উল্লাস মল্লিক। শিশু-কিশোর সাহিত্য তাঁর কলমের স্পর্শে হয়ে ওঠে কৌতুকে ভাস্বর, মানবিক আবেদনে প্রাঞ্জল। কিন্তু সেসব গল্প কি শুধুই শিশু-কিশোরদের মনকে স্পর্শ করে? তা বলা মুশকিল। কারণ কখনোসখনো নিজেদের স্মৃতিচারণের সূত্র ধরে বড়রাও তো ছোট্টটি হয়ে যায়, ফিরে দেখে নিজেদের ফেলে আসা অতীত দিনগুলোকে৷ আমাদের রোজকার জীবনে দেখা চেনা মানুষ, চেনা প্রকৃতি, চেনা ছবি---- এ সবই উল্লাস মল্লিকের গল্পের মূল উপজীব্য৷ 'টিচার্স ডে', 'আশ্বিনের শারদপ্রাতে', 'লিও মেসির বাবা' প্রভৃতি গল্পে যেমন এসেছে অতি সাধারণ মানুষের দুঃখ-সুখের কথা, তেমনই 'জুলু', 'আশ্রয়' ইত্যাদি গল্পে উঠে এসেছে মনুষ্যেতর প্রাণীদের কথা, তাদের অনুভবের ছবি। কখনো আবার উল্লাস তাঁর গল্পে নিয়ে এসেছেন হরেক কিসিমের ভূত৷ নিয়ে এসেছেন একেবারে ভিন্ন আঙ্গিকে। সেসব পড়তে পড়তে কখনো ঠোঁটের কোণে ফুটে ওঠে মৃদু হাসি, কখনো খিলখিল হাসিতে উদ্বেল হই আমরা আবার কখনো বা চিকচিক করে ওঠে চোখের কোণ৷ একবার সে মায়া-দুনিয়ায় প্রবেশ করলে সে আচ্ছন্নতা থেকে বেরিয়ে আসা শক্ত।
উল্লাস মল্লিকের জন্ম ১৯৭১ হাওড়া জেলায়, গাছগাছালি দিঘি ঘেরা এক শান্ত গ্রামে।বাবা সমরসিংহ মল্লিক, মা গীতা মল্লিক। একটু বড় হয়ে সপরিবারে চলে আসেন হাওড়া জেলারই আর এক চমত্কার গ্রাম কেশবপুরে।বাবা ছিলেন সেখানকার বিশিষ্ট শিক্ষক। স্নাতক হবার পর শিক্ষকতা দিয়ে কর্মজীবন শুরু।চাকরি ছেড়েছেন; পেশা বদলেছেন।দুষ্টুমির বাল্যকৈশোর, অনিশ্চিত কর্মজীবন, চেনা-অচেনা, ভাল-মন্দ বাছবিচার না করেই মানুষের সঙ্গে মেলামেশা, অদ্ভুত সব ঘটনা আর স্নিগ্ধ প্রকৃতি তাঁর লেখা জুড়ে।মনে আনন্দ আর রসবোধ নিয়েই বেঁচে থাকতে চান। ২০০০ সালে লেখালিখির শুরু।বিভিন্ন বছরে ‘দেশ’ হাসির গল্প প্রতিযোগিতায় বিজয়ী।একডজন উপন্যাস, দেড়শোর বেশি গল্প আর রম্যরচনা লিখেছেন।