জামশেদ! এক বিচক্ষণ শার্প শ্যুটার, ৮৮’তে সাফ গেমস্ শ্যুটিং কম্পিটিশনের গোল্ড মেডেল বিজেতা। ছোটবেলা থেকে এই এক শ্যুটিং এর প্রতিই প্রচন্ড ঝোঁক ছিলো! তবে এই প্রতিভাই একটা সময় পর তাকে খুনের আসামী তে পরিণত করলো! যদিও সেটা করা সম্পুর্ণ ভাবে যুক্তিযুক্ত ও আবশ্যক ছিলো! তবে সেটা প্রথম ঘটনার ক্ষেএে খুন হিসেবে ধরলেও পরের ঘটনাকে খুন কিংবা হত্যা বলা চলে না! নতুবা ঐ শ্বাপদ থেকে সমাজকে মুক্তি দিতো কে!! শয়তানের পূজারীকে হত্যা না করলে তাকে নিজেই যে বলি হতে হতো শয়তানের জন্য...আর সমাজকেও মুক্ত করা যেতো না ঐ অন্ধকার থেকে। প্রথম খুনের দায় নিয়ে পালিয়ে বেড়ানো জামশেদ পরে বুঝতে পারে কেন সে তার বাবাকে বারবার স্বপ্নে দেখে তাকে বলতে “আসল নকল বিচার করো, আসল নকল বিচার করো!!” শ্বাপদের নামে গ্রামে যে চর্চা চলছে তা আসলেই কি কোনো অপার্থিব হিংস্র জন্তু, না এর পেছনে লুকিয়ে আছে অন্য কোনো ছলচাতুরী!! যা জামশেদ দেখেও দেখতে পারছে না কিংবা বুঝে কুলিয়ে উঠতে পারছে না!
আজ থেকে পাঁচ বছরেরও বেশি আগে, একরকম হঠাৎ করেই হাতে তুলে নিয়েছিলাম একটা উপন্যাস। কোনো প্রত্যাশা ছিল না। লেখকের সম্বন্ধে কিচ্ছু জানতাম না। শুধু নামটা ভারি অদ্ভুত লেগেছিল। গল্পটা এইরকম~ সাফ গেমসে স্বর্ণপদক পাওয়ার পরেও জামশেদের জীবনে শুধু শূন্যতা রয়ে গেছে। নানা সমস্যায় বিধ্বস্ত জামশেদ লুকিয়ে থাকার জন্য চলে এল রংপুরের এক গ্রামে— যেখানে দেখা দিয়েছে পিশাচ... বা কোনো ধূর্ত শ্বাপদ । তার সঙ্গী হল প্যারানরমাল ইনভেস্টিগেটর শিপলু। তারপর কী হল? আমাকে স্তম্ভিত করে দিয়েছিল সেই উপন্যাস। বাংলায় প্রথম পূর্ণাঙ্গ গ্রাফিক নভেল হিসেবে সেটিকেই নতুন করে আবিষ্কার করলাম এবার। কেমন লাগল?
উপন্যাসটির কাহিনি নিয়ে নতুন করে কিছু বলার নেই। আনরিলায়েবল ন্যারেটর, মনস্তত্ত্ব, রক্তাক্ত ইতিহাস, অপরাধ, আর অলৌকিকের আভাস— এই নিয়ে এক অনন্য জায়গায় পৌঁছে গেছিল 'শ্বাপদ সনে'৷ সেই কাহিনি এখানে আরও ছেঁটে, আরও লক্ষ্যভেদী আকারে পরিবেশিত হয়েছে। ছবি স্রেফ অসাধারণ! সাদা-কালো কাজ এমনই হওয়া উচিত। এড্রিয়েন অনীক এই ধরনের কাজের সুর এমন এক স্তরে বেঁধে দিলেন যে আগামী দিনে শিল্পীদের কাছে ব্যাপারটা বিলক্ষণ চ্যালেঞ্জিং হবে। শুধু দু'টি অনুযোগ রয়ে গেল। সেগুলো হল~ ১. বেশ কিছু অংশে লেখার ফন্ট-সাইজ আঁকা, এমনকি স্পিচ-বাবলের মোট জায়গার তুলনায় বড্ড ছোটো হয়ে গেছে। এই ব্যাপারটা পরের কাজে শুধরে নিলে ভালো হয়। ২. বানানের একেবারে শ্রাদ্ধ হয়েছে এতে। এত ভালো একটা কাজ প্রকাশের আগে প্রুফ-চেকিং করিয়ে নেওয়া হয়নি কেন?
আবারও বলি, এ এক গর্ব করার মতো কাজ। গ্রাফিক নভেলের অনুরাগী হলে, আর তারই সঙ্গে সাইকোলজিক্যাল থ্রিলারের প্রতি দুর্বলতা থাকলে, এই বই আপনি উপভোগ করবেনই। আর বই পড়ে যদি হতাশ হন, তাহলে আমিও বলব, "সয় না জ্বালা, তুমি বিনে চইলাম আমি শ্বাপদ সনে...!"
জামশেদ, বিশিষ্ট শিল্পপতি আব্বাস খানের একমাত্র সন্তান। রগচটা, মাথা গরম, অ্যালকোহলিক, বড়লোকের বিগড়ে যাওয়া সন্তান জামশেদ হলো সাফ গেমসে স্বর্ণপদক পাওয়া শার্প শ্যুটার। পিতার মৃত্যুর পর থেকেই পীড়নে তার মানসিক দশা ভঙ্গুর হতে থাকে। দুঃস্বপ্ন হানা দেয় ঘুমের ভেতর আর জেগে থাকলে দেখতে থাকে হ্যালুসিনেশন। সাইকিয়াট্রিস্ট কিছুদিন ঢাকার বাইরে থাকার পরামর্শ দেয়, প্যারানরমাল ইনভেস্টিগেটর বন্ধু শিপলুও দেয় উত্তরবঙ্গের এক অজপাড়াগাঁ এ নিয়মিত হানা দেওয়া কোনো অজানা জন্তুর শিকারে যাবার অফার। কিন্তু জামশেদ রাজি হয় না।
পরবর্তীতে প্রেমিকা আইরিনের টক্সিক এক্স রাশেদের সাথে ঝামেলা হলে জামশেদকে রাশেদের ভাড়া করা সন্ত্রাসী বোমা মজিদ আর তার দলের সাথে বন্দুক যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে হয়। ঝামেলা থেকে বাঁচার জন্যে শিপলুর সাথে কাজিন সামাদকে নিয়ে উত্তরবঙ্গের প্রত্যন্ত অঞ্চল জগনান্দপুরে হাজির হয় সে। নব্বই দশকেও আধুনিক যুগের ছোঁয়া সেখানে খুব একটা লাগে নি। বদ্ধভূমি আর ঘন জঙ্গল দিয়ে আবদ্ধ সে গ্রাম। আর জঙ্গল থেকে এক অজানা জন্তু নিয়মিত হানা দিয়ে গরু-ছাগলের পাশাপাশি একাধিক মানুষকেও মেরে ফেলেছে। যদিও গ্রামের মানুষদের মতে এগুলো কোনো ভয়ংকর পিশাচের কাজ।
দক্ষ বন্দুকবাজ হওয়ায় জন্তুটা শিকারের কাজে লেগে পড়ে জামশেদ। অন্যদিকে মাসিক হালচাল পত্রিকায় দেশের নানান প্রান্তে ঘটে যাওয়া অতিপ্রাকৃত ঘটনা দিয়ে ফিচার লেখা সাংবাদিক শিপলু, যার বিশ্বাস তার নিজেরও কিছুটা অতিপ্রাকৃত ক্ষমতা রয়েছে, আভাস পাই ভয়ংকর কিছুর। মুক্তিযুদ্ধের গণহত্যার সাক্ষী এই প্রত্যন্ত গ্রামে কোন শ্বাপদ তার বিষাক্ত শ্বাস ফেলছে? কেনই বা জামশেদকে তার বাবা স্বপ্নে বারবার সাবধান করে বলছে "আসল নকল বিচার করো"? কিভাবে একটা অপয়া ছায়া গ্রাস করে নিয়েছে জগনান্দপুর গ্রামকে, আর কিভাবেই বা ঘটবে এসবের সমাপ্তি? নাবিল মুহতাসিমের লেখা হরর থ্রিলার বই অবলম্বন এড্রিয়েন অনীকের আঁকা গ্রাফিক নভেলে পাওয়া যাবে সবকিছুর উত্তর।
