সেই নিশ্চিন্তপুর। সেই মুশফিক ওরফে মশা। মাঝ রাতে শহরে স্কেটবোর্ডে ভেসে বেড়ায় কে? রহস্যের গন্ধ শুঁকে হাজির হয়েছে খিজির আলী! কিন্তু রহস্য কোথায়? রঞ্জুমামাও হাজির। মামা-ভাগ্নে টের পাচ্ছে কোথাও কিছু রহস্য দানা বাঁধছে। কিন্তু খুঁজে পাচ্ছে না কিছুই। গভীর রাতে শহরে তুষারপাত হচ্ছে আবার সেটা মিশেও যাচ্ছে। নিরানন্দপুরের সাথে বার্ষিক ফুটবল খেলার আয়োজন। বরাবরের মতো এবারও নিশ্চিন্তপুর হারবে? ওসি আজমতও টের পাচ্ছে গোলমাল আছে। কিন্তু গোলমালটা কিসের? রঞ্জুমামা আর মুশফিক আবারও এক রহস্যের জালে আটকে গেল। শহরে অদ্ভুত সব কাণ্ডকারখানার পেছনে কে দায়ী! ‘অদ্ভুতুড়ে বইঘর’-এর পর, ‘অদ্ভুতুড়ে অতিথি’ নিয়ে বিপাকে নিশ্চিন্তপুর। উদ্ধার করবে কে?
শরীফুল হাসান-এর শিশু-কিশোর সাহিত্যে ফ্যান্টাসি, রহস্য আর রম্যের ছোঁয়ায় নতুন উপন্যাস ‘অদ্ভুতুড়ে অতিথি’।
Shariful Hasan hails from Mymensingh, Bangladesh. He has spent his childhood by the banks of Brahmaputra river. He completed his Masters in Sociology from University of Dhaka and is currently working in a renowned private organization.
Shariful's first novel was published on 2012 titled Sambhala. With two other books, this captivating fantasy trilogy has received widespread acclimation both within and beyond the borders of Bangladesh. The Sambhala Trilogy was translated in English and published from India.
Although his inception consisted of fantasy and thriller, he has later worked on a variety of other genres. These works have been received fondly by the Bangladeshi reader community. Lot of his works have also been published from different publications in West Bengal.
Award- Kali O Kalam Puroshkar 2016 for 'অদ্ভুতুড়ে বইঘর'
আবারও নিশ্চিন্তপুর, নামের সার্থকতা প্রমাণ করতে যে শহরে নিশ্চিন্তে দিন কাটে অধিবাসীদের। ব্যাতিক্রম হয়েছিলো কয়েকমাস আগে অদ্ভুতুড়ে বইঘরের ঘটনায়। তারই সূত্র ধরে আবারো নিশ্চিন্তপুরের বাতাসে রহস্যের ঘ্রাণ ভাসছে। একের পর এক রহস্যময় অতিথির আনাগোনা শহরে। কীজানি কিছু একটা ঘটবে ঘটবে করেও ঘটছে না। রাতের আঁধারে স্কেটবোর্ডে চড়ে উড়ে বেড়াচ্ছে ম্যাজিশিয়ানের পোশাক পরা ছায়ামানব। তাকে ধরতে উদ্যত ওসি আজমত আলী, রাত বিরাতে খালিপায়ে রাস্তায় ঘুরে বেড়ানো ওয়্যারউলফ খ্যাত আশফাক, শহরেরই নিত্যদিনের আরেক অতিথি সানগ্লাস চোখে ওভারকোট পরা খিজির আলী। সাথে স্কুলপড়ুয়া মুশফিক ওরফে মশা আর তার স্বঘোষিত অকুতোভয়(?) রঞ্জুমামা তো আছেই।
