পড়ে ফেললুম সৌরভ মশাইয়ের 'দেবীরাক্ষস'। কতটুকু ভালো আর খারাপ লাগলো রেটিং এর দিকে তাকালেই পরিষ্কার বুঝতে পারবেন। লেখকের অন্যান্য বই পড়ি নাই, এটাই প্রথম। সেই হিসেবে একটু পাঠ অনুভুতি দেওয়া যেতেই পারে।
প্রথমত, বইটির প্রচ্ছদ ও অলংকরণ সত্যি খুব সুন্দর। ফেসবুকে অলংকরণের ছবিগুলো দেখেই হা হয়ে গেছিলাম। ভাবছিলাম গল্পগুলোও সম্ভবত এমন ভয়ানক হবে। কিন্তু বাস্তবে সম্পূর্ণ উল্টো। দ্বিতীয়ত, বইটির ফ্লপের অংশটুকু পড়লেই বইয়ের প্রতি আলাদা একটা টান তৈরি হয়ে যাবে। আর যদি বা বইয়ের প্রথম কয়েকপৃষ্ঠার 'ভূমিকা' অংশটুকু পড়েন তাইলে আর দেখতে হবে না। বাকি ২৬০ পৃষ্ঠা না পড়েই ৫ তাঁরা দেওয়ার মনস্থীর করে ফেলবেন।ভূমিকা পড়ে মনে হচ্ছিল এই গল্পগুলো বাংলা সাহিত্যে হরর জঁরে ইতিহাস তৈরি করে ফেলবে।
কিন্তু আসলে কি তাই? পাঠক নিজে পড়েই যাচাই করবেন। বইটির যে পরিমাণ প্রচারনা চোখে পড়েছে তাতে সূচিপত্র দেওয়াটা বাহুল্য মাত্র। তবুও আলাদা করে রেটিং করা যেতে পারে। বইটিতে পাবেন ৭ টি গল্প। যথা :
১। আয়ুষ্কাল-*** ২। চুল-* ৩। ঐজা বোর্ডের শেষ খেলা-* ৪। দেবী রাক্ষস-** ৫। কফিন বন্দি কাঠ-* ৬। মাঝরাতের শেষ জাদু-* ৭। শেষ গল্প-****
তো প্রথম আর শেষ গল্প দুটি এবং অলংকরণের জন্য দুটো তাঁরা দেওয়াই যায়।মাঝের পাঁচটি গল্পের প্রত্যেকটা গল্পই একদম সাদামাটা এবং প্রেডিক্টেবল।কাঁচা হাতের লেখা বলা যায়। না আছে ভয় পাওয়ার কোন উপাদান, না আছে গল্পের গাথুনি। তয় বিভৎস কিছু বর্ণনা পাবেন যা কিছু পাঠককে ভয়ের জগতে নিলেও নিতে পারে। তবে আমার ক্ষেত্রে সে সম্ভাবনা শুন্য। বলতে গেলে শুধুমাত্র শেষ গল্পটি আমাকে তৃপ্তি দিয়েছে।
আর হ্যাঁ, এর প্রত্যেকটা গল্পই কোন না কোন পত্রিকাতে পূর্বে প্রকাশিত। এবং অগ্রন্থিত। সেগুলো কিছুটা পরিমার্জন ও পরিবর্ধন করে পরিবেশন করা হয়েছে।
যাইহোক, ইনার আরো একটি বই সংগ্রহে আছে। পড়ব কি না তাই নিয়ে বড়ই উদ্বিগ্ন।
দেবী রাক্ষস বইটা সাতটা হরর বা অলৌকিক গল্পের সংকলন। বেশ আশাবাদী হয়েই শুরু করেছিলাম। কিন্তু বেশিরভাগ গল্পই হতাশ করেছে। বইয়ের সেরা গল্প দুটো হল চুল আর দেবী রাক্ষস। এই দুই গল্পে প্রাচীন মিথ, রোমাঞ্চ, অস্বস্তিকর অনুভূতি সবই ছিল। এক্সিকিউশনও ভালো। আয়ুষ্কাল গল্পটাও ভালো, কিন্তু এন্ডিং প্রেডিক্টেবল। তিনটা গল্পেই ভারতীয় উপজাতিদের লোককথা অনুযায়ী লেখা বলে বেশি ভালো লেগেছে। বর্ণনাও ভালো। বাকি গল্পগুলো বেশিরভাগ-ই গড়পড়তার চেয়ে নিচে। খারাপ এক্সিকিউশন, আনাড়িভাব প্রবল, সেইসাথে বিদেশি ছাপ স্পষ্ট। তবে ‘শেষ গল্প’ নামক গল্পটা শেষটা ভালো করল। এজন্যই তিন স্টার।