বর্তমান সময়ে বাংলা কমিক জগতে আমার মতে সবচেয়ে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে এড্রিয়েন অনীকের গ্রাফিক নভেলগুলো। বাংলা সাহিত্যের বেশ কিছু ভালো আর ম্যাচিউরড গল্প যখন যথাযথ পরিসরে দক্ষ আর্টওয়ার্কের মাধ্যমে ফুটে উঠে, একজন কমিক-বুক ফ্যান হিসেবে গ্রাফিক বাংলা পাবলিকেশনের উন্নত মানের প্রোডাকশনে সেই কাজের স্বাদ নেওয়ার চেয়ে উপাদেয় আর কিছু নেই। এর আগে নাবিল মুহতাসিমের স্পাই-অ্যাকশন থ্রিলার জনরার বাজিকর বইয়ের গ্রাফিক নভেল অ্যাডাপ্টেশনটা আমার অসাধারণ লেগেছিল। তাই গ্রাফিক বাংলা পাবলিকেশনের বাকী গ্রাফিক নভেলগুলো সংগ্রহে নিতে একটুও দ্বিধা বোধ করি নি।
'শ্বাপদ সনে' গ্রাফিক নভেলটা নাবিল মুহতাসিমের প্রথম উপন্যাস অবলম্বনে বানানো। সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার আর সুপারন্যাচারাল হরর জনরার মিশ্রণে এর গল্পটা লেখা। গল্প আবর্তিত হয় এর মূল চরিত্র জামশেদ আর তার আশেপাশের কিছু চরিত্রকে ঘিরে। জামশেদের জবানীতে তার জীবনে ঘটতে থাকা ভয়ংকর সব ঘটনা, সেইসাথে তার বন্ধু শিপলুর কিছু কেস স্টাডি (মাসিক হালচাল পত্রিকায় অতিপ্রাকৃত ঘটনা নিয়ে লেখা ফিচার) নিয়ে গল্প এগিয়েছে।
একটা সাইকোলজিক্যাল হরর কমিক হিসেবে 'শ্বাপদ সনে' এর গল্পটা খারাপ না। এরকম প্যারাসাইকোলজির সত্য-মিথ্যা দ্বিধার সাথে বাস্তব জগতে ঘটে যাওয়া ব্যাখ্যার অতীত ভয়ংকর গল্প নিয়ে বাংলায় কমিকস আগেও হয়েছে, তবে এতো ডিটেইলড আর বড় পরিসরের কাহিনী এবং জামশেদের মতো এতটা ধূসর আর সাইকোলজিক্যালি আনরিলায়েবল প্রোটাগনিস্ট নিয়ে গল্প তাতে পাওয়া যাবে না। গল্প একেবারে শুরু থেকে আগ্রহোদ্দীপক আর গতিশীল ছিল।
গল্প মূলত শুরু থেকে কিছুটা খন্ডাকারে এগিয়েছে। জামশেদের জবানবন্দি আর শিপলুর কেসস্টাডি দিয়ে সাজানো গল্পের খন্ডগুলোকে একটু ধীরে ধীরে বিল্ডআপ করে ডার্ক আর ইনটেন্স বানানো হয়েছে। বিল্ডআপ দিয়ে গল্পের হরর ওয়ার্ল্ড কিংবা অ্যাকশন দৃশ্যের সেটআপ সবই গড়ে তোলা হয়েছে ভালোভাবে। দুই-তিনটে অ্যাকশন দৃশ্য ছিল যেগুলো উপভোগ্য। রহস্যভেদ আর টুইস্টগুলো একটু গতানুগতিক হলেও ভালো ছিল। যদিও লেখকের অন্যান্য বই পড়া থাকলে আর গল্পের ধরণ বিবেচনা করলে টুইস্টগুলো কি তা আন্দাজ করা বেশী কঠিন হবে না, তবে বাংলা কমিকস হিসেবে দেখলে বেশ ভালো। 'শ্বাপদ সনে' বইয়ের যে সংলাপ কিংবা বর্ণনাগুলো এই গ্রাফিক নভেলে ব্যবহার করা হয়েছে সেগুলো বেশ লেগেছে। বিশেষ করে রংপুরের আঞ্চলিক ভাষার সংলাপগুলো আর লেখকের নিজেরই লেখা বাউল সঙ্গীতখানা এক কথায় দারুণ।
শেষদিকে গল্পকে একটু ওপেন এন্ডেড সাইকোলজিক্যাল থ্রিলারের মতো বানিয়েছেন লেখক। যদিও সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার হিসেবে 'শ্বাপদ সনে' এর গল্পটা কিছু ক্ষেত্রে দূর্বল হয়ে পড়ে। মূলত জামশেদ বাদে অন্যান্য চরিত্রগুলোকে মনস্তাত্ত্বিকভাবে সেভাবে ডেভেলপ করতে না পারার কারণে এটা হয়েছে (বিশেষ করে একটা চরিত্রের ভালো মনস্তাত্ত্বিক চরিত্রায়ন প্রয়োজন ছিল, ���বে লেখক মূলত টুইস্টের জন্যে সেটা করেন নি)। আর থ্রিলার হিসেবে গল্পের গঠন আরও ভালো হওয়া দরকার ছিল। এটার অভাবে বারবার গল্পের প্রতি খন্ডের মোড় পরিবর্তন বিরক্তিকর ঠেকবে, কিংবা টুইস্টগুলোকে মনে হবে আরোপিত।
তাছাড়া একটা সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার বইয়ে লেখক চরিত্রের মনের অবস্থাকে গদ্যের দ্বারা যেভাবে দেখাতে পারেন, ভিজ্যুয়ালি সবসময় সেটা করা যায় না। তাই বোধহয় চরিত্রদের মনস্তাত্ত্বিক গঠনের ক্ষেত্রে গ্রাফিক নভেলটা মূল বইয়ের চেয়ে দূর্বল। একারণে গ্রাফিক নভেলের পাশাপাশি পিডিএফে মূল বই-টাও পড়ছিলাম। আর গল্প হিসেবে শিপলুর কেস স্টাডিগুলা আহামরি কিছুই হয় নি, শুধু 'রিগর মর্টিস' গল্পের আইডিয়াটা মোটামুটি ভালো ছিল। এবার আসি আর্টওয়ার্কের ব্যাপারে। এক কথায় যদি বলি, এটা পড়ে আমি একইসাথে মুগ্ধ আবার হতাশও। কারণটা ব্যাখ্যা করছি।
এড্রিয়েন অনীকের একেবারে লেটেস্ট কাজটা বেশী দিন হয় নি আমি পড়েছি। নাবিল মুহতাসিমের 'বাজিকর' অবলম্বনে সেই গ্রাফিক নভেলে তিনি এককথায় দূর্দান্ত কাজ দেখিয়েছেন। তাই 'বাজিকর' এর বহু আগে প্রকাশিত আর্টিস্টের প্রথম গ্রাফিক নভেল 'শ্বাপদ সনে' পড়ার সময় বারবার বাজিকরের অসাধারণ আর্টওয়ার্কগুলো মাথায় ভেসে আসছিল। এমনকি পাশাপাশি বই দুটি রেখে তুলনাও করেছি।
জানি তুলনাটা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। কারণ একে তো বই দুটির জনরা এক নয়, তার উপরে একজন শিল্পী ক্রমাগত প্র্যাক্টিস করেই আগের কাজ বেটার কাজ উপহার দেয়, এটা জানা কথা। কিন্তু সেই বেটার কাজ অলরেডি পড়ে ফেলার কারণেই এই গ্রাফিক নভেলের কিছুটা দূর্বল আর্টওয়ার্ক, কনসিস্টেন্সির অভাব, কম্পোজিশনে ক্রপিংয়ের জন্য ঝাপসা করে ফেলা, লং শটে অতিরিক্ত সরলীকরণ আর ডিটেইলিংয়ের অভাব অনেক চোখে লেগেছে। সেইসাথে ছবির সাথে ডায়লগ বক্সের অসামঞ্জস্যতা আর তাতে বেশী লেখা আটাতে গিয়ে লেখা অতিরিক্ত ছোট করে ফেলা, প্যানেলগুলোর দূর্বল ফ্রেমিং দেখে হতাশ হতে হয়।
