে নিয়ে কেউ কেউ কোথাও একটা যাচ্ছে। সে ভীষণ আশ্চর্যান্বিত হয়ে পড়ে। ভয় পেয়ে যায়। এ কোথায় এসে পড়লো সে?

বইটার এতোটুকুতে পাঠকরা থ্রিল পাবেন। রহস্যের জন্ম এখান থেকেই। কিন্তু এই রহস্যের সমাধান পেতে হলে বইটির শেষ পাতা পর্যন্ত আমাদের পড়তে হবে। যাইহোক, এরপর কাহিনি মোড় নিলো সম্পূর্ণ ভিন্ন দিকে। সেই ভিন্ন জগৎটিতে আশিয়ানীর পরিচয় হলো তার থেকেও বিরাট বড় এক যুবকের। বয়সে সমান হলেও শরীরে তাদের আকাশপাতাল ব্যবধান। যুবকটির ছিল এক পেঁচা। যার নাম এথেনা। তার সাথে আশিয়ানীর ভীষণ ভাব হলো। ধীরে ধীরে আশিয়ানী এ জগতে ঝুঁকতে লাগলো। সময় পেলেই সে এখানে ঢু মা রতো আর অবাক হয়ে লক্ষ্য করতো তার এ জগতে কাটানো সময়টা সে অতিরিক্ত পাচ্ছে।

সেভিদোনিয়াতে সেই সময়ের কোনো হেরফের হচ্ছে না। এ আবার নতুন কোন রহস্য? তবুও আশিয়ানী পিছপা হয়নি। ততদিনে অন্বয় আশিয়ানীর অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। তাদের দেখা হওয়ার মাঝে সময়ের ব্যবধান ধীরে ধীরে কমতে লাগলো। কখনো কখনো আশিয়ানী এথেনাকে তার রাজ্যে নিয়ে আসতো। আর এমন এক জায়গায় লুকিয়ে রাখতো যেটা তার পূর্বপুরুষদের কর্মের সাথে জড়িত। যেটা ছিল সাধারণ জনতার চক্ষুর আড়ালে। আশিয়ানী এথেনার থেকে দেখতে এতই ছোট ছিল যে সে এথেনার পিঠে চড়ে আকাশে উড়ে বেড়াতো, এদিক থেকে ওদিক, এপাশ থেকে ওপাশে যেতো। বেশ এডভেঞ্চারাস কিন্তু!

কিন্তু কথায় আছে না, সুখের সময় দীর্ঘদিন স্থায়ী হয় না! তাদেরও হলো না। অন্বয় ধীরে ধীরে অসুস্থ হয়ে পড়তে লাগলো। আশিয়ানী নিজের রাজ্যে এমন এক বেড়াকলে পড়লো যে তার থেকে উত্তরণের কোনো উপায়ই তার জানা ছিল না। অন্বয়ের অসুস্থতার জন্য বারংবার নিজেকেই দায়ী করতে লাগলো। এথেনার শোকে সে ভেতর থেকে ভেঙে পড়লো।

ঠিক তখনই গল্পে আসলো আরো নতুন কিছু ঘটনা। কালুজাদু থেকে শুরু করে আনএক্সপেক্টেড এমন কিছু ঘটনা, যার জন্য সেভিদোনিয়া হুমকির মুখে পড়ে গেলো। হুমকির মুখে পড়লো অন্বয়ের জীবন ও আশিয়ানীও। কিন্তু কি করে? অন্বয় ও আশিয়ানী সম্পূর্ণ ভিন্ন জগতের বাসিন্দা। তারা কিভাবে একে অপরের সাথে জড়িয়ে যেতে পারে? প্রকৃতির বিরুদ্ধে যাওয়ার কোনো অধিকার নেই তাদের। কিন্তু এরপর কি হয় অন্বয় ও আশিয়ানীর? এথেনাই বা কোথায়? আশিয়ানী আর অন্বয় কি একে অপরকে পেয়েছিল? অন্বয় কি শেষ পর্যন্ত বেঁচে যায়? আশিয়ানী বাঁচতে পেরেছিল তো? আর এই শ্বেতকী আর নীরামাই বা কে? আরে এটাই তো আসল টুইস্ট। এ টুইস্ট বলে দিলেই তো সব শেষ! অন্তত এই টুইস্টটা জানতে হলেও আমাদের আশিয়ানী বইটা পড়া উচিত। জানা উচিত, কেন এই বইটার এন্ডিং এতোটা পাঠকপ্রিয়তা পেয়েছে।

◾পাঠপ্রতিক্রিয়া: এই বইটা আমার কতটা প্রিয় সেটা বলে বোঝাতে পারবো না। যারা বলে এই যুগে এসে সকল লেখক লেখিকারাই যাচ্ছে তাই লেখে, চেকে দেখার মতোও না তাদের লিখা। সেইসকল পাঠকদের জন্য এই বইট��� উদাহরণ হয়ে থাকবে। এতক্ষণ বইয়ের কাহিনি নিয়ে অনেক বললাম। এবার বইটি নিয়ে আমার অভিমত, আমার আবেগ তুলে ধরবো।

আমাকে যদি কেউ জিগ্যেস করে বইয়ের কোন চরিত্রটা হতে চাও তুমি? আমি চোখ বন্ধ করে বলবো আশিয়ানী। আশিয়ানী হওয়াটা প্রতিটা মানুষের স্বপ্ন। যার মধ্যে কোনো মিথ্যাচার নেই, যার চরিত্রটা ভালোবাসা ও সত্যতায় টইটুম্বুর তাকে অনুকরণ করতে কে না চায়? একটা মানুষের যেসকল গুণাবলী থাকা প্রয়োজন সবটাই যেন এই একটা চরিত্রে ফুটে উঠেছে। সহানুভূতিশীল, বুদ্ধিমতী, দায়িত্বশীল, দৃঢ় ব্যক্তিত্ব, অসাধারণ এক চরিত্র এই আশিয়ানী। শুধু আশিয়ানীকে বলছি কেন? আশিয়ানী বইটাই তো একটা কমপ্লিট প্যাকেজ! কি নেই সেখানে? এডভেঞ্চার চান? তবে আশিয়ানী পড়ুন! থ্রিলার? নাকি ফ্যান্টাসি? তবে দেরি কেন? আশিয়ানী পড়ে নিন! যাদুবিদ্যা নিয়ে কোনো বই খুঁজছেন? আশিয়ানী আছে তো! না আমি কোনো বইয়ের অ্যাড দিচ্ছি না বা লেখকও আমাকে কোনো ঘুষ দেয়নি। আমি শিওর আশিয়ানী পড়া প্রতিটি পাঠক আমার মতের বিরুদ্ধে যেতে পারবে না।

