গ্রহ, নক্ষত্রের কক্ষপথ পেরিয়ে, ছায়াপথের সীমান্তে ভাসছে এক নিস্তব্ধ মহাকাশযান। সেখানে বসবাসকারী দুজন বিজ্ঞানীর দাবি:তাদের নতুন আবিষ্কার মহাবিশ্বের ইতিহাস বদলে দেবে।
আবিষ্কারের গল্প জানতে এসেছে একজন অদ্ভুত মানুষ, যার সত্যিকার উদ্দেশ্য গোপন, এবং বিস্ময়কর। সে আসার পর থেকেই মহাকাশযানে ঘটতে থাকে বিচিত্র, ব্যাখ্যাতীত সব ঘটনা। বাস্তব এবং পরাবাস্তবের মাঝের দেয়াল খসে পড়তে শুরু করে। মহাবিশ্ব এবং মানব মনের গভীরতম রহস্যগুলোর কেন্দ্র লক্ষ্য করে সূচনা হয় এক অদ্ভুত যাত্রার। কী পাওয়া যাবে সেই তদন্তের শেষে? মানবজাতির জন্য কি জ্বলবে নতুন আশার প্রদীপ, না অপেক্ষা করছে শুধুই অন্ধকার?
বইটা শুরু করেই একটানে ছোটবেলার দিনগুলোতে চলে গিয়েছিলাম। যখন মোহম্মদ জাফর ইকবালের সাইফাই পড়ে পড়ে ঘোর লেগে যেত। তবে তানজীম রহমানের এই বই যতটা না সাইফাই তার থেকে অনেক বেশি ফিলোসফিক্যাল। ভালো লাগার বা ভাবার মতন লাইনগুলো দাগাতে হলে সম্ভবত আস্ত বইটাকেই দাগিয়ে ফেলতে হবে। ভালো লাগলো পড়ে। প্রচ্ছদ ও বাঁধাইয়ের কথা আলাদা করে না বললেই নয়। ভীষণ সুন্দররররররর।
শূন্যতা আমাকে যদি জিজ্ঞেস করা হয়, কোন জিনিসটাকে ভয় পাই সবচেয়ে বেশি? আমার উত্তর হবে শূন্যতা। শূন্যতার এই ভয় প্রায়শই তীব্রভাবে গ্রাস করে আমাকে। কারণ শূন্যতার মাঝেই অন্তর্নিহিত 'অজানা' বা 'অনিশ্চয়তা'। লেখক তানজীম রহমান এই বইয়ে তার গল্প সাজিয়েছেন সবচেয়ে বড় 'অজানা' বা 'অনিশ্চয়তা'কে পুঁজি করে। মহাশূন্য বা মহাকাশ।
বইটা শুরু করার পর যে বিষয়টা প্রথমে নাড়া দিয়েছে, সেই ব্যাপারেই কথা বলি নাহয়। ভাষার ব্যবহার ও প্রয়োগ। আমার ধারণা লেখক প্রথম থেকেই সচেতন ছিলেন যেন কোন ইংরেজি শব্দ ব্যবহৃত না হয় বইতে। বাংলা বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীর কথা মাথায় এলেই আপনা থেকে নানারকম ইংরেজি শব্দ এসে ভিড় করে মাথায়। তাই অসুবিধেই হচ্ছিল প্রথম দিকে কামড় বসাতে। এমনকি নামগুলোর ক্ষেত্রেও এই ধারা আমরা দেখতে পাই। উপন্যাসের প্রধান চরিত্রগুলোর নাম হচ্ছে সারেং, বৃত্ত, নার্গি- এরকম। দীর্ঘদিন বাদে কু, সু, মিহা- এই ধাঁচের নামের বাইরে বাংলা বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীর চরিত্রদের সাথে পরিচিত হতে ভালো লেগেছে। পুরো বই জুড়ে ভাষা কিংবা স্বরের তারতম্য লক্ষণীয়। কখনো মনে হবে লেখক ফিসফিস করে কথা বলছেন আপনার সাথে আবা কখনো চিৎকার করে। প্রথম দিকে গল্পের প্রয়োজনেই বেশ গম্ভীর ভাষায় বর্ণনার কারণে মানিয়ে নিতে আমার বেগ পেতে হচ্ছিল। পরের দিকে সেই সমস্যা কাটিয়ে উঠেছি। ভালোলাগার পরিমাণটাও বেড়ে যায় তৎক্ষণাৎ।