যদি এই গ্রাফিক নভেলটা আমি সবার আগে পড়তাম, তাহলে হয়তো আর্টিস্ট আস্ত বই অবলম্বনে প্রায় চারশো পৃষ্ঠার কমিকস এঁকেছেন দেখে সব ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখতাম। কিন্তু যেহেতু আমি আর্টিস্টের বেটার কাজ পড়েই ফেলেছি, তাই হতাশও হয়েছি বেশি। তবে এটা কি প্রশংসার ব্যাপার নয়? আর্টিস্ট তার প্রথম কাজের (গ্রাফিক নভেল হিসেবে) দূর্বলতার বেশীরভাগই কাটিয়ে উঠেছেন তার ৪র্থ কাজে। তার আর্টওয়ার্ক এর উন্নতি চোখে পড়ার মতো। এতে তো বোঝাই যায়, ভবিষ্যতে এড্রিয়েন অনীক আমাদের আরও অনেক ভালো মানের কাজ উপহার দেওয়ার পোটেনশিয়াল রাখেন।
আর একেবারে সবই যে খারাপ লেগেছে তা নয়। অনীক গল্পের প্রায় সব দৃশ্যগুলোকেই মোটামুটি ভালোভাবে চিত্রিত করেছেন। উত্তরবঙ্গের দৃশ্যায়নও বেশ ভালো হয়েছে। অ্যাকশন দৃশ্যগুলোর গঠনও যথাযথ হয়েছে, যাতে মূল গল্পের ইন্টেন্সিটিটা ফুটে উঠেছে। তবে আর্টিস্ট আসল দক্ষতা দেখিয়েছেন হরর পোর্শনগুলো দৃশ্যায়নে। এর আগেও ঢাকা কমিকসের 'পিশাচ কাহিনি' সিরিজের মাধ্যমে তিনি হরর কমিকস এঁকেছেন দক্ষভাবে, যার প্রভাব এই গ্রাফিক নভেলেও দেখতে পাওয়া যায়।
গল্পে আসা নানা মন্সটার, সুপার ন্যাচারাল এন্টিটিদের বেশ গোর, ভায়োলেন্ট আর ডিস্টার্বিংভাবেই এঁকেছেন তিনি, যা হরর দৃশ্যগুলোকে শক্তিশালী করে। একারণে শিপলুর কেস স্টাডির টিপিক্যাল ভূত এফএম মার্কা গল্পগুলোও গ্রাফিক নভেলে বিশেষ হয়ে ওঠে। সেইসাথে রাতের অন্ধকারের দৃশ্যগুলোর কালার গ্রেডিংটা বেশ ভালো হয়েছে। আর যেহেতু গল্পটা সাইকোলজিক্যাল, সেই হিসেবে আর্টিস্টকে চরিত্রদের অভিব্যক্তি নিয়ে কাজ করতে হয়েছে। আমার মতে সেটা তিনি মোটামুটি ভালোভাবেই সম্পন্ন করতে পেরেছেন। সবমিলিয়ে বলবো 'শ্বাপদ সনে' গ্রাফিক নভেল আমার মোটামুটি ভালোই লেগেছে। বেশ কিছু নেতিবাচক দিক যে ছিল না তা নয়, সেইসাথে আমার পড়া লেখক-আঁকিয়ে জুটির অন্য গ্রাফিক নভেলটা থেকেও অনেক দূর্বল। তবে সত্যি বলতে, বাংলা ভাষায় এমন মানের গ্রাফিক নভেলও খুব বেশি নেই। একারণে মোটামুটি ভালো মানের কমিকসও বাংলায় পড়লে অনেক বেশী ভালো লাগে।
নাবিল মুহতাসিম এর উপন্যাসটি গ্রাফিক নোভেলে রূপ দেওয়া সহজ কাজ ছিল না মোটেও। তবে সেই কাজটি অসাধারণ ভাবে করেছেন এড্রিয়েন অনীক।
হয়তো এর থেকে বেটার করা সম্ভব ছিল না। প্রথম থেকেই আমার অনেক এক্সপেক্টেশনস ছিল বইটার উপর। তবে তার উপরেও স্যাটিসফিকশন পাওয়া এটা সত্যিই রেয়ার।
গল্পের টার্নে টার্নে ছিল মার প্যাচ আর বুদ্ধির খেলা পাঠকদের জন্য। তবে গল্প যতটা না টেনেছে তার থেকে অনেক বেশি টেনেছে আর্টওয়ার্ক। এই দারুন আর্টওয়ার্ক করেছে শ্বাপদ সনে কে অসাধারণ।
তবে বই এর প্রডাকশন নিয়ে কথা না বললেই না৷ কমপ্লিট প্যাকেজ। পুরাপুরি প্রিমিয়াম ফিল দিয়েছে। Graphic বাংলা কে ধন্যবাদ এত দারুন কাজ করার জন্য।
প্রমিনেন্ট ইনডাস্ট্রিয়ালিস্ট আব্বাস রহমান খানের একমাত্র সন্তান জামশেদ। একসময়ের সাফ গেমসে শুটিং ক্যাটাগরির গোল্ড মেডালিস্টের জীবন তাঁর বাবার দুর্ঘটনায় মৃত্যুর পর কেমন জানি ছাড়া ছাড়া হয়ে যায়। ধনী ব্যক্তির সন্তান জামশেদ তাঁর কাজিন ডাক্তার সামাদ এবং অকাল্টের প্রতি অত্যন্ত প্যাশনেট, চলন্ত ট্রিভিয়া সাংবাদিক বন্ধু শিপলুসহ এক বড় বিপদে পরেন। এর আগে অবশ্য জামশেদের সাফ গেমস শুটিং কোচ খালেকুজ্জামান তাঁকে সাবধান করে যান যাতে জামসেদ আসল নকল বিচার করে। ডোপ টেস্টে ধরা খেয়ে অলিম্পিকে যাওয়ার সব প্রস্তুতির পরও ছিটকে পড়া এই শুটার তেমন কিছু বুঝে উঠতে পারে না এই প্রাক্তন কোচের কথাবার্তা।
বিভিন্ন মানসিক সমস্যা, অদ্ভুত সব স্বপ্ন এবং হ্যালুসিনেশনে ভুগা জামশেদ দেরিতে হলেও সাইক্রিয়াটিস্টের কাছে যান। জেদী, বদরাগী, ঘারত্যাড়া জামশেদ কারো চিকিৎসকের কথাও শুনতে রাজি না। জীবনে এমন সব দুঃস্বপ্নের মতো স্মৃতি আছে এই গোল্ড মেডালিস্টের যে তাঁর এরকম খিটখিটে হয়ে যাওয়াটাই মনে হয় অবধারিত ছিল। আনফেইথফুল গার্লফ্রেন্ডের সন্ত্রাসী এক্সের সাথে গন্ডগোলে জড়িয়ে যান কাজিন সামাদ ও সাংবাদিক বন্ধু শিপলুসহ। ঘটনাচক্রে বেশ কিছু লাশ পড়ে। জামশেদ, সামাদ ও শিপলু মার্ডার কেইসে গ্রেফতার এড়াতে ঢাকা থেকে পালিয়ে যান।
এক চলন্ত এনসাইক্লোপিডিয়া শিপলু ছোট বেলা থেকেই ভৌতিক, অকাল্ট এবং পরাবাস্তব বিষয়ের প্রতি অনুরক্ত। এসব বিষয় নিয়ে এত রিসার্চ এবং ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা শিপলুর আছে যে তাক��� বাংলাদেশে বিষয়গুলোর উপর লিডিং অথরিটি বলা যেতে পারে। যদিও জামসেদের কাছে এসব হাস্যকর ব্যাপার-স্যাপার।
ঢাকা থেকে পালিয়ে যে ভূতুড়ে অজপাড়াগাঁয়ে তিনজন গিয়ে পৌছান সেখানে না গিয়ে মনে হয় খুনের দায়ে জেল খাটা আরো ভালো হত। ৭১ এর গনহত্যার স্বাক্ষী এই গ্রামে কোন এক অজানা স্বাপদের শিকার হচ্ছেন একের পর এক নিরীহ মানুষ। শিশু থেকে শুরু করে নারী কেউ এই ভৌতিক প্রাণী থেকে রক্ষা পাচ্ছে না। নিজের সাথে সবসময় থাকা এলকোহল, বন্দুক, বন্ধু ও কাজিনসহ সাফ শুটিং গোল্ড মেডালিস্ট নেমে পড়েন স্বাপদ শিকারে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে গ্রামের পুলিশের আচরণ এত অদ্ভুত কেন? গ্রামবাসীও কি কিছু লুকাতে চায়? স্বাপদ হোক বা কোন বাঘ বা শিয়াল, সেটার শিকার করতে গিয়ে নিজেদের অজান্তেই ঐ তিনজন কি শিকারে পরিণত হতে যাচ্ছেন?