বইয়ের প্রতিটা চরিত্র নজরকাড়া ছিল। সে পজিটিভ হোক কিংবা নেগেটিভ! ভেলভার উপত্যকা পার হওয়ার আগ পর্যন্ত নিজেকে একটা রহস্যের মাঝে আটকে রেখেছিলাম। মনে হচ্ছিল থ্রিলার জনরার মতো জল অনেকদূর গড়িয়ে তবেই ক্ষান্ত হবে। কিন্তু না! আচমকাই এ রহস্যের সমাধান হয়ে গেলো। আর তার পরপরই যেন নিজেকে খুঁজে পাচ্ছিলাম এক অন্য জগতে। স্রোতের সাথে গাঁ ভাসিয়ে একবার অন্বয়দের রাজ্যে, আরেকবার ভেলভার পার হয়ে আশিয়ানীদের রাজপ্রাসাদে আসতাম। আবার কিছুক্ষণ পর আশিয়ানী আর এথেনার সাথে আকাশে উড়ে বেড়াতাম। সবটাই কেমন যেন স্বপ্নের মতন!

বইটিতে আছে প্রাচীন রহস্য, যাদুবিদ্যা, যু দ্ধ, কূটকৌশল, সমরকৌশল এবং বিশ্বাসঘাতকার এক বড় অধ্যায়। বইটায় দুটো জগত আছে। কিন্তু কোনটাকে আপনি প্রাইমারি ওয়ার্ল্ড আর কোনটাকে সেকেন্ডারি ওয়ার্ল্ড বলবেন?

বইটিতে সবচেয়ে বেশি ভালো লেগেছে আশিয়ানীর মোটিভেশনাল স্পিচগুলো। বইটির কাহিনি, চরিত্র, একেকটা কথা এতটাই রিলেটেবল ছিল যে মনেই হয়নি আমি কোনো বই পড়ছি। বিশেষ করে অন্বয়কে দেওয়া আশিয়ানীর উপদেশগুলো আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যেন বাস্তব ঘটনাকেই লেখক তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন আশিয়ানীর মাধ্যমে। অনেক বলে ফেলেছি। আর বেশি কিছু বলতে চাই না। এবার বাকিটা বুঝতে হলে আপনাদের বইটা পড়া জরুরি। এর বেশি কোনো পাঠকেরই বলা উচিত না। এতে প্রকাশনী এবং লেখক দুজনেরই ক্ষতি। সাথে আমার প্রিয় বইটিরও। নিজের প্রিয় বইয়ের ক্ষতি করি কি করে?

তবে একটা বিষয় না বললেই নয়। এই যে এতো ভালোলাগা, এতো প্রশংসা তারজন্য কিন্তু আমার নিজেরও কিছু ক্রেডিট আছে। বইটার মাঝদিকে বিরক্তি কিছুটা জেঁকে ধরেছিল। পড়বো কিনা ভাবছিলাম। কিন্তু এন্ডিংটা নিয়ে এতো এতো শুনেছি যে বইটা রেখে উঠতে ইচ্ছে করেনি। যদি উঠে যেতাম তবে কি সমাপ্তির এ স্বাদটুকু পেতাম? এখন মনে হচ্ছে এমন বিরক্তি আসুক, তবুও শেষটা সুন্দর হোক। শেষটা এর থেকে ভালো হতেই পারতো না।

◾জনরা: কোন জনরার বই পড়তে চান আপনি? সকলকিছুর স্বাদ পাবেন এই এক বইয়ে। থ্রিল, যাদু, ফ্যান্টাসি, যু দ্ধ, এডভেঞ্চার সব আছে, সব! তবে হ্যাঁ, রোমান্টিকতা একটু কম। একদমই যে নেই তা-না। গদগদ টাইপ প্রেমটাও পাবেন না। তবে খুব ভালো দু'প্রান্তের দু'জন বন্ধুর দেখা পাবেন।

◾লিখনশৈলী: একেকটা শব্দ একদম সহজ ও সাবলীল ভাষায় লিখা। বুঝতে কোনো বেগ পেতে হয়নি। এতো ঝরঝরে এবং পরিষ্কারভাবে লিখা যে, এক লাইন দু'বার পড়তে হয়নি। কিন্তু কাহিনির মধ্যে একবার ঢুকে গেলে আপনি নিজের জন্যই এক লাইন কয়েকবার করে পড়ে ফেলবেন।

◾প্রোডাকশন: বইয়ের প্রোডাকশন কোয়ালিটি এতো দারুণ! ৬৫৬ পৃষ্ঠার একটা বইকে এতো সুন্দরভাবে বেঁধেছে, কিচ্ছু বলার নেই। বেশিরভাগ বই-ই এতো মোটা হলে পৃষ্ঠা খুলে যায়। কিন্তু আমার এ বইটি আমি পড়ার পর আম্মু পড়েছে, এখন আবার আরো একজন পড়ছে। হ্যাঁ, কিছুটা হালকা হয়েছে বটে! তবুও বেশ মজবুত এখনো।

◾প্রচ্ছদ: এবার আসি প্রচ্ছদের কথায়। বইটির প্রচ্ছদ কি এর থেকে বেশি সুন্দর হতে পারতো? এককথায় দারুণ! তবে বইয়ের প্রচ্ছদের থেকে ভেতরকার ছবিগুলো আমার বেশি প্রিয়।

সর্বশেষ একটা কথা। রিভিউটি পড়ে যদি মনে হয়, আরে বাহ্! বই পড়ে কি হবে? রিভিউতেই তো সব পেয়ে গেলাম। তবে আপনি বোকার হদ্দ। রিভিউতে বইটার চারভাগের দুভাগও পুরো নেই। এমন এমন পয়েন্টগুলা লিখেছি যেগুলো জানলেও আপনার পড়ায় খুব একটা টান লাগবে না। স্পয়লার এলার্ট লিখার কারণ হলো, এটুকু পয়েন্টেও যাদের সমস্যা হবে বাকিটা তাদের দায়। আমি আমার দায় থেকে মুক্ত। যাইহোক, এই রিভিউটা পড়ার পরেও আপনার বইটা পড়তে ইচ্ছা করছে না?

