‘কৃষ্ণাদ্বাদশীর মেঘ' বস্তুত বারোটি গল্পের একটি সংকলন। জীবনের বিরতিবিহীন বহমান সংকট, অস্তিত্ববিলগ্ন বেদনাবোধ, প্রণয়ব্যাকুলতা, মায়াকুহক আলোকবিসারী উত্তরণের স্বপ্ন—এই সংকলনের গল্পগুলির বিষয়বস্তু। অবশ্যই এই গল্পগুলির একটি অতিরিক্ত সমধর্মিতা রয়েছে; তা হচ্ছে এরা প্রত্যেকেই কথঞ্চিৎ ইতিহাস-নির্ভর আখ্যান। অতি সাধারণ মানুষের সহজ জীবনযাত্রার পাশাপাশি বিভিন্ন যুগের কবি, নৈয়ায়িক, বৈয়াকরণ, দার্শনিক ও প্রজ্ঞাবান ব্যক্তিবর্গের জীবনেতিহাস আশ্রয় করে এই সংকলনের গল্পসমূহ রচিত হয়েছে।
সন্মাত্রানন্দের "কৃষ্ণাদ্বাদশীর মেঘ" শেষ করে অনেকক্ষণ চুপচাপ বসে ছিলাম। কি এক ঘোরে যেনো আবিষ্ট হয়ে গেছিলাম।
বারোটি ছোটগল্পের এই সংকলন যেন বারোটি দরজা—যা নিয়ে যায় এক একটি কালরেখায়, যেখানে ধরা পড়ে হারিয়ে যাওয়া সময়ের আলো-আঁধারিতে গড়ে ওঠা জীবন ও অনুভবের নিটোল রেখাচিত্র। প্রতিটি গল্প তার নিজস্ব সময় ও প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে থাকলেও, তাদের ভিত গাঁথা এক চিরন্তন মানবিক অভিজ্ঞতার সেতুবন্ধনে—ভয়, লজ্জা, অনুশোচনা, প্রেম আর আত্মসংঘাত। ইতিহাস এখানে কোনো রুদ্ধ পাঠ নয়, বরং তার ছায়া ছুঁয়ে যাও এমন সব মুহূর্তের অন্বেষণে—যা পাঠকের অন্তর্লোকে নাড়া দিয়ে যায়।
এই সংকলনের মধ্যে "শসার ফুলের নূর" গল্পটি আমার ব্যক্তিগত ভাবে সবচেয়ে পছন্দ হয়েছে। স্বামী বিবেকানন্দকে ঘিরে গড়ে ওঠা এই ঘটনাকে লেখক তুলে ধরেছেন, তা যেন ভেঙে দেয় দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠিত এক ধারণাকে। প্রতিষ্ঠা করে এক অমোঘ সত্য—ক্ষুধার্তের কোনো ধর্ম থাকে না।
"নষ্টনাটক" গল্পটিকে লেখক ‘প্রায়’ ভূতের গল্প বলেছেন। কেন ‘প্রায়’? সেটি জানার জন্য অবশ্যই পড়তে হবে। তবে এটুকু বলা যায়, এখানে ভূত মানে কেবল ভয়ের উপাদান নয়—বরং ইতিহাসের সেই অংশ, যা ঘটনাক্রমে রয়ে গেলেও, সময়ের ফাঁক গলে মাঝে মাঝে বর্তমানকে ছুঁয়ে যায়, সংঘাত তৈরি করে, প্রশ্ন তোলে।
"বিদ্যালংকারের বিভ্রাট" গল্পে ধরা পড়ে সেই পুরনো অথচ চিরকালীন হাহাকার—কর্মের ক্লান্তি, অস্তিত্বজিজ্ঞাসা এবং মুক্তির আকাঙ্ক্ষা। গল্পটি যেন সমকালীন জীবনের এক অনুরণন—যেখানে প্রতিটি পাঠক নিজেকেই খুঁজে পেতে পারে।