লেখক নাবিল মুহতাসিমের নাম অনেকবার শুনেছি। পেশাগত জীবনে চিকিৎসক এবং বর্তমান সময়ের তরুন লেখকদের মধ্যে খুব সম্ভবত সেরা পাঁচ বা দশে আছেন বলে শুনেছি। তবে তাঁর লিখা "স্বাপদ সনে" বাতিঘর প্রকাশনী থেকে বই আকারে ২০১৬ সনে প্রকাশ পায় এবং ভারতের অভিযান পাবলিশার্স থেকে ২০১৯ সনে প্রকাশ পায়। নাবিল মুহতাসিমের এই গল্পের গ্রাফিক নভেল ফরম্যাট খুব ভালো লেগেছে। লেখনীতে একটা ইন্টেন্সিটি আছে। তরুনদের মধ্যে এগিয়ে এসে গ্রাফিক নভেলের মতো ভালো মাধ্যমে কাজ করার জন্যে তাঁকে ধন্যবাদ। গল্পে গ্রামের এক বাউলের গান আছে যেটার লিরিক লেখক যেভাবে লিখেছেন তা অনেকদিন মনে থাকবে। নাবিল মুহতাসিম একজন ব্রিলিয়ান্ট রাইটার।
কমিক্স আর্টিস্ট এড্রিয়ান অনীকের অঙ্কনের আমি বিগ ফ্যান সেই পিশাচ কাহিনি সাগা থেকেই। হরর স্টোরি অঙ্কনে শিল্পীর মুন্সিয়ানা আছে বেশ। এছাড়া হরর সিকোয়েন্স ছাড়াও ফুল স্টোরিতে দুর্দান্ত আর্ট করেছেন এই শিল্পী। থ্রিলারের থ্রিল বলুন বা হররের চিল, এড্রিয়ান অনীক অঙ্কনের মাধ্যমে আপনার মনোজগতে ভালোই ধাক্কা দিতে পারেন।
গল্প দুই ধরনের অধ্যায়ে ভাগ করা।
১) জামশেদের জবানবন্দি
২) শিপলুর জার্নাল
এখানে লেখক কয়েক লেয়ারে গল্প লিখেছেন। পাঠকের জন্যে অপশন রেখেছেন যেকোন একটা বেছে নিতে। দু'টি অপশনের যেকোন একটি পাঠক নিজের চিন্তার মাধ্যমে সঠিক মনে করতে পারেন। পাঠকের প্রতি এরকম চয়েস দিয়ে দেয়াটা খুব ভালো লেগেছে। এন্ডিং পাঠক নিজ বিবেচনায় বেছে নিতে পারবে। অসাধারণ এক প্রচ্ছদ করেছেন শিল্পী সেই সাথে ৪০০ পৃষ্ঠার গ্রাফিক নভেল প্রি-অর্ডারে মাত্র ৩০০ টাকায় পেয়ে ( জানি না এই অফার এখনো আছে কিনা) আমি বলতে গেলে সারপ্রাইজড হয়েছি। বইয়ের সামনের ফ্ল্যাপে যে কথাগুলো ছিল প্রথমে বুঝতে পারিনি সেসবের অর্থ, জামশেদ কি পেরেছে? পাঠক আপনি কি পারেন? কারণ ফ্ল্যাপে লিখা ছিল,
শ্বাপদ সনে বইটা আগেই পড়েছি। এবার পড়ে ফেললাম গ্রাফিক নভেলটা। প্যারানর্মাল ইনভেস্টিগেটর শিপলুর কেস স্টাডিগুলো সবসময়ই পছন্দ আমার। ভয়ের একটা ব্যাপার থাকে ওগুলোতে। শ্বাপদ সনে গ্রাফিক নভেল পড়তে গিয়ে আবারও রিভাইস করা হল কেস স্টাডিগুলো। এবার সেইসাথে শিল্পীর তুলিতে জীবন্ত হয়ে উঠেছে শিপলু, জামসেদরা। আর্টিস্ট দুর্দান্ত কাজ দেখিয়েছেন পুরো উপন্যাসটা গ্রাফিক নভেলে কনভার্ট করতে গিয়ে। বোঝাই যাচ্ছে কতটা প্যাশনেট ছিলেন তিনি, পরিশ্রমও করতে হয়েছে প্রচুর। মূল বইয়ের মতই কাহিনী টানটান ছিল, আর আঁকাও পরিষ্কার ও সুন্দর। কোথাও বুঝতে অসুবিধা হয়নি। যারা কমিকস/গ্রাফিক নভেল ভালোবাসেন অথবা যাদের শ্বাপদ সনে বইটা ভালো লেগেছিল তারা মাস্ট ট্রাই করবেন।
The plot line was alright but I think the suspense needed more crafting and articulation. It needed more elements of thrill to make it more exciting as it falls under suspense thriller. The artwork was unexpectedly of good quality but the expressions of the characters lacked emotions (for example, all the characters looked serious all the time for no reason or, even though the script is saying a character is scared but their face looks complete opposite of it). There were multiple grammatical errors and lastly, at the end of the book It was sort of confusing (too much mixture of political elements into the actual story).
রাত ৪ঃ২৯ দুই বসায় শেষ করলাম ৪০০ পেইজের এই গ্রাফিক নভেল। এত সুন্দর একটা বই আর আর্টওয়ার্ক গুলো এত জোস হয়েছে মনে হচ্ছিল মাংগা পড়ছি! ইভেন বইটা কিনার পর প্রথম কয়েকদিন পড়তে বসাই হয়নাই, শুধু দেখে গেছি একেকটা পেইজ 🖤 এড্রিয়েন অনিক প্রশংসার দাবিদার! প্লট স্টোরি বা টুইস্ট আশানুরূপ হোক আর না হোক (শেষে একটু আশাহত আমি, সাদামাটা এন্ডিং লেগেছে) বইটা এক বসায় পড়ার মত, হরর ফিলটা ভালোমতই পাচ্ছিলাম, বোর হয়ার চান্স নাই। কিছু জায়গায় বানান ভুল হয়ত পরের এডিশনে ঠিক করে নেয়া হবে! আর লেখক পরিচিতি টা ছিল বেস্ট। যাইহোক বছরের শুরুটা এই বই দিয়ে শুরু হলো, আশা করি বই পড়ার বাকি এক্সপেরিয়েন্সগুলো ভালোই কাটবে ইনশাআল্লাহ
রিভিউ পড়লে জানতে পারবেন শ্বাপদ সনে আমার বেশ পছন্দের একটা কাজ, যদিও নাবিল মুহতাসিমের সবথেকে জনপ্রিয় বইগুলোর মাঝে এটা নেই। তাও ভিজুয়ালাইজ করার মতো অনেক কিছু ছিল বইটাতে, গল্পটাও একদম টানটান, তার সাথে হরর/প্যারানরমাল, সাসপেন্স, মিস্ট্রি, থ্রিলার অনেকগুলো জনরার ছোঁয়া আছে। তাই যখন জানতে পেরেছিলাম আস্ত উপন্যাসটার গ্রাফিক নভেল হতে যাচ্ছে, যারপরনাই খুশি হয়েছিলাম। তাছাড়া, এমন কলেবরের কাজ বাংলাদেশে আগে ঘটেনি।
ফিডব্যাক :
> আর্ট : অনিক সরকারের কাজ আমার খুবই পছন্দ। কিন্তু শ্বাপদ সনে'র কাজ আমার সব মিলিয়ে পছন্দ হয়নি। অনেক কাজ বলে তাড়াহুড়ো লক্ষ্য করা গেছে, অনেক জায়গায় ডিজিটালি কপিপেস্ট করা বলে মনে হয়েছে। তাছাড়া যে স্কেলে ছাপা হয়েছে, ওই স্কেলে আঁকা-ও হয়নি অনেক জায়গায়, যার কারণে পিক্সেলেটেড দেখা গেছে সেগুলো। এনাটমিকালি ভুল ছিল কোনো জায়গার আঁকা, চেহারা হয়েছে ত্যাড়াব্যাঁকা। রঙও সবটা জুড়ে একরকম ছিল না। কাজটাকে কেবল এই বলে মাফ করে দেওয়া যায় যে এত বড় কলেবরে করতে গিয়ে আর্টিস্ট সময়ের সাথে কুলিয়ে উঠতে পারেননি।
