মোদিজি প্রায়শই 'ডাবল ইঞ্জিন'-এর কথা বলেন। অর্থাৎ, কেন্দ্র ও রাজ্যে একই দলের সরকার থাকলে উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়। এই কথার সত্যতা জ্যোতি বসুর আত্মজীবনী 'যত দূর মনে পড়ে'র পাতায় পাতায় পাওয়া যায়। ১৯৭৭ সালে কংগ্রেসের পতন ঘটিয়ে প্রথমবারের মতো বামফ্রন্ট ক্ষমতায় আসে। জ্যােতি বসু হন মুখ্যমন্ত্রী। এরপর সুদীর্ঘ দুই দশকের বেশি তিনি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০০ সালে তিনি অবসরে যান। তার মুখ্যমন্ত্রিত্বেরকালে বেশির ভাগ সময় কেন্দ্রে ক্ষমতায় ছিল কংগ্রেস। পশ্চিমবঙ্গ বামপন্থিশাসিত হওয়ার কারণে কতখানি বেইনসাফির শিকার হয়েছে তার খতিয়ান বইয়ের পাতায় পাতায় রয়েছে।
ভারতের অন্য রাজ্যের তুলনায় পশ্চিমবঙ্গ কম শিল্পায়িত। কারণ দুইটি। এক. বামফ্রন্টের প্রতি কেন্দ্রীয় সরকারগুলোর ধারাবাহিক অবহেলা এবং দুই. পুঁজিবাদ নিয়ে বামফ্রন্টের 'মনোভাব'। জ্যোতি বসু শিল্পায়নের অভাবের জন্য কেন্দ্রকে একচেটিয়াভাবে দায়ী করলেন। কিন্তু তার লেখায় নিজ রাজ্যে পুঁজির বিকাশ নিয়ে কম-বেশি নেতিবাচক মনোভাব চোখ এড়ায়নি।
জ্যোতি বসু দলের প্রতি নিবেদিতপ্রাণ ছিলেন। এই নিবেদন দক্ষিণপন্থি দলগুলোর কর্মীদের মতোই অন্ধ আনুগত্য মনে হয়েছে। আত্মজীবনীতে নিজের কথার চাইতে দলের কার্যবিবরণীর একঘেয়ে বর্ণনা পাঠকের ধৈর্যচ্যুতি ঘটাবে।
প্রতিবার ভোটে জয়ী হওয়ার পর জয়ের বিস্তারিত বিবরণ জ্যোতি বসু দিয়েছেন। ৫ শ পাতার বইয়ের অনেকটা জুড়েই এসব ফিরিস্তি রয়েছে। বাকি দলগুলোর চাইতে তারা কত মানবতাবাদী সেই কথা শতমুখে বলেছেন জ্যোতি বসু। কংগ্রেসের পতনের পদধ্বনি তিনি শুনতে পেয়েছেন। হুশিয়ারি দিয়েছেন চরম সাম্প্রদায়িক বিজেপির উত্থান নিয়ে। কিন্তু বামফ্রন্ট ধীরে ধীরে জনতার মন থেকে মুছে যাচ্ছে - এই নির্মম সত্য কেন উদঘাটন করতে পারেননি জ্যোতি বসু সেই কৌতূহল আমার কাজ করেছে। যার উত্তর জ্যোতিবাবুর লেখায় পাইনি।
পশ্চিমবঙ্গে মমতা ব্যানার্জির ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছে বিজেপি। যে কোনো সময় ক্ষমতা বেহাত হয়ে যেতে পারে। পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির উত্থানের পেছনে মমতা ব্যানার্জির ভূমিকা রয়েছে। তিনি একসময় বামদের হটিয়ে মসনদ দখলের জন্য বিজেপির সাথে জোটবদ্ধ হয়েছিলেন। মমতা ব্যানার্জি একেবারেই আন্দোলন-সংগ্রামের নেত্রী। তাকে রুখে দেওয়া কঠিন, সেই ইঙ্গিত জ্যোতিবাবুর লেখায় পাই। যদিও মমতাদিদিকে ভালো চোখে দেখতেন না তিনি।
বাংলাদেশের সুহৃদ ছিলেন জ্যোতি বসু। তাদের আদিনিবাস নারায়ণগঞ্জের বারদীতে। '৯২ সালে তিনবিঘা করিডর খুলে দেওয়া, '৯৬ সালে পানিচুক্তি ইত্যাদিতে জ্যোতিবাবুর আন্তরিক ভূমিকা নিঃসন্দেহে তারিফ করার মতো। তবে নিজেদের স্বার্থেকে তিনি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছিলেন তা নির্দ্বিধায় লিখেছেন। এক্ষেত্রে তৎকালীন কেন্দ্রীয় সরকারের ইতিবাচক ভূমিকা অবদান রেখেছিল সবচাইতে বেশি এবং যা ছিল একটি অকংগ্রেসি ও অবিজেপি সরকার।
'যতদূর মনে পড়ে' একান্তই রাজনৈতিক আত্মজীবনী। অত্যন্ত সতর্কতার সাথে বইয়ের প্রতিটি শব্দচয়ন করা হয়েছে। দলের গণ্ডির বাইরে কোথাও কোনো চিন্তা নেই। নেই দল নিয়ে এবং নিজের কর্মকাণ্ড নিয়ে গভীর কোনো সমালোচনা ও পর্যবেক্ষণ। মোটকথা, জ্যোতি বসুর মতো ব্যক্তিত্বের এমন নিরামিষ ও নির্দোষ আত্মকথা আমাকে তুষ্ট করেনি। 'যত দূর মনে পড়ে'র সাথে শেখ মুজিবুর রহমানের 'অসমাপ্ত আত্মজীবনী'র তুলনা চলে না। এমনকি বাংলাদেশের প্রবীণ রাজনীতিবিদ শাহ আজিজুর রহমান, মিজানুর রহমান চৌধুরী প্রমুখের আত্মজীবনী এর চাইতে ঢের বেশি সুখপাঠ্য। বাংলাদেশি বামপন্থি হায়দার আকবর খান রনো, জসীমউদ্দিন মণ্ডল ইত্যাদির লেখা বই বেশ ভালো। এমনকি জ্যােতি বসুর দলের অর্থমন্ত্রী অশোক মিত্রের আত্মজীবনী 'আপিলা চাপিলা' বরং আরও চমৎকার। সেই তুলনায় জ্যোতি বসুর 'যত দূর মনে পড়ে' বড্ড নিম্নমাঝারি বই।
For those interested in Bengal politics, this is a must read. Though Jyoti Basu is not completely open about certain occurrences during his tenure but overall the left movement has been well documented. The book is largely regarding Jyoti Basu's chief ministership in Bengal hence do not expect neutrality.
The most honest and upfront declaration are made in this book. A must read of all generations. Whether students or professors, working class or business men, everyone should read this book to understand the history of politics of Kolkata by none other than the maker.