অতিপ্রাকৃতে একটু ভয় পেলেও তা নিয়ে পড়তে আমার আগ্রহ কম না কোনকালেই। রিসেন্টলি দেখছি রেগুলার ঘোস্ট, ডিমন, এগুলোর পাশাপাশি জিন বা শয়তান, আই মিন একেবারেই ইসলামিক থিমের অতিপ্রাকৃত ইলেমেন্টস নিয়ে বেশ চর্চা হচ্ছে সাহিত্যে - এই কয়দিন আগেই পড়লাম খুবই ভালো আরেকটা বই - "অ্যা মাস্টার অফ জিন"। যাই হোক, কয়েক সপ্তাহ ধরে সোশ্যাল মিডিয়াতে এই বইটার নাম বারবার দেখে আগ্রহী হয়েই কেনা।
এক বাক্যে রিভিউ সংক্ষিপ্ত করে আনি - বইটা পড়ে ভালো লেগেছে। সিরিজ হিসেবে লেখা, আমি এর পরের বইগুলোও কিনবো। আশা করাই যায় এর মাঝে লেখকের কলমের জোর বেড়ে যাবে, কাহিনী আরো সহজপাঠ্য হবে, উত্তেজনা থাকবে টান টান।
এই বইয়ের কাহিনী এক পলিটিশিয়ানের পরিবারকে নিয়ে। কালোজাদু আর জিনের অভিশাপে জর্জরিত তারা, নানা অস্বাভাবিক ঘটনা ঘটে যাচ্ছে দিনের পর দিন। এই রহস্যের সমাধান করতে এগিয়ে আসে আরো রহস্যময় কিছু ক্যারেক্টার। নানা দুর্যোগ, দুর্বিপাকের মাঝ দিয়ে আগায় কাহিনী, বেশ দ্রুতই শেষ হয়ে যায় বইটা। বই এর শেষ পাতা উল্টানোর পর মনে হয়েছিলো, "ধুরো, শেষ হইলো না তো কাহিনী!"
হরর হিসেবে, বইটা ভালো। হরর ইলেমেন্টস দুই চারটা হরর মুভি দেখা থাকলে সবারই পরিচিত লাগবে। দেশীয় প্রেক্ষাপটের কারণে আরেকটু বেশি রিলেটেবল লাগবে, গ্রামের বাড়িতে আসা যাওয়া থাকলে মনে হবে "আরে এরকম ঝোপের পাশ দিয়ে তো আমিও হেটে যাই, কি বিপদই না হইতে পারতো!"
থ্রিলার হিসেবে, আরো ভালো হতে পারতো। থ্রিলের কমতি আছে, কমতি আছে পেসিং এ। বহু বছর ধরে পড়তে পড়তে আজকাল কাহিনীর অনেক টুইস্ট এক-দেড়শো পেজ আগেই দেখতে পাই, তবে এই বইয়ের টুইস্ট যে ভালো ছিলো তা স্বীকার করতেই হয়। তবু, কেন জানি বই এর মাঝ বরাবর যাওয়ার পর মনে হচ্ছিলো গদ্যে দাঁত বসানো যাচ্ছে না, মনোযোগ প্যারার পর প্যারা স্লাইড করে এগিয়ে যাচ্ছে। আর বইটা একটা ইউনিক টোনে লেখা, ইসলামিক নানা মিথ উঠে আসার কারণে লেখক রেফারেন্সের পর রেফারেন্স দিয়ে বই লিখেছেন, তথ্যের শুদ্ধতা এনসিওর করার জন্যে। আর এই লেংদি এক্সপোজিশন, ইনফো ডাম্প, ক্যারেক্টার ব্রিফিং, আর একটু পর পর রেফারেন্স বইয়ের বিশুদ্ধতা বাড়ালেও নষ্ট করেছে গল্পের গতি। মজার জিনিস হলো, লেখক নিজেও সচেতন এটা নিয়ে, ফোর্থ ওয়াল ব্রেকিং এর মত করে একটা ক্যারেক্টার নিজেই একবার রেফারেন্স বেশি হয়ে যাওয়ার কথা মেনশন করে। আরেকটা জিনিস, গল্পের খাতিরেই রুকইয়াহ দেখানোর সময় সূরা বা আয়াত এসেছে বইএর মাঝে, সেটা নিয়ে একটু ডিসকম্ফোর্ট আছে। কারো না কারো বাসায় যদি এই বই মাটিতে পড়ে থাকে বেখেয়ালের ভুলে? আয়াতের অবমাননা হয়ে যায় যদি? কেও যদি অপরিস্কার অবস্থাতেই পড়তে বসে এই বই?
বেশ কয়েকটা সাইড স্টোরিলাইন আসছে গল্পের মাঝে, সিক্যুয়েলের আশায় সেই স্টোরিলাইনগুলোকে যাস্ট টাচ করেই রেখে দেয়া হয়েছে - ব্যাপার ডিসএপয়েন্টিং। কয়েকটা ক্যারেক্টার তো আসলো গেলো টাইপ অবস্থা, আরেকটু ফ্লেশ আউট করলে খারাপ হতো না। কিছু জায়গায় মনে হচ্ছিলো, এইবার কাহিনী জমবে - আরে কিসের কি, দেড় পেজে লেখক মুভ করে গেলেন অন্য টপিকে।
সব কথার শেষ কথা - বইটা ভালো লেগেছে, দুই বসায় পড়ে শেষ করেছি। সিক্যুয়েলের অপেক্ষায় থাকলাম।