অদ্ভুতুড়ে বইঘরের ধারাবাহিকতায় শরীফুল হাসানের লেখনীতে আরেকটি চমৎকার উপন্যাস অদ্ভুতুড়ে অতিথি। মূলত ছোটদের জন্য লেখা হলেও যেকোনো বয়সী পাঠকরাই উপভোগ করবেন, তবে মাথায় রাখতে হবে বইটার টার্গেট অডিয়েন্স শিশু কিশোররা। কাজেই পাতায় পাতায় কাহিনীর মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া টুইস্ট নয় বরং বইতে আছে খুব সাদামাটা রহস্য যার কিনারা করতে অভিজ্ঞ গোয়েন্দার দরকার পড়ে না। বইটার সবথেকে উপভোগ্য উপাদান এর চরিত্রগুলো। যত্ন নিয়ে গড়া প্রত্যেকটা চরিত্র স্বতন্ত্র আর মজাদার, তাদের কথাবার্তা আর কান্ডকারখানা উপভোগ করবেনই। ব্যস্ততা আর ক্লান্তির ভিড়ে ১৬০ পৃষ্ঠার ছোট বইটা বেশ তৃপ্তি দিলো।
কিশোর উপন্যাস হিসেবে মারাত্মক ছিল। তাছাড়া শরিফুল হাসানের লেখা দারুণ ঝরঝরে। তাই এক বসাতেই তৃপ্তি নিয়ে শেষ করতে পেরেছি। তবে ব্যাক্তিগতভাবে 'অদ্ভুতুড়ে বইঘর' কে এইটার থেকে খানিকটা এগিয়ে রাখব।
শৈশবে ❛শাকা লাকা বুম বুম❜ ছিল খুব প্রিয় একটা টিভি সিরিজ। সে-সময় মনে হতো, আহ! আসলেই যদি আমার এমন একটা পেন্সিল থাকতো যাতে কিছু আঁকলেই বাস্তবে পরিণত হবে। কত না দারুণ হতো! আবার আলাদিনের জাদুর গালিচায় যখন উড়তে দেখতাম তখনও মনে হতো, এমন একটা উড়ন্ত গালিচা থাকলে এমনিই কত জায়গায় চলে যেতে পারতাম! আচ্ছা কেমন হয় যদি আমি মনে মনে যা চাই তাই বাস্তবে পরিণত হয়, বা জাদুর গালিচা পেয়ে যাই? ভাবলেই কেমন শিহরণ লেগে যায়!
নিশ্চিন্তপুরের বাসিন্দারা বইঘরের ঘটনার পর বেশ নিশ্চিন্তেই আছে। কিন্তু বেশিদিন তো নিশ্চিন্তে থাকা যাবে না। কারণ শহরে আগমন ঘটেছে খিজির আলীর। সে রহস্যের গন্ধ পেয়ে হাজির হয়েছে আবার। কিছু তো ঘটবেই। এবার শুধু অপেক্ষা। এদিকে রঞ্জুমামাও হাজির। সে-ও বলছে কিছু একটা স্বাভাবিক না। চোখ-কান খোলা রাখতে হবে। আমাদের মুশফিক ওরফে মশা বুঝছে না চোখ-কান তো খোলাই আছে, আর কীভাবেই বা খোলা রাখা যাবে! কিন্তু রঞ্জুমামা বলেছে, চোখ-কান খোলাই রাখতে হবে, কী আর করা! ওসি