◾রেটিং- ৫/৫
Profile Image for Humayra Ta Deen Fabi.
74 reviews8 followers
October 29, 2023
কাহিনী সংক্ষেপ:

বিশাল সাম্রাজ্য সেভিদোনিয়া, রাজা আরসালান ও রানী জেহেনিয়ার একমাত্র কন্যা ও রাজ্যের রাজকুমারী আশিয়ানি। প্রচন্ড রহস্যপ্রেম ও কৌতূহলী আশিয়ানি হঠাৎ পা বাড়ায় এমন এক জগতের সন্ধান যা কিনা ছিল যুগ যুগ ধরে ছিল গোপন, নিষিদ্ধ আর বাস্তব থেকে একদম আলাদা। 

আরনোমিয়াল প্রাসাদে গোপন অভিসার প্রয়াসে আশিয়ানি পা বাড়ায় ভেলভার উপত্যকায়। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ধীরে ধীরে পৌঁছে যায় পৃথিবী নামক এমন এক জগতে যেখানের সবকিছুই তার তুলনায় বৃহৎ, দুর্বোধ্য আর অকল্পনীয়। 

মৃতভাষা আবিষ্কারের পর থেকেই আশিয়ানি অভিযান করে গেমরানের সুড়ঙ্গ আবিষ্কার করে বারবার পৃথিবীতে আসা যাওয়া করতে লাগে।সেখানেই পরিচয় হয় এথেনা আর অন্বয়ের সাথে। সময়ের সাথে আশিয়ানীর বন্ধুত্ব তীব্র হয় অন্বয় ও এথেনার।

হঠাৎ কালক্রমে আরনোমিয়েল রাজ্যে দেখা যায় নানান গোলযোগ। উদ্বিগ্ন হয়ে ওঠে রাজাসহ রাজ্যের হর্তাকর্তারা। পশ্চিমের নারদান বাহিনী ক্রমশই পরিকল্পনা করছে সাম্রাজ্য ধ্বংসের। অন্য দিকে ইলদারাম পর্বতমালার উত্তরাংশ হয়ে উঠেছে উত্তপ্ত, বিক্ষিপ্ত। 

প্রধান সেনাধ্যক্ষ আরহাম মেনদার, সেনাপ্রধান দারশিল সিনথারদের রাজ্য রক্ষার তৎপরতা, রাখশামান আরনেথির ক্রমশ আক্রমণ , প্রকৃতি সাধিকা ইদলিনের জাদুকরী প্রভাব; এসবকিছুকে ছাপিয়ে আশিয়ানির যোগসুত্রতা কী?

কি সম্পর্ক আশিয়ানীর এসব কিছুর সাথে! 

পূর্বপুরুষ গেমরান আরনোমিয়েল ও দারিয়েন আরনোমিয়েলের সাথে কি ই বা সম্পর্ক ছিল আরনিমিশিল গাছের,কোথায় লুকিয়ে আছে সবুজ কুয়াশার রহস্য আর তেজসিতের শক্তি।আরো রয়েছে জারান মালেকের কলোজাদু, শ্বেতকী হওয়ার গল্প আর প্রেম ও মোহের ছন্দময় নানান প্রতিকীর্তি। 

অন্বয় আর আশিয়ানীর মধ্যকার দুই পৃথিবীর আসল রহস্য উন্মোচন, স্থান সময়কে রুখে বীজ থেকে মহীরুহে পরিণত হওয়া প্রাচীন রহস্য ও ঈষৎ বাস্তব পরাবাস্তবের যুগপৎ প্রেক্ষাপটে তৈরি ফ্যান্টাসি ড্রামা ফিকশন আশিয়ানী।


পাঠ প্রতিক্রিয়া:

বিশাল সাইজের এই ফ্যান্টাসি ফিকশন সত্যি বলতে দেশীয় বই হিসেবে অন্যরকম সেইসাথে সমরশাস্ত্র , রাজনৈতিক হালচাল, শত্রু মিত্রের চক্র, বন্ধুত্ব, বিশ্বাসঘাতকতা ও নানান দৃষ্টিকোণ থেকে গল্পটি প্রচুর সময় নিয়ে তৈরি করা হয়েছে। প্রত্যেকটি চরিত্রকে নিজ হাতে গড়ে তুলেছেন যত্নের ছোঁয়ায় এটি স্পষ্ট ছিল বই জুড়ে।

অলমোস্ট ৭০০ পেজের বইটা আমার কাছে মনে হয়েছে ২ টি খণ্ডে ভাগ করে বলতে সুবিধা হবে। প্রথম অংশটুকু খুব গড়পড়তা বলতেই হবে।শেষ ১০০ পৃষ্ঠা পড়ে বেশ ভালো লেগেছে। ১৬ টা অধ্যা��়ে বিভক্ত গল্পটির একেকটি অধ্যায় একেক অংশকে ফোকাস করে লেখা, আর অধ্যায়গুলোর নাম খুব চমৎকার।শেষটুকু লেখক খুব সুন্দর করে মিলিয়ে দিয়েছেন। 



স্টোরি ও রাইটিং :