প্লটটা মোটামুটি এরকম। মহাকাশে গ্রহ নক্ষত্রের কক্ষপথ পেরিয়ে ছায়াপথের সীমান্তে ভাসছে এক নিস্তব্ধ মহাকাশযান 'সময়সিন্ধু'। দুই বিজ্ঞানী কোন এক গবেষণায় ব্যস্ত ভেতরে। যে গবেষণার উত্তর মানবজাতির জন্যে বয়ে আনবে কল্যাণ বা অকল্যাণ। গল্পের শেষেই জানা যাবে সেটা। এছাড়াও আছে এক গল্প লেখক, সারেং। তরীর ভেতরের ঘটনাগুলো লিপিবদ্ধ করাই উদ্দেশ্য তার। মানুষকে সাহায্য করার জন্যে মানুষের আদলে তৈরি সহচরদেরও দেখা মিলবে। হঠাৎই অদ্ভুত সব ঘটনা ঘটতে শুরু করে মহাকাশতরীর ভেতরে। সেখান থেকেই সবকিছুর সূত্রপাত। বইয়ের শেষ হয় রহস্যোন্মচন পর্ব দিয়ে। এই দিকটাও আমার ভালো লেগেছে। শুধু পাঠকের কল্পনার উপরে ছেড়ে দেয়া হয়নি কোন কিছু, এই ধাঁচের বইয়ে প্রায়শই দেখা যায় যেটা।
বইয়ে গল্পের প্রয়োজনে এসেছে বিভিন্ন দর্শন, তত্ত্ব, যুক্তি। এই সমস্ত ব্যাপারে লেখকের পর্যবেক্ষণ মুগ্ধ করেছে বরাবরের মতন। ডার্ক ম্যাটার নিয়ে তার নিজস্ব ধারণাটাও ভীষণ আগ্রোহদ্দীপক। লেখক অবশ্য 'ডার্ক ম্যাটার' শব্দটি ব্যবহার করেননি। কি করেছেন, তা পাঠকদের আবিষ্কারের জন্যে রেখে দিলাম। পড়তে পড়তে নিজেকে করা অনেকগুলো প্রশ্নের উত্তর দেখতে পেয়েছি ছাপার হরফে। যে প্রশ্নগুলো হয়তো সৃষ্টির আদি থেকেই করে আসছে অনেকে। এজন্যেই বইটা টানা পড়তে পারিনি। কিছুদূর পড়ার পর নামিয়ে রেখে ভেবেছি সদ্য পড়া বাক্যগুলো নিয়ে।
বই থেকে আমার পছন্দের একটা বাক্য উদ্ধৃত করার লোভ সামলাতে পারছি না-
কিছু অনুভূতি আছে, যেগুলো স্বীকার করলে মানুষকে মানুষের থেকে কম কিছু বলে খেতাব দেওয়া যায়। তাদের মধ্যেও ভয় প্রথম।
কখনো সারেং, কখনো বৃত্ত বা কখনো রুপারের মুখে উচ্চারিত কথোপকথনগুলো মনে থাকবে আমার অনেকটা সময়। আমাদের সাহিত্যের জন্যে 'মহাশূন্যতা' বেশ বড় একটা সংযোজন বলেই মনে করি। সবার নিমন্ত্রন থাকলো এই মহাশূন্যতায় ডুব দেয়ার জন্যে।
নিষিদ্ধ! মানব আচরণের জন্য সবচাইতে আকর্ষণীয় শব্দ বা বিষয় বোধহয়, নিষিদ্ধ বা অজানা কিছু। যা জানা সহজ, যা ঘরেই আছে তাতে মানবকুলের মন টানেনা ততটা, যতটা মন টানে বাহিরে যা যা জানা অসম্ভব তা জানার চেষ্টায়। যেকারণে গন্ধম ফুলের স্বাদ কেমন তা তারা জেনেছে, দূর দুরান্তের গ্যালাক্সিতে থাকা ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র নক্ষত্র, গ্রহ আবিষ্কার করেছে, কি দিয়ে সব তৈরি ভাবতে ভাবতে খুঁজে পেয়েছে গড পার্টিকেল, ইলেক্ট্রন, কোয়ার্ক। আর জেনেছে মানুষ বড় একা। বড্ড একা!