আজমতও বুঝতে পারছেন নিশ্চিন্তপুরের কোথাও ঘাপলা আছে। কিন্তু ঘাপলাটা কী তাই বুঝে উঠতে পারছেন না। সতর্ক থাকতে হবে। নিশ্চিন্তপুরবাসীর নিরাপত্তার দায়িত্ব তার ঘাড়ে। সজাগ যে থাকতেই হবে। বাতাসে রহস্যের ঘ্রাণ। চাই সমাধান। এদিকে থানায় নতুন যোগ দেয়া কন্সটেবল লাল মিয়া কেমন জানি। বিড়বিড় করে, এই চোখের সামনে আছে আবার মুহুর্তেই গায়েব। স্কুলের নতুন শিক্ষক নিত্যানন্দও কেমন পাগল পাগল। কথা বলা শুরু হলে থামেই না, আবার সে-ও কেমন বিড়বিড় করে। মুশফিকের চিন্তা সামনে ফুটবল খেলা নিয়ে। প্রতিবার নিরানন্দপুরের কাছে হারতে হারতে নিশ্চিন্তপুরবাসী বিজয় কী জিনিস ভুলেই গিয়েছে। তবে এবার জিততেই হবে। কিন্তু মুশফিককে কি দলে নেবে? গতবার তার গুণেই তো ষোলোটা গোল হজম করতে হলো নিশ্চিন্তপুরবাসীর। এবার চমৎকার কিছু ঘটবে কি? আতা মিয়া নিজেকে সাহসী-ই ভাবে, কিন্তু ইদানিং কী হলো বুঝতে পারছে না। কী সব দেখছে এসব আসলেই হয় নাকি! শহরে মানুষকে উড়তে দেখছে। আলাদীনের জাদুর গালিচা উড়ে কিন্তু উড়ন্ত স্কেটবোর্ড! কীভাবে সম্ভব। বাংলাদেশের মতো আবহাওয়াতে কনকনে ঠান্ডা মানা যায়, তাই বলে শীত না হয়েও তুষারপাত হচ্ছে নিশ্চিন্তপুরে। এটা তো চোখ কপালে উঠে যাবার মতো ব্যাপার। ঠিক তো নেই-ই কিছু একটা। কিন্তু সেটা কী? নিশ্চিন্তপুর এবার কোন রহস্যের সম্মুখীন। গতবারের মতো এবারও কি খিজির আলী পারবে নিশ্চিন্তপুরকে রক্ষা করতে? মামা-ভাগ্নেও তো আছে। দেখাই যাক নিশ্চিন্তপুরের এই অদ্ভুতুড়ে অতিথিই বা কে?
পাঠ প্রতিক্রিয়া: বই নিয়ে কিছু বলার আগে আমি লেখককে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানাতে চাই। বর্তমানে শিশুতোষ সাহিত্য নিয়ে কাজ হয় খুব কম। সেই স্বল্পকাজের মাঝেও লেখক ২০০০ সালের (মনে হয় ২০০০-২০১০ এমন সময়কে নিয়ে লেখা) দিকের নতুন তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহারের সাথে সেই সময়ের প্রবাহ নিয়ে শিশুতোষ ধারার বই লিখে শিশুদের উপহার দিচ্ছেন। শিশুর মনে সাহিত্যের ভিত তৈরি হয় শিশুতোষ বই দিয়েই। আর সেই ভিত তৈরিতে এ জাতীয় বইয়ের ভূমিকা অসীম। আপনাকে ধন্যবাদ লেখক। আশা করি শিশুতোষ বই লেখা আপনি অব্যাহত রাখবেন। ❝অদ্ভুতুড়ে অতিথি❞ শিশুতোষ ফ্যান্টাসি জনরার বই। এবারেও বইতে আছে নতুন এক গল্প, নতুন রহস্য আর সাথে আছে আমাদের