আর "শিখিবৈবশী ও লাল পাথরের বাটি"—এই গল্প পড়ে শরীরজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে এক অদ্ভুত রোমাঞ্চ। কথকের হাতে আসে বিক্রমশীলা থেকে প্রাপ্ত একটি লাল পাথরের বাটি। তার মধ্যে যেন নিহিত এক পুরোনো জাদু—যা তাকে নিয়ে যায় শতাব্দীর অতলে, অতীতের রহস্যময় দ্বারপ্রান্তে।
এই সংকলনের প্রতিটি চরিত্র যেন কেবল ইতিহাসের কোনো বিন্দুতে আবদ্ধ নয়—তারা আমাদের পাশেই, আমাদের মতোই। তাদের গ্লানি, সংকট, অহংকার—সবকিছু এত জীবন্ত ও সময়াতীতভাবে ফুটে উঠেছে, যেন সময় তাদের স্পর্শ করতে পারে না। ঠিক এই কারণেই "কৃষ্ণাদ্বাদশীর মেঘ" এক হৃদয়স্পর্শী সাহিত্যিক অভিজ্ঞতায় পরিণত হয়, যেখানে ইতিহাস দীপ্ত হয়ে ওঠে আলোয়, কিন্তু সে আলো চোখ ঝলসে দেয় না—বরং আলতো স্পর্শে ঘিরে ধরে মন।
এই বই কেবল গল্পের সংগ্রহ নয়—এ এক আত্মজিজ্ঞাসার যাত্রা। যেখানে আমরা আমাদের নিজের ছোট ছোট দোষ, অপরাধ, এবং কষ্টের মুখোমুখি হই। কখনো আত্মসমালোচনার, আবার কখনো আত্মক্ষমার একটি শব্দহীন আয়না। এক নিভৃত আশ্রয়, যেখানে ভাষা নয়—ভাষার অন্তর্নিহিত স্পন্দন আমাদের আত্মার আরাম হয়ে ওঠে।
কৃষ্ণাদ্বাদশীর মেঘ"- নামটিই খুব মায়াময়। যখন প্রথম বইটি হাতে পাই, বইয়ের নাম এবং তার প্রচ্ছদ আমার অত্যন্ত আকর্ষণীয় লেগেছিল, মনে হয়েছিল, যে বইয়ের নাম আর প্রচ্ছদ এত মায়াময়, তার ভেতরে না জানি কী গভীর রহস্য লুকিয়ে আছে! অবশেষে সেই কৌতূহলের নিবৃত্তি ঘটলো, বইটি পড়ার পরে।
সন্মাত্রানন্দ রচিত "কৃষ্ণাদ্বাদশীর মেঘ" বস্তুত বারোটি গল্পের একটি সংকলন। এই বইটি লেখকের সাম্প্রতিকতম বই।
গল্পগুলির পটভুমি একে অন্যের থেকে আলাদা, কিন্তু কিছু বিষয়ে তাদের মিল আছে, গল্পগুলির প্রত্যেকটিই ইতিহাস-নির্ভর আখ্যান বা কোনোভাবে ইতিহাস সংলগ্ন বলা যেতেই পারে।
কিন্তু কোনো গল্পই ইতিহাস-সর্বস্ব নয়। ইতিহাস-সর্বস্ব হওয়ার চেয়ে সাহিত্যগুণান্বিত হয়ে ওঠার তাগিদ এখানে অধিক। তবে ইতিহাস নির্ভরতা ছাড়াও আমি এই গল্পগুলির মধ্যে একটি মৌলিক মিল খুঁজে পেয়েছি, সে বিষয়ে পরে লেখা আছে, যদিও তা একান্তভাবেই আমার ব্যাক্তিগত পাঠানুভূতি বলা যেতেই পারে।
এই গল্প সংকলনের বেশ কিছু গল্পই বাঙলার প্রাচীন কিছু পণ্ডিত এবং বিখ্যাত মানুষের জীবনের ঘটনাশ্রিত। একটি গল্প "শসার ফুলের নূর" স্বামী বিবেকানন্দ এবং স্বামী অখণ্ডানন্দের পরিব্রাজক জীবনের একটি ঘটনাশ্রিত, তবে লেখক সেই ঘটনাটিকে এক সম্পূর্ণ আলাদা একটি দৃষ্টিকোণ দিয়ে দেখাতে চেয়েছেন, এবং আজকের দিনে তা অত্যন্ত জরুরি এবং ভীষণভাবেই প্রাসঙ্গিক।