অন্যরকম সায়েন্স ফিকশন যে একটা পড়েছি তা বলাই বাহুল্য। 'মহাশূন্যতা' জগতের সবচাইতে বড় শূন্যতাকে নিয়ে কথা বলে। মহাকাশ। জড়ের মতো পড়ে থাকা এ অসীম শূন্যস্থান, যা প্রতিনিয়ত বড় হচ্ছেতো হচ্ছেই, তার মাঝে এই গল্পে ছোট এক বুদ্ধিমান প্রাণের কিংবা সবকিছুর অস্তিত্বের নিয়তির দ্বন্দ যেনো কিছু কথোপকথনের মাধ্যমেই নির্ধারিত হলো। লেখক তানজীম রহমান লেখার মাঝে দর্শন, বিভিন্ন রেফারেন্স, যুক্তিতর্ক তুলে আনেন, এটা আগের লেখাগুলো থেকে জেনে ফেলেছি। তবে সাই-ফাই এর মতো সাহিত্যেও তিনি তাঁর ছাপ একই গতিতে ফেলবেন, সেটা আশা করিনি। যে কারণে কোনো সাইফাই চরিত্রের নাম কদ, কু, নি, পাতি, স, সা, সু, হা ইত্যাদি না হয়ে বরং 'বৃত্ত', 'সারেং', 'স্তম্ভ' এরূপ নাম দেখে অবাকই হয়েছি। অবাক হয়েছি মহাকাশযানে লুংগি, শাড়ির কথা শুনে। বৃক্ষের কথা শুনে, বাঙালি টেরাকোটার মতো ডিজাইনের কথা শুনে। গুরুগম্ভীর ভাবে হয়েছে বইটির সূচনা। জটিল বর্ণণা সাথে বাক্য গঠনের ধরণও ব্যতিক্রম। যে কারণে লেখকের নতুন রচিত অন্যসব লেখার মতোই এটাতেও প্রথমে মানিয়ে নিতে কিছুটা সইতে হয়েছে। কিন্তু ২-১পাতা যেতেই সব মানিয়ে যায় এবং তখন অন্যরকম ভালো লাগা কাজ করে।
প্রতিটি সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম ব্যাপারেও লেখকের ইনসাইট আমাকে আনন্দ দিয়েছে। যেমন একটি র্যান্ডম লাইন উদ্ধৃত করে উদাহরণ দেই, '...স্বল্প পরিচিত মানুষের মৃত্যুর পর তার ঘনিষ্ঠ আত্মীয়ের সামনে আসার থেকে বিব্রতকর অভিজ্ঞতা খুব কমই আছে। নিজেকে ভন্ড আর দরিদ্র মনে হয়-আত্মীয়ের মহাশোকের সামনে নিজের তুচ্ছ দুঃখ, মুষ্টিমেয় স্মৃতি নিয়ে দাঁড়াবার সাহস হয়না।'
আনন্দ দিয়েছে বৃত্ত বা নার্গির সাথে প্রধান চরিত্রে সারেং এর গভীর থেকে গভীরতম কথোপকথন গুলোও। কিন্তু তবু এত অসংখ্য তারার মাঝেও পাঁচটি তারা আমি মহাশূন্যতাকে দিতে পারলামনা। কারণ, তিনটি। এক, বিক্ষিপ্ততা। গল্পটা লিনিয়ার, তবু শেষের দিকটা যতটা গোছানো, সামনের বা মাঝের দিক ততটা ছিলোনা। যে কারণে ঠিকঠাক গল্পে পড়ে থাকা যাচ্ছিলোনা। এরপর, স্বরের তারতম্য। এটা আসলে প্লাস পয়েন্ট হওয়া উচিৎ। আমি গল্পে এটা চাই। তবে বৃত্তের সাথে কথোপকথন আর অন্য বর্ণণায় স্বর যেন হঠাৎ চিৎকার থেকে খাদে নেমে যাচ্ছিলো। আর শেষ হলো, কালারটোনের মতো একটা ব্যাপার। মানে এই গল্পটা আরও ডিটেইল���ং ডিমান্ড করে। ভাষার গাম্ভীর্য দরকার হলেও কিছু ক্ষেত্রে আরেকটু সহজ দরকার ছিলো বোধহয় গল্পের স্বার্থে। যা শেষে পেয়েছি। এগুলো কোনোটাই ভুল না, লেখকের ইচ্ছার উপর ছিল সব। আমি শুধু আমার দৃষ্টিকোণ থেকে জানালাম। সৃষ্টির আশি শতাংশ জুড়ে থাকা ডার্ক ম্যাটার নিয়ে এরকম দর্শনের আশ্রয় নিয়ে তৈরি মিথের মতো একটা সাইফাই, আমাদের সাহিত্যের জন্য বেশ বড় বিষয়! ধন্যবাদ লেখককে, 'অন্ধকার গ্রহ' নামের বইটা পড়ে আমার কিশোর মনে যেরকম শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছিলো, তা আরেকবার ছুঁয়ে দেবার জন্যে। আরেকবার সুযোগ হলো কোনো গল্পের শেষ লাইন পড়ে 'oh my god' বলে ওঠার। চমৎকার!