প্রিয় মামা-ভাগ্নে জুটি। আর রহস্যের গন্ধ পেয়ে আসা সেই খিজির আলী। খুব স্বাভাবিক গতিতে লেখা। আরামসেই পড়ে ফেলা যায়। শিশু মনের কিছু সহজ সরল প্রশ্নকেই বেশ হিউমার দিয়ে প্রকাশ করেছেন লেখক। যেগুলো পড়তে গিয়ে বেশ আনন্দ পেয়েছি। নিশ্চিন্তপুরের বাতাসে নতুন রহস্যের আভাস আর সেটা সমাধানে পুরনো সেই চরিত্রদের তৎপরতা বেশ ভালো লেগেছে। সমাপ্তিও ছিল বেশ ভালো। বইতে ফুটবল খেলার যে অংশটা ছিল সে অংশটাও বেশ ভালো লেগেছে। তবে মনে হয়েছে খেলার বর্ণনাটা আরেকটু দীর্ঘ হলে উপভোগ করতাম আরেকটু। এছাড়াও তুষার চরিত্রের যে রহস্যময়তা লেখক তৈরি করেছেন সেটা একটু বিস্তর করলে ভালো বই খারাপ হতো না। লেখকের বর্ণনাশৈলীর প্রশংসা আগেও করেছি। এই বইতেও সেটা বজায় রেখেছেন। এজন্য পড়তে একঘেয়ে লাগেনি। পুরোটা সময় বেশ উপভোগ করেই পড়া যায়। মামা-ভাগ্নের এই জুটি আর নিশ্চিন্তপুরের আবার কোনো নতুন রহস্য নিয়ে আবারো পড়ার আশা করি।
প্রচ্ছদ, প্রোডাকশন: প্রচ্ছদটা আমার খুব পছন্দ হয়েছে। আদর আদর প্রচ্ছদ। অন্যধারা প্রকাশনীর সম্পাদনা বেশ ভালো। বানান ভুলের পরিমাণ একেবারেই কম। তবে কিছু টাইপো ছিল।
অদ্ভুতুড়ে বইঘর পড়ার পর অদ্ভুতুড়ে অতিথি পড়তেই হতো। বইঘরের চেয়ে অতিথি বেশি ভাল লেগেছে।
সেই মশা, রঞ্জু মামা, আজমত আলী, আশফাক মিয়া, আকাশ স্যার এদের নিয়েই গল্প। আর এই গল্পের সাথে আবারো আছে খিজির আলী। এবারও রহস্যের সমাধান করতে আসে তারা৷ এই রহস্যের সাথে জড়িত নতুন তিনজন মানুষ। শহরে তুষারপাত হওয়া, সেটা সময়মত গায়েব হয়ে যাওয়া থেকে শুরু করে মশার প্রচুর ভাল ফুটবল খেলা যেন সবই রহস্য। মশা আর রঞ্জু মামা কি পারবে এই রহস্যের সমাধান করতে??
এই নিয়েই গল্প। কিশোর গল্প বা উপন্যাস আমার বেশ ভালই লাগে৷ ��ড় হয়ে গেছি কিন্তু ভেতরের বাচ্চা আর কিশোর বয়সটা যেন কোনোভাবেই যাচ্ছেনা আমার। তাই এরকম বই পেলে বেশ আগ্রহ নিয়েই পড়ে ফেলি। আপনারা কেউ কি এমন আছেন?
শুরুতেই একটা সংশোধন - ৮৮ পৃষ্ঠায় ওসি আজমত আর আকাশ স্যার দাবা খেলতে খেলতে রাত ১১ টা বেজে যায়।অথচ তার একটু পরেই বলা হয় রাত ৮ টা বাজে। আশা করি পরবর্তীতে সময়ের এই গরমিল ঠিক করে দেয়া হবে। এবার আসি গল্পে। নিশ্চিন্তপুর এর মত এমন সুন্দর,শান্ত,পাহাড় ঘেষা,ছোট্ট শহরে থাকার স্বপ্ন আমার বহুদিনের। অধিবাসীরা একে অপরকে চেনে,খোঁজখবর রাখে,চোর ছ্যাঁচড় এর উৎপাত নেই,খুন খারাপি নেই। তবুও কেনো যেনো নিশ্চিন্তপুর এর বাসিন্দারা নিশ্চিন্তে থাকতেই পারে না।