আমার কাছে মূল গল্পটার কাহিনী খুব বেশি আহামরি মনে হয়নি( এক্সপেক্টশন আরেকটু বেশি ছিল), অন্তত ৬৫৫ পেজ লেখার মত হেভী গল্প এটি নয়। তবে লেখক সাহেবের ভোকাবুলারি আর লেখনী অনেক স্ট্রং। টেনে পড়ে ফেলতে পেরেছি ।ক্যারেকটার ডেভলপমেন্ট, রাইটিং স্টাইল- ভোকাবুলারি সবকিছুই well enriched . সহজ সাবলীল শব্দচয়ন না হলে আসলে পড়ে শেষ করাটা কঠিন হয়ে যেত।


টার্গেট অডিয়েন্স:

গল্পের প্রথমে মনে হচ্ছিল খুব কঠিন ধারার গল্প হবে মাঝামাঝি এসে মনে হচ্ছিল একদম শিশুতোষ।কিন্তু শেষটুকু অবশ্যই মাঝবয়সী মানুষের জন্য। কোনো ধরণের এডাল্ট কনটেন্ট নেই নির্দ্বিধায় ১৫+ যে কেউ পড়তে পারবে। 


প্রডাকশন:

বইয়ের সম্পাদনা নিঃসন্দেহে দারুণ (৫/৫) , চিরকুট প্রকাশনীর প্রচ্ছদ, বাইন্ডিং এসব নিয়ে কোনো কথা হবে না (৫/৫)। বইটার মধ্যেই একটা রাজকীয় ভাব আছে যারা হাতে নিয়ে পড়েছেন তারা একমত হবেন।


নামকরণ: 

গল্পের মূল চরিত্র আশিয়ানিকে নিয়ে আবর্তিত হওয়ায় নামকরণ জাস্ট পারফেক্ট লেগেছে। এছাড়া বইয়ের প্রতিটি ক্যারেক্টারের নাম,ঘটনার টার্মিনোলোজি গুলো ভালো ছিল।


প্রিয় অপ্রিয় চরিত্র:

সবচেয়ে ভালো লেগেছে আমার এথেনা কে। এছাড়াও ইদলিন ক্যারেকটারটা গল্পে গতি এনে দেয়ায় আমার ভালো লেগেছে। আশিয়ানীর অতিরিক্ত ভালো হওয়ার প্রবণতা আমার একটা সময় বিরক্তির উদ্রেক ঘটিয়েছে। প্রিয় চরিত্র উল্লেখ করার চাইতে আমি আশিয়ানি ও এথেনার সম্পর্কটা খুব ইনজয় করেছি। আমারও একটা এথেনা থাকলে খুব ভালো হতো ।


কিছু আলোচনা-সমালোচনা:

১. অনেক বেশি ইজি গোইং, predictable স্টোরি লেগেছে।

২. ফিকশন মানলাম তবে একদম রাজা রানীর মিল হয়ে সুখে সংসার করা টাইপ গল্প হয়ে গেল না কিছুটা???

৩. দুই জগতের মধ্যকার ভাষাগত সমস্যা টা যেভাবে লেখা হয়েছে ব্যক্তিগত ভাবে আমার ভাল লাগেনি। স্বল্প সময়ের জন্য হলে ভালো লাগতো তবে অধ্যায়ের পর অধ্যায় এই বিষয়টা আসায় ভালো লাগেনি।

৪. সবকিছু একদম ভালো, সৎ, নিষ্ঠাবান আমি আশিয়ানির কথা বলছি এটা একটু ডিফারেন্ট করা যেত যেহেতু সে মেইন ক্যারেক্টার। 

৫. একদম লাস্টে নারিমার প্রশ্নের উত্তর আশিয়ানী কি দিবে পুরোই বোঝা যাচ্ছিল। Then পড়ার পর মুখ দিয়ে আমার অটোমেটিক বের হয়ে গেছে "থাক বাদ দেন বেডি মানুষ" ।

৬. প্রথমে গড়িয়ে গড়িয়ে গল্প লিখে শেষে তাড়াহুড়ো করে গল্প শেষ করার ছাপ একদম পরিষ্কার। এত হিউজ না করলেও চলতো। 

৭. বইয়ের ইলাস্ট্রেশনগুলোতে লেবেলিং থাকলে ভালো হতো। আর বইয়ের শুরুতে এত বড় মানচিত্রের কি প্রয়োজন ছিল বুঝলামনা তবে মানচিত্রটা খুব আকর্ষণীয়।


মূল বার্তা:

ফ্যান্টাসি ফিকশন আশিয়ানির সুন্দর গল্পের মূল বার্তাটি আমার কাছে মনে হয়েছে : সময়ের সাথে কারণে অকারণে মানুষের কৃতকর্ম মানুষকে ভুল প্রমাণ করলেও শেষ অবধি যদি আত্ম প্রত্যয় থাকে মানুষ তার অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছুতে পারে এবং কোনোকিছুর প্রতি তীব্র বাসনা থাকলে তা কোনো না কোনোভাবে সৃষ্টিকর্তা পূরণ করে দেন।


শেষ কিছু কথা:

ফ্যান্টাসি ফিকশন লাভার না হয়েও নিজ ইন্টারেস্ট থেকে আশিয়ানী পড়ে শেষ করলাম, শেষ অবধি বেশ ভালো লাগলো। দেশীয় মৌলিক ফ্যান্টাসি জনরার দিকে লেখক সাহেবের ঝোঁক সত্যিই প্রশংসনীয়। আশিয়ানি বইটির কিছু দিককে সরিয়ে চিন্তা করলে বইটি আসলেই প্রশংসার দাবিদার। তবে পরবর্তী লেখায় লেখককে স্টোরি বিল্ডিং টা আরেকটু স্ট্রং করে ভাবার অনুরোধ করব ও ফ্যান্টাসি বইয়ের জগৎকে আরো শক্তিশালী হোক এই শুভকামনা রইল।

যেকোনো কিছুরই ভালো ও মন্দ উভয় পক্ষ থাকে। ব্যাক্তিগত পছন্দ অনেক বড় একটি ব্যাপার, ফ্যান্টাসি লাভার হয়ে থাকলে সকল পাঠককে বলব অবশ্যই পড়ে দেখবেন।

