নিষিদ্ধ দেশ! ভুটানের এই তকমা খাতায়-কলমে ঘুচে গেলেও তার অন্তরে, আত্মায় সে এখনও অনেকাংশেই নিষিদ্ধ। এখনও অটুট আছে তার বৌদ্ধ-তান্ত্রিক জাদু বাস্তবতা। বৌদ্ধধর্মের বিশ্বজনীন চেনা মুখ ভুটানে এসে এখনও অচেনা মনে হতে পারে। সেই অচেনা ভুটানের খোঁজে একাকী সেখানে গিয়ে পড়ে কলকাতার এক স্কুলশিক্ষিকা রনিতা। সেখানে তার দেখা হয় আশ্চর্য এক বৌদ্ধ সন্ন্যাসীর সঙ্গে, যিনি মদ-মাংস আর মৈথুনে আসক্ত। ঘটনার পাকে চক্রে তাদের পরিচয় আরও গভীরতর হয়। আর তখনই রনিতা জানতে পারে এই সন্ন্যাসী আসলে বৌদ্ধ ধর্মেরই এক বিশেষ শাখার অনুগামী, যা বর্তমানে একমাত্র ভুটানেই কিছুটা অনুসৃত হয়। সাড়ে পাঁচশো বছর আগের সেই পথিকৃৎ সন্ন্যাসীর ছায়া রনিতা দেখতে পায় আজকের এই যুবা সন্ন্যাসীর মধ্যে। মনে হয় যেন বা তার কিছু অলৌকিক শক্তিও আছে, যা রনিতাকে ধীরে ধীরে আবিষ্ট করতে থাকে। নিছক পুজোর ছুটিতে শখ করে একা একা বেড়াতে যাওয়ার অভিজ্ঞতা রনিতাকে এনে ফেলে জীবনের এক অনাবিষ্কৃত বাঁকে, যার পর হয়তো জীবনটা আর একই রকম থাকবে না।
বিমল লামার জন্ম ৪ জুলাই ১৯৬৮ দার্জিলিং পাহাড়ের সিংতাম চা বাগানে এক চা-শ্রমিক পরিবারে। বাবা পুলিশের চাকরি নিয়ে সপরিবারে চলে আসেন হুগলি জেলায়। পড়াশোনা চুঁচুড়ার স্কুলে-কলেজে। বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক। আইনের কলেজছুট। বর্তমানে রাজ্য সরকারি কর্মচারী, পুরুলিয়ায় কর্মরত। স্কুল ম্যাগাজিনে প্রকাশিত ছোটগল্পই জীবনের প্রথম প্রকাশিত লেখা। ‘দেশ’ পত্রিকা আয়োজিত ছোটগল্প প্রতিযোগিতায় পরপর দু’বার পুরস্কৃত। প্রথম উপন্যাস ‘নুন চা’। ‘রুশিকা’ লেখকের দ্বিতীয় উপন্যাস। ২০১৩ সালে পেয়েছেন জ্যোতিপ্রকাশ চট্টোপাধ্যায় স্মারক সম্মান।
'হুদুর দুর্গা', 'নুন চা' বা 'রুশিকা' থাকতে, 'বজ্রযোগিনী' দিয়ে বিমল লামায় হাতেখড়ি করতে যাওয়াটাই মস্ত ভুল হয়েছে। ব্যাপারটা আখেরে ট্র্যাজিক। কারণ উপন্যাসটির অন্তর্নিহিত অ্যাম্বিশন প্রচুর। ডুয়ার্স ও ভুটান পাহাড়ের সম্মিলিত লোকগাথা ও ধর্মবিশ্বাসের সাথে তাল মিলিয়ে, এক শহুরে নারীর আত্মোপলব্ধির পাঠ। কেজো ক্যালকেশিয়ান রণিতার, লাগামহীন পাহাড়ি রাণী ওরফে বজ্রযোগিনী হয়ে ওঠার ভাবুক গীতি। যার রন্ধ্রে স্পন্দিত যৌনতা, বিশ্বাস ও বৌদ্ধ জাদুবাস্তবতার আবেশী প্রলেপ।
লেখকের গদ্যে ব্যক্তিত্বের হদিশ পাই। ওনার বর্ণনাশৈলী সুন্দর। লেখনী সহজ। ওনার কলমে, পাগলা লামা ড্রুকপা কুনলের কার্যকলাপ, গ্রামেগঞ্জে লিঙ্গপূজার প্রচলন বিধী বা চিমি লাখাংয়ের পথে পৌরাণিক যুদ্ধ বর্ণনা, সবটাই আগ্রহ জাগায়। জানতে ইচ্ছে হয় আরও অনেক কিছু। মনেপ্রাণে চাগিয়ে ওঠে ভ্রমণের শখ। অত্যন্ত স্কিলফুলি, বজ্রযান বৌদ্ধ-রীতি ও তিব্বতী মিস্টিসিমের প্রতি কৌতুহলের পারদ উস্কে তোলেন বিমল লামা। লেখকের কাছে আমি এখানেই কৃতজ্ঞ। উপন্যাসটি থেকে আমার প্রাপ্তিও কেবল এই।
তবুও, ভালো লাগেনা শেষ অবধি। যদিও এই ঘরানার উপন্যাস আমার দিব্যি পছন্দের। 'হোলসম স্পিরিচুয়ালিটি' নামে এদের অভিহিত করি বরাবর। তবুও, 'বজ্রযোগিনী' আমায় নেহাতই হতাশ করলো আজ...
এক সমুদ্র দৃপ্ত অ্যাম্বিশনকে স্রেফ ছেলেখেলা বশে নস্যাৎ করে, অগোছালো বিন্যাসে সমাধিস্থ করে এলেন লেখক। কোনো চরিত্রের সাথেই আলাদা কোনো যোগসূত্র পেলাম না যেন। কাউকেই বিশেষ ভালবাসতে পারলাম না আমি। সবটাই ছাড়া-ছাড়া। অবিন্যস্ত কেমন। কাঠামোবিহীন প্লট। দুর্বল সংলাপ। ফড়িং ফড়িং লাফ। স্রেফ বিভ্রান্ত হলাম পাতার পর পাতা। গোলকধাঁধায় ঘুরে বেড়িয়ে মাথা কুটে কেবল এক ব্যাগ হতাশা বয়ে বেরোলাম যেন। তাতে মদ, মৈথুন ও মত্বতা রইলেও উপলব্ধি বড়ই কম।
তাই, শূন্য। সবটাই শূন্য শেষমেশ। চিনেপটকার অগ্নিভ সলতে, জলে ভিজে ঘুমিয়ে ওঠার সামিল। ভালো ও খারাপের মাঝে একটা প্রশস্ত সাঁকোর অভাব। ভালো লাগলো না একদমই। আপনার ইচ্ছে হলে, পড়বেন নিশ্চই। আমি আর বেফালতু বকে সময় নেবো না কারো। চলি।
2 শুধু যে গল্পের main character ই গাঁজায় আসক্ত তাই নয়, লেখক ও মনে হয় বেশ কয়েক ছিলিম টেনে বই টি লিখেছেন। শুরুর দিকটা মন্দ নয় কিন্তু কয়েক পাতা পর থেকে আর plot এর কোনো মাথা মুন্ডু নেই। গল্পের গরু শুধু গাছে ই নয় একেবারে ভুটান পাহাড়ে গিয়ে উঠেছে।