এই সময়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় সাহিত্যিকদের অন্যতম হলেন সৌরভ 'চন্দ্রহাস' চক্রবর্তী। তবে তাঁর গল্প-সংকলন "গল্পের ছদ্মবেশ" প্রকাশের পর পাঁচ বছর কেটে গেছিল। পাঠকদের মধ্যে তৈরি হয়েছিল তাঁর একান্ত নিজস্ব লেখনীতে ভয় ও মনস্তত্ত্ব-আধারিত কাহিনি পড়ার প্রবল আগ্রহ। সেই আগ্রহেরই ফলে এবারের কলকাতা বইমেলায় প্রকাশিত হয় আলোচ্য সংকলনটি। লেখকের মনন ও চিন্তনের স্বাক্ষর বহনকারী, 'ভয়' তথা তার জনপ্রিয়তার কারণ বিশ্লেষণ করে লেখা একটি মূল্যবান ভূমিকা দিয়ে শুরু হয়েছে এই বই। তারপর একে-একে এসেছে এই ক'টি বড়ো ও ছোটো গল্প~ ১. আয়ুষ্কাল; ২. চুল; ৩. ঐজা বোর্ডের শেষ খেলা; ৪. দেবী রাক্ষস; ৫. কফিন বন্দি কাঠ; ৬. মাঝরাতের শেষ জাদু; ৭. শেষ গল্প। প্রথম, দ্বিতীয় এবং চতুর্থ গল্পের বিশেষত্ব হল তাতে ত্রিপুরার একান্ত নিজস্ব লোকবিশ্বাসের উপাদান ব্যবহার করা হয়েছে। এই উপাদানগুলো বাংলা লেখালেখিতে অনুপস্থিত থাকে। সর্বোপরি গল্পগুলোর মধ্যে এমন এক আদিম সারল্য আছে যা নাগরিক পরিবেশে সাজানো মেকি ভয়ের আবহকে ম্লান করে দেয়। সত্যি-সত্যিই গায়ে কাঁটা দেয় এগুলো পড়লে। তৃতীয় গল্পটি মনস্তত্ত্ব এবং আবহ-নির্মাণের অসামান্য নিদর্শন বলা চলে। পঞ্চম গল্পটি পাশ্চাত্য পরিবেশ ও বিশ্বাসের ধারণাকেই সম্প্রসারিত করেছে পারিবারিক হলাহল ও অমৃতের সার-জল দিয়ে। ষষ্ঠ গল্পটি প্রথাগত, তবে তাতেও আবহ-নির্মাণের প্রায় সিনেমাটোগ্রাফিক মুনশিয়ানা দেখে মুগ্ধ হতে হয়। সপ্তম গল্পটি বইয়ের সবচেয়ে বেশি ধাক্কা-দেওয়া আখ্যান। এর বেশি কিছু লিখছি না। অভীক দাসের দুর্ধর্ষ অলংকরণ বইটির প্রতি সর্বার্থে সুবিচার করেছে। ঋতাক্ষর-এর বর্ণ-সংস্থাপন ও শুদ্ধ বানানের কাজ প্রশংসনীয়। সম্পূর্ণ নতুন পরিবেশে, সম্পূর্ণ নতুন ভাবনায়, অনেকাংশে নতুন উপাদান দিয়ে গড়ে তোলা গল্পগুলো মনে দাগ রেখে যায়। তাই বলব, ভয়ের গল্প ভালো বাসলে এই বইটিকে আপন করে নিতেই পারেন। আমার ধারণা, আপনার খারাপ লাগবে না।
