শৈশবে ❛শাকা লাকা বুম বুম❜ ছিল খুব প্রিয় একটা টিভি সিরিজ। সে-সময় মনে হতো, আহ! আসলেই যদি আমার এমন একটা পেন্সিল থাকতো যাতে কিছু আঁকলেই বাস্তবে পরিণত হবে। কত না দারুণ হতো! আবার আলাদিনের জাদুর গালিচায় যখন উড়তে দেখতাম তখনও মনে হতো, এমন একটা উড়ন্ত গালিচা থাকলে এমনিই কত জায়গায় চলে যেতে পারতাম!
আচ্ছা কেমন হয় যদি আমি মনে মনে যা চাই তাই বাস্তবে পরিণত হয়, বা জাদুর গালিচা পেয়ে যাই? ভাবলেই কেমন শিহরণ লেগে যায়!
নিশ্চিন্তপুরের বাসিন্দারা বইঘরের ঘটনার পর বেশ নিশ্চিন্তেই আছে। কিন্তু বেশিদিন তো নিশ্চিন্তে থাকা যাবে না। কারণ শহরে আগমন ঘটেছে খিজির আলীর। সে রহস্যের গন্ধ পেয়ে হাজির হয়েছে আবার। কিছু তো ঘটবেই। এবার শুধু অপেক্ষা। এদিকে রঞ্জুমামাও হাজির। সে-ও বলছে কিছু একটা স্বাভাবিক না। চোখ-কান খোলা রাখতে হবে। আমাদের মুশফিক ওরফে মশা বুঝছে না চোখ-কান তো খোলাই আছে, আর কীভাবেই বা খোলা রাখা যাবে! কিন্তু রঞ্জুমামা বলেছে, চোখ-কান খোলাই রাখতে হবে, কী আর করা! ওসি আজমতও বুঝতে পারছেন নিশ্চিন্তপুরের কোথাও ঘাপলা আছে। কিন্তু ঘাপলাটা কী তাই বুঝে উঠতে পারছেন না। সতর্ক থাকতে হবে। নিশ্চিন্তপুরবাসীর নিরাপত্তার দায়িত্ব তার ঘাড়ে। সজাগ যে থাকতেই হবে। বাতাসে রহস্যের ঘ্রাণ। চাই সমাধান।
এদিকে থানায় নতুন যোগ দেয়া কন্সটেবল লাল মিয়া কেমন জানি। বিড়বিড় করে, এই চোখের সামনে আছে আবার মুহুর্তেই গায়েব। স্কুলের নতুন শিক্ষক নিত্যানন্দও কেমন পাগল পাগল। কথা বলা শুরু হলে থামেই না, আবার সে-ও কেমন বিড়বিড় করে।
মুশফিকের চিন্তা সামনে ফুটবল খেলা নিয়ে। প্রতিবার নিরানন্দপুরের কাছে হারতে হারতে নিশ্চিন্তপুরবাসী বিজয় কী জিনিস ভুলেই গিয়েছে। তবে এবার জিততেই হবে। কিন্তু মুশফিককে কি দলে নেবে? গতবার তার গুণেই তো ষোলোটা গোল হজম করতে হলো নিশ্চিন্তপুরবাসীর। এবার চমৎকার কিছু ঘটবে কি?
আতা মিয়া নিজেকে সাহসী-ই ভাবে, কিন্তু ইদানিং কী হলো বুঝতে পারছে না। কী সব দেখছে এসব আসলেই হয় নাকি! শহরে মানুষকে উড়তে দেখছে। আলাদীনের জাদুর গালিচা উড়ে কিন্তু উড়ন্ত স্কেটবোর্ড! কীভাবে সম্ভব। বাংলাদেশের মতো আবহাওয়াতে কনকনে ঠান্ডা মানা যায়, তাই বলে শীত না হয়েও তুষারপাত হচ্ছে নিশ্চিন্তপুরে। এটা তো চোখ কপালে উঠে যাবার মতো ব্যাপার। ঠিক তো নেই-ই কিছু একটা। কিন্তু সেটা কী?
নিশ্চিন্তপুর এবার কোন রহস্যের সম্মুখীন। গতবারের মতো এবারও কি খিজির আলী পারবে নিশ্চিন্তপুরকে রক্ষা করতে? মামা-ভাগ্নেও তো আছে। দেখাই যাক নিশ্চিন্তপুরের এই অদ্ভুতুড়ে অতিথিই বা কে?
পাঠ প্রতিক্রিয়া:
বই নিয়ে কিছু বলার আগে আমি লেখককে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানাতে চাই। বর্তমানে শিশুতোষ সাহিত্য নিয়ে কাজ হয় খুব কম। সেই স্বল্পকাজের মাঝেও লেখক ২০০০ সালের (মনে হয় ২০০০-২০১০ এমন সময়কে নিয়ে লেখা) দিকের নতুন তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহারের সাথে সেই সময়ের প্রবাহ নিয়ে শিশুতোষ ধারার বই লিখে শিশুদের উপহার দিচ্ছেন। শিশুর মনে সাহিত্যের ভিত তৈরি হয় শিশুতোষ বই দিয়েই। আর সেই ভিত তৈরিতে এ জাতীয় বইয়ের ভূমিকা অসীম। আপনাকে ধন্যবাদ লেখক। আশা করি শিশুতোষ বই লেখা আপনি অব্যাহত রাখবেন।
❝অদ্ভুতুড়ে অতিথি❞ শিশুতোষ ফ্যান্টাসি জনরার বই। এবারেও বইতে আছে নতুন এক গল্প, নতুন রহস্য আর সাথে আছে আমাদের প্রিয় মামা-ভাগ্নে জুটি। আর রহস্যের গন্ধ পেয়ে আসা সেই খিজির আলী। খুব স্বাভাবিক গতিতে লেখা। আরামসেই পড়ে ফেলা যায়। শিশু মনের কিছু সহজ সরল প্রশ্নকেই বেশ হিউমার দিয়ে প্রকাশ করেছেন লেখক। যেগুলো পড়তে গিয়ে বেশ আনন্দ পেয়েছি।
নিশ্চিন্তপুরের বাতাসে নতুন রহস্যের আভাস আর সেটা সমাধানে পুরনো সেই চরিত্রদের তৎপরতা বেশ ভালো লেগেছে। সমাপ্তিও ছিল বেশ ভালো।
বইতে ফুটবল খেলার যে অংশটা ছিল সে অংশটাও বেশ ভালো লেগেছে। তবে মনে হয়েছে খেলার বর্ণনাটা আরেকটু দীর্ঘ হলে উপভোগ করতাম আরেকটু। এছাড়াও তুষার চরিত্রের যে রহস্যময়তা লেখক তৈরি করেছেন সেটা একটু বিস্তর করলে ভালো বই খারাপ হতো না।
লেখকের বর্ণনাশৈলীর প্রশংসা আগেও করেছি। এই বইতেও সেটা বজায় রেখেছেন। এজন্য পড়তে একঘেয়ে লাগেনি। পুরোটা সময় বেশ উপভোগ করেই পড়া যায়। মামা-ভাগ্নের এই জুটি আর নিশ্চিন্তপুরের আবার কোনো নতুন রহস্য নিয়ে আবারো পড়ার আশা করি।
প্রচ্ছদ, প্রোডাকশন:
প্রচ্ছদটা আমার খুব পছন্দ হয়েছে। আদর আদর প্রচ্ছদ। অন্যধারা প্রকাশনীর সম্পাদনা বেশ ভালো। বানান ভুলের পরিমাণ একেবারেই কম। তবে কিছু টাইপো ছিল।