> গল্পকে ধারণ করা : এই জায়গায় অনেকাংশে সফল হয়েছে গ্রাফিক নভেল-টা। গল্পের যেসব জায়গায় থ্রিল ছিল, গতি ছিল, ভালভাবে ফুটে উঠেছে গ্রাফিক নভেলেও। বিশেষত শিপলু'র যে গল্পগুলো আছে, সেগুলোর দারুণ চিত্রায়ন হয়েছে। তবে সাসপেন্সের ঘাটতি ছিল এখানে, আর্টিস্ট তাঁর আঁকায় ঠিক ফোটাতে সাসপেন্স-টা।
> বর্ণবিন্যাস : একেবারেই লেজেগোবরে। এক পৃষ্ঠার একেক জায়গায় একেক সাইজের একেক রকম ফন্ট। আর যেসব জায়গায় পৃষ্ঠাজোড়া বড় ফন্ট এসেছে ইফেক্টের জন্য, তাঁর অনেকগুলোই পিক্সেলেটেড।
> ছাপা : গ্রাফিক নভেল বা কমিক এইখানেই ঝামেলায় পড়ে, কেমন মাপে ছাপা হলো, কোথায় ছাপা হলো। আমার মনে হয়েছ�� শ্বাপদ সনে গ্রাফিক নভেলের ক্ষেত্রে একটা গুরুতর মিসকমিউনিকেশন ঘটেছে। একই পৃষ্ঠার কিছু আর্টওয়ার্ক সূক্ষ্ম, কিছু ভোঁতা। ফন্টের কথা তো বলেছি।
> শেষ কথা : আর্টিস্টের আঁকা নিয়ে আক্ষেপ যত না (শুধু কিছু ক্ষেত্রে এনাটমি ছাড়া), তারচে বেশি, পুরোটা জুড়ে ফন্টে, সূক্ষ্মতায়, রঙে আর আর্ট স্টাইলে খাপছাড়া ভাব নিয়ে আক্ষেপ বেশি। জানামতে, আর্টিস্ট আরো উপন্যাস নিয়ে কাজ করতে যাচ্ছেন। ভবিষ্যতে পুরোটা জুড়ে ইউনিফায়েড কাজ দেখব এটা আশা করি। বিশেষত, কোথায় লেখা বসবে, থট বাবল / ক্যাপশন কতটা জায়গা নিবে এগুলো যদি আগে থেকে ঠিক করা হয়, এবং বর্ণবিন্যাসে কম্পিউটার ফন্ট ব্যবহার না করা হয়, তবে আমার অন্তত দেখতে ভালো লাগবে।
এইরকম পূর্ণাঙ্গ একটা উপন্যাসের গ্রাফিক নভেল বাংলাতে এত তাড়াতাড়ি হবে এবং এই রকম অসাধারন হবে ভাবতেও পারি নাই। যেহেতু মূল বইটি আমার আগে পড়া ছিল না তাই আরো চমৎকার লেগেছে। এক অন্য জগতে নিয়ে যাবার মত সামর্থ্য আছে বইটির। সর্বশেষ অতলান্ত পড়ে এমন অনুভূতি হয়েছিল। এড্রিয়েন অনীক ভাইয়ের পিশাচ কাহিনীর আর্টওয়ার্কও মুগ্ধ করেছিল, কিন্তু এইটাই উনি নেক্সট লেভেলে নিয়ে গেসেন বইটাকে। বিশেষ করে হরর সিক্যুয়েন্সগুলো অসাধারণ। কাহিনী নিয়ে কিছু জায়গায় এবং বিশেষ করে শেষ নিয়ে একটু আপত্তি থাকলেও দুর্দান্ত আর্টওয়ার্ক সব ভুলিয়ে দিয়েছে। বইটি আরো আলোচিত হওয়া উচিৎ।
বছর দুয়েক আগে বাংলাদেশের একটি থ্রিলার উপন্যাস প্রায় গোগ্রাসে গিলেছিলাম.... উপন্যাসটির নাম ‛শ্বাপদ সনে’। সেই থেকে এখনো অবধি আমাকে কেউ আমার প্রিয় থ্রিলার উপন্যাসের নাম জিজ্ঞেস করলে আমি নির্দ্বিধায় বলি ‛শ্বাপদ সনে’।
যখন শুনলাম সেই উপন্যাসের গ্রাফিক নভেল তৈরি হচ্ছে, রীতিমতো চমকে উঠেছিলাম । এইরকম একটি দুর্দান্ত থ্রিলার উপন্যাসকে কমিকসের পাতায় ফুটিয়ে তোলা রীতিমতো চ্যালেঞ্জিং... কিন্তু এড্রিয়েন অনীক সেই চ্যালেঞ্জিং কাজটিই করে ফেলেছেন ভীষণ সুনিপুণভাবে ।
বিশ্বাস করুন বাংলা ভাষায় এইরকম গ্রাফিক নভেল আর তৈরি হয়েছে কিনা তা আমার অন্তত জানা নেই । দুর্দান্ত ইলাস্ট্রেশনস্ এবং অসম্ভব সুন্দর প্রোডাকশন, সবমিলিয়ে ৪০০ পাতার এই গ্রাফিক নভেলটি একটি ‛কালেকটরস্ আইটেম’ হয়ে থাকবে ।
▫️বইটির জন্য 10টি তারা... 5টি তারা নাবিল মুহতাসিমের লেখার জন্য, 5টি তারা এড্রিয়েন অনীকের জন্য ❣️
১* বাংলা ভাষায় প্রথম এই কাজ গ্রাফিক নভেলের। শিল্পীকে কুর্নিশ। প্রকাশনীকে সেলাম।
২* শিল্পীর আঁচড়ে জীবন্ত ছবিগুলির টানে যে দৃষ্টিসুখ,তার কাছে এবং নাবিল ভাইয়ের বিখ্যাত এই কাহিনির টানে বানানের বেশ কিছু ভুল দৃষ্টিকটু হলেও পাঠকের কাছে গৌণ হয়ে যায়।
৩* এবং যা না বললে পাঠক হিসাবে ঘোর অন্যায় হবে, 'গ্রাফিক বাংলা'র অনবদ্য প্রোডাকশন! ৫০০ টাকায় এই প্রোডাকশনের বই এপার - ওপার, কোন বাংলাতেই ভাবা যায় না। কীভাবে সম্ভব!
শুধু এই তিনটি কারণ মাথায় রেখেই ৪০০ পাতার এই সুবৃহৎ গ্রাফিক নভেলকে ৫'তারা দিলাম। ভিনদেশী এই ৫'তারা, বাংলাদেশের জনৈক প্রতিভাবান শিল্পী, এড্রিয়েন অনীকের উদ্দেশ্যে, কলকাতা থেকে এক পরিতৃপ্ত পাঠকের উপহার...
বাংলা ভাষায় এরকম কাজ আরো আসুক। কলকাতা, বইপাড়া, কলেজস্ট্রিট — আপনারা নড়েচড়ে বসুন। It's high time!
আমার পড়া প্রথম বাংলা গ্রাফিকাল নভেল। প্রোডাকশন থেকে শুরু করে লেখনী সবকিছু চমৎকার হয়েছে। এতো সুন্দর ভাবে আর্টওয়ার্ক করা হয়েছে যা দেখে আসলেই মুগ্ধ হয়েছি। আমার কাছে সবথেকে মজার ব্যাপার ছিল যে, আমি আগে বইটি পড়ি নি যার জন্য অনেক বেশি ইনজয় করেছি। একই সাথে গল্প পড়ে এবং আর্টওয়ার্ক এর মাধ্যমে গল্পের কথোপকথন নিজের চোখের সামনে ভিসুয়ালাইজ করে। আমার অভিজ্ঞতা বেশ টান টান উত্তজনায় ভরপুর ছিল। লেখক নাবিল মুহতাসিম ভাই এবং আর্টিস্ট এড্রিয়েন অনীক ভাইকে জানাই সাধুবাদ , উনাদের কঠোর পরিশ্রমের ফলেই এত চমৎকার বাংলা গ্রাফিকাল নভেল আমরা হাতে পেয়েছি। অবশ্যই আমি সবাইকে রিকমেন্ড করবো নোভেলটি পড়ার জন্য , আশা করি ভালো লাগবে। হ্যাপি রিডিং
Bought this graphic novel without even reading the synopsis just because of the great artwork and I was not disappointed at all. A nice horror/mystery thriller with a twist in the end. Loved the local context of the artwork. However, a note to the publisher, there were many spelling and grammatical errors and repetition in multiple places. Needs better proof check.