মাঝারি গোছের অলৌকিক গল্পের সংকলন। সবচেয়ে ভালো লেগেছে "শেষ গল্প", অসমাপ্ত গল্পের সংকলন এক অতিপ্রাকৃতিক বইকে কেন্দ্র করে গল্প। "দেবীরাক্ষস" গল্পটাও কনসেপ্ট, গড়ে ওঠা, পটভূমি সবকিছু মিলিয়ে ভালোই আগাচ্ছিল; আদিবাসী অঞ্চল, অদ্ভুত দেবীমূর্তি, বামন, স্বপ্ন, বলি; কিন্তু শেষটা একদম বাজে, জোর করে মিলিয়ে দেওয়া টাইপ। বাকি সব গল্পই গড়পড়তা, জমেনি। সেই তুলনায় বরং হরর গল্প নিয়ে লেখা ভূমিকাটা ভালো লেগেছে, ইলাস্ট্রেশন গুলোও ইন্টারেস্টিং।
'চন্দ্রহাস' খ্যাত ওপার বাংলার লেখক সৌরভ চক্রবর্তীর সাতটা গল্প দিয়ে সাজানো হয়েছে 'দেবীরাক্ষস' বইটা। এই বইয়ের কয়েকটা গল্প নিয়ে অল্প কথায় আলোচনা করার চেষ্টা করছি।
আয়ুষ্কাল: ডাক্তার সেনের কাছে ইদানীং একজন মহিলা রোগী আসে। নামকরা ডাক্তার তিনি, মহিলা-পুরুষ সব রকম রোগীই তো আসবে। কিন্তু মেহুলি নামের এই রোগীটার কেস আলাদা। প্রায় সময়ই অত্যাচারী স্বামীর আঘাতের চিহ্ন শরীরে নিয়ে ডাক্তার সেনের চেম্বারে আসে সে। ধীরে ধীরে তাদের দুজনের মধ্যে একটা প্রণয় ঘটিত সম্পর্ক তৈরি হয়। ডাক্তার সেন আর মেহুলি দুজনেই ঘর বাঁধার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু গোল বাধে মেহুলির তান্ত্রিক স্বামী কুরূপার কারণে। সময়ের তিন কাল - অতীত, বর্তমান আর ভবিষ্যৎ বাদেও আরেকটা চতুর্থ কাল আছে। সময়ের সেই চতুর্থ কালটা সমস্ত হিসেব বদলে দেয়।
শুরুটা বেশ চমৎকার ছিলো এই গল্পের। গল্পটা অতিপ্রাকৃত আবহের হলেও এতে রোমান্টিসিজম ছিলো ভালো মাত্রায়। শেষের টুইস্টটা একদম অকল্পনীয় ছিলো। গল্পের শেষাংশে একটা জায়গা গোঁজামিলের মতো লেগেছে। আর তন্ত্রমতে সময়ের চতুর্থ কালের যে ব্যাপারটা সৌরভ চক্রবর্তী দেখিয়েছেন, সেটাও খানিকটা ধোঁয়াশাচ্ছন্ন লেগেছে আমার কাছে। সব মিলিয়ে 'আয়ুষ্কাল' আমার কাছে অ্যাভারেজ মানের লেগেছে।
ঐজা বোর্ডের শেষ খেলা: ছুটি কাটানোর উদ্দেশ্যে চার তরুণ-তরুণী উঠলো এক বাংলোয়। কিন্তু ছুটি কাটানো মাথায় উঠলো ওদের। প্রথম রাত থেকেই বাংলোটাতে শুরু হলো আধিভৌতিক সব ব্যাপারস্যাপার। ব্যাপারটা ধীরে ধীরে ভয়াবহতার মাত্রা ছাড়িয়ে যেতে লাগলো। ঠিক সেই সময়ই আতঙ্কে দিশাহারা এই চার বন্ধুর দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিলো মার্ঘারিটা নামের এক রহস্যময়ী মহিলা। যে কিনা ঐজা বোর্ড ব্যবহার করে আত্মাদেরকে উপস্থিত করতে পারে। মার্ঘারিটা কি পারবে ওদেরকে বাঁচাতে?
