তত্ত্বতালাশ (চিন্তামূলক প্রবন্ধের কাগজ) প্রথম বর্ষ, চতুর্থ সংখ্যা, এপ্রিল ২০২২
এ সংখ্যার সূচিপত্র ও সংক্ষিপ্ত রচনা-পরিচিতি নিম্নরূপ:
সুদীপ্ত কবিরাজের সাক্ষাৎকার : ক্রিটিক্যাল চিন্তা মানে নিজেদের চিন্তার মধ্যেও বসে-থাকা ভুলে যাওয়া ভুলের প্রতিবাদ করা : সারোয়ার তুষার ।। পৃ. ৭
[সম্পাদকীয় নোট: ভারতীয় বাংলায় গত শতকের সাতের দশকে আবির্ভূত হয়েছেন বেশ কজন তাত্ত্বিক-লেখক, যাঁরা ঔপনিবেশিক অতীতে বসতি না-করে অথবা ওই অতীতকে বাতিল না করে বর্তমানের সাপেক্ষে পর্যালোচনা করার বহু-বিচিত্র পথ-নির্দেশ করতে পেরেছেন। এঁদের অনেকেই আবার তত্ত্ব, রাজনীতি ও প্রাত্যহিক বাস্তবকে একত্রে সামলানোর হাল-জমানার কলায় ওস্তাদ—তত্ত্ব-দুনিয়ার উপর বাড়বাড়ন্ত দখলের পাশাপাশি তত্ত্বকে ছাড়িয়ে বাস্তবের কেজো তলের তৎপরতায়ও সমান হুঁশিয়ার। সুদীপ্ত কবিরাজ এ প্রজন্মের কামিয়াবদের একজন। এ সাক্ষাৎকারে তিনি হাজির হয়েছেন তাঁর প্রধান এলাকাগুলোর প্রাঞ্জল বিবরণ নিয়ে। সারোয়ার তুষার বরাবরের মতোই সক্রিয় ছিলেন গ্রহীতার ভূমিকায়—দাতাকে বিচরণ করিয়েছেন নির্বাচিত এলাকাগুলোতে। কাজটা তিনি করেছেন নিজের দেশ, অবস্থান আর সময়কে সাথে নিয়ে।]
বাংলাদেশে বিদ্যায়তনিক রচনা এবং ভাষামাধ্যমের প্রশ্ন: আন্তর্জাতিক প্রকাশনা নিয়ে সহকর্মীদের স্থূল বোঝাবুঝি প্রসঙ্গে : মানস চৌধুরী ।। পৃ. ৭৩
[সম্পাদকীয় নোট: একাডেমিক বিদ্যাচর্চা, লেখালেখি, লেখার ভাষা ও প্রকাশনা সম্পর্কে এ লেখায় মানস চৌধুরী বেশ কিছু জরুরি অথচ অনালোচিত আলাপ তুলেছেন। তিনি দেখিয়েছেন, ইংরেজি ভাষায় লেখা ও প্রকাশিত হওয়াকে যেরকম সরল কেতায় ব্যাখ্যা করা হয়, ব্যাপারটা মোটেই সেরকম নয়; এর সাথে দুনিয়ার অর্থ-কাঠামো এবং ক্ষমতা-কাঠামোর হালচাল প্রত্যক্ষত সম্পর্কিত। দামি জার্নাল ও প্রকাশনীর বাড়বাড়ন্ত, ইম্প্যাক্ট ফ্যাক্টর, র্যাং কিং ইত্যাদি আজকালকার একাডেমিক জগতে বেশ কতকটা নতুনত্ব সঞ্চার করেছে বটে, কিন্তু অন্য রূপে ব্যাপারগুলো দু-চার দশক আগেও ছিল–হয়ত আরো কার্যকরভাবে। বরং আন্তর্জাতিকভাবে প্রকাশিত হওয়ার অনেকটা বেবুঝ বাসনার কারণে স্থানীয় ভাষায় একাডেমিক চর্চা, একাডেমিক জগতের দক্ষিণি মৈত্রী ইত্যাদি অনেক জরুরি বর্গ আগের তুলনায় আড়ালে পড়ে গেছে। স্থানীয় ইতিহাসের অনেকগুলো উদাহরণ ব্যবহৃত হওয়ায় লেখাটি বাংলাদেশ-পাঠের কিছু অনালোকিত দিক স্পর্শ করে গেছে।]
প্রতিরোধ-স্বীকৃতি-সম্পর্ক: ১৯৭৪ সালে ভুট্টোর বাংলাদেশ সফর : আলতাফ পারভেজ ।। পৃ. ৯৬
[সম্পাদকীয় নোট: এ লেখার প্রত্যক্ষ উপলক্ষ ভুট্টোর ১৯৭৪ সালের বাংলাদেশ সফর; যদিও আসলে আগ-পরের অন্য বহু পর্যালোচনার মধ্য দিয়ে তাঁর রাজনৈতিক জীবনের বিশেষ পর্ব উন্মোচিত হয়েছে। পুরো ব্যাপারটা ঘটেছে বাংলাদেশের জনগণের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে। বাংলাদেশের ইতিহাসের স্পর্শকাতর নানা এলাকায় ভুট্টো মোটেই নিরীহ চরিত্র নন। পাকিস্তানের সাথে মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী ওই সময়ের সম্পর্কও নিছক কূটনৈতিক সম্পর্ক নয়। আলতাফ পারভেজ ইতিহাস লিখেছেন অন্তর্নিহিত বাস্তব অঙ্কনের প্রত্যয় নিয়ে; আর আর্থিক-রাজনৈতিক-আঞ্চলিক নানা অভিক্ষেপের সাথে সাথে মুক্তিযুদ্ধ ও যুদ্ধ-পরবর্তী নানা বিষয়ে চালিয়েছেন ইতিহাসসম্মত অনুসন্ধান। তাতে একটি বিশেষ যুগের বহু জরুরি দিকের উন্মোচন ঘটেছে।]