গল্পের প্রেক্ষাপটটা ভবিষ্যতের। নিঃসঙ্গ মহাশূণ্যে তিন মহাকাশচারী বিজ্ঞানী যাত্রা করেছেন একটা মহাকাশযানে, সাথে আছে তাদের চারটা রোবট, যাদের পরিচয়, 'সহচর'। মহাকাশযানটাও গতানুগতিক কল্পবিজ্ঞানের বর্ণনার থেকে আলাদা, বরং তাকে একটা আর্ট মিউজিয়াম বলেই মনে হবে। যেখানে কিনা বাংলাদেশী সংস্কৃতিকে ধরে রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। সব করিডোর ধরে গ্যালারীর মতো ছবি সাঁটানো, আবার কোথাও আস্ত হলঘরজুড়ে রমনা বটমূল অথবা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের মতো বড় পরিবেশ জীবন্ত হয়ে উঠেছে। তাতে আছে চত্ত্বর-বেদী-ছাত্রছাত্রী এমনকি ভাজাপোড়ার গন্ধও।
এই অসাধারণ মহাকাশযান নিয়ে কেন বেরিয়েছেন তিন বিজ্ঞানী, কী তাদের গবেষণার উদ্দেশ্য, তা বলা হয়নি। অনুভব করা যাচ্ছে শূণ্যতার মাঝে ভেসে চলা তিনজন মানুষ আর কয়েকটা যন্ত্রের এক প্রবল নিঃসঙ্গ যাত্রাকে।
শুরুতে এই কথা বলে নেওয়া যায়, নিজের পরিসরজুড়ে 'মহাশূণ্যতায়' একটা দার্শনিক উপন্যাস। এবং এর মাঝে গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল মন, এবং চিন্তা — ফিলজফিকাল ডিবেট। বড় একটা অংশ জুড়ে একটা রোবটের দার্শনিক দ্বন্দ্ব দেখানো হয়েছে। বর্তমান AI-এর উত্থানকালে বসে এমন একটা গল্প পড়তে পারা বাস্তবিকই চমৎকার একটা ব্যাপার।
কেন মন? কেমন দর্শন? 'মহাশূণ্যতায়'-এর ক্ষেত্রে বলা যায় না, যে, it's a book about mental health, কিন্তু চরিত্রদের মেন্টাল হেলথ যেভাবে গুরুত্ব পেয়েছে, তাতে করে মানুষ চরিত্রগুলো বেশি করে জ্যান্ত হয়ে উঠেছে পাঠকের কাছে। স্পষ্টভাবে বোঝা যায়, চরিত্রদের কারো বিষন্নতা (depression) আছে, কারো আছে উদ্বেগ (anxiety)। তাতে করে সে সে চরিত্ররা উদ্ভুত পরিস্থিতির মুখেও পড়ে থাকছে অতীত অথবা ভবিষ্যতে।
চমকপ্রদ ব্যাপার দেখা যায় প্রথম প্রটাগনিস্ট 'সারেং'-এর বেলায়, যে তার রোবটকে নির্দেশ দেয়, আমি আত্মহত্যা করতে চলেছি, আর তোমার হাতে স্বাধীন ইচ্ছা রইলো, আমার নির্দেশ, হয় তুমি আমাকে মরতে সাহায্য করবে, অথবা আমাকে বাধা দিবে। এবং এই জায়াগাটা এই উপন্যাসকে আজিমভ-এর 'I, Robot' থেকে আলাদা করে তোলে। রোবটদের মূলনীতি অনুযায়ী, মানুষের ক্ষতি অথবা মৃত্যু হয় এমন কিছু করা তার পক্ষে অসম্ভব, অন্যদিকে, তাকে মূল কাজ স্থির করে দেওয়া হয়েছে, উইদ আ চয়েস অফ কোর্স, যাতে করে মালিককে খুন করতে হতে পারে তার। উপন্যাসের শুরু থেকে প্রায় শেষ অব্দি, ঘটনাপ্রবাহের ফাঁকে ফাঁকে এই রোবটের দার্শনিক দ্বন্দ্ব দেখতে পাওয়া যায়। যেটা ঘটনাপ্রবাহের গতি নির্ধারণে বেশ বিমূর্ত তথাপি দরকারি ভূমিকা রাখে।
'মহাশূণ্যতায়'-এর একটা বিশেষত্ব হলো, যত এগোনো যায়, ততই আরো বড় একটা চিত্র সামনে উন্মুক্ত হয়। এবং প্রতি ক্ষেত্রে পাঠককে নতুন দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিস্থিতিকে দেখতে হয়েছে, তাতে করে এমনকি পালটে গেছে গল্পের জঁরা (Genre)।
একটা সাই-ফাই সেটআপে গল্প শুরু হয়। তাই প্রথম ধাক্কাটা যখন আসে, সংকটটাকে পাঠক স্বাভাবিকভাবেই যুক্তি দিয়ে বিচার করতে চাইবেন। কিন্তু পরিস্থিতির অভিনবতা পাঠককে এক সময়ে মনে করাতে থাকে, হয়তো আমরা একটা হরর গল্পে আছি। এবং এই ভয়ের বিষয়গুলোর উৎস সন্ধান করতে গিয়ে প্রতিভাত হয়, যে দুনিয়ায় আমরা বাস করছি, এবং গবেষণায় তাকে নিয়ে বিজ্ঞানধর্মী অথবা যুক্তিগ্রাহ্য প্রশ্ন করছি, সেসব জিজ্ঞাসার জবাব মিলে যায় পুরাণে। অর্থাৎ মিথলজিতে। 'মহাশূণ্যতায়' হার্ড সাইফাই না, এবং এর উপস্থাপন ভঙ্গির একটা সুন্দর দিক হলো, মহার্ঘ্য বৈজ্ঞানিক বিষয়গুলোকে কাব্যের মতো বলে যাওয়া হয়েছে। বিগ ব্যাং, ডার্ক ম্যাটার — এই সমস্ত ঘটনাকে (phenomenon) কাব্যের মতো প্রবাহিত করা হয়েছে, একেকটা সুতো কিছু একটাকে ধরতে চাইছে যুক্তির মাঝে, শেষে এই "য়ুনিভার্স কেন আছে —" ধরণের অস্তিত্বের প্রশ্নগুলো জবাব পেয়েছে পুরাণে। এবং অবতারণা হয়েছে লেখকের নিজের তৈরী একটা মিথোস-এর।
মন, এবং মিথোস — এর সমান্তরালে একটা দারুণ প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে 'মহাশূণ্যতায়'-এ। মানুষ কীসে ভয় পায়? কীসের ভয় আমাদের শাসন করে?