এমন বৃষ্টিভেজা আবহাওয়ায় গা ছমছমে ভৌতিক বর্ণনা গুলো পড়ে মজা পেয়েছি। যদিও আমি একদমই হরর পড়ি না, প্রচুর ভয়ের অভিজ্ঞতা হয়েছে ইতিপূর্বে, তারপরো ভৌতিক বর্ণনাগুলো দেখেও গ্রাফিক নোভেল হওয়াতে পড়ার লোভ সামলাতে পারিনি।অনেকদিন পর একটানা বসে একটা বই পড়ে শেষ করলাম। গল্পের প্লট,আর্টিস্টের আঁকিয়ে,ভৌতিক ব্যাপারগুলোর গা ছমছমে বর্ণনা সবই বেশ ভালো ছিল,কিন্তু কিছু জায়গায় ঘটনাগুলো কেন যেন একটু বিক্ষিপ্ত মনে হলো তাই ৪🌟 আর ভিলেনকে শুরু থেকেই নিজেরও বন্ধু পাতিয়ে বসা আমি শেষের টুইস্টটা প্রেডিক্ট ই করতে পারিনি।সব মিলিয়ে প্রথম গ্রাফিক নভেল পড়ে ভবিষ্যতে এই দিকে যে আরো খরচাপাতি হবে সেই চিন্তার পোকাটা নড়েচড়ে ওঠলো!!!😁
কিছু বই নিয়ে ডিটেইলস বলতে হয় না। নির���ধিদায় পড়া যায় এমন বই। গ্রাফিক নোবেল হলে তো সোনায় সোহাগা। ছবি আঁকা আর কন্সেপ এর প্রশংসা না করলেই নাহ। ওভার অল ভালো ছিল বইটা। মাইন্ড ফ্রেস হয়ে গেছে।
প্রমিনেন্ট ইনডাস্ট্রিয়ালিস্ট আব্বাস রহমান খানের একমাত্র সন্তান জামশেদ। একসময়ের সাফ গেমসে শুটিং ক্যাটাগরির গোল্ড মেডালিস্টের জীবন তাঁর বাবার দুর্ঘটনায় মৃত্যুর পর কেমন জানি ছাড়া ছাড়া হয়ে যায়। ধনী ব্যক্তির সন্তান জামশেদ তাঁর কাজিন ডাক্তার সামাদ এবং অকাল্টের প্রতি অত্যন্ত প্যাশনেট, চলন্ত ট্রিভিয়া সাংবাদিক বন্ধু শিপলুসহ এক বড় বিপদে পরেন। এর আগে অবশ্য জামশেদের সাফ গেমস শুটিং কোচ খালেকুজ্জামান তাঁকে সাবধান করে যান যাতে জামসেদ আসল নকল বিচার করে। ডোপ টেস্টে ধরা খেয়ে অলিম্পিকে যাওয়ার সব প্রস্তুতির পর��� ছিটকে পড়া এই শুটার তেমন কিছু বুঝে উঠতে পারে না এই প্রাক্তন কোচের কথাবার্তা।
বিভিন্ন মানসিক সমস্যা, অদ্ভুত সব স্বপ্ন এবং হ্যালুসিনেশনে ভুগা জামশেদ দেরিতে হলেও সাইক্রিয়াটিস্টের কাছে যান। জেদী, বদরাগী, ঘারত্যাড়া জামশেদ কারো চিকিৎসকের কথাও শুনতে রাজি না। জীবনে এমন সব দুঃস্বপ্নের মতো স্মৃতি আছে এই গোল্ড মেডালিস্টের যে তাঁর এরকম খিটখিটে হয়ে যাওয়াটাই মনে হয় অবধারিত ছিল। আনফেইথফুল গার্লফ্রেন্ডের সন্ত্রাসী এক্সের সাথে গন্ডগোলে জড়িয়ে যান কাজিন সামাদ ও সাংবাদিক বন্ধু শিপলুসহ। ঘটনাচক্রে বেশ কিছু লাশ পড়ে। জামশেদ, সামাদ ও শিপলু মার্ডার কেইসে গ্রেফতার এড়াতে ঢাকা থেকে পালিয়ে যান।
এক চলন্ত এনসাইক্লোপিডিয়া শিপলু ছোট বেলা থেকেই ভৌতিক, অকাল্ট এবং পরাবাস্তব বিষয়ের প্রতি অনুরক্ত। এসব বিষয় নিয়ে এত রিসার্চ এবং ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা শিপলুর আছে যে তাকে বাংলাদেশে বিষয়গুলোর উপর লিডিং অথরিটি বলা যেতে পারে। যদিও জামসেদের কাছে এসব হাস্যকর ব্যাপার-স্যাপার।
ঢাকা থেকে পালিয়ে যে ভূতুড়ে অজপাড়াগাঁয়ে তিনজন গিয়ে পৌছান সেখানে না গিয়ে মনে হয় খুনের দায়ে জেল খাটা আরো ভালো হত। ৭১ এর গনহত্যার স্বাক্ষী এই গ্রামে কোন এক অজানা স্বাপদের শিকার হচ্ছেন একের পর এক নিরীহ মানুষ। শিশু থেকে শুরু করে নারী কেউ এই ভৌতিক প্রাণী থেকে রক্ষা পাচ্ছে না। নিজের সাথে সবসময় থাকা এলকোহল, বন্দুক, বন্ধু ও কাজিনসহ সাফ শুটিং গোল্ড মেডালিস্ট নেমে পড়েন স্বাপদ শিকারে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে গ্রামের পুলিশের আচরণ এত অদ্ভুত কেন? গ্রামবাসীও কি কিছু লুকাতে চায়? স্বাপদ হোক বা কোন বাঘ বা শিয়াল, সেটার শিকার করতে গিয়ে নিজেদের অজান্তেই ঐ তিনজন কি শিকারে পরিণত হতে যাচ্ছেন?
লেখক নাবিল মুহতাসিমের নাম অনেকবার শুনেছি। পেশাগত জীবনে চিকিৎসক এবং বর্তমান সময়ের তরুন লেখকদের মধ্যে খুব সম্ভবত সেরা পাঁচ বা দশে আছেন বলে শুনেছি। তবে তাঁর লিখা "স্বাপদ সনে" বাতিঘর প্রকাশনী থেকে বই আকারে ২০১৬ সনে প্রকাশ পায় এবং ভারতের অভিযান পাবলিশার্স থেকে ২০১৯ সনে প্রকাশ পায়। নাবিল মুহতাসিমের এই গল্পের গ্রাফিক নভেল ফরম্যাট খুব ভালো লেগেছে। লেখনীতে একটা ইন্টেন্সিটি আছে। তরুনদের মধ্যে এগিয়ে এসে গ্রাফিক নভেলের মতো ভালো মাধ্যমে কাজ করার জন্যে তাঁকে ধন্যবাদ। গল্পে গ্রামের এক বাউলের গান আছে যেটার লিরিক লেখক যেভাবে লিখেছেন তা অনেকদিন মনে থাকবে। নাবিল মুহতাসিম একজন ব্রিলিয়ান্ট রাইটার।
কমিক্স আর্টিস্ট এড্রিয়ান অনীকের অঙ্কনের আমি বিগ ফ্যান সেই পিশাচ কাহিনি সাগা থেকেই। হরর স্টোরি অঙ্কনে শিল্পীর মুন্সিয়ানা আছে বেশ। এছাড়া হরর সিকোয়েন্স ছাড়াও ফুল স্টোরিতে দুর্দান্ত আর্ট করেছেন এই শিল্পী। থ্রিলারের থ্রিল বলুন বা হররের চিল, এড্রিয়ান অনীক অঙ্কনের মাধ্যমে আপনার মনোজগতে ভালোই ধাক্কা দিতে পারেন।
গল্প দুই ধরনের অধ্যায়ে ভাগ করা।
১) জামশেদের জবানবন্দি
২) শিপলুর জার্নাল
এখানে লেখক কয়েক লেয়ারে গল্প লিখেছেন। পাঠকের জন্যে অপশন রেখেছেন যেকোন একটা বেছে নিতে। দু'টি অপশনের যেকোন একটি পাঠক নিজের চিন্তার মাধ্যমে সঠিক মনে করতে পারেন। পাঠকের প্রতি এরকম চয়েস দিয়ে দেয়াটা খুব ভালো লেগেছে। এন্ডিং পাঠক নিজ বিবেচনায় বেছে নিতে পারবে। অসাধারণ এক প্রচ্ছদ করেছেন শিল্পী সেই সাথে ৪০০ পৃষ্ঠার গ্রাফিক নভেল প্রি-অর্ডারে মাত্র ৩০০ টাকায় পেয়ে ( জানি না এই অফার এখনো আছে কিনা) আমি বলতে গেলে সারপ্রাইজড হয়েছি। বইয়ের সামনের ফ্ল্যাপে যে কথাগুলো ছিল প্রথমে বুঝতে পারিনি সেসবের অর্থ, জামশেদ কি পেরেছে? পাঠক আপনি কি পারেন? কারণ ফ্ল্যাপে লিখা ছিল,
বহুল চর্চিত এই হরর-থ্রিলার বইটি গতকাল রাতে পড়ে শেষ করলাম। দু একটা প্লট হোল বাদ দিলে কাহিনীটি আমার দারুন লেগেছে। অভিযান কখনও নিরাশ করে না। থ্রিলার আমার বরাবরই প্রিয়, তার সাথে আলাদা মাত্রা দিয়েছে এর ভৌতিক দিকটি। এবার আসি বিষয়বস্তুতে।
ধনী ব্যবসায়ীর ছেলে জামশেদ সাফ গেমসে গোল্ড মেডেলিস্ট শ্যুটার। এক দূর্ঘটনায় বাবাকে হারানোর পর থেকেই তার জীবন দুর্বিষহ হয়ে ওঠে। বাবার মৃত্যুর পর থেকেই সে অদ্ভুত সব স্বপ্ন দেখতে শুরু করে, দেখা যায় তার মধ্যে কিছু মানসিক পরিবর্তনও। এক আকস্মিক ঘটনায় সে তার জ্যেঠাতো ভাই সামাদ, যে একজন ডাক্তার এবং বন্ধু শাপলু, যে একজন প্যারানরমাল ইনভেস্টিগেটর, তাদেরকে নিয়ে গা ঢাকা দেয় এক অজানা অচেনা গ্রামে।
অজপাড়া গ্রামে এসে তারা সম্মুখীন হয় আরও বড়ো বিপদের। গ্রামে কিছুদিন ধরেই একের পর এক মানুষ নৃশংসভাবে খুন হচ্ছে অজানা কোনোকিছুর হাতে। কে করছে এইভাবে খুন? কী রহস্য আছে এর পেছনে? পারবে কি তারা এই রহস্য উন্মোচন করতে?