এপিনিউট্রিয়েন্ট কি ফয়ারবাখের উক্তির আধুনিক পাঠ? : তোরাব রহিম ।। পৃ. ১২০
[সম্পাদকীয় নোট: একসময় মনে করা হত, মানুষের জিনবাহিত উত্তরাধিকার অপরিবর্তনীয় অর্থাৎ নিয়তির মতো। কিন্তু পরে এ চিন্তার খানিকটা বদল হয়েছে। বহু গবেষণায় দেখা গেছে, মানুষের জীবনযাপনের সামগ্রিক প্রক্রিয়া, বিশেষত খাদ্যাভ্যাস, দেহের সামগ্রিক অভিব্যক্তিতে তাৎপর্যপূর্ণ বদল ঘটাতে পারে। বর্তমান প্রবন্ধে পুষ্টিবিজ্ঞানের গবেষণালব্ধ প্রত্যয় ও প্রতীতি ব্যবহার করে এ সিদ্ধান্তের পক্ষে জোরালো সাক্ষ্য-প্রমাণ হাজির করা হয়েছে। প্রাবন্ধিক এগিয়েছেন বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি ও পরিভাষা রক্ষা করে। সেক্ষেত্রে বিজ্ঞান-বিষয়ক রচনায় ভাষা ও পরিভাষার সমন্বয় ঘটানোর একটা উদাহরণ হিসাবেও প্রবন্ধটিকে দেখা চলে।]
প্রার্থনার অজ্ঞা ও ‘আমি’র আমিরি: অতনু সিংহের ঘুমের চেয়ে প্রার্থনা শ্রেয় কাব্যের সূত্র ধরে : তাহমিদাল জামি ।। পৃ. ১৩৯
[সম্পাদকীয় নোট: সমালোচনা, কাব্যতত্ত্ব ও দর্শনের সুচারু সমাবেশ ঘটেছে তাহমিদাল জামির এই নিমগ্ন প্রবন্ধে। অতনু সিংহের কাব্যগ্রন্থের ‘প্রার্থনা’ শনাক্ত করা প্রবন্ধটির সূচনাবিন্দু। কবিতায় ‘আমি’র যে উন্মোচন ঘটে, তার বৈচিত্র্য তালাশ করা, বলা যায়, লেখাটির বিশ্লেষণ-পদ্ধতি। ওই বিশ্লেষণে কথা আছে—এবং সে কথা সামান্য নয়; তবে তারচেয়ে বেশি আছে নজির। ইকবাল, হুমায়ুন আজাদ, আহমদ ছফা, ফরহাদ মজহার, সলিমুল্লাহ খান প্রমুখের কাব্যলোক ও কাব্যভাবনার সাক্ষ্য-সাবুদ ব্যবহার করে প্রাবন্ধিক এগিয়েছেন তার সংযমী অনুসন্ধানে। তাতে অতনুর কাব্যটিকে চেনা গেছে খানিকটা; আর অনেকদূর খোলাসা হয়েছে কবিতার অন্দরের খোশ-খবর।]
প্যারিসের রাস্তায় এক রুশ আগন্তুক: আলেক্সান্দ্রে কোজেভের হেগেল পাঠের ভূমিকা : সরদার জাহিদ ।। পৃ. ১৫৬
[সম্পাদকীয় নোট: এ প্রবন্ধ ইতিহাসের এক অতি-প্রভাবশালী ‘পাঠে’র পরিচিতি। পাঠক কোজেভ। পঠিত বই হেগেলের ফেনোমেনোলজি অফ স্পিরিট। পাঠ সংঘটিত হয় বিশেষ ঐতিহাসিক মুহূর্তে—ওই মুহূর্তের বিচিত্র অনুষঙ্গ অংশ নেয় পাঠ-ক্রিয়ায়। তাতে অনেকদূর বদলে যেতে পারে জ্ঞানচর্চার চালু প্রবাহ। ফ্রান্সের সমকালীন বিদ্যাচর্চার পটভূমিতে কোজেভ কোন ধরনের ভূমিকা নিয়েছিলেন, আর তার ফলই বা কোন ধারায় গড়িয়েছিল, তার বিশদ বিবরণ আছে প্রবন্ধটিতে। সাথে হেগেলের দুনিয়া-খ্যাত বইটির জ্ঞানগত পরিপ্রেক্ষিত, আর কোজেভের বয়ানে-বিশ্লেষণে কিভাবে তার তাজা নতুনত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল তার তত্ত্বতালাশ। সরদার জাহিদ প্রবন্ধের সন্তোষজনক আকার ও আয়তনের মধ্যে হেগেলের তাৎপর্যপূর্ণ পাঠ উপস্থাপন করেছেন; আর জটিল কাজটা করেছেন তুলনামূলক সহজ ভাষায়।] প্রেমের ইশতেহার : আবীর আহমেদ ।। পৃ. ১৮১