ধরুণ অতীতের কোনো সময়ের কথা, যখন চোখের দেখা প্রায় সবকিছুই মানুষের কাছে অব্যাখ্যাত। সেই সময়ে যদি আকাশ আড়াল করে কোনো ফেরেশতা এসে দাঁড়াতো, মানুষ তাকেই সেজদা করতে পারতো, এবং তার উপস্থাপিত নির্দেশনা মানতে ইচ্ছুক থাকতো। কিন্তু, সময়ের সাথে মানুষ যত যুক্তিনির্ভর হয়েছে, মূর্ত ভয় ততই তাদের কাছে শক্তিহীন হয়ে পড়েছে। অকেজো হয়ে যাচ্ছে এতদিনকার লোকবিশ্বাস আর ধর্মবিশ্বাসে ছড়িয়ে থাকা ভয়ের উপকরণোগুলো। এই সময়ে, কোন বিষয় আমাদের ভেতরে ভয় অথবা অস্তিরতা, সংশয়ের জন্ম দিতে পারে?
এই জায়গায় 'মহাশূণ্যতায়' এমন দারুণ একটা এক্সপেরিমেন্ট করেছে, তা সম্ভবত বাংলা হরর সাহিত্যে দেখার মতো এর আগে ঘটেনি। লেখক খুঁজে নিয়েছেন বিমূর্ত ভয়-কে, একেকটা দৃশ্যের জন্য অনুপ্রেরণা নিয়েছেন একেকটা Surreal চিত্রকর্ম থেকে। এই তালিকায় আছে The Temptation of St. Anthony, Girl Skipping Rope, The Call of the Night, এবং Eine Kleine Nachtmusik এর মতো চিত্রকর্ম।
উদাহরণে Eine Kleine Nachtmusik নিয়ে বলা যেতে পারে। Dorothea Tanning-এর এই বিখ্যাত চিত্রকর্ম, যেখানে করিডোরে আহত সূর্যমুখী আর নাবালিকা দেখে সাদা চোখে বুঝতে পারা যায় না, কীভাবে এতে শিল্পীর শৈশবের বিরূপ স্মৃতির বিমূর্ত প্রকাশ ঘটেছে।
হয়তো, যে মানুষটার কাছাকাছি ধরণের বিরূপ অভিজ্ঞতা আছে, চিত্রকর্মের এই বিমূর্ত ভাব তাকে ট্রিগার করতে পারে। যে প্রয়োগটা 'মহাশূণ্যতায়'-এ আমরা দেখতে পেয়েছি। হরর সিকোয়েন্সগুলো বেশ অব্যাখ্যাত এবং বিমূর্ত হলেও, যে চরিত্রকে যে বিষয়টা ট্রিগার করতে পারতো, সে ধরণের গুণ উপস্থিত ছিল সেসব সিকোয়েন্সে।
হরর সাহিত্যে গতানুগতিক 'মূর্ত' ভয়ের উপস্থিতি আমরা দেখে এসেছি। স্থানীয় লোককথা (যেমন শোণিত উপাখ্যান) এবং ধর্মবিশ্বাসের (যেমন অক্টারিন, তমিস্রা) কাছ থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে ভয় সাজানোর প্র্যাকটিস আমরা দেখে এসেছি। কিন্তু অক্টারিন-আর্কন-অবয়বের পর তানজীম রহমান যে কাজটা করে দেখিয়েছেন 'মহাশূণ্যতায়'-এ, তা নিয়ে আলাদা করে কথা হওয়ার প্রয়োজন আছে। যে সময়ে বাংলাদেশে 'পেট কাটা ষ'-এর মতো প্রযোজনা তৈরী হচ্ছে, সে সময়ে বইয়ের পাতায় 'মহাশূণ্যতায়' এর মতো লেখা পড়তে পারাটা আমাদের জন্য যারপরনাই আনন্দের।
ভারি অদ্ভুত একটি বই পড়লাম। অদ্ভুত কেন? কারণ আসিমভীয় ও ক্লার্কীয�� মডেলে অভ্যস্ত আমাদের মগজে এই বইয়ের মূল ভাব ও গঠন ঠিকমতো বিন্যস্ত হতে চাইবে না; পারবেও না। আপাতভাবে সরলরৈখিক হলেও এর প্লট— মানে আদৌ সেইরকম কিছু যদি এতে থাকে তাহলে— ভীষণই অন্যরকম। এর চরিত্ররা দুর্জ্ঞেয়। আর সবচেয়ে রহস্যময় হল এর আখ্যানগত উদ্দেশ্য। পাঠককে গল্প বলা, বা জ্ঞান দেওয়ার জন্য এই উপন্যাস রচিত হয়নি। বরং তা পাঠককে লেখকের মনোভূমিতে এক সমান্তরাল, সমতুল আসন দিয়ে তাঁকে আহ্বান জানিয়েছে লেখকের সঙ্গে একটি দার্শনিক আলাপে মগ্ন হওয়ার জন্য। এবার বুঝতে পারছেন