ফ্যান্টাসি ,এডভেঞ্চার , ড্রামা ও সেকেন্ডারি ওয়ার্ল্ডের  দেশীয় ফ্যানটাসী ঘরানার একটি চমৎকার সংযোজন "আশিয়ানী"।
Profile Image for Sazzad Hossain.
22 reviews
December 16, 2023
সেভিদোনিয়া রাজ্যে শান্তির হাওয়া বয়ে চলেছে। রাজ্যে কোনো সংঘাত নেই, হানাহানি নেই। প্রজারা নিত্যকর্মে রাজ্যের কল্যাণে সদা নিবিষ্ট। অঙ্গরাজ্যগুলোর মধ্যেও মধুর সম্প্রীতি বিরাজ করছে। রাজা আরসালান তার দৃঢ় নেতৃত্বে পূর্ববর্তী রাজাদের সমস্ত দ্বন্দ্ব, অন্তঃকলহ মিটিয়ে দিয়েছেন। আরনিমোয়েল রাজবংশ এখন শাসনের স্বর্ণশিখরে বলা যায়।

রাজ্যের একমাত্র উত্তরাধিকারী ষোড়শী রাজকন্যা আশিয়ানী। প্রখর ব্যক্তিত্ব, তীক্ষ্ণ বুদ্ধিমত্তার আড়ালে বেশ চাপা স্বভাব_ রাজকুমারীকে দিয়েছে এক আলাদাবয়ব। রাজ্যপাট থেকে হরিদাস সবকিছুর প্রতি তার তুখোড় অন্তর্দৃষ্টি। রাজগৃহের ছাদ থেকে পূর্বে চোখ মেললে দেখা যায় ভেলভার উপত্যকা। এই উপত্যকা নিয়ে রাজ্যে বহু মিথ প্রচলিত। নিষিদ্ধ এই নগরীর রয়েছে এক লুকানো ইতিহাস। কিন্তু রাজা সেই ইতিহাস ও প্রমাণাদি বহু আগে সিলগালা করেছেন এবং এই রাজ্যর নাম মুখে নেয়াও রাজদ্রোহের শামিল। রাজ্যে বসবাসকারীরাও কখনো তার ব্যত্যয় ঘটায়নি।

জ্ঞানপিপাসু আশিয়ানীর রয়েছে আবার এসব বিষয়ে দারুণ আগ্রহ। অজানাকে জানার, রাজ্যের গোপন ইতিহাস ঘাটার। কিন্তু সুযোগটা কখনো হয়ে উঠেনি। একদিন উন্মত্ততা পেয়ে বসে। যেকোনো মূল্যে ভেলভার রহস্য উন্মোচনের ভূত মাথায় চেপে বসে আশিয়ানীর। এক প্রজার হাত ধরে রাজকুমারী একদিন গোপন সুড়ঙ্গপথ ধরে চলে যাউ ভেলভারে। গিয়ে সে দেখতে পায় সেখানকার পরিবেশ, মানুষজনের তুলনায় আশিয়ানী অনেক ছোটো। কাকতালীয়ভাবে সেখানে পরিচয় হয় এক বাসিন্দার সাথে, নাম অন্বয়। অল্পতেই তাদের বন্ধুত্ব হয়। আস্তে আস্তে দুজনই দু'জনের জগৎ সম্পর্কে জানতে থাকে। অন্বয়ের ছিল এক পোষা পাখি, নাম এথেনা। এথেনা বুঝতে পারে মানুষের কথা, তারও বন্ধুত্ব হয় আশিয়ানীর সাথে। গোপন সুড়ঙ্গ ধরে নিয়মিত চলছে আশিয়ানীর ভেলভারগমন।

কিন্তু আশিয়ানী কি স্বপ্নেও ভেবেছিল এই যাতায়াত খুলে দিয়েছে এক অবরুদ্ধ ইতিহাসের দ্বার? প্রকৃতিতে বিরাজমান সমতায় ঘটেছে বিশৃঙ্খলা। সেভিদোনিয়া রাজ্যে হঠাৎ শুরু হলো বিদ্রোহীদের আক্রমণ। কালো জাদুকররা মেতে উঠেছে চটুল ষড়যন্ত্রে। শান্ত সেভিদোনিয়ায় অশান্তির তো কেবল শুরু। কিন্তু কেনো এই অশান্তি? কী তার ইতিহাস? কারাই বা রাজ্যবিরোধীতার মূলে_ তার কিছুই জানতো না আশিয়ানী। যখন জেনেছে তখন সমস্ত চরাচর নিস্তব্ধতায় মুখ লুকিয়েছে। এ কি দুই জগতের মেলবন্ধন নাকি ইতিহাসের পুনর্জীবন? বাস্তবিক নাকি কল্পিত রাজ্য_ কোন রাজ্যে দেখতে চান আশিয়ানীক?

পাঠ-প্রতিক্রিয়াঃ
খুবই অসাধারণ একটা বই আশিয়ানী। পুরো সপ্তাহজুড়ে মজেছিলাম এই বইয়ে। বইটাকে আমি দুই খণ্ডে ভাগ করে বলবো। প্রথম খণ্ডে রাজ্য বিবরণ আর আশিয়ানী-অন্বয় এর কথোপকথনে গল্প এগিয়েছে। যতক্ষণ আশিয়ানী দৃশ্যে ছিল ততক্ষণই শুধু রাজ্যের কথা এসেছে। কারণ গল্পটাই হচ্ছে আশিয়ানীকেন্দ্রিক। আশিয়ানী যেদিকে গিয়েছে, গল্পের ঘোড়া সেদিকে ছুটেছে। বাকি যা ঘটেছে তা এখানে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেনি। ভালো লেগেছে অন্বয়ের বন্ধুভাবাপন্ন মানুষিকতা। ষোলো বছরের এক কিশোরের ইন্ট্রোভার্ট হওয়ার পেছনে ছিল পারিবারিক ট্রমা। অন্বয়ের শত্রুর সাথে বন্ধু হবার যে প্রয়াস সেখানে সামাজিকতার সুন্দর একটা চিত্র ফুটে উঠ���ছে। অন্বয়ের মূলত উত্তরোত্তর সাফল্যের পেছনের কারিগর ছিল আশিয়ানী। সেই-ই মূলত ইন্ট্রোভার্টের খোলস ভেঙে অন্বয়কে নতুনভাবে গড়েছে। আশিয়ানীও অন্বয়ের সহায়তায় প্রাইমারি ওয়ার্ল্ড থেকে গোপনে তথ্য নিয়ে সেকেন্ডারি ওয়ার্ল্ডে কাজে লাগিয়েছে। এই ব্যালেন্সটা করানোর জন্য মূলত গল্পটা লম্বা সময় ধরে গড়িয়েছিল।