অন্যদিকে গ্রামে জঙ্গলের ভেতরে দেখা যায় পুরনো একটি মন্দির। দিনের বেলাতেও মন্দিরের ভেতর এমন অন্ধকার যে কিছুই দেখা যায় না। সাথে মন্দিরের তাপমাত্রাও বাইরের থেকে অনেক কম। জামশেদের কানে আসে কারা যেন মন্দিরের ভেতর থেকে ফিশফিশ করে কিছু বলছে? যেখানে গ্রামবাসীরা কেউ জঙ্গলের ভেতরে যেতেই সাহস পায়না,সেখানে জঙ্গলের ভেতরে মন্দিরের ভেতর থেকে কারা কথা বলছে এভাবে? কী বলছে তারা? উদ্ঘাটিত হবে কী সেই মন্দিরের রহস্য?
লেখক নাবিল মুহতাসিমের লেখনীর সাথে এই প্রথম পরিচয় ঘটল আমার। কাহিনীর গঠন ভালো লেগেছে। বিশেষ করে শিপলুর প্যারানরমাল ইনভেস্টিগেশনের কেসগুলো যেভাবে তুলে ধরা হয়েছে বেশ ভালো লেগেছে সেগুলো। তবে কাহিনী কিছু কিছু সময় যেমন দ্রুতগতিতে এগোচ্ছিল, ঠিক তেমনই কিছু কিছু সময় যথেষ্ট স্লো হয়ে যাচ্ছিল, ফলে ধৈর্য্য রাখাটা একটু কঠিন হচ্ছিল। তবে শেষের টুইস্টগুলো নিঃসন্দেহে দারুন লেগেছে, যা কাহিনীর মোড়কে পুরো ঘুরিয়ে দিয়েছে। যেটা আমার ধারনার বাইরে ছিল। প্রথমেই বলেছি দু একটা প্লট হোল ছিল, সেগুলোকে বাদ দিলে নিঃসন্দেহে উপন্যাসটি ভালো লেগেছে। বিশেষ করে ভৌতিক দিকটা আলাদাই একটা মাত্রা দিয়েছে। যারা পড়েননি অবশ্যই পড়ে দেখুন বইটি। আর আমারও লেখকের অন্যান্য বইগুলো পড়ার ইচ্ছা রইলো ভবিষ্যতে।
আস্ত একটা উপন্যাসকে এমন একটা চিত্র রূপে তুলে ধরা চারটি খানি কথা না, তা বুঝতে পেরেছি বইটা পড়তে গিয়ে। প্রথম থেকে একদম শেষ পর্যন্ত বইটা খুব ধীরেই পড়তে হয়েছে, সময় নিয়ে দেখেছি আঁকিয়া গুলে তা না হলে বইটির প্রকৃত রস ঠিক নিতে পারতাম না। যারা পড়বেন, তারাও পারবেন না।
বইটার উক্তিগুলো বা লাইনগুলো যখন পড়ছিলাম, পড়ার সময়ই বুঝতে পেরেছি যে বইটার ডায়লগ গুলোর সাইজ যথাযথ রাখতে গিয়ে লেখক ভালোই ভোগান্তিতে ভোগেছেন। বইটার কথোপকথনে বর্তমান প্রজন্মের ব্যবহৃত অনেকগুলোই প্রচলিত শব্দের মিশেল ঘটিয়েছেন লেখক যা গল্পে উপভোগ��� আরো বেশি সহায়তা করেছে। আর গল্পটা বেশ চমৎকার যা দুটো অংশ এগিয়েছে , একটা অংশ বর্তমানের যা জামশেদের জবানবন্দিতে বর্ণিত হয়েছে, আর অন্য একটা অংশ হলো প্যারানরমাল ইনভেস্টিগেটর শিপলুর বিচিত্র সব অতিপ্রাকৃত কেস স্টাডির। এ দুটোর সমান তালে এগিয়ে গেছে গল্পে, যা মাঝেমধ্যে বিভ্রান্ত করে ফেলেছিলো, এছাড়া বেশ উপভোগ করেছি।
কাহিনীর শেষের দিকে এসে এন্ডিংটা দেখে বেশ চমকে গেছি, তবে এখানে এসে অনেকগুলো প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে মনে, যা বললে স্পয়লার হয়ে যাবে, শেষে এসে অনেকগুলো প্লট হোলও চোখে পড়েছে, তাছাড়া এন্ডিংটাও আমার কাছে যুক্তির বিচারে যুৎসই লাগেনি, লেখক কেমন জানি এই জায়গায় এসে ধোঁয়াশা ছড়িয়েছেন। বিশেষ করে জামশেদ আর শিপুলর কিছু কিছু কর্মকাণ্ড কথাবার্তায় এই সন্দেহটা সৃষ্টি করেছে।
বইটার প্রোডাকশন আর আর্টিস্ট এড্রিয়েন অনীকের কাজ রীতিমতো মুগ্ধ হয়েছি, আমার মনে হয় না এর থেকে ভালো প্রোডাকশন আর হতে পারে, আর্ট গুলো ছিলো সর্বোচ্চ লেভেলের ডিটেইলিং। এক কথায় লাজবাব। বইটার আঁকিয়া গুলোর জন্য হলেও রয়াল সাইজের বইটা কালেকশনে রাখা যায়।
গ্ৰাফিক নভেল: শ্বাপদ সনে লেখক: নাবিল মুহতাসিম আঁকা: এড্রিয়েন অনীক প্রকাশনা: গ্ৰাফিক বাংলা পৃষ্ঠা: ৩২৮ রেটিং: ৪.৫/৫.০ অসাধারণ! অসাধারণ! অসাধারণ! একটি গ্ৰাফিক নভেল বা উপন্যাসে যা থাকা দরকার তার সবকিছুই এই বইয়ে আছে। আগেই বলে নেই আমার মূল বই পড়া হয় নাই। এখন মূল বই পড়ার শখও জাগছে।
বইটি মূলত বাস্তবতা ও পরাবাস্তবতা একটি মিশেল থ্রিলার বলতে পারেন। বইয়ের মূল নায়ক ও তার বন্ধু বান্ধব মিলেই পুরো কাহিনী গড়িয়েছে। নায়ক কে কিছুটা সেলিব্রিটি লাইফ স্টাইল দেয়া হয়েছে। আবার নায়কের সাধারণ, অসাধারণ, ভাল খারাপ সব ধরনের বন্ধু বান্ধব আছে। নায়ক খুবি বাস্তবিক চিন্তাধারার মানুষ এবং শুটিং চ্যাম্পিয়ন। অর্থাৎ বুঝায় যাচ্ছে বইয়ে বেশ কিছু মারামারির দৃশ্য উপভোগ করবেন। নায়কের একজন সাংবাদিক বন্ধু আছে যিনি পরাবাস্তব, অলৌকিক, ভুতুড়ে ইত্যাদি বিষয় নিয়ে অনুসন্ধানী রিপোর্ট করেন পত্রিকাতে। অর্থাৎ বইয়ে বেশ কিছু অলৌকিক ভুতুড়ে দৃশ্য থাকবে।
বইটির গল্প এগিয়েছে নায়কের পারিবারিক ও ব্যক্তিগত জীবনের জটিলতা বা টানাপোড়েন যাই বলেন তার মধ্যে থেকে খুনের সাথে জড়িয়ে যাওয়া এবং সাংবাদিক বন্ধুর সাথে অলৌকিক/ভুতুড়ে ঘটনার তদন্ত নিয়ে। নায়ক হচ্ছে শুটিং প্রতিযোগিতায় স্বর্ণ পদক জয়ী। বুঝায় যাচ্ছে নায়কের হাতের টিপ খুব ভালো। আর নায়কের বন্ধুর ছোটবেলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরাবাস্তব জগৎ নিয়ে অনুসন্ধানী রিপোর্ট করার শখ। গল্পের শেষ ভাগে এসে টুইস্ট গুলো ছিল অসাধারণ।
কমিকের আঁকার হাত খুবই ভালো। আর একটি গল্পের কমিক চিত্রায়ন খুব ভালো লেগেছে কারণ অভাব অনুভব হয় নাই কোনো কিছুর। #ধূসরকল্পনা