চমৎকার একটা হরর গল্প পড়লাম। গল্পটা সামনের দিকে যতোই এগিয়েছে ততোই মজা পেয়েছি। লেখক বেশ ভালো ভাবেই ভৌতিক আবহ সৃষ্টি করতে পেরেছেন তাঁর এই গল্পে। সবচেয়ে ভালো লেগেছে সমাপ্তিটা।
দেবীরাক্ষস: ত্রিপুরার এক গহীন গ্রামে পোস্টমাস্টার হিসেবে সদ্য এসেছে সুশোভন। আদিবাসী অধ্যুষিত এই এলাকার লোকজন এক দেবীর পূজা করে, যাঁর নাম দেবীরাক্ষস৷ এই দেবী অনেকটা ছিন্নমস্তার মতো, কিন্তু রাক্ষসেরও একটা আদল আছে তাঁর বিগ্রহে৷ প্রতি তিন বছর পরপর দেবীরাক্ষস বলি নেন। আর এই বলি তিনি নিজে চয়ন করেন। এসবের সাথে সদ্য পোস্টমাস্টার হিসেবে যোগ দেয়া সুশোভন আর ওর দাদা অংশুমানের সম্পর্ক কি? বামন কালুই বা হুটহাট বাচ্চা কোলে নিয়ে এসে নিমপাতা চায় কেন?
'দেবীরাক্ষস' গল্পটার নামেই এই বইয়ের নামকরণ করা হয়েছে। বইয়ের সবচেয়ে বড় গল্প এটাই। পৌরাণিকতা আর ভয়ের মিশেলে বেশ চিত্তাকর্ষক ভঙ্গিতে গল্পটাকে প্রেজেন্ট করেছেন সৌরভ চক্রবর্তী। ভালো লেগেছে।
কফিনবন্দী কাঠ: খেলতে গিয়ে সিঁড়ি থেকে পড়ে মারা গেছে বাচ্চা মেয়ে সায়না। সায়নার বাবা বিখ্যাত অভিনেতা অর্ক চ্যাটার্জি। বুজরুকিতে তাঁর কোন বিশ্বাস ছিলো না কোন কালেই। কিন্তু স্ত্রী ববি আর বোন স্মিতার প্ররোচনায় সে দ্বারস্থ হলো এক রহস্যময়ী সিস্টারের, যিনি কি-না মৃত মানুষকে ফিরিয়ে আনতে পারেন কোন এক গুপ্তবিদ্যা প্রয়োগ করে। সিস্টার কি পেরেছিলেন সায়নাকে মৃতদের জগৎ থেকে ফিরিয়ে আনতে?
'কফিনবন্দী কাঠ' বেশ ক্রিপি টাইপের একটা গল্প। আত্মা বিনিময় সম্পর্কিত যে কনসেপ্ট নিয়ে সৌরভ চক্রবর্তী এখানে আলোচনা করেছেন, তা বেশ অস্বস্তির উদ্রেক করেছে। মোটামুটি ভালোই লেগেছে গল্পটা। আর এর পরিবর্ধিত ক্লাইম্যাক্সটা সিনেম্যাটিক মনে হলেও গল্পের সাথে দারুণ সঙ্গতিপূর্ণ বলে মনে হয়েছে আমার কাছে।
এসব বাদেও আরো তিনটা গল্প আছে এই বইয়ে। ডাইনি বিষয়ক গল্প 'চুল', রিভেঞ্জ হরর 'মাঝরাতের শেষ জাদু' ও সুপারন্যাচারাল ফ্যান্টাসি 'শেষ গল্প'। এগুলোও কম-বেশি ভালোই লেগেছে পড়তে। সৌরভ চক্রবর্তীর গল্প বলার ধরণটা বেশ সরল। খুব সহজেই তাঁর কাহিনির তোড়ে ভেসে যাওয়া যায়। কোন অসুবিধা হয় না। এই ব্যাপারটা এর আগে তাঁর 'চন্দ্রহাস' ও 'উদ্ভব লিঙ্গ' পড়তে গিয়েও ফিল করেছি।