তো, কেন একে আমি 'অদ্ভুত' বলতে বাধ্য হয়েছি? গোত্র হিসেবে একে হয়তো বাহ্যিকভাবে কল্পবিজ্ঞান বলা চলে। কিন্তু আমার মনে হয়েছে, এ আসলে এক গভীর দর্শনের বই— যাকে চালিত করেছে মনস্তত্ত্ব। বলা হয়, দিনান্তে অন্তত একবার ভূমার সান্নিধ্যে এলে ঈশ্বর-দর্শনের অনুভূতি হয়। এই বইয়ে লেখক এমন এক কালের সন্ধান দিয়েছেন, যার চেয়ে বড়ো দিনান্ত আর কিছু হয় না। আর স্থান? হ্যাঁ, স্বয়ং ভূমা এই স্থানকে আবৃত করে রেখেছে আপন অনন্ত অস্তিত্বে। এমন চতুর্মাত্রিক অবস্থানে আমাদের নিয়ে এসেছেন তানজীম; তারপর তিনি আমাদের হাত ছেড়ে দিয়েছেন, যাতে আমরা নিজেদের মতো করে খুঁজে নিই শূন্যময় অসীম নিঃসঙ্গতা, অথবা স্রষ্টাকে। শুধু কি পটভূমি? উঁহু। চরিত্রদের সংলাপ ও আচরণের মাধ্যমে তিনি দেখিয়েছেন, স্রষ্টা ও সৃষ্টির সম্পর্ক কীভাবে নীতিবোধ আর (তথাকথিত) ফ্রি-উইলের দ্বন্দ্বে দীর্ণ হয়। এই সম্পূর্ণ কল্পকাহিনি সজীব হয়ে উঠেছে বাংলার নিজস্ব অ্যাস্থেটিক বা নান্দনিকতার সঘন উপস্থিতিতে। ফলে জটিল বাক্যের বিচিত্র অ্যালগরিদমে একবার মনকে অভ্যস্ত করে নিতে পারলে এই পরিবেশ ও চরিত্রদের মধ্যে ডুব দেওয়া হয়ে ওঠা স্নানের মতোই সহজ। অদ্ভুত বই। এইরকম বই লিখে নিজের লেখক-সত্তা তথা লেখনীকে চ্যালেঞ্জ করার সাহস ক'জন লেখকের আছে বা হতে পারে, জানি না। তবে এমন বই যত লেখা হয়, তত ভালো। এদের মধ্য দিয়েই আমরা সাবালক হব। হাত বাড়াব। তারপর ধরা দেবে হয় আমাদের নিজেদের অন্তর্লীন নিঃসঙ্গতা, নয়তো অন্য কেউ। লেখকের উদ্দেশে কুর্নিশ রইল।
অন্ধকার, দর্শন, সৃষ্টি-বিনাশ চক্র, ভয়, মৃত্যু, কৌতুহল, নির্বাণের মিশেলে দুর্দান্ত একটা সাইফাই। সেরা চরিত্র রূপার আর বৃত্ত। ভালো দিক বাড়াবাড়ি রকমের জটিল বৈজ্ঞানিক প্যাঁচাল নেই। মাঝেমধ্যে আলাপ আলোচনাগুলো বেশ কিছুটা ঝুলে না গেলে পাঁচ তারা দেওয়া যেত।
যতোটা না সাইন্স ফিকশন তারচে অনেক বেশি একটা ফিলোসফিকাল জার্নি লেগেছে আমার কাছে। গল্পটা বেশ সাদামাটা। ও নিয়ে তেমন কথা বলার নেই। তবে লেখুনিটা অসাধারণ। জনরা ফিকশনে, বিশেষত সাইন্স ফিকশন বা ফ্যান্টাসির মতো জায়গায় এতো বোল্ডলি আর কাউকে বাংলা শব্দ ব্যবহার করতে দেখিনি আমি। লেখকের পূর্ববর্তী বই বিরূপকথা আর কেটজালকোয়াটল ও সৃষ্টিবিনাশ রহস্যেও এই প্যাটার্নটা পেয়েছিলাম। (অক্টারিন আর আর্কনও হয়তো একই প্যাটার্নে লেখা, অনেক আগে পড়েছি বলে মনে করতে পারছি না।) বোধহয় আমার এই রিভিউয়ে মহাশূন্যতায় বইটির তুলনায় বেশি ইংরেজি শব্দ ব্যবহার করে ফেলেছি আমি ইতিমধ্যে। অনুভূতি আর যুক্তির দ্বন্দ্বের কথা বলা হয়েছে বইটাতে। সুইসাইডের পক্ষে বিপক্ষে(!) চিন্তার খোরাক যোগানোর মতো আর্গুমেন্ট আছে। সব মিলে খুব অদ্ভুত লাগলো। ভালো বা খারাপ বলে ডিফাইন করা যাবে না বোধহয় এ বইটাকে।
প্রচ্ছদটা দারুণ লেগেছে। তবে বইয়ের ভেতর প্যারাগ্রাফে ট্যাবস্পেস ব্যবহার করা হয়নি। আমার ফন্ট আর স্পেসিং নিয়ে প্রচুর ওসিডি হয়। ভালোই প্যারা খেতে হয়েছে তাই পড়তে গিয়ে।