নাবিল মুহতাসিম ঢাকা মেডিকেল কলেজের ছাএ ছিলেন এটা জানতাম, কিন্তু তিনি যে শেখ ফজলে রাব্বি হলেরই ছাএ ছিলেন তা জানা ছিলো না! আর এটা এভাবে বলার কারণ আমি এই হলেই ঘুরাঘুরি করি সবসময়, বাসা এখানেই বকশীবাজার...জানা থাকলে, সম্ভব হলে দেখা করার চেষ্টা করতাম অবশ্যই তার সাথে!! যাই হোক পাঠ প্রতিক্রিয়া জানাই একজন পাঠক হিসেবে আমার কাছে গল্পের প্লট টা মোটামুটি খুবই ভালো লেগেছে। কিন্তু কিছুটা বিচ্ছিন্নতা ছিলো যদিও যা পরে আমি একটা অর্থ ধরে বুঝে নিয়েছি। গল্পের মধ্যে ইনভেস্টিগেশন কেসগুলো চরম ভয়ানক ছিলো যারা হরর লাভার সেই মজা পাবেন নিঃসন্দেহে! এটা শিওরলি এজন্য বলছি কেননা আমি বই পড়ে প্রচন্ড ভয় পাইছি এরকম জীবনে মাএ ১/২ বারই হয়েছে! আর এই কমিকস আরেকবার সংযোজন হলো। গল্পের থ্রিলার মোটামুটি লেগেছে! তবে লেখকের কল্পনা, চিন্তা, কিংবা প্রথম মৌলিক উপন্যাস হিসেবে এটা ঢের ভালো ছিলো (মূল গল্প ২০১৬ সালে প্রকাশিত ‘শ্বাপদ সনে’ উপন্যাস থেকে নেয়া)। ও হ্যা আরেকটা দিক, লেখক সুপার ন্যাচারাল দিকটাকেও খুব সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন যা আমার কাছে ভালোই লেগেছে। তবে আরেকটু ডেভেলপ করা যেতো যদিও... আর সবশেষে আর্টিস্ট এড্রিয়েন অনীক ভাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ এতো সুন্দর পেন্সিল দক্ষতার জন্য এবং তার এই ঘরকুনো স্বভাব যে তাঁকে লিজেন্ডারি প্রতিভাবান আর্টিস্ট করে তুলেছে তা তাঁকে আবারো স্মরণ করাতে চাই।।।
P.R: 4/5 অন্যরকম ভাল লাগলো। মুল গল্পের সিংহভাগ প্লট রংপুর জেলার এক গ্রামে অবস্থিত। একে তো ৯০ দশকের কাহিনী তার উপর গ্রামবাংলায় ঘেরা প্লট। এজন্যই হয়তো ভালোলাগাটা একটু অন্যরকম ছিল। অবশ্যই "পজিটিভ" অন্যরকম। তখনকার গ্রামের বাজার, সাপ্তাহিক হাট, চায়ের দোকানের আড্ডা, সন্ধ্যায় বাউল গানের আসর, হ্যারিকেন আর মোমবাতির আলোয় আলোকিত রাত... সবকিছু মিলিয়ে একদম নস্টালজিক অবস্থা।
নাবিল ভাইয়ের লেখনী বরাবরই বেশ সাবলীল। সম্পূর্ণ গ্রাফিক নোভেল হওয়ায় এই প্যারাসাইকোলজিক্যাল-হরর গল্পটিতে আরেকটি মাত্রা যোগ করেছে এড্রিয়েন অনীক ভাইয়ের illustration. দুর্দান্ত কাজ দেখিয়েছেন পুরো বইটি জুড়ে, বিশেষ করে horror element/creature গুলোর ক্ষেত্রে। ভবিষ্যতে তার আরও কাজ দেখার অপেক্ষায় থাকব। সেই সাথে "গ্রাফিক বাংলা" প্রডাকশনকে অনেক ধন্যবাদ।
*আমার কাছে কেস স্টাডিগুলোতে ভয়ের পরিমাণ তুলনামূলক কম লেগেছে। যেহেতু কেস স্টাডিগুলো সম্পূর্ণরূপে "horror focused" ছিল সেই অনুযায়ী ভয়ের পরিমাণ আরেকটু বেশি হলে ভাল হত। **চিত্রণ বিষয়ক একটি নেতিবাচক উক্তি। কোনো কারণে বইয়ের প্রত্যেকটা চরিত্রকে অনেক বেশি সিরিয়াস ও নেগেটিভ দেখানো হয়েছে সবক্ষেত্রে। বাজারের সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে প্রায় সবগুলো চরিত্রই।
Are you a fan of psychological horror? Do you seek the urge to stay up all night just to read a book and find out what happens next? Then this book is perfect for you.
The book has a written copy as well as a newly released graphic novel which you can see on the post. It's about 400 pages long and all worth the while.
The illustrator was able to depict characters with menacing and anxious expressions well which made the reading experience engaging. Remarkable artworks that take us back to where the story is set, the 90s, with a tint of horror and psychological thrill in it. As the story progressed, the paranormal case studies witnessed and gathered spooked me which was enough to make my blood run cold. Not to mention it's rated 18+ which shows many mature themes, all making the story more gripping and worthwhile.
This graphic novel book is highly recommended by me no doubt. Not disappointed by it at all. All I have to say is, READ SHAPOD SHONE!
বিদেশি ভাষায় গ্রাফিক নভেল পড়ার অভিজ্ঞতা আগে থাকলেও নিজের ভাষায় গ্রাফিক নভেল এই প্রথম পড়লাম। প্যারা-সাইকোলোজিক্যাল জনরার উপন্যাস হিসেবে কাহিনি চলনসই। বেশ ভালো সাসপেন্স এর সাথে ক্লাইম্যাক্সটাও ভালো ছিলো। সাথে ভিজ্যুয়াল আর্টসও অসাধারণ ছিলো। তবে কিছু বানান ভুল ছিলো যেগুলো না থাকলে বইটা আরও উপভোগ্য হতো। যাইহোক সবমিলিয়ে একজন কমিক্স ও গ্রাফিক ন��েল ফ্যান হিসেবে তাদের এই কাজটি আমার কাছে দারুণ লেগেছে। গ্রাফিক বাংলার এই কাজটি বাংলা গ্রাফিক নভেল সেক্টরে মাইলফলক হিসেবে গণ্য করা যায় অথচ যতটা আলোচনা হওয়া উচিত ততটা আলোচনা হচ্ছে না। ভবিষ্যতে আরও দারুণ সব গ্রাফিক নভেল পাবো এই আশায় রইলাম 🖤
বইটা মেশানো জনরার। মূলত হরর থ্রিলার বলা যায়। হররের প্রতি আমার অনীহা আছে। তবে সেটা মূলত জাম্পস্কেয়ার, বা ট্র্যাডিশনাল হরর গল্পে। ভূতের গল্প যদি তদন্ত-সুলভ হয়, তারে কেস-স্টাডি হিসাবে নেয়ে হয়, তবে সেইটা ভালোই লাগে। আফটার অল, আর ফ্যান্টাসি বোধহয় আমার সবচেয়ে পছন্দের জনরা আর সেইটার মূল উপদান এইই। সেকারণে বলা যেতে পারে শ্বাপদ সনে আমার পছন্দ হইসে। সব দিক মিলায়ে ছিমছাম, গোছানো ব্যালেন্সড একটা গল্প। খামতি সম্ভবত আছে কিছু, পাত্তা দিচ্ছি না। গল্প গেল, আঁকায় আসি। পছন্দ হয়নি। খারাপ, তা বলছি না। জাস্ট আমার পছন্দ হয়নি। তবে এতবড় একটা কাজ পুল অফ করার জন্য হ্যাটস অফ।
নাবিল মুহতাসিম এর অসাধারন লেখনভঙ্গী ও এড্রিয়ান অনিক এর ইলাস্ট্রেশনে প্রায় ৪০০ পৃষ্ঠার সুবিশাল গ্রাফিক নভেল। আমার মত দেশি কমিক্স প্পাগলা মানুষের জন্য এর চেয়ে ভালো আর কি হতে পারে! বইটার সবচেয়ে এ ভালো ব্যাপারটা মুলত এই যে এটা খুবই ভালো একটা অ্যাডাপসন। মূল চরিত্র জামশেদ এর মানসিক ইমেজ টা এতো সুন্দর করে চিত্রায়নের জন্য আঁকিয়ে বেশ প্রশংসার দাবিদার। গল্পের সিকুয়েন্স টাও বেশ সুন্দর করে সাজানো হয়েছে যা শেষের টুইস্ট টাকে আরও পরিপূর্ণতা দিয়েছে।