'দেবীরাক্ষস'-এর গল্পগুলোর সবই কোন না কোন সময় বিভিন্ন ম্যাগাজিনে প্রকাশিত। পরবর্তীতে লেখক এগুলোর পরিমার্জন ও পরিবর্ধন করে বই আকারে প্রকাশ করেছেন। রাতের খোরাক হিসেবে বইটা মন্দ না। অন্তত হরর ও সুপারন্যাচারাল জনরা যাদের পছন্দ, তাদের ভালোই লাগার কথা।
বইটা বাংলাদেশে প্রকাশ করেছে বাতিঘর প্রকাশনী। লেখকের আরো কিছু বইও তারা বাংলাদেশে প্রকাশ করেছে। অভীক দাসের করা প্রচ্ছদ ও বইয়ের ভেতরের অলঙ্করণগুলো বেশ ভালো লেগেছে আমার। আগ্রহীরা চাইলে পড়ে দেখতে পারেন বইটা।
কেন? তার কারণ এই মুহূর্তে বাংলা সাহিত্যে সুরসুরি দিয়ে হাসির মতো যেকোনো প্রকারে ভয় দেখাবার চেষ্টা হয়ে থাকে। সে জায়গায় 'দেবী রাক্ষস' বইয়ের সাতটা গল্পে আবহকেন্দ্রীক ভয়ের উপর নির্ভর করেছেন লেখক এবং শুধুমাত্র এই পদ্ধতির ব্যবহার করে ভয় ধরানো গল্প লিখতে সক্ষম হয়েছেন। শুরুতে হরর সাহিত্যের ইতিহাস আলোচনা করে যে ভূমিকাটি তিনি লিখেছেন তা বাংলা সাহিত্যের সম্পদ। সব ভয় পিপাসুদের পড়া উচিৎ এই ভূমিকা।
সাতটি গল্পের মধ্যে আমার ব্যক্তিগতভাবে ভালো লেগেছে চুল, আয়ুষ্কাল, দেবী রাক্ষস, মাঝরাতের শেষ জাদু এবং শেষ গল্প। লেখকের টুইস্ট দেবার ক্ষমতা ঈর্ষনীয়। ডিটেইলিং থেকে শুরু করে ভাষার মুন্সিয়ানা আমাকে মুগ্ধ করেছে। প্লট বিল্ড আপ অর্থাৎ বুনন অসাধারণ। বাংলায় ভূত না দেখিয়ে, কঙ্কাল না দেখিয়ে ভয় দেখানো যায় তা লেখক সৌরভ চক্রবর্তী দেখিয়ে দিলেন। কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলায় বইটি কিনতে গিয়ে দেখলাম বইটির ডিমান্ড। লাইন দিয়ে লোক কিনছে। প্রচুর বিক্রি হচ্ছে। আগামীতে লেখকের লেখা আরও পড়তে চাই।
বাংলা ভয় সাহিত্যের সম্পদ 'দেবী রাক্ষস'। গথিক, অকাল্ট, সার্ভাইভাল নিয়ে আন্তর্জাতিক মানের কাজ করেছেন লেখক। প্রচ্ছদ রেটিংও ৫/৫। ভিতরে ১৩-১৪ টা অনবদ্য ইলাস্ট্রেশান। বাংলাদেশের পাঠকেরা অন্যরকম ভয়ের কাহিনির পড়তে চাইলে এই বই পড়া উচিৎ। কিছু গল্প রাতের বেলায় পড়ে এতোটাই ভয় লাগলো বাকিগুলো দিনে পড়তে হয়েছে। লেখকের লেখার হাত বড় ভালো।
একদমই যুতসই না। আনপ্রেডিক্টিলিবিটি নাই। তার উপরে আবার ফন্ট সাইজ বড় করে পৃষ্টা বাড়ানোর চেষ্টা হয়েছে। দেবী রাক্ষস টা মোটামুটি আর শেষ গল্প টা ভাল ছিলো, কিন্তু সেখানেও মনে হয়েছে আরও ভাল করা যেত।