সবচেয়ে আকর্ষণীয় ব্যাপার একটি গল্প "নষ্টনাটক" প্রায় ভৌতিক গল্পের পর্যায় পড়ে।
এই বইটির প্রত্যেকটি গল্পের সারাংশ তুলে ধরা আমার এই লেখার উদ্দেশ্য নয়। উদ্দেশ্য একটাই, এই বইটি আজকের দিনে আমাদের এই "আধুনিক" সমাজব্যবস্থায় কতটা প্রাসঙ্গিক, সেই বিষয়ে কিছুটা আলোকপাত করার চেষ্টামাত্র।
পূর্বেই উল্লেখ করেছি, যে ইতিহাস-নির্ভরতা ছাড়াও এই গল্পগুলির (অধিকাংশ) মধ্যে একটি মিল পাওয়া যায়, সেই বিষয়গুলি নিয়েই এবার আলোচনা করব।
প্রথমতঃ লেখক এই গল্পগুলির মাধ্যমে একটি বার্তা তাঁর পাঠকদের দিয়েছেন, লেখকের ভাষাতেই বলি " অনুভূতিহীন শুস্ক পান্ডিত্য যত প্রবলই তা হোক না কেন, শেষপর্যন্ত তার পরাজয় ঘটে। সপ্রাণ অনুভুতি-সম্পদই অন্তিমে বিজয়ী হয়। ভাব বা অনুভুতি লৌকিক বা অলৌকিক যেমনই হোক না কেন, শুস্ক শাস্ত্রজ্ঞান সেই অমেয় ভাবসম্পদের সামনে দাঁড়াতেই পারে না।"
দ্বিতীয়তঃ আবহমান কাল থেকে মনুষ্যজীবনের সংকট, বেদনাবোধ,একাকীত্ব, প্রণয়ব্যাকুলতা, উত্তরণের স্বপ্ন, ব্যার্থতা, নৈরাশ্য এবং বর্তমান যুগেও তার প্রাসঙ্গিকতা এই বিষয়গুলিই "কৃষ্ণাদ্বাদশীর মেঘ" বইটির অন্যতম উপজীব্য। গল্পগুলিতে অনেক ক্ষেত্রেই পুরাতন যুগের নানা বিখ্যাত ব্যাক্তির আবির্ভাব ঘটেছে, কিন্তু তাঁরা যেন সেই গল্পের পার্শ্বচরিত্র, গল্পের মূল প্রোটাগনিস্ট কিন্তু সেইযুগের অখ্যাত মানুষজন, তাঁদের জীবনযাত্রা, জীবনের নানা সংকট, দ্বন্দ্ব, দুঃখ হতাশা, ব্যাকুলতা, ইত্যাদি। এই বিষয়টি বিশেষভাবে দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
এর একেকটা গল্প একেক রকম করে ভাবায়, আমাদের মত সংসারে আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে থাকা মানুষজন নানা সমস্যায় জড়িয়ে থাকে, যখন কোনো বিশেষ একটি সমস্যা প্রকট হয় তখন সেই বিষয়টিকে আমরা প্রাধান্য দিই । এই গল্পগুলি পড়ে মনের গ্লানি দূর হয়, শান্তি পাই, আনন্দ পাই, আবার দুঃখও পাই।
উদাহরণ স্বরূপ বলি, এখানে হয়তো অনেকেই আছেন চাকুরীজীবি, এটা প্রায়শই ঘটে থাকে যে আমরা নিজেদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়ে অনেক কাজ আমরা করতে বাধ্য হই, যা নিয়ে পরে অনুশোচনায় ভুগি বা মনের মধ্যে গ্লানি আসে আমাদের। কিন্তু প্রবল অনিচ্ছাসত্ত্বেও সেই কাজ করতে বাধ্য হই, কারণ চাকরিটি তো রাখতে হবে, নিজের প্রয়োজনে, পরিবারের মুখ চেয়ে, চাকরি না থাকলে খাব কি? এইসব ভাবনা স্বাভাবিক ভাবেই মাথায় আসে আমাদের।