দ্বিতীয় খণ্ডে প্রথম খণ্ডের সংঘটিত কাজের ফলাফল বর্ণিত হয়েছে। আশিয়ানীর ভেলভার ভ্রমণ মূলত বাটারফ্লাই ইফেক্টের মতো কাজ করে। একে একে সব জট খুলেছে।

গল্পে বিধৃত দর্শনঃ
ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্টের দিক দিয়ে আশিয়ানী লার্জার দ্যান লাইফ এবং সাহিত্য দর্শনের দিক দিয়ে এই বই অনেকাংশে অস্তিত্ববাদের প্রতিনিধিত্ব করে। এই ঘরণার বই বাংলা সাহিত্যে খুবই কম। মৌলিক ফ্যান্টাসিতে এমন বাস্তবিক গল্প অতুলনীয়।

পরিশিষ্টঃ
ক্যারেক্টার আর রাজ্যের নামকরণ জোস। শুধু পৃষ্ঠাসংখ্যা ১০০-১৫০ বাড়ানো হলে পড়ে আরাম লাগতো। ফন্ট ছোটো, লাইন বেশি হয়ে গেল এক পৃষ্ঠায়। এই গল্পটা যতটা ফ্যান্টাসি ততটাই রিয়েলিস্টিক। এই কম্বিনেশনটা দারুণ। চিরকুটের হেভিমানের প্রোডাকশন। রাজকীয় একটা ভাইব আসে বইটা ধরলে।
Profile Image for Mohammad Borhan Uddin .
1 review
June 21, 2024
𝙏𝙝𝙚 𝙜𝙞𝙛𝙩 𝙤𝙛 𝙛𝙖𝙣𝙩𝙖𝙨𝙮 𝙝𝙖𝙨 𝙢𝙚𝙖𝙣𝙩 𝙢𝙤𝙧𝙚 𝙩𝙤 𝙢𝙚 𝙩𝙝𝙖𝙣 𝙢𝙮 𝙩𝙖𝙡𝙚𝙣𝙩 𝙛𝙤𝙧 𝙖𝙗𝙨𝙤𝙧𝙗𝙞𝙣𝙜 𝙥𝙤𝙨𝙞𝙩𝙞𝙫𝙚 𝙠𝙣𝙤𝙬𝙡𝙚𝙙𝙜𝙚.

Do you know who wrote the sentence above? Me! No, it’s the world-famous eccentric scientist Albert Einstein.

First, let us discuss the concept of fantasy. What is fantasy? Essentially, the word fantasy is derived from the Greek word 'Fantasia'. According to ancient Greek interpretation, fantasy refers to dreamy and figurative writing in which the ability or process of creating unrealistic or unlikely mental images in response to psychological requirements is highlighted. Thus, the definition of fantasy is a unique type of imaginative power in humans that produces a world of possibilities. And this is exactly what Mr. Xulian has accomplished with his dream project, "Ashiyani.”

Fantasy is not just a part of modern literature; it has a rich history. For example, the Epic of Gilgamesh from ancient Mesopotamia. The dominance of fantasy in literature is important in various languages worldwide. Likewise, in Bengali literature, to experience this unique world of fantasy, "Ashiyani" can be your best choice.

Let’s get known with it.
The main character of this book is "Ashiyani Arnomiel," a princess of the kingdom of Sevidonia. The author’s masterpiece separates Sevidonia and the present world, much like the country of Lilliput in "Gulliver's Travels." Sevidonia is a region of very small human civilization.

The greatest mystery in Sevidonia, which the author begins the story with, is the Velver Valley. No one dares to even mention the name of this place, but this princess, transitioning from adolescence to adulthood, develops a dangerous curiosity about the secrets of Velver. To uncover these mysteries, she takes various steps with the help of her peers and studies ancient manuscripts, leading her from the Velver Valley to a human civilization much larger than Lilliput’s. Here, she meets a boy named Onnoy and his owl, Athena. After arriving in this different world, many changes begin to occur in Ashiyani’s life.

At the same time, strange events start happening in the kingdom of Sevidonia. To solve these mysteries, King Arsalan of Sevidonia, Ashiyani’s father, involves Ashiyani in the efforts, alongside the army chief Arham. During this time, various incidents such as the sudden heating of the Ildaram Mountains, the relationship between the royal tree Arnimishil and the Arnomiel dynasty, silent wars behind the masks of the kingdom’s nobles, betrayals, and military strategies converge around a central character. Through the combination of these elements and the analysis of various life events, the author portrays an overarching life story.

While reading this, it will feel like you are exploring a travelogue or a mythology book filled with wonderful and intriguing mysteries.
Xulian’s writing is elastic and picturesque, painting a detailed picture of Sevidonia and its mysteries. The prose is pleasant and making the fantastical elements feel both real and winsome. The tale flow is smooth, despite the complexity of the plot and the number of subplots entangled within the main story.

There are other books in Bengali, but in my opinion, "Ashiyani" is a unique and standalone book. To escape the fatigue or monotony of worldly life, this book can be your best option. Similarly, to expand the boundaries of your imagination, you can journey with Princess Ashiyani Arnomiel of Sevidonia.