মানুষের মনোজগতে অন্যতম তীব্র ঝাঁকাঝাঁকি করার বিষয়বস্তু হচ্ছে ভয়। আবার সেই ভয়ের সাথে কৌতুহলের কোথায় গিয়ে জানি এক অঙ্গাঅঙ্গি সম্পর্ক বিদ্যমান। শূণ্যতা যুগে যুগে মানুষকে সবসময় ভিত-সন্ত্রস্ত করে রেখেছে।
মহাশূন্যতায়। সময়সিন্ধু, অনেক গ্রহ-উপগ্রহ, কক্ষপথ পেরিয়ে এগিয়ে গেছে যা। সেই মহাকাশযানে চলছে অদ্ভুত বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা।
সারেং সংখ্যক। বৈজ্ঞানিক কল্পউপন্যাসের মূল চরিত্র। সহচর বৃত্তের সাথে, মানুষ নার্গি এবং রুপারের সাথে পুরো উপাখ্যান ধরে চলছে তাঁর কথোপকথন। সময়সিন্ধুর ভিতরে অস্বস্তিকর পরাবাস্তব অভিজ্ঞতার অংশ হয়ে পড়ছেন সেখানকার মানুষজন এবং সহচরেরা।
বৈজ্ঞানিক কল্পউপন্যাসের পটভূমিতে মূলত তানজীম রহমান রচনা করেছেন এক দার্শনিক জিজ্ঞাসায় ভর্তি উপন্যাসের। লেখক তাঁর একটির পর একটি বইয়ে নতুন কিছু করতে চান। তাই আজকাল তানজীমের কোন লেখাকে আর নিরীক্ষাধর্মি বলতে চাই না।
লেখক 'মহাশূণ্যতায়'এ ভয় দেখানোর ক্ষেত্রে যেরকম আবছা অস্বস্তি সৃষ্টি করেছেন তা মোটামুটি তানজীমীয়। সায়েন্স ফিকশনে যেরকম প্রযুক্তি নিয়ে বিশদ আলোচনা হয় তার চেয়ে মহাকাশযানে মানবমনের গহীনে উঁকি দিয়েছেন এবং পাঠককে দিতে একরকম বাধ্য করেছেন তানজীম।
মানব মনস্তত্ত্বের সক্ষমতা এবং অপরিসীম সীমাবদ্ধতা নিয়ে দার্শনিক দৃষ্টিভঙ্গির দেখা পাঠক পেতে পারেন উক্ত উপন্যাসে। তানজীম রহমান সযত্নে এই সায়েন্স ফিকশনে ইংরেজি শব্দসম্ভার এড়িয়ে বাংলায় যথাযথ পরিমিতিবোধের সাথে লিখেছেন।
লেখক এমন সব দার্শনিক প্রশ্নোত্তর, স্বগোতক্তি, জীবন এবং জগত নিয়ে কথাবার্তা চরিত্রদের দিয়ে বলিয়েছেন যেসব অনেকে হয়তো অবচেতনে ধারণ করেন, নিজের মাঝে লুকিয়ে রাখেন কিংবা মনের চোখে পড়লেও অগুরুত্বপূর্ণ মনে করে অথবা ভয়ে এড়িয়ে যান।
'মহাশূন্যতায়' আমার পড়া অন্যরকম এক উপন্যাস। এটি কোন ধারার উপন্যাস অথবা একাধিক ধারার সমন্বয় কিনা তার চেয়ে লেখকের উদ্দেশ্য বরাবরের মতোই মনে হয় ছিলো পাঠকমনে মহাশূণ্যতা এবং মহাসৃষ্টি উভয় বোধ সৃজন করা। মানুষ, তাঁর লেখালেখির মতোই এই উপন্যাস অনেক প্যারাডক্সে ভর্তি। খুব সম্ভবত এই ব্যাপারটা লেখকের সার্থকতা 'মহাশূন্যতায়'এ ।
বই রিভিউ
নাম : মহাশূন্যতায় লেখক : তানজীম রহমান প্রথম প্রকাশ : আগস্ট ২০২২ প্রকাশক : আফসার ব্রাদার্স প্রচ্ছদ : আবরার আবীর জনরা : সায়েন্স ফিকশন, পরাবাস্তবতা, ফিলোসফিক্যাল ফিকশন। রিভিউয়ার : ওয়াসিম হাসান মাহমুদ
I really enjoyed the philosophical conversations between Sareng and Britto, and I agree with Sareng’s perspective for the most part. That said, the fighting scenes felt a bit tiring. I kept thinking it might work better as a film adaptation—on the page, some of the descriptions felt unnecessary and made parts of it drag. Still, overall, it’s a good read.