এই বইটিতে "কাশজ্যোৎস্না" নামক গল্পটিতে আপনি ঠিক এরকমই ঘটনার কথা জানতে পারবেন, যেখানে "অন্নদামঙ্গল" কাব্যের রচয়িতা বিখ্যাত কবি শ্রী ভারতচন্দ্র রায়গুণাকরকেও মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সভায় নিজের প্রতিপত্তি অক্ষুণ্ণ রাখতে গিয়ে, নিজ পরিবারের মুখ চেয়ে, প্রবল অনিচ্ছাসত্ত্বেও "বিদ্যাসুন্দর" কাব্য লিখতে হয়েছিল, যা তাঁর নিজের কাছেই অতি স্থূল রুচির কাব্য মনে হয়েছিল। তাই মানুষ সেই যুগেও নিরূপায় ছিলো, আজও আছে।
সেরকমই "কালান্তর" গল্পটি পড়ে জানা যায়, বাঙলার রেনেসাঁর প্রাণপুরুষ ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর মহাশয়ের পূর্বসুরী এবং ��ংস্কৃত কলেজের সহ-সম্পাদক, বিখ্যাত পন্ডিত শ্রী রামমাণিক্য বিদ্যালংকারকেও প্রবল অনিচ্ছাসত্ত্বেও, তৎকালীন যুগে যবনদের( ইংরেজদের) চাকরি নিতে হয়েছিলো।
আমাদের অনেকেই আছেন জীবনের উচ্চাশা পূরণের জন্য, উন্নত জীবনযাত্রার জন্য, দেশ বা শহর ছেড়ে অন্যত্র বা বিদেশে চাকুরী নিয়ে চলে যান। পরবর্তীতে কারোর হয়তো মনে হয়, এই সিদ্ধান্ত সঠিক ছিলো কি না। নানা দ্বিধা আর দ্বন্দ্ব কাজ করে আমাদের মনে। বা অনেকসময় অন্যকে দেখে মনে হয় সে কত সুখেই না আছে, ওর সবকিছুই কত ভালো, কত সুন্দর, জগতের যত দুঃখ, কষ্ট, খারাপ জিনিস, সব যেন আমার কপালেই জোটে। ঠিক এরকমই অনেকটা ঘটেছিলো পন্ডিত বাণেশ্বর বিদ্যালংকারের, তার বর্ণনা পাবেন " বিদ্যালংকারের বিভ্রাট" গল্পটিতে।
এরকম প্রায় প্রতিটি গল্পই আপনাকে দৈনন্দিন জীবনে চলার পথে অনেক কিছু নতুন করে ভাবতে শেখাবে। এখানেই এই বইটির সাফল্য এবং প্রাসঙ্গিকতা। এই বইটির গল্পগুলি পড়লে সেই যুগের বিখ্যাত পন্ডিতপ্রবর মানুষজনের সাথে, তাঁদের জীবনের নানা সংকটময় মুহূর্তের সাথে আজকের দিনে দাঁড়িয়ে আমাদের মত সাধারণ মানুষ, ভীষণভাবে নিজেদের জীবনের নানা সমস্যাগুলি মেলাতে পারব এবং বেশ কিছু ক্ষেত্রে নানা সমস্যা, দ্বিধা, দ্বন্দ্বের সমাধানের পথ পেয়ে যাওয়াও ভীষণভাবেই সম্ভব বলে মনে হয়।
This entire review has been hidden because of spoilers.