প্রথম বইয়ে সেই যে এক অদ্ভুত বইঘরের জ্বালা,আর এই বইয়ে এক অদ্ভুত অতিথির যন্ত্রণা। কে সেই অতিথি? কেনো সে অদ্ভুত? আবার এই অতিথিকে খুঁজতে শহরে হাজির হয় আরো অদ্ভুত দুইজন অতিথি। নিশ্চিন্তপুরে শুরু হয় নানা অদ্ভুতুড়ে কাণ্ড এবং যথারীতি তা অনুসন্ধানে নামে মুশফিক আর রঞ্জু মামা।সাথে বাকিরা তো আছেই। প্রথম বইয়ের তুলনায় এই বইটি অনেক ভালো লেগেছে।গল্পে হাস্যরস ও ছিলো বেশ। পুরোটা সময় ঠোঁটের আগায় হাসি লেগেছিলো।
লেখকে ধন্যবাদ।নিশ্চিন্তপুরে আর কি কি অদ্ভুত কাণ্ড হয় পরবর্তীতে,তা জানার জন্যে অপেক্ষায় রইলাম।
লেখকের কাছে বিশেষ আবদার। এই সিরিজ নিয়ে অনেক অনেক দূর যাবেন। কিশোর সাহিত্যেতে বর্তমানে খুব কম লেখকগনই কাজ করছেন বাংলাদেশে। স্বপ্ন দেখি ই সিরিজের বই শখানেক থেকেও বেশির।
প্রথম বই অদ্ভুতুড়ে বইঘর এর মত অদ্ভুতুড়ে অতিথি টার্গেট অডিয়েন্স কিশোররা, কিন্তু আমি খুবই উপভোগ করেছি অদ্ভুতুড়ে অতিথি। অদ্ভুত, রহস্যময় আর মজাদার কিছু চরিত্র আর সীমান্তবর্তী শহর নিশ্চিন্তপুর কে কেন্দ্র করা এই বইটি শরিফুল ভাই এর লেখনিতে হয়ে উঠেছে এক চমৎকার উপন্যাস।
"হাউ মাউ খাউ, মানুষের গন্ধ পাও।" আসলেই কি অদ্ভুতুড়ের সাথে ভুতের যোগসাজশ আছে? থাকতেও পারে। যেমন শীর্ষেন্দুর অদ্ভুতুড়ে সিরিজে হরেক রকম ভুতের আনাগোনা হয়েছে। তবে এই অদ্ভুতুড়ে কিন্তু একটু অন্যরকম। ভুত না এলেও অদ্ভুত কিছু অবশ্যই আছে। বলছিলাম নিশ্চিন্তপুরের কথা যেখানে গ্রামের নামের সাথে মিলিয়ে মানুষের জীবন নিশ্চিন্তে কাটে। তবে এই তো বেশ ক'দিন আগেই এক অদ্ভুত বুড়ো এসে একটা বইঘর দিয়ে রহস্য পাকিয়ে দিয়েছিল। এখন অবশ্য সব শান্তিতেই আছে। কিন্তু খিজির আলীর আগমন যেহেতু আবার ঘটেছে, তারমানে শহরে কিছু অদ্ভুতুড়ে ঘটতে চলেছে। এদিকে নিশ্চিন্তপুরে এসেছে আরো দুই আগন্তুক, কন্সটেবল লালমিয়া আর স্কুলের নতুন স্যার নিত্যানন্দ। ওহ! ভুলেই গিয়েছিলাম। নিশ্চিন্তপুরে কিন্তু দেখা যাচ্ছে জাদুকরের মতো এক লোককে যে কিনা স্কেটবোর্ডকে হাওয়ায় ভাসিয়ে চলাফেরা করছে। বাতাসে রহস্যের গন্ধ জমাট বেঁধেছে। এর মাঝে আবার রঞ্জুমামাও হাজির। চোখ-কান খোলা রাখতে হবে। সমাধান চাই। কিন্তু রহস্যটা কি?
