অসুর জনজাতির আরাধ্য দেবতা মহিষাসুর ওরফে হুদুড় দুর্গা। অন্যান্য আদি ও মূলবাসী জনজাতিদেরও তিনি অন্তরের রাজা। তাদের বিশ্বাস হুদুড় দুর্গাকে ছলনার আশ্রয় নিয়ে অন্যায় ভাবে হত্যা করেন এক আর্য রমণী। আর সেই অন্যায়কে মহৎ উপলক্ষ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হয় বছর বছর দুর্গোৎসব উদযাপনের মধ্য দিয়ে। এই জন গোষ্ঠীর বর্তমানে শিক্ষিত অংশ এর প্রতিকারের দাবিতে সংগঠিত হবার ডাক দিয়েছে সমগ্র অনার্য জন সমুদায়ের উদ্দেশ্যে। সেই কাজে নেমেই এক অসুর কন্যা সুরমা ঝাড়খণ্ডের লাতেহার জেলার প্রত্যন্ত এক অসুর গ্রাম থেকে বেরিয়ে এসে পাড়ে কলকাতা পর্যন্ত। মাঝপথে মুখোমুখি হয় এক প্রতারকের যার লালসার শিকার হতে বসেছে হুদুড় দুর্গার প্রভু ঐশ্বর্য। এমন এক যড়যন্ত্র ফেঁদেছে সেই প্রতারক যা সেই আদিম দেবতার অস্তিত্বকেই লোপাট করার উপক্রম করেছে। বনাঞ্চল থেকে মহানগর, এই সমই তার লড়াইয়ের পথ। সুরমা কি পারবে তার এই অসম লড়াইয়ে তারা অন্যদেরও সামিল করতে। তাদের অস্তিত্ব রক্ষার পাড়াই এগিয়ে নিয়ে যেতে।
বিমল লামার জন্ম ৪ জুলাই ১৯৬৮ দার্জিলিং পাহাড়ের সিংতাম চা বাগানে এক চা-শ্রমিক পরিবারে। বাবা পুলিশের চাকরি নিয়ে সপরিবারে চলে আসেন হুগলি জেলায়। পড়াশোনা চুঁচুড়ার স্কুলে-কলেজে। বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক। আইনের কলেজছুট। বর্তমানে রাজ্য সরকারি কর্মচারী, পুরুলিয়ায় কর্মরত। স্কুল ম্যাগাজিনে প্রকাশিত ছোটগল্পই জীবনের প্রথম প্রকাশিত লেখা। ‘দেশ’ পত্রিকা আয়োজিত ছোটগল্প প্রতিযোগিতায় পরপর দু’বার পুরস্কৃত। প্রথম উপন্যাস ‘নুন চা’। ‘রুশিকা’ লেখকের দ্বিতীয় উপন্যাস। ২০১৩ সালে পেয়েছেন জ্যোতিপ্রকাশ চট্টোপাধ্যায় স্মারক সম্মান।