মঈনুস সুলতান কিশোর-কিশোরীদের জন্য লিখেছেন এই গুহাভ্রমণের বৃত্তান্ত। স্ত্রী-কন্যা নিয়ে তিনি বাস করেছেন পৃথিবীর নানা দেশে। আদিম গুহায় ঘুরে বেড়াতে ভালো লাগে তাঁদের। কন্যা কাজরিকে নিয়ে তিনি বেড়াতে যান লাওসের তন হাইহিন গুহা, দক্ষিণ আফ্রিকার মারোপেং গুহা আর জিম্বাবুয়ের সিনহোয়ি গুহায়। এই তিন গুহাভ্রমণের চমকপ্রদ ও কৌতূহলোদ্দীপক বর্ণনা আছে এ বইয়ে। আরও আছে যুক্তরাষ্ট্রের লাউরে ক্যাভার্নস, ইন্ডিয়ান ইকো ক্যাভার্নস আর সি-লায়ন গুহায় ঘুরে বেড়ানোর গল্প। মঈনুস সুলতান কোনো সাধারণ বর্ণনা দেন না। তিনি প্রকৃতি, জীবজন্তু আর মানুষ মিলিয়ে এমন এক প্রাণময় জগৎ তৈরি করেন, যা পাঠককে একই সঙ্গে আনন্দিত ও বিস্মিত করে। গুহাগুলো সম্পর্কে প্রাসঙ্গিক নানা তথ্য বইটিকে আরও আকর্ষণীয় করেছে। ফলে, এ বই ছোটদের পাশাপাশি ভালো লাগবে বড়দেরও।
মঈনুস সুলতানের জন্ম ১৯৫৬ সালে, সিলেট জেলার ফুলবাড়ী গ্রামে। তাঁর পৈতৃক নিবাস মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলায়। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ম্যাসাচুসেটস থেকে আন্তর্জাতিক শিক্ষা বিষয়ে পিএইচডি। খণ্ডকালীন অধ্যাপক ছিলেন ইউনিভার্সিটি অব ম্যাসাচুসেটস এবং স্কুল অব হিউম্যান সার্ভিসেসের। ছিলেন ইউনিভার্সিটি অব সাউথ আফ্রিকার ভিজিটিং স্কলার। শিক্ষকতা, গবেষণা ও কনসালট্যান্সির কাজে বহু দেশ ভ্রমণ করেছেন। তাঁর ‘জিম্বাবুয়ে : বোবা পাথর সালানিনি’ গ্রন্থটি প্রথম আলো বর্ষসেরা বই হিসেবে পুরস্কৃত হয়। ২০১৪ সালে ভ্রমণসাহিত্যে সামগ্রিক অবদানের জন্য পান বাংলা একাডেমি পুরস্কার। প্রাচীন মুদ্রা, সূচিশিল্প, পাণ্ডুলিপি, ফসিল ও পুরোনো মানচিত্র সংগ্রহের নেশা আছে মঈনুস সুলতানের।