পাঠ প্রতিক্রিয়া : শরীফুল হাসানের অদ্ভুতুড়ে সিরিজের দ্বিতীয় বই "অদ্ভুতুড়ে অতিথি"। সোজা-সরল ভাষায় বর্তমান লেখকদের কিশোর উপযোগী লিখা তেমন দেখা যায় না। সেদিক থেকে লেখকের লিখা বেশ প্রশংসনীয়। বইটা যেভাবে শুরু হয়েছে, ভেবেছিলাম এবার কাহিনী নিশ্চিন্তপুরের বাইরেও টেনে নিয়ে যাবে। শেষ অব্ধি আমার ইচ্ছা পুরণ না হলেও লেখক রহস্য বজায় রেখেছেন। মোড় ঘুরানো টুইস্টের বদলে রহস্যময় একটা ভাব ধরে রেখে বেশ গুছিয়ে লিখেছেন। যদিও কিশোর বয়স পেরিয়ে বইটা পড়ায় রহস্য অতটা গভীর মনে হয়নি, তবে কিশোরদের জন্য একদম পারফেক্ট। প্রতিটা চরিত্রকে আলাদা বৈশিষ্ট্যে মুড়িয়ে দিয়েছেন। হালকা হাসি-তামাশাও যথেষ্ট উপভোগ্য ছিল, যার কারণে চরিত্রগুলোকে অসামঞ্জস্যপূর্ণ মনে হয়নি। তবে বইয়ের কিছু জায়গায় একটু গরমিল চোখে পড়েছে। যেমন, এক জায়গায় বলা হয়েছে ওসি আর আকাশ স্যার দাবা খেলতে খেলতে রাত ১১টা বেজে গেছে। কিন্তু তারপরই বলা হয় রাত ৮টা বাজে। আবার অন্য এক জায়গায় মুশফিকের বাবা বলেন, " বুঝলি রঞ্জু, খুব ঝামেলা!এত বরফ গেল কই?" কিন্তু তুষারপাতের সময় রঞ্জুমামা ঘুমাচ্ছিলেন। এটুক গরমিল বাদ দিলে বইটি সুখপাঠ্য। আশা করি পরবর্তী সংস্করণে বিষয়গুলো ঠিক করে দেয়া হবে।
বইঘরে বই কিনতে গিয়ে সাবধান!! অথবা বাসায় কোনো আগন্তুক এলেই তাকে ঘরে ঢুকতে দেবেন না। তা নাহলে!!! নাহ! কিছুই না! মজা করছিলাম।
পড়ে শেষ করলাম শরীফুল হাসানের লেখা অদ্ভুতুড়ে সিরিজের দুটো বই, 'অদ্ভুতুড়ে বইঘর' ও 'অদ্ভুতুড়ে অতিথি'। বইগুলো পড়ে কেমন লাগলো সেটাই ছোট্ট করে জানানোর চেষ্টা করি। রিভিউ লিখছি না। এখন আর রিভিউ লিখতে পারি না (আগেও পারতাম না যদিও)। প্রথমেই একটা কথা বলে নেই, বই দুটো শিশুতোষ ফিকশন ঘরানায় লেখা। বইয়ের নাম আর প্রচ্ছদ দেখে সবাই হয়তো বুঝেই গেছেন।
এতদিন শরীফুল ভাইয়ের শুধু থ্রিলার লেখাই পড়েছি। এবারই প্রথম এই জনরায় লেখা কোনো বই পড়লাম। লেখকের লেখার হাত সম্পর্কে নতুন করে বলার কিছু নেই; সবাই জানেন তিনি কেমন লিখেন। এক্ষেত্রেও তাই। দারুণ লেখনশৈলী, দুর্দান্ত গল্প বিন্যাস ও বর্ণনা। সাথে বেশ মজাদার উপস্থাপন। ছোটখাটো ছিমছাম রহস্য এবং এর সমাধান; মাঝে বিভিন্ন নাটকীয়তা। সেইসাথে অনেকগুলো চরিত্র। চরিত্রগুলোর বিন্যাস ভালো ছিল। গল্পের প্রয়োজনে যতোটুক দরকার ঠিক ততটুকুই। গল্পের সবকিছুই আমার ভালো লেগেছে। সবথেকে ভালো লেগেছে যেটা, ক্লাস ফাইভ বা সিক্সে পড়া বা টেনে পড়া দু-চারজন বাচ্চার সরলতা, অজ্ঞতা, কথাবার্তা বলার ধরন ইত্যাদি বিষয়গুলো লেখক খুবই দারুণভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। আর সাথে টুকটাক দুষ্টামিতো আছেই।