Oh, and I absolutely loved the Bengali names of the characters—সারেং, বৃত্ত, স্তম্ভ, ফিঙে. They added so much texture and character to the story.
বাংলা ভাষায় মহাকাশযান-নির্ভর যতগুলি আখ্যান পড়েছি, তার মধ্যে শ্রেষ্ঠ, এমনকী বিভিন্ন দেশের ��হাকাশযান ও মহাশূন্যভিত্তিক যতগুলি আখ্যান পড়েছি বা ছবি দেখেছি তার মধ্যে তানজীম রহমানের এই উপন্যাসটিকে অন্যতম সেরা বলে মনে করব। বলতে লজ্জা নেই উপন্যাসটির কথা প্রথম জেনেছিলাম আরেক গুডরীড ব্যবহারকারী বন্ধুর ইনস্টাগ্রামে বইটির প্রচ্ছদ দেখে, এই প্রচ্ছদের এক অমোঘ আকর্ষণ ছিল যা উপন্যাসের প্রথম থেকে শেষ অবধি বজায় থেকেছে। উপন্যাসের বাংলা, ভাষাশৈলী এক গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হয়ে উঠেছে যা একের পর এক দৃশ্যপট বুনে গেছে - বয়ান যে একেবারে নিখুঁত তা নয় কিন্তু খুঁতগুলি মহাশূন্যতায় অস্তিত্বমান একেকটা কসমিক মেঘের মতই থাকে, উপন্যাসের নক্ষত্রখচিত বর্ণনার মাধুর্যকে ম্লান করেনা তেমন।
তানজীম রহমানের অন্য দুইটি উপন্যাস (আর্কন এবং অক্টারিন) অত ভাল লাগেনি, এইটি পড়ে তাই আরোই বেশি বিস্মিত হয়েছি।
শুরুটা বেশ প্রমিজিং ছিলো। সায়েন্স ফিকশনে বাঙালি কালচারের প্রতিফলন ঘটতে পারে এমনটা হয়তো আগে কেউ ভাবেনি। বেশ জটিল ফিলসফিক্যাল ব্যাপার স্যাপার নিয়ে আসা হয়েছে বইয়ে। শেষটা কনক্লুসিভ না। হয়তো লেখকের ভেতরকার অন্তর্দ্বন্দ ফুটে উঠেছে বইয়ে। হয়তোবা আমি যেরকমটা চাইছিলাম, এন্ডিংটা সেরকম হয়নি বলে মনঃপুত হয়নি। কে জানে! তবে যথারীতি তানজীম রহমান নতুন কিছু উপহার দিয়েছেন। তার আগের বই বিরূপকথার প্রভাব এই বইয়ে কিছুটা আছে। সেটা পজিটিভই বলবো। কারণ বিরূপকথা ছিল বাংলা সাহিত্যের একটা ইউনিক সংযোজন। এই বই লেখককে অমর করে রাখার ক্ষমতা রাখে।
বেশ থট প্রভোকিং একটা উপন্যাস পড়লাম অনেকদিন পর। তানজীম রহমান এর লেখা উপন্যাস এই প্রথম পড়লাম।বেশ ঝরঝরে লেখা।বিষয়বস্তুর কারনেই বোধহয় বইয়ের মাঝামাঝি একটু বোরিং লেগেছিলো কিন্তু লেখনীর কারনে উৎ্রায়ে গেছে।আর বই এর বিভিন্ন চরিত্রের নামকরনে যেই সৃজনশীলতার পরিচয় লেখক দিয়েছেন, সেটা সত্যিই প্রশংসার দাবিদার