Title : Ashiyani
Author : Lord Xulian
Publications : Chirkut Prokashoni
Chapter : 16
Page : 655 (Bangla)
Map : Available with book
Portrait : 30
Profile Image for Ferdous Ara.
3 reviews5 followers
May 2, 2025
"আশিয়ানী "

সেভিদোনিয়া রাজ্যের রাজকুমারী আশিয়ানী আরনোমিয়েল, যার অপার কৌতুহল নিষিদ্ধ এক উপত্যকা ভেলভার কে নিয়ে! সে এই রহস্যের পেছনে ছুটতে ছুটতে পৌছে যায় এক নতুন দুনিয়ায় । যে দুনিয়া তার রাজ্যের চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন। সেখানে কিছু বিপদ মাড়িয়ে আশিয়ানীর পরিচয় হয় অন্বয় আর ওর লক্ষী পেঁচা এথেনা'র সাথে!
যা তার জীবনাচারণ কে বদলে দেয় চিরতরে...
এদিকে সেভিদোনিয়ায় একের পর এক অযাচিত ঘটনা ঘটতে শুরু করে। কারা ঘটাচ্ছে এসব? কি উদ্দেশ্য তাদের? এসবের সাথে কালো জাদু, প্রকৃতি সাধিকা এদেরই বা কি সম্পর্ক? আর সবথেকে বড় কথা এসবের সাথে রাজকুমারী আশিয়ানী কতখানি জড়িত??
এরপর রাজকুমারী এক প্রকৃতি সাধিকার সামনে পড়ে যায়। ধীরে ধীরে জানতে পারে তার বংশের গোপন অতীত! যার মধ্যে অনিচ্ছাকৃত ভাবে জড়িয়ে পরে রাজকুমারী আশিয়ানী...এই অনাকাঙ্ক্ষিত বিপদ থেকে উদ্ধার হওয়ার জন্য কি করতে হবে আশিয়ানী কে? কি হবে তার শেষ পরিণতি?? -- এই সমস্ত কিছুর আখ্যান নিয়েই "আশিয়ানী" বই টা।

পাঠ প্রতিক্রিয়া:
আশিয়ানী আমার পড়া দ্বিতীয় ফ্যান্টাসি বই। এর আগে পড়েছিলাম সার্সি। সার্সির চরিত্রগুলোর নাম আর ঘটনা প্রবাহ মনে রাখতে আমাকে বেশ বেগ পেতে হয়েছিলো। কিন্তু আশিয়ানী পড়তে গিয়ে আমাকে সেই সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়নি। লেখকের লেখা ও শব্দচয়ন খুবই ভালো লেগেছে আমার। অনেক সহজপাঠ্য ছিলো বিধায় বেশ সাচ্ছন্দের সাথেই পড়ে গেছি।
গল্পে দুইটা জগৎ দেখিয়েছেন লেখক আর জগৎ দুইটাকে সমান্তরলে অনেক ভালো ভাবে উপস্থাপন করেছেন।
জায়গার বিবরণ থেকে শুরু করে গুরুত্বপূর্ণ ক্যারেক্টর গুলো কে অনেক চমৎকার ভাবেই তুলে ধরেছেন। ভালো এবং খারাপ উভয় চরিত্রকেই যথেষ্ট শক্তিশালী ভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
আর লক্ষী এথেনা কে এত্ত সুন্দরভাবে লেখক ফুটিয়ে তুলেছেন পড়ার সময় সারাক্ষণ মনে হচ্ছিলো এই বুঝি এথেনে এসে আমাকে ওর পিঠে তুলে নিয়ে একটা উড়াল দিবে..
বইয়ে ইংরেজি শব্দগুলো একদম আক্ষরিক অর্থ পড়তে গিয়ে ভালোই মজা পেয়েছি।

এতসব ভালোর মাঝে আমার মনে হয়েছে 'দ্বিচালিক' চরিত্রটার দিকে আরেকটু বেশি মনোযোগ দেওয়া যেতো। আর আশিয়ানীর, অন্বয় কে দেওয়া মোটিভেশনাল কথা গুলো আর এরপর অন্বয়ের তার শিক্ষক অব্দি পৌছিয়ে তাকেও একই ধরনের স্পিচ দেওয়া ব্যাপার টা আমার কাছে একটু বেশিই মনে হয়েছে।
এই দুটো দিক ছাড়া গল্পের আর কোন খারাপ দিক আমার চোখে পড়েনি।

পারসোনাল রেটিং- ৪.৫/৫
Profile Image for Md Abdul Kayem.
183 reviews3 followers
August 5, 2022
লেখক জুলিয়ান এর আশিয়ানী পড়া শেষ করলাম, এককথায় অনবদ্য কাহিনি। ফ্যান্টাসি আমার বরাবরই প্রিয় জনরা, সেদিক দিয়ে আশিয়ানী পড়ে দারুণ উপভোগ করেছি।

প্রথমদিকে প্রায় ৪২০ পর্যন্ত পৃষ্ঠা বলতে গেলে কাহিনি এগিয়েছে আস্তে আস্তে, প্রথম ১০০ পৃষ্ঠা পড়ে তো আমি খুব একটা আগ্রহও পাইনি, এতটুকু পড়ে আমার সিনেমা Alice in wonderland এবং এনিমে Arrietty কাহিনি মনে পরে গিয়েছিলো, যদিও সিনেমার সাথে এই বইয়ের পরিবেশ এবং প্রেক্ষাপটের খুব অল্প কিছু উপদানের মিল থাকলেও কাহিনির কোনোই মিল নেই।

বইয়ে লেখক দুটো জগতের সাথে সমন্বয় করে কাহিনি বর্ণনা করেছেন যার মধ্যে অন্বয়ের সাথে আশিয়ানীর কাহিনি প্রথমদিকে আমার কাছে বোরিং লেগেছে,  এর একটা কারণ হচ্ছে পরিচিত কমন জিনিসের বর্ণনা, তবে সেই বর্ণনা গুলো কাহিনির সাথে একেবারেই মানানসই।