ইতিহাস নিজ বক্ষে বহমান সত্যকে ধরে রাখে। মানুষ তার নিজ গুণে, সঞ্জীবনী শক্তির আশ্রয়ে সেই সত্যের নব রূপায়ণ করে চলে যুগ যুগ ধরে। এই গ্রন্থ সেইরূপ শক্তিসাধনার উন্মোচন ঘটায় যা আমাদের প্রতিনয়ত ভাব আন্দোলনে সামিল হতে বাধ্য করে। ন্যায় সম্প্রদায়ের দিগ্বিজয়ী পন্ডিতগণের সমৃদ্ধ শাস্ত্র, তর্কের পশ্চাতে লুক্কায়িত মনোবৃত্তি, যুক্তি ও আবেগের দ্বন্দ্ব এমনই সূক্ষ্ম বিষয় ধরা পড়েছে প্রতিটি গল্পে। ভাষার ব্যবহারে ও বিষয় নির্বাচনে লেখকের মৌলিকতা এর আগেও প্রমাণিত। তবে দার্শনিক বিষয়ের বিশেষত ন্যায়শাস্ত্রের গভীরে যে জীবনকেন্দ্রিক উপাদান রয়েছে তা সন্মাত্রানন্দ সরল অথচ পরিমিত বর্ণনায় তুলে ধরেছেন। ফিরে ফিরে এসেছেন রঘুনাথ শিরোমণি, সুরেন্দ্রনাথ দাশগুপ্ত, ঈশ্বরচন্দ্র, বিবেকানন্দ,মৈত্রেয়ী দেবী, তান্ত্রিক-ভৈরবী প্রসঙ্গ, চৈতন্য মহাপ্রভু এবং নব্য নৈয়ায়িকদের অননুকরণীয় জ্ঞানচর্চা। এই বই নিঃসন্দেহে একটি অসামান্য গল্পগ্রন্থ যেখানে নিজের জানা-অজানার বিষয়গুলি সাহিত্যের আধারে আরও একবার যাচাই করে নেওয়া যায়। প্রজ্ঞা-শীল-সমাধি, শ্রবণ-মনন-নিদিধ্যাসন এইরূপ চর্চা ও চর্যার সমন্বয়ের ইঙ্গিত মেলে প্রতিটি রচনায়। সময় পেলে অবশ্যই বইটি পড়ুন। সমৃদ্ধ হবেন।
প্রাচীনযুগ থেকে আধুনিককাল, বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত হয়ে ইতিহাসের ঘটনাপ্রবাহে আবর্তিত হয়েছে এই সংকলনের প্রতিটি গল্প। প্রকৃতির বর্ণনা, আধ্যাত্মিকতা, সূক্ষ্ম অনুভূতির মিশ্রনে তৈরী হয়েছে প্রতিটি গল্পের আধার। এক প্রেক্ষাপট থেকে গল্পগুলি যাত্রা করে শেষ হয়েছে আরেক প্রেক্ষাপটে।
ঐতিহাসিক চরিত্র বা ঐতিহাসিক সময়কে ছুঁয়ে যাওয়া এই সংকলনের বারোটি আখ্যান, শুধুমাত্র ব্যক্তি বা ঘটনার কাহিনী বলে না। এই কাহিনীগুলির প্রত্যেকটি, ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটের মধ্যে থাকা মানুষের, সমাজের, সংসারের, জীবনযাত্রার, চেতনার এবং মানসিকতার ছবিগুলি ফুটিয়ে তোলে পাঠকের মনে।
প্রতিটি গল্পের বিষয় খুবই সাধারণ কিন্তু তার বুনন সাধারণ নয়। তবু চিরাচরিত গল্পের ধাঁচ থেকে কিছুটা সরে এসে এই গল্পগুলি কেবল নায়ক বা নায়িকাদের প্রাধান্য না দিয়ে হয়ে উঠেছে আপামর জনমানসের।