তো সবমিলিয়ে বেশ দারুণ লেগেছে লেখা দুটো। ও হ্যাঁ, বইগুলো শিশুতোষ বটে; তবে আমার মনে হয় তরুণ, যুবক, বুড়োরাও সমানভাবে উপভোগ করতে পারবে। সামনে এই সিরিজের আরও বই চাই... ~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~ অদ্ভুতুড়ে বইঘর/অদ্ভুতুড়ে অতিথি শরীফুল হাসান
হঠাৎ করেই একদিন অদ্ভূতুরে বইঘর সামনে আসলো তাও শরিফুল হাসান এর, দেখেই লোভ হলো পড়ার।চাওয়া মাত্র পেয়েও গেলাম। উফ এতো মজা পেয়েছিলাম পড়ে।একদম শীর্ষেন্দু'র অদ্ভূতুরে সিরিজ এর মত, দারুণ। ওইটা পড়ে এইটা কি আর বাদ রাখা যায়, কিন্তু গত মাসে কাজের পড়ার চাপে কোনো গল্পেই মন বসাতে পারিনি। গরমে যখন মন মেজাজ তিরিক্ষি তখন বই টা পড়ে শান্তি পেলাম। মুশফিক ওরফে মশা আর তার মামার কান্ড-কারখানা মন ভালো করে দিয়েছে আমার ❤️
তিব্বতের পাহাড়ের চূড়ায় ধ্যান করছে শিষ্য তার গুরুর জন্য, তার বিশ্বাস গুরু আবারও ফিরে আসবে ধরণীতে। এবার গুরু প্রকট হয়েছে বাংলাদেশের সীমান্তর কাছাকাছি ছোট্ট শহর নিশ্চিতপুরে। নিজে যাওয়া সম্ভব না বলে তার দু'জন শিষ্য নরেন ও হরেন লামাকে পাঠালেন গুরুকে নিয়ে আসার উদ্দেশ্যে।
এদিকে নিশ্চিতপুরে রাত আটটা বাজতেই রাস্তা খালি হয়ে যায়, দোকানপাট হয়ে যায় বন্ধ। পুরো শহর এসময় টহল দেওয়ার জন্য উপস্থিত থাকেন চৌকিদার আতা মিয়া তবে হঠাৎ ভ্রমের শিকার হলো সে, শহরে প্রবেশ করলো এক তরুণ যার কাছে আছে জাদুবিদ্যা। অপরদিকে ওসি আজমত আলীর অলস সময় কাটছে। শহরে নতুন অতিথিরা আসছে, সাথে খিজির আলী নামক অদ্ভুত লোকটাও শহরে প্রবেশ করেছে বিপদের আঁচ পেয়ে। নিশ্চিতপুরে জাদুর প্রয়োগ করছে কেউ। শহরে প্রথমবারের মতো তুষারপাত হচ্ছে, সময় থমকে যাচ্ছে, অনেকের অপূর্ণ আশা পূরণ হয়ে যাচ্ছে আরও কত কি। এসময় বসে থাকা তো আর চলে না, মামা ভাগ্নের জুটি রঞ্জু আর মুশফিক এবারও রহস্য উন্মোচনে গোয়েন্দার ভূমিকায় অবতীর্ণ হওয়ার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত।
অলস সময় কাটাতে এ ধরনের কিশোর উপন্যাস পড়তে ভালোই লাগে , আবার সবসময় ভারি বই পড়তেও ভালো লাগে না। তবে অতিথি সিরিজের প্রথম বইটির তুলনায় এই বইটি খুব একটা জমেনি।