অন্যদিকে সোভেদেনিয়া রাজ্যের প্রতিটি মূহুর্ত চরমভাবে উপভোগ করেছি, অধ্যায় শেষ না হওয়ার আগ পর্যন্ত গল্পের এই অংশের কাহিনি ছাড়িনি। বিশেষ করে আশিয়ানীর সাথে এথেনার  মূহুর্ত গুলো সবথেকে বেশি উপভোগ করেছি। লেখকের বর্ণনা ভঙ্গি অসাধারণ, এতোটা পরিণত লেখা পাব তা আশা করিনি, সবকিছু লেখক বিশদভাবেই বর্ণনা করেছেন।

বইটির সম্পূর্ণ কাহিনিতে আশিয়ানীকে কেন্দ্র করে হলেও পাশাপাশি  রাজনীতি, জীবন দর্শন, যুদ্ধ, জাদু সবকিছুর মিলেমিশে আশিয়ানী বই এক অন্য মাত্রায় রূপ নিয়েছে। বইটা পড়ে বুঝাই যাচ্ছিলো সম্পাদক দারুণ কাজ দেখিয়েছেন, বানান ভুল একদমই কম। লেখকের শব্দ প্রয়োগ, বাক্য গঠন, শব্দের খেলা দেখে মুগ্ধ হয়েছি।

বইটির ৪২০+ হওয়ার পর কাহিনি রীতিমতো রোলারকোস্টার গতিতে এগিয়েছে, টানটান উত্তেজনা নিয়ে লেখক এক হৃদয়বিদারক ঘটনা দিয়ে  এবং একই সাথে ভালোভাবেই এন্ডিং টেনেছেন।

বইয়ের প্রোডাকশন, প্রচ্ছদ ভিতরের ডিজাইন একেবারেই চমৎকার, আর ভিতরের গল্পের সাথে সামঞ্জস্য আর্টওয়ার্ক তো এক একটা অনেকক্ষণ ধরে তাকিয়ে তাকার মতোই সুন্দর ।  ম্যাপটাও ভালো লেগেছে তবে ম্যাপের পাশাপাশি যদি একটা বংশক্রম বা রাজপদের ক্রম রাখা হতো আরো ভালো হতো। বড়ো বইয়ের ক্ষেত্রে রাউন্ড বাইন্ডিং উপযোগী, এতে খুলে চলে আসার সম্ভাবনা থাকে না, বইটি রাউন্ড বাইন্ডিং হওয়ায় পড়তে সুবিধাজনক লেগেছে। সবমিলিয়ে 'আশিয়ানী' আমার কাছে প্রত্যাশার চেয়েও বেশি উপভোগ্য লেগেছে।
Profile Image for Showrov Khan.
2 reviews
August 18, 2023
অনেকদিন হয়ে গেছে ব‌ইটি পড়ে শেষ করেছি।বেশকয়েকবার ব‌ইটি নিয়ে কিছু লিখবো ভেবেছি কিন্তু ব্যাস্ততার কারনে লিখবো লিখবো করে আর লেখা হয়ে উঠে নি।যখন ব‌ইটি পড়া শুরু করেছিলাম তখন মনে হয়েছিল জনাথন সুইফেটের "গালিভার্স ট্রাভেলস" এর মতো হবে। কিন্তু বেশকিছু টা পড়ার পর আমার ভাবনা টা ভুল প্রমান করে দিয়ে আমাকে নিয়ে যায় টানটান উত্তেজনায়।এর‌ই ফলস্বরূপ চার-পাচ দিনেই পুরো ব‌ই পড়ে শেষ করে ফেলি।এইবার সংক্ষেপে বলা যাক ব‌ইয়ের ঘটনাপ্রবাহ,এই ব‌ইটিকে আমি কোন নির্দিষ্ট জনরায় ফেলতে পারতেছি না কারন কিছু অংশ পরে মনে হয়েছে রহস্য এডভেঞ্চার আবার একটু পরেই মধ্যযুগীয় যুদ্ধ শুধু কি মধ্যযুগের যুদ্ধেই থেমে গেছে.?
লেখক তার অসাধারণ প্রতিভাবার সাহায্যে তুলে ধরেছেন আধুনিক সময়ের বিভিন্ন সমস্যা।
ব‌ইয়ের প্রধান চরিত্র রাজকুমারী আশিয়ানী আরনোমিয়েল এর নামের সাথে মিল রেখেই হয়তো ব‌ইয়ের নামকরণ করা হয়েছে। তার বাবা সেভিদোনিয়া রাজ্যের রাজা আরসালান আরনোমিয়েল। কৌতুহলবশত আশিয়ানী আবিষ্কার করে সেভিদোনিয়া রাজ্যের এক নিষিদ্ধ অধ্যায় "ভেলবার উপত্যকা"। এই উপত্যকা কেন্দ্র করেই মহাশক্তির অধিকারী হয়েছিলেন আরনোমিয়েল বংশের প্রতিষ্ঠাতা গেমরান আরনোমিয়েল। বিভিন্ন ঘটনার ফলস্বরূপ পরবর্তী আরনোমিয়েল রাজারা একসময় রহস্যঘেরা ভেলবার কে নিষিদ্ধ করে সম্পূর্ণ সেভিদোনিয়া রাজ্যেসহ রাজবংশের সকলের জন্য। আশিয়ানী এই নিষিদ্ধ ভেলবার এর পিছনের রহস্য খুঁজতে গিয়ে নিজের অজান্তেই ডেকে আনে সেভিদোনিয়া রাজ্যে একের পর এক ভয়াবহ বিপদ। রহস্য জানার পর ভেলবার এর দরজার উপারের বন্ধু অন্বয় এথেনাকে নিয়ে বেশ ভালোই সময় কাটাচ্ছিল। কিন্তু কথায় আছে না আয় সুখ যায় সুখ.!ঐসময় টের না পেলেও এই ভুলের কারণে এক ভয়ঙ্কর পরিণামের সম্মুখীন হয়আশিয়ানী। শেষ পর্যন্ত তাঁর ভাগ্যে কী ঘটে তা জানতে পড়ে ফেলুন আশিয়ানী।‌।
This entire review has been hidden because of spoilers.
Displaying 1 - 30 of 40 reviews

Can't find what you're looking for?

Get help and learn more about the design.